এই ট্রিলজির প্রথম বইয়ের সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক ফ্যান্টাসি উপহার দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। উনি এই ধরনের লেখা খুব ভালো জমিয়ে লিখতে পারেন। তার প্রমাণ 'যুদ্ধের সহস্র বছর পর'। পরবর্তী খন্ডতে চিরাচরিত এই আমিনুলকে পাব কি না সেটাই এখন দেখার ব্যাপার। প্রথম খন্ডের অসংখ্য প্রশ্ন মাথার মধ্যে কিলবিল করছে।
"...তুমি যদি মনে করো তুমি দুনিয়ার সব ঝামেলা এড়িয়ে সুন্দর একটা জীবন যাপন করবে তাহলে তুমি বোকার স্বর্গে বাস আছো। যত বয়স হবে, দুনিয়া শিখতে থাকবে, জানতে থাকবে, দেখতে পাবে জীবন জটিল, নিষ্ঠুর, কঠিন। শুধুমাত্র মৃত্যুই সহজ সমাপ্তি। জীবন নয়। এটাই মেনে নিতে হবে আমাদের সবার, এটাই আমাদের নিয়তি। আর আমাদের যা করার আছে তা হলো যার যার দায়িত্ব পালন করা। এর বাইরে দুনিয়া কিছুইনা। একটা জঘন্য, নোংরা, নিষ্ঠুর জায়গা।"
কথাগুলো একজন মানুষের যে তার পুরোটা জীবন উৎসর্গ করে এসেছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই লাইনগুলো থেকে লাইফ লেসন নেয়া যায়। দুনিয়াতে কোনোভাবেই, কোনোকিছুতেই কারো মন পাওয়া যায়না, যদি না সে দিতে চায়।
যাইহোক এটা কোনো মোটিভেশনাল বা সেল্ফহেল্পের বই না। এটা একটা হাই লেভেলের হাই ফ্যান্টাসি। মৌলিক হাই ফ্যান্টাসি আগে পড়েছি বলে মনে পড়ছেনা। যা পড়লাম তাতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলা যায় নিঃসন্দেহে। সম্ভবত ট্রিলজির সেরা বই এটা। কারণ এর থেকে ভালো লেখা যায় না। হয়তো আরো খুশি হতাম লেখক যদি আরেকটু ডিলেইলিং করতেন। অফ টু দ্যা থার্ড বুক...
ক্যালাদিয়া রাজ্য... যেখানে দেবদেবীদের বসবাস। তাদের আশির্বাদে সুখে শান্তিতে দিন কেটে যায় সেই রাজ্যের মানুষের। গল্প হয় আনন্দের। কিন্তু সুখের দিন যে বেশিদিন টেকে না। যেখানে মহামানবদের বাস, সেখানে শত্রুর দেখা পাওয়া যায়। ক্যালাদিয়া রাজ্যেও একজন অপদেবতা আছে। সৃষ্টির চেয়ে ধ্বংসেই তার সুখ। সুখের দিন শেষে নেমে এসেছে বিভীষিকা। ক্যালাদিয়া রাজ্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেবতাদের মুখের দিকে চেয়ে আছে। দেবতারা কি মুখ তুলে তাকাবে? রাজ্যবাসীকে কীভাবে বাঁচাবে তারা?
আমরা চোখে যা দেখি, কানে যা শুনি, তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে। দেখা, শোনার আড়ালে অনেক কিছুই থাকে। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিশ্বাসঘাতকতার খেলা চলে। কে করে এ বিশ্বাসঘাতকতা? আমরা যা জানি, যা দেখি; তার কতটা সত্যি? মনের আড়ালে যু দ্ধ চলে। এক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা, চমকের পর চমক শেষে এ এক অন্যরকম যু দ্ধ। যার শেষে আছে অভিশাপ.... যেই অভিশাপ মানুষকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। কী ছিল সেই অভিশাপ?
এল ডোরাডো ট্রিলজির "এল ডোরাডো কার্স" অনবদ্য এক রচনা। প্লটবুনন থেকে শুরু করে গল্পের বর্ণনা, লেখনশৈলী- সবকিছুই খাপে খাপ। লেখক যেই ধারায় একটি কাল্পনিক জগৎ তৈরি করেছেন, তা অনবদ্য। প্রতিটি ক্ষেত্রে যত্নের ছোঁয়া দৃশ্যমান। সেই সাথে চরিত্র বিন্যাসও দুর্দান্ত। ফ্যান্টাসি জাতীয় বইয়ের ক্ষেত্রে অসংখ্য চরিত্রের আনাগোনা থাকে। এখানেও সেই ধারা বজায় ছিল। এতগুলো চরিত্রের ক্ষেত্রে লেখক খেই হারিয়ে ফেলেন কি না, একটা সংশয় ছিল। লেখক সেই সংশয় উৎরে গিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সকল চরিত্রের ক্ষেত্রে লেখক যেভাবে অতীতে নিয়ে গিয়ে বর্তমানে নিয়ে এসেছেন, প্রশংসা করার মতো। এভাবেই সকল চরিত্রের ব্যাকস্টোরি উঠে এসেছে খুব দারুণভাবে।
যু দ্ধে র বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক যেভাবে রচনা করেছেন, যেন চোখের সামনে সবকিছু ভেসে উঠছিল। যু দ্ধ শুধু র ক্তে র খেলা না। এখানে মিশে থাকে একে অপরের আবেগ, অনুভূতি। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় বিদ্ধ হতে হয়। যু দ্ধ মানুষকে অন্যরকম এক সত্তায় পরিণত করে। পুরো বইয়ে লেখক দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা দিয়ে গিয়েছেন। কিছু কিছু বর্ণনা শেষে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম। কী দারুণ! আবার কিছু বর্ণনা বেশ হতাশ করেছে। এ জাতীয় লেখায় বর্ণনা আর সংলাপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে লেখক এই সংলাপ দিয়ে বাজিমাত করতে পারতেন। কিন্তু হতাশাজনক বর্ণনা আর সংলাপে ঠিক উপভোগ করতে পারিনি। যদিও প্রথম বইয়ের তুলনায় এই বইয়ের বর্ণনাশৈলী অনেকটাই পরিণত লেগেছে।
"এল ডোরাডো কার্স" বইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় লেগেছে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং। এক ভিন্ন জগতে লেখক নিয়ে গিয়েছিলেন। যেন আমিও সেই জগতের অংশ। ভিন্ন এক প্রাণী নিয়েও লেখককে যে বিশ্লেষণ করতে হয়েছে তা স্পষ্ট। তবে লেখক ক্যালাদিয়া রাজ্যের এক দুইটা শহর ছাড়া বাকি শহরগুলোর বর্ণনা তেমন ফুটে ওঠেনি। এছাড়া লেখকের "ম" বর্ণের উপর কোনো ধরণের দুর্বলতা আছে মনে হয়। অধিকাংশ বর্ণের শুরু এই "ম" বর্ণ দিয়ে। যেমন, মিহান, মিকা, মিদৃতা, মিনহা ইত্যাদি। শুরুতে এই নামগুলোতে খেই হারিয়ে ফেলছিলাম।
টুকটাক কিছু ত্রুটি বাদ দিলে এই বইটা সিরিজের সেরা বই সম্ভবত! সমাপ্তিতে কী অপেক্ষা করছে, সেটা সময়ই বলে দেবে।
৫/৫⭐ আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, বিশ্বাসঘাতকতা, অপরাধবোধ, বিস্ময়কর যুদ্ধকৌশল, সব কিছুর মিশ্রণে অসাধারণ একটা বই এল ডোরাডো কার্স। হিস্টোরিকাল ফ্যান্টাসি দুইটার একটাও আমার পছন্দের জনরা না কিন্তু এল ডোরাডো কার্স আমার পছন্দের বইয়ের তালিকায় যোগ হয়ে গেলো 😍 অসাধারণ অসাধারণ অসাধারণ লিখেছেন আমিনুল ইসলাম 👌 দাউস আমার ফেভারিট 🤩
ট্রিলজি’র দ্বিতীয় বই এটি। প্রথম খন্ড পড়ার পর কল্পনাতেও আসে নি যে দ্বিতীয় বইটিতে এরকম কিছু থাকবে। মনে হচ���ছিলো যেনো সত্যিই হয়তো কোথাও এল ডোরাডোর অস্তিত্ব আছে। আমিনুল ভাইয়ের লেখনীর ফলে বরাবরই মনে হয় যেনো ঘটনাগুলো চোখের সামনে ঘটছে।
এই বইটিতে তুলে ধরে হয়েছে পুরো এল ডোরাডো শহরের অতীতের ঘটনা। এর বুৎপত্তি থেকে শুরু করে সমাপ্তি, পাশাপাশি এল ডোরাডো কার্স কিভাবে দেয়া হয়েছে তাও অতি চমকপ্রদভাবে বলা হয়েছে। আমি গডফাদার সিরিজ পড়ার পর থেকেই ভাইয়ের লিখার ফ্যান। আমার এই ভালোলাগা মনে হয় আরও বেড়ে যাবে এরপর থেকে।
আর যে জিনিসটা সবথেকে ভালো লেগেছে সেটা হলো উৎসর্গটা। বইটি ভাই তাঁর ছোট বোনকে উৎসর্গ করেছেন, আর তাকে সম্বোধিত করেছেন নিজের অর্ধেক পৃথিবী হিসেবে। অমর হোক বোনেদের প্রতি ভাইয়েদের স্নেহ-মায়াযুক্ত ভালোবাসা।
বইয়ের নাম: এল ডোরাডো কার্স লেখক: আমিনুল ইসলাম প্রকাশক: সাফায়েত খন্দকার প্রচ্ছদ: রুদ্র কায়সার প্রথম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০২২ জনরা: ফ্যান্টাসি পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২ মুদ্রিত মূল্য: ৫০০
প্রত্যাশা পূরণ হলো না। তিনটা পার্টের মধ্যে এই বইটা বেশি বড়। মনে হচ্ছে পুরো তিন পার্টের মধ্যে এল ডোরাডো শহরের প্রাচীন ইতিহাসকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ভালো লাগেনি সেরকম!
দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে হ্যামিলটন আয়ান ও টরেসকে জানায় এল ডোরাডো শহর থেকে কেউ বিন্দু পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে যেতে পারবে না আর যদি কেউ এই কাজ করে তবে সে হবে অভিশপ্ত চির জীবনের জন্য। অভিশপ্ত ব্যাক্তি হয়ে যাবে এ শহরের পাহাড়াদার যে পেতে চাইবে সর্বোচ্চ শক্তি। এই সবোর্চ্চ শক্তি পাওয়ার লোভ তাকে দানবে পরিণত করবে। হ্যামিলটনের সন্দেহ হয় যে তার দাদা ও বাবা এই অভিশাপে আক্রান্ত হয়েছে এবং সে চায় আয়ান তাকে সাহায্য করুক। সব শুনে জাহাজের বাকিদের সেখানে রেখে তারা রওনা দেয় ভিতরের দিকে যেখানে অর্ব রয়েছে বলে হ্যামিলটন দাবি করে যা থেকে আয়ানরা অভিশাপকে ঘিরে ইতিহাস জানতে পারবে।
অর্ব হলো আগেরকার সময়ের দেবতাদের বই স্বরুপ। তাদের নানা কাহিনী এই অর্বে আবদ্ধ থাকে চিরকাল। ভিতরের বিশাল প্রাসাদ থেকে অর্ব নিয়ে তারা রওনা দেয় জাহাজের দিকে। জাহাজের ক্রুদের এল ডোরাডোর কার্স সম্পর্কে জানায় আয়ান এবং কঠিনভাবে আদেশ দেয় যেন তারা শহরে প্রবেশ করার চেষ্টা না করে। যদিও জাহাজের বাকিরা এতে মনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আয়ানের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস করতে পারে না। আয়ান তার কক্ষে প্রবেশ করে অর্বটিকে নেড়েচেড়ে দেখতে থাকে এবং ডুবে যায় ইতিহাসের পাতায়।
বিজয় উৎসব চলছে দেবতারা আসবে বলে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে ক্যালিদিয়ার প্রহরীরা। সাতজন দেবতা থাকেন এল ডোরাডো শহরের বিশাল প্রাসাদে, তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ক্ষমতা আছে। এল ডোরাডো শহরে আছে অধিনায়ক সিকলাস ও সহ অধিনায়ক ম্যানিয়া যাকে রিনার বলা হয়। আরো আছে চারটা গ্ৰাম যা ক্যালিদিয়ায় অবস্থিত। এই গ্ৰামগুলোর চারপাশে ছড়িয়ে আছে ক্যালিদিয়ার প্রহরীরা যাদের মধ্যে আছে মিহান, মৃদিতা, মিকা, নিসা আরো অনেকে। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের গ্ৰামকে পাহারা দিচ্ছে। দেবতারা থাকতেও এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অপদেবতা হেমলিথের কারণে। একশো বছর আগে হেমলিথের কারণে পুরো একটি গ্ৰাম ধ্বংস হয়ে যায়, দেবতাদের সাথে হয় বিশাল যুদ্ধ। মেউকের মতো ভয়ংকর জন্তু তারই সৃষ্টি। দেবতাদের মতে হেমলিথ আবারও আসতে পারে আক্রমণ করতে যার জন্য এতো সতর্ক থাকা।
সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, বিজয় উৎসবের পরের দিন পাহারা দেওয়ার পালা হয় মিহানের। টাওয়ার থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলো মিহান। হঠাৎ করে এক বাচ্চা মেউক উদয় হয় বন থেকে, একে মারতে যেই না মিহান নিচে নামে তার নজরে আসে আরও মেউক। এরপর শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। একের পর এক বিশাল আকৃতির মেউক হামলা করে পুরো গ্ৰাম জুড়ে , চারপাশ জুড়ে আত্ম চিৎকার ভেসে আসতে শুরু করে। মিহানের নিজের চোখের সামনে তার বন্ধুদের মেরে ফেলে মেউকেরা। রিনাররা সময় মতো না আসলে সেও মারা যেত হয়তো।
পুরো শহর থমথমে। মেউকের দলেরা একশো বছর পর হামলা চালায় যার অর্থ আবার ফিরে এসেছে হেমলিথ। এর মাঝে মিহানের জীবনে দ্রুত কিছু ঘটনা ঘটে যায় এবং প্রতিশোধের আগুনে সে যোদ্ধাদের দল নিয়ে রওনা দেয় কালো হেম বাহিনীকে খুঁজতে। কালো হেম বাহিনী অপদেবতার হয়ে কাজ করে কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া প্রায় দুষ্কর। এই দুষ্কর কাজটি করতে সক্ষম হয় মিহান ও তার দলেরা কিন্তু প্রাণ খোয়াতে হয় অসংখ্য যোদ্ধাদের। এবার তাকে বাঁচাতে আসে রিনার ম্যানিয়া। রিন ম্যানিয়ার সাথে সংঘর্ষ হয় কালো হেম বাহিনীর প্রধান দাউসের সাথে। দাউস যে কিনা তার ও সিকলাসের খুব কাছেই কেউ , যে বিশ্বাসঘাতকতার চরম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই। আবারও পালিয়ে যায় দাউস ঠিক আগের মতো।
এ দুঃসময়ে দেবতারা যুদ্ধ ঘোষণা দেয় কালো হেম বাহিনী ও অপদেবতার বিরুদ্ধে। তারা সবাই রওনা হয় যুদ্ধ দেবতার মন্দিরে যেখানে সবার প্রার্থনার মাধ্যমে দেবতা জেগে উঠবে। এরই মাঝে আবারও আক্রমণের শিকার হয় ক্যালিদিয়ার গ্ৰামবাসী এবং দেবতারা। বের হতে থাকে একের পর এক বিশ্বাসঘাতকের মুখ, আক্রমণের শিকার হয় সিকলাস, মিহানের পূর্ব পরিচিত মুখরাই তার সামনে খুন করে দুই দেবতাকে। হতভম্ব হয়ে যায় আশেপাশের সবাই।
যুদ্ধের মাঝে জ্ঞানের দেবতা মিনহাকে তুলে নিয়ে যায় দাউস। তার পিছু নেয় সিকলাস, ম্যানিয়াসহ বাকি রিনার ও যোদ্ধারা। অবশেষে দাউস দুজনের সম্মুখীন হয়। এল ডোরাডো শহরকে ঘিরে যে ঘৃণিত কর্মকান্ড পরিচালনা করা হতো তা জানতে পেরে ম্যানিয়াসহ বাকিরা পুরো হতভম্ব। শুরু হয় আবারও যুদ্ধ তবে এইবার পক্ষ বদলে যেতে শুরু করে নিমিষেই। যুদ্ধের শেষে পরাজিত হয়ে রাগে ক্ষোভে অভিশাপ দিয়ে বসে অভিশাপের রাণী। এই ছিল এল ডোরাডো কার্সের ইতিহাস।
এই বইটি আমার এই বছরের পড়া বইগুলোর মধ্যে পছন্দের কোঠায় থাকবে নিঃসন্দেহে। এল ডোরাডো শহরকে ঘিরে লেখকের গল্পবুনন মারাত্মক হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে এই শহরকে নিয়ে আরো তিন চারশো পেইজ নির্দ্বিধায় পড়তে পারবো। শেষের বিষাদ মাখা এন্ডিং পড়ে আমার মন খারাপ হওয়ার যোগাড়। তবে নামের বানানের ভুল বেশ চোখে পড়ছিল যেমন রাফিন হয়ে যায় মাফিন, মৃদিতা হয়ে যায় নিসা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমার বইটা বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের কাহিনী চমৎকার।বর্ণনাভঙ্গি বেশ গোছানো। ডোরাডো শহরের রহস্য উন্মোচন টা ছিল এককথায় অসাধারণ। একই বইয়ের মধ্যে এডভেঞ্চার, রহস্য, থ্রিল,আবেগ-অনুভূতি সর্বোচ্চ প্রকাশ একসাথে পাওয়া যায় এমন বিরল বইগুলোর মধ্যে একটা। তাছাড়া, বইয়ের পেজ কোয়ালিটি, বাইন্ডিং, কভার সবকিছু ছিল অসাধারণ।
'এল ডোরাডো ট্রিলজি'-র প্রথম বই এল ডোরাডোর রেশ টেনে দ্বিতীয় বইয়ের সূচনা। যেখানে আয়ান, হ্যামিলটন, টরেসকে নিয়ে কাহিনির শুরু হলেও শেষ হয়েছে হাজার বছর পূর্বে গিয়ে। যেখানে ছিল দেব-দেবীদের ছড়াছড়ি, ছিল তাদের বেঁচে থাকার লড়াই, শক্তির উৎসের জন্য সাধারণ মানুষদের উপর টর্চার, যুদ্ধ, ছিল মানব হ ত্যার মতো ঘৃণ্য বর্বরতা। সর্বোপরি ছিল একটি শহর। সোনার শহর, এল ডোরাডো!
এল ডোরাডোতে দেখা যায় আয়ান ও হ্যামিলটন ডোরাডো শহরে যায়। সেখানে তারা একটি অর্ব পায়। যাকে স্মৃতি অর্ব বলে। যেখানে হাত রেখে চোখ বন্ধ করলে অনায়াসে হারিয়ে যাওয়া যায় বহু বছর পূর্বের ইতিহাসে। মৃদিতা, মিহান, নিসা, মিকা, শাহিনদের সময়ে।
◾ক্যালিদিয়া রাজ্য— যা বর্তমান পৃথিবীতে এক অভিশপ্ত শহর হিসেবে বিবেচিত হলেও বহুবছর পূর্বে তা ছিল সাধারণ মানুষ ও দেবতাদের আবাসস্থল। যেখানে থাকতো দেবতা মিথিয়াস, দেবতা প্রমিথিউস, দেবী লিলিয়া, দেবী ফিলোরা, দেবী লামিসা, দেবতা মিনহা, দেবী নিয়ায়া, অপদেবতা হেমলিথসহ আরো অনেকে। এদের মধ্যে সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়া কিছু দেব-দেবীও ছিলেন। যারা কিনা সাধারণ মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, ভয়, প্রার্থনার অভাবে একসময় পাথরে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আর কখনই জেগে উঠেননি। কিন্তু দেবতাদের পাথরে পরিণত হওয়ার কারণ কি? এর পেছনে কি আছে অন্য কোন রহস্য?
ক্যালিদিয়া রাজ্যে গত ১০০ বছর আগে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় সে যুদ্ধের বলি হয় লেসিথ গ্রাম। গ্রামটি হয়ে যায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। বেঁচে থাকে হাতেগোনা কয়েকশো মানুষ। আর এ যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয় অপদেবতা হেমলিথকে। যে কিনা কোনো এক অজানা কারণে দেবতা প্রমিথিউসের বাহিনীকে বারেবারে পরাজিত করতে চায়। কিন্তু কি সে কারণ? কেন ভাইয়ে ভাইয়ে এ শত্রুতা?
লেসিথ রাজ্য ধ্বংস হওয়ার ১০০ বছর পর আবারো মেউকদের আক্রমণ! আর এবার মৃদিতা, মিকা, নিসা, মিহান আর শাহিনদের গ্রাম দিনাসে করা হয়েছে আক্রমণটা। যে আক্রমণে মিহান হারিয়েছে মৃদিতাকে আর নিসা হারিয়েছে তার মা ও মিকাকে। কিন্তু মৃদিতা আর নিসা কি সত্যিই হারিয়ে গেছে? তাদের কি ফিরে আসার কোনো উপায় নেই?
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসে অধিনায়ক সিকলাস, সহ-অধিনায়ক ম্যানিয়া, অধিনায়কের সহযোগী জিনা। এরা সকলেই ক্যালিদিয়া রাজ্যের মানুষদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতেও সদা প্রস্তুত। এরপর আরো কয়েক দফা আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ আর যুদ্ধ চলতেই থাকে। যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে বইয়ের শেষ কয়েক পৃষ্ঠায়। কিন্তু এতো যুদ্ধের শুরুটা কোত্থেকে? মানুষদের উপর দেবতাদের এতো কিসের লড়াই? ক্ষোভের নাকি বেঁচে থাকার?
◾বইটা না পড়লে বোঝা দায় বইটায় ঠিক কি কি আছে! এ বইটায় ফ্যান্টাসির চেয়েও মিথলজির ছোঁয়া বেশি ছিল। এছাড়াও ছিল মারাত্মক থ্রিল, রহস্য। যে রহস্যের সমাধান শেষ পৃষ্ঠায় গিয়ে হয়েছিল। সিরিজের প্রথম বইয়ের থেকে এ বইটাই বেশি ভালো লেগেছে। সাধারণত এমন সিরিজ পড়তে গেলে প্রথম আর শেষটাই বেশি ভালো লাগে। আর মাঝেরটা মনে হয় লেখকরা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এ সিরিজটা তার বিপরীত। বরং আমাকে বইয়ের গভীরে আরো বেশি করে টেনে নিয়েছে।
বইটিতে ছিল দারুণ দারুণ সব টুইস্ট। একটা হজম করতে না করতেই আরেকটা হাজির। শেষদিকে টুইস্টের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছিল আর আমি হা করে সবটা হজম করছিলাম। যাকে শত্রু ভেবে ঘৃণা করছিলাম তার কাজকর্মের মাঝে আর কোনো ভুল দেখতে পারছিলাম না। যাকে সাধু মনে হচ্ছিল সেই হয়ে যাচ্ছিল আসল ভিলেন। মানে সবটা হজম করতে একটু কষ্টই হয়েছে।
কালকে শেষ করলেও তার রেশ আজও কাটেনি। বরং কোথাও একটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। যে ফাঁকা জায়গাটা মিকা আর মৃদিতার হারিয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেলেও সিকলাস আর ম্যানিয়ার এ ফাঁকা জায়গাটা পূরণ হওয়ার নয়। একটা আক্ষেপ রয়ে গেলো। এতগুলো বছর একসাথে কাটিয়েও ম্যানিয়া কেন কিছুই বুঝতে পারলো না? কেন বুঝতে পারলো না সিকলাসের চোখের শেষ চাহনি! কেন জিনাকে সবটা বুঝিয়ে দিতে হলো! জিনার কথা উঠলেও খারাপ লাগা কাজ করে। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বোধহয় একেই বলে! কিন্তু এদের প্রত্যেকেই নিজেদের ভালোবাসার থেকেও রাজ্য, রাজ্যের মানুষদের বড় করে দেখেছে। প্রতিটি মহৎ প্রাণ!
◾এতো ভালোলাগার মাঝেও আমার কিছু প্রশ্ন জাগলো মনে। যারা বইটি পড়েননি তারা এইটুকু এড়িয়ে যাবেন।
১. মিহানের বাবা রাত করে কোথায় যেতো? বুঝলাম সে দেশকে বাঁচানোর জন্য সেদিন মিথ্যে বলেছিল। কিন্তু তার রাত করে বের হওয়া, বিজয় উৎসবে অনুপস্থিত থাকার কোনো কারণ দর্শানো হয়নি।
২. সিকলাসের মা সিয়ারা কি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন নাকি কোনো দেবী? সাধারণ মানুষ হয়ে থাকলে সে কিভাবে একজন দেবতার সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে একজন সন্তানের মা হয়ে গেলেন? যেখানে সিকলাসই তার বাবার বর্ম গাঁয়ে দিয়ে টিকতে পারে না, সেখানে সিয়ারা কি করে দিব্যি বেঁচে আছে?
৩. একজায়গায় দেখা যায় দাউস ম্যানিয়াকে ইনডিরেক্টলি পছন্দ করে সেটা বোঝায়। সিকলাসও উপস্থিত থেকে সবটা দেখে। আর দূর থেকে তাদের এ খুনসুটি দেখে দেবতা মিথিয়াস একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। আর তখনই তার কাঁধে হাত রাখে দেবতা মিনহা। আর বলে, 'এটাই একমাত্র উপায়।
কিসের কথা বলা হয়েছে এখানে? কোন উপায়ের কথা বলা হয়েছে? বুঝতে পারিনি।
৪. শেষদিকে সিকলাস মিথিয়াসের বর্ম পরে একে একে প্রমিথিউসসহ যোদ্ধা দেবতার সকলকে শেষ করে। কিন্তু শেষদিকে আরো কিছু যোদ্ধা দেবতাদের দেখা যায়। শেষ মুহূর্তে এ যোদ্ধা দেবতারা আসলো কোত্থেকে? যারা সাগর পারে যায় এবং পাথরে পরিণত হয়?
আরো কিছু প্রশ্ন আছে। এ মুহূর্তে মাথায়ই আাছে না। যেহেতু সিরিজের আরেকটা বই বাকি আছে, তাই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর সেখানেও পেতে পারি। তবুও এখানে টুকে রাখলাম যেন ভুলে না যাই। আর যদি তৃতীয় বইয়ে এ নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা না থাকে, তবে লেখক সাহেবের কাছে অনুরোধ, আপনি ক্লিয়ার করে দিবেন।
◾সবশেষে বলতে চাই, বইটি নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই আমার। পছন্দের বই হয়ে গেল এটি। লেখকের লেখনী দারুণ। ঠিক সময়ে পাঠকদের মনে হাজারো প্রশ্নের সৃষ্টি করেছেন তিনি। আর সেই প্রশ্নের উত্তর বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত একটা একটা করে বলে দিয়েছেন। কোথাও মনে হয়নি অতিরিক্ত কিছু এড করা হয়েছে। বরং মনে হয়েছে এর থেকে ভালো করে লিখা সম্ভবই নয়।
তবে বানান নিয়ে অভিযোগ আছে। বেশ অনেকগুলো বানান ভুল পেয়েছি। কিছু কিছু বাক্য আছে যেগুলো কয়েকবার করে পড়ে তারপর বুঝতে হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে থামতেও হয়েছিল। এছাড়া বাকিসব ঠিকঠাক।
এল ডোরাডো ট্রিলজি আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলামের সব বই মোটামুটি পড়া ছিল। হুট করে গত মাসে সে নক দিয়ে জানতে চায় এল ডোরাডোর পার্ট ২& ৩ এর বেটার রিডার হবো কিনা। এক্সাম প্রেশার সত্ত্বেও নতুন বই থাকলে বইয়ের নেশায় মাতাল হয়ে যাওয়ার তাড়না থেকে রাজি হয়ে যাই। ২০ দিন আগেই পড়া শেষে লেখককে নিজস্ব মতামত জানিয়ে দিয়ে অফিসিয়াল একটা রিভিউ লিখার ফুরসত মিললো আজকে। এল ডোরাডো পার্ট -১ একবিংশ শতাব্দী থেকে আঠার শতকের টাইম লুপের মাধ্যমে আয়ান চলে যাওয়া�� পর কি হয়েছিল সেটা জানতেই এল ডোরাডোর ১ম পার্ট এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলেছিলাম। খুবই উপভোগ্য ছিল। কিংবদন্তীর এল ডোরাডো শহর খুঁজে পেয়েছিল হ্যামিল্টনের দাদা।অদ্ভুত ভাষায় লিখা পুঁথি ডিসাইফার করে এল ডোরাডো যাওয়ার পথ খুঁজে পায় হ্যামিল্টন ।কিন্তু দাদার খোঁজ পাওউয়া যায় নি। এরপরে কি হলো সেটা জানতে হ্যামিল্টন বেরিয়ে পরে আর দেখা হয় আয়ান এর সাথে। যাকে সবাই পিঠের ট্রাইডেন্টের কারণে ক্যাপ্টেন স্যান্ডার হিসেবে অভিহিত করছে। হ্যামিল্টনের সাথে আয়ান বেরিয়ে পরে কিংবদন্তীর এল ডোরাডো শহর খুঁজে বের করতে।এর আগে জলদস্যুদের দস্যুপনা নিয়ে কাহিনী এগিয়েছিল। জলদস্যু নিয়ে উপভোগ্য এক বই এল ডোরাডোর ১ম পার্ট । এল ডোরাডো কার্স এল ডোরাডোর ২য় পার্ট এল ডোরাডোর কার্স নিয়ে। কিভাবে এ কার্স এলো তা নিয়েই ২য় অংশের কাহিনী। বেটা রিডার হিসেবে এ পার্ট পড়ার সুযোগ হয়েছিল। ভাবতেও পারিনি ফ্যান্টাসি জেনারে ২য় পার্ট পাবো। প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরেই ধাক্কা খাই। হুট করেই শুরু হয় দিনাস গ্রামের কাহিনী। কয়েক পৃষ্টা যাওয়ার পরে খেয়াল করলাম কিছু অশ্রুত শব্দ যেমন মেউক, রিনহা, রিনার। বুঝে গেলাম মৌলিক ফ্যান্টাসি পড়তেসি। ভাবতেই পারিনি ২য় পার্ট এ জনরায় মোড় নিবে। লেখক এখানে ভালোই ধাক্কা দিসে পাঠককে। ১ম পার্ট পড়ার পরে কেউ স্বপ্নেও ভাববেনা ২য় পার্ট এভাবে মোড় নিবে। ধাক্কা সামলে পড়তে থাকি। লেখক যুদ্ধের বীভৎস বর্ণনা দিতে কার্পণ্য করেন নি। তবে কিছু ক্যারেক্টারে নাম এত কাছাকাছি যে হুট হাট মিস করে ফেলছিলাম। বিশেষ করে মিহান আর মিনহা এ ২ ক্যারেক্টারের মধ্যে প্যাচ লেগে যায়। যুদ্ধে ২ পক্ষের একটিকে গুড পাওয়ার যে নিজেকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ করছে আরেকটি ব্যাড পাওয়ার যারা অহেতুক অপর পক্ষের ক্ষতি সাধন করছে ধরে কাহিনী এগিয়ে যাওয়ার পরে পাবেন এক টুইস্ট । আমার মনে হয়েছে আমরা কিভাবে দেখি তার উপর গুড ওর ব্যাড নিরধারিত হয়। এপারেন্টলি যাকে গুড মনে হয় শেষে যেখা যেতে পারে সে আসলেই ডেভিল। যুদ্ধের শেষে এক দেবীর অভিশাপে এল ডোরাডো শহর পরিণত হয় কার্সে। এ ফ্যাস্টিবাল অব ব্লাড এন্ড সি (পার্ট ৩) ৩য় অংশে আবার সেই আঠারো শতক এবং এল ডোরাডোর কানেকশন। এ অংশে আয়ানের প্রকৃত ক্যাপ্টেন স্যান্ডার হয়ে উঠার সাথে ডেভিল বধ নিয়েই কাহিনী গতি পেয়েছে। ডেভিল বধের জন্য কিংবদন্তীর আটলান্টা শহর থেকে দেবতা পোসাইডনের বিশেষ প্রহরী ইয়াহিমা কে নিয়ে মৃফুদার পথে যাত্রা করে আয়ান। পথে বামন,সিথাম, মিমন সহ অদ্ভুত সব ক্যারেক্টার এর সাথে পরিচয় ফ্যান্টাসির ছোয়া বজায় রেখেছেন লেখক। প্রথম দিকে কাহিনীর গতি বেশি ,মাঝে কমে গিয়ে শেষে জাস্ট দৌড়াইসে। হাত থেকে রাখার উপায় নেই।শেষ অংশটুকুর জন্য মনে হবে হয়তবা লেখক ইচ্ছে করে মাঝের দিকে গতি শ্লথ করে মজা নিতে চেয়েছেন পাঠকের সাথে। ১ম অংশের সাব প্লটগুলোকে এক সুতোয় এনে দ্রুত সমাপ্তির দিকে গিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে এভাবে না করলে অনাসায়ে ১০০ পেইজ+ আগাতো এবং আরো বেশি উপভোগ্য হতো, এজন্য কিঞ্চিৎ হতাশ হয়েছি।। এছাড়া শেষ লাইনে ক্লিফ হ্যাঙ্গার দিয়ে এল্ডোরাডো ট্রিলজির সমাপ্তি টানার মধ্যে দিয়ে শেষ হইয়াও শেষ হয় নি ফিলিংসের জন্ম দিয়েছে। ডেভিল কে, এল ডোরাডো কার্স কি, কেন আয়ানকে ১৮ শতকে টাইম লুপের মাধুমে আসতে হলো, ক্যাপ্টেন স্যান্ডারের পরিচয়, তার দায়িত্ত কি, তার প্রজন্মে কিসের কার্স কেনোই বা বহমান, সেবাস্টিয়ানের কি হলো, ডেভিলের সাথে কার্স এর কি সম্পর্ক, ডেভিল আর স্যান্ডারের দ্বৈরত কেন?, এনা , সোফিয়ার কিহলো জানতে হলে এল ডোরাডো ট্রিলজি পড়াই তো যায়। এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি , জলদস্যু সব মিলে এক কম্বো প্যাকেজ এল ডোরাডো।
কখনো কি এমন হয়েছে যে একটি বই পড়তে গিয়ে মনে হলো আপনি একইসাথে দুটি বই পড়ছেন? 'এল ডোরাডো' সিরিজের এই বইটি আপনাকে ঠিক সেই অনুভূতিই দেবে। বইয়ের মূল গল্প থেকে হঠাৎই আপনি ডুব দেবেন ডোরাডো শহরের ইতিহাসে; যেখানে লেখক শুধু তথ্য দেননি বরং একটি সম্পূর্ণ নতুন জগৎ সৃষ্টি করেছেন। যেমন: কল্পনা করুন আপনি সমুদ্রের বুকে জাহাজে করে ঘুরছেন এবং সোনার শহরের চিন্তা করছেন, আর হঠাৎই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসে চলে যাচ্ছেন; একই বইয়ে, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা পরিস্থিতি!
বইটি শুরু হয় সিরিজের প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি থেকে, কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠার মধ্যেই আপনি আবিষ্কার করবেন এল ডোরাডোর অভিশপ্ত ইতিহাস। লেখক এখানে মাস্টারস্টোক করেছেন; এটি শুধু "একসময় এখানে সোনার শহর ছিল" এমন বর্ণনা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প। যেখানে তৈরি করা হয়েছে নতুন এক জগৎ, চরিত্র, সম্পর্ক। দেবতা লামিসার অভিশাপ, ক্যালিদিয়া শহরের পতন, এবং রক্তলোলুপ যুদ্ধের কাহিনী। বলে রাখা ভালো, “এই বইয়ে আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে যা-ই কল্পনা করবেন, তাই ভুল প্রমাণিত হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে।” সোজাসাপ্টা বলতেছে গেলে রহস্যে মোড়ানো ইতিহাস।
"এল ডোরাডো কার্স" বা অভিশাপটি কেন তৈরি হলো? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আপনি মুখোমুখি হবেন প্রমিথিউস ও হেমলিথ দেবতার যুদ্ধের। বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ এগুলো; যেখানে ফ্যান্টাসি ও ইতিহাসের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক অ্যাকশন-প্যাকড ইতিহাস। তবে ১২০ ফুট উঁচু দেবতাদের লড়াইয়ের দৃশ্যে ফিজিক্স একটু উপেক্ষিত। আবার সিকলাস ঘন জঙ্গলের মধ্যে লড়াই করছে ছায়া দেবতার সাথে। বর্ণনা মতে সেখানকার গাছ এতো ঘন যে ঘোড়া চালানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। সেই জায়গায় সিকলাসকে আঘাত করা হলে, ছিটকে যান প্রায় দশ পনেরো ফিট দূরে। এতদূর কিভাবে যাওয়া সম্ভব এতো ঘন গাছের মধ্যে! কিন্তু গল্পের জাদু এতটাই প্রবল যে এসব নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করবে না।
নয়া উদ্যোগ প্রকাশনীর স্বভাবসিদ্ধ সমস্যা এখানেও—বানান ভুল, টাইপিং মিসটেক ও চরিত্রের নাম গুলিয়ে ফেলা। তবে গল্পের টান এতটাই বেশি যে এই ত্রুটিগুলো সহজেই উপেক্ষা করা যায়।
যদি আপনি ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন ও রহস্য পছন্দ করেন, তাহলে এই বই আপনার জন্য।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/৫
(এল ডোরাডো ট্রিলজি #২)
বই: এল ডোরাডো কার্স লেখক: আমিনুল ইসলাম প্রকাশনী: নয়া উদ্যোগ জনরা: হিস্টোরিক্যাল ফ্যান্টাসি পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২ টি মূদ্রিত মূল্য: ৫০০৳ মাত্র
বিষয়বস্তু: ট্রিলজির ২য় বই "এল ডোরাডো কার্স"। কার্স শব্দের অর্থ অভিশাপ। যারা প্রথম বই পড়েছেন, তারা জানেন অভিশাপের সাথে এল ডোরাডোর কি সম্পর্ক। এই বইতে সেটিই বিস্তারিত দেখানো হয়েছে। এল ডোরাডো আসলে কি,কিভাবে তৈরি হলো,কেনইবা একে নিয়ে এত রহস্য, এটা নিয়েই বইয়ের প্লট। ফোকাস করা হয়েছে মূলত অনেক বছর আগের ঘটনাবলির উপর। কাহিনি কিছুটা নন-লিনিয়ার ওয়েতে এগিয়েছে বলা যায়।
লিখলশৈলি: পূর্বের বই থেকে যথেষ্ট ম্যাচিউরড। লেখনি এককথায় অসাধারণ। স্মুথ রাইটিং, ফাটাফাটি প্লট আর প্লটের পারফেক্ট এক্সিকিউশান বইটিকে করে তুলেছে পেজ টার্নার।
ফাইটিং সিকোয়েন্স: অনেকেই ভাবতে পারে এই নামে কেন আলাদা একটা টাইটেল দেয়া লাগবে। তার কারণ এই বইটি যুদ্ধবিষয়ক বই। বইতে এড্রেনালিন রাশ করার মত এত লড়াই দেখানো হয়েছে য�� এ নিয়ে আলাদা করে না বললেই নয়। ফাইটিং সিকোয়েন্সগুলো যথেষ্ট সন্তোষজনক মনে হয়েছে। তবে একটা বিষয় খেয়াল করলাম, 1 vs 1 ফাইট গুলোতে লেখক তাদের লড়াইয়ের কোনো একটা বিশেষ মুহূর্তের ওপর ফোকাস দেন বেশি। এটা তেমন আহামরি কিছুনা, শুধুই অবসার্ভেশন। এমনিতেই সিকোয়েন্সিং সেরা।
বানান+সম্পাদনা: পুরো বইতে প্রিন্টিং মিসটেক প্রায় ছিল না বললেই চলে। সম্পাদক অনেক ভালো।কাজ করে দেখিয়েছেন এক্ষেত্রে। বইয়ের কাভারটা তেমন সুন্দর লাগেনি (পার্সোনাল অপিনিয়ন)
৪.৭৫/৫
যারা ফ্যান্টাসি পছন্দ করেন তাদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড
বিশাল এক রাজ্য। যে রাজ্যের প্রধান শহরের নাম এল ডোরাডো। স্বর্নের শহর। যে শহরে বসবাস করেন দেবতারা। রাজ্যের মানুষও তাদের ভালোবাসে, সম্মান করে। তবে তাদের শান্তির জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অপদেবতা হেমলিথ এবং তার অনুসারীদের নিয়ে গঠিত কালো হেম বাহিনী। হঠাৎ করে অপদেবতার তৈরী মেউক নামের বিধ্বংসী প্রাণীর আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায় সম্পূর্ণ একটি গ্রাম। পরবর্তীতে দেবতারা এবং ক্যালিদিয়ার সৈন্য বাহিনী মিলে প্রতিহত করে তাদের। দূর্বল হয়ে পরে মহাশক্তিধর অপদেবতা হেমলিথ।
কেটে যায় পনেরো বছর। এর মধ্যে আর কোনো বড় ধরনের আক্রমণ হয়নি। তবে ���জকাল যেন অপদেবতার তৈরী মেউকগুলো একটু বেশিই জঙ্গল থেকে লোকালয়ে চলে আসছে...। এটা কী খারাপ কোনো সংকেত? তবে কী আবার কোনো বড় ধরনের আক্রমণের শিকার হতে যাচ্ছে ক্যালিদিয়া? হেমলিথ কী আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে?
ক্যালিদিয়া সৈন্যবাহিনীর অধিনায়ক সিকলাস। মানুষ হয়েও সাধারণ মানুষের কাছে যিনি দেবতার সমান, স্বয়ং দেবতারা যাকে মান্য করে চলে সেই সিকলাস কেন প্রাসাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ রিনার বাহিনী পাঠালেন দিনাস গ্রামে? দেবতাদের রাত্রিকালীন হঠাৎ বৈঠকেরই বা কারণ কী? তবে কী প্রধান দেবতা প্রমিথিউস যে আশঙ্কা করছে তাই সত্যি হতে যাচ্ছে?
এল ডোরাডো, স্বর্ণের শহরের সাথে কেনই বা যুক্ত হলো অভিশাপ শব্দটি? কী সেই এল ডোরাডো কার্স? আর কেন এর উৎপত্তি?
এসব প্রশ্নের উত্তর আছে আমিনুল ইসলাম রচিত এল ডোরাডো কার্স বইটিতে। পাঠকদের স্বাগত এল ডোরাডো কার্সের ভূবনে! . ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: . পড়ে শেষ করলাম এল ডোরাডো ট্রিলজির দ্বিতীয় কিস্তি এল ডোরাডো কার্স। প্রথম বই অর্থাৎ "এল ডোরাডো" তে শেষে গিয়ে বলা হয়েছিল দ্য কার্স অফ এল ডোরাডোর কথা। কীভাবে মূলত এল ডোরাডো এর সাথে অভিশাপ যুক্ত হলো তা নিয়েই এই বই। এল ডোরাডো কার্স একটি হাই ফ্যান্টাসি বই। কল্পনার সাহায্যে লেখক সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতের সৃষ্টি করেছেন।
এই বইয়ে চলে যাওয়া হয়েছে কয়েক হাজার বছর পিছনে। যখন ক্যালিদিয়ার এল ডোরাডোতে বসবাস করতো দেব-দেবীরা। তখনকার মানুষ ও দেব-দেবীদের কাহিনী রয়েছে এল ডোরাডো কার্সে। বইটা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে লেখক এই ফ্যান্টাসি বইটার মাধ্যমে যে আমাদের দৈনন্দিন সমাজ জীবনেরই এক খণ্ড চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী কীভাবে সাধারণ মানুষকে গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে, নিজেরা প্রতিনিয়ত আরো ক্ষমতা লাভের উন্মাদনায় মত্ত থাকে তা পাঠক অনুভব করবে। লেখক সাবলীলভাবে সবকিছু বর্ণনা করে গেছেন।
এবার আসা যাক যুদ্ধের বর্ণনায়। যুদ্ধের সহস্র বছর পর বইয়ে লেখকের যুদ্ধের বর্ণনার নিপুণতার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। যার ধারা বজায় রেখেছেন লেখক এই এল ডোরাডো ট্রিলজিতেও। এতো সুনিপুণভাবে লেখক যুদ্ধের বর্ণনা, যুদ্ধের কলাকৌশল বর্ণনা করেছেন তাতে মনে হচ্ছিল সব কিছু চোখের সামনেই ঘটেছে। লেখক যেভাবে প্রতিটা একশন সিকুয়েন্স বেশ গবেষণা করে বিভিন্ন আঙ্গিকে ভেবে লিখেছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। পাশাপাশি লেখক এটাও তুলে ধরেছেন যে, যুদ্ধ শুধুমাত্র দুই জন ব্যক্তি কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে হয় না। এর প্রভাব শুধুমাত্র দুইপক্ষের উপর পরে না, স্থান, কালভেদে সাধারণ মানুষের সহজ সরল জীবনের উপরও এর প্রভাব বিস্তার করে।
সব মিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য একটা সময় কেটেছে বইয়ের সাথে। যারা ফ্যান্টাসি বই পছন্দ করেন এবং যারা কখনো এই জনরার বই পড়েন নায়, এল ডোরাডো কার্স তাদেরও মনের খোড়াক মেটাতে পারবে আশা করি। . ◑ চরিত্রায়ন: . এই বইয়ের অন্যতম ভাইটাল পয়েন্ট ছিল এর অসাধারণ চরিত্রায়ণ। লেখক পুরো বইজুড়ে অসংখ্য চরিত্রের অবতারণা করেছেন। প্রথম স্তরের দেবতা প্রমিথিউস, অপদেবতা হেমলিথ, অধিনায়ক সিকলাস, সহঅধিনায়ক ম্যানিয়া, মিহান, মিকা, মৃদিতা, নিসা, হেম বাহিনীর প্রধান দাউস সহ আরো অসংখ্য চরিত্রের পদচারণায় মুখর ছিল "এল ডোরাডো কার্স।" খুঁটিনাটি বিষয় থেকে শুরু করে প্রতিটা চরিত্রকেই লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। এবং একইভাবে বর্তমান সময় থেকে অতীতে গিয়ে আবার বিভিন্ন চরিত্রদের ব্যাকস্টোরি সম্পর্কে পাঠকদের অবগত করেছেন। এতোগুলো চরিত্রের যথাযথ চরিত্রায়নও বেশ কঠিন হলেও লেখক সফলভাবে কাজটি করেছেন। অসংখ্য চরিত্রের মধ্যে যখন কোনো কারণে কোনো চরিত্রকে পাঠক ঘৃণা করতে শুরু করবে, অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখবে পরমুহূর্তেই পাঠক আবিষ্কার করবে সেই চরিত্রটার জন্য তাদের সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। অনুভব করতে পারবে তাদের মনে সেই নেতিবাচক চরিত্রের জন্য তৈরী হওয়া সফট কর্ণার। এছাড়াও বইটা পড়ার সময় পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলতে বাধ্য হবে চরিত্রগুলোর মধ্যে। এটাই লেখকের সার্থকতা বলে আমি মনে করি। . ◑ লেখনশৈলী: . বর্তমান সময়ের লেখকদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম আমার পছন্দের একজন লেখক। "গডফাদার" এবং "যুদ্ধের সহস্র বছর পর" পড়ার মাধ্যমে লেখকের লেখনীর ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম। এল ডোরাডো কার্স বইটায় লেখকের লেখনশৈলীতে অনেক পরিবর্তন চোখে পড়েছে। শব্দচয়ন, গল্পের বুনন সবকিছুতে লেখক নিজের সেরাটা দিয়েছেন। যেহেতু এটা একটা ফ্যান্টাসি বই, তাই লেখক নিজের কল্পনা শক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন জাদুময় এক জগতের সৃষ্টি করেছেন। ওয়ার্ল্ডবিল্ডাপও অনেক ভালো ছিল। . ◑ বানান ও সম্পাদনা: . বইটির সম্পাদনা মোটামুটি বেশ ভালো ছিল। তবে বানান ভুলের পরিমাণ প্রথম বইয়ের থেকে একটু বেশিই চোখে পড়েছে। যার কারণে পড়তে গিয়ে বিরক্তি এসেছিল কয়েকবারই। পাশাপাশি ২০৬ এবং ২০৭ পৃষ্ঠায় নাম বিভ্রাটও ছিল৷ উক্ত দুই পৃষ্ঠায় মৃদিতাকে দুই বার নিসা নামে সম্বোধন করা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে প্রকাশনী এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবে৷ . ◑ প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: . বইটার এই চমৎকার সুন্দর প্রচ্ছদটি করেছেন আশিয়ানীর লেখক এবং জনপ্রিয় প্রচ্ছদশিল্পী রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান। ট্রিলজির তিনটা বইয়ের মধ্যে এই প্রচ্ছদটা আমার সবথেকে বেশি পছন্দ হয়েছে তবে দুঃখের বিষয় প্রচ্ছদের সাথে বইয়ের কাহিনীর কোনো মিল পেলাম না। আর প্রোডাকশন এর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ নাই। নয়া উদ্যোগ প্রকাশনীর প্রোডাকশন সবসময়ের মতোই ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বইয়ের বাইন্ডিং ও অনেক ভালো ছিল বরাবরের মতো। আর কন্টেন্ট এবং প্রোডাকশন অনুযায়ী দামও হাতের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে পাঠকদের জন্য। . ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/৫ . ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বই: এল ডোরাডো কার্স {ট্রিলজির ২য় বই} ➠ লেখক: আমিনুল ইসলাম ➠ প্রকাশকাল: ২০২২ ➠ প্রকাশনী: নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা ➠ জনরা: হাই ফ্যান্টাসি
ট্রিলজির হিসেবে এটা সিক্যুয়েল হলেও কাহিনির বিবেচনায় প্রিকুয়েল।এল ডোরাডো পড়তে গিয়ে যে কয়টা প্রশ্ন উদয় হয়েছিলো তার মধ্যে অন্যতম ছিলো এল ডোরাডো কী এবং কীভাবে এটা অভিশপ্ত হয়েছিলো। এই বইটিতে তার উত্তর পাওয়া যায়। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কাহিনি খুব আটঁসাটঁ ছিলো। কোথাও মনে হয়নি কাহিনি টেনে লম্বা করা হচ্ছে। লেখনীও সাবলীল ছিলো কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় কথপোকথন একটু দূর্বল লেগেছে। যাইহোক কাহিনির ফ্লোয়ের কারণে সেগুলো খুব একটা গায়ে লাগেনি। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য ছিলো। এখন শেষটা কেমন হয় সেই অপেক্ষায়।
স্টান্ড এলোন বই হলেই যেন বেশি মানাত বইটা। ট্রিলোজি ২য় পার্ট হিসেবে বইটা যায় না আসলে। ট্রিলজি হিসেবে এই ইতিহাস পার্ট টুকু আরেকটু শর্ট/ বর্তমানের মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে দিলে হয়তো " ছিড়ে যাওয়া সুতা" টাইপ অনুভুতি আসত না।
যাই হোক পড়ে মজা পেয়েছি। শেষ দিকে সম্পাদনার কারনে নামে একটু গোলমাল হয়েছে এছাড়া ��েমন কোন ভুল চোখে পড়ে নি। তবে সম্বোধনে তুই এর কিছু ব্যবহার দৃষ্টিকটু লেগেছে। আরেকটা ব্যাপার শেষ এর একশন সিন টা একটু এলোমেলো লাগল।