জনপ্রিয় সাহিত্যিক মহুয়া ঘোষের লেখা আমি নিয়ম করেই পড়ি। আমার মনে হয়েছে, তাঁর লেখার দু'টি বিশেষত্ব আছে। সেগুলো হল~ প্রথমত, তিনি খুব সহজ, অনাড়ম্বর, প্রায় ঘরোয়া কথা বলার মতো ভঙ্গিতে লেখেন। দ্বিতীয়ত, তাতে যে ভয় থাকে তা আপাতভাবে অলৌকিক হলেও আদতে ভীষণভাবে জাগতিক, অনেক ক্ষেত্রে একান্ত ব্যক্তিগত কিছু হারানোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। সেজন্যই গল্পগুলো পড়লে ভয় হয়। নিজের বা একান্ত নিজের কারও সঙ্গে ঠিক এমনটাই হতে পারে, এমন অনুভূতি জেগে ওঠে গল্পগুলো পড়ে। এই বইয়ের পাঁচটি লেখাও ব্যতিক্রম নয়। এতেও আমরা এই দু'টি বৈশিষ্ট্যেরই প্রকাশ দেখি। বইয়ে আছে~ ১. অমাবস্যার সেই রাত; ২. অগ্নিকে সাক্ষী রেখে; ৩. সাত ঘণ্টা— এটি বড়ো গল্প; ৪. সেদিন শিকারায়; ৫. অন্তর্দাহ— এটি বড়ো গল্প। গল্পগুলো পড়া শুরু করলে শেষ না করে থামা যায় না। কয়েকটি মুহূর্তে সত্যিই গায়ে কাঁটা দেয়। একান্ত নিভৃত, অনেকাংশে মেয়েলি ভয় বলে আমরা যাদের খোঁজ রাখি না, সেই ভয়ের জমাট, ভারী, মারাত্মক রূপ এতে তুলে ধরেছেন লেখক। বইটিতে বেশ কিছু বানানগত অশুদ্ধি দেখলাম। সামান্য পরিমার্জনা করিয়ে নিলেও লেখাগুলো আরও উপাদেয় হত। তবে ওটুকু উপেক্ষণীয় ভেবে ভয় পেতে চাইলে, এই বইটি অতি অবশ্যই পড়তে পারেন। অলমিতি।
ভয়ের ঠিকানা বইতে ভয়াল আর চিরাচরিত তন্ত্র-মন্ত্র গল্প (চণ্ডাল আর মাহেন্দ্রানী সিরিজ) রয়েছে।
আমবায়সার সেই রাত, অগ্নিকে সাক্ষী রেখে আর সেদিন শিকারায় এই তিনটে ছোট গল্পের মধ্যে পড়ে। আমি বলবো এই গল্পগুলো ভয়কে ছুঁয়ে গেছে। সাদামাটা গল্প।
সাত ঘন্টা গল্পটি এই সংকলনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে হয়েছে। যথেষ্ট ভয়ের, রাতে পড়ে একটু ভয় লাগছিলো বৈকী।
অন্তর্দাহ গল্পটি মতের ওপর ঠিক আছে। ভয়ের চেয়ে কাহিনী ভালো।
লেখিকার অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইটিতেও গল্পগুলো একদম ঘরোয়া পরিবেশে যেভাবে গল্প বলা হয়ে, সেইভাবে লেখা। একদম সহজ সরল ভাষায়, তাড়াতাড়ি পড়া যায়। কিছু জায়গায় english শব্দ ব্যবহার না হলে ভালো হয়। সেটা হয়তো আমরা যেভাবে কথা বলি, সেই flow টাকে বজায় রাখার জন্য।
তবে আমি বলবো তন্ত্র-মন্ত্র বাদে গল্পগুলোর প্রধান প্লট দুর্বল। মনে হলো যেভাবে হোক একটা সমস্যা সৃষ্টি করে বাকিটা তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে মেটানো যাবে। কোনো প্লট টুইস্ট পেলাম, গল্পের মধ্যে সেরকম কোনো চমক নেই।
পরিশেষে বলবো লেখিকার চণ্ডাল আর মাহেন্দ্রানী আমার খুব প্রিয় সিরিজ। সম্ভবত ওনার লেখা ছাড়া আমি অন্য কোনো ফিক্শন তন্ত্র-মন্ত্রজনিত বই পড়ি না, এর কারণ দুটো চরিত্রের শক্তিশালী ভিত আর গঠন।