সত্যজিৎ রায়ের গল্পে, ফেলুদা আর শঙ্কুর কাহিনিতে, চলচ্চিত্রে ছড়িয়ে আছে বইয়ের বহু অনুষঙ্গ, নানা ইঙ্গিত। একইসঙ্গে পাওয়া যায় এমন এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালিকে, যাঁরা বই পড়েন। এই আশ্চর্য পড়ুয়া বাঙালির বই পড়ার মানচিত্রই প্রকারান্তেরে দেখা গেছে সত্যজিৎ নির্মিত চরিত্রদের মধ্যে। এই ইঙ্গিতগুলোকে অনুসরণ করেই লেখক খুঁজে পেয়েছেন বইয়ের এক বিস্তৃত জগৎ।
"সত্যজিতের লেখার পাতায় পাতায় বই, সিনেমার দৃশ্যে দৃশ্যান্তরে ছড়ানো আছে বইয়ের অনুষঙ্গ। কিন্তু এহেন সত্যজিৎও শুধু বইয়ে ডুবে থাকা বইমুখো একাকী পাঠকের জাগতিক বিচ্ছিন্নতাকে কিন্তু কখনোই খুব একটা গর্বের কথা হিসেবে দেখালেন না। বরং তাঁর বইপড়া চরিত্ররা বইকে ব্যবহার করেছে দিনদুনিয়ার খবর পেতে, চারপাশ সম্পর্কে অসীম ঔদাসীন্যে বইয়ের ভিতরে মুখ গুঁজে পলায়নবাদী হয়ে থাকেনি কেউই, বই তাদের চারিত্রিক গতিশীলতা, ঝকঝকে ধরনকে আরও নির্দিষ্ট আকৃতি এনে দিয়েছে, বই তাদের সহায়ক, তাদের সঙ্গী, কিন্তু অবলম্বন নয়। জীবনকে এখানেই জিতিয়ে দিয়ে গেছেন সত্যজিৎ। বইয়ের হাত ধরে পথ হেঁটেছেন, বইয়ের মধ্যে হারিয়ে যাননি।"
- ভোরাসিয়াস রিডার ছিলেন সত্যজিৎ। তাঁর লেখা চরিত্ররা কিংবা সিনেমায় - প্রায়শই দেখা যাবে বই হাতে কেউ কিছু পড়ছে, বইয়ের প্রচুর রেফারেন্স ও থাকে।
সত্যজিতের নিজের পড়া ও তার সৃষ্ট চরিত্রদের হাতে দেখা বইয়ের সুলুকসন্ধান করেছেন ঋত্বিক মল্লিক। ভালো লেগেছে ।