রাশিয়ান রুলেটের পটভূমি ক্ষয়ীভূত সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্যাংকক এবং আফ্রিকার একটি দেশ। প্রায় সারা বিশ্ব জুড়ে ডার্ক ওয়েব, সেক্স ট্যুরিজম, হিউম্যান ট্রাফিকিং কিভাবে মারণ কর্কটের মত ছড়িয়ে পড়েছে তার অনেকটা আঁচ পাওয়া যায় এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়। উন্নত দেশের আপাত ভদ্র সভ্য মানুষের মাঝেও কতটা বর্বরতা বা বিকৃত কামনা লুকিয়ে থাকে সেই ছবিও দেখা যায় এখানে। রাশিয়ান গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি অন্যতম দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ইন্দো রাশিয়ান তূর্য বোস, যিনি তার কার্যকলাপের জন্য শত্রুপক্ষের কাছে "সিউডো ইউডো"(রাশিয়ান উপকথার দানব) নামে পরিচিত। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর এই অপরাধ জগৎ ,অন্ধকার দুনিয়া... গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পরেও তাকে আরও একবার ফিরতে হয় তার পুরনো কাজে, প্রিয় সহকর্মী বন্ধু সের্গেই এর নিখোঁজ কন্যা ভ্যালেন্তিনাকে উদ্ধার করতে। পৌঁছে যেতে হয় আফ্রিকার কোনও এক স্বৈরাচারী শাসকের দেশে। এসবের মাঝেই কোথাও জুড়ে রয়েছে এক টুকরো কলকাতা। কিন্তু কিভাবে? বোবো স্যাভিম্বি কে? কেন সুলতান বিন হাসেম বারবার সতর্ক করছেন তূর্যকে? কেনই বা মরিয়া ইয়াকুজা গোষ্ঠীর ডন নাকামুরা তূর্যকে খুঁজে পেতে? শেষ পর্যন্ত কি উদ্ধার করা যায় ভ্যালেন্তিনাকে? নাকি নিয়তির পরিহাসে মুচকি হেসে ফিরে আসে "দ্যাট ভেরি ওল্ড গেম রাশিয়ান রুলেট"?
সুপ্রিয় চৌধুরীর জন্ম উত্তর কলকাতার সাবেকি পাড়ায়। কৈশোরের অনেকটাই কেটেছে রেললাইন আর উদ্বাস্তু কলোনি ঘেঁষা শহরতলিতে। যৌবন, প্রৌঢ়ত্বের ঠিকানা মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু মহল্লা। পুঁথিগত শিক্ষার গণ্ডি পেরোলেও নানাধরনের পাঠে প্রবল আগ্রহ। শখ: ফুটবল, ফিল্ম আর পশুপাখি পোষা।
রাশিয়ান রুলেটের পটভূমি ক্ষয়ীভূত সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্যাংকক এবং আফ্রিকার একটি দেশ। প্রায় সারা বিশ্ব জুড়ে ডার্ক ওয়েব, সেক্স ট্যুরিজম, হিউম্যান ট্রাফিকিং কিভাবে মারণ কর্কটের মত ছড়িয়ে পড়েছে তার অনেকটা আঁচ পাওয়া যায় এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়। উন্নত দেশের আপাত ভদ্র সভ্য মানুষের মাঝেও কতটা বর্বরতা বা বিকৃত কামনা লুকিয়ে থাকে সেই ছবিও দেখা যায় এখানে। রাশিয়ান গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি অন্যতম দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ইন্দো রাশিয়ান তূর্য বোস, যিনি তার কার্যকলাপের জন্য শত্রুপক্ষের কাছে "সিউডো ইউডো"(রাশিয়ান উপকথার দানব) নামে পরিচিত। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর এই অপরাধ জগৎ ,অন্ধকার দুনিয়া... গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পরেও তাকে আরও একবার ফিরতে হয় তার পুরনো কাজে, প্রিয় সহকর্মী বন্ধু সের্গেই এর নিখোঁজ কন্যা ভ্যালেন্তিনাকে উদ্ধার করতে। পৌঁছে যেতে হয় আফ্রিকার কোনও এক স্বৈরাচারী শাসকের দেশে। এসবের মাঝেই কোথাও জুড়ে রয়েছে এক টুকরো কলকাতা। কিন্তু কিভাবে? বোবো স্যাভিম্বি কে? কেন সুলতান বিন হাসেম বারবার সতর্ক করছেন তূর্যকে? কেনই বা মরিয়া ইয়াকুজা গোষ্ঠীর ডন নাকামুরা তূর্যকে খুঁজে পেতে? শেষ পর্যন্ত কি উদ্ধার করা যায় ভ্যালেন্তিনাকে? নাকি নিয়তির পরিহাসে মুচকি হেসে ফিরে আসে "দ্যাট ভেরি ওল্ড গেম রাশিয়ান রুলেট"?
📝 কাহিনী সংক্ষেপ : তূর্য বোস, একজন এক্স রাশিয়ান স্মার্শ স্পাই । বাবা বাঙালি, মা রাশিয়ান । তূর্য, স্মার্শের বেস্ট এজেন্ট । দুর্ধর্ষ যোদ্ধা । CIA, MI6 আর মোসাদের এজেন্টরাও রীতিমতন সমীহ করে চলে ওকে । এই পেশায় সকলে তাকে ডাকে 'সিউডো ইউডো' নামে, দ্য ডেডলিয়েস্ট ডেমন অফ রাশিয়ান ফোক টেলস ।
বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করতে সে এসে হাজির হয়েছে শহর কলকাতায়, মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শেষ অনুরোধ রাখতে । দিনকয়েক সেখানে কাটাতে না কাটাতেই পুরোনো স্মার্শ এজেন্ট বন্ধু সের্গেই ফোনে করে জানায় তার তরুণী কন্যা ভ্যালেন্তিনা নিখোঁজ । শেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুসারে থাইল্যান্ডে কাজ করতে গেছিল ভ্যালেন্তিনা, কিন্তু তারপর তারসাথে আর কোনভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না । তূর্য বন্ধুকে কথা দেয়, যে কোন মূল্যে ভ্যালেন্তিনাকে সে ফিরিয়ে আনবে । বন্ধুর মেয়েকে উদ্ধার করার কাজে শুরু হয় এক ভয়ংকর মিশন । যেখানে তার প্রতিপক্ষ মোস্ট পাওয়াফুল ক্রাইম কার্টেল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড । এক্সটরশন, মানি শারকিং, প্রস্টিটিউশন, ব্ল্যাকমেলিং, কন্ট্যাক্ট কিলিং, চাইল্ড, উইমেন এন্ড আর্মস ট্র্যাফিকিং, নিউক্লিয়ার স্মাগলিং - দুনিয়ার এমন কোন ক্রাইম নেই যা এদের আওতার বাইরে । শুরু হয় এক রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার । রাশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা এবং ভারত জুড়ে ছড়ানো দুর্ধর্ষ এক স্পাই থ্রিলার এই 'রাশিয়ান রুলেট' ।
📄 পাঠ প্রতিক্রিয়া : উফ্ ! কি পড়লাম এটা !! এই থ্রিলার উপন্যাসটিকে 'অসাধারণ' বললেও কম বলা হয় । এইরকম লেভেলের 'স্পাই থ্রিলার' বাংলায় আর লেখা হয়েছে কি ? আমার জানা নেই । পড়তে পড়তে বারবার ভেবেছি, ঠিক কতখানি পরিশ্রম আর রিসার্চ করলে এমন উপন্যাস লেখা যায় । এত বিস্তৃত পটভূমির উপন্যাস, অথচ কী নিটোল কাহিনির বুনোট ! এত গতিময় একটি কাহিনী এতটা দৃঢ়বদ্ধ হতে পারে !! পড়তে পড়তে বারবার পিছনের দৃশ্যে ফিরে গিয়ে নতুন করে পড়েছি । প্রতিটি দৃশ্যপট চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, ঠিক সিনেমার মতো ।
▫️কাহিনীর শেষ অংশে আছে চমক । না, কোনো ট্যুইস্ট নয় । পড়তে পড়তে লেখকের প্রতি রাগ হয়, এত দুর্দান্ত একটা গল্প এইরকম 'ওপেন এন্ডিং' রেখে দেওয়ার জন্য । তবে লেখকের কাছে অনুরোধ - এই কাহিনীর পরবর্তী অংশ যদি কখনো নাও আসে ক্ষতি নেই । কিন্তু তূর্য বোসের অতীতের সব ডেডলিয়েস্ট মিশনের কাহিনী তো আসতেই পারে, নাকি ??
রাশিয়ান রুলেট লেখক - সুপ্রিয় চৌধুরী প্রকাশ - পূজাবার্ষিকী আনন্দলোক ১৪২৯ মূল্য - ২২০ টাকা।।
কয়েকদিন আগে বইতরণী গ্রুপে একটা পোস্ট করেছিলাম পছন্দের পূজাবার্ষিকী উপন্যাস জানতে চেয়ে, সেখানে অনেক নামের সঙ্গেই উল্লেখ পাই সুপ্রিয় চৌধুরী এর লেখা রাশিয়ান রুলেট উপন্যাসটির।। পূজা বার্ষিকী আনন্দলোক ১৪২৯ এ প্রকাশিত, বইটির ডিজিটাল ভার্সন জোগাড় করেই শুরু করে দিয়েছিলাম পড়া।। দ্রোহজ আর কেতজেল পাখি পড়ার পর থেকেই লেখক সুপ্রিয় চৌধুরী আমার পছন্দের লেখকের মধ্যে পরেন।। তাই আর পড়া শুরু করতে দেরি করিনি।। পড়া শেষ হয়ে গেলেও উপন্যাসটির ঘোর এখনও কাটছে না।। দুর্দান্ত একটা অ্যাকশন মুভি তৈরি করার সমস্ত মাল-মশলা রয়েছে উপন্যাসটির মধ্যে।।
তূর্য বোস, একজন এক্স রাশিয়ান স্মার্শ স্পাই।। বাবা বাঙালি, মা রাশিয়ান।। সোভিয়েট রাশিয়ার পতনের পর নিজের দেশ ছেড়ে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যে ও পরে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শেষ অনুরোধ রাখতে বাবার শহর কলকাতায় আসে।। নিজেকে গুছিয়ে নিতে নিতেই আবার ডাক আসে মাতৃভূমি থেকে, পুরোনো স্মার্শ এজেন্ট বন্ধুর তরুণী কন্যা ভ্যালেন্তিনা নিখোঁজ।। শেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুসারে থাইল্যান্ডে কাজ করতে গেছিল ভ্যালেন্তিনা।। তূর্য বোস বন্ধুকে কথা দেয়, ভ্যালেন্তিনাকে ফিরিয়ে আনবে সে।। শুরু হয় এক রোমহষর্ক অ্যাডভেঞ্চার।। রাশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা জুড়ে ছড়ানো আশ্চর্য এক স্পাই থ্রিলার এই 'রাশিয়ান রুলেট'।। কাহিনি যত এগিয়েছে, শাখাপ্রশাখা ততই বিস্তৃত হয়েছে।। কেজিবি - স্মার্স - ব্যাংকক - আন্ডারওয়ার্ল্ড - বিটকয়েনের মত বিষয় পদে পদে পাঠক কে উত্তেজনা অনুভব করাতে বাধ্য।।
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
ঠিক কতখানি পরিশ্রম করলে এমন উপন্যাস লেখা যায়।। কতটা রিসার্চ প্রয়োজন এই ধরনের একটি উপন্যাস লেখার জন্য।। কাহিনী ঘুরেছে প্রায় ৬ টা দেশ, অসংখ্য চরিত্র, আর তার সাথে সামাজিক ব্যাধির মত ফ্লেশ ট্রেড আর ডার্ক ওয়েব স্ক্যাম এর বিবরণ, কোনো অংশেই কাহিনির বুনোট হালকা হয়নি।। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ভদ্র, সভ্য, পরিশীলিত মানুষগুলোর মধ্যে এমন জঘন্য, কদর্য, আদিম, বিকৃত লালসাও লুকিয়ে থাকতে পারে!! কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো রীতিমতো গা-গুলিয়ে দেয়।। লেখক নিজে বিভিন্ন রিসার্চ ওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকার ফলে বিভিন্ন ধরনের বাস্তব চিন্তার প্রতিফলন ঘটে তাঁর প্রত্যেক লেখাতেই।। প্রত্যেকটি অস্ত্র, শত্রুর সাথে মোকাবিলা করার পদ্ধতি, কমব্যাট ট্রেনিং এর খুঁটিনাটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়েছেন লেখক।। শুধু একটাই অভিযোগ, এমন জায়গায় শেষ করে দিলেন কেন? আর দুটো লাইন বেশি লিখলে কী এমন ক্ষতি হত? আমি ২০২৫ এ উপন্যাসটি পড়ছি বলে হয়তো জানি তাও একটি মৌলিক উপন্যাস হিসেবে এরকম জায়গায় উপন্যাস শেষ করা, পাঠকদের মনের উপর চাপ সৃষ্টি করে।। ২০০৮ সালে এই উপন্যাসের পটভূমির উপর একটি সিনেমা দেখেছিলাম লিয়াম নেসন এর টেকেন।।