ওয়াসি আহমেদের জন্ম ১৯৫৪ সালে, সিলেট শহরের নাইওরপুলে। স্কুলের পাঠ বৃহত্তর সিলেটের নানা জায়গায়। পরবর্তী শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু। ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘শবযাত্রী স্বজন’। কথাসাহিত্যে, বিশেষত গল্পে, মনোনিবেশ আশির দশকে। প্রথম গল্প সংকলন ‘ছায়াদণ্ডি ও অন্যান্য’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। পুস্তকাকারে প্রথম উপন্যাস ‘মেঘপাহাড়’ প্রকাশ পায় ২০০০ সালে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনসহ কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা অঙ্গনে। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সব প্রধান সাহিত্য পুরস্কার।
আগে পড়া ওয়াসি আহমেদের গল্পগ্রন্থগুলোর চেয়ে ‘ত্রিসীমানা’ খানিক পিছিয়ে থাকবে আমার কাছে। তবে পিছিয়ে থাকার ব্যাপারটা তখনই আসবে যখন তুলনাটা হবে খোদ লেখকেরই অন্যান্য গল্পগ্রন্থের সঙ্গে। না হলে বলতেই হয়, দারুণ এক গল্প সংকলন ‘ত্রিসীমানা’। বইয়ের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং আমার পছন্দের গল্প হচ্ছে ‘লাইলী সুন্দরী ও জীবনযাপনের রূপকথা’। এছাড়া ‘ত্রিসীমানা’, ‘পরিবেশবাদী’, ‘দীপার দুপুর’, ‘কাকতাড়ুয়া’, ‘আয়নাপালা’—এ গল্পগুলোও উল্লেখ করার মতো। বিষয়বস্তুর ভিন্নতা, বাহুল্যবর্জিত বর্ণনা ও দৃঢ়বদ্ধ গদ্য ওয়াসি আহমেদের অপরাপর গল্পগুলোর মতোই বিরাজমান ছিল এ বইয়ের গল্পগুলোতেও।
ধর্মীয় গোড়ামির বিরুদ্ধে দাড়াতে গিয়ে এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা কে সাপোর্ট করতে গিয়ে কতিপয় লেখক সমাজ, উগ্র ধর্ম নিরপেক্ষতা চর্চা করেন যা বরাবরই আলোচনায় উপস্থিত থেকে যায়।
কাকতাড়ুয়া ও লাইলি সুন্দরী ছাড়া অন্য কোনো গল্প ই ভালো লাগেনি।