বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতাদের একজন ঋতুপর্ণ ঘোষ। অন্তরঙ্গ সব অনুভূতির গল্প সাবলীল সংলাপে তিনি উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্রের পর্দায়। মাত্র উনপঞ্চাশ বছরের জীবনে রেখে গেছেন বিপুল সৃষ্টিসম্ভার। ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবনের রূপরেখা দেখানোর পাশাপাশি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার নানাদিক উন্মোচনের গভীরতর প্রয়াস এই বই। নির্বাচিত কয়েকটি চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ ছাড়াও এই বইয়ে রয়েছে তাঁর অভিনয়, উপস্থাপনা ও পত্রিকা সম্পাদনা নিয়ে আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার ও তাঁর লেখা সব গান।
পড়ে শেষ করলাম নাফিস সাদিকের গবেষণাধর্মী বই “ঋতুপর্ণ ঘোষ : চলচ্চিত্র, জীবন ও সাক্ষাৎকার”। বইয়ের নাম থেকেই বইটার বিষয়বস্তু স্পষ্ট ; লেখকের মূল আলোচনা ঋতুপর্ণ ঘোষকে নিয়ে। ঋতুপর্ণ ঘোষের সংক্ষিপ্ত জীবনী, তাঁর নির্বাচিত কিছু সিনেমার বিস্তারিত রিভিউ ও অন্যান্য মুভির সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের দেওয়া পাঁচটি সাক্ষাৎকার নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বইটা।
লেখকের দাবি অনুযায়ী এটা ঋতুপর্ণ ঘোষের উপর লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা বই। ইতোপূর্বে দুইটা ইংরেজি বই রচিত হলেও বাংলা ভাষাভাষী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য তিনি এই বইটা লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ভূমিকাতে লেখক দুইটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পাঠকদের ; প্রথমত তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবনের একটা সামগ্রিক চিত্র দেবেন এবং দ্বিতীয়ত বইটা কোনো গম্ভীর কাটখোট্টা বই হবে না বরং সহজপাঠ্য বই হবে। কতটুকু সফল হয়েছেন লেখক?
প্রথমে লেখনী নিয়ে বলি। লেখকের লেখনীর সাথে আমি পূর্ব থেকেই পরিচিত। জনপ্রিয় সাইট রোর বাংলায় তাঁর নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হতো এবং আমি তাঁর নিয়মিত পাঠক ছিলাম। তখন থেকেই আমি লেখকের লেখনীর সাথে পরিচিত। রোর বাংলার কনটেন্ট নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই কিন্তু কিছুটা অভিযোগ আছে তাদের সম্পাদনা নিয়ে। সেবা প্রকাশনীর ক্ষেত্রে যেটা হয় - সব অনুবাদকের লেখার স্টাইল অনেকটা একই মনে হয়, রোর বাংলার ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। ফলে নাফিসের লেখার একটা ‘রোর বাংলা ভার্সন’ দাঁড়িয়ে গিয়েছে এবং সেই ভার্সনটাই আমি পেয়েছি এই বইটাতে। এর মানে এই না যে লেখনী খুব জটিল বা দুর্বোধ্য বরং তার উল্টো। খুবই মোলায়েম আর সহজপাঠ্য একটা ভাষায় লেখা হয়েছে পুরো বইটা। ফলে তিনি তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ( কাটখোট্টা নয় বরং সহজপাঠ্য ভাষা) তা তিনি পূরণ করেছেন বলে মনে হয়েছে আমার।
এবার অন্য প্রতিশ্রুতিটার ব্যাপারে আসা যাক। তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিলো তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবন ও চলচ্চিত্রযাত্রার একটা সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবেন। এটা কি তিনি করতে পেরেছেন? তিনি কতটুকু পেরেছেন সেটা আগে বলে নিই। প্রথমত লেখক যে প্যাশন থেকে বইটা লিখেছেন তা প্রশংসনীয়। তিনি যে ঋতুপর্ণকে নিয়ে সামনে যা পেয়েছেন সব পড়েছেন বা তাঁর সব কাজগুলো দেখেছেন তার ছাপ পাওয়া যাবে বইটার প্রতিটা পাতায়। আবার এই দর্শন যে কতটা সচেতনতার সাথে সম্পাদিত হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে সাত সাতটা বিস্তারিত রিভিউ থেকে। এই রিভিউগুলোতে লেখক ঋতুপর্ণের একদম মনের কথাগুলো সামনে এনেছেন। প্রাসঙ্গিক কবিতা, নিজের উপলব্ধি, ঋতুর সাক্ষাৎকার সব মিলিয়ে তিনি প্রতিটা মুভির প্রতিটা সিকোয়েন্সের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই রিভিউগুলো পড়লেই লেখকের মনোযোগের প্রমাণ যেমন পাওয়া যায় তেমনি পাওয়া যায় ঋতুপর্ণ ঘোষকে। কেননা ঋতুপর্ণের ছবিগুলো যে তাঁর জীবন থেকে আলাদা কিছু ছিলো না! আরেকটা বিষয় হলো লেখক ধারাবাহিকভাবে সব সুন্দরভাবে গুছিয়ে আলোচনা করেছেন, এতর ঋতুপর্ণের চিন্তার পরিবর্তন বোঝা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে। এছাড়া বলতে হয় লেখকের যত্নের ছাপের কথা। প্রতিটা ছবির ঋণস্বীকার থেকে শুরু করে প্রতিটা অধ্যায় শেষে বিবলিওগ্রাফি, শুরুতে বিস্তারিত সূচী, বইয়ের শেষাংশে ঋতুপর্ণের গানগুলো সংযোজন ইত্যাদি তাঁর যত্নেরই প্রমাণ।
বিপরীত দিকটাতে যদি আসি তাহলে প্রথমেই বলবো বইটা ঠিক নির্মোহ হয়ে ওঠেনি, অনেকটা এক ফ্যান বয়ের জবানবন্দি হয়ে উঠেছে! পরিচালকের রেইনকোট দেখে লেখক যে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন (ভূমিকায় উল্লেখিত) সেই মুগ্ধতা তিনি আর কাটাতে পারেননি! তিনি তাঁর সব মুভিতেই মুগ্ধ, সব অভিনয়ে মুগ্ধ এমনকি মুগ্ধ তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা আর আত্মজীবনীতেও! ফলে মুভিগুলোর আলোচনায় মুভির নেগেটিভ দিক পাইনি বললেই চলে। আসলেই কি এত পারফেক্ট ছিলো মুভিগুলো? নিশ্চয় না!
দ্বিতীয় যে বিষয়টা বলতে চাই তাহলো বইটাতে আরও কিছু অধ্যায় সংযোজন করা যেত, আরেকটু আলোচনা করা যেত। কিছু কিছু বিষয় এলোমেলোভাবে পুরো বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় এসেছে, লেখক চাইলে সেগুলোকে আলাদা আলাদা অধ্যায়ে আলোচনা করতে পারতেন। রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত নিয়ে ঋতুর মুগ্ধতা ও প্ল্যান, হিন্দি ভাষী শিল্পীদের পুনঃ পুনঃ ব্যবহার, মুভিগুলোতে ইংরেজি সংলাপের আধিক্য, ছবির মধ্যে ছবি ইত্যাদি বিষয়গুলো একসাথে একই অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচিত হলে বইটা আরও আকর্ষণীয় হতো বলে মনে হয়েছে আমার।
পরিশেষে এটা বলা যায়, বেশ সাহসী চেষ্টা ছিলো লেখকের। বেশ ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বইটা দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তবে আরেকটু নির্মোহ হতে পারলে আর গোছালো হতে পারলে আরেকটু ভালো হতো বলে মনে হয়েছে আমার।
কোনো বিষয়ে 'জানা থাকলে' সেই বিষয়ে বইপত্র পড়া মুশকিলের কাজ। কারণ তখন নিজের জানার সাথে বইয়ের জানা অজানার কনফ্লিক্ট হয়। নাফিস সাদিকের এই বইটার ক্ষেত্রে সেটা হয় নাই। কেননা বইটাতে তিনি ঋতুপর্ণর সিনেমা নিয়ে নিজের মতো ব্যাখ্যা করেছেন। বলা যায় ঋতুকে তিনি কেমন দেখেন তার একটা প্রকাশ আছে। পাশাপাশি ঋতুপর্ণকে নিয়ে নানা লেখালেখি, ঋতুকে প্রকাশ থেকে নাফিস সাদিক আরেকবার তাকে আবিস্কার ও পাঠকের সামনে আনার চেষ্টা ছিল।
নাফিস যে শুধু সিনেমা নিয়েই আলাপ করেছেন এমন না। তিনি ঋতুকে চেনার ও চেনানোর চেষ্টা করেছেন। চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্রের বাইরের ঋতু, ঋতুর সঙ্গে কথোপকথন ইত্যাদি অংশে ভাগ করা হয়েছে বইটিকে। ঋতুর চলচ্চিত্র অংশে নাফিস সাদিক তার কয়েকটি সিনেমার বিশ্লেষণ করেছেন। সাক্ষাৎকারগুলো সংকলিত, বেশিরভাগই নাফিস সাদিক অনূদিত।
বইটা গত বছর নেয়া। ঋতুপর্ণ ঘোষ সম্পর্কে আমার পড়াশোনা মধ্যম গোত্রের, প্রতিটা সিনেমা একাধিকবার দেখা। ঋতুকে নিয়ে বাংলাদেশে কেউ বই করল, সেই কৌতুহল ও ভালো লাগা থেকেই কেনা ও পড়া। পাঠ অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে হয় নাফিস সাদিক একাডেমিক ধারা অনুসরণ করেছেন। পদ্ধতির পাশাপাশি ভাষাগত দিকেও সেটা স্পষ্ট। তবে তার লেখা পড়তে ভালো লাগে। সিনেমাগুলো তিনি যেভাবে ভেতর থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন, কয়েকটা জায়গাতে তা বেশ সন্তুষ্ট করেছে। তবে ঋতুর গানগুলো বাংলা হরফে যেভাবে লিখেছেন সেখানে কিছু আপত্তি আছে কেননা আমার ব্যক্তিগতভাবে পড়তে মজা লাগে না।
•ঋতুপর্ণ ঘোষ চলচ্চিত্র, জীবন ও সাক্ষাৎকার নাফিস সাদিক • বাতিঘর • মূল্য -৬০০ বাংলাদেশ রূপি
এবার কলেজ স্ট্রীটে বাংলাদেশ বইমেলায় গিয়েছিলাম শুধুমাত্র এই বইটি সংগ্ৰহ করবো বলে। ঋতুপর্ণ ঘোষ ও তাঁর কাজ নিয়ে লেখা পূর্নাঙ্গ বই এই প্রথম প্রকাশিত হয়েছে।প্রায় ১০ বছর হতে চললো ঋতুপর্ণ ঘোষ, আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সিনেমার জগতে তার অনুপস্থিতি আজ কাল যেন আরো বেশি করে অনুভব করি আমরা।তাই যখন এই বইটি সম্পর্কে জানতে পারলাম অপেক্ষা করছিলাম কবে সংগ্ৰহ করতে পারবো। অবশেষে সংগ্ৰহ ও পড়লাম এই বই। শুরুতে একটি সুন্দর ভূমিকা দিয়ে বইটি আরম্ভ হয়েছে ।এখানে লেখক বুঝিয়েছেন যে কিভাবে ঋতুপর্ণ এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি লেখকের আগ্ৰহ জন্মায়।তা��পর ধীরে ধীরে কিভাবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্ৰহ করে এই গ্ৰন্থ সম্পূর্ণ করেছেন সেই সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যখন বইটি সম্পর্কে আমি প্রথমে জানতে পারি তখন প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল যে বইতে লেখক হয়তো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ও অভিনীত সিনেমা সম্পর্কেই শুধু আলোচনা করবেন। কিন্তু সূচিপত্র ও লেখকের কথা (ভূমিকা) পড়বার পর বুঝলাম আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভূল। শুধু সিনেমার আলোচনা নয় ওর জীবনের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে এই বই তে। ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবনী দিয়ে এই বই এর মূল বিষয় শুরু হয়েছে। কলকাতায় জন্ম । মা বাবার স্নেহ পরিচর্যায় বড় হয়ে ওঠা। রবীন্দ্রনাথ, মহাভারত,শিল্প সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের প্রতি ধীরে ধীরে আকর্ষণ বৃদ্ধি, সিনেমা পরিচালনা , সিনেমা নিয়ে বিতর্ক ইত্যাদি জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে এই অধ্যায়ে। এরপর লেখক আলোচনা করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বেশ কিছু সিনেমা সম্পর্কে। প্রত্যেকটি সিনেমা সম্পর্কে লেখক অত্যন্ত যত্ন সহকারে নিজের ব্যক্তিগত অনুভব ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সিনেমার মাধ্যমে ঋতুপর্ণ সমাজকে কি ধরনের বার্তা দেবার চেষ্টা করেছেন ,ছবিতে বিভিন্ন দৃশ্যে রং ও ক্যামেরার ব্যবহার, চিত্রনাট্য ও সংলাপ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।সঙ্গে প্রতিটি সিনেমার দুর্বল জায়গা গুলিও দেখিয়েছেন সবমিলিয়ে সহজভাবে নিরপেক্ষ আলোচনা করেছেন যা আমার ভালো লেগেছে। পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা হয়েছে পরিচালনা ছাড়া অন্যান্য সৃজনশীল কাজকর্ম। বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়, টেলিভিশন চ্যাট শোর উপস্থাপনা ,পত্রিকার সম্পাদনা ও তার অসামান্য আত্মজৈবনিক গদ্য সংকলন ফার্স্ট পার্সন। বই এর এই অংশটি পড়বার সময়ে এটাই মনে হয়েছে যে একজন সফল চলচ্চিত্র পরিচালক ছাড়াও তিনি অভিনয় সম্পাদনা, উপস্থাপনা ও লেখালেখিতে সমানভাবেই পারদর্শী ছিলেন। এরপরে এসেছে বই এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সাক্ষাৎকার পর্ব। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ঋতুপর্ণ ঘোষের বিশেষ কিছু সাক্ষাৎকার এই বই তে রাখা হয়েছে।এর মাধ্যমে সিনেমা, সিনেমা বানানোর ব্যবহারিক বিষয় , আর্ট ফিল্ম ও ইন্টেলেকচুয়াল ফিল্ম এর মধ্যে পার্থক্য, সাহিত্য , সংস্কৃতি,দর্শন , যৌনতা ও LGBT শ্রেনি ও আন্দোলন সম্পর্কে ঋতুপর্ণ ঘোষের সুগভীর চিন্তাভাবনা ও জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।এই কথোপকথন গুলি এই বই এর সম্পদ বলা যেতেই পারে। সবশেষে পরিশিষ্ট বিভাগে চলচ্চিত্র ও অন্যান্য কাজের তালিকা, জাতীয় পুরস্কার ও সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জী ছাড়া ঋতুপর্ণ ঘোষের লেখা সমস্ত গান একসাথে সংকলিত করা হয়েছে যেগুলি তিনি লিখেছিলেন নিজের চলচ্চিত্রগুলোর জন্য । ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমা ও অন্যান্য কাজ নিয়ে গবেষণা ও চর্চা পত্র পত্রিকায় বিশেষ সংখ্যা ,ব্লগ, গবেষণা গ্ৰন্থ, তথ্য চিত্র হলেও আমার মনে হয়না সাধারণ পাঠকের জন্য এমন সহজপাঠ্য বই আগে লেখা হয়েছে।এই বইএর মাধ্যমে লেখক ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবন ও তার সকল সৃষ্টির সামগ্ৰিকরূপরেখা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বিন্যাস সহজ সরল ও সাবলীলভাবে তুলে ধরবার চেষ্টা করেছেন সেই প্রচেষ্টায় তিনি একশো শতাংশ সফল হয়েছেন বলেই মনে হয়েছে। "ঋণস্বীকার" ও "ঋতুচর্চা" অংশে সমস্ত মাধ্যম থেকে নেওয়া তথ্য সূত্র উপস্থাপন করেছেন যাতে এই বিষয়ে উৎসাহী পাঠকেরা আরও বিস্তারিত পাঠ করতে পারেন যে সমস্ত ইংরেজি সাক্ষাৎকার গুলি লেখক স্বয়ং বাংলায় অনুবাদ করেছেন। সিনেমার বিশ্লেষন ও প্রতিটি অনুবাদ পড়লে বোঝা যায় যে লেখক কতটা যত্ন সহকারে বিষয় গুলি উপস্থাপনা করেছেন। বই এর প্রোডাকশন প্রচ্ছদ ভালোই হয়েছে। শুরুতে অঙ্কন শিল্পী শান্তনু সেন ঋতুপর্ণ ঘোষের একটি ছবি ৺একেছেন যা এককথায় অপূর্ব হয়েছে। বইতে প্রচুর ছবি ও পোষ্টার রয়েছে তবে সব ছবির সাইজ বেশ ছোট যদি কিছুটা বড় করা যেতো তাহলে দেখতে আরও সুন্দর লাগতো বলেই মনে হয়। ধন্যবাদ জানাই লেখক নাফিস সাদিক ও এই বই এর সাথে যুক্ত সকলকে এতো সুন্দর ও সাবলীলভাবে পাঠকদের কাছে ঋতুপর্ণ ঘোষের জীবন ও তাঁর সৃষ্টি তুলে ধরবার জন্যে । যারা ঋতুপর্ণ ঘোষ এর যাবতীয় কাজ সম্পর্কে পড়তে ইচ্ছুক তারা অবশ্যই পড়তে পারেন এই বই।