ভ্রমণ-আলেখ্যের সূচনা হয় ইবােলার দুর্যোগময় বছরগুলাে সিয়েরা লেওনের ফ্রিটাউনে কাটিয়ে লেখকের দেশটি ছেড়ে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার বর্ণনায়। যাত্রপথে তিনি বিদায় নেন মাইনে পা হারানাে বিকলাঙ্গ মানুষ কিংবা ইবােলা সারভাইবার পুরুষদের কাছ থেকে। পরবর্তী গন্তব্য ঘানার আক্রা নগরীতে লেখক ঘুরে বেড়ান ব্রাজিল থেকে ফিরে আসা এক জামানার ক্রিতদাসদের বংশধর কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের শহর জেমস টাউনে। অনেক বছর পর হাইস্কুল জীবনের বিধবা প্রেমিকার কাছে ফিরে আসা আমেরিকার ডিভাের্সি পুরুষ ফ্রেডের সান্নিধ্যেও লেখক ঘুরে বেড়ান বর্ণাঢ্য বস্ত্রে ভরপুর মাকোলা মার্কেটে।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।