সাংগ্রে দে খ্রিস্ত পাহাড়ের উপত্যকায় আশ্চর্য এক শহর সান্তা ফে। ওখানে শিল্প গ্যালারির সংখ্যা দোকানপাটের চেয়ে অনেক বেশি। এ ভ্রমণ-আলেখ্যে লেখক বর্ণনা করেন চিত্রকরদের ব্যতিক্রমী জীবনযাপন। তাঁদের বিবিধ চরিত্রের আচার-আচরণে প্রতিফলিত হয় হিস্পানিক ও আমেরিকার আদিবাসী থেকে শুরু করে মেক্সিকান বা বুয়ার সাউথ আফ্রিকান জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। চিত্রধ্যান কিংবা মুনলাইট ক্যাম্পফায়ারের রেওয়াজও ভ্রমণের বয়ানে যুক্ত করে বিচিত্র মাত্রা।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।
মঈনুস সুলতানের লেখার বিষয়আশয় যাকে বলে 'exotic '। বিপুলা পৃৃথিবীর আর কতটুকুই বা জানি। সুলতানের বরাতে নানান সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার গভীর বিবরণী পড়ে আমার সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ' মানুষ' কবিতাটার কথা মনে পড়ে যায়।
"জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে সে জাতির নাম মানুষ জাতি; এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত একই রবি শশী মোদের সাথী। শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা সবাই আমরা সমান বুঝি, কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি বাঁচিবার তরে সমান যুঝি। দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো, জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা, কালো আর ধলো বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা। বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ ভিতরের রং পলকে ফোটে, বামুন, শূদ্র, বৃহৎ ক্ষুদ্র কৃত্রিম ভেদ ধূলায় লোটে।"
ভ্রমণের গল্পটা রসের সাথে উপস্থাপন করলে ভালো লাগে। সুলতান সাহেবের গদ্যে রসের অভাব নেই। এই কারণে তরতর করে পড়া যায়। কিন্তু উর্দু-ঘেঁষা শব্দের বেশি এবং বে জায়গায় ব্যবহার আমাকে একটু বিরক্ত করল। এই আরকি।