Jump to ratings and reviews
Rate this book

ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থাঃ যুদ্ধ-মনস্তত্ব, জেনেভা কনভেনশন ও বাস্তবতা

Rate this book
অমুসলিম কিংবা প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে ইসলামের ওপর আঘাত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিধানকে ফোকাস করা হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো দাসপ্রথা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি। সুপ্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীতে নানাভাবে দাসপ্রথার প্রচলন চলে আসছে। প্রচলিত ছিল দাসপ্রথার বিভিন্ন উৎস। ইসলাম এসে একদিকে দাসপ্রথার একাধিক উৎস বন্ধ করেছে, অন্যদিকে মানবসভ্যতার নির্মম বাস্তবতা যুদ্ধকেন্দ্রিক মনস্তত্ত্বের বিবেচনায় এই প্রথাকে পরিপূর্ণরূপে বিলুপ্তও করেনি। তবে এই একটি উৎস থেকে প্রাপ্ত দাসদেরকে আখিরাতের মুক্তি ও সামাজিক জীবনের সম্মানের দিকে নিয়ে আসার জন্য দিয়েছে নজিরবিহীন পদ্ধতি।
কিন্তু অমুসলিমদের প্রশ্নবাণে আমাদের মধ্যে হীনম্মন্যতার শিকার কিছু মুসলিম এই ক্ষেত্রে প্রান্তিক একটি অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা ইসলামকে গুড হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে দাসপ্রথাকেই রহিত করে দেন। যা একদিকে ইসলামের অরহিত এক বিধানকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে, অন্যদিকে হিউম্যান সাইকোলজি ও যুদ্ধবাস্তবতায় দ্বীনে ইসলামের উপযোগিতা ও সফলতাকে অস্বীকার করছে। কারণ যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায় ইসলামের সম্মানজনক দাস সিস্টেমের কোনো বিকল্প আজ পর্যন্ত কোনো সভ্যতা দিতে পারেনি। এমনকি জেনেভা কনভেনশনগুলোও পরাজিতদের ওপর যুদ্ধ পরবর্তীত সময়ে নেমে আসা বিপর্যয়ের সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারেনি।
মুহতারাম শামসুল আরেফীন শক্তি ভাই বিভিন্ন সভ্যতায় দাসপ্রথার নিষ্ঠুরতা, ইসলামে দাসপ্রথার মহানুভবতা এবং আধুনিক দাসপ্রথার স্বরূপ— এই তিনটি বিষয় বক্ষ্যমাণ বইটিতে মুনশিয়ানার সাথেই তুলে ধরেছেন। দাসপ্রথা নিয়ে অমুসলিমদের জবাবেই ক্ষান্ত থাকেননি, প্রশ্ন করেছেন তাদের সিস্টেম নিয়ে। আঘাত করেছেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আধুনিক দাসপ্রথার কাঠামোতে।
আমাকে যদি এই বইয়ের অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে বলা হয়, তবে আমি এর তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরব।
এক. বইটিতে পরাজিত মানসিকতায় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে ইউরোপীয় দর্শনকে প্রশ্নবাণে আক্রমণ করা হয়েছে।
দুই. শান্তি ও মানবতার দাবিদার পুঁজিবাদী বিশ্বের হর্তাকর্তাদের চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক দাসপ্রথার নির্মম অথচ অনিন্দিত (যার নিন্দা করা হচ্ছে না) চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তিন. মূল বিষয়বস্তুর সাথে কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক, এমন বিষয়গুলোর অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ আলোচনা এসেছে। উদাহরণস্বরূপ কনসেন্ট বা সম্মতির কথা বলা যায়। কনসেন্টের পশ্চিমা দর্শনের ওপর ভিত্তি করে চলছে যতসব লিবারেল যৌন অসভ্যতা। লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে কনসেন্টের ধারণার অসম্পূর্ণতা ও ক্ষতিকে তুলে ধরেছেন। এমন আরও অনেক বিষয়েরই আলোচনা এসেছে যা পড়ার সময়ই পাঠক দেখতে পাবেন।

264 pages, Hardcover

Published March 1, 2022

5 people are currently reading
51 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
12 (75%)
4 stars
4 (25%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Abdullah Mohammad.
19 reviews15 followers
October 19, 2023
অনেক ট্রেডিশনাল এবং প্র্যাকটিসিং মুসলিমও ইসলামের দাসপ্রথা নিয়ে কথা বলতে অস্বস্থি বোধ করে, অনেকেরই সংশয় বা ইরতিদাদের (ইসলাম ত্যাগ) দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ এই দাসপ্রথা। কারণ মুসলিম নামধারী কিছু ইসলামবিদ্বেষী বা ওরিয়েন্টালিস্টরা দাসপ্রথা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিকে ফোকাস করে প্রতিনিয়ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইসলামের ওপর আঘাত করছে।

ইসলাম কিভাবে দাসপ্রথার মত বর্বর একটা সামাজিক প্রথাকে অনুমোদন দিতে পারে! এই প্রশ্ন শুনেই অনেক মুসলিম গলদঘর্ম হয়ে যান।

-দাসপ্রথার বাস্তবতা কি?
-পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন সভ্যতায় দাসপ্রথা কেমন ছিল?
-দাস প্রথা কি হিস্টোরিক্যালি জাস্টিফাইড?
-ইসলাম কেনো দাসপ্রথা কে বহাল রাখলো?
-ইসলামী দাসপ্রথা ও ওয়েস্টার্ন দাসপ্রথার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কিনা?
-ইসলামে কেনো দাসী রাখাকে অনুমোদন দেওয়া হলো?

দাসপ্রথার ব্যাপারে যত প্রশ্ন থাকতে এরকম সব প্রশ্নের উত্তর জানতে ডা. শামসুল আরেফিন শক্তির "ইসলামে দাসদাসী ব্যবস্থা" বইটি একটা must-read বই।
Profile Image for Shadab Dip.
54 reviews2 followers
October 24, 2025
"ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থা" - শামসুল আরেফীন

ইসলাম বিদ্বেষীরা কিছু কিছু টপিক নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তার মধ্যে একটি বিষয় হলো দাস দাসী প্রথা। বইটি মূলত দাস প্রথা নিয়ে ইসলাম কিভাবে দেখে এটাই আলোচনা করা হয়েছে। বইটি বলা যেতে পারে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে -

(i) দাস প্রথার ইতিবাচক দিক এবং কিভাবে ইসলাম সেটাকে কল্যাণে ব্যবহার করেছে।
(ii) দাস প্রথার নেতিবাচক দিক যেটা ইসলাম সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করেছে।
(iii) দাস প্রথা বিলুপ্তের ইতিহাস - সেটা কি আসলে মানবিক কারণ নাকি অর্থনৈতিক প্রয়োজনে?

বইটিতে অনেক রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন লেখক এদিক থেকে সাধুবাদ জানানো উচিত। তবে বইটি আমার কাছে কাঠামোগত দিক থেকে একটু অগোছালো মনে হয়েছে। তবে ইসলামে দাস দাসী প্রথা নিয়ে জানার জন্য অনেক ভালো এবং তথ্যবহুল একটা বই।

রেটিং - ৩.৫/৫
62 reviews6 followers
October 17, 2024
অমুসলিম কিংবা প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে ইসলামের ওপর আঘাত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিধানকে ফোকাস করা হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো দাসপ্রথা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি। সুপ্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীতে নানাভাবে দাসপ্রথার প্রচলন চলে আসছে। প্রচলিত ছিল দাসপ্রথার বিভিন্ন উৎস। ইসলাম এসে একদিকে দাসপ্রথার একাধিক উৎস বন্ধ করেছে, অন্যদিকে মানবসভ্যতার নির্মম বাস্তবতা যুদ্ধকেন্দ্রিক মনস্তত্ত্বের বিবেচনায় এই প্রথাকে পরিপূর্ণরূপে বিলুপ্তও করেনি। তবে এই একটি উৎস থেকে প্রাপ্ত দাসদেরকে আখিরাতের মুক্তি ও সামাজিক জীবনের সম্মানের দিকে নিয়ে আসার জন্য দিয়েছে নজিরবিহীন পদ্ধতি।
কিন্তু অমুসলিমদের প্রশ্নবাণে আমাদের মধ্যে হীনম্মন্যতার শিকার কিছু মুসলিম এই ক্ষেত্রে প্রান্তিক একটি অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা ইসলামকে গুড হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে দাসপ্রথাকেই রহিত করে দেন। যা একদিকে ইসলামের অরহিত এক বিধানকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে, অন্যদিকে হিউম্যান সাইকোলজি ও যুদ্ধবাস্তবতায় দ্বীনে ইসলামের উপযোগিতা ও সফলতাকে অস্বীকার করছে। কারণ যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায় ইসলামের সম্মানজনক দাস সিস্টেমের কোনো বিকল্প আজ পর্যন্ত কোনো সভ্যতা দিতে পারেনি। এমনকি জেনেভা কনভেনশনগুলোও পরাজিতদের ওপর যুদ্ধ পরবর্তীত সময়ে নেমে আসা বিপর্যয়ের সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারেনি।
মুহতারাম শামসুল আরেফীন শক্তি ভাই বিভিন্ন সভ্যতায় দাসপ্রথার নিষ্ঠুরতা, ইসলামে দাসপ্রথার মহানুভবতা এবং আধুনিক দাসপ্রথার স্বরূপ— এই তিনটি বিষয় বক্ষ্যমাণ বইটিতে মুনশিয়ানার সাথেই তুলে ধরেছেন। দাসপ্রথা নিয়ে অমুসলিমদের জবাবেই ক্ষান্ত থাকেননি, প্রশ্ন করেছেন তাদের সিস্টেম নিয়ে। আঘাত করেছেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আধুনিক দাসপ্রথার কাঠামোতে।
আমাকে যদি এই বইয়ের অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে বলা হয়, তবে আমি এর তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরব।�এক. বইটিতে পরাজিত মানসিকতায় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে ইউরোপীয় দর্শনকে প্রশ্নবাণে আক্রমণ করা হয়েছে।�দুই. শান্তি ও মানবতার দাবিদার পুঁজিবাদী বিশ্বের হর্তাকর্তাদের চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক দাসপ্রথার নির্মম অথচ অনিন্দিত (যার নিন্দা করা হচ্ছে না) চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।�তিন. মূল বিষয়বস্তুর সাথে কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক, এমন বিষয়গুলোর অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ আলোচনা এসেছে। উদাহরণস্বরূপ কনসেন্ট বা সম্মতির কথা বলা যায়। কনসেন্টের পশ্চিমা দর্শনের ওপর ভিত্তি করে চলছে যতসব লিবারেল যৌন অসভ্যতা। লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে কনসেন্টের ধারণার অসম্পূর্ণতা ও ক্ষতিকে তুলে ধরেছেন। এমন আরও অনেক বিষয়েরই আলোচনা এসেছে যা পড়ার সময়ই পাঠক দেখতে পাবেন।
Profile Image for Masfiq Reza.
130 reviews4 followers
July 16, 2023
ইসলামকে যেই টপিকে সবচেয়ে বেশি এটাক হয় তা হল দাস প্রথা। যেই লোক ইসলামের সবকিছু মেনে নেয়, সেও দাস প্রথা তে এসে ভ্রু কুচকায়। এই বইতে দাস ব্যবস্থা নিয়ে বেশ ভালোই বিস্তারিত বলা হয়েছে যে কেন দাস প্রথা প্রয়োজন।

স্লেভারির কথা মাথায় আসলে পলকে আমেরিকার স্লেভারির কথা চলে আসে। কিন্তু ইসলামে স্লেভারি আমেরিকান স্লেভারির মত না, এমনকি আমেরিকান স্লেভারির সাথে দুনিয়ার বেশিরভাগ স্লেভ সিস্টেমের মিল নাই(বইতে বিস্তারিত আছে। আমেরিকান স্লেভারি তে মালিক দাসের জীবন-মৃত্যু কিছুর মালিক, ইসলামে এরকম না)। এমনকি স্লেভারিকে ডিফাইন ই করতে পারবেন না একভাবে। ইসলাম কেন স্লেভারি রেখেছে, কেন দাস দাসি ব্যবস্থা এখনো প্রয়োজনীয়, কিসের জন্য দুনিয়ায় বিশেষ করে যুদ্ধের সময় স্লেভারি ছাড়া অন্য কিছু কাজ করতে পারে না সব বিষয় গুলোই বইতে একেবারে সাদা বাংলায় লেখা হয়েছে।

খুব মানুষেরই অন্য মানুষের প্যারাডিম চেঞ্জ করার ক্ষমতা থাকে। শামসুল আরেফিন তাদের মধ্যে অন্যতম। তার জন্য দুয়া। আল্লাহ কে ধন্যবাদ এরকম বই আমাকে পড়ার সুযোগ দিয়েছেন।
Displaying 1 - 4 of 4 reviews