এই বই হারুকি মুরাকামির নিজের বয়ানে নিজের কথা। কোনো রাখঢাক না রেখে বলেছেন তাঁর জীবনের কথা, লেখক হয়ে ওঠার গল্প; কথা বলেছেন আরও অনেক বিষয়ে। চেনা মুরাকামির না দেখা অন্তর্জগতের সন্ধান দেবে এই বইয়ের সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা।
হারুকি মুরাকামি। বর্তমান বিশ্ব সাহিত্যে সুপরিচিত এক নাম। কিভাবে একজন জ্যাজ ক্লাবের মালিক কিংবদন্তি লেখকে পরিণত হলেন সেই গল্প-ই আছে তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথায়।
বইটি তিন অংশে বিভক্ত। সাক্ষাৎকার অংশটি বেশ বেশ উপভোগ্য। লেখালেখিতে তাঁর অভিষেক, মুরাকামির নিজস্ব রাইটিং ক্রাফ্ট এবং এর পিছনের দর্শন ছাড়াও আরো অনেক কিছুই সংক্ষেপে চলে এসেছে হারুকির তিনটি সাক্ষাৎকারে। যেমন: জ্যাজ মিউজিক, জগিং এবং বিড়ালের প্রতি তাঁর প্রীতি। তাছাড়া ইন্টারভিউ গুলো সচেতন পাঠকদের নিয়ে যাবে লেখকের পরাবাস্তবতা ও বাস্তবতার মিশেলে এক অদ্ভুত সুন্দর জগতে।
বক্তৃতায় প্রায় সমান পারঙ্গম যেন হারুকি মুরাকামি। পারমাণবিক শক্তির হাতে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে দক্ষতা ও সুবিধার স্বার্থে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রকৃতির প্রতি যে বিরুপ আচরণ তা বিভিন্ন ভঙ্গিমা, ইঙ্গিতের মাধ্যমে বলেছেন মুরাকামি। জেরুজালেম পুরস্কার গ্রহণের সময় সিস্টেম যাতে মানবজাতির ক্ষতি করতে না পারে সেই বিষয়ে মেটাফোর ব্যবহার করে সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন লেখক।
স্মৃতিকথায় কিভাবে রান্নাঘরের টেবিলে বসে ফিকশন রাইটারের যাত্রা শুরু করেছিলেন তা অতি সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন লেখক। মুরাকামির লিজেন্ড বনে যাওয়াটায় যেন মুরাকামি নিজেই বিস্মিত এবং অপ্রস্তুত বোধ করেন। তাছাড়া জাপানিজ হওয়ার পরও নিজ দেশের ফিকশন ও লেখকদের সাথে তাঁর একধরণের বিচ্ছিন্নতা এবং হারুকির মুখচোরা স্বভাবের কথাও স্মৃতির পটে আঁকা হয়ে আছে। জ্যাক লন্ডনের প্রতি তাঁর ট্রিবিউট ভালো লেগেছে।
আলভী আহমেদের অনুবাদ বেশ ঝরঝরে। এরকম প্রাঞ্জল ভাষার প্রতি মুরাকামিরও বরাবরের মতই মনোযোগ ছিল, আছে। হারুকি মুরাকামির উপর এই গ্রন্থটি সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ কর্ম করতে গিয়ে আলভী প্রচুর পরিশ্রমের পাশাপাশি সহজবোধ্যতায় কিংবদন্তি এই লেখকের মনস্তত্ত্ব ও জীবন ফুটিয়ে তুলেছেন। আলভী আহমেদ পুনরুক্তি দোষে দূষ্ট যাতে গ্রন্থটি না হয় সেটিকে সতর্ক থেকেছেন সংকলনে। মিনিমালিস্ট এপ্রোচে সম্পাদনায় দুর্দান্ত কাজ করেছেন আলভী।
যারা হারুকি মুরাকামির বই পড়েছেন এবং যারা এখন পর্যন্ত তাঁর কোন বই পড়েননি ( এই যেমন আমি ) আমার মনে হয় দুটি পক্ষের জন্যই দারুন এক কাজ হয়েছে বইটিতে। বাতিঘরের সুন্দর প্রোডাকশন এবং চমকপ্রদ বুক টপিক সিলেকশন বরাবরের মতই ভালো লেগেছে।
বুক রিভিউ
হারুকি মুরাকামি : সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ : আলভী আহমেদ প্রথম প্রকাশ : অক্টোবর ২০২২ প্রকাশক : বাতিঘর প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
বইটিতে হারুকি মুরাকামির তিনটি সাক্ষাৎকার, দুটো বক্তৃতা ও দুটো স্মৃতিকথা আছে। ছোট্ট বই হলেও মুরাকামিকে আরেকটু ভালো করে চেনার জানার সুযোগ ঘটবে এ বইয়ের মাধ্যমে। লেখককে আরেকটু কাছের মানুষ মনে হবে। জাপানের নিউক্লিয়ার রিএক্টর নিয়ে বা জেরুজালেমে গিয়ে যেভাবে বক্তৃতা দিয়েছেন তাতে বুঝা যায় ভদ্রলোক যথেষ্ট সাহসীও বটে।
এরকম চমৎকার একটা বই করার জন্য আলভী ভাইকে এত্তগুলি ধন্যবাদ। বইয়ের গঠন হয়েছে যেন ছোটখাটো লোভনীয় চকলেটের টুকরোর মতন। আর প্রচ্ছদটাও খুব সুন্দর।
অনেকদিন পর একটা বই শেষ করতে পারলাম। বাতিঘরে বসেই শেষ করলাম। আলভী আহমেদের ঝরঝরে অনুবাদের বইটা দুর্দান্ত লাগছে। মুরাকামির কোন বই পড়ি নাই আগে, যদিও ইচ্ছে ছিল। বই না পড়ে সাক্ষাৎকার পড়ে ফেললাম। সাক্ষাৎকার পড়ে মুরাকামি পড়ার ইচ্ছে আরোও বেড়ে গেল। সাধারণত লেখকদের ব্যক্তিজীবনের বর্ণনার সাথে লেখনীর বিশাল পার্থক্য থাকে। মুরাকামির ক্ষেত্রে তা ঘটে নাই। অদ্ভুত লেখনীর মতন মুরাকামিও অদ্ভুত। জ্যাজ স্টোর বিক্রি করে ৩২ বছর বয়সের পর তিনি লেখালেখি শুরু করেন। লেখালেখি শুরুর ব্যাপারটাও চমকপ্রদ, একদিন বেসবল খেলা দেখতে গিয়ে তার হঠাৎ মনে হয় তিনি একটি উপন্যাস লিখতে পারবেন। সেদিন ই প্যাড ও ফাউন্টেনপেন কিনে আনেন তিনি। প্রতিদিন দোকান বন্ধের পর লিখতে বসতেন।
মুরাকামি সাহেব অন্ধকার কুয়ার মধ্যে বসে থাকতে ভালবাসেন, যদিও তা কল্পনার অন্ধকার কুয়া। বাস্তবে সে কুয়াতে প্রবেশ করতে তিনি ভয় পান। ২০১৫ সালে তার কাছে ত্রিশ হাজার মেইল আসে। তিনি ত্রিশ হাজার মেইলের প্রত্যেকটাই পড়েছেন। একবার এক ব্যক্তি তাকে মেইল করেন, একটা স্কুইডের দশটা শুঁড় আছে - এইটা জেনে তিনি অভিভূত। কিন্তু তার মনে প্রশ্নের উদয় ঘটেছে যে দশটা শুঁড় কি হাত নাকি পা? কিভাবে বুঝা যায়? মুরাকামি জবাবে লিখেন, স্কুইড টাকে কোন একটা জায়গায় ঘুম পাড়িয়ে তার পাশে দশটা মোজা আর দশটা গ্লাভস রাখতে। ঘুম থেকে উঠে যেইটা বেছে নিবে সেটা অনুসারেই সিদ্ধান্ত হবে। এহেন উদ্ভট প্রশ্নের উদ্ভট জবার খুব সম্ভবতই মুরাকামির দ্বারা সম্ভব।
বাকি সব লেখকদের মতন মুরাকামি শুরুতেই শেষটা মাথায় নিয়ে লিখতে বসেন না। উনার লেখাটা একরকম নিজের পড়ার মতন। পরের পৃষ্ঠায় কি হবে তিনি নিজেই জানেন না। যেমন তিনি বলেছেন, একটা বইয়ে খুন হলো। খুনি কে তিনি জানেন না। জানার জন্যই বইটা লিখেন। যদি তিনি জেনেই যান কে খুনি তাহলে তো লেখার প্রয়োজন থাকল না।
কিংবা জন্মদিন নিয়ে উনার ধারণাটা হচ্ছে এমন, তিনি নিজের জন্মদিনে ততটা উন্মাদনা পান না। বরঞ্চ তাকে যদি কোন ডাক্তার আগে থেকেই মৃত্যু পরোয়ানা লিখে দিত তিনি ৫২ বছর বয়সে মারা যাবেন। তিনি ৫২ বছর কেটে যাওয়ার পর বেঁচে গেলে তখন জন্মদিনের একটা আলাদা উন্মাদনা অনুভব করতেন। একটা নৌকা ভাড়া করে টোকিও নদীর উপসাগরের মাঝে গিয়ে আতশবাজি পোড়াবেন।
বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডন আর মুরাকামির জন্মদিন একই দিনে। একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় মুরাকামি জ্যাক লন্ডনের সাথে একটা আত্মিক টান অনুভব করেন কেননা বহু বছর ধরে জ্যাক লন্ডন তার প্রিয় লেখকদের একজন। এজন্যই তিনি জ্যাক লন্ডনের কিনে নেয়া ওয়াইন ফার্মে গিয়ে ঘুরে আসেন। জ্যাক লন্ডনের রুম কিংবা ডেস্ক দেখে নস্টালজিয়ায় ভুগেন। জ্যাক লন্ডন অতিরিক্ত মদপানের দরুন লিভারজনিত সমস্যায় মারা যান। উনার কিংবা নিজের জন্মদিনে "জ্যাক লন্ডন ভিনিয়ার্ড" বোতলের মুখ খোলেন এবং জ্যাক লন্ডনের উদ্দ্যেশে টোস্ট করেন পরকালে যাতে তিনি ভাল থাকেন।
বইয়ের শেষাংশে জ্যাক লন্ডনকে নিয়ে মুরাকামির স্মৃতিকাতরতায় ব্যাপারটায় আমারও মনে হইল নুহাশ পল্লীটা ঘুরে আসা উচিত। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের এত কাছে তবুও এখনও নুহাশ পল্লী ঘুরা হইল না। ভাবতেছি, সেমিস্টার ফাইনালের পরই ঘুরে আসব একদিন।
"জাপানের অনেক লোক আমা�� বই ট্রেনে বসে পড়ে। মধ্যবিত্ত জাপানেরা আসা যাওয়ার জন্য ট্রেন ব্যবহার করে। দিনে দুই ঘন্টার বেশি সময় তারা ট্রেনে পার করে। সেই সময় বই তাদের সাথী হয়। এ কারণে আমার বইগুলো সাধারনত দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়। এক ভলিউমের একটা মোটা বই বয়ে বেড়ানো মুশকিল। দুইবার তিন খন্ডে বহন করা সহজ। "- -- এমনটা আমাদের দেশের লেখকরা ভাবেন কিনা জানিনা। তবে জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামী এমন বেশ কয়েকটা বিষয় নিজের বইয়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রেখেছেন শুধু পাঠকদের কথা মাথায় রেখে।
একজন লেখককে একটু ভালোভাবে জানার জন্য তাঁর সাথে কথা বলা বা সময় কাটানোটা জরুরী। লেখক হারুকি মুরাকামির গল্প বা উপন্যাস পড়ে তাঁকে যতটা জানার সুযোগ আছে ছোট্ট এই বইটা পড়ে তারচেয়ে বেশি করে জানার সুযোগ রয়েছে। একপ্রকার লেখকের কাছাকাছি যাওয়ার মতোই অনেকটা।
ছোট্ট এই বইটাতে আছে তিনটি সাক্ষাৎকার, দুইটি বক্তৃতা ও দুইটি স্মৃতিকথা।
সাক্ষাৎকার তো চমৎকার তবে বক্তৃতা আরও বেশী চমৎকার, নিজের দেশের নিউক্লিয়ার রিএক্টর নিয়ে চরম এক সাহসি বক্তৃতা দিয়েছিলেন জেরুজালেম পুরস্কার নিতে গিয়ে।
লেখকের সব সাক্ষাৎকার খুঁজে খুঁজে একখানে করে তার সাথে বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা এক করে অনুবাদ করেছেন লেখক আলভী আহমেদ। লেখকের অনুবাদ এবং মৌলিক দুটোই পড়েছি, মৌলিক তো উনার মতোই, তবে অনুবাদ গুলো যথেষ্ট সাবলীল, ঝরঝরে অনুবাদ, আমার অনুবাদ পড়তে মোটেই ভালোলাগে না তবে উনার অনুবাদ বেশ লাগে, মনেই হয় না অনুবাদ পড়ছি। চমৎকার একটা বই।
স্বভাবটা গেছে খারাপ হয়ে। বাতিঘরে গেলে ঘুরেফিরে মুরাকামির বইয়ের দিকেই হাত চলে যায়। হঠাৎ ছোট্ট এ বই চোখে পড়ে গেলো আর এরপর বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই সাবাড় করে দিলাম বইটা।
সাক্ষাতগুলোতে মুরাকামিকে বেশ সপ্রতিভ অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলেছেন। প্রতি প্রশ্নের উত্তরেই বেশ খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন। আহামরি ভেঙে-চুরে দেবার মতো কোনো উপাদান সেখানে নেই। আছেন 'সহজ' মুরাকামি। কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় জানলাম। যেমন, তিনি মনে করেন লেখার ক্ষমতাটা যৌবনে কোনো দৈব উপায়ে আচমকাই এসে ভর করেছে তার উপর! অদ্ভুত!
মুরাকামি কিভাবে চিন্তা করেন, প্লট কিভাবে মাথায় আসে সে সম্পর্কেও ইনসাইট পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে, পড়া স্বার্থক।
খুবই স্পষ্ট এবং টু দ্য পয়েন্ট বক্তব্য। মুরাকামি কথা বলেছেন তার লেখা নিয়ে, লেখার স্টাইল, অনুপ্রেরণা নিয়ে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই লেখার টেবিলে বসেন জেনে ভালো লেগেছে।
"কাফকা অন দ্য শোর" এর একটা অংশ নিয়ে আমার নিজস্ব একটা অনুমান ছিল, সেটা মুরাকামির মুখে শুনে পুলকিত হলাম।
মুরাকামির বই লেখার পেছনের দর্শন, তার বই লেখার পেছনের গল্প, চরিত্র সৃষ্টি প্রভৃতি উঠে এসেছে তার দুটি সাক্ষাৎকারে । নবীন লেখকদের জন্য তার এই সাক্ষাৎকারগুলো খুব কাজে লাগবে। আবার পাঠকদের সাহায্য করবে তার উপন্যাসগুলোলে আরও সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখতে।
তার বক্তৃতা দুটি তার অন্যরকম একটা ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাই- স্পষ্টভাষী, অকুতোভয়। আমাদের দেশের প্রথম সারীর সাহিত্যিকরা যেখানে শাসকদল এর হোলামে পরিণত হয়েছেন সেখানে মুরাকামী তার বক্তৃতায় যে বলিষ্ঠভাবে সরকারের ভূল নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
মানুষ হয়ে জন্মানোর সবচেয়ে ভালো দিক নিঃসন্দেহে হৃদয় আর মস্তিষ্ক এই দুইটার যুগপৎ অবস্থান এবং সদ্ব্যবহার। এই যে নানারকম অনুভূতি খেলা করে একেক বিশেষ পরিস্থিতিতে তা উপভোগের জন্য হৃদয়ের সূক্ষ্ণ তন্ত্রীগুলোতে শান দেয়ার একটা প্রয়োজন অবশ্য রয়েছে। মুরাকামি আবার সেইসব অনুভূতির মাধ্যমে সৃষ্টি করে ফেলেন চমৎকার কিছু শিল্প। অনেক পাঠকের মতোই হারুকি মুরাকামির সাথে আমার পরিচয় নরওয়েজিয়ান উডের মাধ্যমে। কিছু কিছু পরিচয় প্রথম দেখাতেই বেশ পাকাপোক্ত হয়ে যায়। এও তেমনি। তবে আমার মুরাকামি খুব বেশি এখনো পড়া হয়ে ওঠেনি। আসলে মুরাকামিকে অনুভবের জন্য আমার মনে হয় আমার সময় প্রয়োজন আরো। তাই ধীরে চলো নীতিতে এখানে অগ্রসরমান। যাই হোক, কোন লেখকের দর্শন বুঝতে হলে তাঁর স্মৃতিকথা এবং সাক্ষাৎকার এর কোন বিকল্প হতে পারে না বলেই আমার মনে হয়। সাক্ষাৎকার এর উত্তরের মাধ্যমে লেখকেরা প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পাঠকের চোখে ধরা পড়েন। সকল লেখকই তাঁর নিজ জীবন থেকে সৃষ্টির রসদ নেন। মুরাকামিও ব্যতিক্রম নন। উপন্যাসের চরিত্রগুলো বা তার পরিণতি সম্পর্কে তিনি আগেই ভেবে লেখেন না যদিও। প্রথম নভেলা বা উপন্যাসিকা হিয়ার দ্য উইন্ড সিং এবং দ্বিতীয় পিনবল, ১৯৭৩কে তিনি কিচেন টেবিল ফিকশন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ প্রথম জীবনে একটি কফিশপ কাম বার চালাতে গিয়ে প্রায় না ঘুমিয়ে কিচেন টেবিলে বসে উপন্যাসদুটি লিখেছিলেন তিনি। যদিও মুরাকামির যে সহজাত স্টাইল আছে তাতে তিনি নিজেই সেই বইদুটিকে ফেলতে চান না। কিন্তু একজন লেখক হয়ে উঠার পেছনে ওই বইদুটির অবদান যে কম নয় তাও স্বীকার করেন। মুরাকামির ভক্তসংখ্যা সারা বিশ্বে অগণিত। মুরাকামির প্রথম পাঠক তাঁর স্ত্রী এবং তিনি অনেক সময় তাঁর মতামত জানিয়ে মুরাকামিকে সংশোধন করতে দেন উপন্যাসের অংশের টুকরো। মুরাকামিও যথেষ্ট আমলে নেন তা! নিভৃতচারী এই লেখক গৃহবন্দী হয়ে লিখতেই বেশি পছন্দ করেন। তাই করোনাকালেও তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা খুব বেশি বিঘ্নিত হয়নি। বইটিতে সাক্ষাৎকার এবং স্মৃতিকথার পাশাপাশি দুটি মূল্যবান বক্তৃতাও সংকলিত হয়েছে যেখানে পরিবেশ, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে তাঁর ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। সাক্ষাৎকারে আরো উঠে এসেছে তাঁর লেখার পেছনের ভাবনা, জাপান এবং সমসাময়িক সাহিত্য নিয়ে আলাপচারিতা, তাঁর একেকটি উপন্যাস সৃষ্টির প্রেরণার কথা এবং আরো নানা কিছু। আলভী আহমেদের অনুবাদ সাবলীল। ব্যক্তি হারুকি মুরাকামিকে অনেকখানি চিনতে সাহায্য করল এই বই। বাকিটা উপন্যাসের পাতায়।
হারুকি মুরাকামির জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পেরেছি বইটি পড়ে। আমি নতুন লেখকদের বই একদম পড়ি না। তবে এই বইটি কিনে পড়েছি। লেখকদের জীবনীগ্রন্থ পড়ার প্রতি আমার যথেষ্ট আগ্রহ থেকে বইটি কিনেছিলাম।
হারুকি মুরাকামি লেখক হিসেবে অসাধারণ। তার লেখা প্রথম বই আলভি আহমেদের অনুবাদে পড়েছি। Men Without Women বইটা বাতিঘর থেকে কিনে এই মাসেই পড়ে শেষ করব। হারুকির ১০টা বই এ বছর পড়ে শেষ করব।
বিষণ্ণতা এবং নিঃসঙ্গতা আমার বন্ধু। এই দুই বন্ধুকে আরেকটু ভালোবাসতে সাহায্য করবে বন্ধু হারুকি মুরাকামি।
মুখোমুখি দুটো চেয়ার। একটায় আমি, অন্যটায় মুরাকামি। শুরু হলো গল্প। লেখার গল্প, হাঁটার গল্প, গল্পের গল্প। তারপর সব যখন চুকেবুকে গেলো তখন আবিষ্কার করলাম, মুরাকামি এখন আর দূরের কেউ নয়। হারুকি মুরাকামি? সে তো আমার পাশের বাড়ির ছেলে!
মুরাকামির সাক্ষাৎকার,বক্তৃতা আর স্মৃতিচারণ কে বিশ্লেষণ; তাঁর মনোজগৎ এ ঢু্ঁ মারার প্রচেষ্টা। মুরাকামি কি ভাবে, কিভাবে ভাবে জানতে পারলাম। একজন খ্যাতিমান লেখকের শূন্য থেকে বিশ্বখ্যাতি অর্জন, ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তা- ভাবনা ,আদর্শ-অনুভুতি সম্বন্ধে জানলাম।বই বিড়াল আর মিউজিক নিয়ে মুরাকামিকে বেশ সাধাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত বলেই মনে হলো। তবে সাধাসিধে মানুষ হলেও জীবন সম্পর্কিত তাঁর গভীর জ্ঞান মানুষকে বিস্মিত করবে। Good one....
বইটা তিনটা ভাগে বিভক্ত। সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা।
বেশ ভালো রকমের পড়াশোনা করেছিলাম লেখক সম্বন্ধে তাই খুব বেশি কিছুর আশা করিনি। অনুবাদ ঝরঝরে তাই পড়তে খুব আরাম লাগে। মুরাকামিকে আরেকটু জানাশোনার জন্য খুব ভালো বই। উপভোগ্য।
চমৎকার অনুবাদ। পড়ার সময় মনেই হয় না বিদেশী লেখকের ইন্টারভিউ পড়তেছি। আর বেশ কয়টা ইন্টারভিউ এক জায়গায় হওয়াতে মুরাকামিরে বুঝতে সুবিধা হচ্ছে। তার থিংকিং প্রসেস ইন্টারেস্টিং।
বাতিঘর আমার প্রিয় প্রকাশনী। প্রিয় বইয়ের দোকানও। এবারের বইমেলায় বাতিঘরের স্টলে গিয়ে বেশ কিছু বই কিনলাম। তার মধ্যে একটা ছিল আলভী আহমেদের অনুবাদ করা হারুকি মুরাকামির , 'পিনবল,১৯৭৩' বইটি। কে জানতো হারুকি মুরাকামির সহজ সাবলীল গদ্যে আমি এত মধুরতা পেয়েছিলাম যে আমার তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ইয়েস হারুকি মুরাকামিই আমার নেক্সট টার্গেট যার সব কটি বই ই আমার পড়া চাই তে চাই। সেই থেকে শুরু তার, বই পড়া।
আলভী আহমেদের অনুবাদ করাটাও আমার কাছে বেশ দারুণ লেগেছে । কারণ আমার কাছে আগে থেকে হারুকি মুরাকামির অরিজিনাল দুটি বই ,'কাফকা অন দ্য শোর ও নরওয়েজিয়ান উড ' ছিল (উপহার পাওয়া) যা ইংরেজি প্রিন্টের যদিও এবং কোনোদিন পাতা উল্টে দেখা হয় নি (দুর্ভাগ্যক্রমে) কিন্তু আমি বাকি যে বইগুলো যেমন 'পিনবল,১৯৭৩, হিয়ার দ্য উইন্ড সিং,নরওয়েজিয়ান উড' বইয়ের ইংরেজি গুলো মাঝে মধ্যে পড়ে দেখেছি বাংলা পড়ার মধ্যে এবং বাজারে যে অন্য কয়েক জনার অনুবাদ আছে তাদের থেকে বেশ একটা সহজ ভাইভ আছে যা পড়লে তরতর করে আগানো যায় এবং আপন জগতের মতন লাগে।
আজকাল আমি মুরাকামির যা পাই তা গোগ্রাসে গিলতে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় হারুকি মুরাকামির : সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা- এক সংকলন পড়লাম। বেশ হিউমরস সাক্ষাৎকার, সাহসী বক্তৃতা এবং দুর্দান্ত স্মৃতিকথা।
একজন লেখকের যেকোনো বই পড়তে গেলে পাঠক মনে আমাদের কমবেশি নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় নিজ কল্পনায় তার বেশিরভাগই উত্তর এই বইতে পাওয়া যাবে। লেখক ও তার লেখা এবং দৃষ্টিভঙ্গির নিয়েও আমাদের মত পাঠকদের মনে দানা বাঁধে নানান কৌতূহল সেসবেরও উত্তর মিলবে এই বইতে। জানা যাবে তিনি কেনো সামান্য জ্যাজ বারের মালিক হতে কথাসাহিত্যিক হারুকি মুরাকামি হয়ে উঠলেন তার পেছনের গল্পও। তাই যাদের মুরাকামির গল্প ভাল্লাগে তাদের জন্য এটি মাস্ট রিড বই।
হারুকি মুরাকামি : সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা আলভী আহমেদ
পার্সোনাল রেটিং - ৪.৪/৫
মূল্য : ৩৫০৳ প্রকাশনা : বাতিঘর
এই বই হারুকি মুরাকামির নিজের বয়ানে নিজের কথা। কোনো রাখঢাক না রেখে তিনি বলেছেন তাঁর জীবনের কথা, লেখক হয়ে ওঠার গল্প; কিভাবে একজন জ্যাজ ক্লাবের মালিক কিংবদন্তি লেখকে পরিণত হলেন সেই গল্প; কথা বলেছেন আরও অনেক বিষয়ে। চেনা মুরাকামির না দেখা অন্তর্জগতের সন্ধান দেবে এই বইয়ের সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা।
সাধারণত লেখকদের ব্যক্তিজীবনের সাথে তাদের লেখনীর বিশাল পার্থক্য থাকে কিন্তু মুরাকামির ক্ষেত্রে তা ঘটে নাই। তার অদ্ভুত লেখনীর মতন তিনিও অদ্ভুত। বইটিতে হারুকি মুরাকামির তিনটি সাক্ষাৎকার, দুটো বক্তৃতা ও দুটো স্মৃতিকথা আছে। বইটি ছোট হলেও মুরাকামিকে আরেকটু ভালো করে চেনা-জানার সুযোগ হবে এ বইয়ের মাধ্যমে।
আমার মতামত - আলভী আহমেদের ঝরঝরে অনুবাদের বইটা দুর্দান্ত লাগছে। মুরাকামির বই ২/৩ টা পড়া হয়েছে মাত্র। তবে সাক্ষাৎকার পড়ে মুরাকামির বই পড়ার ইচ্ছে আরোও বেড়ে গেল। তার সমন্ধে জানতে চাইলে এই বই পড়া দরকার।তবে খুব কমই জানার সুযোগ হইছে। তাই যাদের মুরাকামির গল্প ভাল্লাগে তাদের জন্য এটি মাস্ট রিড বই।
I am a Murakami Fan. I love his quotes, I love his writing styles, I love the characters that he creates. The world of Murakami is very fascinating and the feeling there is so raw.
He is wonderful and I love to know more about him because I love knowing about him and that is why I picked up this book and read; just to know him.
So I read this and I knew him a bit more than before and I got more interested in reading his books.
I love the way he creates magic and I hope he continues to do what he does.❣️
ভালো লেগেছে। হারুকি মুরাকামির কোন নভেলা, গল্প কিংবা উপন্যাস এখনো পড়া শুরু করি নি। তবে উনার ব্যক্তিগত বিষয়, উনার লেখক হয়ে উঠার গল্প এসব পড়তে ভালোই লেগেছে। সময় নিয়ে পড়েছি।
হারুকি মুরাকামির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানা যাবে বইটি পড়ে। তার ভাবনার জায়গা, লেখালেখি, দৈনন্দিন জীবন — এসবই উঠে এসেছে এ বইয়ে। আমার কাছে দারুণ লেগেছে বইটি!