During the decade of the 1960s, a darkness had descended on West Bengal and Kolkata. In the midst of widespread political turmoil and anarchy, the ordinary, educated, middle class had become fearful and craven. Against this backdrop, the titular protagonist, at once a non-entity and an everyman, dares to confront life with a burning question: What is the point of it all? Just existing in order to carry the burden of a million disgraces for one more day? Mere survival at any cost? Is it worth the trouble? The answer doesn't come easily to him. A victim of many misfortunes, he stands at the edge of death and reckons with his little life, determined, if not to find some real value in it, then, at least, to make a true assessment of its insignificance.
৫ আষাঢ় ১৩৩০, ২২ জুন ১৯২৩, বাংলাদেশের যশোর জেলার হাট গোপালপুর গ্রামে জন্ম। প্রাথমিক পড়াশোনা শ্রীহট্ট জেলার এক চা-বাগানে। স্কুলের দরজা পার হন নবদ্বীপে। ১৯৪৫ সালে আই এস-সি পাশ করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি ক্রমাগত পেশা বদলেছেন। প্রাইভেট টিউটর, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, খালাসি, রেস্তরাঁয় বয়, ট্রেড ইউনিয়ন অর্গানাইজার, ইস্কুল মাস্টার থেকে ভ্রম্যমান নৃত্য-সম্প্রদায়ের ম্যানেজার,ল্যান্ডকাস্টমস ক্লিয়ারিং কেরানি, প্রুফ রিডার। ১৯৭৫ সালের মিসা (MISA) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ জন-নিরাপত্তা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বহু নির্যাতন সহ্য করেও নিরন্তর সংগ্রামের ব্রতী ছিলেন। এই মানবতাবাদী লেখক ও সাংবাদিক সম্মানিত হয়েছেন বহু পুরস্কারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনন্দ পুরস্কার (১৯৭০), কো জয় উক স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৬), খো যাই স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৮), ম্যাগসাইসাই পুরস্কার (১৯৮১), এবং বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৮২)। মৃত্যু : ১৫ ডিসেম্বর ২০০০।
ইন্টার্নলাইফে খুব খেটে কাজ করতাম। একবার আমার কাজিনের বিয়েতে গিয়েছি, খুব দ্রুত ফিরেও এসেছি কাজ করার জন্য। আমার আরেক সিনিওর কাজিন মন্তব্য করেছিলেন ওকে 'তুমি খুব ভালো ইন্টার্ন, তুমি ছাড়া ওয়ার্ড চলবেনা' এই ধরনের স্তোকবাক্যে ভুলানো হয়েছে। কথাটা গায়ে লেগেছিল তখন খুব। মনে হচ্ছিল, ওয়ার্ড হয়তো চলবে, তবে নিশ্চয়ই ভালোভাবে না! নিশ্চয়ই আমি গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনুভূতি হঠাৎ হঠাৎ কাঁচা বয়সে লোকটার মতো অনেকেরই হয়ে থাকে। লোকটা যেমন প্রতিবাদ করতে চায় অন্যায়ের কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা আর বাস্তবতার চাপে হয়ে ওঠে না, তেমনি অসংখ্য মানুষ আশেপাশে দেখি। দেখি যে কেন জানি না তারা আপোষ করে দিব্যি আছে। ঠিকঠাক ডিউটি করেও প্রতিষ্ঠানের দণ্ডমুণ্ডের কারো কারো থেকে তাই ধাতানি শুনতে হয় যারা কাজ বেশি করে তাদেরই। লোকটা উপন্যাসের মাধ্যমে গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট এঁকেছেন তা এক কথায় অতুলনীয়। এই সংকট চিরন্তন। ছোট ছোট বাক্যে, মাঝে মাঝে উপযুক্ত চিত্রকল্প সৃষ্টি করে রূপদর্শী তাঁর দর্শন করা নানা জীবনের রূপই যেন পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন৷ অনেক দিন ধরেই চাইছিলাম অন্তত একটা গৌরকিশোর পড়ি। অবশেষে পড়া হল। বইটি ক্লাসিকের তালিকায় কেন নেই, কেন খুব কম মানুষ জানে এর কথা ভেবে আফসোস হচ্ছে।
"লোকটা"র কোনো নাম নেই। কারণ লোকটা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি না। এই লোকটা আপনি, আমি বা যে কেউ হতে পারে; তাই তার একমাত্র পরিচয় "লোকটা।" নাম না দিয়ে "লোকটা" বলে উল্লেখই লেখকের মাস্টারস্ট্রোক। সে যে কোনো সাধারণ মধ্যবিত্ত তরুণ, যুবক বা মধ্যবয়স্ক মানুষের প্রতিনিধি। ছোট ছোট ঘটনায়, কোনো বাড়তি আবেগ না চাপিয়ে, একদম নিস্পৃহভাবে, তীক্ষ্ণ সংলাপের সাহায্যে গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে পুরো একটা প্রজন্মের ট্র্যাজেডি তুলে ধরলেন তাতে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। এই ক্ষুদ্রকায় উপন্যাসটি আরো অনেক ভালোবাসা ও আলোচনার দাবি রাখে।
সে বলল, "আমাকে আপনারা যা ভাবছেন, সে কাজ (আমি করতে পারবো না) আমার দ্বারা ভালোভাবে (আমি পারবো না, পারবো না) হবে বলে (আমাকে এর মধ্যে জড়াবেন না, দোহাই) আমার বিশ্বাস নেই। আপনারা বরং উপযুক্ত একজন কাউকে..."
কে বলল?
"সে স্বার্থপর, নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য অন্যের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে সে কুণ্ঠিত নয় -এই সরল কথাটা স্বীকার করে নিলেই চুকে যেত। সে রেহাই পেতে পারত। কেন সে কথাটা স্বীকার করল না? কেন পারল না? কেন কথাটা তার গলায় বেধে গেল?- এই যন্ত্রণাদায়ক রহস্যের কিনারা লোকটা করতে পারল না। দেয়ালের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্ত, নিরুত্তেজ এবং স্পষ্টভাবে প্রশ্নটা দেয়ালে ছুড়ে মারল "আমি কি আস্ত একটা সং নই?"
কে স্বার্থপর?
"ওদের বোঝাতে পারিনি যে, আমাকে আমি বিক্রি করে দিয়েছি। নিলামে যে সবথেকে বেশি ডাক দিয়েছে সে-ই আমাকে কিনে রেখেছে।স্থায়ীত্বই আমার প্রভু। আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।"
কে সে নিরাপত্তার ভূমিদাস? -কেন? -ঐ যে লোকটা! কোন লোকটা? -আরে ঐ লোকটা... কে এই লোকটা? -গৌরকিশোর ঘোষের 'লোকটা' নাম নেই নাকি? -না নাম নেই। ওমা! সেকি! তাহলে চিনবো কি করে? -কেন? ঐ লোকটা তো আমি/তুমি/তুই/সে/আপনি/তিনি... বা যে কেউ! একটু চিন্তা করে দেখলে হয়তো বোঝা যাবে, এইযে লোকটা আমাদের মনের দ্বিচারিতারই তো প্রতিনিধিত্ব করে।
স্বীকার করতে বাধে বুঝি? কিন্তু অস্বীকারও কি করা যায়?
নিম্ন মধ্যবিত্ত ছা পোষা একটা লোক; যে সব জায়গাতেই অন্যায়ের বিদ্রোহ করতে চায় কিন্তু সাহসে কুলায় না বিধায় করতে পারে না। আমরা তাকে কাপুরুষ বলতে পারি। নির্বিকার বলতে পারি। আত্মসম্মানহীন বলতে পারি। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দুজন ই সমান অপরাধী বলে কাঠগড়ায় তুলে সহজেই একটা সাজা দিয়ে দিতেই পারি কিন্তু লোকটা যে কত খানি নিরুপায় তা আমাদের জানা আছে কি? আমরা একে অন্যের কষ্ট দেখলে খুব আন্তরিকভাবে পিঠে বা মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে আস্বস্ত করি যে ''তোমার অবস্থটা আমি বুঝি'' আসলে বুঝি ঘোড়ার ডিম। মানুষ কতটা নীচ আর ইতর হলে এরকম একটা মিথ্যা সান্ত্বনা অন্য কোন মানুষ কে ঠান্ডা মাথায় দেয় ভাবতে পারেন? আপনার ক্ষতির পরিমাণ আর পরিনাম কোনটাই আমার বুঝার সাধ্য কখনোই ছিলো না ,হবে না, হতে পারে না এই সুন্দর সত্যটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এরকম লোক দেখানো ছলনার আশ্রয় নেওয়া কি খুবই দরকার? সামাজিকতা দেখাতে গিয়ে কপটতার আশ্রয় নেওয়াটাও কি এক ধরনের কাপুরষতার পরিচয় নয়? লোকটা কিন্তু নিজের বিরুদ্ধে নিজে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে চলে। চলতেই হয়। এত সামান্য একটা চাকুরী করে যে, ষড়যন্ত্র টা না করলে সুখে থাকা দুষ্কর। সামান্য চাকুরীর সামান্য বেতনে নিজেকে চালানোর সাথে সাথে অসামান্য সংসার টাও সামান্য টেনেটুনে কোনমতে চলে যায়। দুটো ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা বস তার মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে খুব খাটিয়ে নেয়। এই ইনক্রিমেনট প্রাপ্তি ও বসের পছন্দের পাত্রের দোহাই দিয়ে কোম্পানির বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বলার জন্য অফিসের অন্য সহকর্মীরাও এই নিরীহ লোকটিকেই নির্বাচন করে। তা উপযুক্ত নির্বাচন ই বটে! আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা ভেতরে ভেতরে সারাজীবন 'না' বলে চিৎকার করতে করতে সামনাসামনি শুধুমাত্র 'জ্বী আচ্ছা' বলে কাটিয়ে দেয় তার গোটা জীবন। লোকটাও তেমন। কাউকেই না বলতে না পারা লোকটার সন্তান যখন তার অফিসের গাড়িতে উঠার জন্য বায়না করে তখন সে না করতে পারে না। বস যখন অফিসের কারা কারা তাকে সুপারিশ করতে পাঠিয়েছে জানার জন্য নামধাম জানতে চায় তখন ও না করতে পারে না।পছন্দের মানুষটা যখন কোন রেস্তোরাঁয় বসে খেতে চায়, পকেট কমজোর থাকলেও না বলতে পারে না। ভাগ্যদেবতা যখন তাকে নিয়ে নির্মম পরিহাস করতে করতে হাততালি দিতে থাকে, তার প্রচন্ড অপমানে লাগলেও সে না করতে পারে না। কিন্তু সে একবার 'না' বলেছিলো। উল্টো দিক থেকে যখন একটা ট্যাক্সি তার অফিসের গাড়ি বরাবর ধেয়ে এসেছিলো তখন সে চিৎকার করে ট্যাক্সির ড্রাইভার কে 'না' বলেছিলো। কিন্তু হতভাগা ড্রাইভার তার 'না' বলতে না পারা মুখের প্রথম 'না' টা শেষ পর্যন্ত শুনতে পেরেছিলো কি?
“যতই অপ্রীতিকর হোক, সমস্যার মুখোমুখি হওয়াই মনুষ্যত্ব,পাশ কাটিয়ে যাওয়া কাপুরুষতা , তাতে নিস্তার পাওয়া যায় না।”
. —গৌরকিশোর ঘোষ( লোকটা)
“লোকটা”প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ রচিত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ছোট কলরবের হলেও সেখানে একজন সাধারণ মানুষের ভিতরের ভয়, ক্ষমতালোভ, নৈতিক ভাঙন এবং সামাজিক চাপকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গৌরকিশোর ঘোষ তাঁর সাংবাদিকসুলভ পর্যবেক্ষণশক্তিকে সাহিত্যিক ভাষার সঙ্গে মিশিয়ে এমন এক চরিত্র নির্মাণ করেছেন, যে একই সঙ্গে বাস্তব, দুর্বল, করুণ এবং ভয়ংকর।
উপন্যাসের নামের মধ্যেই লেখকের কৌশল স্পষ্ট—চরিত্রটির নির্দিষ্ট পরিচয় নেই, সে কেবল “লোকটা”। ফলে এই মানুষটি একক ব্যক্তি হয়ে থাকে না,বরং সময়ের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে। সমাজে ক্ষমতার সামনে মাথা নত করা, নিজের নিরাপত্তার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া কিংবা ভয়ের চাপে মানবিকতা হারিয়ে ফেলা—এই সমস্ত প্রবণতার প্রতীক হয়ে ওঠে সে।
উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মনস্তাত্ত্বিকতা। লেখক ধীরে ধীরে লোকটার ভিতরের পরিবর্তনকে উন্মোচন করেন। শুরুতে তাকে হয়তো সাধারণ, কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত এবং পরিস্থিতির শিকার মানুষ বলে মনে হয়; কিন্তু কাহিনি যত এগোয়, বোঝা যায় তার ভিতরে জমে আছে অসহায়তা, হীনমন্যতা, ক্ষোভ এবং আত্মরক্ষার প্রবল তাগিদ। এই মানসিক অবস্থাই তাকে একসময় এমন জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে সে নিজের নৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলে। গৌরকিশোর ঘোষ এখানে কোনও নাটকীয় নায়ক তৈরি করেননি,বরং দেখিয়েছেন, সমাজের চাপে একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে বদলে যেতে পারে। এই পরিবর্তনটিই উপন্যাসের আসল ট্র্যাজেডি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যঙ্গও বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। লেখক সরাসরি বক্তৃতা না দিয়ে পরিস্থিতি, সংলাপ এবং চরিত্রের আচরণের মাধ্যমে সমাজের ভণ্ডামিকে তুলে ধরেছেন। ক্ষমতাবানদের নিষ্ঠুরতা, সাধারণ মানুষের ভয়, সামাজিক অসহায়তা—সবকিছুই এখানে বাস্তবতার সঙ্গে উপস্থিত। বিশেষ করে যে ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার আবহ উপন্যাসে তৈরি হয়েছে, তা পাঠককে অস্বস্তিতেও ফেলে। এই অস্বস্তিই বইটির সাফল্য, কারণ লেখক পাঠককে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে গল্প পড়তে দেন না।বরং তাকে চরিত্রের মানসিক সংকটের মধ্যে টেনে নেন।
ভাষার দিক থেকেও “লোকটা” অত্যন্ত শক্তিশালী। গৌরকিশোর ঘোষের গদ্য সরল হলেও তার মধ্যে তীক্ষ্ণতা আছে। কোথাও অতিরিক্ত অলংকার নেই, কিন্তু সংলাপ ও বর্ণনায় এমন বাস্তবতা আছে যা চরিত্রদের জীবন্ত করে তোলে। তিনি ছোট ছোট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মানুষের ভয়, দ্বিধা কিংবা ক্ষোভকে ফুটিয়ে তুলেছেন। অনেক জায়গায় ভাষা প্রায় সাংবাদিকতার মতো নিরাবেগ, আবার কিছু মুহূর্তে তা গভীর মানবিক বেদনার রূপ নেয়। এই টোনের পরিবর্তন উপন্যাসটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।
চরিত্রচিত্রণের ক্ষেত্রেও বইটি উল্লেখযোগ্য। “লোকটা” শুধু একজন ব্যক্তি নয়,বরং মধ্যবিত্ত মানসিকতার এক প্রতিচ্ছবি। নিজের নিরাপত্তা বাঁচাতে সে কখনও আপস করে, কখনও অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করে, আবার কখনও নিজের দুর্বলতাকে যুক্তি দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করে। এই আত্মপ্রবঞ্চনাই চরিত্রটিকে বাস্তব করে তোলে। পাঠক একদিকে তাকে ঘৃণা করতে পারে, অন্যদিকে তার প্রতি করুণাও অনুভব করে। এই দ্বৈত অনুভূতি তৈরি করাই লেখকের দক্ষতা।
“লোকটা” কেবল একটি গল্প নয়। এটি মানুষের ভিতরের অন্ধকার নিয়ে লেখা এক সামাজিক চিত্র । উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মনে হয়, লেখক আসলে প্রশ্ন তুলছেন—ভয় ও ক্ষমতার চাপে পড়লে একজন মানুষ কত দূর পর্যন্ত নিজের মানবিকতা বিসর্জন দিতে পারে? সেই প্রশ্ন আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
গৌরকিশোর ঘোষ-এর ‘লোকটা’ কি কোনো কাল্পনিক চরিত্র? না। সে অত্যন্ত বাস্তব। এই লোকের মাঝেই আমরা সবাই নিজেদের খুঁজে পাই।
যদিও পুরোপুরিভাবে কোনো একক মানুষকে ‘লোকটা’ ফুটিয়ে তুলে না, বরং, আমরা সবাই জীবনের নানা সময়ে এমন সব কাজ করি বা করতে বাধ্য হই, সেগুলোই আবার এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে মনে পড়ে যায়।
লোকটা! এই " লোকটা" আসলে কে? গল্পটাই বা কী নিয়ে? আয়নায় দেখুন টের পাবেন। এই লোকটা কিন্তু আসলে আমি আপনি এবং আমরা সবাই। এ গল্পটা হয়তো আমাদেরই। একটা নির্দিষ্ট প্রজন্মকে কেন্দ্র করে লেখা হলেও এর প্রসার অতীত ছাড়িয়ে বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও হানা দিয়েছে এবং দিবে। এ গল্প একটা ভেঙে পড়া মেরুদণ্ডের গল্প, প্রবল অপরাধবোধে হাসফাঁস করবার গল্প কিংবা পুঁথিগত যুক্তি, বিদ্যা, ন্যায় আর অন্যায়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া কিছু স্বপ্ন অথবা মনুষ্যত্বের বিসর্জনের গল্প।
গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে বইয়ের আদলে একটা আয়না তুলে ধরলেন পাঠকের সামনে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরস গদ্য, চমৎকার বাক্যশৈলী আর ছন্দময় গতি সবকিছু মিলিয়ে এক বসায় পড়ে ফেলবার মতো বই। তবে একটু হলেও আপনার ভাবনার জগতকে আন্দোলিত করবে, বিবেকের সামনে কিছু প্রশ্নের পসরা সাজিয়ে বসবে সাথে হয়তো ভুগবেন existential crisis এও!
তবু পড়ুন। এমন সব বই আরও প্রচার এবং আলোচনার দাবী রাখে। Happy Reading!
লোকটা নামের সরলতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর গভীর তাৎপর্য। এটি কেবল একটি চরিত্রকেন্দ্রিক উপন্যাস নয় বরং মধ্যবিত্ত মানুষের অস্তিত্বসংকট, নীরব হতাশা এবং অপ্রকাশিত বেদনার এক ঘন সংকলন। গৌরকিশোর ঘোষ তাঁর স্বভাবসুলভ তীক্ষ্ণতা ও সংযত ভাষাশৈলীতে এমন এক বাস্তবতার নির্মাণ করেছেন, যেখানে বড় কোনো নাটকীয়তা নেই, অথচ প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘটনাই গভীর অভিঘাত তৈরি করে। লোকটা এখানে কোন ব্যক্তি নয় বরং একটি প্রতীক, যে আমাদের সমাজের অগণিত মানুষের জীবন সংগ্রামের প্রতিরূপ। সংলাপনির্ভর বয়ান, আবেগের মিতব্যয়িতা এবং নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি এই উপন্যাসকে করেছে আলাদা। পড়তে পড়তে মনে হয়, এটি কোনো গল্প নয় বরং আমাদের চারপাশের অদেখা জীবনের আয়না। সংক্ষিপ্ত পরিসরের মধ্যেও যে এতটা তীব্র সামাজিক ও মানসিক বাস্তবতা তুলে ধরা সম্ভব এই উপন্যাস তার উজ্জ্বল প্রমাণ।
ভালো ছিল গল্পটা। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই ২০২৬ এ এসে গৌরকিশোর ঘোষকে চিনলাম। আশা করছি তাকে পড়তে খুব উপভোগ করব।
ছোটো কলেবরের বই। তবুও ৯২ পৃষ্ঠার বই এর ২২ পেইজ হয়তো পড়েছি, বাকি সব ইউটিউবে পাওয়া একটিমাত্র অডিওবুক থেকেই শোনা। অডিওবুক শুনতে ভালোই লেগেছে, স্লিপার এ শুয়ে হেলতে দুলতে ১.৩০ ঘন্টা শুনেছিলাম।
১১০% কলকাতা অ্যাক্সেন্টে লিখা ৭০-৮০ এর দশকের ডিস্টোপিয়ান গোথাম সদৃশ ঘুনে ধরা সমাজ, দুর্নীতি আর তার মধ্যে ক্রমাগত ঝাঁকুনি খেতে থাকা লোকটা মোটাদাগে আমরা সবাই।
কাহিনীর শুরু হয় লোকটার এক ভয়ংকর অ্যাক্সিডেন্ট দিয়ে, যেখানে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণের ফ্ল্যাশব্যাকে তার মনে একে একে ভেসে উঠে তার জীবনের প্রথম ভালোলাগা (অথবা প্রথম পিউবার্টি হিট হয়ে হওয়া বোনার), নিজের জীবনের কাপুরুষোচিত আচরণ, এরপর ক্রমান্বয়ে বিয়ে, বউ বাচ্চা এবং এক আটপৌরে জীবন, যেই জীবন এতোটাই তুচ্ছ এবং মনে রাখার অযোগ্য ছিলো যে পুরো নভেলায় লোকটি 'লোকটি' হিসেবেই থেকে যায়, নিজের নাম এ প্রকট হতে পারেনা।
প্রথম ১০ পেইজের পরই উপলব্ধি হয় অন্যায় এর প্রতিবাদ করতে চাওয়া, কিন্তু শেষ মুহুর্তে কি এক অজানা ভয়ে থেমে যাওয়া, কর্পোরেট একঘেয়ে চাকরিতে বসের ফাইফরমাশ খেটে যাওয়া ওভারটাইম করা লোলটা মোটাদাগে ৬ মাস এর ইন্টার্নশিপ শেষ করা আমি ই।
মেডিসিন এ যখন এক আইএমও এর সাথে ঝামেলা হলো, ইমেজ খারাপ হওয়া এবং ট্রেইনি দের সাথে দূরত্ব বাড়ার ভয়ে তটস্থ থেকে যখন নিয়ত করলাম সার্জারি তে এমন বাড়াবাড়ি করবোনা, তখন ই জীবন অন্যভাবে বুঝিয়ে দিলো এই কালচারে গিভ এন্ড টেক এতো লিনিয়ার না। সার্জারি শুরুর প্রথম রাতেই যখন এক ট্রেইনির নাইট ডিউটি করে দিয়ে ইউনিট কে আপাত দৃষ্টিতে উদ্ধার করে কিঞ্চিত বাহবা পেলাম, এবং রেস্পন্সিবল হিসেবে নাম উঠলো, তখন ই আসলে কপালে লেখা হয়ে গিয়েছিল এই আউট অফ জেনারোসিটি থেকে করা এক্সট্রা ডিউটি আমাকে আগামী ৩ মাস ভুগাবে। ফুড ম্যানেজার গিরি থেকে শুরু করে চাবি বানানো এবং রোস্টার বানানো এবং সবার জন্যে অপরিহার্য ইন্টার্ন হয়ে দিন শেষে লক্ষ্য করলাম, সবার সব কিছুর কৈফিয়ত ও আসলে আমার কাছেই চাওয়া হচ্ছে। দিনশেষে ঝামেলা না করতে চাওয়া, কোনোরকমে মাথা নিচু করে ঝামেলা থেকে দূরে থাকা লোকটা তো আমি বা আমরাই। কিঞ্চিৎ ট্রিগারিং, হয়তো বহুলাংশে রিলেটেবল হওয়ায়। ভালো লাগলো।
গৌরকিশোর ঘোষের “লোকটা” বইটিকে উপন্যাস না বলে উপন্যাসিকা বললেই বোধহয় বেশি সঙ্গতিপূর্ণ হয়। এটি ৬০-র দশকের পশ্চিমবঙ্গ তথা ওপার বাংলার এক মধ্যবিত্ত মানুষের আত্মজীবনীমূলক একটি কাহিনী, যেখানে গল্পের মূল চরিত্রে থাকা অজ্ঞাতনামা লোকটি কোনো একক ব্যক্তির পরিবর্তে তৎকালীন সময়ের সকল মধ্যবিত্ত বাঙালির প্রতিনিধিত্ব করে। অনেকের মতে, মানুষের জীবনের অন্তিম ৭ মিনিটে নাকি সে তার জীবনের সবথেকে স্পর্শকাতর ও শ্রেষ্ঠ মূহুর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে। এই গল্পটির সেই অজ্ঞাতনামা লোকটিও আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যখন বুঝতে পারে যে তার অন্তিম সময় উপস্থিত, তখন সে তার অবচেতন মনে তার তরুণ বয়সের প্রথম প্রেম, কর্মজীবনের সংগ্রাম, স্ত্রী-সন্তানের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা কল্পনা করতে থাকে। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্যে ব্যাকুল হওয়া সেই লোকটির শেষ পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরা হয় না।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: গৌরকিশোর ঘোষের লেখা প্রথমবারের মতো পড়া হলো। তার সাবলীল লেখনশৈলীতে তিনি তৎকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার এক প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি এই উপন্যাসিকাটিতে তুলে ধরেছেন। মৃত্যুর দোয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির স্মৃতিচারণের মধ্যে দিয়ে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন ৬০-র দশকের এক ডিস্টোপিয়ান বাংলার চিত্র। সেসময়ের সমাজব্যবস্থায় থাকা সন্ত্রাসবাদ, রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্নীতি প্রবণতা, মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজের অসম্পূর্ণ প্রেম, অফিস-আদালতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়া এবং এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব কষতে কষতে অনিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়া— এই বিষয়গুলো গৌরকিশোর ঘোষ এই অজ্ঞাতনামা লোকটির আত্মকথনের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন।
গল্পের প্লট সহজ ভাষায় লেখা হলেও এর বিষয়বস্তু এতোটাই গভীর ছিলো যে পুরো কাহিনী শেষ না করা পর্যন্ত টেনে ধরে রেখেছিল। এই নামহীন লোকটিকে আপাতদৃষ্টিতে অনেকের কাছে দুর্বল চরিত্রের মনে হলেও, এই মৃতপ্রায় লোকটি আমাদের সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করে, যারা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের মাশুল জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত দিয়ে যাই।
বইয়ের নাম: লোকটা লেখক: গৌরকিশোর ঘোষ পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৯৮ রেটিং- ৪/৫ first book review
একটি অকস্মাৎ দূর্ঘটনা। তারপর মৃত্যুর এক মুহূর্ত আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠা সারাজীবনের কাপুরুষতার গ্লানি নিয়ে এই বইয়ের গল্প।
যেখানে লোকটা জানেনা তার অধিকার কতটুকু। ১৮ বছর কাজ করেও হীনমন্যতায় যার মনে হয়, অফিসের মালিক নয়, অফিসের গাড়িই তার মালিক। সে জানেনা ওই গাড়ির উপর তার অধিকার কতটুকু। চাইলেই গাড়িটাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানো যায় কি না কিংবা শখ করে কখনো তার মেয়েটাকে গাড়িতে চড়াতে পারবে কি না। অথচ লেফাফাদুরস্ত লোকটা অফিসের লোকদের কাছে তালেবর সাজার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় রাত ১১টা অবধি কাজ করতে পারে!
মফস্বলের এই লোকটার তরুণ বয়সে টিউশন করাতে গিয়ে মেয়েদের শরীর-সান্নিধ্যে তার মনে-শরীরে-নাসারন্ধ্রে উত্তেজনা জেগেছিল ঠিকই, তবে কল্পনায় নিজেকে আরব্য বাদশা ভাবতে থাকা লোকটা বাস্তব জীবনে ছিল প্রচণ্ডরকমের ভীত।
কারণ, পাড়ার গুণ্ডারা যখন তার শরীরের বিশেষ অঙ্গ অকেজো করার ভয় দেখিয়ে সেই মেয়েদের একজনকে চেয়ে বসলো, মুখ দিয়ে তখন কোনো কথা বের করতে পারেনি। মনে মনে ইতিহাসের বিশিষ্ট মনীষী, যোদ্ধা অবতারদের হাতরে তার স্বপক্ষে কোনো নজির দাড় করাতে পারেনি। তাই নিজের শরীরটাই তার কাছে তখন বড় মনে হয়েছিল। তার মনে হয়েছিল, "পুরুষ হবার বীভৎস আশংকার চেয়ে কাপুরুষতার গ্লানিও শ্রেয়।" মনে হয়েছিল, মেয়েদের সম্ভ্রমের চেয়ে তার "কাপুরুষতার পুরুষত্ব" বড়। শুধুমাত্র দেহ নিয়ে বেঁচে থাকাটাই বড়।
সেই একই কাপুরষতা লোকটা তার কর্মজীবনেও দেখিয়েছে। মনে মনে প্রকৃত সত্য নিয়ে প্রতিবাদ করেও দিনশেষে স্যারের কথা মতো পার্টি নেতাদের রিপোর্ট বদলেছে, ইনক্রিমেন্ট করিয়েছে, একটুখানি ফ্যানের বাতাসের লোভে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া কুকুরও হয়েছে!
আর সাময়িক ভাবে সেই গ্লানি ভুলে থাকার জন্য কখনো কল্পনায় রাস্তার নোংরা মেয়েকে নিয়ে বিছানায় উঠেছে, আবার কখনো বউয়ের শরীরে মুখ লুকিয়েছে!
দিনের পর দিন নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে মনে হয়েছে, প্রতিবাদ করে মরে যাওয়ার চেয়ে কাপুরুষের মতো বেঁচে থাকা শ্রেয়! এজন্য সময় এলে সহকর্মীদের প্রতিবাদের সাথে তাল দিয়ে হলেও প্রতিবাদ করার সাহস করে উঠতে পারেনি অথচ শেষ পর্যায়ে হঠাৎ পরিচিত হওয়া স্কুলের অস্থায়ী হেড মিস্ট্রেসের কথায় তার মনে হলো, প্রতিবাদ করা টা এতটাও কঠিন ছিল না। কত সহজ!
বইয়ের পুরোটা সময় জুড়ে লোকটা অন্যের চোখে-মুখে আসলে নিজের প্রতিচ্ছবিই দেখেছে। এমনকি মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও তার মতো কিছু কাপুরুষদের জন্যেই তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি! তবে মৃত্যুর আগ মুহূর্তে হয়তো সে বুঝতে পেরেছিল, "যতই অপ্রীতিকর হোক, সমস্যার মুখোমুখী হওয়াই মনুষ্যত্ব, কাটিয়ে যাওয়া কাপুরুষতা,তাতে নিস্তার পাওয়া যায়না"
বইয়ের প্রতিটা লাইনে লেখক লোকটাকে এত বেশি তাচ্ছিল্য করেছে যে খুজতে খুজতে পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেলেও লোকটার একটা "নাম" পর্যন্ত পাওয়া গেল না! তারপর মনে হলো, লোকটার নাম বইয়ের প্রত্যেকটা লাইনেই উল্লেখ ছিল সেটা হলো "কাপুরুষ"!
____________________
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রত্যেকটা পাতা পড়ে এই লোকটার প্রতি আমার রাগ ক্রমে বেড়েছে। গোসল থেকে ফিরে আসা মেয়ের শরীরের গন্ধ নাকি তাকে উত্তেজিত করত। মানে কি পরিমান লম্পট হতে পারে একটা মানুষ। এইজন্য যখন মার খেয়েছে, আমার খুবই ভালো লেগেছে।
কর্মজীবনেও এই লোকটা একটা স্লেভ। না আছে ভুলকে ভুল বলার ক্ষমতা, না আছে ফাইট করার সাহস।
লোকটা কাজকর্মের থেকে, তার চিন্তাভাবনার সাইজ দেখে রাগ হচ্ছিল বেশি। হবেই না কেন, আদৌ লাইফে কিছু করেই নাই এই লোক। পুরাটা লাইফ ইমাজিনেশনেই কাটিয়েছে। তবে এইদিকে এসে লোকটার প্রতি একটু সহমর্মিতা কাজ করেছে। নিজেও তো একটা কর্পোরেট স্লেভ। একটু হলেও রিলেট করেছি। অনেক কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারিনা। তখন ওই ইমাজিনেশনেই কাজ চালিয়ে নিই।
লোকটা চিটেডও হয়েছিল। যদিও লেখক এটাকে খুব বেশি বড় করে দেখায়নি। (এটা সত্যি হয়েছিল নাকি লোকটার কোনো কোপিং মেকানিজম সেটা নিয়ে কনফিউজড। কারণ এটাও তার একটা ইমেজিনারি কনভারসেশন।)
লোকটার প্রতি এত রাগের পরেও কেন যেন চাচ্ছিলাম লোকটা বাঁচুক। আশাও করেছিলাম বাঁচবে। কিন্তু শেষ লাইনটা কোল্ড শাওয়ারের মতো ছিলো। মানে হুট করেই বইটা শেষ হয়ে গেল। আমি ভাবছিলাম গল্প আরো এগোবে।
লোকটার বিবেক নিয়েও একটু কথা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে লোকটা বিবেকহীন না। বিবেক অবশ্যই আছে। না হলে সে কখনোই একটা সিচুয়েশনের সব পারস্পেক্টিভ এতো ভালোভাবে বুঝতো না।
লোকটা আসলে একটা সিম্বল। এটাই মনে হয়েছে আমার। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোক আছে। তাই তার নামটা না জেনে আমার তেমন খুব একটা কিছু হয়নি। এই এ্যাম্বিগুয়িটিটা উল্টা আমার কাছে তাকে সাধারণ মানুষ বানিয়েছে। *** এই লেখকের কোন লেখা আমি পড়িনি। এটাই প্রথম। আর এটা পড়ে মনে হল লেখক হয়তো তার ভেতরে থাকা মেয়েদের প্রতি চাপা একটা রাগ হালকা হালকা করে প্রকাশ করছেন। এক বসায় আমি শেষ করতে পারিনি। কয়েকবার বিরতি নিতে হয়েছে। কেমন যেন একটু ভারী ভারী লেখা। পাস্ট, প্রেজেন্ট আর কাল্পনিক সাইড সব একসাথে থাকায় হয়তো এমন। তবে গল্পের পেস ভালো। লেখক গল্পের পোর্টাগনিস্টের প্রতি একই সাথে রাগ, ঘৃণা আর সহমর্মিতা জাগাতে সক্ষম হয়েছেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
'লোকটা' ছিলো সবার শেষে অফিস থেকে ফেরা একজন অপাদমস্তক কর্পোরেট। এটুকুই কেবল জানা গিয়েছিলো কারণ, গল্পের শুরুতে আমরা যখন তাকে প্রথম দেখি, তখন সে গাড়ি করে ফিরছিলো খানিকটা রাত্তিরেই বলা যায়। মৃত্যুর আগের কিছু মূহুর্ত আসলে কেমন ? মস্তিষ্ক কী তখন এক ঝলকে পুরো জীবনটা ঘুরে আসে ? হয়তো, তেমনটাই হবে! অন্তত আমাদের লেখক তাই দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয়.. । মনে হওয়ার কারণটা বলি, আসুন। শুনে আপনারও হয়তো একটা মনস্তাত্ত্বিক ভ্রমণ, যেটা কিনা বলা যায় 'দ্যা লাস্ট জার্নি অফ ব্রেইন' বলে মনে হতে পারে বইটাকে কিংবা 'লোকটা আমি না তো!'ভেবে বিভ্রান্তি।
বইয়ের শুরু হয় "লোকটা" শব্দ দিয়ে,যে হঠাৎ খেয়াল করলো একটা বাস বাঁ দিকে মোড় নেয়ার পরপরই হঠাৎ একটা ট্যাক্সি এসে তার গাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে। গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে গিয়ে, গাড়ির পলকা বডি থেকে স্টিয়ারিং হুইলটা অবধি তার বুকের কাছে চলে আসে। লোকটা ড্রাইভারকে কিছু বলতে গিয়ে দেখলো, ড্রাইভারটা ঘুমিয়ে পড়েছে। ড্রাইভারের কাণ্ড দেখে লোকটার হাসি পেলো। তখন হঠাৎ লোকটার মনে হলো, উঃ, বাতাস নেই, বাতাস নেই, বাতাস নেই। যন্ত্রণার এক ঝাঁক শকুন চোখের পলক না ফেলতেই তার উপর ছোঁ দিয়ে পড়ল, তারপর ঠোঁটে করে মহাশূন্যের উপরে তুলে নিয়ে তাকে আলতোভাবে ছেড়ে দিল।
লোকটা ভোঁ-কাটা ঘুড়ির মত মোলায়েমভাবে ভাসতে ভাসতে নামতে নামতে বিড়বিড় করে বলল, “নাঃ, সিদ্ধান্ত এবারে একটা নিতেই হবে। যতই অস্বস্তিকর হোক; সমস্যার মুখোমুখি হওয়াই মঙ্গল, পাশ কাটিয়ে যাওয়া কাপুরুষতা, তাতে নিস্তার পাওয়া যায় না।” লোকটা আসলে কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলো! জীবন-মৃত্যুর এমন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কেনোইবা লোকটার এই সুপুরুষ-কাপুরুষ হওয়া নিয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রখর হলো? আসলে তত্ত্ব আর বাস্তবতা কী একই পথে হাঁটে নাকি মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেয় তার নিজেরই বিপরীতে ? জানতে হলে, পড়ুন "লোকটা" কেননা, এই লোকটা আর কেউ নয় বরং ম্যাটারিয়ালিস্টিক পৃথিবীতে খাবি খেয়ে-খেয়ে বেঁচে থাকা আপনি-আমি-আমরা।
'''যতই অপ্রীতিকর হোক, সমস্যার মুখোমুখি হওয়াই মনুষ্যত্ব, পাশ কাটিয়ে যাওয়া কাপুরুষতা, তাতে নিস্তার পাওয়া যায় না।'"
প্রশ্ন হল, লোকটা কে? লোকটা হল আমি, আপনি - আমরা সবাই৷ ছোটবেলায় সবসময় শিখে আসি সবাই - আমরা ন্যায়ের পথে চলব এবং অন্যায়ের প্রতি প্রতিবাদ জানাব। কিন্তু জীবনে চলতে গেলে আমরা নিজেকে নিজে বলি, বিবেককে জিজ্ঞাসা করে বেড়াই ন্যায়ের পথে আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কি আদৌ আমরা চলতে পারছি অথবা প্রতিবাদ করে কোনো লাভ কি আছে? প্রতিনিয়ত অনেক অন্যায় আমরা দেখি, সামনে সমস্যা চলে আসে কিন্তু চাইলেও সমস্যার মুখোমুখি হয়ে লড়াই করার মনোভাব আমাদের থাকে না, সাহসে কুলায় না। সমস্যাগুলো জীবনের সাথে চলে, আমরা তা মেনে নিই, আমাদের পারিপার্শ্বিক জীবন আমাদের মেনে নেওয়াতে বাধ্য করে যে জীবন এমনই - সব মেনে নিয়ে চলতে তুমি বাধ্য। তুমি না চাইলেও এই সমাজে সবসময় সবাইকে খুশি করে চলতে চেষ্টা করে যেতে হবে, কিন্তু শেষবেলায় তুমি নিজে যত বিপদে পড়, পাশে কাউকে পাবে না। এভাবেই এক Slave এর মতন জীবন টেনে নিয়ে যাওয়াটাই হয়ত জীবন।
আত্ন - মনস্তাত্ত্বিক কনসেপ্টে চমৎকার একটা ছোট উপন্যাসিকা। যারা চাকরিজীবী আছেন, অফিস সময় শেষ হওয়ার পরেও অফিস এবং অফিসের কাজ নিয়েই চলছেন, বাসায় এসে নিজের পরিবারের চেয়েও অফিস বড় এরকম করে নিজের জীবনের সাথে নিজের পরিবারের জীবনটাও এক প্রকার রোবটিক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছেন, জীবনকে উপভোগ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন না, তাদের জন্য অবশ্য একটা পাঠ্য বই। লেখকের লেখনী অত্যন্ত চমৎকার, এক বসায় টানা পড়ে ফেলা যায়।
'লোকটা' বইটির কথা আগে কোনদিন শুনিনি। হতে পারে আমারই ব্যর্থতা। চটকদার সব বইয়ের ফাঁকে মূল্যবান বইটি চোখ এড়িয়ে গেছে। ৯৮ পৃষ্ঠার বইটা এক বসাতে শেষ করলাম। নামহীন লোকটা যেন আয়নায় দেখা রোজকার 'মন বলে এক, মুখে বলি আরেক' এর প্রতিবিম্ব।
একটা লোকের গাড়ি এক্সিডেন্ট এর ঘটনা দিয়ে শুরু। এরপরে ফ্ল্যাশব্যাকে উঠে আসে তার জীবনের কাহিনি। তার কোন নাম নেই। শুধু আছে ছাপোষা জীবনের সাদামাটা কিছু স্মৃতি। আমরা দেখতে পাই তার জীবনের এক একটা সময়কালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা।
যৌবনে সে প্রতিবাদ করতে পারেনি, কর্মজীবনেও তাই। প্রতিবার তার ভেতরে দোল খেয়েছে ন্যায়-অন্যায়ের দ্বিধাবোধ। কিন্তু দিনশেষে ওই সব মুখ বুজে সয়ে গিয়ে কোনরকম টিকে থাকাটাকেই বেছে নিয়েছে।
লোকটা তার জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন নিজের অস্তিত্বের হিসাব মেলাতে বসে, তখন আমরা দেখি তার জীবনের কোনো মহত্ব নেই, আবার খুব বড় কোনো অপরাধও নেই—এই যে ‘গড়পড়তা’ বা 'ইনসিগনিফিকেন্ট' আমার কাছে মনে হয়েছে এটা বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত মানুষেরই অবস্থা।
বইটা একদম বাহুল্য বর্জিত। কোন বাড়তি কথা নেই। অতি উপমার চটকদারিতা নেই। তাই বলে নিরেট সাদামাটা লেখনিও নয়। কিছু কিছু শব্দের বিকল্প ব্যবহার দেখে মজা পেয়েছি। যেমন ছিল, চাদরের কলঙ্ক।
বইটা পড়া শেষ করার পরও লোকটা মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে। মনে হয়েছে, চলতে পথে, বাসের মধ্যে দেখা লাঞ্চব্যাগ হাতের নিপাট অফিসগামীই হয়তো এই ‘লোকটা’, অথবা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমি নিজেই।
লোকটা উপন্যাসিকা পড়তে গিয়ে ভাবছিলাম হয়তো এই চরিত্রের হয়তো নাম পাবো এই উপন্যাসেরর মাঝে। কিন্তু লেখক এই চরিত্রের কোন নাম দেননি। এখানেই লেখক তার মুন্সিয়ানাটা দেখিয়েছেন। এই ধরনের চরিত্র আমাদের আশেপাশে রয়েছে হয়তো বা নিজের সাথেও কখনো মিলে যেতে পারে। একজন মধ্যবিত্ত মানুষ, কাপুরুষতাও রয়েছে তার মধ্যে, প্রচন্ড লেভেলের ইন্টোভার্ট আর কাউকে না করার প্রবণতা যার মধ্যে নেই। এই রকমের মানুষ গুলো মনের ভিতরে থাকা কথা সঠিক ভাবে মানুষের কাছে বলতে পারে না৷ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কোন কিছুর প্রতিবাদ করতে গেলেও অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। না তাদের আছে প্রভাব না আছে তাদের প্রতিপ্রত্তি।এই উপন্যাসিকা পড়তে গিয়ে এই লোকটা চরিত্রটার উপর অনেক রাগ হবে। এই ধরনের মানুষকে সমাজের প্রভাবশালী মানুষ গুলো তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকেন। যা অনেক দুঃখজনক। লেখক এই ধরনের মানসিকতার মানুষকে তুলে ধরেছেন। প্রভাবশালী মানুষ দূর্বলের উপর কেমন ব্যবহার করে, নারীদের সমাজে কিভাবে ব্যবহার করা হয়। পুঁজিবাদের সমাজে যা হয়ে থাকে। এই উপন্যাসিকা সমাজের এক কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বইটা মোটামুটি ভালোই, তবে কিছু জায়গায় একটু বিরক্ত লেগেছে।
When reading Lokta (The Man), I found the protagonist frighteningly ordinary. He could be any one of us — someone trying to survive within a system that slowly erodes ethics, dignity, and courage. A completely immoral person stops feeling conflict, but this man still suffers from consciousness. He despises his compromises even while becoming part of them.
The “doorless” scene stayed with me deeply. I kept feeling that perhaps the entire sequence was psychological rather than literal—as if the protagonist himself was trapped inside a moral suffocation from which no exit could be found. In the same way, the final encounter with his former lover also felt dreamlike to me, almost like a coping mechanism. Real life had already broken him so thoroughly that his mind kept reshaping reality into symbolic encounters he could emotionally survive.
That is why the novel felt existential to me. It is not simply about corruption or dishonesty; it is about the quiet tragedy of ordinary people who slowly lose themselves while trying to stay alive.
প্রটাগনিস্টের নাম নেই, লোকটা বলা হয়েছে। লেখকই তো ওই লোক, তিনিই নিজেকে বাইরে থেকে তার অন্তর্দ্বন্দ্ব পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরাও, মানে সাধারণ অর্থহীন (উভয়ার্থেই) মানুষেরা এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকি। কথা বলতে চাই কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না কখনো। তাই আমাদের ভেতরে দুটো সত্ত্বা তৈরি হয়। একটা এই অপকর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বলে; অন্যটি কেন বিদ্রোহ না করাই শ্রেয় তার ব্যাখ্যা দেয়। এবং শেষোক্ত জন-ই জয়ী হয় আমাদের ক্ষেত্রে। লেখকের কথায় "আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।" মানে আমি আমার বেঁচে থাকার নিরাপত্তার কাছে বন্দি। তাই যতই নৈতিক দ্বন্দ্ব মনের মধ্যে উদ্বুদ্ধ হোক না কেন আমাদের করার কিছু থাকে না, এই নিরাপত্তার লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করা অসাধ্য।
এই গল্প যে লোকটার, তার নাম আমরা জানি না। লোকটার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানি না, বিশেষত্বহীন এক মিডিওকার এই লোকটা। বিশেষত্বহীন, তবে বিবেকহীন নয়। বিবেক বস্তুটা এই লোকটার আছে, বিবেক আছে বলেই আছে বিবেকবোধের তীব্র দহন। সে বিবেক বারবার পরাস্ত হয়েছে পরিস্থিতির কাছে। একটাবার, একটাবার—না বাস্তবে, না খেয়ালে—শিরদাঁড়া শক্ত করে সে যে তার বিবেকের কথা শুনে লড়তে পারেনি প্রতিকূলতার সাথে—সেই অপরাধবোধ, সেই গ্লানি তাকে দংশন করে গাড়ির কলিশনের মুহূর্ত থেকে প্রাণপাখি খাঁচাছাড়া হবার আগ অবধি।
“আমাদের বিবেক তো বেশ্যার আচার-নিষ্ঠার মতো। একাদশীর দিন খদ্দেরকে মুখটা এঁটো করতে না দিলেই আর খুঁতখুঁতি থাকে না।”
গল্পের প্রেক্ষাপট হয়তো ৬০ এর দশকের পশ্চিমবঙ্গ / কলকাতার । "লোকটা " সমাজের একটা সমগ্র শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করে। মৃত্যুর আগে হয়তো আমাদের সমগ্র জীবন টা আমদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। আমরা দেখতে পাই আমদের সব পাওয়া না পাওয়া, আশা-আকাঙ্খা, ভুল ভ্রান্তি। লেখক ঠিক একই ভাবে একটি এক্সিডেন্ট এর মাধ্যমে, ' লোকটিকে ' জীবন মৃত্যুর মাঝে রেখে তৎকালীন সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। বলেছেন প্রতিবাদ না করতে পারার আক্ষেপের গল্পের কথা। গল্পের সময়ের ব্যবহার , নামহীন চরিত্রের আশা যাওয়াই এটিকে অন্যন্য করে তুলেছে।
বই টা শুরু করে অস্বস্তির মধ্যে পরে গিয়েছিলাম। পড়াকালীন সময়ে কেবলই মনে হচ্ছিলো “ আরেহ এখানে তো আমার কথাই বলছে!” পানির কাছে দাঁড়ালে আবছা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না এমন একটা প্রতিচ্ছবি দেখা , ঠিক যেন তেমন। যদিও পরে গঠনগত দিক থেকে মেয়ে হওয়ার দরুন অনেক কিছুরই পার্থক্য আছে , এসব নিম্নমানের যুক্তি দিয়ে মন কে প্রবোধ দিয়েছি। (কেই বা নিজের উলংগ উপস্থাপন কে জনসম্মুখে স্বীকার করতে চায়?)
"ওদের বোঝাতে পারিনি যে, আমাকে আমি বিক্রি করে দিয়েছি। নিলামে যে সবথেকে বেশি ডাক দিয়েছে সে-ই আমাকে কিনে রেখেছে।স্থায়ীত্বই আমার প্রভু। আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।"
বছরের শেষ প্রান্তে এসে গৌরকিশোর ঘোষকে আবিষ্কার করলাম হারুণ ভাইয়ের কল্যাণে। ২০২৪ কে মনে রাখার মতো আরও একটা কারণ পাওয়া গেলো!
And i find it quite relatable that humanity, morality etc are luxury, which middleclass can't afford always in terms of keeping their financial and physical security!
আমরা সারাক্ষণ কিছু একটার পিছে দৌড়ে চলেছি। কিন্তু কি সেটা? নিরাপদ, স্থায়ী, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবন? কিন্তু তারপর? এতো পরিকল্পনা, এত হীনমন্যতা স্বীকার, তারপর কি হয়? কেন এত্ত ছুটাছুটি! কীসের টানে?
বইটা যেন হঠাৎ করে একটু দাড় করিয়ে দিলো! একটু ভাবতে বাধ্য করলো। সত্যিই তারপর কি?
নাম না জানা এক লোকের গল্প। গল্পের পরতে পরতে আছে লোকটার জীবনের বিভিন্ন কাপুরোষোচিত কর্মকাণ্ডেড় বর্ণনা৷ ট্যাক্সি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে সেসব ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক দেখতে থাকে লোকটা