সময় মানে ঠিক কী? প্রথাগত ধারণা অনুযায়ী তা একটি রেখার মতো একদিকে ধেয়ে যায়। আমরা নিজেদের সুবিধেমতো নানা এককে তাকে পরিমাপ করার চেষ্টা করি; কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু শতবর্ষ আগে আইনস্টাইন তথা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এই ধারণাটিকে অনেকাংশে ভেঙে দিয়েছে। হ্যাঁ, সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা এখনও আমাদের সাধ্যের মধ্যে নয়। তবে সময়ের প্রতিটি বিন্দুতে, বিশেষত যেখানেই একাধিক সম্ভাবনার মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়ার কথা ওঠে, ফ্রস্টের কবিতার মতো করে আমরা সবাই এখন ভাবি, "যদি অন্য পথটা বেছে নেওয়া যেত...!" ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারায় তেমন ক'টি বিন্দুকে বেছে নিয়ে, তাদের চারপাশে এক-একটি আস্ত "যদি এমন হত..." অল্টার্নেটিভ হিস্ট্রি রচনা করা হয়েছে এই বইয়ে। সেই লেখাগুলো হল~ ১. কৈলাশচন্দ্র দত্তের "৪৮ ঘণ্টা" (১৮৩৫ সালে মূল ইংরেজিতে প্রকাশিত); ২. দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের "মেরা হিন্দোস্তাঁ নহি দুঙ্গা"; ৩. রাজা ভট্টাচার্যের "অথ চিত্রকর কথা"; ৪. সুদীপ চ্যাটার্জী'র "ইনকলাব অভি বাকি হ্যায়"; ৫. কৃষ্ণেন্দু দেবের "অভ্যুদয়ের পথে"; ৬. শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের "মুক্তির পথ"; ৭. পার্থ দে'র "সান জু-এর যুদ্ধবিদ্যা"। এদের মধ্যে কোনোটি ইতিহাসের বাঁকবদলের জন্য বেছে নিয়েছে সিপাহি বিদ্রোহকে, কোনোটি বেছেছে রাসবিহারী বসু'র প্রচেষ্টাকে, কোনোটি তারও পরের নানা ঘটনাকে। প্রত্যেকটি লেখার ভিত্তি কঠোরভাবে প্রোথিত হয়েছে গবেষণায় এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বাস্তবিকতায়। তবে এদের মধ্যে আমি একেবারে আলাদাভাবে উল্লেখ করব দ্বিতীয় আর তৃতীয়— এই লেখাদু'টির। প্রথমটি শ্বাসরোধী থ্রিলার। দ্বিতীয়টি এক সম্পূর্ণ নতুন অথচ ঘোর বাস্তবের আলোয় চেনা চরিত্রদের দেখতে বাধ্য করে আমাদের। সব মিলিয়ে, যদি কল্পনার উড়ান আর দেশের ইতিহাস— দুইয়ে আগ্রহ থাকে, তাহলে এই বই অবশ্যপাঠ্য বলেই আমি মনে করি। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।