Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটা ফ্রিজিং ভ্যান। ড্রাইভার-হেলপার স্পট ডেড। পেছনে ফ্রিজিং ইউনিটে মিলল আরও তিনটা বডিব্যাগে মোড়ানো লাশ। শুধু তাই নয়, একটা ছেঁড়া বডিব্যাগও পাওয়া গেল। তার ভেতরে কেউ একজন ছিল। সে পালিয়েছে। ক্ষমতাশালী মানুষেরা পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চায়। স্থানীয় পুলিশদেরও রাখা হয়েছে অন্ধকারে।

কে ছিল ঐ বডিব্যাগে? অথবা কী ছিল? তাকে ধরতে উঠেপড়ে লেগেছে কেন এতগুলো মহল?

A freezing van has faced an accident on a Bangladeshi highway. The entire crew met their demise on the spot. The freezing unit revealed three dead bodies clad in bodybags. Moreover, a bodybag torn to shreds has also been found. Someone was inside. A hoard of powerful people wants to sweep the entire incident under the rug. Even the local police were kept in the dark.

Who was in that torn bodybag? Or rather, what was in that torn bodybag? Why do so many factions are desperate to get a hold of him/her/it?

112 pages, Hardcover

First published October 30, 2022

1 person is currently reading
18 people want to read

About the author

Rafat Shams

14 books43 followers
Rafat Shams has spent all of his years in the city of Dhaka. The underbelly of the city always intrigued him and such is reflected in his writing. He goes for a bold, unabashed approach in his writing.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (10%)
4 stars
6 (30%)
3 stars
5 (25%)
2 stars
6 (30%)
1 star
1 (5%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews219 followers
June 15, 2024
বই: অপ্রকৃতস্থ
লেখক: রাফাত শামস
জনরা: টেকনো থ্রিলার
প্রচ্ছদ: জাওয়াদ উল আলম
প্রকাশনী: নয়া উদ্যোগ
প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০/-

নিশুতি রাতে একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে। ওসি প্রদীপকে তলব করা হয় ঘটনাস্থলে। প্রতিদিনই তো কতোই না এক্সিডেন্ট হয় তবে জরুরি তলব তো হয় না ভাবতে ভাবতেই স্পটে এসে পৌচ্ছায় ওসি। কিন্তু ঘটনাস্থলের তোড়জোড় দেখে বুঝে যান গুরুত্বপূর্ণ কোনো রহস্য আছে! উপরমহল থেকে নির্দেশ আসে বাকপ্রতিবন্ধী ছোট ছেলেকে খুঁজে বের করতে হবে। সময় পার হতে থাকে আর একের পর এক লাশ আবিষ্কার হতে থাকে! প্রতিটি কেসেই সেই ছেলেটার উপস্থিতি আছে। কিন্তু একটা বাচ্চা এতো সহজে ও কম সময়ে কীভাবে এতোগুলা খুন করছে?

ছোট একটা বই পড়বো এই ভাবনা থেকেই বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। "ভূমিকা" অংশ থেকে জানতে পারি বইটা টেকনো থ্রিলার জনরার। এর আগে মাত্র একটি বই-ই(মৌলিক) পড়া হয়েছে এই জনরার। তাই আগ্রহ বেশি ছিল। মুভি রিলিজ হওয়ার আগে ট্রেলার বের হয়। ট্রেলার যেমন মুভি নিয়ে আবছা ধারণা দেয় ও প্রশ্নের মাধ্যমে আগ্রহ তৈরি করে, ট্রিলজির প্রথম বই "অপ্রকৃতস্থ" আমার কাছে তেমনি লেগেছে। ১১২ পৃষ্ঠার বইটা পড়ে মনে অনেকগুলো প্রশ্ন জেগেছে যার কোনো উত্তর পাইনি। সম্ভবত পরবর্তী বইগুলোতে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, সিরিজের প্রত্যেকটা বই ক্লোজলি কানেক্টেড।

বইয়ের তিনটা অংশ আমার বেশি ভালো লেগেছে।
১. মোতালেবের বাসায় মাংস চুরি: যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে পড়ে মজা পেয়েছি।
২. নাজমা-আশফাক দম্পতি: মিষ্টি একটা সম্পর্ক প্রথমে দেখানো হয়েছে। শেষের পরিণতি কষ্টও দিয়েছে।
৩. শেষের একশন সিন: বইয়ে কয়েকটা একশন সিন রয়েছে। তবে শুধুমাত্র এটার ডিটেলিং-ই ভালো লেগেছে।

টেকনো থ্রিলার বলা হলেও টেকনলোজি বা প্রযুক্তির তেমন ব্যাবহার দেখলাম না। অন্ততপক্ষে সাবজেক্টের অংশ ফুটিয়ে তোলার জন্য জেনেটিক্স, ল্যাব, বিভিন্ন ডিভাইসের কথা থাকতে পারতো। চরিত্রগুলো নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র নিজেই ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। ৫১ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মেঘ নাজমার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছে যেন আপন কেউ আবার ৬৩ পৃষ্ঠায় কুনজর দিয়েছে। এটা কেমন জানি!

দু'টো খটকা আছে,
১. ১৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মোট ৬টা লাশ পাওয়া গেছে। গাড়ির মধ্যে ছিল ৩টা লাশ। তাহলে চালককে বাদ দিলে সহকারী হওয়ার কথা ২জন। "ড্রাইভার, হেল্পার স্পট ডেড", এখানে যে দুজন হেল্পার এটা বলে দিলে ভালো হতো। ১৫ পৃষ্ঠায় "ড্রাইভার আর তার অ্যাসিস্ট্যান্টের বডি আছে" না লিখে "অ্যাসিস্ট্যান্টদের" বা সংখ্যাটা লিখে দিলে ভালো হতো। এইজন্য লাশের সংখ্যা নিয়ে প্রথমে কনফিউজড ছিলাম।
২. ১১০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে পড থেকে বের হওয়ার পর ১ সপ্তাহের বেশি কোনো সাবজেক্টই বাঁচেনি। পডের মধ্যেও তো অনেকদিন ছিল। যেহেতু মেঘ বেঁচে আছে তারমানে তার বয়স কম করে হলেও তো একসপ্তাহের বেশিই হয়। বইয়ে প্রায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাবজেক্ট ১০ বছরের বাচ্চা থেকে ১৩-১৫ বছরের কিশোরে পরিণত হয়েছে। পডে থাকাকালীন ও পরবর্তী একসপ্তাহের বৃদ্ধি ও উল্লেখিত ২৪ ঘন্টার বৃদ্ধির হিসাব গোলমেলে!

বইয়ে বেশ কিছু বানান ও নামে ভুল আছে। ৯১, ৯৪ পৃষ্ঠায় "আসগর" কে "আনসারি" লেখা হয়েছে। ওভারঅল প্রোডাকশন মোটামুটি।
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
April 3, 2023
গল্পের গঠনটা পরমার্জিত। মেদহীন লেখা। সুপার হিউম্যান, সুপার সোলজার এসব নিয়ে। টেকনো থ্রিলার। টেকনোলজির ব্যবহার আরো থাকলে ভালো হত। তবে ভালো লেগেছে। আরো বই আসবে সামনে। এটা শুরু মাত্র। দেখা যাক কী হয় সামনে! অপেক্ষায়...
Profile Image for Tasfia Promy .
110 reviews29 followers
November 24, 2022
বইঃ অপ্রকৃতস্থ
লেখকঃ রাফাত শামস
একটা কোল্ড স্টোরেজ দুর্ঘটনায় চালক, দু'সহযোগী সহ আরো কয়েকটি লাশ পাওয়া যায়। এবং সেই সাথে সেই দূর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় একটা বছর দশেক এর ছেলে। সেই ছেলেটিকে হণ্যে হয়ে খুঁজে চলেছে পুলিশসহ আরো কয়েকজন।
পুরো বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করছে "উপরমহল" নামে এক বা একাধিক ব্যক্তি।
এদিকে একটা বছর দশেক এর ছেলে যেখানে যাচ্ছে সেখানেই ঘটে অভাবনীয় আর ভয়ানক ঘটনা। সবচাইতে বিষধর সাপকে যেন পিষে ফেলেছে কেউ মুহুর্তেই।
সে যেখানেই যাচ্ছে রক্তের বন্যা বইছে। অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, অযাচিত মানুষ ঢুকে পড়ছে তবে কী ছেলেটা কোন ডাকাত দলের টোপ?
ওই ছেলেকে ধরতে মোটামুটি রেড এলার্ট জারি। এদিকে তাকে যারা ধরতে যায়, তাদের ইহলোকের মায়া ত্যাগ করতেই হয়। উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করে সেই ছেলের অবস্থান লোকেট করা হয়।
এদিকে একজন বিজ্ঞানী, একজন এম পি র প্রায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে। সব কিছু এখন ও ধোয়াশার মধ্যে আছে। রহস্যময় 'উপরমহল', 'দশ বর্ষীয় বালক', রেজা নামের তুখোড় এক মেধাবী ব্যক্তি, সে যে কে সেটাও রহস্য। এত রহস্যের সমাধান কী হবে? খুনি ধরা পড়া নাকি অন্য কিছু?
অনেক প্রশ্ন রেখেই এই সিরিজের প্রথম গল্পের। অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন, বাকী উত্তর পরের গল্পে।
খুব দ্রুত বইটা শেষ করেছেন লেখক। চাইলে প্রতিটি চরিত্র বিল্ড আপ এ আরো কিছু সময় দেয়া যেত। যেভাবে আশফাক পরিবার কে বেশ অনেকখানি সময় দিয়েছেন।
প্লট আর টুইস্ট বেশ দারুন, বলা ভালো এই গল্পে সব কিছু অধরা আছে। গল্প কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। পাঠক সহজে অনুমান করতে পারবেন না কী ঘটছে, কেন ঘটছে। গল্পে ট্র‍্যানজেশনগুলো বেশ দারুন ছিল। একটা পার্ট শেষ না হতেই অন্য পার্টে চলে যাওয়ার ব্যাপারটা কিছুটা মাইন্ড গেম এর মত। মাথায় প্রশ্ন এটা কী হচ্ছে?
টেকনো থ্রিলার হলেও টেকনোলজির প্রভাব যদি সেরকম নাই বলি সেটা ভুল হবে, আবার যদি বলি সায়েন্স ফিকশন এর মত কঠিন ভাষায় ইলেকট্রনিকস এর কথা, টেকনোলজির কথা সেটাও বেশ ভুল, খুব সাধারন ভাবে গল্পে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে বিষয়টি, পড়ে বুঝতে অনেকের মজা লাগবে, আবার কেউ বুঝবে না। পরবর্তী অংশ পড়বার অপেক্ষায় আছি। শেষ দিকে পড়ে বোঝায় যাচ্ছে অনেক শকিং কিছু সামনে অপেক্ষা করছে।
*বইগুলো পেইজ কাটিং এ আরো সতর্ক হওয়া দরকার ছিল, প্রায় মার্জিন এ চলে গেছে। শেষ প্রান্ত আরো মসৃণ হতে পারত।
দু একটা বানান ভুল চোখে পড়েছে। এ ছাড়া পেইজ কোয়ালিটি, কভার, বাধায় টপ নচ।
*বই এর ফাঁকে ছবি, ছোটবেলায় পড়া বইগুলোর কথা মনে করায়।
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
288 reviews23 followers
August 19, 2024
মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি ফ্রিজিং ভ্যান। ড্রাইভার - হেল্পার স্পট ডেড। পেছনে ফ্রিজিং ইউনিটে মিলল আরও তিনটা বডি ব্যাগে মোড়ানো লাশ। শুধু তাই নয়, একটা ছেঁড়া বডি ব্যাগ মিলল। তার ভেতর কেউ একজন ছিল। সে পালিয়েছে। ক্ষমতাশালী মানুষেরা ঘটনাটাকে ধামাচাপা দিতে চায়। কে ছিল ওই বডি ব্যাগে? অথবা কী ছিল? তাঁকে ধরতে কেন উঠেপড়ে লেগেছে এত মহল?

প্রদীপ স্থানীয় থানার ওসি। তাঁকে বেশ চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে ঘটনাটি নিয়ে। বেচারা অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে কোনো একটা সূত্র খোঁজ করার চেষ্ট�� করছেন। কারণ উপরমহলের সাথে আইজি স্যারের চাপ। খুঁজতে হবে একটা দশ বারো বছরের বাক প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে। সেই প্রদীপের টার্গেট। কিন্তু বাচ্চার সাথে ঘটনার কী সম্পর্ক প্রদীপ কিছুই জানেন না।

ড. আরিফ আসগর খুবই গোপন একটা কক্ষে দাঁড়িয়ে কিছু ভাবছিলেন। তিনি একটা সিক্রেট মিশনে বৈজ্ঞানিক কাজ করেন উপরমহলের একজনের কথায়। ড. আসগরের জিন তত্ত্ব নিয়ে গবেষণায় সাফল্য আছে। কিন্তু একটা গন্ডগোল হয়ে গেছে। এখন সেটা তাঁকেই ঠিক করে দিতে হবে। কিন্তু কীভাবে করবেন তিনি সেটা?

মোতালেব সাহেবের বাড়িতে ঘটেছে অদ্ভুত এক ঘটনা। একটা ছোট্ট দশ বছরের বাচ্চা কীভাবে জানি তাঁর ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খুলে পাতিল ভর্তি মুরগির মাংস খেয়ে চলেছে গপাগপ। মোতালেব সাহেবের বাড়িতে আছে দুই ছেলে তাঁরা ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘুম ভেঙেছে শুধু ওনার এই আওয়াজ শুনে। চোর ভেবে গিয়েছিলেন লাঠি দিয়ে পেটাতে। ফলাফল হিসেবে তিনি ঢুকে গেছেন ফ্রিজের ভেতরে। তাঁকে ছুঁড়ে ফেলেছে ওই ছেলেটা। এটা কীভাবে সম্ভব! ওইটুকু ছেলের এত জোর গায়ে!

মেঘ ছেলেটা আশ্রয় পেয়েছিল আশফাক এবং নাজমা দম্পতির কাছে। মেঘ নামটা তাঁদের দেয়া। মেঘ তেমন কথা ঠিক করে বলতে পারে না। কেমন অন্যরকম বাচ্চা। গায়ে ছিল না কোনো কাপড়। এমন ভাবে রাস্তায় ঘুরছিল। প্রথমে রাখতে না চাইলেও এখন নাজমা প্রবল উৎসাহে কথা শিখিয়ে যাচ্ছেন। নিঃসন্তান এই দম্পতি কী তবে এবার সন্তানের অভাব পূরণ করতে পারবেন?

টুকরো টুকরো অনেক ঘটনা মিলিত হবে ঠিক কোন সূত্রে? সংযোজন বিয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কী উদঘাটন হবে সেই বডি ব্যাগ নিয়ে যাওয়া ফ্রিজিং ভ্যান রহস্য?

√পাঠ প্রতিক্রিয়া √

রাফাত শামসের "অপ্রকৃতস্থ" একটি ছোট উপন্যাসিকা মূলত। প্রকাশিত হয়েছে নয়া উদ্যোগ থেকে। রাফাত ভাইয়ের লেখা পড়েছিলাম আমি মূলত মুদ্রণশিল্প ম্যাগাজিনে। পাশাপাশি পড়ছিলাম এই বইটিও। ওনার লেখার ধরণ সম্পর্কে ধারনা নেই তবে গল্পের প্লট বেশ নতুনত্বের ছোঁয়া।

কিন্তু সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এই বইয়ের বাজে সম্পাদনা আমি বলবো। অনেকগুলো দিক আমি বলতে পারি যেটা আমার চোখে পড়েছে। প্রথমত রয়েছে বানান ভুল। অনেক জায়গাতেই পাওয়া যাবে।

এরপর কিছু কিছু জায়গায় অসম্পূর্ণ লাইন। লিখতে লিখতে অনেকসময় শব্দ লিখতে আমরা ভুলে যাই। লেখকের ভুল হতেই পারে তবে সম্পাদনার সময় এই শব্দগুলো জুড়ে দিলে আসলে সম্পূর্ণ হতো লেখাটা।

নামের ক্ষেত্রে ভুলভাল আছে। দুই জায়গায় দুই নাম। আবার এক লাইনে ওসি প্রদীপ রাস্তায় জনমানুষের চিহ্ন না দেখে অবাক হলেন। পরের লাইনেই আবার লেখা কয়েকজন মানুষ উঁকি দিয়ে দেখছে ঘটনা। এক মূহুর্তে মানুষ কীভাবে এলো এত?

কোনো একটা দৃশ্যপট বদলাতে গেলে সাধারণত দেখেছি পরের পেইজ থেকে শুরু করা হয়। কেউ কেউ অনেকটা বেশী স্পেস দিয়ে শুরু করেন আবার স্টার দেন কেউ কেউ এতে আসলে বোঝার সুবিধা হয়। এই বইয়ে একদম গা ঘেঁষে পরের দৃশ্যপট পাল্টানো হয়েছে। মানে হুট করেই ধরুন ওসির ঘটনা চলছে, নিচে আবার আরেক চরিত্র। এটা কোথা থেকে এলো ভাবতে গিয়ে তখন খেয়াল হলো দৃশ্যপট বদলেছে।

লেখকের গল্পের প্লটে নতুনত্ব আছে আমি আগেই বলেছি তবে প্রচন্ড তাড়াহুড়ো লেগেছে আমার। বিশেষ করে শেষের দিকে। এতটা তাড়াহুড়ো না করে আরো কিছু বাড়তি লাইনে ঘটনা আরো স্পষ্ট বোঝানো যেত।

তবে নয়া উদ্যোগের প্রডাকশন কোয়ালিটি ভালো। এইটুকু বইয়ের ক্ষেত্রেও প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে সবটা জুড়ে বেশ কোয়ালিটি বজায় রেখেছেন।

লেখকের লেখার মান মোটেও খারাপ নয়। তবে আমি আশা করছি উনি ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ করবেন। অবশ্যই শুভকামনা রইলো।

√বইয়ের নাম: "অপ্রকৃতস্থ"
√ লেখক: রাফাত শামস
√ প্রকাশনী: নয়া উদ্যোগ
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books80 followers
July 4, 2023
অনেকগুলো প্রশ্ন মনে জমা হলো বইটা পড়ে। এক এক করে আসি।
১) লেখক বলেছেন বইটা টেকনো থ্রিলার। পুরো বই জুড়ে খুঁজলাম, কিন্তু টেকনো থ্রিলার ট্যাগ দেয়ার কারণ বুঝলাম না। এক জায়গায় এসে দেখলাম লেখক বলছেন বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। তবে?

২) চরিত্রগুলো তেমন করে বিল্ড আপ করা হয়েছে বলে মনে হয়নি। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লাগলো "উপরমহল" চরিত্রটাকেই। এটাকেই যা একটু ফ্লোর দিয়েছেন লেখক। ল্যাবে কী ধরনের কাজ হতো, কেন হতো, উপরমহল কেন সুপার সোলজার তৈরি করতে চাচ্ছেন, সেসব নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই। হয়তো পরের বইতে থাকবে। কিন্তু সূচনা হিসেবে এই বইটায় এগুলো দেয়া দরকার ছিলো বলে মনে হচ্ছে।

৩) প্রদীপ একবার হয়ে গেলো ইন্সপেক্টর, আরেকবার এসপি। লেখকের এই জায়গাটায় পুলিশ বাহিনীর র‍্যাংক নিয়ে আরেকটু ডিটেইলস রিসার্চ করা উচিত ছিলো বলে মনে করি।

৪) আশফাক ও নাজমা দম্পতির কিছু জায়গা খুব অদ্ভুত লাগলো। আশফাক মেঘ নামের চরিত্রটাকে বাড়ি নিয়ে আসবার পর তার স্ত্রী খুব রেগে গেলেন, ছেলেটাকে রেখে আসতে বললেন। কয়েকপাতা পরে আবার দেখলাম সেই নাজমাই মেঘকে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত, আবার আশফাক হয়ে গেলো নির্লিপ্ত।

৫) নাজমাকে দেখলাম মায়ের স্নেহেই মেঘকে পড়াচ্ছেন, স্নেহ করছেন। আবার একটা জায়গায় দেখলাম মেঘ নাজমার প্রতি কুদৃষ্টি দিচ্ছে। এটা একটা বিশাল লেইডব্যাক লাগলো আমার কাছে। মেঘের চরিত্রটা আসলে ঠিকমতো হয় লেখক বোঝাতে পারেননি, নইলে আমি বুঝি উঠতে পারিনি।

৬) বেশ কিছু একশন দৃশ্য আছে। কিন্তু শেষেরটা ছাড়া বাকিগুলো কেমন যেন লাগলো। ভিজুয়ালাইজ করতে পারিনি।

মোটকথা, "টেকনো থ্রিলার" অপ্রকৃতস্থ আমার কাছে খুব একটা আশানুরুপ হলো না। লেখকের লেখার স্টাইল খুব বেশি আগ্রহ জাগাতে পারেনি। জাওয়াদ উল আলমের করা প্রচ্ছদটা সুন্দর।
Profile Image for Umar Faruk Akash.
38 reviews2 followers
July 7, 2023
🔰 বইঃ অপ্রকৃতস্থ (ইলাস্ট্রেটেড ভার্সন)
🔰 লেখকঃ রাফাত শামস
🔰 প্রচ্ছদঃ জাওয়াদ উল আলম
🔰 ইলাস্ট্রেশনঃ সাগর খান এবং রাফাত শামস
🔰 জনরাঃ টেকনো থ্রিলার
🔰 প্রকাশনায়ঃ নয়া উদ্যোগ
🔰 পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২
🔰 মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/-

🔰 কাহিনি সংক্ষেপঃ
গভীর রাতে হাইওয়ের ধারে খাঁদে পড়ে গেল এক কাভার্ড ভ্যান। ড্রাইভার মৃত, ফ্রিজিং ইউনিটে মিলল কয়েকটা বডিব্যাগবন্দী লাশ।
একটা বডিব্যাগ ছেঁড়া, তার ভেতরের 'লাশ'-টা নেই। প্রবল আক্রোশে কে যেন আঘাত করে তুবড়ে দিয়েছে ভেতরের দেয়াল, এমনকি ভারী দরজাও ভেঙে ফেলেছে।
পুরো ব্যাপারটা গোপনীয় রাখতে চাচ্ছে অতি ক্ষমতাধর একটা

কী ছিল সেই বডিব্যাগে?

🔰 পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
'অপ্রকৃতস্থ' বইটি মূলত লেখকের টেকনো থ্রিলার এবং 'সুপারহিউম্যান' সিরিজের প্রথম বই।
মার্টিন এফ টুপার বলেছিলেন, 'একটি ভালো বই হলো বর্তমান ও চিরকালের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বন্ধু।'
বন্ধুহীন ঘরকুনো মানুষগুলো এই কথার মূল্য সবচেয়ে ভালো জানেন। বই মানেই অনাবিল আনন্দ আর ভরপেট আড্ডা। তবে এটাও ঠিক, সবসময় যে বই শিক্ষনীয় বিষয়ে হবে তা উচিত নয়। আনন্দের জন্যেও বই পড়া উচিত।

এই ব্যাপারে হুমায়ুন আহমেদের কথাখানা বেশ লাগে, 'শিক্ষামূলকই যদি লিখতে হতো তাহলে তো পাঠ্যবইই লিখতাম।'
বই পড়েই কখনও সব জানা যায় না। বাস্তবতার উপলব্ধি করতে হয় কিছুটা দেখেশুনে আর কিছুটা কল্পনায়। গল্পের বই সেই কল্পনার জগতকে প্রসারিত করে।

ঠিক তেমনই একটা বই 'অপ্রকৃতস্থ'
সত্যি বলতে, বইটা আসলেই অনবদ্য এবং অদ্ভুত।
অদ্ভুত লাগার কারণও আছে। আমি টেকনো থ্রিলার এর সাথে পরিচিত নই এবং এই বিষয়টা আমার জন্য নতুন কিছুর মতো। এই প্রথম কোন টেকনো থ্রিলার বই পড়লাম।
বইয়ের গল্পটা কিন্ত খুবি আকর্ষণীয় ও বিস্তৃত। বইটিতে দারুণ একটা টেকনোলজি ও সাই-ফাই এর কম্বিনেশন রয়েছে। বইয়ের শেষ দৃশ্য বলে দেয় যে কাহিনি সবে মাত্র শুরু। বইটার সিক্যুয়েল আসবে তাই লেখক বইটিতে গল্পের একটি লে আউট দাঁড় করিয়েছেন মাত্র।
বইটিতে লেখক তার গল্পের সংলাপ ও চরিত্রগুলোকে বেশ দুর্দান্ত ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।

ছোট সাইজের এই বইটি কিন্ত বেশ দ্রুত গতিতেই এগিয়েছে। গল্পতে ঢুকে পড়বেন তো দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টাবেন। সুন্দর এবং গোছানো ছিল। গল্পের প্লট, কাহিনির বুনন বেশ পরিপক্ব লেগেছে।

🔰 স্টোরি টেলিংঃ
বইয়ের গল্পের স্টোরি টেলিং হয়েছে যথাযথ ভাবেই। বেশ দাপুটে প্লট ছিলো বইটার। কিছুকিছু জায়গায় একটু সাধামাটা লাগলেও লেখক তা পরবর্তী পৃষ্টাতেই পুষিয়ে দিয়ে দারুণভাবে বইটাকে এগিয়ে নিয়েছেন লেখক। প্লট মেকিং ও স্টোরি বিল্ডাপ করা হয়েছে সুন্দরভাবে, এছাড়াও বইয়ের সেটিং ও থিম এনালাইসিস ছিলো দারুণ। সাধরণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন।

🔰 লিখনশৈলীঃ
লেখক রাফাত শামস ভাইয়ের লিখনশৈলী অসাধারণ ছিলো। গল্পগুলোতে লেখক দারুণ ডিটেলিং করেছেন।লেখকের প্রকাশভঙ্গী, লিখনশৈলী ও সংলাপ বরাবরই অসাধারণ হয়েছে। খুব সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় তিনি বইটা সাজিয়েছেন।

🔰 নেগেটিভ দিকঃ
বইটি একবসায় শেষ করে ফেলার মতো হলেও সম্পাদনার খানিকটা ঘাটতি আছে কিছু জায়গায়। এছাড়া বইয়ের পেইজ কাটিং এ আরো সতর্ক হওয়া দরকার ছিল, প্রায় মার্জিন এ চলে গেছে। শেষ প্রান্ত আরো মসৃণ হতে পারত।
দু একটা বানান ভুল চোখে পড়েছে। এ ছাড়া পেইজ কোয়ালিটি, কভার, বাধাই একদম টপ নচ।
আশা করি যে জায়গাগুলোতে সম্পাদনার ঘাটতি রয়ে গেছে, সেই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করে নেয়া হবে পরবর্তী সংস্করণে এবং পেইজ কাটিং এর দিকে যত্নবান হবে।

🔰ব্যাক্তিগত মতামতঃ
লেখক সর্বসাকুল্যে চেষ্টা করেছেন বইটিতে নতুনত্ব দেওয়ার এবং বলতে হয় অনেকখানি সফলও হয়েছেন৷ লেখকের এ ধরণের নতুনত্ব নিয়ে আসা আমার মনে হয় পাঠককে বইয়ের জগতে একটি নতুন ধারণার সাথে পরিচয় করে দিবে। সর্বশেষ বলতে চাই বইটা বেশ ভালো ছিলো। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই। বইটাতে পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। পাঠক বইটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত ও উপভোগ্য করবে বলে আমি মনে করি। লেখকের জন্য অসংখ্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো।
'সুপারহিউম্যান' সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের জন্য তীব্র অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Muhammad Abir Hossain.
12 reviews
July 24, 2025
★ Book Review No. 06 ★

বই: অপ্রকৃতস্থ
লেখক: রাফাত শামস- Rafat Shams
জনরা : টেকনো থ্রিলার,
প্রকাশনী: নয়া উদ্যোগ
রেটিং : ৭.৫/১০

সিরিজটি অসম্পূর্ণ। তাই গল্পের মাঝখানে এসে এমনভাবে শেষ হওয়াটা হজম করতে বেশ সময় লেগেছে। বারবার মনে হচ্ছিল, এটা কী হলো!

গল্প যেহেতু এখনো অসম্পূর্ণ, তাই আমি এটিকে পূর্ণাঙ্গ রিভিউ দিতে পারছি না। তবে একটা দিক বেশ খারাপ লেগেছে বইয়ে বানান ও ভাষাগত ত্রুটি। অনেক লাইনে শব্দের ব্যবহার যথাযথ মনে হয়নি। বিষয়টি পাঠের আনন্দে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবুও, গল্পের কনসেপ্ট ও টান টান উত্তেজনা ধরে রাখা হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা বাকি দুই খণ্ডের জন্য।

বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা ছিলো:
একটি ফ্রিজিং ভ্যান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয় মহাসড়কে। ড্রাইভার ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত।
ভ্যানের পেছনে থাকা ফ্রিজিং ইউনিট থেকে উদ্ধার হয় তিনটি বডিব্যাগ। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো একটি বডিব্যাগ ছেঁড়া, যার ভেতরে থাকা কেউ একজন পালিয়ে গেছে।
ঘটনাটি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে প্রভাবশালী মহল। এমনকি স্থানীয় পুলিশকেও রাখা হয় অন্ধকারে।
প্রশ্ন হলো:
কে ছিল সেই বডিব্যাগে?
সে কি মানুষ?
তাকে আটকাতে এতসব আয়োজন কেন?

- Free Review
- Muhammad Abir Hossain
- Finished reading on (04-06-2025)

#অপ্রকৃতস্থ #রাফাতশামস #বাংলা_উপন্যাস #টেকনোথ্রিলার #বাংলা_বই #পাঠকজীবন #বইপোকা #নয়া_উদ্যোগ #বই_রিভিউ #আধুনিকবাংলাসাহিত্য
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.