‘একলা পথে’ এক বিপুলায়তন জীবনের কথা বলে। যেখানে বেদনা, বিষণ্ণতা প্রগাঢ় হয় বারবার নতুন জীবনবোধের অনুসন্ধানে। নম্র হয় যে জীবনবেদনার কাছে, ভালবাসা অমেয় হয়। এখানে লেখক এক নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের আঙ্গিকে দৃশ্যময়তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে উপন্যাসের চিরাচরিত গথিক স্ট্রাকচার এখানে অনুসৃত হয় না। পাণ্ডিত্যের পথকে বর্জন করে যে রবীন্দ্রনাথের ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন, তাঁর সঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকা আর অনুভবের মিল অনেক।
অবশ্য করতলে জেগে ওঠা শীর্ণ রেখার মতো শান্তিনিকেতন, নির্মীয়মাণ বিশ্বভারতী, ইন্দিরা, পিয়রসন, মৈত্রেয়ী দেবী এবং আরও অনেকে এসেছেন জীবনের খণ্ড চিত্রময়তায়। নতুন বউঠান, জ্ঞানদানন্দিনী, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছুটি, এমনকী মিস মার্গারেট নোব্ল বা নিবেদিতাও এই কৃশ, মেদহীন উপন্যাসে, জীবনকে কখনও অনির্বচনীয়, কখনও-বা ভাস্বর করেছেন এমন একজন পথিকের পথচলায়, যিনি আবহমানকালের। সমকালের ইতিহাসকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রক্ষিপ্তভাবে এসেছেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং বিবেকানন্দ। ‘একলা পথে’ হয়তো কোনও ক্যালাইডোস্কোপ, যেখানে চোখ রেখে লেখক শুধুমাত্র নতজানু হতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের কাছেই এক অনন্য, ভিন্নমাত্রার গদ্যময়তায়।
অভিজিৎ চৌধুরীর জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩, মধ্য কলকাতায়। ইংরেজি সাহিত্যে এম এ। পি জি ডি পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট। ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস(এক্সিকিউটিভ)। বর্তমানে তেহট্ট, নদীয়ার বিডিও।প্রকাশিত উপন্যাস ‘মন্থরা’, ‘সমাগত মধুমাস’(১ম ও ২য় খণ্ড), ‘ধর্মান্তর’, ‘ধর্মে আছি জিরাফে নেই’ ইত্যাদি। ছোটগল্পের বই ‘দশটি গল্প’। পেয়েছেন মদনমোহন তর্কালংকার সম্মাননা ২০১৭। ‘মন্থরা’ উপন্যাসটি ওড়িয়া ভাষায় অনূদিত।