নতুন শতাব্দীর সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে আমরা গভীর বিস্ময়ে লক্ষ করছি, মানব সভ্যতা এক অদ্ভুত সংকটের মধ্যে দিয়ে অজানা পথে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু সেই পথের শেষে কী অপেক্ষা করে আছে আমরা জানি না। তথ্যপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক সাফল্যে সমগ্র বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। বিশ্বায়ন আজ আর স্বপ্ন নয়। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিমানুষের মনে একাকিত্ববোধ ক্রমবর্ধমান, পরিবেশ দূষণের অভিশাপে এই পৃথিবী হয়ে উঠছে বসবাসের অযোগ্য। বিশ্বজুড়ে এই অভিসম্পাতের কালো ছায়া আমাদের দেশকেও গ্রাস করেছে। ভারতের সংকট আরও গভীরে। আরও জটিল। ভয়াবহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারিত্ব, সরকারি প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতা এবং দেশব্যাপী হিংসা ও দুর্নীতি এক অতল আবর্তে ভারতবর্ষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা দখলের প্রমত্ততায় দলীয় সংঘর্ষ ও রক্তপাতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার মুখে। এই কঠিনতর সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ অম্লান দত্ত সব কিছু নতুন করে ভাববার প্রয়াসে ব্রতী হয়েছেন। এই গ্রন্থে বিধৃত বারোটি প্রবন্ধে উত্তরণের পথের সন্ধান করেছেন মানুষের প্রতি বিশ্বাস রেখে, শান্তি ও মুক্তির আদর্শে আস্থা রেখে। নতুন শতকের প্রারম্ভে এই গ্রন্থ আমাদের প্রাণিত করবে।
অম্লান দত্ত-র জন্ম কুমিল্লায়, ১৯২৪ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র। ১৯৪৭ সালে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। গান্ধী বিদ্যা সংস্থানের পরিচালনা করেছেন ১৯৭৮-৭৯ সালে। উপাচার্য ছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিশ্বভারতীতে। আমেরিকার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন ও পড়িয়েছেন। গান্ধী সম্বন্ধে বলেছেন অস্ট্রেলিয়ায়, রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে চিন দেশে। আর্থিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার সমস্যা নিয়ে বলেছেন দেশে-বিদেশের নানান জায়গায়। যেমন, জাপানে, ডেনমার্কে, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে। আবু সয়ীদ আইয়ুবের সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন Quest পত্রিকার। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাষ্ট্রসংঘের সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক কমিশনে ১৯৭৯ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে কমলা বক্তৃতামালা প্রদান করেন ১৯৮২ সালে। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম বই : ‘For Democracy’। পরবর্তীকালে বাংলা ও ইংরেজীতে বহু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।