যে-জীবন ছড়িয়ে আছে অন্তর্জগতের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে, সেই জীবনের বহুবর্ণী ঘটনাকে চিত্রায়িত করেছেন অশোক বসু তাঁর পঞ্চাশটি গল্পে।সব কাহিনির ইউপজীব্য মানুষের পাপ ও পতন, প্রেম ও প্রেমহীনতার একক প্রতীতি। সেই প্রতীতি অবশ্যই লেখকের নিজস্ব অনুভূতি এবং ব্যক্তিত্বের স্পর্শযুক্ত। সব গল্পই একটা বিশেষ আখ্যানের উপর দাঁড়িয়ে। স্কেচ ধর্মী বা শাস্ত্র বিরোধী কাহিনি লেখক লেখেননি। হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতি থেকে উৎসারিত আখ্যানগুলি বাহুল্য বর্জিত এবং ঋজুগতিতে এগিয়ে গেছে পরিণামের দিকে। ন্যূনতম চরিত্র সংখ্যা এদের রসোত্তীর্ণ করেছে। রীতির দিক থেকে প্রাধান্য পেয়েছে প্রধানত ঘটনার ব্যাখ্যান। লেখক উত্তরবঙ্গে থাকেন। তাঁর গল্পে নগর কেন্দ্রিক আধুনিক জটিল – জীবনযাত্রার অনুপুঙ্খ ছবির পরিবর্তে মফস্সলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথাই বেশি। গল্পের পরিসর কখনও অতি কথনে দীর্ঘায়িত হয়নি। এক একটি বাস্তব ঘটনাই তাঁর গল্পের আখ্যান বস্তু এবং অবশ্যই তা বাহুল্য বর্জিত। তিনি বাস্তব বাদী, কিন্তু কাহিনিকে বাস্তব ধর্মী করতে শুধু জীবনের অন্ধকার আর হতাশার ছবি আঁকেননি। বহুদিন ধরে জীবনকে দেখেছেন এই প্রবীণ লেখক। জীবনও তার গল্পে বহুভাবে উপস্থিত। সবার ওপরে আছে জীবনের প্রতি তাঁর ভালবাসা। যে ভালবাসা দিয়ে সামান্যকেও সুষমামণ্ডিত করে অসামান্য করতে চেয়েছেন। মানুষের অন্তর্গত মানুষই তাঁর গল্পের বিষয়-আশয়।
অশোক বসুর জন্ম ১৯৩৬, জলপাইগুড়ি শহরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের স্নাতক। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায় ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত। বড়দের জন্যে লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যেও প্রচুর লেখেন। এ ছাড়া বেতারনাটকও লিখেছেন। ১৯৯৭ সালে সর্বভারতীয় বেতার নাটক। প্রতিযোগিতায় বাংলা হাস্যরসাত্মক নাটকে প্রথমস্থান লাভ। রাজ্য সরকারি অফিসে চাকরি করতেন। অবসরজীবন কাটে লেখালেখি করেই।