মুজিবনগর সরকার থেকে হাল আমল অবধি বাংলাদেশ রাষ্ট্র আর প্রশাসনের বিবর্তন ধরা পড়েছে ভেতর থেকে দেখা লেখকের বয়ানে। আকবর আলি খানের ১৫টি লেখা ও ১৫টি সাক্ষাৎকার নিয়ে এই বই। পাঠকপ্রিয় লেখকের লেখার শেষ সংকলন।
Akbar Ali Khan (Bengali: আকবর আলি খান) was a Bangladeshi economist and educationist who served as a bureaucrat until 2001. He was the SDO of Habiganj during the Bangladesh Liberation War, when he decided to join the war. Later he served as an official of the Mujibnagar Government. After the independence he joined back the civil serviceand reached to the highest post of Cabinet Secretary and also worked as a university teacher. His book Porarthoporotar Orthoniti (Economics of Other-minding) has been a popular book on economics à la Galbraith.
আকবর আলি খান যেদিন মারা যান, সেদিন মারা যান ব্রিটেনের রাণীও। আমি বিস্মিত হয়ে মানুষের রাণীকে নিয়ে শোকপ্রকাশ দেখেছিলাম, অথচ আকবর আলি খানের মতো একজন প্রজ্ঞাবান মনীষী এবং মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নিয়ে কমই দেখেছিলাম শোকোচ্ছ্বাস। অথচ বাংলাদেশের সমাজের নানা স্তরেই তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। কর্মক্ষেত্র থেকে সাহিত্যে একজন আমলা এবং সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর বেশ কিছু বই পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এই বইটিতে সংকলিত হয়েছে অপ্রকাশিত প্রবন্ধ এবং সাক্ষাৎকার। নানা বিষয়ে প্রবন্ধ এবং সাক্ষাৎকারগুলো, পড়তে পড়তে হরেক রকম বিষয় খেলে যাচ্ছিল মাথায়। সুখপাঠ্য প্রবন্ধগুলোতে মুজিবনগর সরকার যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাজেট বিষয়ক নানা আলোচনা। এসেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সমস্যা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায়। অন্যান্য বইগুলোতে সাধারণত একটি বিষয় নিয়েই লিখতেন লেখক। একটি বিষয়ের আগাগোড়া ধাপে ধাপে বর্ণনা করে সমস্যা থেকে সমাধান পর্যন্ত এগোতেন এবং সবশেষে পরিশিষ্টে সংযোজিত হত উৎস। কিন্তু এই বইটি যেহেতু তেমন নয়, তাই এই বইয়ের বিবিধ বিষয়বস্তু আলো ফেলেছে সমাজের নানা কোণে, তবে সাহিত্য-শিল্প বিষয়ক কোন প্রবন্ধ এই সংকলনটিতে ছিল না। সাক্ষাৎকার অংশটিও খুবই প্রাণোচ্ছল এবং সমৃদ্ধ। ফারুক ওয়াসিফ, মশিউল আলম প্রমুখদের সাথে আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে আকবর আলি খানের দেশ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবনা। বারবার এসেছে পরবর্তী কাজ সম্পর্কিত কথা। আশ্চর্যের বিষয়, জীবনের প্রায় শেষ দিন পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও মানুষটি ছিলেন কর্মক্ষম, চিন্তা-ভাবনায় সম্পূর্ন সুস্থ। ব্যক্তিগত জীবনে দু:খ ছিল তাঁর। মেয়ের ইচ্ছেতে নিজ আত্মকথায় নিজেদের বংশপরিচয় লিখেছেন বিস্তারিত করে, যদিও মেয়ে তা দেখে যেতে পারেন নি। শেষ সাক্ষাৎকারেও বলছিলেন বাংলার ইতিহাস, উৎপত্তি নিয়ে একটি বই লেখার পরিকল্পনা করেছেন। কতই না ঋদ্ধ হত গ্রন্থটি! আফসোস রয়ে গেল। তবুও যা দিয়ে গেছেন দীর্ঘ জীবনে, তা অমূল্য। অর্থনীতি, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর বইগুলো ভবিষ্যত গবেষকদেরও কাজে লাগবে। এছাড়াও এই বইটিও একটি চমৎকার বই। ব্যক্তি আকবর আলি খানকে তাঁর আত্মজীবনীর পাশাপাশি সাক্ষাৎকার থেকেও অনেকখানি চেনা যায়।
বইটির নাম হওয়া উচিত ছিল ----- 'আকবর আলি খান এর অগ্রন্থিত লেখা ও সাক্ষাৎকার'। আমার ধারণা প্রথমা প্রকাশনী বইয়ের কাটতি বাড়াতে প্রচ্ছদে বড় করে মুজিবনগর সরকার ও বাংলাদেশ কথাটি লিখেছে। বইটি ভালো লাগলেও প্রচ্ছাদের এই বিষয়টি মোটেই ভালো লাগেনি।
১৫ টি করে প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকার রয়েছে বইটিতে। প্রবন্ধগুলোর ভালো দিক হচ্ছে সমস্যার সাথে সাথে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সাক্ষাৎকার গুলোতেও আকবর আলি খানের জ্ঞানগর্ভ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত। দেশ ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা চিন্তা করেন তাদের জন্যই বইটি।