What do you think?


আমরা সেই চারজন
পারিবারিক শৈশব স্মৃতির এক অ্যালবাম যেন এই কবিতাগুচ্ছ। যার মধ্যে মাঝে মাঝেই ছায়া ফেলেছে শোক-কাতর অনুভবমালা।
60 pages, Hardcover
First published January 1, 2020
About the author
Joy Goswami
125 books74 followers ভারতীয় কবি জয় গোস্বামী (ইংরেজি: Joy Goswami নভেম্বর ১০, ১৯৫৪) বাংলা ভাষার আধুনিক কবি এবং উত্তর-জীবনানন্দ পর্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি হিসাবে পরিগণিত।
জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে, তখন থেকেই স্থায়ী নিবাস সেখানে। পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন।
জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়। সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে, তখন থেকেই স্থায়ী নিবাস সেখানে। পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন।
জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়। সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
December 12, 2021
৩.৫/৫
মা,বাবা,ভাই আর জয়- এই চারজনের ছোট্ট সংসার,ছোট্ট ভুবন।১৯৬০ সালে তারা বাসা বেঁধেছিলেন রানাঘাটে।সেই জীবনের স্মৃতি,একে একে বাবা মা ভাইয়ের মৃত্যু,রানাঘাটের টুকরো টুকরো ঘটনা নিয়েই কাব্যগ্রন্থ "আমরা সেই চারজন।"স্রেফ কবিতা হিসেবে পড়লে অনেকেরই ভালো লাগবে না।বইয়ের কবিতাগুলো এককভাবে চলনসই কিন্তু সম্মিলিতভাবে,অন্তর্নিহিত তাৎপর্যে অসাধারণ।
জয় একটানা রানাঘাটে তার পরিবারের বৃত্তান্ত পরিবেশনের বদলে খণ্ড খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তের প্রতি জোর দিয়েছেন।ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলো একসাথে সৃষ্টি করেছে এক অবিচ্ছিন্ন সত্তা।প্রতিটি কবিতাকে সেই অবিচ্ছিন্ন সত্তার অংশ হিসেবে পড়লেই মূল বইয়ের রসাস্বাদন করা যাবে।আলু, বেগুন,বড়ি সেদ্ধ,সরষের তেল মাখা মুসুর ডাল দিয়ে ভাত খাওয়া;বাবার কন্ঠে জ্যোৎস্নারাতে শোনা গান;বর্ষাদিনে খিচুড়ি, বাগানে লাউমাচা করা, বাঁধাকপির গাছ বোনা; উঠোন,হাতপাখার হাওয়া,কয়লা ঘুঁটে নিয়ে মায়ের প্রতিদিনের ভুবন আর চারটি সজীব প্রাণের তুচ্ছ সব আনন্দময় ঘটনা,তীব্র বেদনাময় সব মৃত্যু ক্ষীণকায় কবিতাগুলোর উপজীব্য।জয় কোনো ঘটনার গভীরে যান না,কেবল ছুঁয়ে দ্যাখেন,আরো বেশি জানার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলেন,যেন নিজেকেই বলে যান এইসব দিনরাত্রির চিরায়ত গল্প,
"মায়ের মুখে রাগ মেশানো খুশি
'এত খরচ?কী দরকার ছিল?'
বাবার হাতে নতুন কেনা শাড়ি।"
বাবা বিভোর হয়ে গান গাইছেন,তখন
"চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে
চারটে প্রাণীর একমুঠো জগৎ।"
রানাঘাট,মা,বাবা,সহোদর,অভাব,বেড়ে ওঠা,কিছু অম্লমধুর স্মৃতি,একে একে প্রিয়জনের মৃত্যু,নিঃসঙ্গতা-এই তো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন গল্প।
মা,বাবা,ভাই আর জয়- এই চারজনের ছোট্ট সংসার,ছোট্ট ভুবন।১৯৬০ সালে তারা বাসা বেঁধেছিলেন রানাঘাটে।সেই জীবনের স্মৃতি,একে একে বাবা মা ভাইয়ের মৃত্যু,রানাঘাটের টুকরো টুকরো ঘটনা নিয়েই কাব্যগ্রন্থ "আমরা সেই চারজন।"স্রেফ কবিতা হিসেবে পড়লে অনেকেরই ভালো লাগবে না।বইয়ের কবিতাগুলো এককভাবে চলনসই কিন্তু সম্মিলিতভাবে,অন্তর্নিহিত তাৎপর্যে অসাধারণ।
জয় একটানা রানাঘাটে তার পরিবারের বৃত্তান্ত পরিবেশনের বদলে খণ্ড খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তের প্রতি জোর দিয়েছেন।ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলো একসাথে সৃষ্টি করেছে এক অবিচ্ছিন্ন সত্তা।প্রতিটি কবিতাকে সেই অবিচ্ছিন্ন সত্তার অংশ হিসেবে পড়লেই মূল বইয়ের রসাস্বাদন করা যাবে।আলু, বেগুন,বড়ি সেদ্ধ,সরষের তেল মাখা মুসুর ডাল দিয়ে ভাত খাওয়া;বাবার কন্ঠে জ্যোৎস্নারাতে শোনা গান;বর্ষাদিনে খিচুড়ি, বাগানে লাউমাচা করা, বাঁধাকপির গাছ বোনা; উঠোন,হাতপাখার হাওয়া,কয়লা ঘুঁটে নিয়ে মায়ের প্রতিদিনের ভুবন আর চারটি সজীব প্রাণের তুচ্ছ সব আনন্দময় ঘটনা,তীব্র বেদনাময় সব মৃত্যু ক্ষীণকায় কবিতাগুলোর উপজীব্য।জয় কোনো ঘটনার গভীরে যান না,কেবল ছুঁয়ে দ্যাখেন,আরো বেশি জানার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলেন,যেন নিজেকেই বলে যান এইসব দিনরাত্রির চিরায়ত গল্প,
"মায়ের মুখে রাগ মেশানো খুশি
'এত খরচ?কী দরকার ছিল?'
বাবার হাতে নতুন কেনা শাড়ি।"
বাবা বিভোর হয়ে গান গাইছেন,তখন
"চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে
চারটে প্রাণীর একমুঠো জগৎ।"
রানাঘাট,মা,বাবা,সহোদর,অভাব,বেড়ে ওঠা,কিছু অম্লমধুর স্মৃতি,একে একে প্রিয়জনের মৃত্যু,নিঃসঙ্গতা-এই তো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন গল্প।
August 18, 2025
এ বছর কবিতা পড়া হচ্ছে বেশ৷ কবিতা আর ছোটগল্পেই যা দাত বসাতে পারছি, উপন্যাস রোচে না পাতে।
জয় গোস্বামীর কবিতা বোধ করি সবচেয়ে বেশি পড়া হলো। ভালোই লাগছে বলা বাহুল্য।
জয় গোস্বামীর কবিতা বোধ করি সবচেয়ে বেশি পড়া হলো। ভালোই লাগছে বলা বাহুল্য।
June 30, 2022
" শোকের মানে কী?
এমন একটা ঝড়
যার ভেতরে বাতাস বইছে না "
কবিতাটার নাম "ঝড়"। জয় গোস্বামী'র লেখা। কবি, তার ভাই,বাবা মা মিলে উঠে এসেছেন কলকাতার রানাঘাট নামক জায়গায়। সেখানে তাদের দিন কাটছে। দিনের মত দিন কেটে যাচ্ছে, সাথে এক এক করে নিয়ে গেল কবি'র বাবা,মা,ভাইকে। একসাথে এসেছিল চারজন,বাকি একজন। স্বজন হারানোর বেদনা শুধু হারালেই অনুভব হয়। প্রিয় জন হারানোর বেদনা অসীম,সেই অনন্ত বেদনা কবিকে ছুঁয়ে ছিল। সেই বেদনার্ত হৃদয়ের তীব্র আর্তনাদ প্রকাশিত হয়েছে কবিতায়। এত চমৎকার ভাবে কবিতাগুলো লেখা,ভেতরটা একদম ছুঁয়ে যাচ্ছিল। বইয়ের শেষে একটা গদ্য ছিল,সেটা পড়তে গিয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারি নি। কি অসীম শোক একটা মানুষ পেতে পারে,আহা।
কবি জানে এই হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলো কে আর বাস্তবে পাওয়া যাবে না। তাই তো তাদের তিনি অমর করে রেখেছেন তার কবিতায়।
চারজনের অভাবী সংসার
বাচ্চা দুটো বুঝতো না কিছুই
আনন্দের আর সীমা নেই তাদের
আজকে সেই চারজনকে আমি
আমার ভাঙা কলম দিয়ে ছুঁই
দেখি আবার হাট বসেছে চাঁদের
এমন একটা ঝড়
যার ভেতরে বাতাস বইছে না "
কবিতাটার নাম "ঝড়"। জয় গোস্বামী'র লেখা। কবি, তার ভাই,বাবা মা মিলে উঠে এসেছেন কলকাতার রানাঘাট নামক জায়গায়। সেখানে তাদের দিন কাটছে। দিনের মত দিন কেটে যাচ্ছে, সাথে এক এক করে নিয়ে গেল কবি'র বাবা,মা,ভাইকে। একসাথে এসেছিল চারজন,বাকি একজন। স্বজন হারানোর বেদনা শুধু হারালেই অনুভব হয়। প্রিয় জন হারানোর বেদনা অসীম,সেই অনন্ত বেদনা কবিকে ছুঁয়ে ছিল। সেই বেদনার্ত হৃদয়ের তীব্র আর্তনাদ প্রকাশিত হয়েছে কবিতায়। এত চমৎকার ভাবে কবিতাগুলো লেখা,ভেতরটা একদম ছুঁয়ে যাচ্ছিল। বইয়ের শেষে একটা গদ্য ছিল,সেটা পড়তে গিয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারি নি। কি অসীম শোক একটা মানুষ পেতে পারে,আহা।
কবি জানে এই হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলো কে আর বাস্তবে পাওয়া যাবে না। তাই তো তাদের তিনি অমর করে রেখেছেন তার কবিতায়।
চারজনের অভাবী সংসার
বাচ্চা দুটো বুঝতো না কিছুই
আনন্দের আর সীমা নেই তাদের
আজকে সেই চারজনকে আমি
আমার ভাঙা কলম দিয়ে ছুঁই
দেখি আবার হাট বসেছে চাঁদের
February 10, 2026
এত বেশি আদুরে কবিতা গুলো! 💙 কেমন মন কেমনের গল্পগুলো! কান্না হাসির এই তো জীবন। কান্না এসে পড়েছে বইটা পড়ে।
শোকের মানে কী?
এমন একটা ঝড়
যার ভেতরে বাতাস বইছে না
শোকের মানে কী?
এমন একটা ঝড়
যার ভেতরে বাতাস বইছে না
Displaying 1 - 4 of 4 reviews





