অমৃতা ও তার বন্ধুরা। ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, পুরনো রীতি আর নতুন প্রয়োজনের মাঝখানে প্রাণপণে ধরে আছে হাত। সেই কেউ গতানুগতিকের থেকে ছিটকে গেছে ভিন্ন বৃত্তির টানে। কেউ চাকরি করছে, কেউ চাকরি খুঁজছে, কেউ ভাবছে খুঁজবে। কারও বিয়ে হয়েছে, কেউ বিয়ে করছে, কেউ বিয়ে করবে। একসময়ের সৌদামিনী-মৃণালিনী বা তার পরেকার নমিতা-রমলাদের থেকে কি আলাদা ওদের জীবন? যদিবা আলাদা হয়, আলাদা কীসে? এ স্বাতন্ত্র কিপ্রকরণের, না পরিস্থিতির, না চরিত্রের? কোথায় এর আধুনিকতা? সবটাই কি আদৌ আধুনিক? উত্তর আধুনিক? না যুগ-যুগান্তের সামান্য সূত্রও কিছু আছে তাতে?অমৃতা আর ওর বন্ধুরা কি আগের থেকে বিপন্ন? কেউ কেউ তুলোর বাক্সে আঙুরের মতো নিরাপদ, কেউ কেউ দৃঢ়চেতা আবার কারও কারও স্বাবলম্বন নেতৃত্বই নিরুপায়ের। তবু যখন ঝড় আসে, ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় কাঁপিয়ে দিয়ে যায় পায়ের তলার মাটি তখন আত্মসচেতনতা ও সমর্পণের কী অনুপাত ব্যবহৃত হয় তাদের জীবনে? মননে? চারিত্রে? জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে জীবনগ্রন্থি। এই দুর্বোধ্য জটিলতার মোকাবিলা কীভাবে করে ওরা? বাণী বসুর কলমে উন্মোচিত তরুণ প্রজন্মের আশ্চর্য কাহিনী।
Bani Basu is a Bengali Indian author, essayist, critic and poet. She was educated at the well-known Scottish Church College and at the University of Calcutta.
She began her career as a novelist with the publication of Janmabhoomi Matribhoomi. A prolific writer, her novels have been regularly published in Desh, the premier literary journal of Bengal. Her major works include Swet Patharer Thaala (The Marble Salver), Ekushe Paa (twenty One Steps), Maitreya Jataka (published as The Birth of the Maitreya by Stree), Gandharvi, Pancham Purush (The Fifth Man, or Fifth Generation?) and Ashtam Garbha (The Eighth Pregnancy). She was awarded the Tarashankar Award for Antarghaat (Treason), and the Ananda Purashkar for Maitreya Jataka. She is also the recipient of the Sushila Devi Birla Award and the Sahitya Setu Puraskar. She translates extensively into Bangla and writes essays, short stories and poetry.
Bani Basu has been conferred upon Sahitya Academy Award 2010, one of India's highest literary awards, for her contribution to Bengali literature.
নিজের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বইটি আনন্দ থেকে কিনেছিলাম..বাণী বসুর লেখা বই এই প্রথম পড়লাম. বেশ ভালোই লাগলো. বাস্তব জীবন ভিত্তিক গল্প পুরো. কলকাতা শহর কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন নারীর গল্প এই "অমৃতা"।😌
যাই হোক এবার আসা যাক পাঠ প্রতিক্রিয়া তে, গল্পের নাম "অমৃতা" হলেও এটা শুধু অমৃতার গল্প নয়. এখানে আছে আরোও অনেক মেয়ের গল্প . লাবনী, dr রম্ভা , শিবানী , দোলা , শম্পা , জয়িতা এর গল্প তার সাথে আছে নায়ক অরিন্দম ঘোষ আর ভিলেন অরিসুদন গোস্বামী. অমৃতার বয়স তখন ২১ /২২ তার মা এর শারীরিক অবস্থা খারাপ এর জন্য তার বিয়ে ঠিক করা হয় এক ইঞ্জিনিয়ার যুবক এর সাথে , তার বয়স ৩২ , অরিসুদণ গোস্বামী. তিন বছরের প্রেম হীন বৈবাহিক জীবন. অমৃতা বাংলা এর ছাত্রী পড়াশোনা এর পাশাপাশি শশুর বাড়ির যাবতীয় কাজ তাকেই করতে হতো. এরমই চলতে থাকে ৩ বছর . এবং ঠিক এই সময়েই অমৃতা গর্ভবতী হয় তার এবং অরিসুদন এর সন্তান. এই কথা তার শশুর বাড়ির লোকজন জানতে পারলে অমৃতা কে খুন করার চেষ্টা করে তারা. তারপর আসল গল্প শুরু হয়. ভালো দিক : ১) নারী শক্তি কে highlight করা হয়েছে. ২) ২৩ বছর বয়সে ডিভোর্স হওয়া মানে এই না যে তার জীবন শেষ হয়ে গেল, "ডিভোর্স ইস জাস্ট এ নরমাল থিং" ৩) বিবাহিত জীবন মানেই বিশাল প্রেম আছে এমন সবসময় না এটা কে খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে "সম্পর্ক টা শুধু সমঝোতার" ৪) আর লেখিকার লেখার ধরন সত্যিই প্রশংসার যোগ্য. ৫) অরিন্দম ঘোষ আর আমৃতার নিশব্দ প্রেম . যদিও সেটি কোনো সম্পর্ক এর কোনো নাম পেল না. ৬) and plot টা জমতে বেশী সময় লাগবে না 😊
এবার কয়েকটা খারাপ দিক বলি .খারাপ মানে বাস্তবে এই গুলি আমরা দেখতে পাই অবশ্য কিন্তূ পড়ার সময় এই গুলো আমার খুব খারাপ লেগেছিল
১) একটা মহিলা সে university professor হলেও তার স্বামীর কাছে সে একটা "bitch"🤷🏻♀️ ২) বিধবা হলে সে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে যেতে পারবে না .🙄 ৩) dr রম্ভা সে নিজেও কিন্তু সংসার সামলানোর জন্য সে নিজের চাকরি ছেড়ে দিল 😬 ৪) দোলা , বিয়ের আগে গর্ভবতী হয়ে গেছিল বলে তার মা বাবা সেই ছেলেটির সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেয়. যেটা পরবর্তী কলে একটা ভুল সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখতে পাই আমরা ।🤦🏻♀️ ৫) শারীরিক অসুস্থতার জন্য মেয়ের বিয়ে যদি দেখে যেতে না পারে সেই ভয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে অমৃতার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, যেটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল ।🤦🏻♀️🤦🏻♀️
কিছু প্রশ্ন এর উত্তর বইটি তে দেওয়া নেই পাঠকের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ১) অরিসুদন কেন অমৃতা কে খুন করার চেষ্টা করেছিল ? 🤔২) dr রঞ্জন আর রম্ভা কি আর কলকাতা ফিরে আসবে ? তারা হঠাৎ বোম্বে কেন চলে গেল ? ৩) অরিন্দম কি সত্যিই লাবনীর সাথে বিয়ের পর ও অমৃতা কে ভালোবাসতো ? ৪) টুটুল কে জন্ম দেবার পর অমৃতার জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু বলা নেই .
মোটের উপর বইটি ভালোই । যদি নারীদের জীবন সম্পর্কে বিষদ জানতে চান তাহলে এই বইটি আপনার জন্য . আমি নিজে নারী হয়েও অনেকে কিছু নতুন জানতে পারলাম এই বই পড়ে. 😊😊
বাণী বসুর পরিচিত ছন্দে লেখা বাস্তবমুখী উপন্যাস অমৃতা। অমৃতাকে কেন্দ্র করে তো বটেই পাশাপাশি তার বন্ধু বান্ধবীদের নিয়েও কাহিনী এগোতে থাকে। পড়তে পড়তেই লেখিকা অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করেন। অমৃতার সংগ্রাম, সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তার নিজেকে এক নতূন স্বত্তায় আবিষ্কার করা, মন ছুঁয়ে যায়। কিন্তু তবু ফাঁক রয়ে গেলো শেষটায়। শেষটা একেবারেই ভালো লাগলো না, সারা বইয়ের ভালো লাগাটা কিছুটা হলেও শেষটায় এসে নষ্ট হয়ে যায়, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবু মাত্র ১৭২ পৃষ্ঠার বইটি নেহাত পড়ার অযোগ্য যে তা তো নয়ই, বরং এর বিষয়বস্তু বর্তমানে ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। সবাইকে পড়ে দেখার জন্য অনুরধ রইলো।
বুকের ভেতরের অনেক সংশয় কাটিয়ে দিয়েছে এই বই। বাণী বসু আমার বরাবরের পছন্দের লেখিকার তালিকায় থাকেন। জানি বই হাতে তুলে নিলে ভালই লাগবে। জীবনের জটিলতার থেকে ছুটি পেতেই এই বই খুলে বসা। হঠাৎ করেই অনেক গুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলো। কাহিনী অমৃতাকে ঘিরেই এগোয়। একটা মেয়ে ধীর চিত্তে একের পর এক বাঁধা কাটিয়ে ওঠে। অথচ কোনোটার জন্যই সে দায়ী নয়। পারিপার্শ্বিক সমাজ, নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সব কিছুর মধ্যেও জটিলতার জালে সে একাই জড়িয়ে পড়েছে বারবার। আবার লড়াই করে ফিরে এসেছেও একাই। প্রতিবাদও করেছে। সবই তার নিঃশব্দ অথচ দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে। হার মেনে নেয়নি। দুঃখ উজাড় করে দেয়নি। একা লড়ে গেছে। ভবিতব্য তাকে বারবার তলানিতে টেনে নামালেও সে তা মেনে নেয়নি। কিন্তু তাকে অবহেলাও করেনি। অবিচল থেকেছে। 'This will pass' - এভাবেই হয়তো এগিয়ে যেতে হয়!!
অবিরত লড়াই করে চলা এক মেয়ে অমৃতা। শৈশবে মায়ের অসুস্থতার কারণে ছোট্ট হাতে তাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল। বাইশ বছর বয়সে, স্নাতকোত্তর পড়তে পড়তে আজও একই ভাবে তাঁকে শ্বশুরবাড়ির সব দায়িত্ব করে যেতে হয়। সংসারের সমস্ত কাজকর্ম সেরে, কোনরকমে আধপেটা খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেত। সবদিন খেতে পেত না ঠিকমত, এম এ ক্লাসের পড়া করার সময় পেত না সে। তবু চেষ্টা করত মানিয়ে নিতে। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সেইদিন যেদিন জোর করে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে তার সুস্থ স্বাভাবিক গর্ভস্থ শিশুটিকে নষ্ট করে ফেলতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে অমৃতার জীবন সংশয় রয়েছে জেনেও এই কাজ করাতে যান স্বয়ং তার স্বামী, শ্বশুর- শাশুড়ি।
আর মেনে নেওয়া যায়নি। তখন মেধাবী ছাত্রী অমৃতা, দায়িত্বশীলা কন্যা অমৃতা ও ধৈর্যশীলা গৃহিণী অমৃতাকে ছাপিয়ে গিয়ে স্বমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়ায় ‘মাতৃরূপী অমৃতা'। তারপর অমৃতাকে খুঁজতে খুঁজতে বয়ে চলে কাহিনী। সমান্তরাল ভাবে চলে অমৃতার বন্ধু তিলক, দোলা, শম্পা, লাবনী, অরিন্দম ও ডাক্তার কার্লেকরের গল্প। খুব সৎ স্বীকারোক্তি করতে গেলে বলব যে গল্পের প্রথম কয়েক পাতা পড়ে ভালো লাগছিল না। একটা নেতিবাচক আবহাওয়া অনুভব করেছি। কিন্তু ধৈর্য ধরে আরো কয়েক পাতা পড়ার পর, যখন অমৃতা হারিয়ে যায়, তারপর থেকে বেশ উৎসাহ উত্তেজনা বোধ করছিলাম। এরকম মনে হচ্ছিল-
কোথায় গেল অমৃতা? কে তাকে পালাতে সাহায্য করলো?
সে কার বাড়ি যেতে পারে?
সে কি পারবে একা সন্তান জন্ম দেওয়া ও একসাথে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে?
সেই উত্তেজনায় এক টানে পড়ে ফেলেছি বাকি গল্প।
তবে আরো দুটি কথা আছে। আমি যদি আরেকটু বেশি বয়সে পড়তাম তাহলে হয়ত আরেকটু ভালো লাগত। আর গল্পের শেষে অমৃতা সফল হলেও সেখানে দোলা ও ডাক্তারের গল্পটা যেন শেষ হল না। তাই কিছুটা অতৃপ্তি থেকে গেল।
এখানে কাহিনীর মুখ্য চরিত্র যেহেতু একজন নারী, এবং লেখিকা স্বয়ং নারী, তাই সবমিলিয়েই এই উপন্যাসে মেয়েদের খুব ছোট ছোট অনুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। এমন সব কথা যেগুলো আমরা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের মা, স্ত্রী, মেয়ে, বান্ধবী ওদের বলি, কিন্তু ব্যাপারগুলো গভীর ভাবে ভেবে দেখি না। তা ছাড়া সাংসারিক জীবনের সব বাঁধা পেরিয়ে অমৃতা একসাথে মা ও ছাত্রীর ভুমিকা পালন করেই আমাদের প্রেরণা দিয়ে চলেছে। সেই ব্যাপারগুলোই আমার জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল।
A nicely written well descriptive book by Bani Basu. This was my first read by her, very progressive in her thoughts. The best part is Amrita is not led by the conventions of the society she emerges as an independent woman free of all ties of the societal norms and regulations.