ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত। বিহারের এক ছোটো এস্টেটে শখের চাকরি নিয়ে এল সদ্য পাস করা বাঙালীবাবু। কৃষক আন্দোলনের ঢেউ এসে পৌঁছল সেখানেও, টলে উঠল এতদিনের শাসনের ভিত। শুরু হল ভয়ংকর মৃত্যুমিছিল। এ কি তাহলে রাজাজি আর দেওয়ানজির তরফে শাসন বজায় রাখার মরিয়া চেষ্টা? নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই এস্টেটের ভয়ানক অতীত? কী সত্য জানা গেল অবশেষে? ইতিহাস আর মানবমনের অলিগলিতে ছুটে চলা এক অন্যরকম অন্ধকারের আখ্যান – বাঘনখ।
কিছু-কিছু বই রিভিউ করা খুব কঠিন হয়। এই বইটি সে-রকমই। এর বিষয়বস্তু ব্লার্বেই দেওয়া আছে। কিন্তু সহজ গদ্যে লেখা এই নাতিদীর্ঘ লেখাটির মধ্যে ষড়রিপুর সবটুকু নির্যাস যে কতখানি মুনশিয়ানায় মেশানো হয়েছে, তা বুঝতে গেলে আপনাকে বইটি পড়তে হবে। আর তারপরেই বাঘনখ আপনাকে একেবারে চিরে ফেলবে! এ আসলে হিংস্রতা আর অন্ধকারের গল্প— যা অতীতের তীর থেকে বর্তমানের কাঁধে শুধু দীর্ঘশ্বাসই ফেলে না, জড়িয়ে ধরে টেনে নেয় নিজের মধ্যে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস— যেহেতু গত শতাব্দীতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সন্ধিক্ষণ এর পটভূমি। কিন্তু বাস্তবে এটি গথিক আবহে ঘোরতর মনস্তাত্ত্বিক নোয়া কাহিনি। এতে আলো নেই, আকাশ নেই; আছে শুধু রক্তলাল অন্ধকার। একবার পড়লে একে আপনি মনে রাখতে বাধ্য হবেন— ইচ্ছেয় হোক, বা অনিচ্ছেয়। তবু চার তারা কেন? তার কারণ দুটি। প্রথমত, শারদীয়ায় প্রকাশকালে এর সঙ্গে ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের যে-সব অসামান্য অলংকরণ ছিল, তারা এই বইয়ে অনুপস্থিত। বইটি একেবারেই নিরাভরণ হয়ে পড়েছে তার ফলে। দ্বিতীয়ত, আশা করেছিলাম যে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় লেখক এর পরিণতি অংশটিকে পরিবর্ধিত করবেন, যাতে অমন শ্বাসরোধী অবস্থায় থেমে যাওয়া ব্যাপারটা আরেকটু... ঠিকঠাক হয়। তা করা হয়নি এতে। তবু বলব, ডার্ক ফিকশনের ভক্তদের কাছে এই বই একেবারে অবশ্যপাঠ্য। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।