এরকুল পোয়ারো আর মিস মার্পল ছাড়া আগাথা ক্রিস্টির আর কিছু পড়া হয়নি। পার্কার পাইন-এর নামই শুনিনি কোনদিন। লাইব্রেরিতে বই ঘাঁটছিলাম, মেয়ে তার নিজের জন্য একটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিডসের পুরানো কপি বাগিয়ে (না, সে বই পড়তে পারে না, ঐ কপিটার প্রচ্ছদে একটা বেলুগা তিমির ছবি আছে, সেটা তার খুব পছন্দ) আরেক হাতে একটা পেপারব্যাক এনে বলল--ফর বাবা। যেহেতু হিজিবিজি লেখা, সে নিজের বুদ্ধিতে বুঝে নিয়েছে যে, এরকম বিরক্তিকর কিছু বাবা-ই পড়বে। হাতে নিয়ে দেখি ক্রিস্টি'র 'পার্কার পাইন ইনভেস্টিগেটস'। ফ্ল্যাপে লেখা, পার্কার পাইন কোন গোয়েন্দা নন, সরকারি দপ্তরে পরিসংখ্যান বিভাগে চাকরি করতেন, সেখান থেকে তার অভিজ্ঞতাবলে ধারণা হয়েছে, জগতের সকল মানুষের সুখের অভাবকে স্বভাবচরিত্র অনুযায়ী পাঁচটি মূল ধারায় ভাগ করা চলে। আর একবার ঠিক জায়গায় ক্লাসিফাই করে ফেলতে পারলেই তার অ-সুখের সমাধান করা সম্ভব। তিনি অপরাধের নয়, বরং হৃদয়ের সমস্যার কারবারি। দ্য টাইমস-এ তার এই বিজ্ঞাপন দেখেই লোকজন তার সাথে যোগাযোগ করে, এবং যৌক্তিক সম্মানীর বিনিময়ে তিনি সেসব সমস্যার সমাধান করে দেন। কৌতুহল আমারও হলো, কাজেই নিয়ে নিলাম। ঠকিনি। পার্কার পাইন যেমন অসুখী স্বামী বা স্ত্রী'র হৃদয়ের সমস্যার সমাধান করেন, তেমনি কোন অপরাধের কারণে কেউ মনোকষ্টের শিকার হলে সেই অপরাধের সমাধানও করেন, অর্থাৎ অনিচ্ছাসত্ত্বেও এরকুল পোয়ারো হয়ে যান। চরিত্র এবং আচরণে তার সাথে পোয়ারোর মিল আছে বলা যায়। দেখতে তিনি সাধারণ, তবে তার সহজ কিন্তু দৃঢ় আচরণে সবার মাঝে ভরসা আসে। সহজেই মিশতে পারেন, ওদিকে দারুণ ঠাণ্ডা হিসেবি মাথা, দূরদ্রষ্টা তো বটেই। আত্মবিশ্বাসও প্রবল। সব মিলিয়ে, পোয়ারোর ভয়াবহ খুনখারাপীর মাঝে পার্কার পাইন খানিকটা মুক্ত হাওয়া বলা যায়। সত্যজিতের ফেলুদা আর শঙ্কুর মাঝে যেমন তারিণীখুড়োর কথা প্রায়ই কারো মনে থাকে না, পার্কার পাইনের ভাগ্যেও তা-ই জুটেছে মনে হয়। আমার রেটিং একটু উদারভাবে চার। ক্লাসিক কোজি ক্রাইম (অথবা এক্ষেত্রে অনেক জায়গাতে ক্রাইম সেভাবে নেই, রহস্য আছে) বা মিস্ট্রি ছোটগল্প যারা পছন্দ করেন, কোন এক শীতের রাতে লেপমুড়ি দিয়ে পড়ার জন্য উপযুক্ত বই।