প্রথম ট্রেকিং ১৯৯৩ সালে। আর সেই ট্রেকিং থেকেই পাহাড়ের প্রেমে পড়া। এরপর অসংখ্য ট্রেকিং আর পর্বতাভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন দেবাশিস বিশ্বাস। ২০১০ সালের ১৭ মে প্রথম অসামরিক বাঙালি হিসাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় তাঁর উজ্জ্বলতম কীর্তি। দীর্ঘদিনের জুটি প্রখ্যাত পর্বতারোহী বসন্ত সিংহ রায়কে সঙ্গী করে এরপর ২০১১ সালের ২০ মে প্রথম অসামরিক ভারতীয় হিসাবে পৌঁছেছেন কাঞ্চনজঙ্ঘার স্বর্ণশিখরে। ওই দুই অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেবাশিস বিশ্বাসের গ্রন্থ ‘এভারেস্ট শীর্ষে বাঙালি’ ও ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা স্বর্ণশিখরে বাঙালি’ ইতিমধ্যেই পাঠকচিত্তজয়ী। সম্প্রতি ২০ এপ্রিল, ২০১২ প্ৰথম অসামরিক ভারতীয় হিসাবে দেবাশিস আর বসন্ত জয় করে এলেন বিপদসংকুল, 'Killer Mountain' হিসাবে পরিচিত ২৬,৫৪৫ ফুট উচ্চতার অন্নপূর্ণা-১। মৃত্যুঞ্জয়ী অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত হল দেবাশিস বিশ্বাসের ‘অপরূপা অন্নপূর্ণা’। অভিযানের উত্তেজনা, বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে অসম লড়াই, নিশ্চিত মৃত্যুর ছোবল থেকে কপালজোরে বেঁচে যাওয়া ও অবশেষে শিখর আরোহণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা ছড়িয়ে আছে বইটির পাতায় পাতায়। পাঠকদের উপরি পাওনা মনভোলানো রঙিন ছবি ও অভিযানের রঙিন ডিভিডি।
দেবাশিস বিশ্বাস-এর জন্ম অসমের গৌহাটিতে। চার ভাই, এক বোনের মধ্যে দেবাশিস দ্বিতীয় সন্তান। শৈশবেই পিতার বদলির চাকরির জন্য নানা জায়গা ঘুরে কৃষ্ণনগরে আসে তাঁর পরিবার। সেখানে এ ভি হাইস্কুলে বিদ্যালয়জীবন শেষ করে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক। নদীয়া গ্রামীণ ব্যাঙ্কে চাকরির পর যোগ দেন আয়কর বিভাগে, ইন্সপেক্টর পদে৷ পর্বতারোহণ শুরু ১৯৯৫ থেকে, মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ কৃষ্ণনগরের সঙ্গে। পর্বতারোহণে তাঁর মুখ্য প্রেরণা ছিলেন স্বর্গত পিতা জিতেন্দ্রনাথ। বাড়ি ব্যারাকপুর শহরের উপকণ্ঠে পলতায়। বর্তমান নিবাস বিধাননগরের তেলেঙ্গাবাগানে আয়কর বিভাগের সরকারি আবাসনে। স্ত্রী মুক্তি কলকাতা বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ায় কর্মরতা। দুই ছেলে শান্তনু ও দেবাংশু।