কলকাতার জেলেপাড়ার ও কাঁসারি পাড়ার সং তৎকালীন নামীদামি পত্রপত্রিকার পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল। এইসব সঙেদের চেয়ে বহু প্রাচীনতার সাক্ষ্যবহনকারী হাওড়ার গ্রামাঞ্চলের সঙেদের কথা আজও অন্ধকারেই রয়ে গেছে। শহর হাওড়ার কোনও কোনও জায়গার সঙের গানের লিখিত চটি বইয়ের কথা বিভিন্নসূত্রে জানা গেলেও যত্ন ও সংরক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে গেছে বহুদিন আগেই। এইসব সঙের গানে, সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতির ওপরে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের কশাঘাত যেমন থাকত তেমনি অগ্নিযুগের সময় ইংরেজ শাসকদের প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ করে গান বাঁধা হয়েছিল এখানে। এই ধরনের সঙের গানকে নিষিদ্ধ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল হাওড়ায়। ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের পর এখানকার সং বেরনো বন্ধ হয়ে যায়। দেবাশিস ঘোষের এই গ্রন্থে যেমন উজ্জ্বল হয়ে আছে আঞ্চলিক সংস্কৃতির উদ্ধার, তেমনই আছে পরাধীন দেশের লজ্জা, স্বদেশি আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তেতাল্লিশের মন্বন্তরের এক করুণ ইতিহাস।
দেবাশিস ঘোষ-এর জন্ম ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, হাওড়ায়। বিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশনে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রথম চাকরি হিন্দুস্থান টাইমসের বিপণন বিভাগে। পরে বিভিন্ন সংবাদপত্র সংস্থায় বিজ্ঞাপনের কাজ। সাংবাদিকতার হাতেখড়ি আনন্দবাজার পত্রিকার হাওড়া ক্রোড়পত্রে। আকাশবাণীর সংবাদ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ছোটদের জন্য গল্প লিখেছেন আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় আনন্দমেলা এবং শুকতারা-য়। আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বই পড়া ভালবাসেন।