৩.৫/৫
আচ্ছা,দেশটা কেমন চলছে?
"তার পর, সমস্ত পথ একটাও কোনো কথা না বলে
আমরা হাঁটতে থাকি, হেঁটে যেতে থাকি
এক দেশ থেকে অন্য দেশে
এক ধর্ষণের থেকে আরো এক ধর্ষণের দিকে।"
(দেশান্তর)
নিজের জীবন কেমন চলছে?
"কোনো গুপ্তঘর নেই। অজ্ঞাতবাসেও নিরাশ্রয়।
দেয়ালে দেয়ালে লেগে বারে বারে ফিরে আসে স্বর।
কেবলই ভঙ্গুর হাতে খুঁজেছ অলীক বরাভয়
দেখেছ দিনের শেষে পড়ে আছে মুন্ডুকাটা ধড়।
জানতেও পারোনি শুধু কখন যে শুরু হলো ক্ষয়
নিজেকে নকল করে বেঁচে আছো বছর বছর।"
(ধড়)
সবকিছু ভেঙে পড়ছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে দেশ থেকে তাড়ানোর রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া চলমান। পরিচিত বিশ্বাসের জায়গাটুকুও নড়বড়ে হয়ে গেছে। বয়স বাড়ছে। মনে জাগছে অজস্র প্রশ্ন। যা করেছি এতোদিন তা কি সব ভুল? নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারছি তো যখন "গোটাদেশজোড়া জউঘর?" যখন "জলই পাষাণ হয়ে আছে?" যত বিপত্তি আসুক, থেমে যাওয়া তো কবির ধর্মে নেই। তাই,
"আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
আমরা ভিখারি বারোমাস
পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।"