হুট করে নিখোঁজ হয়ে যায় দেশের প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। তোলপাড় শুরু হয় উপরমহল থেকে সর্বস্তরে। তদন্তের দায়ভার বর্তায় ডিবির এক অফিসারের ওপর। যে-কোনো তরিকায় খুঁজে বের করতে হবে তাকে; নাহয় দেশে দেখা যাবে বিশাল এক অরাজকতা। তার ওপর নির্বাচনে অতি সন্নিকটে... মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা রূপে বিরোধী দলের খড়গ মুহূর্তে নেমে আসতে পারে ক্ষমতায় বসে থাকা দলের ওপরে...
এই নিখোঁজ সংবাদের রেশ না কাটতেই তার কিছুদিন পরপরই নিখোঁজ হয় দানিয়ালের মা সেলিনা বেগম! ছা-পোষা এক সংবাদকর্মী নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কারণ কী? তবে কি এর পিছনে রয়েছে দুর্ধর্ষ কোনো চক্র? এর উত্তর খুঁজতে মাঠে নামে ডিবি অফিসার ও দানিয়াল, সাথে তার বন্ধু।
ধীরে ধীরে নিখোঁজের এই চক্রান্তের জালে জড়িয়ে পড়ে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে ডিবি, পুলিশ, সরকারের উচ্চপদস্থ লোকেরা। বসে নেই অজ্ঞাত দুই ভয়ানক আগন্তুক। কে তারা? কীসের নেশায় ছুটছে তারা দিগ্বিদিক? কারা তাদের প্ররোচিত করছে এমন ভয়ংকর খেলা খেলতে... এর পিছনে কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই তো? প্রশ্ন, সংশয়, নৃশংসতা, ভয়, আর চাপা উত্তেজনায় পুরো দেশ; পাশাপাশি পাঠক আপনিও। কীভাবে এই জটিল সমীকরণের সমাধান মিলবে? কে মেলাবে?
এই সমীকরণের সমাধান করতে চাইলে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে ‘ইনসেন্টিয়া’র এক বিভৎস জগতে। যেখানে শুধু ক্ষমতার খেলা চলে না; চলে প্রতিশোধেরও। যেখানে পুরোনো এক প্রতিশোধ ফিরে এসেছে আরও শক্তিশালী হয়ে। ‘দিমেন্তিয়া’ আর ‘অ্যাবসেন্টিয়া’র না জানা অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই উপন্যাসে।
M.J. Babu is an acclaimed author born and raised in Dhaka. M.J. made a remarkable entry into the literary world with his debut book, Dimentiya, published in 2020. This gripping novel quickly became a best-seller in the Bengali language, establishing him as a prominent figure in contemporary Bengali literature.
Following the success of his debut, M.J. continued to captivate readers with his unique storytelling and thought-provoking themes. His book Pinball, published in 2022 from Kolkata, India, received critical acclaim and further solidified his reputation as a versatile and talented writer.
M.J. has authored seven books in Bengali, including the renowned Anarchist Series with titles Dimentiya, Absentiya, and Insentiya. Other notable works include Nirjon Shakkhor, Vrom, and Jinn. His literary works span various genres, showcasing his ability to weave intricate narratives that resonate deeply with readers.
Currently, M.J.'s books are being published from both Dhaka and Kolkata, broadening his reach and influence in the literary world.
"Reality is aburd,You know. To live happily you must fracture your reality to find a path toward Utopia,for which you can sacrifice your life"____Insentia,M.J. Babu
মাইকেল কনেলির পুলিশ প্রসিডিং, রাইলি স্যাগারের সাইকোলজিক্যাল ইভালুয়েশন আর মারিও পুজোর পলিটিক্যাল ক্যারাক্টারাইজেশন কম্বাইন করে, একটা মিশ্র ধারা তৈরি করলে যে জনরাটার তৈরি হবে, সেটাই হয়ত এম জে বাবুর 'ইনসেন্টিয়া'। এই লেখকের অ্যাবসেন্টিয়া আমার পড়া এই পর্যন্ত সেরা ছিল। কিন্তু এখন বলতে হচ্ছে, সবচেয়ে সেরা ইনসেন্টিয়া। বইটা কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত হবে একসময়, আই থিংক। এত প্রশংসা দেখে অনেকে ভাবছেন, তৈল মারছি। নারে ভাই। ৫১২ পেইজের বইটা পড়েছি মাত্র সাত ঘন্টায়। ভালো না হলে এত বড় বইটা একটানা পড়া সম্ভব হতো না।
বইয়ের প্লটটা এত scattered যে ৪০০ পেইজ পর্যন্ত টের পাচ্ছিলাম না। কই থেকে কী হচ্ছে, শুরু কী আর শেষ কী। চারশো পেইজের পর গিয়ে কাহিনি টের পেয়েছি কিছু। কিন্তু একদম শেষ চ্যাপ্টার না পড়লে হবেন না, আসলে কাহিনিটা কী। এই বইয়ের মূলত তিনটি ধারা এক সাইকোর যে কিডন্যাপ করে মানুষের চামড়া তুলে মারে, এক কিলার যাকে নামানোর হয় কেবল খুন করার , আর জোড়া হিসেবে এক পুলিশ অফিসার আর মাকে খুঁজতে থাকা এক ছেলে। তিনটা ডাইমেনশনকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে ঢাকা থেকে ফেনি, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে। বেশ লম্বা টাইমলাইননা। কিন্তু কাহিনি সিকুয়েন্স বেশ স্ট্রেইট আর ওয়েল ডেভেলপড।
পাহারের রাজনীতি, কিংবা একাত্তরের পর রাজাকারদের উত্থান, আবার বর্তমান রাজনীতির খেলা--সব ছিল এই বইয়ের মূখ্য বিষয়। বইয়ের সেকেন্ড চ্যাপ্টার থেকে গল্পে হুকড হয়েছি। এত বড় বইয়ে একবারও কাহিনি স্লো হয়নি, ঝুলে যায়নি। আমি শকড যে এত বড় বইয়ে কীভাবে এই ধারাটা বজায় রেখেছে লেখক।
এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালি দিক দুটো। এক লেখনশৈলী। দুই চরিত্রায়ন।
এত বড় বই একটানা পড়া সম্ভব হয়েছে লেখকের লেখার মুন্সিয়ানার জন্য। আগের বইগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা লেখার ধাঁচ। আর শোয়িং হয়েছে মাস্টারক্লাস। একদম পার্ফেক্ট শোয়িং। অনেক ঝরঝরে। আর ডিটেইলিং এমন যে আপনার মনে হবে আপনি বইয়ের বর্ণনায় না থেকে সব যেন চোখের সামনে দেখছেন। শব্দচয়ন, বাক্যগঠন আর ম্যাচিউর ডায়লগ ডেলিভারি বইটাকে আনভিলিভেবল করেছে।
মূখ্য চরিত্রে থাকা চরিত্রদের ধাপে ধাপে ঘরেছেন। শেষ চ্যাপ্টার অবধি চরিত্রায়ন ঝারি রেখেছেন লেখক। খুব কম বইয়েই ভিলেইনকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ইনসেন্টিয়া মূলত ভিলেইন কেন্দ্রিক। আর সবচেয়ে শকিং হলো, শেষ করেও বুঝবেন না কে হিরো আর ভিলেইন। এত চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে যে একবার ও একটা চরিত্রকে অযাচিত মনে হয়নি। পার্ফেক্ট চরিত্রায়নের দেখা মিলেছে এই বইয়ে।
টুইস্টের উপর টুইস্ট আর ক্লিফহ্যাংগারে ভরা এই মাল্টি জনরার বইটা। খারাপ লেগেছে যে , লেখক অনেক জায়গায় কনসাইস বর্ণনা করেছেন। মনে হয় , বই বড় হওয়ার বইয়ে। লেখার হাত পাকাপোক্ত ছিল, বর্ণনায় সমস্যা হতো না। আরেকটা ব্যাপার হলো, এত বড় ১,২,৩ করে চ্যাপ্টার ইন্ট্রিডিউস করলে ভালো হতো, ইমেইজের পরিবর্তে। তাহলে সুবিধা হতো পড়তে।
আমার মনে হচ্ছে, আমি এই বছরের সেরা বইটা দিয়ে শুরু করেছি। লেখকের কাছে অনুরোধ যেন, পরবর্তী বই দ্রুত আনে। এমন ঢাউস ঢাউস আন্তর্জাতিক মানের বই যেন পাই আমরা।
গুডরিডসে রেটিং দেখে বেশ অবাক হচ্ছিলাম। সাথে ভয় ও হচ্ছিল। ইদানিং গুডরিডসের রেটিং মাঝে মধ্যে চরম হতাশ করতেছে। তো রেটিং যাইহোক দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়া পড়ার পর, এটা কোন পাঠক না পড়ে রেখে দিবে সেটা সম্ভব না। অ্যাবসেন্টিয়া আমাকে মুগ্ধ করেছিল। ইনসেন্টিয়াতে মুগ্ধ হওয়ার জন্য তৈরিই ছিলাম এক প্রকার।
প্রথমেই 'লেখকের কথা' অংশটুকু পড়ে দ্বিধায় পড়েছি একটু । লেখক বোল্ড অক্ষরে মোটা দাগে সাবধান করে দিয়েছেন দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়া না পড়ে ইনসেন্টিয়া ভুলেও পড়া যাবে না। এখন দিমেন্তিয়া আর অ্যাবসেন্টিয়া পুনরায় পড়ার মতো অবকাশ নেই। তাই সামান্য দ্বিধা নিয়েই শুরু করলাম ইনসেন্টিয়া। সম্পূর্ণ পড়ে বুঝলাম ওই দুটো না পড়লেও আহামরি সমস্যা নেই ।
লেখকের লেখার হাত যথেষ্ট ভালো। থ্রিলার এমন সাবলীল না হলে পড়ে এগোনো যাইনা ।
বইটির বেশ কিছু ব্যাপার ধারণার সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেছে। সম্ভবত সবাই এইটা প্রেডিক্ট করতে পারবে। বানান ভুল মাশাল্লাহ প্রচুর পরিমাণ। প্রচ্ছদের DO NOT CROSS POLICE LINE ভালো লাগে নাই । ইদানিং বেশ কিছু থ্রিলারে এই জিনিস দেখতেছি। গল্পে পুলিশ এরকম ক্রাইম সিন আহামরি ফেস করেনি। তাছাড়া এসপি, ডিসি, এই আই নিয়ে পুলিশ অফিসারদের সংখ্যা বেশ বেড়ে গেছে। মাথা প্রায় আউলা ঝাউলা হবার জোগাড়।
তো মোটামুটি পুরো গল্পটা ওয়েল ডেভলপড। সুন্দর। অ্যাবসেন্টিয়ার মতো অতটা মুগ্ধতা না ছড়াতে পারলেও কম যায় না। আপনারাও পড়ে দেখুন কেমন লাগে ।
forgot when did i read something so satisfying. It's a good novel featuring various layers. In these layers, different sub plots are structured. Writing is too good and vivid. Highly recommended book
কষ্ট বড়ো ভয়ানক অস্ত্র । ভালোবাসা দিয়ে মানুষ বদলাতে দেরি হতে পারে। কিন্তু কষ্টের ছোঁয়া মানুষকে বদলে দিতে পারে মুহূর্তে।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া : আমি চুলছেড়া রিভিউ করতে আসিনি বা করার চেষ্টাও করিনা। কারণ সেটা আমি পারি না। দিমেন্তিয়া ও অ্যাবসেন্টিয়ার জগৎ ঘুরে এখন ইনসেন্টিয়ার বীভৎস জগৎ ঘুরে আসলাম। রাজনীতির মতো ভয়ংকর খেলা যে অনেকের জীবনে প্রভাব ফেলে তা হাড়ে হাড়ে বুঝা গিয়েছে বই পড়ে। রাজনীতির প্যাচ, প্রতিশোধ,কষ্ট, দুঃখ, লোভ এর আখ্যান এই ইনসেন্টিয়া। প্রথম দিকে বইটা অনেক স্লো এগিয়েছে। পরে লেখক একের পর এক সাসপেন্স রেখে গিয়েছেন প্রতি চাপ্টারে। বইয়ে অনেক গুলো চরিত্রের আগমন ঘটেছে। লেখক সেগুলো অনেক ভালো ভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করে গিয়েছেন। পড়তে পড়তে পাঠক একেক সময় একেক জনরায় ফেলবেন বইটা। অনেক জনরার মিশ্রণ বইটা। দিমেন্তিয়া আর অ্যাবসেন্টিয়ার প্রিক্যুয়েল বইটা।
বইটার সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র হচ্ছে ভিলেন।ভিলেনের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার গুলো ভালো ছিলো। বইটায় ১৯৭১ সালের ও কিছু ঘটনাও উঠে এসেছে। এতো এতো চরিত্রের আগমন এবং সেগুলো এক সূত্রে গাঁথার ফলে একটা ভালো এন্ডিং পাওয়া গেছে। কিছু কিছু টুইস্ট আগে থেকেই ধরতে পেরেছি। প্রথম থেকে যে ধারণা করেছিলাম তার দেখা পড়লেও সাথে আরেক টুইস্ট এর পর আরো চমৎকার লাগে। আরো দুই একটা বিষয় আছে সেটা র না উল্লেখ করলাম না। কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুল ছিলো যা দৃষ্টিকটু ছিলো৷ শুভকামনা রইল লেখকের জন্য।
প্রতিটা বইয়ের ধারা থাকে কিছু, যেটা সম্পূর্ণ হয় আলাদা। এম.জে. বাবু মিক্সড লেখনশৈলী আর ঝানু চরিত্রায়নে অনন্য এক ধারা তৈরি করেছেন। পুরো বইটা ঠাসা জীবনবোধের সাথে ��ংশ্লিষ্ট নানান আঙ্গিক নিয়ে। এই বিষয়টি বইটার সামাজিক দিককে ফুটিয়ে তুলেছে।
থ্রিলারের কথা বললে, মিক্সড জনরার বই। গল্পের শুরুটা এবরোথেবরো হলেও, সামনে যাওয়ার সাথে সাথে জাল গুটানো শুরু করে লেখক। ভালো লেখার জন্য গল্পে ঢুকতে বেশি সময় লাগেনি।
সবচেয়ে দুর্দান্ত লেগেছে মাল্টি লেয়ারে গল্প বলেও, শেষে এসে পার্ফেক্টলি ব্লেন্ড করার ক্ষমতা দেখে। বইয়ের প্লট অনেক জটিল। ভিন্ন টাইমলাইনে, ভিন্ন লেয়ারে গল্প বলেছেন লেখক। আরেকটা ব্যাপার প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য, সেটা হলো ক্যারাক্টার রিভিলিং৷ চমৎকার সেটা।
বইটা আমার পড়া অন্যতম সেরা বই। দুর্দান্ত লেখনী,প্লট আর রহস্য মিলে এই বই যেন শীত থেকেও বেশি শীতল। জমে একদম ক্ষীর।
বইটা শুরুর দিকে অনেক স্লো। মোটামুটি সতেরতম অধ্যায় পর্যন্ত লেখক গল্প বিল্ডাপ করে। কিন্তু তারপর এত জোরে টান দেয় যে শেষ পর্যন্ত থামে। অ্যানার্কিস্ট সিরিজের বেস্ট বই। অদ্ভুত এক প্রশান্তি কাজ করছে বইটা শেষ করে। আপনার চিন্তার জগতকে বেশ সুন্দরভাবে আন্দোলিত করবে এটা। আগের দুই বইয়ের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই বইয়ে।
"গরিবদের আঙুলের ওপর নাচাতে চাও? জোর করতে হবে না। কেবল একবার করুণা করবে। সারাজীবন মনে রাখবে। টাকার চেয়ে করুণার দাম বেশি বুঝলে। টাকা দিয়ে বিশ্বাস কিনতে পারবে না, কিন্তু করুণা দিয়ে পারবে।”
"বয়সের ভারে বট গাছও ভেঙে পড়ে একদিন, কিন্তু মায়েরা ভাঙতে পারে না। মা হলো মাটির মতো। পুড়বে, তবুও ইটের মতো শক্ত হয়ে আগলে রাখবে সন্তানকে।"
শুরু করতে বুঝেছিলাম সাধারণ কিডন্যাপিং। তারপর টার্ন নিল রহস্য থ্রিলারে। তারপর পলিটিক্যাল, আর শেষে সাইকোলজিক্যাল। এরকম মিশ্র জঁরার কাজ খুম দেখা যায়। প্লট এত ছড়ানো ছিটানো যে, ভয়ে ছিলাম, শেষটা ভালো হবে কি না। শেষটা শুধু ভালো ছিল না। ছিল চমকপ্রদ। চরিত্রদের কথা না বললেই নয়। এত শক্তিশালী চরিত্রায়ন কেবল স্টেফেন কিংয়ের বইয়ে দেখা যায়। লেখক ছোট থেকে ছোট চরিত্রদের ও অবহেলা করেননি এবং তাদের ভূমিকাকেও আন্ডারেস্টিমেট করেনি লেখক। বইটার সংলাপগুলোও বেশ গভীর।
সমাজ যখন ছেয়ে যায় বৈষম্য আর অনাচারের চরম পর্যায়ে, দূর্নীতিগ্রস্থ কর্তৃপক্ষের দখলদারত্বের, যাতে অত্যাচারিতদের কন্ঠস্বর হয় ক্রমাগত স্তব্ধ। সেই সময়ই নৈরাজ্য হয়ে ওঠে এক অনিবার্য প্রতিক্রিয়া। অস্থিতিশীল সময়ে অনেকের জন্য নৈরাজ্য হয়ে ওঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে নিজের মতো বাঁচার। তবে এই অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাও ক্ষতিকর, যা সমাজকে দ্রুত ঠেলে দেয় বিশৃঙ্খলার দিকে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভাব সৃষ্টি করে ক্ষমতার শূন্যতা সেইসাথে ক্যাওস। তাই তা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে না পারলে সুতো কাটা ঘুড়ির মতো ধ্বংসের মুখে পতিত হবে সেই সমাজ।
Reality is aburd, You know. To live happily you must fracture your reality to find a path toward Utopia, for which you can sacrifice your life.
তবুও অনেকে মানতে পারে না এই সমাজ কিংবা কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস করাটা। সেইসব মানুষদের ক্ষমতার চক্র ভাঙার ক্ষেত্রটা অনেক ক্ষেত্রেই রুপ নেয় চরমপন্থার। চরম ক্ষেত্রে, নৈরাজ্যবাদীরা পরিচালিত হয় ব্যবহারিক বাস্তবতার বাইরে থাকা বোধ দ্বারা, সেই সাথে সমাজের রীতিনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্যে তাদের মাঝে বাড়তে থাকে হতাশার গভীর অনুভূতি। সেই থেকেই তারা ক্রমেই সমাজে বাড়াতে থাকে বিশৃঙ্খলা, ক্যাওস। থ্রিলার লেখক এম. জে. বাবুর 'অ্যানার্কিস্ট' সিরিজ এই নৈরাজ্যবাদীদের নিয়েই। সিরিজের আগের দুই বই 'দিমেন্তিয়া' ও 'অ্যাবসেন্টিয়া'তে আমরা পেয়েছিলাম এমনই দুই অ্যানার্কিস্টের গল্প।
'অ্যাবসেন্টিয়া'র এন্ডিংয়ে আমরা দেখতে পাই, এক ভয়ংকর অন্ধকার অবতার আবার ফিরে এসেছে। যেই অন্ধকারের সাথে দানিয়ালের অতীতে ঘটেছিলো ভয়াবহ কিছু, এমনই ইঙ্গিত পাই পাঠক। কি সেটা? সময়টা একবিংশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে। এমনই সময় কিডন্যাপ হয় ক্ষমতাসীন দলের এক ক্যাডার নেছার উদ্দিন। সাথে সাথে ঘটতে শুরু হলো একের পর এক ঘটনা। ঠিক ডমিনো ইফেক্টের মতো, এক ধাক্কায় এমনসব ঘটনা ঘটতে লাগলো, যা কিনা সাধারণের চিন্তার বাইরে। হেলাল সরকার, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, ক্ষমতা আর অর্থের জন্য যে পাড়ি দিয়ে এসেছে এক হিংস্র জগৎ, যা টিকিয়ে রাখতেও যে কিনা যেতে পারে যেকোনো পর্যায়ে। সেই হেলাল সরকার কোনো এক অজানা কারণে এ ব্যাপারে তটস্থ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দানিয়াল, মা সেলিনা বেগম একজন সাংবাদকর্মী। সেই শৈশব থেকে মা-ই তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু হটাৎ নিখোঁজ হন তিনি। ছাপোষা এক সংবাদকর্মী নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কারণ কী? বন্ধু মানিককে নিয়ে দানিয়াল নেমে পড়ে তার মাকে খুঁজে বের করার অনুসন্ধানে। কিছুদুর খোঁজখবর নিতে গিয়ে তারা টের পাই তাদের মায়ের অন্তর্ধানের রহস্য জড়িয়ে আছে নেছার উদ্দিনের কিডন্যাপারের সাথেও। যে কেসে কাজ করছে ডিবি পুলিশের অফিসার জাদিদ। ঘটনাক্রমে মেধাবী দানিয়ালও জড়িয়ে যায় কেসটার তদন্তকার্যে এবং নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দ্বারা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ধীরে ধীরে এই কিডন্যাপিং কেস মোড় নেয় এক ভয়ংকর দিকে যা পূর্বাভাস দেয় দেশজুড়ে হতে যাওয়া ভয়ংকর সব অরাজকীয় কার্যক্রমের।
অন্যদিকে সেলিনা বেগম নিজেকে আবিষ্কার করে এক ভূগর্ভস্থ অন্ধকার কক্ষে বন্দী অবস্থায়। এক বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকো এসে সেখানকার বন্দিদের চামড়া তুলে নিতে থাকে জ্যান্ত অবস্থায়। এই আধাঁর জগতে ভয়াবহ মানসিক চাপেও সেলিনা বেগম চেষ্টা করেন এই খুনির কাছে মাথানত না করার। অন্যদিকে নির্দিষ্ট একটা চক্র, পরিকল্পনা করছে বেশ বড় কিছুর। সেই চক্রের প্রধান মাস্টারের আদেশে তার পালকপুত্র, নিষ্ঠুর, নির্মম খুনি জন ডো কর্তব্য পালন করতে নেমে পরে। ঘটছে একের পর ঘটনা, জড়িয়ে যাচ্ছে বহু মানুষ সেগুলোর সাথে। তবে কি আড়াল থেকে নাটাই টেনে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে কোনো মাস্টারমাইন্ড? যদি তাই হয় কি তার আসল পরিচয়, কেনই বা সে করছে এসব? দানিয়াল কি পারবে তার মাকে ভয়ংকর বিপদ থেকে রক্ষা করতে? এই অরাজকতা থামবে কোথায় গিয়ে? এইসব প্রশ্ন, তার উত্তরের অন্বেষণ এবং সবশেষে আরও কিছু প্রশ্ন নিয়ে এম. জে. বাবুর 'অ্যানার্কিস্ট' সিরিজের বই 'ইনসেন্টিয়া', যাতে পাঠক দেখা পাবেন এক বিভৎস জগতের।
এম. জে. বাবুর 'অ্যানার্কিস্ট'এর জগতটার সাথে পরিচয় সিরিজের প্রথম বই 'দিমেন্তিয়া' দিয়ে। যদিও Welcome To The Dark World বলে বেশ আগ্রহের সাথে সে গল্প স্বাগত জানালেও শেষমেশ খুব একটা সুবিধার হয় নি। তাই পরবর্তীতে একটু কম এক্সপেকটেশন নিয়ে সিরিজের পরবর্তী বই 'অ্যাবসেন্টিয়া' পড়ে মোটামুটি ভালো লেগেছিল। সেই বইয়ের বিশাল এক ক্লিফ হ্যাঙ্গার দেখার পর সিরিজের পরবর্তী বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মাই। তবে এরপরের বই 'ইনসেন্টিয়া'য় লেখক সেটার সমাধান করার বদলে, সমস্যাটা আর অ্যানার্কিস্টের দুনিয়াটা কত বড় সেটা দেখাতেই যেনো ফিরে গেলেন অতীতে, যাতে দানিয়ালকে লড়তে হয়েছিল সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রুর বিপক্ষে।
ইনসেন্টিয়ার জগতটা বেশ বড়। সিরিজের আগের দুই বইয়ের মতো এটা শুধুমাত্র মামুলি সিরিয়াল কিলিংয়ের কাহিনী না। এতে এদেশের রাজনীতির জগতের ক্ষমতা দখলের নোংরা-হিংস্র খেলা, সমাজের বহুরূপী মানুষের মধ্যকার অন্ধকার অবতার থেকে শুরু করে ম্যানিপুলেশন, দেশের সর্বোনিকৃষ্ট অপরাধীদের ক্ষমতার চূড়ায় পৌছে যাওয়া, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে করা নানা অকাম কুকাম, বেশ কিছু সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়াবল�� আর পাওয়া যাবে অপরাধের এক সুবিশাল জগত। সেই ভয়ংকর জগতে আড়াল থেকে নাড়া দিতে থাকা এক বুদ্ধিমান শত্রু, যার পরিকল্পনা চরিতার্থের সাথে জড়িয়ে যায় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল মানুষটিও।
তাই সর্বোপরি বইটা অনেকগুলো জনরার অর্ন্তভুক্ত। শুরুতে মিস্ট্রি থ্রিলার যা ক্রমে মোড় নেয় পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলারের দিকে, সেইসাথে গল্পে আসে পলিটিক্যাল থ্রিলার আর ক্রাইম ফিকশনের উপাদান, আর শেষ ১০০ পাতা পড়ে মনে হবে পিওর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এই সুবিশাল পরিসরের গল্পটা একইসাথে গুছিয়ে আর আগ্রোহদ্দীপকভাবে বলাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এম. জে. বাবু সেই চ্যালেঞ্জখানা বেশ ভালোভাবেই অতিক্রম করেছেন। শুরুর দিকটাই একাধিক পক্ষের আগমন, তাদের ইন্ট্রোডাকশন আর কাহিনীতে ভূমিকা প্রতিষ্ঠার জন্যে লেখক একটু বড় সময় ধরে বিল্ডআপ করেছেন। সেই অংশটা পার হলে পাঠক কাহিনীর প্রতি বেশ ভালোভাবেই আকর্ষিত হবে। টান টান উত্তেজনা, রকেট গতির থ্রিল না হলেও কাহিনী বেশ সাসপেন্সের সাথে এগিয়েছে, পরে কি হবে তা নিয়ে মনে আগ্রহ থাকবে। এম. জে. বাবুর লেখা এমনিতেই বেশ সাবলীল, এই বইয়ে তা আগের চেয়েও বেশী পরিপক্ক বলাই বাহুল্য।
বিশাল পরিসরের এই গল্পের রহস্যটাকে ভালোমতো গড়ে তোলা হয়েছে। শুধুমাত্র শেষের দিকের কিছু টুইস্টকে কেন্দ্র করে নয়, বরং লেখক শুরু থেকেই প্রতিটা বিষয়ের রহস্যময়তাকে বেশ ভালোভাবেই উপস্থাপন করেছে, এবং স্তরে স্তরে একটা রহস্য সমাধান করে আরেকটা রহস্য তৈরি করেছেন। তাই গল্পের প্রতি আগ্রহটা সবসময় বজায় থাকে। সেই রহস্য সমাধানে পুলিশের তদন্তকার্যটা এক কথায় দূর্দান্ত হয়েছে। দিমেন্তিয়ার সেই দূর্বল ইনভেস্টিগেশন থেকে এই বইয়ের এমন ডিটেইলড আর নিখুঁত পুলিশ প্রসিডিওরাল, এই সিরিজে লেখকের উন্নতি দেখবার মতো। সবমিলিয়ে শেষের দিকে টুইস্টগুলো ভালো হয়েছে খুব। সেগুলো গতানুগতিক হু ডান ইটের বাইরে যাবার কারণে আরো বেশী ভালো লেগেছে। সাইকোলজিক্যাল টুইস্টগুলোর লজিক নিয়ে যদিও একটু সমস্যা আছে, তবে ফিকশন হিসেবে মেনে নেওয়া যায়। এই বইয়ের টুইস্টগুলো আসলেই ভালো হয়েছে, বিশেষ করে শেষেরটা একদম চমকে দিয়েছে।
লেখক দক্ষতা দেখিয়েছেন এবার চরিত্রায়নে। এই বইয়ে প্রচুর চরিত্র, যেগুলোকে কাহিনীর গুরুত্ব অনুযায়ী বেশ ভালোভাবেই গঠন করা হয়েছে। প্রোটাগনিস্ট মহলে দানিয়াল আর তার মা'র সেলিনা বেগমের মানসিক টানাপোড়েনটা চিত্রিত হয়েছে সুন্দরভাবে। সেইসাথে ডিবির পুলিশ অফিসার জাদিদ আর হায়দারকে ভালো লেগেছে। সাইড ক্যারেক্টরগুলো ছিল ঠিকঠাক, এরমাঝে কয়েকটা চরিত্র বেশ ভালোভাবেই ডেভেলপড হয়েছে, যেমন ঝুটন। তবে লেখল আসল দক্ষতা দেখিয়েছেন মূল অ্যান্টাগনিস্টের চরিত্রায়নে। স্পয়লারের কারণে বেশী কিছু বলছি না, তবে বাংলা মৌলিক থ্রিলারে এমন শক্তিশালী ভিলেইন খুব কমই দেখেছি। ভিলেইনদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ডার্ক দর্শন দেখানো লেখক আগের দুই বইয়েও করেছেন, তবে হু ডান ইট রহস্যের জন্যে ভিলেইনের পরিচয় লুকোতে গিয়ে তাদের মোটিভ বা বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশটা খুব একটা ভালো হয় নাই। কিন্তু এমনটা হয়নি ইনসেন্টিয়াতে।
এই বইয়ের ভিলেইন আড়াল থেকে সব চরিত্রের জীবনে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব রাখে, তার পরিকল্পনা বিস্তৃত সবকিছুর আড়াল থেকেই; ম্যানিপুলেটিভ, নিহিলিস্ট, নার্সিসিস্ট এই ভিলেইনের অন্ধকার মনস্তত্ত্বকে লেখক অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার ব্যাকস্টোরি পড়তে গিয়ে রীতিমতো গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে এই ভিলেইনের কাহিনী পড়তে গিয়ে আমার প্রিয় অ্যানিমে 'মন্সটার' এর জোহান লিবার্টের কথা মনে পড়ছিল খুব। আর তার অ্যানার্কিজম দর্শন থেকে সমাজের অনিয়ম মুছতে নৈরাজ্যের ভূমিকা, কিংবা নৈরাজ্যের মাঝে অন্তর্নিহিত সুযোগের ব্যাপারটা আসলেই ভাবাবে। আর হ্যাঁ, পুরো বই জুড়ে বেশ ভালো কিছু সংলাপ আর উদ্ধৃতি আছে। আর সবকিছু যেভাবে শেষ করা হয়েছে তা বেশ লেগেছে; কিছু রহস্যকে রেখে, কিছু নতুন রহস্যকে উত্থাপন করে বইটির সমাপ্তিও ভালো হয়েছে।
তবে কিছু বিষয়ে একটু সমস্যা রয়েই গিয়েছে। বিশেষ করে এম. জে. বাবুর লেখনীর কিছু চিরাচরিত সমস্যা– সর্বনাম ব্যবহারে দূর্বলতা, একই কথার রিপিটেশন, চরিত্রদের অভিব্যক্তির বর্ণনা ডিটেইলে দিতে গিয়ে ভজকট পাকানো। বিশেষ করে শুরুর দিকে গল্প যখন হেলে দুলে এগোচ্ছিল তখন এসব সমস্যার আধিক্য বেশী ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কেটে যায়। এছাড়া দানিয়াল বাদে প্রোটাগনিস্ট মহলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের মানসিক চিত্রায়ণ করলে ভালো হতো। দানিয়ালের চরিত্রটাও একটা পর্যায়ে একটু একঘেয়ে হয়ে পরে। আর মানিক চরিত্রটার উপস্থিতি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল, গল্পে তার তেমন কোনো ভূমিকাই ছিল না, আর তার কাজকর্ম ছিল অতি বিরক্তিকর। তাছাড়া ডেসক্রিপটিভ ন্যারেটিভে লেখক কিছুটা দূর্বল, গল্পে দুটো ছোটখাটো অ্যাকশন আর চেজ সিনে তা বোঝা যায়। যদিও সবমিলিয়ে বইটা আমার খুব ভালো লেগেছে। লেখক যেভাবে 'অ্যানার্কিস্ট' সিরিজের বইগুলোতে নিজেকে ইমপ্রুভ করেছে, সে থেকে ধারণা করাই যায় যে আরও কিছু দুর্দান্ত থ্রিলার বই পেতে যাচ্ছি আমরা। সবমিলিয়ে আমি আশাবাদী।
সদ্য প্রকাশিত ইনসেন্টিয়া পড়ে শেষ করলাম তিন দিনে। শেষের কাছাকাছি না যাওয়া পর্যন্ত এটা শুধু পলিটিক্যাল রিভেঞ্জ থ্রিলার ই মনে হচ্ছিলো। জটলা যেই খুলতে লাগলো সেই যেয়ে বুঝলাম এটা আসলে সাইকোলজিকাল থ্রিলার ও। এই ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। অনেক বড় বই, বলবোনা যে ছোট করেও লেখা যেত কারণ প্রত্যেকটা সিন একটা আরেকটার সাথে জড়িত প্লাস যেভাবে এগিয়ে গেছে বরং সেভাবেই গল্পটাতে পারফেশন নিয়ে এসেছে। এতোগুলো চরিত্র আর সব চরিত্র গুলোর গুরুত্বও ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। সত্যি বলতে কিছু কিছু ব্যাপার আমি আগেই টের পেয়েছিলাম শুরু থেকেই যেমন পারিবারিক ব্যাপারটা, এমন আরো দুই একটা বিষয় আছে বাট স্পয়লার দিতে চাচ্ছি না সেজন্যই ৪.৫/৫ দিলাম। ভালো লেগেছে।আরো অনেক কিছু জানার আছে পরবর্তী বইয়ে 😇 এতো বড় বই এতো প্ল্যানিং প্লটিং কিভাবে যে লেখক মিলিয়েছেন সেটার তারিফ না করলেই না। অসাধারণ 👌
Reader's block এ ছিলাম। তাছাড়া ব্যস্ততার কারণে বই পড়ার সময় হয়না। তবুও পড়েছি ধীরে সুস্থে। সত্যি বলতে ধীরে সুস্থে পড়ার মত বই না এটা। জটিল রহস্য আছে বইটাতে। প্রথমদিকে ধীরে ধীরে গল্পের কাহিনী গড়ে ওঠে। একটা পর্যায়ে গল্পটা মারাত্মক জমে ওঠে। আর শেষের দিকে এতগুলো plot twist মিলে জমজমাট একটা উপন্যাস! আর এম. জে. বাবু মানেই অভিনব plot twist, যেটা কেউ কল্পনা করিনি। এটা সত্যি যে কিছু অংশে নাটকীয়তা আছে, কিন্তু গল্পে নাটকীয়তা না থাকলে গল্প জমে ওঠে কি?
"Reality is absurd, you know. To live happily you must fracture your reality to find a path toward Utopia, for which you can sacrifice your life." - মাস্টার (গল্পের চরিত্র)
এম. জে. বাবুর বই নিয়ে আমার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করে। লেখকের 'জিন' পড়ে আমি হতাশ হয়েছিলাম।
অ্যানার্কিস্ট সিরিজ # ১ 'দিমেন্তিয়া' আমাকে দ্বিতীয়বার হতাশ করে। পুলিশের মেধাবী গোয়েন্দা দানিয়ালের বিভিন্ন গা-গুলানো রহস্যের সমাধানে ঐ সিরিজের পরবর্তি বই 'অ্যাবসেন্টিয়া' আমার খুব ভালো লেগেছিলো তা বলবো না তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মাঝেও পর্যবেক্ষণ করেছিলম বাবুর উক্ত নভেলের উপর কন্ট্রোল চলে আসাটা। যা গুরুত্বপূর্ণ একজন ঔপন্যাসিকের জন্য, তিনি যে ধারার-ই হন না কেন।
'ইনসেন্টিয়া' হলো অ্যানারর্কিস্ট # ৩। বেশ খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে বইটা কিনে নেই। কারণ এম. জে. বাবুর মাঝে কিছু অধ্যায়ে পাঠককে ইম্প্রেস করার সহজাত লেখনি ক্ষমতা আছে ঠিক তেমনি একই বইয়ের অন্যান্য অধ্যায়ে পাঠকের মনে ডিজপয়েন্টমেন্ট সৃষ্টি করার ব্যাপার-স্যাপারও আছে। তবে অ্যাবসেন্টিয়ায় লেখক যেভাবে উপন্যাসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন কতকটা তা ইনসেন্টিয়ার উপর আমার মাঝে কিছুটা আগ্রহ সৃষ্টি করে দেয়।
শহরের মাফিয়া টাইপ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে দানিয়ালের মা পর্যন্ত নিখোঁজ হয়ে গেছেন। কে জানি একের পর এক দাবার সৈন্যের মতো ব্যবহার করে চলেছেন সাধারণ মানুষজন থেকে একদম প্রায় সর্বোচ্চ শক্তিধরদের। তাঁর বা তাদের চুলচেরা পরিকল্পনা নাকাল বানিয়ে ছাড়ছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডিসহ সকল সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগ এবং তদন্তকারী সংস্থাকে। কষ্ট থেকে পাওয়া প্রতিশোধস্পৃহা থেকে কোন কোন মানুষ পুরো রাষ্ট্রকে বৃহৎ হুমকির মুখে দাড়িয়ে করে দিতে পারে। প্রতিশোধের অঙ্গার কতটুকু দীর্ঘমেয়াদী এবং বিধ্বংসী তা ইনসেন্টিয়ায় দেখা যায়।
এ উপন্যাস ৫০০+ পৃষ্ঠার। আছে অনেক চরিত্র। আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের অফিসার, মাকে খুঁজে বের করতে অনার্স ফাইনাল ইয়ার দেয়া মেধাবী দানিয়াল, তাঁর বিস্বস্ত বন্ধু মানিকসহ অনেকের দেখা পাওয়া যায় এখানে। এম. জে. বাবু 'অ্যাবসেন্টিয়া' এর চেয়ে আরো বেশি কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন এ উপন্যাসে। লেখক যেভাবে জটিল এক একটি ধাঁধা তৈরী করেছেন তা পাঠককে ঘোল খাইয়ে দিতে পারে।
তাছাড়া 'ইনসেন্টিয়া' এ রাজনৈতিক নেতাদের ভিতরকার যে বহুমাত্রিক পারস্পরিক ভয়ানক গেইম থাকে সেটা ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। অপরাধবিজ্ঞানের কিছু বিষয়-আশয়ও স্থান করে নিয়েছে এ নভেলে। প্রায় সবাইকে কেউ একজন নাচের পুতুলের মতো কলকাঠি দিয়ে নাড়ানোর ফলশ্রুতিতে কী বিপদ নেমে আসতে পারে দেশজুড়ে সেটিও লেখক প্রকাশ করেছেন।
এম. জে. বাবুর এ উপন্যাসে অন্যতম শক্তির জায়গা ছিলো কিছু কিছু চরিত্রের চিত্রণ। দু'জন দুর্ধর্ষ এবং ভয় জাগানিয়া সাইকো চরিত্রের বিভৎস কাজকারবার এবং তাদের মনের ভিতরের অন্ধকার লিখার ক্ষেত্রে বাবুর প্রশংসা না করে পারা যায় না। একজন যেন অ্যালিয়েন এবং আরেকজন প্রিডেটর। এই দুই চরিত্রের কথা মনে থাকবে অনেক দিন।
অন্যদিকে দানিয়ালের ক্ষুরধার মেধা এবং নিজ মাকে বাঁচানোর জন্য প্রচন্ড ডেস্পারেশন থেকে উদ্ভুত প্রচন্ড সাহসও উল্লেখযোগ্য একটি উপাদান 'ইনসেন্টিয়া' এর। দেয়ালে পাঠ ঠেকে গেলে অনেক সময় কেউ কেউ আরো বেশি মেধা এবং মানসিক শক্তি দেখাতে পারেন।
এম. জে. বাবু আরেকটি মজার কাজ করেছেন। অ্যানার্কিস্ট # ৩ এ সময় নিয়ে খেলেছেন তিনি। বিষয়টি সিম্পল তবে পাঠকের জন্য আর স্পয়লার বাড়ালাম না।
তবে এ বইয়ের অপছন্দের দিকও আছে কিছু। এম. জে. বাবু যথারীতি আবার কিছু মুদ্রাদোষ দেখিয়েছেন তাঁর লেখালেখিতে। বারবার "চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন" "থপথপ" শব্দের অযথা ব্যবহার চোখে লেগেছে বেশি। তাঁর লেখনি ক্রিমিনালদের নিয়ে লেখার সময় অনেক ভালো হয় অন্যান্য পজেটিভ চরিত্রদের মধ্যকার কনভার্শেসনের তুলনায়। তাছাড়া এ বইয়েও কিছু জায়গায় 'ফিলার সেনটেন্স' এসে পড়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রিমিনালদের মোটিভ খানিকটা দূর্বল লেগেছে।
শেষের দিকে লেখক একটু বেশি প্যাঁচিয়েছেন সেটি সমস্যা মনে হয় নি কিন্তু একটু রাশড মনে হয়েছে। শুদ্ধিপত্র সম্পাদনা সংস্থা বানান সংশোধনে টাইপো গুলো আশা করছি পরবর্তি কোন মুদ্রণে ঠিকঠাক করে নিবেন।
এখন পর্যন্ত এম. জে. বাবুর লিখা মাচ মাচ ইম্প্রুভড বই এটি। হিন্টস পেলাম অ্যানার্কিস্ট # ৪ আসছে সামনে। দেখা যাক। লেখকের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো।
বই রিভিউ
নাম : ইনসেন্টিয়া লেখক : এম. জে. বাবু্ প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৩ প্রকাশক : গ্রন্থরাজ্য প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী সম্পাদনা ও বানান সংশোধন : শুদ্ধিপত্র সম্পাদনা সংস্থা জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। বই এর চুম্বক অংশ হলো চরিত্রায়ন। লেখক সময় নিয়ে ক্যারেক্টর বিল্ড আপ এবং রিভিল করেন। প্রথম দিকে বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে, এরপর যতই গল্পের ভিতরে ঢুকলাম আস্তে আস্তে ক্লিয়ার হতে লাগল গল্প কোন দিকে এগুচ্ছে।
এই বই এ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গল্পের লেয়ার এর সিনক্রোনাইজেশন। লেখক একটা লেয়ার শেষ করে আরেকটা লেয়ার কে খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন।
আরেকটি পয়েন্ট বেশ ভালো লেগেছে, তা হলো " Perfect plan and it's accurate Execution". এটা নিয়ে বেশি কিছু বলছি না কারণ স্পয়লার হয়ে যাবে।
পরিশেষে, আমরা হয়ত একজন পারফেক্ট ভিলেন কে পেতে যাচ্ছি।
লেখক যেহেতু ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, আরো সিক্যুয়েল আসবে।লেখকের জন্য শুভকামনা।
বইয়ের নাম : ইনসেন্টিয়া লেখক : এম.জে. বাবু সিরিজ : অ্যানার্কিস্ট ৩ জনরাঃ ডার্ক ক্রাইম / সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পৃষ্টা সংখ্যা: ৫১২ প্রকাশনা : গ্রন্থরাজ্য
"মানুষের জন্মই আজন্ম পাপ। এই ছোটাছুটি করে সারাজীবন, শেষে কবরে যায় খালি হাতে। জীবন মানেই স্বপ্ন। যে স্বপ্নটা আসলে সবটাই দুঃস্বপ্ন"
আমরা মানুষেরা এই কঠিন সত্যটা ভুলে যাই। দুঃখ কষ্ট গুলো আমাদের হতাশ করে, আমাদের হিংস্র বানায়।
" কষ্ট বড়ো ভয়ানক অস্ত্র। ভালোবাসা দিয়ে মানুষ বদলাতে দেরি হতে পারে। কিন্তু কষ্টের ছোঁয়া মানুষকে বদলে দিতে পারে মুহূর্তে"
আর মানুষ এই কষ্ট পেতে পেতে কেউ হয়ে যায় হিংস্র, কেউ হয়ে যায় মানষিক বিষাদগ্রস্থ আর কেউ বা হয়ে যায় একদম পাথর। কিন্তু আমরা কেউ ই এইভাবে ভাবি না এই বেঁচে থাকাটা দুঃস্বপ্ন তেমনি এই দুঃখ কষ্ট গুলোও দুঃস্বপ্নের অংশ।
যাইহোক এর আগের বই গুলো বেশ সময় নিয়ে পড়েছি। এইবার আমি এই বিশাল বই চারদিনে শেষ করেছি। আসলে কি লিখবো বুঝতে পারছি না। লেখক সাহেব মাথা আউলাইয়া দিছেন। ৩০০ পৃষ্টার পর যে আউলানো শুরু করছেন আমি লিটারেলি তাল রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। ৪০০ পৃষ্ঠার পর থেকে রীতিমতো আমাকে সোজা হয়ে বসে বই পড়তে হয়েছে। আর শেষের দিকের পৃষ্ঠা গুলো বার বার পড়া লাগছে। কে আসলে কি? ঘটনা কিছুই বলছি না। আমি যাস্ট "থ" হয়ে বসে আছি। এই রেশ থেকে বের হতে সময় লাগবে। আর সিন গুলো এতো জীবন্ত মনে হচ্ছিলো সব চোখের সামনে দেখছি। এই বই পড়ার আগে দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়া পড়তে হবে। অ্যাবসেন্টিয়া পড়ার পর মাথায় যতো প্রশ্ন আসছিলো সব প্রশ্নের উত্তর এখানে মোটামুটি পাওয়া যাবে । কিন্তু চমকের পর চমক। আপনি যে ধাক্কা খাবেন তার জন্য আপনি নিজেও প্রস্তুত নন। নতুন প্রশ্ন আসবে আর তার জন্য বই টি টানা পড়তে হবে। এই বই টানা না পড়লে লেখক যে কাজটা করতে চেয়েছেন পাঠকের সাথে সেটা হবেনা। আর অবশ্যই শেষ পৃষ্ঠা পড়বেন। এতো মোটা বই দেখে ভয় পাবেন না বিশ্বাস করুন অন্য এক দুনিয়ায় থাকবেন। কি লিখছি আমি নিজেও জানি না,আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন লেখককে - এই বই লিখে আপনি সুস্থ আছেন তো? গ্রন্থরাজ্যেকে ধন্যবাদ এতো প্রিমিয়াম একটা বই সুন্দর ভাবে আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।
বই পড়ুন, সময়কে কাজে লাগান। আর মাঝে মাঝে ভ্রমণ করুন অন্য এক দুনিয়ায়।
বইটি যখন শুরু করি তখন সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। সিরিজের আগের দুই বইয়ের সাথে ঠিকভাবে রিলেট করতে পারছিলাম না। পরে আগের বই দুটির কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কেবল এই বইয়ের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় নিজেকে ভেসে যেতে দি। বইটি আমার কাছে বেশ ভালই লেগেছে। সিরিজের অন্য দুই বইয়ের তুলনায় এই বইটি যেমন মোটাসোটা তেমনি দৃঢ় এর প্লট। তুলনামূলক বৃহৎ বলেই এর কাহিনীর বিল্ডআপ দারুণ। বইটিতে লেখক সব সময়ের মত ডিটেইলিং এর প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। যা গল্পটিকে আরো বিকশিত করেছেন । আর এম.জে.বাবুর লেখা বললেই সর্বপ্রথমে মাথায় আসে টুইস্ট এ ভরপুর একটি বই যা এই বইয়েও যথেষ্ট পরিমাণে আছে। তবে বইয়ের শেষে একসাথে অনেকগুলো টুইস্ট উন্মোচন করায় এদিকটুকু কেমন জানি জট পাকিয়ে গেছে। তাছাড়া শেষে লেখনী কিছুটা দুর্বলই লেগেছে আমার কাছে। সবমিলিয়ে বলব, বইটি বেশ উপভোগ করেছি। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়। ব্যাক্তিগত রেটিং – ৪/৫
বেশ কিছু যায়গা চোখে লেগেছে। যেহেতু ২০০০ সালের পটভূমিতে লেখা বই সেদিক দিয়ে সেটাপ অনেক যায়গায় খাপমতো লাগল না। তবে লেখকের পটেনশিয়ালটি আছে। কিছু সিন কল্পনা করে গা শিউরে উঠেছি।
বই ভালো। কিন্তু অনেক লম্বা করেছে গল্প। এর দরকার ছিল বলে মনে হয় না। অনেক ছোটখাট গল্প অনেক ডিটেইলস দেয়া হয়েছে। আর খুব বেশি বিস্তারিত বর্ণনা লেগেছে অনেক জায়গায়। আগের দুই বই এর তুলনায় এটার গল্প অনেক প্রাঞ্জল এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। লেখনী ভালো। সাবলীল ভাবে লেখা হয়েছে বলে পড়তে একঘেয়েমি আসে নাই। তবে শেষে টুইস্টের পরিমাণ বেশি মনে হয়েছে। আর শেষের দিকে যেভাবে সব মিলানো হয়েছে সেটা কিছুটা জোর করে বলে মনে হয়েছে। যদিও এটা ব্যক্তিগত মত, আশা করি লেখক ক্ষমাসুন্দর ভাবে দেখেবেন। আসলে হয়ত আমিই নিতে পারি নাই। সবমিলিয়ে ভালো বই। কিন্তু এই সিরিজের দ্বিতীয় বইটাকেই আমি এগিয়ে রাখব। আর হ্যাঁ এই সিরিজের বই আরো আসুক সেটাই চাই। বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি ঠিক আছে। বানান ভুল চোখে পড়ে নাই। আর বাঁধাই ভালো।
ফেসবুকে রিভিউ লিখা ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগেই, তবে এই বইটা নিয়ে না লিখলেই নয়। প্রকাশ হওয়ার প্রায় মাস দশেক পর পড়ে শেষ করলাম বাবু ভাইয়ের এনার্কিস্ট সিরিজের তৃতীয় কিস্তি "ইনসেন্টিয়া"। আমার মতে ৫১০ পেজের ইনসেন্টিয়া ছিলো এই সিরিজের প্রিক্যুয়েল। নিদারুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে সবকিছু, বিশেষ করে লাস্টের দিকে এত্তোগুলো টুইস্ট। এটার ক্ষেত্রেও একটা ইন্টারেস্টিং স্টোরি আছে, আমি সাধারণত লেখকের কথা বা ভূমিকা পড়ি না, তবে বুলেট পয়েন্টগুলো দেখে এক নজর চোখ বুলালাম। সেখানে বাবু ভাই আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন লাস্টের ১০০ পেইজ মনোযোগ দিয়ে পড়তে, তাই আমিও পড়ার স্পিড কম করেই পুরোটা বই শেষ করছি। এক কথায় দারুণ। আমি আসলে বইটার টুইস্টগুলো নিয়ে ওভারএক্সাইটেড তাই লিখাও ঠিকমতো হলো না, তবে শুধু এইটুকুই বলব যে অন্তত এই বইটার জন্যে হলেও এই সিরিজটা মাস্ট রিড।
বইতা ভালো ছিলো কিন্তু যদি আগের ২টার সাথে তুলনা করতে বলেন তাহলে এইটার রেটিং হবে ১.৫/৫ যার বেশ কিছু কারন আছে ১. বইটা ৫১২ পেজের আমার কাছে মনে হয়ছে ৩৫০ বা খুব বেশি হলে ৪২০ পেজে শেষ করার মত কাহিনী কিন্তু কেনো লেখক এত বেশি টেনেছে স্টার জলসার মত সেটা আমার মাথায় আসে নাই, ২. বইটা দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়া এর পার্ট তেমনটাই বুঝেছি কিন্তু পড়া শুরু করার পরে বুঝলাম এইটার কাহিনী দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়া শুরু হবার আগে যাকে বলে prequel যদি ভুল না করে থাকি। ৩। শেষ দিকে এসে আমি আসলে খুব বিরক্ত অনুভব করতেছিলাম পড়তে এর কারন এত প্যাচ ভালো লাগতেছিলো না যেটা না করলেও হত। শেষে আবারও বলবো আগের ২টা পার্টের তুলনা এইটা ভালো লাগে নাই তেমন।
'Wake up to reality' দেখেই তো মাদারার কথা মনে পড়ে গেলো। লেখক ও আমার মতো অবসেসড নারুতো ফ্যান নাকি? ইন্সেন্টিয়া তে অ্যাবসেন্টিয়া'র মতো ক্রেজি টুইস্ট ছিলো না, অনেক কিছুই প্রেডিক্ট করা গেছে। তবে অভারল স্টোরিটেলিং অনেক সাবলীল ও আমার পার্সোনাল ফেভারিট, ফাস্ট পেসিং। শার্লকের মরিয়ার্টি কিংবা ফেলুদার মগনলালের মতো একজন প্রতিপক্ষকে কি পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো ইন্সেন্টিয়ায়? সেটা জানার জন্য সিক্যুয়েলের অপেক্ষায় থাকবো।
জাস্ট এক কথায় অসাধারণ। তবে আমার কাছে এবার অনেক কিছু ক্লিয়ার৷। ভালো লেগেছে। সামনের অনেক কিছু ই মনে হচ্ছে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি । দেখি চতুর্থ খন্ড এ অনুমান কতটুকু মিলে।।
গত বছরের শুরুটা করেছিলাম " পিনবল " দিয়ে। তেমনি এই বছরের শুরুটাও করলাম লেখকের " ইনসেন্টিয়া " দিয়ে। পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত না লিখলেও সংক্ষেপে নিজের মতামত দেয়ার চেষ্টা করছি।
অ্যানার্কিস্ট সিরিজের তৃতীয় বই " ইনসেন্টিয়া " যা দিমেন্তিয়া, অ্যাবসেন্টিয়ার পরবর্তী কাহিনি না বলে প্রিকুয়েলের গল্প বলা হয়েছে। প্রিকুয়েল হলেও প্রথম দুইটি বই পড়া থাকতে হবে অবশ্যই। ৫১২ পেজের বইটির অধিকাংশ জুড়েই পলিটিকাল + মিস্ট্রি থ্রিলার আবহ বজায় রেখে এগিয়ে যায় এবং শেষের অংশে সবকিছু রিভিল হয়। তবে চরিত্��গুলো বইটির মূল আকর্ষণ বলে মনে হয়েছে আমার এর সাথে দারুণ লেখনী ও চমৎকার প্লট তো রয়েছেই।
অনেকেই সম্ভবত একটানে পড়ে গিয়েছেন তবে আমি খুব ধীরে সুস্থে পড়েছি। আমার মনে হয় বড় বইগুলোর ক্ষেত্রে চরিত্রসমূহের বেশ ভালো ভুমিকা থাকে বইটির সাথে জুড়ে থাকার। এখানেও একইভাবে চরিত্রায়ন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যা বেশ ভালো করেই লেখা হয়েছে। বইয়ের অন্যান্য সকল চরিত্রের পাশাপাশি মূল অ্যান্টাগনিস্টের চরিত্রের ক্ষেত্রে একটি প্যাটার্ন এবং স্টাইলাইজেশন বজায় রাখা হয়েছে যা সবাইকে আগ্রহী করে তোলে। অ্যাবসেন্টিয়ার পর এই চরিত্রের জন্য আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। যা আশাহত করেনি বরং আরো বেশি কিছু দিয়েছে।
বর্তমানে সকলে মূল চরিত্র থেকেও পার্শ্ব চরিত্রকে কিংবা এরকম অ্যান্টাগনিস্ট চরিত্রকে পছন্দ করে। যেমনটা আমরা ডেথ নোট এনিমে সিরিজের লাইট অথবা এল চরিত্রের ক্ষেত্রে কিংবা দ্য ডার্ক নাইট মুভির জোকারের ক্ষেত্রে দেখে এসেছি। এখানেও চরিত্রটা কিছুটা তেমনই। বইয়ের শুরু থেকেই অ্যান্টাগনিস্টকে কিছুটা লুকায়িত ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়। তাছাড়া কিছু চরিত্রের মাঝে কে সেই মূল খলনায়ক তা বই শেষের আগে বোঝা যায় না। চরিত্রটাকে সিরিজের নামের মতো নৈরাজ্যবাদী,ধ্বংসাত্বক বৈশিষ্ট্যের সাথে লেখা হয়েছে কিন্তু তাছাড়াও সে অনেকটাই শয়তানের মতো। যে মানুষকে খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করে এবং যার মাধ্যমে কোনো সমাজে বা কারো জীবনে ধ্বংস নেমে আসে এবং একইসাথে এই চরিত্রের সংলাপগুলোও অন্যভাবে লেখা হয়েছে,যা চরিত্রটিকে এক ভিন্নরূপ দিয়েছে।
চরিত্রের সাথে ইনভেস্টিগেশনের প্রক্রিয়াও বেশ ডিটেইলের সাথে দেখানো হয়েছে যা বইয়ের শুরুর দিকের স্লো আবহের মধ্যেও মনোযোগ ধরে রাখে। এতো পজেটিভের মধ্যেও হালকা নেগেটিভ বিষয় রয়েছে আমার মতে আর তা হলো প্রথম চারশো পেজ বই যেভাবে অগ্রসর হচ্ছিলো,শেষে এসে সব রিভিলের সময় সব খুব তাড়াতাড়ি হয়েছে। যদি শুরুর মতো ধীরে ধীরে রিভিল হতো তখন বেস্ট হতো। কেননা খুব ফাস্ট একের পর এক টুই্যস্টগুলো আসায় কিছুটা কনফিউজড হয়ে যাচ্ছিলাম তবে শেষ অব্দি সমস্যা হয়নি।
এখানে প্লটের সারসংক্ষেপ বা তেমন কিছু বলিনি, বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা পড়লেই বুঝতে পারবেন। সবশেষে মৌলিক থ্রিলার সিরিজগুলোর মধ্যে এটিও বেশ উপভোগ্য এক সিরিজ হতে যাচ্ছে। অতএব,ধন্যবাদ সকলেকে যারা সম্পুর্ণ পড়েছেন। #হ্যাপি রিডিং📖🖤