একাত্তরের মার্চ থেকে বাহাত্তরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের ঘটনাবহুল পর্বটি নিয়ে এ বই। এ পর্বের প্রধান চরিত্র শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর গ্রেপ্তার, বন্দিজীবন, মুক্তি ও দেশে ফিরে এসে কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার আখ্যান এ বইটি। এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অনেকটাই ছিল অজানা।
জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যু/* দ্ধের সময় নিয়ে আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা বইপত্র, ডকুমেন্টারি এবং বিভিন্ন দেশের খুলে দেওয়া আর্কাইভ পড়েছি, দেখেছি। হাকসার পেপারস, টিএন কাউল পেপারস কিংবা নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের লাইব্রেরিতে রাখা বিভিন্ন উপাত্ত ঘেটে আমি এই সময়টার বিভিন্ন বহুমাত্রিকতা বোঝার চেষ্টা করেছি। কারণ এই সময়টিকে একটি সরলরেখায় ভাবার সুযোগ নেই।
তবে এই সময়টিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অবস্থান বেশ প্রগাঢ়। যু/* দ্ধকালীন নয় মাস তিনি ছিলেন মিয়ানওয়ালি এবং ফয়সালাবাদ জেলে ব/* ন্দী। কিন্তু তার ইনফ্লুয়েন্স ছিল এতটা যে সেই সময়টায় যু/* দ্ধ পরিচালিত হয়েছিল তার নামেই। সরকার গঠন হয়েছিল তার নামে। এমনকি সেই সরকারের রাষ্ট্রপতিও করা হয়েছিল তাকেই।
সেই সময়টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভূমিকা এবং নানা বাঁকবদলের ঘটনা নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদ এই বইটি লিখেছেন। মহিউদ্দিন আহমদ আমার বেশ পছন্দের ইতিহাসবিশারদ এবং তার দেওয়া যেকোন তথ্যের অথেন্টিসিটি নিয়ে আমি খুব কমই দ্বিধায় থাকি। তা সত্ত্বেও এই বইয়ের কিছু ঘটনা ও তথ্য বিশ্বাস করতে গিয়ে আমাকে বেগ পেতে হয়েছে। আমি হয়তো সেই ঘটনাগুলির ওপর আরো কিছু আর্কাইভ পড়ে দেখব।
বইতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সেই সময়কার কিছু ঘটনার পুঙ্খানুপুণ্খ বর্ণনা আমি পেয়েছি যেটা ইতোপূর্বে অনেক বইতে পাইনি। যেমন মিয়ানওয়ালি জেলে থাকার সময় যে সাম/* রিক আদালত বসে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মনের অবস্থা কিংবা কার্যাবলী কেমন ছিল। পাকিস্তান তার জন্যে কয়েদীরূপে যে সিক্রেট এজেন্ট নিয়োগ করেছিল তার সাথে তার কথোপকথন কেমন ছিল। সেসব ব্যাপার বেশ কৌতুহলদ্দীপকভাবে উঠে এসেছে এই বইতে। এসব তথ্য ইতিহাস পড়তে ভালবাসা পাঠককে শুধু নতুন জানালাই খুলে দেবে তাই না, আরো নতুন তথ্য জানার আগ্রহও তৈরি করবে।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস পড়তে ভালবাসা পাঠকের জন্যে এই বইটি এক অবশ্যপাঠ্য।
বইয়ের নাম " একাত্তরের মুজিব " হলেও বইয়ের বড় অংশ জুড়ে আছে ৭২ সালের শেখ মুজিবও। বইয়ে স্থান পেয়েছে ২৫ শে মার্চ রাত থেকে শেখ মুজিবের কারাবন্দি জীবন এবং মুক্তি পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় দেয়া ইন্টার্ভিউ, ভাষণ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। শেখ মুজিবের পরবর্তী কালের অনেক কাজ এবং বাংলাদেশের পরবর্তী কালে যা হয়েছে, তা বুঝতে এগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনেককিছু সংযোজন করা যেত, এতে করে শেখ মুজিবের ধারাবাহিক চিন্তা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ধারার ক্রমবিকাশ বুঝতে সুবিধা হতো।