শোনা যাক এক সদ্য বিবাহিতা তরুণীর গল্প, যার ধারণা, সে কাক হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ঘুমালেই স্বপ্নে কাক হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে শহর জুড়ে। অথবা শোনা যাক এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গল্প, যে মানসপটে কাল্পনিক সব মৃত্যু দেখতে পায়। তবে প্রশ্ন হলো, মৃত্যুগুলো আসলেই কি কাল্পনিক? কিংবা অবসরপ্রাপ্ত এক কর্নেলের গল্প শোনা যেতে পারে, যার বিশ্বাস, সে মৃত। অথবা বলা যেতে পারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখা পাওয়া এক পৌরাণিক শয়তানের গল্প। এই রহস্যগুলোর সমাধান কী? মাঠে নামলেন সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদ। খুঁজে বের করলেন অকল্পনীয় সব সত্য। এমন অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক, কল্পবৈজ্ঞানিক ও রহস্য গল্প নিয়ে লেখা মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর বই "মৃত্যুচক্র"। যার পাতায় পাতায় রোমাঞ্চ ও টুইস্ট আন্দোলিত করবে পাঠকের মনোজগৎ।
Mohammad Mohaiminul Islam, known as Mohaiminul Islam Bappy is a Bangladeshi thriller and SciFi writer. Born in Barisal. Grew up in Chittagong. Currently Living in Dhaka. He completed B. Sc. (Hon's) and M. Sc. (Thesis) from the University of Chittagong. His first novel "Je Shohore Golpo Lekha Baron" (The Town is Forbidden for Storytellers) was published by the renowned Bangladeshi publisher- Batighar Prokashoni in 2020.
তো ঘটনা হলো মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী কে আমি চিনি তার বইগুলোতে আনা ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া গুলোর জন্য। এই বইমেলায় লেখকের দুটো বই বের হয়েছে। আমি 'মৃত্যু চক্র'-র জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কারণ, এটি একটি গল্পসংকলন। ছোটগল্পে দারুণ সব বুদ্ধিদীপ্ত গল্প পাওয়া যাবে সেই আশায় বইটা পড়ে ফেলেছি তাড়াতাড়িই। সূচীতে দেখলাম বইটিতে ৩০টি গল্প!! বইয়ের পৃষ্ঠাসং্খ্যা ৩০০। মানে গড়ে ১০ পৃষ্ঠার গল্প একেকটা। হিসাব করে ছোট একটা সন্দেহ হলো...
লেখক রীতিমতো আইডিয়ার বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন এই বইতে। ৩০টি গল্পে, ৩০রকম আইডিয়া, টপিক। এতগুলো গল্পের শুরুর গুলো ছিলো সাইকোলজিক্যাল, মাঝের গুলো সায়েন্স ফিকশন, শেষের গুলো আধিভৌতিক। আধিভৌতিক গুলো ভালো বিশেষ লাগেনি। বাকিগুলো ভালোই লেগেছে, অন্ততঃ প্লটের জন্য।
আমার তিনজন খুব কাছের বন্ধু আছে, তিনজনই গল্পের মানুষ। একজনের সিনেমা বানানোর স্বপ্ন। আমরা যখনই একসাথে হই, আমরা নানা রকম আইডিয়া ব্রেইনস্টোর্মিং করতে থাকি। মুখে মুখে গল্প বানাতে থাকি। প্লট বলতে থাকি। সূচী দেখে আমার যে সন্দেহ হচ্ছিলো, এইজন্যই হচ্ছিলো। এত অল্প ব্যপ্তিতে এতগুলো আইডিয়ার সমাবেশ কি আদৌ গল্পের মান ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি নিছক ব্রেইনস্টোর্মিং হয়েছে?
আমার সন্দেহ অমূলক হয়নি। হয়তো সবগুলো গল্পই সুখপাঠ্য। বা নতুন নতুন যারা এই ধরণের লেখা পড়ছেন তাদের ভালো লাগতে পারে। এমনকি মিশ্র জনরার প্রথম দিককার পাঠ হিসেবে এই বইটিকে রেকোমেন্ডেও করা যেতে পারে। তবে প্রায় গুলোই পরিচিত পরিচিত গড়নের গল্প, অভিনব কোনো আইডিয়ার উপস্থাপন ছিলনা এতে। হাতে গোনা দু-চারটা গল্প মনে হয়েছে চমৎকার। বেশিরভাগই সরাসরি জাস্ট একটা প্লটের প্রয়োগ। সময় না নেয়ায় আমার ধারণা বিশেষ অভিনব লাগেনি। পৃষ্ঠাসং্খ্যা বেশি হলেই জমতো এমনটা নয়। বিল্ডাপ হয়নি আরকি। কেমন যেন একটা তাড়া, একটা আইডিয়া এসেছে, তাড়াতাড়ি লিখে ফেলি...এমন। গল্প পড়ে বিশেষ আরাম পাইনি। গোগ্রাসে গিলেছি বিষয়গত বৈচিত্র্য। লেখকের ঝুলিতে গল্পের অভাব আছে বলে আমার মনে হয়না। অভাব বোধ করলাম, গল্পের গঠন বা মানের। আশা করি লেখক আরও সুন্দর গল্প সামনে উপহার দেবেন পাঠকদের।
[ উল্লেখ্য, লেখক জিব্রান আহমেদ নামের একজন সাইকোলজিস্ট কে পরিচিত করাতে চাচ্ছেন এটা এই বই বা আগের লেখা পড়ে ইতোমধ্যে ধারণা পাওয়া গেছে। জিব্রান আহমেদ দেশিয় ছাঁচের সাইকোলজিস্ট দের তুলনায় একদম বিপরীত। অভিজাত, তরুণ, টিপটপ, সুদর্শন, দেশি বিদেশি ডিগ্রিধারী, ক্ষুরধার বুদ্ধিমান একজন সাইকোলজিস্ট। বইয়ের অনেকগুলো গল্পে তাকে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। যুক্তি, বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন বিভিন্ন রহস্যকে। এই চরিত্রটার বিল্ডাপ সুন্দর হচ্ছে। ঠিকমতো নজর দিলে দারুণ একজন ক্যারেক্টার পেতে পারি আমরা!]
ফ্ল্যাপ থেকেঃ শোনা যাক এক সদ্য বিবাহিতা তরুণীর গল্প, যার ধারণা, সে কাক হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ঘুমালেই স্বপ্নে কাক হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে শহর জুড়ে। অথবা শোনা যাক এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গল্প, যে মানসপটে কাল্পনিক সব মৃত্যু দেখতে পায়। তবে প্রশ্ন হলো, মৃত্যুগুলো আসলেই কি কাল্পনিক? কিংবা অবসরপ্রাপ্ত এক কর্নেলের গল্প শোনা যেতে পারে, যার বিশ্বাস, সে মৃত। অথবা বলা যেতে পারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখা পাওয়া এক পৌরাণিক শয়তানের গল্প। এই রহস্যগুলোর সমাধান কী? মাঠে নামলেন সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদ। খুঁজে বের করলেন অকল্পনীয় সব সত্য। এমন অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক, কল্পবৈজ্ঞানিক ও রহস্য গল্প নিয়ে লেখা মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর বই "মৃত্যুচক্র"। যার পাতায় পাতায় রোমাঞ্চ ও টুইস্ট আন্দোলিত করবে পাঠকের মনোজগৎ।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বর্তমান সময়ে যারা লেখেন, তাদের মধ্যে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী আমার খুব প্রিয় একজন লেখক। বলা যায় উনার সবগুলো বই-ই আমি সংগ্রহ করেছি। (গতবছর প্রকাশিত 'শূন্যবিন্দু' ওই বছরে আমার সবচেয়ে প্রিয় বই ছিল, একটা তীব্র ভাবনার খোঁড়াক রেখেছিল।)
মৃত্যুচক্র বইটি নিয়ে বললে, বইটিতে মোট ৩০টা গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর ধরণগুলো আসলে সংজ্ঞায়িত করা মুশকিল। সাই-ফাই ও সাইকোলজির দারুণ একটা মেলবন্ধন রয়েছে। এই লেখকের সবচেয়ে বড় গুণ তার লেখার ধরণ ও ব্রেইনস্টর্মিং করা। পাঠকদের চিন্তা চেতনা, ব্রেইন নিয়ে খেলা। উনার লেখায় নিজস্ব একটা সহজ ও সাবলীল স্টাইল আছে, সেই সাথে আছে পাঠককে মুগ্ধ করে গল্প বলার ধরন।
প্রথমে বইটির পজিটিভ দিক বলি, বেশিরভাগ গল্প সত্যিই চমৎকার। গল্পগুলোর পরতে পরতে রহস্য ও মাথা নষ্ট করা সব থিওরি! গল্পের শেষে আছে এক দারুণ টুইষ্ট যা খুব সহজেই পাঠকদের ভালে লাগবে! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায় এমনসব গল্প। চুম্বকের মতো টান গল্পগুলোতে আছে। গল্পের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ধরে রাখবে অজানাকে জানার আকর্ষণ। এককথায় পয়সা উসুল বই।
আর নেগেটিভ বলতে বইয়ের কিছু গল্প অতটা মন ভরাতে পারেনি। কেননা শুরুটা ভালো হলেও শেষে দিকে এসে গল্পটা একদম খাপছাড়া লেগেছে। কিছু গল্প প্রেডিক্টটেবল ছিলো, গল্পের শুরু থেকেই অনেকটা পরবর্তীতে কি হবে আঁচ করতে পারছিলাম।
বাপ্পী ভাই নিজের তুলনা উনি নিজেই, সুতরাং পাঠক হিসেবে তাই বরাবরের মতো প্রত্যাশাও অনেক বেশিই থাকে এবং বইটাও বরাবরের আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে।
বইটির প্রচ্ছদ দুর্দান্ত লাগলো কিন্তু বেশ দামী করেছে। সবাই ভেবে কিনবে। বইটি আমি আর আমার বন্ধু মিলে কিনে পড়লাম।প্রায় অর্ধেকটা পড়ার পর বুঝলাম গল্পটা আমায় খুব একটা আকর্ষিত করছেনা। কারণ প্লট টা ভৌতিক স্তরে ছুঁয়েছে থ্রিলার অনুভূতি হারিয়েছে একেবারে। লেখকের লিখতে যাওয়ার আরেকটু গুছিয়ে নিতে হতো যেটা অভাব পেলাম। বলে রাখি - আমি খুব একটা ভালো রিভিউ লিখতে পারিনা । এইটুকু নিজের মত প্রকাশ করার প্রচেষ্টা মাত্র।
৩.৫/৫ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের বিভিন্ন গল্প। লেখকের উপন্যাসের প্লটের মত গল্পগুলোর প্লটও খুব ইন্টারেস্টিং৷ কয়েকটা অসাধারণ ছিলো, বাকিগুলো অ্যাভারেজ। তবে অনেক নতুন টার্মস সম্পর্কে জানা গেলো।