বৃত্তবন্দী মানুষের গল্প ‘ফোর ইসটু ওয়ান’। ১২টি গল্প আছে বইয়ে। গল্পগুলো পাঠকের চেনা। কিন্তু আলভী আহমেদ চরিত্রগুলোর ভেতর থেকে তাদের অনুভূতিগুলো যে-প্রক্রিয়ায় বের করে আনেন সেটি নতুন। চেনা গল্পের এই নতুন ভঙ্গিই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শেষ পর্যন্ত।
এই বই সম্বন্ধে আমার প্রথম অভিব্যক্তি ছিলো নেতিবাচক। কারণ? ইংরেজি নামের প্রতি লেখকের অত্যাধিক দুর্বলতা।পড়া শেষ করে অবশ্য সবমিলিয়ে ভালোলাগার পরিমাণটাই বেশি।গল্পগুলো কি প্রেমের? গল্পগুলোয় প্রেম আছে এটা সত্যি। তবে প্রেমের গল্প বলতে যা বোঝায় গল্পগুলো ঠিক যেন তা নয়। অবশ্য এখন "জীবনমরণ প্রেম" এরও সময় নয়। তাই গল্পে ছাপ পড়েছে সমকালের। আলভী আহমেদের গদ্য স্বাদু ও মজলিশি। মনে হবে, সামনে বসিয়ে কেউ মজা করে গল্প বলে যাচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে গল্পের বহিরাঙ্গ হালকা বা চপল।একটানা পড়ে ফেলা যায়।গল্পের চরিত্রদের বিচিত্র ও অভিনব জগতে বিচরণ করতে করতে মন ভালো হয়ে যাওয়ার বা উদাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।লেখকের ভাষা কখনো কৌতুক ও হাস্যরসে ভরপুর, আবার কখনো কখনো তার গদ্য হয়ে উঠেছে কবিতা। গল্পগুচ্ছের নব্বই ভাগ ঝলমলে হাসির আড়ালে লেখক খুব সাবধানে, প্রায় চোখে না পড়ার মতো করে মিশিয়ে দিয়েছেন বিষণ্ণতা। অল্প কিন্তু তীব্র। উজ্জ্বল আলোর মাঝে চোখে চিকচিক করতে থাকা সেই অশ্রুবিন্দু অনেকের চোখে না-ও পড়তে পারে।কিন্তু লুকানো সেই অশ্রুবিন্দুর জন্যেই "ফোর ইসটু ওয়ান" মনে থাকবে। দ্য সার্কেল, আ জার্নি বাই প্যাশন, ফুলের ব্যাপারে আমার বিশেষ আগ্রহ নেই, টিশার্ট, ফোর ইসটু ওয়ান, মৃধা ভার্সাস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড গল্পগুলোর কোথাও না কোথাও আমরা আছি।এগুলো আমাদেরই গল্প।
আলভী আহমেদের লেখার সাথে আমার পরিচয় প্রথম আলোর ট্যাবলয়েডের পাতায়। 'ফুলদানি,আপেল ও কিন্ডেল' নামের মিনিমালিস্টিক ছিমছাম ধরনের গল্প ছিল সেটা। পরিসরে ছোট হলেও হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো যে মিষ্টি রেশটা মুখে রেখে গিয়েছিলো তার জোরেই পরে আরও বার কয়েক পড়েছিলাম গল্পটা।
এমন কিন্তু না যে উনার গল্প দূরাগত,অচেনা কোনো ঘটনাকে ঘিরে ডালপালা মেলে, বরং আমাদের খুব চেনা পরিচিত ঘটনার প্রতিবিম্বই যেন প্রতিফলিত হয় এসব গল্পের আদলে। ছোট ছোট বাক্য আর ইন্টারেকটিভ ন্যারেটিভের সমন্বয়ে আলভী আহমেদ গল্প বলেন বেশ বৈঠকী ঢঙে। আধো আলো আধো আঁধারে মোড়া দহলিজে বসে শোনা সেসব গল্প, কিংবা বলা ভালো,সেসব অনুভূতির ছদ্মবেশ জ্যা মুক্ত তীরের মতো বাতাস কেটে আমাদের মনকে আক্রান্ত করে। আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোতে আমাদের মনস্তত্বকেই যেন স্কালপেল দিয়ে চিরে চিরে একেকটা গল্পের একেকটা চরিত্রের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েছেন তিনি। একটার পর একটা দৃশ্য গল্পকার তৈরি করছেন,কিন্তু সেগুলো অতটা অস্থির না। প্রতি সেকেন্ডে বদলানো ২৪ টা ফ্রেম আলাদা আলাদা করে দেখলে তেমন হেলদোলও হয়তো চোখে পড়বে না। কিন্তু তারপরই ঘটে ছোট অথচ তীব্র রকমফের। আর সেই রকমফের খুব শান্ত কোনো দীঘির জলে হঠাৎ একটা বড়সড় ঢিল পড়লে যেমন আড় তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে উৎস থেকে পাড়ের দিকে,তেমনি একটার পর একটা অনুভূতির বিন্দুগুলোকে আন্দোলিত করে যায়।
'ফোর ইসটু ওয়ান' সংকলনের এক ডজন গপ্পের প্রায় সব কটাই উত্তমপুরুষের জবানিতে বলা। তার মাঝে অনেকগুলো মনোলগ বা স্বগতোক্তি প্রধান। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে,হাইপারলিঙ্ক সিনেমার মতো এক গল্পের চরিত্র অন্য গল্পে ঢুকে পড়ছে,তাকে যাচ্ছে ভিন্ন গল্পে ভিন্ন রূপে। গল্পগুলো মাল্টিলেয়ারড হলেও কমন থিম ঘুরে ফিরে গেছে প্রেমের দিকে। বিষণ্ণতা,একাকীত্ববোধ,না পাওয়ার অপূর্ণতার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে প্রেমের চোরাগোপ্তা স্রোত। বইটা পড়তে গিয়ে গতবছর পড়া রেমন্ড কারভারের "What We Talk About When We Talk About Love" বইটার কথা মনে পড়ে গেল।
'দ্য সার্কেল' গল্পটার কথাই ধরি। এ যেন আমাদের রোজকার জীবনেরই প্রতিধ্বনি। আমরা সবাই নিজেদের চারপাশে একটা বৃত্ত বানাই। সেই বৃত্তের পরিধির মধ্যে মানুষেরা আসে,হাসে-খেলে,বদলে যায়। কিন্তু বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু বদলায় না কখনো। খুব ইন্টারেস্টিং মনোলগ দিয়ে গল্পটার শুরু। দ্রুত মনোযোগকে ধরে ফেলে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলে। '২০১৯ সালের নভেম্বর মাসটা আমি মুন্সিগঞ্জের এক রিসোর্টে কাটিয়েছিলাম। পুরো মাসে কোনো বই পড়িনি, ছবি দেখিনি, গান শুনিনি, মাস্টারবেট করিনি, এক লাইনও লিখিনি। কারও সাথে দেখা হয়নি আমার। ফোন বন্ধ বলে আমাকে কেউ খুঁজে পায়নি। খোঁজার প্রয়োজনও বোধ হয় ছিল না। দিনের বেলা রিসোর্টের পুকুরপাড়ে আমি চেয়ার পেতে চুপচাপ বসে থেকেছি। আর রাতে বিছানায় শুয়ে মাথার ওপরে ফ্যান কীভাবে ঘোরে এই রহস্যের একটা হেস্তনেস্ত করেছি। আমি কোথায় আছি, কেউ জানত না। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, পুরো মাসে আমি এক ফোঁটা মদ খাইনি। পৃথিবীর কোথায় কী হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তাতে করে পৃথিবীর যে বড় কোনো ক্ষতি হয়েছিল, তা নয়। আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার সাথে পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছে সে মাসে। পারস্য উপসাগরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অ্যামাজন ফরেস্টে আগুন লেগেছে এবং যথাসময়ে নিভেও গেছে। পৃথিবী চলেছে তার নিজস্ব গতিতে।'
এমন নির্লিপ্ততা কিন্তু চলতে ফিরতে হঠাৎ হঠাৎ আমাদেরও পেয়ে বসে। এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা জেঁকে ধরে সমগ্র সত্ত্বাকে। গল্পের কথক আর আমরা কি তাহলে আলাদা কেউ নই? সেও কোনোকিছুর থেকে এভাবে পালাতে চায়? কী সেটা? এভাবে একটু একটু করে গল্পে জড়িয়ে যেতে থাকি।
একে একে 'ফোর ইসটু ওয়ান', 'টিশার্ট', 'আ জার্নি বাই প্যাশন','ফুলের ব্যাপারে আমার বিশেষ আগ্রহ নেই' গল্পগুলোর কোথাও না কোথাও আমরা নিজেদেরকেই খুঁজে পাই। আমাদেরই গল্প যেহেতু,সেহেতু অনেকটাই প্রেডিক্টেবল হবে সেটা অস্বাভাবিক না। তারপরও স্টোরিটেলিংয়ের জোরে পড়তে থাকি। এর মাঝে 'টিশার্ট' আর 'সুখপাখির খোঁজে' গল্প দুটোর প্রজেকশন ঘটেছে লেখকের সাম্প্রতিকতম উপন্যাস লোনলি অক্টোবরে। 'সুখপাখির গল্প' সংকলনের অন্য গল্পগুলো থেকে একটু আলাদা। মেটাফোরিক্যাল, একটা গতিশীলতার মাঝে আটকে ফেলেছে যেন। আখাউড়া রেললাইন নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা রোগাপটকা এক কিশোর বাবলু,যে কিনা খুঁজে বেড়ায় সুখপাখি নামের এক কিংবদন্তির পাখিকে যাকে একবার দেখলে কোনো দুঃখ আর তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। সে যখন নির্ঘুম রাতের ভাবনায় আমাদের আলগোছে জানিয়ে দেয়,'আমার প্রত্যেকটা দিন যেন ঠিক আগের দিনডাই,ফটোকপি একেবারে।' শুনে আমাদের মনে হতে থাকে, সে আসলে ফাইট ক্লাবের ন্যারেটরের কথারই প্রতিধ্বনি করে আমাদের বুঝিয়ে দিতে চায় আমাদের প্রতিদিনকার হিজিবিজি জীবনের মানে। 'আ জার্নি বাই প্যাশন' খানিকটা পরাবাস্তব ঘরানার। এটাকে বলা যেতে পারে,লেখকের 'জীবন অপেরা' উপন্যাসের পেছনের গল্প। সুমন রহমানের 'নিরপরাধ ঘুম' বইয়ে একটা গল্প ছিল 'হাবা যুবকের হাসি' নামে। 'মৃধা ভার্সেস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড' সেই পুরোনো স্মৃতিকেই যেন উসকে দিলো। ব্রাইট একটা গল্প। মৃধার চিন্তাভাবনা প্রচল না হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় এই ইউটোপিয়াগুলোকে গল্পে ধরে রাখার প্রচেষ্টা জারি থাকুক। চেনা গল্পের নতুন ভঙ্গিই নাহয় আমাদেরকে চিনে নিতে শেখাক বালির উপর নিজেদের ফেলে আসা পদচিহ্নকে।
সাড়ে তিন তারা। লেখায় বেশ নাজুক, ভঙ্গুর একটা ব্যাপার আছে, যেটা ভালো লেগেছে। তবে কিছু গল্���ের বিষয় ও লেখনী অতি-পরিচিত লাগায় সামান্য হতাশ হয়েছি। এছাড়া-
যা ভালো লেগেছে:
আধুনিক বাংলা গল্পে একদম সহজ, প্রতিদিনের ভাষায় প্��তিদিনের জীবনকে দেখা আর জীবনকে বড়ো মাপের ন্যারেটিভে ধরার চেষ্টাটা আমার বেশ ভালো লাগে। এই বইয়ের গল্পগুলোতেও তেমন একটা চেষ্টা আছে। লেখকের মতো আমিও একসময় বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করতাম, কপিরাইটার ছিলাম। সে জগতের মানুষগুলো এবং তাদের কথা বলার ধরন যথেষ্ট নিখুঁতভাবে এই বইয়ে এসেছে।
গল্পগুলোতে একাকীত্ব শব্দটা বারবার ব্যবহৃত না হলেও থিমটা অনেকবার এসেছে। ঢাকার মানুষের নির্দিষ্ট একধরনের নিঃসঙ্গতা আছে। যা আসে মূলতঃ যোগাযোগের অভাবে, নিজের এক্সপেকটেশন আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক না বোঝার কারণে। নিজের ভেতর বন্দী আমরা, তাই কোটি কোটি মানুষের শহরেও কাউকে আপন মনে হয় না। সেই একাকীত্ব দেখেছি ফোর ইসটু ওয়ান-এর অনেকগুলো গল্পতে।
রিভিউয়ের শুরুতে যে নাজুক ব্যাপারটা বললাম, সেটাও আছে প্রায় প্রতি গল্পে। আমি যা পারি না, এই লেখক তা পারেন। নিজের প্রায় প্রতিটা চরিত্রের প্রতি তার মায়া আছে। সেটা লেখায় বেশ সুন্দর একটা আবহ নিয়ে আসে।
যা ভালো লাগেনি
এটা ঠিক লেখকের দোষ নয়। তবে আমার ধারণা তার লেখা নিয়ে যথেষ্ট প্রশংসা শোনার সৌভাগ্য তার এখনও হয়নি। তাই নিজের লেখার বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাস একটু নড়বড়ে। বা হয়তো পাঠককে নিয়ে তার আশা কম। তাই বেশ কিছু গল্পের ধরন বেশ পরিচিত, গতানুগতিক। যেখানে ঝুঁকি নিয়ে লেখাটাকে আরেকটু দূরে ঠেলা যেতো (যেমন মৃধার গল্পটা), সেখানে তিনি নিরাপদ রাস্তা বেছে নিয়েছেন।
ঢাকা শহরে বসবাসকারী বোহেমিয়ান চরিত্রগুলো গল্পে সবাই কেমন যেন একরকম হয়ে যায়। এখানে কবিসত্বা মানে আলসেমী, চাকরিতে ব্যর্থতা, টাকাপয়সার টানাটানি। এখানে ছন্নছাড়ারা পাপ বলতে যা করে, তা মদ-গাঁজা খাওয়া আর মেয়েদের সাথে ঢলাঢলি করার বেশি কিছু হয় না। এখানে কবিরা অস্ত্র পাচারকারী হয় না, ডিপ্লোম্যাট হয় না, এখানে শিল্পীরা শুধু ছবিতে আঁকা মানুষের কান কাটে। এগুলো বেশ বস্তাপচা স্টেরিওটাইপ মনে হয় আজকাল। হিমু না হলে কি কবি-সাহিত্যিক হওয়া সম্ভব না? হিমু তো আছেই, আমরা অন্য কিছু টাইপের বোহেমিয়ান দেখি এবার?
সব মিলিয়ে বইটা বেশ ঝরঝরে আর লেখা অত্যন্ত আধুনিক। সুযোগ পেলে লেখকের একটা অন্তত উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা আছে।
ছোট্টবেলায় একটাকায় চারটা লজেন্স পাওয়া যেতো। হলুদ লাল কাগজে মুরানো সেই কমলা রঙের লজেন্স কখনো কামড়ে খেতাম না। অনেকক্ষণ মুখে পুরে বসে থাকতাম।
গল্পের বা কবিতার বই আমার কাছে অনেকটা সেই কমলা রঙের লজেন্সের মতন। হুরমুর করে পড়তে নেই। একটা গল্প বা কবিতা পড়ে সেটার রেখে যাওয়া অনুভূতিকে উপভোগ করতে হয়। মনের ভেতর নাড়াচাড়া করতে হয়।
'ফোর ইসটু ওয়ান' গল্পের বই। ১২ টা গল্প নিয়ে। ছোটখাটো বই চাইলে একটানে পড়ে ফেলা যায়। তবে গল্পের বই নিজেই সময় ডিমান্ড করে। একটা গল্প পড়ি ঝিম ধরে থাকি তারপর আবার আরেকটা পড়ি... ঝিম...পড়ি...ঝিম...
আলভী ভাইয়ের গল্পের চরিত্রগুলোকে আমার কাছে বেশ নির্লিপ্ত ধরনের লাগে। অথচ ভেতরে কি অদ্ভুত রকমের ঝটফটানি থাকে। যেন কাচের বোতলে ভরা কোকাকোলা। সবটুকু প্রাণশক্তি নিয়ে বোতলে আটকে আছে।
'দ্য সার্কেল' গল্পের ছেলেটির মতন আমাদেরও মনের একটা খুঁটি দরকার হয়। এমন একজনকে লাগে দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলেও যাকে মনে করে আলোর সন্ধান করা যায়। হতে পারে সে বন্ধু বা প্রেমিকা অথবা বউ, মা অথবা বাবা, বোন বা ভাই। মোটকথা যার কাছে আত্মা শান্তি পায়।
'রোদ মেখো সূর্যমুখী' বইয়ের মেয়েটিকে বিন্দাস লেগেছে যদিও সমাজ তাকে বিন্দাস থাকতে দিচ্ছে কই! এ যেন আমাদেরই গল্প।
'টি শার্ট' গল্পে যে চলে গেছে তার জন্য ছেলেটি কষ্টে মরে যাচ্ছে না তবে আজকাল সব সময় তার দেয়া টি শার্টটাই পরে থাকে। আহা! মায়া।
'মালাই চা'য়ের মেয়েটি বেঁচে আছে তাতেই ছেলেটি খুশি। যাকে ভালোবাসি তার ভালো চাই। এটাই ত ভালোবাসা নাকি?
'মৃধা ভার্সাস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড' গল্পটিকে আমার কাছে বুদ্ধিমানের গল্প মনে হয়েছে। লেখক মৃধাকে দিয়ে যা বলার তা বলিয়ে নিয়েছেন এবং তার কোন দায় কাধে না নিয়ে। সবগুলো থেকে এই গল্পটাকে একটু অন্য রকম লেগেছে। এই অন্যরকম লাগাটাও অবশ্য পজিটিভ দিকে।
'প্রাইস ট্যাগ' আশ্চর্য আমিও অনেকটা এই ছেলেটার মতন করে জিনিসের দামকে দেখি।
আলভী ভাইয়ের লেখার সাথে পরিচয় একটা ছোটগল্প দিয়ে। তার গল্পগুলো সমসাময়িক জেনারেশনকে ধরে। এই সময়ের গল্প বলে। গল্পগুলো বেশি প্যাচানো নয় তবে তাতে ভাবনার খোরাক থাকে। এমন ধারাই চলতে থাকুক...
বইয়ের প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। রঙিন হলেও কটকটে নয়। চোখে আরাম লাগে দেখতে। আর বইয়ের বাঁধাই দারুন। ধরতেও আরাম আরাম লাগে। কাগজের নাম জানি না তবে এই হলুদাভ কাগজটা ভালো লাগে ভীষন।
লেখনী, প্রচ্ছদ, বাঁধাই, কাগজ সব মিলিয়ে চমৎকার একটা বই হয়েছে।
আলভি আহমেদের সাথে পরিচয় ঘটে মুরাকামির বইগুলোর করা অনুবাদের মাধ্যমে। এবার পরিচয় ঘটলো লেখক এবং গল্পকার আলভি আহমেদের সাথে। 'ফোর ইসটু ওয়ান' গল্পগ্রন্থে মলাট বদ্ধ হয়েছে বারোটি গল্প। তার লেখা গল্পে যে জিনিসটা প্রথমে চোখে পড়ে তা হলো খুব সহজ এবং সাবলীল গদ্য। কোনো জটিল মারপ্যাঁচ নেই, সুখপাঠ্য। আর লেখকের লেখা পড়ার সময়ে আরেকটা অনুভূতি ঠোকর দিতে থাকে। পড়তে পড়তে মনে হবে এসব গল্প আমার আপনার চারপাশের গল্প। চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী অথবা আপনার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর অকপট বিবৃতি। সত্যি বলতে প্রথম গল্প 'দ্য সার্কেল' পড়ে মাত্রই এমন মনে হয়েছে। কারণ এইরকম অহরহ সুন্দর এবং বিষন্নতা মাখানো গল্প আমাদের চারপাশে ঘুরছে। আরেকটা কথা স্বীকার করতে হবে, তা হলো লেখক প্রতিটা গল্পের সাথে যেন বিষন্নতা মিশিয়েছেন পরিমিত ভাবে। মানুষের না পারার গল্প, ব্যর্থতার গল্প অথবা চাকরিচ্যুত কোন মানুষের গল্পকে নিয়ে এসেছেন চমৎকার ভাবে। তবে কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে কিছু একটা মিস করে যাচ্ছি। গল্পগুলো সাবলীল এবং প্রাঞ্জল হলেও একটা শূন্যতা মাঝে মাঝে পাতা মোচড়ে বের হয়ে আসে। আর একই নাম দুই-তিনটা গল্পে ব্যবহার এবং কিছু সুক্ষ্ম বিষয়ের পুনরুক্তিও দেখা যায়। তবুও দ্য সার্কেল, রোদ মেখো সূর্যমুখী ফুল, আ জার্নি বাই প্যাশন, ফোর ইসটু ওয়ান, 'মৃধা' ভার্সাস 'রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড', অন্ধকারের গান, সুখপাখির খোঁজে এর মতো গল্পগুলোর রেশ রয়ে যায় অনেকক্ষণ। বিশেষ ভাবে বললে 'সুখপাখির খোঁজে' গল্পটার কথা বলতে হয়। এই গল্পটি পুরো গল্পগ্রন্থের অন্যান্য গল্পগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। গল্পের মেটাফোর আপনাকে নীরবে বলে যায় অনেক কথা। সেইরকমই, 'মৃধা' ভার্সাস 'রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড' গল্পটিও অন্যধর্মী এবং পছন্দের।
আলভী আহমেদের কোনো কাজ বা অনুবাদ আগে পড়া হয়নি। রাজশাহী বাতিঘরে ফোর ইসটু ওয়ান নাড়াচাড়া করতে গিয়ে প্রথম কয়েক লাইন পড়ে ভালো লাগায় কিনে ফেললাম। ওখান থেকে কেনা প্রথম বই এটাই। যাইহোক, ফোর ইসটু ওয়ান বেশ কিছু গল্পের সংকলন। বইয়ের শুরুতেই লেখক বলে দিয়েছেন উনি গল্প বলেন না,নিজের অনুভূতিগুলো শে���়ার করেন। পড়তে গিয়ে তার কথার সত্যতা মিলেছে। ট্র্যাডিশনাল ছোট গল্পের মত গৎবাঁধা নয় গল্পগুলো। গল্পগুলোর থিম অনেকটা একাকীত্ব, ব্যাচেলর জীবন, কিছুক্ষেত্রে প্রেম-বিরহ। দুয়েকটা গল্পে পরাবাস্তব ভাবটাও লক্ষ করা গিয়েছে। তবে সেটা জোর করে ঢোকানো নয়। তেমন কোনো এক্সপেরিমেন্টের সাহস দেখাননি লেখক। বলতে গেলে সাবলীলভাবে লিনিয়ার গল্পই বলে গিয়েছেন। গদ্য সাবলীল, একটানা পড়ে আরাম পাওয়া যায়। তবে একটা কথা না বলে পারছি না, গল্পগুলোয় মুরাকামির ছাপ কিছুটা লেখকের অবচতনেই চলে এসেছে হয়তো। তবে ব্যাপারটা মন্দ লাগেনি।
পুরো বইজুড়ে এক ধরণের শীতল নির্লিপ্ততার আভাস আমরা খুঁজে পাই। আপাত সাধারণ চরিত্রগুলোর গভীরে গেলে বোঝা যায় লেখক বেশ কসরত করে তাদের সাধারণ রূপ দিয়েছেন। চরিত্রদের প্রতি তার মায়া কিন্তু ভীষণ। পাঠকদের প্রায়শই মনে হবে, লেখক বুঝি তাদের নিয়েই লিখেছেন। কিছু গল্পে মিলবে সেই 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ' এর রেশ। ১২ টা গল্প, আমার কাছে ১২ টাই ভালো লেগেছে। আলভি আহমেদের পড়া আমার প্রথম বই এটাই।
পুরো বইয়ে আরেকটা কমন থিম হচ্ছে একাকীত্ব। এই একাকীত্ব আবার নানা ধরণের। কখনো প্রচণ্ড ভিড়ে, কখনো চার দেয়ালের মাঝে, কখনো শপিং মলে বা কখনো অফিসে। একমাত্র ব্যতিক্রম 'সুখপাখির খোঁজে'। গল্পটা দারুণ, কিন্তু একটু আউট অফ প্লেস মনে হয়েছে আমার কাছে। কোন গল্পেই কিন্তু সেরকম কোন মোচড় নেই, তবুও স্টোরিটেলিংয়ের জোরে তরতর করে পড়ে ফেলা যায়।
ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে পছন্দের 'দ্য সার্কেল' এবং 'প্রাইস ট্যাগ'। কয়েকটা গল্পের প্রধান চরিত্রের 'ভাঙবো কিন্তু মচকাবো না মনোভাব' দেখে তাদের মত হতে ইচ্ছে করে।
হারুকি মুরাকামির বইয়ের অনুবাদ কর্মের কারণে আলভী আহমেদ পরিচিত এক নাম। তাঁর গল্প সংকলন গ্রন্থ 'ফোর ইসটু ওয়ান'।
গল্প অথবা ছোটগল্প আমার বরাবরের মতই প্রিয়। যদি লেখক ঠিকঠাক মতো লিখেন আর কি। আলভী আহমেদ ঠিকঠাক লিখেছেন কিনা কিভাবে বলি?
উল্লেখিত বই ১২ টি গল্পের সমন্বয়ে তৈরি। লেখকের মতে তিনি আমাদেরই বিভিন্ন অনুভূতিকে গল্পের ক্যামোফ্লাজে লিখেছেন। বইটি পাঠ শেষে মনে হলো খারাপ বলেন নি লেখক।
সবাই এক একজন গল্পকার। মনের কল্পনা বা আলভীর ভাষায় ইউটোপিয়াকে লেখায় সার্থক রূপান্তর ঘটানো অবশ্য একটু কঠিনই। 'ফোর ইসটু ওয়ান' এ প্রায় প্রতিটি গল্প তীব্র গতিসম্পন্ন, আমাদের অনেকেরই জীবনের কোন না কোন অংশকে স্পর্শ করে ছুটে যায়। প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত এ সমস্ত স্টোরিতে হয়তো পাওয়া যাবে আমাকে বা আপনাকেই।
গল্পকথনে আমার মনে হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাঠকের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রক্ষা করে চলা। আলভী আহমেদের লেখনী বেশ ইন্টারেক্টিভ। তাঁর গল্পে প্রায় প্রতিনিয়ত চলে এসেছে বিভিন্ন চরিত্রের মনোলোগ বা স্বগোক্তি। মানুষ সম্ভবত নিজের সাথেই চেতনে বা অবচেতনে সবচেয়ে বেশি কথা বলে। নিজেকে শুনায় অপূর্ব সব গল্প।
গল্প সংকলনটি পড়ার সময় অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন কিছু স্টোরিকে একই সূত্রে গাঁথা মনে হয়েছে। গল্পের মধ্যেই ঔপন্যাসিক বা গল্পকার হওয়ার বাসনা, বিচ্ছেদ, কমিউনিকেশন প্রব্লেম এবং একটি নির্দিষ্ট নামের মেয়ের নাম ঘুরেফিরে এসেছে। তবে ঝরঝরে ভাষায় রচিত এ সকল গল্পে আলভী আহমেদ চমৎকার স্টোরিটেলিং করে গেছেন। আমার কাছে প্রায় প্রতিটি আখ্যানই ভালো লেগেছে।
এর পূর্বে আলভী আহমেদের অনুবাদে 'হারুকি মুরাকামি : সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা' পড়া হয়েছে শুধু। যা খুব ভালো লেগেছিলো। 'ফোর ইসটু ওয়ান' এর সুন্দর গল্প যাত্রার পর তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের ব্যাপারেও আগ্রহ সৃষ্টি হলো।
ব্যক্তিভেদে মানুষ অনেকটা ভিন্ন রকমের হলেও প্রায় সবাই নিজেকে গল্প শুনিয়ে রাখে আরো উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের আশায়। ভালোবাসার কাঙাল মানুষের বিচিত্র কিন্তু কমন বেশ কিছু অনুভূতির দেখা পাওয়া যায় লেখকের 'ফোর ইসটু ওয়ান' এ। যেখানে পাঠকের সাথে লেখকের যোগাযোগ কিন্তু ওয়ান ইসটু ওয়ানেই হয়েছে।
বই রিভিউ
ফোর ইসটু ওয়ান লেখক : আলভী আহমেদ প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২৩ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম জনরা : গল্প সংকলন রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
হারুকি মুরাকামির নাম শুনেছিলাম অনেক আগে। বেশ জনপ্রিয়, এটাও জেনেছিলাম। মনে তীব্র বাসনা,আমি মুরাকামি পড়ব। কিন্তু বাঁধ সেধেছিল দুইটা জিনিস,১. আমি ইংরেজিতে ভীষণ রকম দুর্বল এবং একটানা ইংরেজি পড়ে যাওয়ার দক্ষতা আমার নেই। ২. অনুবাদ আমার পছন্দ না,আরো পরিষ্কার ভাবে বলতে গেলে, অনুবাদ পড়ার পর আমার মনে হয়,আসল বইটার টেস্ট টা বোধহয় আমি মিস করে গেছি। এসব দ্বিধা দ্বন্দ্বের কারণে আমি সহজে অনুবাদ পড়ি না। ফলে আমার স্বাদের মুরাকামি আর আমার পড়া হয়ে ওঠে না।
এরপর একদিন বাতিঘরে গিয়ে জানলাম "আলভি আহমেদ" নামের এক ভদ্রলোক, মুরাকামির দুই/তিন বই অনুবাদ করেছেন। আমি যখন মাত্র জানলাম,এই ভদ্রলোক মুরাকামি অনুবাদ করেছেন,এর অনেক আগেই আমার বন্ধু "অনিক" সব কয়টা বই শেষ করে বসে আছে। সে ভীষণ পড়ে,সব কিছু আগে ভাগে পড়ে ফেলা তাকেই মানায়। তাই আমার সুহৃদয় বন্ধুর পরামর্শে, তার থেকে বই ধার নিয়ে আমি পড়লাম,আমার স্বাদের মুরাকামি, আলভি সাহেবের অনুবাদে। প্রথম পড়েছিলাম "হিয়ার দ্য উইন্ড সিং", পড়েই ফিদা! দারুণ লেগেছে। সাথে সাথেই " পিনবল" পড়লাম,তাও মুগ্ধ করল আমাকে। এর পর থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম,ভদ্রলোক মুরাকামি অনুবাদ করলে,আমি পড়ব। এভাবে আমার পরিচয় "জীবন অপেরার" লেখকের সাথে...
এবারের বইমেলার যে বইগুলো একবার চেখে দেখার প্রবল ইচ্ছে, তার মধ্যে দুইটা ছিল আলভি আহমেদের। ১.ফোর ইসটু ওয়ান ২.লোনলি অক্টোবর।
ফোর ইসটু ওয়ান পড়ে শেষ করলাম। সব কয়টি গল্পই ভালো লেগেছে। প্রিয় গল্প "মৃধা ভার্সাস রেস্ট অফ দ্য ওয়াল্ড এবং প্রাইস ট্যাগ। লেখক একটা প্রবল ঘোরের মধ্যে নিয়ে যান, তারপর হঠাৎ হাত ছেড়ে দিয়ে নিজে হারিয়ে যান,ব্যাপারটা খুব উপভোগ করেছি।
এবার আসি,কয়েকটা জিনিস আমার একটু দৃষ্টি কটু লেগেছে, সেগুলো বলি। লেখক কেমন জানি বিষন্নতা বেশিই পছন্দ করেন, ব্যাপারটা সুন্দর। কিন্তু একটা বইয়ে সব গুলো গল্পই যখন এক বৃত্তের মধ্যে ঘুরে,তখন বিষয়টা কেমন জানি হয়ে যায়। তাই লেখক চায়লে,আমার মত আবেগী পাঠকের কথা ভেবে,কয়েকটা সুখী গল্প দিতে পারতেন। হিহি। আর বাংলা গল্পের ইংরেজি নাম টা কেমন জানি বিতিকিচ্ছিরি দেখাই,এখন দেখি প্রায় লেখক-ই এটা করেন। আমি নিতান্ত আলাভোলা লোক,সাহিত্যের অলিগলি চিনি না,তাই জন্য হয়তো " বাংলা গল্পের ইংরেজি নাম" ব্যাপারটা ঠিক মানতে পারি না। মনের মধ্যে কেমন জানি খচখচ করে।
একটানে শেষ করার মতো বই। গল্পগুলো বিকালের নরম আলোর মতো... সুন্দর। লেখক হারুকি মুরাকামি অনুবাদ করছেন প্রচুর, আমার কোথাও কোথাও মনে হয়েছে হারুকি মুরাকামির মতো শব্দ চয়ন হয়েছে বইয়ে।
১২ টা সুন্দর গল্প নিয়ে বইটা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটা আগেই পড়া ছিল। আবারও পড়লাম। এত সুন্দর গল্প বারবার পড়াই যায়। "মৃধা ভার্সাস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড" আমার মতে বইয়ের শ্রেষ্ঠতম গল্প। গল্পটা গেল বছর প্রথম আলো ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হইছিল। এছাড়া নামগল্প "ফোর ইসটু ওয়ান", "আ জার্নি বাই প্যাশন", "প্রাইস ট্যাগ", "দ্য সার্কেল" দুর্দান্ত লেগেছে। এরকম একটা গল্প সংকলন হালকা আমেজে পড়ার জন্য বেশ।
দ্য সার্কেল, টিশার্ট,প্রাইস ট্যাগ,মালাই চা,অ্যা জার্নি বাই প্যাশন
বোহেমিয়ান জীবনে ব্যক্তিগত হাহাকারমিশ্রিত বাস্তবতার নিরিখে পরাবাস্তবের কথকতার প্রায় এক ডজন গল্পের মধ্যে উপরের শিরোনামের শব্দ গুলোই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
নিশাত আপু বলেন, "Monologues are our most uncelebrated friends"। ব্যক্তিগতভাবে মনোলগের ভক্ত হওয়ায়, আর 1st person এর জবানিতে প্রায় সবগুলো গল্প বলায় মোটামুটি ভালো লেগেছে বইটা। হারুন ভাইয়ের উপদেশে কিনেছিলাম বন্ধু অরিত্রকে জন্মদিনে দিব বলে, কিন্তু তার আগেই একদিনে পড়ে ফেললাম। দস্তয়ভস্কি, কাফকা, মুরাকামি ইত্যাদি গুণী লেখকদের কোনকিছু না পড়ার আফসোস তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। আশা করি ভালো লাগবে। অনেকগুলো কনটেক্সট বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন।
ছোট গল্প আমাকে খুব একটা টানে না, দুই চার পৃষ্ঠা পড়ার পরই টুপ করে শেষ হয়ে যায় ব্যাপারটা এই কারনে। লেখক আলভী আহমেদ এর ১২ টি ছোট গল্প নিয়ে " ফোর ইসটু ওয়ান"।
লেখক যে সময়ে অবস্থান করেন মূলত সেই সময়টা তিনি তারা লেখায় বেঁধে রাখেন। সেই হিসাবে এই বইয়ের গল্পগুলো খুব চেনা আমাদের এই সময় কে ঘিরে, আছে চিরপরিচিত কিছু চরিত্র, যে চরিত্রে হয়তো আপনি নিজেও আছেন। হতাশা, না পাওয়ার যে গল্প জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে তাই লেখক গল্পে রুপ দিয়েছেন।
এই সময়ের লেখকদের লেখা নিয়ে নান কথা হয়-ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে। লেখকের লেখা প্রথম পড়লাম। শুধু ভালো লেগেছে বললে কম বলা হবে, চমৎকার কিছু গল্প দিয়েই এই " ফোর ইসটু ওয়ান"। লেখক তাঁর অনুভূতি গুলো গল্পে প্রকাশ করবেন এটা স্বাভাবিক তবে নিজের কিছু কথা দায় এড়িয়ে চরিত্রে র মুখ থেকে প্রকাশ করেছেন এটা বেশ অন্য রকম লেগেছে।
যেটা একটু খারপ লেগেছে, বইটাতে সুন্দর কিছু গল্প ছিল তার নামে নাম হইতে পারতো, বাংলা বইয়ের ইংরেজি নাম দেখে প্রথমে আগ্রহ হারায় ফেলছিলাম। যাইহোক, চমৎকার প্রচ্ছদের ভালো একটা গল্প সংকলন।
গল্পগুলো পড়লাম। কেমন লাগলো ঠিক যেন বুঝতে পারলাম না। কখনো ভালো কিছু পড়লে যেমন কিছু বলতে ইচ্ছে করে, তেমন কিছুও অনুভব করলাম না। মনে হলো না গল্পগুলো বা চরিত্রগুলো নিয়ে কারো সাথে আলাপ করি। কোন ধরনের বিশেষ ভাবনা, বিস্ময় কিংবা ভালো লাগার অনুভূতির জন্ম দেয়নি কোন গল্পই।
বইটি কিনেছিলাম মূলত বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে। তবে পড়ার পরে বুঝলাম বইয়ের গল্পগুলো প্রচ্ছদকেও ছাপিয়ে গেছে। আলভী আহমেদের ফোর ইসটু ওয়ান বইতে মোট ১২ টি গল্প আছে। গল্পগুলো আমাদের সকলেরই চেনা। এখানে প্রেম আছে, বিচ্ছেদ আছে, বাস্তবতা আছে, পরাবাস্তব জগতও আছে। তবে লেখক যেখানে সফল তা হলো এখানে প্রেম-বিচ্ছেদ থাকলেও কোনো আদিক্ষেতাপণা নেই। একটা উদাহরণ দিই: “মালাই চা” গল্পে পূজা নামের মেয়েটি যে হারিয়ে যায়নি, সে যে অন্তত বেঁচে আছে এতেই সুমন খুশি।
এমনই তো হওয়া উচিত ভালোবাসা। Love For Imperfect Things বইতে Haemin Sunim বলেছিলেন, “Your existence is already enough.”
বইতে পরাবাস্তব নিয়ে কথা বলা হলেও এমন কিছু বলা হয়নি যা আমার আপনার মাথার ওপর দিয়ে যাবে। সুন্দর ও সহজ বাচ্য ও লেখনীতে বইটি হয়ে উঠেছে সাধারণের ভেতরই অসাধারণ।
“ব্ল্যাকহোল” গল্পের একটা লাইন আমার খুবই ভালো লেগেছে, “এখনো আমি হারাই —যা যা পেতে পারতাম সবকিছু।” “প্রাইস ট্যাগ” গল্পের মূলভাবের সাথে আমার নিজের কিছু আত্মোপলব্দির মিল আছে। যা বইটির সাথে আমাকে আরও বেশি সংযুক্ত করেছে।
এছাড়া বইয়ের বাকি গল্পগুলোও দারুণ। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো বই এটি!
চেনা গল্পের চেনা স্বাদ ভিন্ন আঙ্গিকে যেমনটা বলা হয় থাকে আজকে মেন্যুটা চেনা স্বাদও চেনা কিন্তু সির্ফ সেফের ভিন্ন পরিবেশনে নতুন আঙ্গিক তৈরি করেছে। মোট বারটি গল্প প্রতিটি গল্পের গদ্য অন্তত নরম কমল মোলায়েম। ঝরঝরে লেখা। খামছে ধরে রাখার একটা ব্যাপার আছে। প্রেম আছে বটে। গল্পগুলো প্রেমেরই তবে ঠিক যেন প্রেম নয় পুরোপুরি। মানে প্রেমপ্রেম ভাব যেমন হয় তেমনই। অনেকটা "ভালোবাসি ভালোবাসা" টাইপ। উডি এ্যালেনের সিনেমা যেমনটা দেখি! গল্পের ভেতরে থাকা গল্পগুলোই বলে গেছেন। ভালো লেগেছে।
অবশ্যই বইটা আমি কিনেছি কভার দেখেই। যেসব বই আমি প্রচ্ছদ দেখে কিনি, বেশিরভাগ বইয়ের ক্ষেত্রেই আমি কোনো আশা রাখি না কারণ দেখা যায় প্রায়ই সেসব বই অখাদ্য হয়। তবে এই বইটা ব্যতিক্রম। টোটাল ১২ টা ছোট গল্পের ঝরঝরে একটা বই। যদি গল্প গুলো কি নিয়ে তবে বলবো অনেকগুলোই প্রেমের গল্প তবে ঠিক আবার প্রেমেরও না। বেশ ভালো লাগলো বইটা পড়ে, অনেক দিন পর এমন ধরনের একটা বই পড়লাম যা এক বসায় পড়ে উঠার মতো। আমার পছন্দের গল্প গুলো হচ্ছে :"রোদ মেখো সূর্যমুখী, টিশার্ট আর মালাই চা"
আলভী আহমেদের গদ্য সুন্দর। ��োটগল্পের জন্য মানানসই। প্লটগুলোও বেশিরভাগ আকর্ষণীয়। কিন্তু ঘটনা হলো সমাপ্তিগুলো কাঁচা লাগছে আমার কাছে। বিশেষ করে মৃধা ভার্সাস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড গল্পটা গ্রেট কাজ হতে পারতো, কিন্তু মাঠে মারা গেছে শেষমেশ। এমন গল্প পড়তে তাই বেশ খারাপ লাগে।
খানিকটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে শেষ করলাম 'ফোর ইসটু ওয়ান'। বইয়ের অর্ধেকটা এভারেজ লেগেছে। বাকিটা পড়ে বুঝলাম এই লেখক চাইলেই অসম্ভব রকমের ভালো কিছুও সৃষ্টি করতে পারে। প্রেম বিষয়ক ব্যাপার-স্যাপার উঠে এসেছে বেশিরভাগ গল্পে, সাথে মেলানকোলিক এম্বিয়েন্স। বেশ হালকা মেজাজের বই!
'মৃধা ভার্সেস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড' ব্যতিক্রমধর্মী গল্প, এ ধরনের গ��্প এই প্রথম পড়লাম। 'সুখপাখির খোঁজে' মেটাফোরিক্যাল; স্টোরিটেলিং ছিমছাম, ছোটগল্প হিসেবে দারুণ! 'প্রাইস ট্যাগ' গল্পের ফিলোসোফি ভালোলেগেছে, অল্পকথায় সুন্দর ফিনিশিং।
'ফোর ইসটু ওয়ান', 'টি-শার্ট', 'আ জার্নি বাই প্যাশন', 'ফুলের ব্যাপারে আমার বিশেষ আগ্রহ নেই', 'দ্য সার্কেল', 'ব্লাকহোল', 'মালাই চা', 'রোদ মেখো সূর্যমুখী' কিংবা 'অন্ধকারের গান' এ গল্পগুলোর বেশিরভাগই আশেপাশের জানাশোনা ঘটনার প্রতিচ্ছবি। যা হুটহাট এদিক সেদিক মোড় নেয় কিংবা অসমাপ্ত থেকে যায়!
আলভী আহমেদের সঙ্গে পরিচয় কালের খেয়া ধরে। হারুকি মুরাকামিকে নিয়ে তার লেখা একটি রচনা পড়েছিলাম। সেখানে তিনি ছোটো ছোটো বাক্যে, এত সুন্দর করে বর্ণনা করেছিলেন যে তার লেখার ওপর আমার আগ্রহ হয়। তিনি একজন অভিনব অনুবাদ সাহিত্যিক। এই প্রথম তার মৌলিক লেখা পড়লাম। 'ফোর ইসটু ওয়ান' আমার বইমেলার ২য় সংগ্রহ। যাহোক বইয়ের বিষয়ে আসি।
বইটি সমকালীন বারোটি গল্পে সাজানো হয়েছে। গল্পনামগুলি সুন্দর। লেখক ভূমিকায় লেখেছেন, আমি মূলত গল্প লিখি না। অনুভূতি লিখি। অনুভূতিগুলি গল্পের ছদ্মবেশে আত্মপ্রকাশ করে।— এতটুক পড়বার পর আমিও অনুভূতি দিয়ে গল্পগুলি শুরু করি।
প্রথম গল্প 'দ্য সার্কেল' পড়বার পর লাগলো, রিডার ব্লক থেকে বেরুচ্ছি। দ্বিতীয় গল্পও তরতর করে পড়ছিলাম। কোনো বাঁধা নাই, কাঁটা নাই। লেখকের লেখনী এমনিতেই আমার ভালো লাগতো। এবার আরো বেড়ে গেল। এ বছরের যতগুলি গল্পের বই পড়বো, এটি সেসবের প্রথম দিকে থাকবে।
লেখকের লেখার স্টাইলে ভিন্নতা আছে। পড়তে গিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে। তবে কেন যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পর গল্পগুলো খুব একটা আহামরি লাগে নাই, আবার খারাপ যে লাগছে তাও না। দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো বা খুব উচ্চমার্গীয় ধরণের লেখা মনে হয় নাই আমার কাছে। প্রতিটা লেখাতেই বিষণ্ণতার ব্যাপারটা গাঢ়ভাবে উপস্থিত ছিল। অনেকগুলো প্লটে সিমিলারিটি আছে। চরিত্রের নামে রিপিটেশন ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, গল্পগুলো মোটামুটি। তবে লেখা ভালো! 😐
মৃধা ভার্সাস রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড আর টি শার্ট গল্প দুইটা অবশ্য আমার কাছে ভালো লাগছে।
মুরাকামির অনুবাদ দিয়ে আলভী আহমেদের সাথে পরিচয়। অনুবাদের মতোই তার প্রত্যেকটি মৌলিক গল্প সাবলীল এবং সহজপাঠ্য। ফোর ইস্টু ওয়ান গল্পগ্রন্থ আমাকে অভিভূত করেছে এক অন্য মাত্রায়। ১২ টি গল্পের প্রতিটির সাথে কোন না কোন ভাবে রিলেট করতে পারার ব্যপারটা বেশ দারুণ লেগেছে।
রং, তুলির সঠিক ব্যবহার করে স্বপ্নকে একজন শিল্পী ক্যানভাসে জীবন দেন। সেই শিল্পকে তখন দেখতে নানন্দিক রূপে। অনুধাবন করা যায়, স্বাপ্নিকের শিল্পকে। তেমনই আলভী আহমেদের নতুন ' ফোর ইসটু ওয়ান', এই বইটি।
আলভী আহমেদের 'ফোর ইসটু ওয়ান' বইটি ছোটগল্পের বই। গল্পের গল্প চরিত্র সবসময় ই স্বপ্নলোকে থাকবে। মানুষ স্বভাবতই কল্পনা করে বেশি সুখ পায়। স্বপ্ন দেখার সবারই হক আছে। আর হক ই আমার আদায় করে বাস্তবতার জীবনে আনন্দে থাকি। কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা সবসময় স্বপৃন জগতে থাকে। দুঃখ থেকে বাঁচতে, সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কিংবা কখনো বাস্তবতার জন্যেই আমাদের স্বপ্ন দেখতে হয়, স্বপ্নজগতে বাস করা লাগে। আবার এই স্বপ্ন দেখলেই হবে না, স্বপ্ন কে আনন্দময় করে তুলতেও হবে সেইসব নিয়েই আলভী আহমেদের এই 'ফোর ইসটু ওয়ান' বইটি। লেখকের মতো করে বললে, গল্প গুলো আমাদের নিজেদের জীবনেরই। আমাদের আপন। আমাদের চেনা। আমাদের পরিচিত। এই চেনা পরিচিত গল্পেই আপনি গল্পের মধ্যে, স্বপ্নের মধ্যে ডুবে থাকবেন , কথা দিচ্ছি।
বইয়ের একটা মজার অংশ তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না। হুবহু তুলে ধরছি, “এক কবি গতকাল রাত দুইটায় মেসেজ দিছে,কেমন আছেন? আমি সিন করে রিপ্লাই দেই নি। সকালে আবারও লিখেছে, কেমন আছেন, বললেন না তো। দুইবার জানতে চাইছে।এরপরও রিপ্লাই না দিলে খারাপ দেখায়।লিখলাম,ভালো। আপনি কেমন আছেন? সে উত্তর দিছে,কুসুম কুসুম ভালো। মনে হইতেছিল, পায়ের চপ্পল খুইলা শালার বিচির মধ্যে একটা মারি। ডিম দুইটা ফাইটা কুসুমে মাখামাকি হয়ে যাক। আমার সাথে ‘ কুসুম কুসুম ভালো’ মারাচ্ছে।আবাল একটা "
বইটির প্রত্যেক গল্পেরই গতিময়তা দারুণ। আমার কাছে সেইসব বইকে বেশি অসাধারণ লাগে যার শব্দ শৈলী কারুকার্জের মতন সহজ ভাবে বোঝা যায় মানে হচ্ছে পরিচিত শব্দের সদ্য ব্যবহার করে কোনো গল্পকে অতি সহজ স্বাভাবিকতার সাথে আমাদের নিজেদের গল্প ফুটে ওঠে।
আমার কাছে বইটি অনবদ্য সুন্দর লেগেছে। পড়ার সময় বেশ এনজয় করে পড়েছি। ১১১ পৃষ্ঠার ঝরঝরে লেখা এই বই। এক বসায় দু'কাপ গ্রিন সহযোগে শেষ করতে পারাটা পাঠক হিসেবে আমার কাছে বেশ তৃপ্তির ও সুখকর। আলভী আহমেদের মৌলিক বই পড়ার ইচ্ছে পোষণ করলাম।
বইটি বের হয়েছে প্রিয় বাতিঘর হতে। মলাটের সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি- “ বেঁচে থাকতে হলে মানুষের কল্পনার দরকারহয়। ইউটোপিয়া বলাই ভালো। অসম্ভব কিছু কল্পনা আছে আমাদের। থাকতেই হয়। না হলে বেঁচে থাকা কঠিন। এখন যে জীবন কাটাচ্ছি, তার চেয়ে অনেক ভালো একটা জীবন কোথাও না কোথাও অপেক্ষা করছে—এ কথা ভাবতে আমরা ভালোবাসি। বইয়ের গল্পগুলো এই সব বৃত্তবন্দী মানুষের গল্পগুলো চেনা। কিন্তু মনোজগতের একেবারে ভেতরে ঢুকে অনুভূতিগুলো টেনে বের করে আনার প্রক্রিয়াটা নতুন, ঝকঝকে পাঠক, ফোর ইসটু ওয়ান-এর জগতে আপনাকে স্বাগত । গল্পগুলো পড়ুন, চোখ বন্ধ করুন। দেখবেন এগুলো আপনারই গল্প, কোথাও না কোথাও আপনি নিজেই এর চরিত্র । ইউটোপিয়াগুলো আপনা ভেতরেই লুকিয়ে ছিল ।”
বই : ফোর ইসটু ওয়ান লেখক : আলভি আহমেদ রেটিং : ৪.১/৫
আলভি আহমেদ কিন্তু আসলেই গল্প লেখেননি তিনি লিখেছে ১ ডজন অনুভূতি। ১২ টি ছোট গল্প নিয়ে এই "ফোর ইসটু ওয়ান" বইটি। লেখক চমৎকার লেখে সন্দেহ নেই। আমাদের মধ্যের গল্প আমাদের । লেখক বর্তমান সময় নিয়েই লেখে,ভাবনার খোরাক জন্ম দিতে পারে পাঠকের মধ্যে। আমি আমার পছন্দের গল্পগুলো নিয়েই রিভিউ তুলে ধরছি।
"দ্য সার্কেল" আমাদের অনেকের জীবনে এক পর্যায়ে আমরা গন্ডি টেনে দেই। দ্য সার্কেল এমন ই এক গল্প। জী��নের কাছে হারাতে হারাতে এই পেয়ে হারানোর গল্পে জীবনে তৈরী গন্ডির অনুপাত থাকে সমান সমান। শূন্যস্থান কখনো পূরণ হয় না কিন্তু মনে করি "ক" ধরে একটা গন্ডি তৈরী করাই যায় যার মূল কেন্দ্রে থাকা "ক" কখনোই ফিরে আসে না।
"রোদ মেখো সূর্যমুখী" আমার জীবনের খুব রিলেটেবল একটা গল্প। আমি নিজেকে সূর্যমুখী ফুলের মতোন ভাবতাম কিন্তু জীবনধারায় বুঝলাম সূর্যমুখী এক অভিশপ্ত ফুল। শুরুটা হয়তো ভ্যানগগ সাহেবই করেছিলো অভিশাপের। আমরা প্রত্যেকে জীবনের এক পর্যায়ে এসে ধারাবাহিকতায় কূল খুজে পাই না তখন হারিয়ে যাই। জীবনে চলে আমরা ভাসি, আত্মা হারায়।
"টি শার্ট" ছেড়ে যাওয়া বড্ড সহজ কাজ আমার কখনোই মনে হয়নি। যে পক্ষ মুক্তি চায় তার জন্য ছেড়ে যাওয়া সহজ আর স্বাধীনমাত্রার কাজ । কিন্তু থেকে যাওয়া মানুষগুলো মায়া নিয়ে জন্ম-মৃত্যুর সমান সমান দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে।
বইটি এক বসায় শেষ করা যায় কিন্তু গল্পগুলো আমাদের জীবন থেকেই নেওয়া তাই একেকটা গল্প শেষ করার পর আমি যেনো তার মধ্যেই থাকতাম দিন দুয়েক তাই আমি একবসায় শেষ করতে পারিনি। জাবর কেটেছি, ভেবেছি এই নিয়েই আমার শেষ হলো "ফোর ইসটু ওয়ান" বই। তবে জীবন চলছে এই অনুপাতেই এখনও.....