The name Poe brings to mind images of murderers and madmen, premature burials, and mysterious women who return from the dead. His works have been in print since 1827 and include such literary classics as The Tell-Tale Heart, The Raven, and The Fall of the House of Usher. This versatile writer’s oeuvre includes short stories, poetry, a novel, a textbook, a book of scientific theory, and hundreds of essays and book reviews. He is widely acknowledged as the inventor of the modern detective story and an innovator in the science fiction genre, but he made his living as America’s first great literary critic and theoretician. Poe’s reputation today rests primarily on his tales of terror as well as on his haunting lyric poetry.
Just as the bizarre characters in Poe’s stories have captured the public imagination so too has Poe himself. He is seen as a morbid, mysterious figure lurking in the shadows of moonlit cemeteries or crumbling castles. This is the Poe of legend. But much of what we know about Poe is wrong, the product of a biography written by one of his enemies in an attempt to defame the author’s name.
The real Poe was born to traveling actors in Boston on January 19, 1809. Edgar was the second of three children. His other brother William Henry Leonard Poe would also become a poet before his early death, and Poe’s sister Rosalie Poe would grow up to teach penmanship at a Richmond girls’ school. Within three years of Poe’s birth both of his parents had died, and he was taken in by the wealthy tobacco merchant John Allan and his wife Frances Valentine Allan in Richmond, Virginia while Poe’s siblings went to live with other families. Mr. Allan would rear Poe to be a businessman and a Virginia gentleman, but Poe had dreams of being a writer in emulation of his childhood hero the British poet Lord Byron. Early poetic verses found written in a young Poe’s handwriting on the backs of Allan’s ledger sheets reveal how little interest Poe had in the tobacco business.
বিশ্বসাহিত্যে এডগার এলান পো'র প্রভাব কতোটা সুদূরপ্রসারী ও সর্বব্যাপী তা এই বই পড়লে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে। আর কী সব ভয়াল, হিম ধরানো, মস্তিষ্ক বিমূঢ় করা বা বুদ্ধিদীপ্ত সব গল্প! প্রায় দুইশত বছর পেরিয়ে গেলেও গল্পগুলোর আবেদন একটুও কমেনি। হরর গল্পের চরিত্রদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ গল্পগুলোকে দিয়েছে চিরায়তের মর্যাদা। দ্য মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ, দ্য ব্ল্যাক ক্যাট, দ্য টেল টেইল হার্ট, দ্য পারলয়েনড লেটার -এ গল্পগুলো আগে থেকেই সবসময়ের প্রিয় গল্পের তালিকায় ছিলো। সঙ্গে যুক্ত হোলো - বেরেনিস,মোরেলা, উইলিয়াম উইলসনসহ বেশকিছু গল্প। একমাত্র "দ্য মিস্ট্রি অফ ম্যারি রোজে" গল্পটা পড়ে বিরক্ত হয়েছি। অনেক সমালোচক যে এ গল্পকে "কাঠখোট্টা প্রতিবেদন" বলেছেন তার যৌক্তিকতা আছে।
বইয়ের প্রচ্ছদ, অলংকরণ, ভূমিকা, সম্পাদনা, অনুবাদ সবই মনোমুগ্ধকর। অনুবাদকরা প্রত্যেকে নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। সম্পাদক কয়েকটা গল্পের ভূমিকায় হালকা স্পয়লার দিয়েছেন (যেমন- দাউ আর্ট দ্য ম্যান)।এ ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। নামলিপি "আতঙ্কের অলীক আখ্যান" দেখে নামটা বোঝা কষ্টসাধ্য।
সব মিলিয়ে, বছরের অন্যতম সেরা একটা বই পড়ে ফেললাম এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
রহস্য পত্রিকার মাধ্যমে বহু অনুবাদকের হাতে আমাদের এলান পো পড়া হয়েছে। তবে বাংলা ভাষায় এলান পো'এর সামগ্রিক সেরা অনুবাদটা অদ্রীশ বর্ধনের। তিন খণ্ডের সেই রচনাবলী এখনো পাওয়া যায় কি? জানা নেই। সেই অনুবাদটি জায়গায় জায়গায় সংক্ষিপ্ত ছিল কিনা, আজ এতোদিন পর সেই বিচারও স্মৃতি থেকে করা যাচ্ছে না।
তবে খুশির ব্যাপার, বাংলাদেশের তরুণ অনুবাদকদের হাতে এলান পো' রচনা নতুন এক প্রাঞ্জলতা পেল বাংলাভাষায়- অদ্রীশের অনুবাদটিতে যার কিছু খামতি ছিলো। ওয়াসি আহমেদের সম্পাদনায় বেশ কয়েকজন লেখক এই সংকলনে এলান পো'র বিখ্যাত কয়েকটি গল্প অনুবাদ করেছেন। ভূমিকা মারফত জানা যাচ্ছে, গোটা রচনাবলীর অনুবাদই তাদের মোক্ষ। সেই কাজ শেষ করে বাংলা ভাষায় এলান পো' চর্চাকে নতুন একটা ধাপে নেবেন তারা, সেই আশা রাখি।
সুলভ একটা সংস্করণ বের করা গেলে এই বইয়ের প্রচার আরও বহুগুণে বাড়বে বলে আমার ধারণা। সম্পাদকের টীকাগুলো গল্প শুরুর বদলে শেষে ঠেলে দিলেও ভালো হয়।
বহির্বিশ্বের নামকরা লেখকদের থেকে শুরু করে বাংলা সাহিত্যের রথি মহারথীরা যার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন অজস্র গল্প আর উপন্যাস তার লেখা আরাম করে পড়তে পারাটাও সৌভাগ্যের। আর এই সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দিয়েছেন একঝাঁক গুনী ও প্রতিভাবান অনুবাদক। এতো আরাম করে এর আগে পো'র লেখা কখনো পড়া হয়নি। যা পড়েছি তার অধিকাংশই (অন্যান্য অধিকাংশ অনুবাদগুলোও) খটমটে আর সংক্ষেপিত রুপ। কিন্তু ঠিক এই দুটো বৈশিষ্ট্যকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় আর পরিপূর্ণ অনুবাদ করা এই বইটি আমাকে আশ্চর্যজনক ভাবে অভিভূত করেছে।
অধিকাংশ গল্পগুলো পূর্বে পড়া থাকার দরুন গল্পগুলোর অনুবাদের মানটা ঠিকঠাক অনুধাবন করতে পেরেছি। মাশাল্লাহ সবগুলো খুব সুন্দর। তবে 'অসীম পিয়াস' এর অনুবাদ চারটা একটু ভুগিয়েছে। ঠিক অন্যান্য অনুবাদের মতো অতটা প্রাঞ্জল মনে হয়নি ( ব্যাক্তিগত মতামত)। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সবগুলো গল্প আপনার ভালো লাগবে না। লাগার কথাও না। কিন্তু ঐ সময়ের বিচারে এগুলো মাইলফলক। আর আমার রেটিং শুধুমাত্র অনুবাদগুলোর মানের জন্যই। ব্যাক্তিগতভাবে সবচেয়ে পছন্দের কয়েকটার নাম যদি বলি তার মধ্যে স্থান পাবে দ্যুপো'র তিনটা গল্প, হপ ফ্রগ, দাও আর্ট দ্য ম্যান, দ্য অবলং বক্স, দ্য গোল্ড বাগ, দ্য টেল টেইল হার্ট, লিজিয়া, হাউজ অব আশার ইত্যাদি।
' দ্য মিস্ট্রি অব ম্যারি রোজে' প্রথম অডিও হিসেবে শুনেছিলাম মিরচি বাংলাতে। সংক্ষিপ্ত হলেও বেশ সুন্দর লেগেছিল। কিন্তু অসীম পিয়াসের করা এই অনুবাদটা মারাত্মক ভুগিয়েছে। সালমান হক (প্রিয় অনুবাদক) কে দিয়ে এই গল্পটা অনুবাদ করালে কেমন দাড়াতো সেটা দেখার একটা সুপ্ত ইচ্ছে তৈরি হয়েছে (আদৌ সম্ভব না হয়তো) ।
উল্লেখ্য: প্রত্যেকটা গল্পের শুরুতে ওয়াসি আহমেদের দেওয়া ভূমিকা টুকু প্রথমে না পড়ে গল্প পড়ার শেষে পড়লে আলাদা একটা তৃপ্তি পাবেন ।
ভয়, উহু শব্দটা ভয় বললে ভুল হবে। অস্বস্তি বলা যায়। গল্প গুলো পড়তে যেয়ে বেশ মাঝেমধ্যেই বেশ অস্বস্তিতে ভুগতে হয়েছে। একেকটা গল্প একেকরকম, একেক রকম তার প্রভাব।
দীর্ঘদিন সময় নিয়ে আস্তে-ধীরে শেষ করলাম এডগার অ্যালান পো আতঙ্কের অলীক আখ্যান। বেশ কিছু গল্প আগে থেকেই পড়া ছিল বিভিন্ন বই বা পত্রপত্রিকায় ছাপা হওয়ার কারণে। তবে অনেক আগে পড়ায় নতুন করে পড়তে ভালো লেগেছে। স্পেশালি কিছু গল্প তো মাইন্ড ব্লোয়িং। দ্য ফল অফ দ্য হাউজ অফ আশার গল্প আমি ইলাস্ট্রেটেড ক্লাসিক ভার্সনে পড়েছিলাম। অনুবাদ পড়েও খুবই ভালো লাগলো। সবচেয়ে ভালো লেগেছে দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ, দ্য টেল টেইল হার্ট, দ্য ব্ল্যাক ক্যাট, দ্য কাস্ক অফ আমানটিয়াডো। অনুবাদকরা আসলেই দুর্দান্ত কাজ করেছেন। অনুবাদকদের নামগুলোও অবশ্য বাঘা বাঘা। অনুবাদ ভালো না হয়ে উপায়ই বা কী!
বইয়ের অন্যান্য গল্প গুলোও বেশ ভালো। দুয়েকটা গল্প তেমন ভালো লাগেনি। তবে তিনি যেই সময়ে লিখেছেন, সেই সময়ের হিসাবে গল্পগুলো অকল্পনীয়। আর এক বইয়ের সব গল্প ভালো লাগবে এমনটাও আশা করা যায় না। বইয়ের সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর দারুণ ইলাস্ট্রেশন গুলো। খুবই চমৎকার। প্রোডাকশন নিয়ে কিছু বলার নাই। সবাই জানে এইটা আসলেই রয়্যাল বই। যারা হরর, থ্রিলার ছোট গল্প পছন্দ করেন তাদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে। দুশো বছর আগে এসব গল্প লিখে যাওয়ার জন্য পো সাহেবকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ।
বইটা যেহেতু এডগার এলান পো'র গল্পগুলোর সংকলন নিয়ে তখন গল্পের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করাই ঠিক না। সেরা কিছু চোখ বন্ধ করেই বলা যায়। তার গল্প মানেই ভয় আর হার হীম করা রহস্য দিয়ে ভরপুর। একেকটা গল্প শেষ করার পর এর রেশ মাথায় থেকে যাবেই। সব গল্প যে এক বিষয়টা তাও না। কয়েকটা গল্প একদম ভালো লাগেনি। যাইহোক, বইটার অনুবাদ দারুণ হয়েছে।অনুবাদগুলা প্রশংসনীয়। ভালো একটা উপভোগ্য বই। 🌸
প্রতিক্ষিত কোনোকিছু শেষ করার পর মন ও মননে অন্যরকম এক প্রশান্তি ভর করে। শুরুর পূর্বে উগ্বেগ, শেষে যে শুদ্ধ অনুভূতি প্রধান করে—তা অনেকদিন মনে রাখার মতো। ‘অবসর’ থেকে প্রকাশিত এডগার অ্যালান পো-এর ‘আতঙ্কের ���লীক অ্যাখান’ তেমনই সতেজ শীতল অনুভূতি দিয়েছে আমায়। ওয়াসি আহমেদ-এর সম্পাদনা এবং পরিচিত সু-অনুবাদকদের করা কাজগুলোয় যে পরিশ্রম ও যত্নে��� ছাপ দেখা যায়—তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
প্রায় ২৭টি গল্প নিয়ে উক্ত সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে পো-এর দুর্দান্ত কিছু গল্প ঠাঁই পেয়েছে। গল্পগুলোর ব্যাপ্তি ছোটো বা আংশিক বড়ো হলেও, গভীরত্ব কিংবা চিন্তা ভাবনা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেওয়ার ক্ষমতায় বিন্দু পরিমাণ কমতি ছিল না। এতটাই দুর্দান্তভাবে পো গল্পগুলো লিখেছেন। এমনকি প্রতিটা গল্পের পিছনে যে রেফারেন্স রেখে গেছেন লেখক—তা সম্পাদক দারুণ যত্নসহকারে তুলে ধরেছেন। এতে গল্পগুলোর প্রেক্ষাপট হয়েছে আরও স্পষ্ট। তবে এখানে যে নেতিবাচক দিকটা রয়েছে তা হলো, গল্পের শুরুতে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা বা সেটার ব্যাখ্যা দেওয়া। যেটা গল্পের শেষে তুলে ধরা দরকার ছিল। প্রথম কয়েকটা গল্পের মতিগতি সেই আলোচনা থেকে জেনে নেওয়ায় কনটেক্সট বুঝতে বেগ পেতে হয়নি। পরবর্তীতে নিজ থেকে পূর্ব আলোচনা বাদ দিয়ে গল্প পড়ি। তারপর গল্প শেষে সম্পাদকের গল্পালোচনা শুনি। এ দিকটা পরবর্তীতে খেয়াল রাখার আর্জি রইল।
যাহোক, একে একে ২৭টি গল্প নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব না, তবুও কিছু অনুভূতির প্রকাশ তো করতেই হবে। যেখানে কি-না প্রতিটা গল্পে জ্বলজ্বল করছিল পো-এর সিগনেচার স্টাইল। লেখক—মানব মনের অতল গহ্বরে লুকিয়ে থাকা ভয়, বিভ্রান্ত মস্তিষ্কের কারসাজিকে এমন সুচারুভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, পড়া শেষে আপনি ভাবতে বাধ্য। একজন লেখক সার্থক তখনই হন—যখন তার সৃষ্টি নিয়ে পাঠক ভাবতে বসে। ভাবনায় ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচকতার খেলা চলে। আতঙ্ক, বিস্ময় আর অলৌকিকতাকে গল্পের সাথে পো এমনভাবে মিশিয়েছেন—যা বাস্তবতার কাছাকাছি বলে ভ্রম হয়। এমনকি প্রায় গল্প লেখক তার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা উপস্থাপনা করেছেন গল্পচ্ছলে। কল্পবিজ্ঞান, গোয়েন্দা, ফ্যান্টাসি, গথিক হরর, মনস্তাত্ত্বিক ঘরনায় গল্পগুলো ঘুরপাক খেয়েছে।
সংকলনের প্রথম গল্প ‘মেটজেনগারস্টাইন’। যেটার প্রেক্ষাপট ভূতুড়ে হলেও এর পিছনে লুকানো মেটাফোর চিন্তা এলামেলো করে দেওয়ার মতো। দুর্দান্ত বললেও কম হবে। মনস্তত্ত্বের সাথে অলৌককতার মিশেলে পো যে কতটা অদ্বিতীয়—তার প্রাথমিক প্রমাণ এ গল্প থেকে পাওয়া যায়। ‘এমএস. ফাউন্ড ইন এ বটল’, ‘আ ডিসেস্ট ইনটু দ্য মেলস্ট্রম’ এবং ‘দ্য অবলঙ বক্স’—তিনটি গল্প লেখা হয় সমুদ্রকে কেন্দ্র করে। তিনটে গল্পের বিশেষত্ব তিন ধরনের। আমার পছন্দ মেলস্ট্রমের কাহিনি। ঝড়ের কবলে পড়ে এক বৃদ্ধের জীবন বদলে দেওয়া গল্পটি, অলীক আখ্যানের অন্যতম ভাগিদার হয়ে থাকবে। যে গল্প থেকে স্বয়ং আর্নেস্ট হেমিংওয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ লিখেছিলেন।
রহস্যে মোড়ানো ‘দি অ্যাসিগনেশন’, ‘উইলিয়াম উইলসন’, ‘দ্য ম্যান অফ দ্য ক্রাউড’, ‘দ্য মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ’, ‘দাও আর্ট দ্য ম্যান’, ‘দি ইম্প অফ দ্য পারভার্স’, এবং ‘হপ ফ্রগ’ গল্পগুলো ছিল স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দারুণ। শুধু রহস্য এখানে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। গল্পের পিছনে পো-এর যে রেফারেন্স—তা বাস্তব চিত্র হয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে। উইলিয়াম উইলসনের গল্পটা সেটারই প্রমাণ। দি অ্যাসিগনেশ গল্পটিকে যদি আপনি নিছক মার্ডার-মিস্ট্রি হিসেবে ট্রিট করেন তবে সেটা ভুল প্রমাণিত হবে। মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ—সংকলনের আরও একটি সেরা গল্প নিঃসন্দেহে। এ গল্পের মেটাফোর দুর্দান্ত। টুইস্ট আর থ্রিলের মিশ্রণে দাও আর্ট দ্য ম্যান সুন্দর। সেই একই ধাঁচটা বজায় থাকে হপ ফ্রগ এবং ইম্প অফ দ্য পারভার্স গল্পে।
রহস্যের কথা হবে আর সেখানে ডিটেকটিভ কাহিনি আসবে না, তা কী করে হয়? পো-এর সৃষ্ট অগাস্ত দ্যুঁপোকে নিশ্চয় স্মরণে আছে? এখানে তার তিনটে গল্প রয়েছে। ‘দ্য মার্ডারস ইন দি র্যু মর্গ’, ‘দ্য মিস্ট্রি অফ ম্যারি রোজে’, এবং ‘দ্য পারলয়েড লেটার’। তিনটে গল্পের ভেতর প্রথমটা দারুণ। প্রথম মর্ডান ডিটেকটিভ বলে কথা। শেষটাও ভালো। মাঝেরটা ভালো লাগেনি। একঘেয়ে মনে হয়েছে। তবে এ-ই অগাস্ত দ্যুঁপো থেকেই কিন্তু অনুপ্রাণিত হয়ে বহু লেখকরা তাদের নিজেদের গোয়েন্দা তৈরি করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কোনান ডয়েলের বিখ্যাত সৃষ্টি শার্লক হোমস, আগাথা ক্রিস্টির এরকুল পোয়ারো।
এখনও সেরা গল্পগুলো নিয়ে লেখা বাকি। ‘বেরেনিস’, ‘মোরেলা’, ‘লিজিয়া’, ‘দ্য ফল অফ দ্য হাউজ অফ আশার’, ‘দ্য পিট অ্যান্ড দ্য পেন্ডুলাম’, ‘দ্য প্রিম্যাচিওর ব্যুরিয়াল’, এবং ‘দ্য ফ্যাক্টস ইন দি কেস অফ মিস্টার ভ্যাল্ডেমার’ গল্পগুলো নিজ নিজ জায়গায় অপ্রতিদ্বন্দী। গথিক হররের পাশাপাশি, মনস্তত্ত্বের পূর্ণ গ্রহণ আপনি উক্ত কাহিনির অন্তরালে খুব সহজে খুঁজে পাবেন। আর পো-এর বর্ণনাভঙ্গি... কী অদ্ভুত মোহনীয়। যেন সদা জাগ্রত। কেমন যেন ঘোর কাজ করে পড়ার সময়। এর জন্য অবশ্য অনুবাদকগণ এবং সম্পাদককে সাধুবাদ জানাতে হয়। এত জীবন্তভাবে গল্পগুলো অনুভব করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করানোর জন্য।
যদি ভেবে থাকেন পো আপনার জন্য অ্যাডভেঞ্চার গল্প কিংবা গুপ্তধন খোঁজার কোনো গল্প লিখে রেখে যায়নি, তবে ভুল প্রমাণিত হবেন। ‘দ্য গোল্ড বাগ’ উক্ত সংকলনের আমার অন্যতম পছন্দের একটা গল্প। কেবল বলব, এ গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ লিখেছিলেন রবার্ট লুই স্টিভেনস। এর অর্থ—বিশেষ কিছু তো অবশ্যই আছে। আপনি যদি আরও রোমাঞ্চ অনুভব করতে চান, তবে পো আপনার জন্য কল্পবিজ্ঞান কাহিনিও যত্ন করে লিখে গেছেন। উক্ত সংকলনে ‘দ্য কনভাসের্শন অফ এরস অ্যান্ড শারমিওন’ এবং ‘এ টেল অফ দ্য র্যাগেড মাউন্টেনস’ গল্প দুটো দুর্দান্ত বললেও কম হবে না। তবে আমার সেরা লেগেছে ‘মেসমারিজিম’ ওপর বেজড করে লেখা র্যাগেড মাউন্টেনস। গল্পের শুরু থেকে শেষ অবধি টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। শেষটাও তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।
সংকলনের বাকি তিনটি গল্প ‘দ্য টেল-টেইল হার্ট’, ‘দ্য ব্ল্যাক ক্যাট’ এবং ‘দ্য কাস্ক অফ অ্যামনটিয়াডো’—দুর্দান্ত বললেও কম হবে। গথিক ঘরনার হলেও টেল-টেইল হার্ট... রহস্যময়তার বিচারে অন্যান্য গল্পগুলোকে ভালোই টেক্কা দিবে। অন্যদিকে ব্ল্যাক ক্যাট একটি প্রতিশোধপরায়ন গল্প হলেও, কাহিনির জটিলতা এবং শেষটা চমকিত করার মতো। কাস্ক অফ অ্যামনটিয়াডো গল্পেও এক মারাত্মক প্রতিশোধের রহস্যময় কাহিনি ফুটিয়ে তোলে পো। দুটো গল্পের মেটাফোর একই। তবে ভিন্নতা প্রতিফলিত।
আপাতত এ-ই। পো এমন একজন লেখক, যিনি অনুপ্রাণিত করেছেন বিশ্ববিখ্যাত অনেক ঔপন্যাসিক এবং কবিকে। পরিচিত এবং আলোচিত ঘরনার প্রত্যকটায় পো-এর ছপ স্পষ্ট। উত্তমপুরুষে লেখা তার গল্পগুলো ভাষাশৈলী যেন জীবন্ত সত্তা। শব্দের জটিলতার খেলা এবং যৌগিক বাক্যের সংমিশ্রণে এমন অদ্ভুত মোহনীয় তার গদ্যশৈলী যে হতচকিত হতে হয়। প্রত্যেকটা গল্পের শব্দ-বাক্য, অন্য গল্প থেকে ভিন্ন। এই যে স্বকীয়তা, নিজেকে নিজে ভাঙা কিংবা উতরে যাওয়ার যে অলৌকিক চেষ্টা—সেখানে পো-ই হয়তো সবচেয়ে সেরা। এটা বলতে দ্বিধা নেই, সাহিত্যে পো-এর অবস্থান আজও সেই স্থানে রয়েছে—যেখানে পৌঁছানোর ক্ষমতা কারও নেই।
পাঠক হিসেবে পো-কে ধারণ করতে হলে, আপনার এক শক্তিশালী সত্তা থাকা জরুরি। না-হয় অনেক কিছুই উড়ে যাবে মাথার ওপর দিয়ে। অহেতুক অজানায় ডুব দিতে না চাইলে, সর্বপ্রথম পো যে কে সেটা জানুন। তারপর তার বিখ্যাত সব সাহিত্যকর্ম পড়ুন। হয়তো বেশকিছু গল্প আপনার ভালো লাগবে না কিংবা এমনতর গল্প আগেও পড়েছেন ভেবে থাকবেন। কিন্তু এগুলো প্রকাশিত যখন হয়—সেই সময়টা নিজের ভেতর ধারণ করতে সক্ষম হলে—কেবল অবাকই হবেন না; বিচলিতও হবেন। রহস্য এবং অলৌকিক সাহিত্যের দিকপাল বা পথপ্রদর্শক তাঁকে এমনি এমনি বলা হয় না। এর বিশেষত্ব অবশ্যই রয়েছে।
যাহোক, ছোটো করে অনুভূতি জানানোর পরিবর্তে বেশ লম্বা একখানা রচনা লিখে ফেললাম। তবে এতকিছু লিখেও মন ভরেনি। আরও অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল। গল্পগুলোকে পোস্টমর্টেম করার লোভ বহু কষ্টে সামলে লেখাটা লিখেছি। তাই একটু খারাপ লাগা তো থাকবেই। আবার সুযোগ হলে, গল্পগুলো পড়ব। বারবার পড়ব। এমন অবিস্মরণীয় কিছু সবসময় পড়ার সৌভাগ্য হয় না। পো সেই পথ করে দিয়েছেন, অবসর তা বাংলায় প্রকাশ করেছেন—তার জন্য আলাদাভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়।
২৭ টা গল্প নিয়ে এই সংকলনটি।প্রায় ২০০ বছর আগে লিখা এই গল্পগুলো এই ২০২৪ সালে পড়ে কেমন লাগবে?স্বাভাবিক ভাবেই এভারেজ লেগেছে বাট চিন্তা করেন আজকাল নামী দামী যত ক্লাসিক লেখক আছে তাদের সবার পথপ্রদর্শক,অনুপ্রেরণা হল এডগার অ্যালান পোর লিখা।আমি গল্পগুলো আবার পড়লাম এবং দ্বিতীয় বার পড়ে ধারনা একটু হলেও পাল্টেছে।
প্রথমেই বলি বইয়ের তিনটা ডিটেকটিভ গল্পের কথা, "দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ স্ট্রীট ", "দ্য মিস্ট্রি অফ ম্যারি রোজ" এবং "দ্য পারলয়েনড লেটার" এই তিনটাই অতি চমৎকার এক গল্প।গল্পের প্রধান অগাস্তা দ্যুপো যে শার্লকের পূর্বসূরি!সেইম পর্যবেক্ষম ক্ষমতা,সহযোগী ও সেইম,একনাগাড়ে বসে চিন্তা করা,নিজে না বললে কেউ তাকে দিয়ে কথা বলাতে পারবে না।যেন ভিন্ন নামে এক শার্লক কেন্দ্রিক গল্প পড়লাম!পার্সোনালি আমার ফেভারিট গল্প "দ্য মার্ডারস ইন রু মর্গ স্ট্রী।বিশ্বের প্রথম লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি বলে কথা!অবাক হবেন পড়ে কীভাবে লেখক এত বছর আগে এটা লিখেছিলেন। " দ্য মিস্ট্রি অফ ম্যারি রোজ" এটা একটা সত্যিকার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত।পুরো মার্ডার টা কে পো কি দৃষ্টিভংগিতে দেখেন সেটাই গল্পে লিখেছেন।"দ্য পারলয়েন্ড লেটার" টাও খারাপ ছিল না।একটা চোরাই চিঠি খুঁজে বের করার অভিনব উপায় বর্ণিত ছিল।
উপরের তিনটা ডিটেকটিভ গল্প ছাড়াও সংকলনের আরো সাতটি গল্প মন কেড়েছে এর মধ্যে অবশ্যই "দি ব্ল্যাক গেট", "দ্য টেল টেইল হার্ট" ," দ্য গোল্ড বাগ", দ্য অবলং বক্স, "দ্য মাস্ক অফ রেড ডেথ",গথিক হরর ধাচের " দ্য ফল অফ দ্য হাউজ অফ বাশার" এবং হরর সাই ফাই ধাচের "দ্য ফ্যাক্ট ইন দি কেস অফ মিস্টার ভ্যাল্ডেমার"। প্রত্যেকটা গল্প অতি চমৎকার।যেমন আছে শিরদাঁড়ায় কাঁপন ধরানো ভূতের গল্প,তেমনি আছে প্রতিহিংসাপরায়ন, হালকা সাইফাই,গথিক হরর সহ ধরনের গল্প।
পুরা বইটার আরেকটি চমকপ্রদ জিনিস হচ্ছে পুরো বই জুড়ে আছে আছে সটীকা এবং সচিত্র।২৭ টা গল্প এবং প্রত্যেকটি গল্পের আগে রয়েছে একেকটি টিকা।প্রত্যেক গল্পের আগে সেই গল্প কোথায় ছাপা হয়েছিল,কোন পত্রিকায় এবং এই গল্প পড়ে কে কে ভবিষ্যতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল প্রত্যেকটা জিনিস পুংখানুপুংখভাবে বিস্তারিত দেওয়া আছে।ভেরি ইম্প্রেসিভ।
অনুবাদ নিয়ে বলতে চাই,সবার অনুবাদ ঠিকঠাক সুপাঠ্য হলেও এই বইয়ে অসীম পিয়াসের অনুবাদ বাজে লেগেছে।উনার অনুবাদ ভালো বলেই জানতাম কিন্তু চারটা গল্পেই অনুবাদ কাঠখোট্টা এবং অতি বাজে লেগেছে বিশেষ করে " দ্য মিস্ট্রি অফ মারিও রোজের" অনুবাদ অতি কষ্টে শেষ করতে পারছি।
প্রায় দুইশো বছর আগের গল্পগুলো এখন এই সময়ে এসে অনেকের কাছে এভারেজ লাগতে পারে বাট অই সময় অনুযায়ী এসব গল্প লিখা সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত ছিল।
একজন লেখকের স্বার্থকতা কোথায় জানেন? যখন একজন লেখক স্বীয় লেখার মাধ্যমে পাঠকদের মাঝে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনার পরিস্ফুটন ঘটাতে পারেন। এডগার এলান পো এখানেই স্বার্থক। গত দুই মাস ধরে অদ্রীশ বর্ধন অনূদিত এডগার এলান পো রচনা সংগ্রহ এবং অবসর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটি পড়ছি। লেখকের চিন্তাভাবনা, বিষন্নতা এক রকম ডুবিয়ে রেখেছে আমাকে। অনেক লেখকই তার লেখার মাধ্যমে পাঠকদের মন জুগিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এডগারের মতো এরকম করে আচ্ছন্ন করার ব্যাপারটা সব লেখকের লেখনীতে থাকে না। যাইহোক অনুবাদের কথা যদি বলি বেশ সাবলীল লেগেছে সবমিলিয়ে। ইলাস্ট্রেশন এবং টীকাগুলো পড়ার অভিজ্ঞতা বহুগুণে চমকপ্রদ করেছে। দুই একটা গল্পের অনুবাদ একটু কাঠ-খোট্টা লেগেছে। প্রোডাকশন কোয়ালিটি ছিলো অসাধারণ। বানান ভুল ছিলো না বলতে গেলে তেমন। ব্যক্তিগতভাবে এ সংকলনে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্প হচ্ছে "উইলিয়াম উইলসন"। এছাড়াও মার্ডার ইন দ্য রু মর্গ, দ্য টেল টেইল হার্ট, দ্য অবলঙ বক্স, দ্য ব্ল্যাক ক্যাট, দ্য আর্ট অভ দ্য ম্যান এবং দ্য ফ্যাক্টস ইন দ্য কেস অব মিস্টার ভ্যাল্ডেমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে।