৩.৫/৫
দেড়-দুই বছর পূর্বে পড়লে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সুবিশাল এক কাজ শুধু এই বিবেচনায় বইটাকে পাঁচে পাঁচ দিয়ে বসতাম। কারণ এটা নয় যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার যে আবেগ সেখানে ভাটা পড়েছে। কারণটা হচ্ছে, আমার আবেগকে আমি এখন আর ব্যবহার করতে দিতে রাজি নই।
৭০টি গল্প নিয়ে এই সংকলন। ভালো লেখেন বলে নামডাক আছে এমন সবার গল্প রাখতে হবে এমন ভাবনার ফলেই বোধহয় অনেকগুলো দুর্বল ও সাদামাটা গল্প জায়গা পেয়ে গেছে সংকলনটিতে। কিছু গল্প যে স্রেফ লেখকের নাম দেখে নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্টতই বোঝা যায়। উদাহরণ, আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘আমাকে একটি ফুল দাও’, রাবেয়া খাতুনের ‘যেদিকে তাকাই কেবলি ধোঁয়া’ বা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘যাত্রার নায়ক’। সবচেয়ে দুর্বল গল্পটা বিপ্রদাশ বড়ুয়ার, গল্পের নাম ‘বাবার স্বপ্ন ও এক রাজকন্যে’। গল্প কতটা মুক্তিযুদ্ধের হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন জাগাবে কয়েকটা গল্প, যার একটা সেলিম মোরশেদের ‘বিপক্ষে ব্রজন’। গতানুগতিক নয়, আর নয় বলেই দারুণ লেগেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘একাত্তরে মোপাসাঁ’, মাহমুদুল হকের ‘বেওয়ারিশ লাশ’, শহীদুল জহিরের ‘কাঁটা’, শওকত আলীর ‘পুনর্বার বেয়নেট’, পূরবী বসুর ‘দুঃসময়ের অ্যালবাম’, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘দিন ফুরানোর খেলা’, শহীদ আখন্দের ‘একাত্তরে ছিন্নভিন্ন ভালোবাসা’, মামুন হুসাইনের ‘এ এক পুনরুত্থান’, ইমতিয়ার শামীমের ‘মৃত্তিকা প্রাক-পুরাতন’।
গল্প যেমনই হোক কেবল শক্তিশালী গদ্যের জোরে উতরে গেছে সুব্রত বড়ুয়া, সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ, তাপস মজুমদার ও সেলিম মোরশেদের গল্পগুলো।