ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
#পাঠপ্রতিক্রিয়া বই: 'হৃদয়ের শব্দ' ও 'হৃদয়ের নৈঃশব্দ্য' মূল্য: ৪৫০ টাকা ও ৪২৫ টাকা লেখক: ইন্দ্রনীল সান্যাল প্রকাশক: পত্রভারতী
ইন্দ্রনীল সান্যাল মহাশয়ের লেখনীর সঙ্গে পরিচয় 'চালচিত্র' নামক একটি সামাজিক উপন্যাসের মাধ্যমে। দুর্গাপুজোর আবহে লেখা সে এক অপূর্ব উপন্যাস ছিলো। সেই উপন্যাসের শেষটা যদিও বিষাদময় ছিলো তবুও অদ্ভুত এক সুন্দর ঘোরের মধ্যে নিয়ে চলে গেছিলো সেই বইটি। 'হৃদয়ের শব্দ' বইটি পড়েছিলাম ২০২০ সালের লকডাউনের সময়। তারপর ২০২৪ সালে এটার সিকোয়েল 'হৃদয়ের নৈঃশব্দ্য' পড়তে গিয়ে ভেবেছিলাম হয়তো চার বছর আগেকার পড়া বইয়ের পুরো গল্পটাই বেমালুম ভুলে গেছি। কিন্তু কিছু পাতা পড়ার পর দেখলাম সবগুলো চরিত্রই যেন আবার পূর্বের মতোই জীবন্ত হয়ে উঠেছে। 'হৃদয়ের শব্দ' ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিলো, 'হৃদয়ের নৈঃশব্দ্য'-এর যাত্রা ঠিক সেখান থেকেই শুরু। কিছু মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের রোজনামচা বলা যায় উপন্যাস দুটিকে। পড়তে পড়তে হয়তো ফিরে পেতে পারেন আপনার কলেজ জীবনের ফেলে আসা কৈশোরের স্মৃতি। লেখক নিজে যেহেতু ডাক্তার তাই হয়তো মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের রোজকার জীবনযাপন-এর মূহুর্তগুলিকে এত সুন্দরভাবে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। অভিজ্ঞান, বৃন্দা, চন্দন ও দময়ন্তী এই চারটি চরিত্রকে ঘিরে মূল উপন্যাস দুটি আবর্তিত হলেও আরও অনেক চরিত্রের ভিড়ে এটি একটি বেশ বড় আকারের সামাজিক উপন্যাসদ্বয় বলা যায়। বন্ধুত্ব, শত্রুতা, প্রেম, বিরহ, যৌনতা, পরকীয়া সব মিলিয়ে এই বই দুটিতে এক বিশাল ক্যানভাসের ছবি এঁকেছেন লেখক। এছাড়া লেখকের লেখনী এতটাই গতিশীল যে বইদুটি পড়তে পড়তে নিছক সামাজিক উপন্যাস নয় মনে হবে কোনও থ্রিলার পড়ছেন। যদিও লেখকের কোনও মেডিক্যাল থ্রিলার এখনও অব্দি আমি পড়িনি তবুও চাইবো যে ইন্দ্রনীল সান্যাল মহাশয় এরকম আরও অনেক সামাজিক উপন্যাস আমাদের উপহার দিন। পত্রভারতীর বইয়ের প্রোডাকশন বরাবরই ভালো হয়। এই বইদুটিও তার ব্যতিক্রম নয়। 'হৃদয়ের শব্দ' ও হৃদয়ের নৈঃশব্দ্য' দুটি বইই রয়্যাল সাইজের বিশালবপু বই। পড়তে গিয়ে অল্প কিছু মুদ্রণ প্রমাদ পেয়েছি। অল্প কিছু বানান ভুলও আছে। তবে সেগুলি খুবই নগণ্য বলা যায়। সব মিলিয়ে দুটি বইই যে কোনও মননশীল পাঠকের সাহিত্য পিপাসা চরিতার্থ করতে সক্ষম হবে সেটা বলাই যায়।