Jump to ratings and reviews
Rate this book

ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি

Rate this book
গল্পটা বিবর্ণ ও হিয়া নামে সাধারণ দুজন ছেলে ও মেয়ের। তাদের সাধারন জীবনের। গল্পটা শহরের এক খুনির। রেপিস্টদের চিহ্নিত করে খুন করে সে। আর সেইসব বর্ণনা ফেলে যায় লাশের সাথে। তা পড়া মাত্র ভয়ে কেঁপে উঠবে যেকেউ।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়া পুলিশ অফিসার শুভ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এই গোস্ট খুনিকে খুঁজে বের করার। যে জড়িয়ে যায় বিবর্ণ আর হিয়ার কাহিনীতে। পাগলের মতো খুঁজতে থাকে ওদের। শুভ্র ওদের যত কাছেই যায় ওরা ততই হারিয়ে যেতে থাকে। শুভ্র কি খুঁজে বের করতে পারবে ওদের? থামাতে পারবে গোস্ট খুনিকে?

128 pages, Unknown Binding

Published February 1, 2023

40 people want to read

About the author

Aminul Islam

15 books123 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (28%)
4 stars
12 (31%)
3 stars
10 (26%)
2 stars
2 (5%)
1 star
3 (7%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,106 reviews1,084 followers
April 4, 2023
আমারও লিখতে ইচ্ছে করে, (প্রচন্ডরকম)

ইতি,
আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনী ।।
Profile Image for Nafisa Tarannum.
77 reviews24 followers
March 14, 2023
নতুন বই হাতে পেয়েই আর লোভ সামলাতে পারলাম না। ফলাফল এই রাত ৩টায় এসে বই শেষ করে ফেলেছি! কাহিনী কনসেপ্ট সুন্দর, এক্সিকিউশন ও ভালো কিন্তু তাও পরিপক্বতার অভাব আছে বইটিতে। আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে এর চাইতে আরো অনেক ভালো থ্রিলার আশা করেছিলাম।
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews217 followers
March 19, 2023
বই: ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি
লেখক: আমিনুল ইসলাম
জনরা: রোমান্টিক থ্রিলার
প্রচ্ছদ: জুলিয়ান
প্রকাশনী: নবকথন
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা ২০২৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
মুদ্রিত মূল্য: ৩২০/-

প্রিয় মানুষকে হঠাৎই হারিয়ে ফেললে কেমন লাগে? তাও যদি হয় চোখের সামনে...

বস্তাবন্দি অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে বিভৎস খণ্ডিত লাশ! সাথে একটি চিরকুটে লিখা আছে খুনের কারণ ও বিবরণ। অনেকেই খুনির পক্ষ নিয়ে কথা বলছে! কেন? কারণ খুনি যে ধরে ধরে ধর্ষকদের শাস্তি দিচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা যাদের হাতে যখন তারা ব্যর্থ কিন্তু খুনিকে খুঁজতে ছুটছে পিছে তখন... খুনিকে খুঁজে পাওয়া যাবে? অন্যায়কারীরা কি বারবার পার পেয়ে যাবে?

ছোট একটা বই কিন্তু কাহিনী ছোট নয়। কিছু মানুষ যারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রিয়জনদের হারিয়েছে, গল্পটা তাদের নিয়ে। শুরু দুটি লাশ পাওয়া নিয়ে, রোমহষর্ক খুন ও লাশের বর্ণনা পড়ে তো... কিন্তু তারপর প্রায় পয়তাল্লিশ পেজ দুজন অজানা যুবক যুবতীর ডাইরির অংশ। এই অংশে বিরক্ত ও অস্থির উভয়ই হয়েছি। মনে হচ্ছিল থ্রিলার পড়ছি নাকি রোমান্টিক উপন্যাস! কিন্তু খুন, খুনির সাথে তিনটি ডাইরি রিলেটেড। অনেক দ্রুত গল্প এগিয়ে গেছে। টপাটপ খুন আর খুনির সন্ধানে ধাওয়া। আরও ডিটেলিং থাকলে ভালো হতো। খুনিকে কীভাবে, কখন গুম করা হচ্ছে, খুন করার সময়কার অবস্থা তেমনভাবে বলায় হয়নি। বইয়ে যে বিষয়টা বেশি চোখে পড়েছে সেটা হলো, কাকতালীয়ভাবে বেশ কিছু জিনিস মিলে যাওয়া। একই সময়ে, একই মানসিক টানাপোড়েনের শিকার তিনজন এমনভাবে জড়িয়ে যায়!!! গোস্ট খুনির একদম সঠিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিতি কিছুটা নাটকীয় লেগেছে। গোস্ট খুনি কে হতে পারে অনেক ভেবেছি কিন্তু... মেলেনি। চরিত্রগুলো যেভাবে জড়িয়ে গেছিলো দ্বিধায় পড়ে গেছিলাম। খুনি কে? মোটিভই বা কী? শেষের টুইস্টগুলো ভালো লেগেছে। সমাপ্তি বিষাদময় সুন্দর।

বানান, নাম, বিরামচিহ্নে বেশ কিছু ভুল চোখে পড়েছে। ধবধবে সাদা পেজের বইয়ের প্রডাকশন ভালোই হয়েছে। প্রচ্ছদটা মোটামুটি।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
March 4, 2023
আড়ালে থাকা অপরাধ তো মানুষ দেখে না, কিন্তু চাক্ষুষ ঘটে যাওয়া নির্মম অত্যাচার দেখেও মানুষ চুপ। সব খারাপ জিনিস কি খারাপ হয়, হয়তো চারপাশটাকে সুন্দর করতে খারাপ হতে হয়। আপনি সুস্থ মস্তিষ্কের একজন মানুষ তাই কখনোই কয়েকটি সুন্দর জীবনের নির্মম ইতিকে মেনে নিতে পারবেন না।

আমাদের চাওয়া পাওয়া বেশি থাকে না। আমরা কোলাহল থেকে দূরে,প্রকৃতির স্নিগ্ধ ছায়া এবং নিজে সুখী হওয়ার মানুষকে সাথে নিয়ে বাঁচতে চাই। যেখানে দুজন একসাথে বসে একে অপরের নিরবতার সঙ্গর হয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় সারাজীবন। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়। মানুষ রূপি জানোয়ারদের বিষাক্ত থাবায় সব নষ্ট হয়ে যায়। যেমন ভাবে নষ্ট হয়েছে বিবর্ণ আর হিয়ার জীবন।


পাঠ-প্রতিক্রিয়া :

কৃষ্ণচূড়ার লালে কিংবা
কোনো কবিতার উপমায়।
আনমনে যদি হারাই
তবু খুঁজতে যেও না আমায়।

কি বইয়ের জনরার সাথে এই কবিতা যায় না? একটু দাড়ান। বইটা সিরিয়াল কিলিং এর হলেও রোমান্টিকতার ছোয়া পুরো বই জুড়ে ছিলো। বইটা শুরুই হয় একটা খু ন দিয়ে। ডিটেকটিভ শুভ্র সাহা ও পুলিশ ইন্সপেক্টর রাহুল দুইজনই প্রথম থেকে চুল ছেড়া অবস্থা খু নির কোনো পাত্তা না পেয়ে। বিবর্ণ ও হিয়ার জুটি সাধারণ হলেও তাদের ঘিরে ঘটা প্রতিটি ঘটনা অনেক আকর্ষনীয় ছিলো। পুরো বইয়ে বিবর্ণের চরিত্র আলাদা ভাবে ছাপ ফেলে গিয়েছে আমার কাছে। সাথে শুভ্র সাহার অনুসন্ধানী চরিত্র ভালো ছিলো। কিন্তু এই বইয়ে
এন্টাগনিস্ট গোস্ট খুনি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ তার মোটিভ ও তার অতীত শুনে পাঠক তার পক্ষ নিতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবেন না। বইয়ে ফিলোসফিরও কিছু চমৎকার উপমা আছে যা পড়ার সময় ভালো লেগেছে।
বইটা অনেক ফাস্ট ছিলো। হুটহাট করে একেকটা খুন হচ্ছে। টর্চারের জায়গায় আরেকটু বর্ণনা করলে বইটা আরো উপভোগ্য হতো। আমিনুল ইসলামের লেখা এই প্রথম পড়লাম। লেখনী ভালো লেগেছে। শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য। ২৩ বইমেলার ভালো নভেলার লিস্ট করলে এটাও জায়গা করে নিবে আমার লিস্টে নিঃসন্দেহে।
Profile Image for Aminul  IsLaM.
Author 15 books123 followers
Read
January 23, 2023
বইটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে।
Profile Image for Mahrin Haque  Moho.
35 reviews7 followers
October 2, 2023
বর্তমানে নারী খাদকের দাপট বেড়েই চলেছে। নারীকে ধর্ষণ করা ধর্ষকদের কাছে ডাল ভাতের মতই। জাহেলী যুগে যেমন নারীর জন্য নিরাপত্তা ও মানবতা ছিল না, ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমানে সমাজের নারীর প্রতি মানবতা ও জীবনের নিরাপত্তা নাই। জাহেলী যুগের যেমন কোনো নারী কার মেয়ে, কার বোন, কার স্ত্রী, কার মা তা দেখা হতো না; এখন বর্তমান সমাজের নারীদের নিয়েও কিছু মানুষের এমন নোংরা মানসিকতা দেখা যায়। বর্তমান সমাজের সবচেয়ে অনিরাপদ বস্তুটি হচ্ছে নারী। যে গর্ভ থেকে তার জন্ম সে গর্ভকেই আজ কলঙ্কিত করছে এই নারী খাদকেরা।

একলা নারী, লোলপ দৃষ্টি; সহসা প্রচন্ড আত্মচিৎকার,ভিড় বাড়ে মোমবাতি ক্রেতার!

 বাংলাদেশে যে পরিমাণে নারী ধর্ষিত হচ্ছে তা যদি সঠিক ভাবে খবরের পাতায় আসে, তাহলে হয়ত নারী ধর্ষণের খবর দিয়েই পত্রিকার সকল পাতা ভরে যাবে। ২০২১ সালে ১৩২১ জন

২০২০ সালে ১৫৩৮ জন,২০১৯ সালে ১৪১৩ জন। সংখ্যাটা বিশ্বাস করা কষ্টকর কিন্তু এটাই সত্যি! বেশিরভাগ মানুষই সমাজের ভয়ঙ্কর থাবা থেকে বাঁচতে লুকিয়ে ফেলে নির্যাতনের ইতিহাস। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো অপরাধীদের মাত্র ৩% মানুষ সাজা পায়। বলছিলাম আমিনুল ইসলামের লেখা “ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” বইটার কথা।


বইয়ের নামঃ ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি 

লেখকঃ আমিনুল ইসলাম

প্রকাশনঃ নবকথন

প্রকাশকালঃ ২০২৩ বইমেলা

পৃষ্ঠাঃ ১২৭

মূল্যঃ ৩২০


উপন্যাসের সারসংক্ষেপঃ শীতের সকালে চারদিকে ভিড় করে আছে মানুষ। বস্তাবন্দী একটা লাশ! সাথে একটুকরো কাগজ।পরকালের সৃষ্টিকর্তার দেওয়া শাস্তির জন্য অপেক্ষা না করেই  একের পর এক খুন করে ভয়ঙ্কর ভাবে দেয়া হচ্ছে শাস্তি। কারন একটাই রেপ, ছিনতাই, মারধর। সেসব মানুষ যাদের জন্ম হওয়ার কথা ছিলো পশু রূপে কিন্তু মানুষ রূপে জন্ম হয়ে না���ী খাদকে রূপান্তরিত হয়েছে। শুরু হয় তদন্ত, কে এই গোস্ট খুনি? ঠিক তখনি “দ্য আর্ট অব রেইন” কবিতার মতো গল্পে নেমে আসে মিষ্টি প্রেমের বৃষ্টি। ব���বর্ণ ও হিয়ার মিষ্টি সাদামাটা বন্ধুত্ব। বিবর্ণ ও হিয়ার সাদামাটা জীবনে কি গোস্ট খুনির কোন সংযোগ আছে? আর্ট অব রেইনের মতো কি তাঁদের জীবন একইভাবে রূপান্তরিত হবে?


পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ আমিনুল ইসলামের লিখিত “ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” উপন্যাসটি সমাজের কতিপয় নিত্য নৈমিত্তিক অপরাধের পুনরাবৃত্তি ও নৈতিক অবক্ষয় উপস্থাপন করেছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে ঝরে যাওয়া প্রাণের স্পন্দন এবং সমাজের চোখে ধর্ষিতাকেই আঙ্গুল তুলে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিয়োগাত্নক আখ্যান তুলে ধরেছেন লেখক। 


উপন্যাসের শুরুটা খুনের ভয়াবহ বর্ণনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা দেখানো দেখে পাঠক প্রথমেই কনফ্লিক্টের স্বাদ পেয়েও হঠাৎ রোলারকোস্টারের রাইডের মতো বাঁক ঘুরে গিয়ে পড়বেন মিষ্টি প্রেমের আখ্যানে। ঠিক যেনো প্রচন্ড খরার পর মুষলধারে শান্তির বৃষ্টি। হিয়া ও বিবর্ণের দিনলিপির এক অঘোষিত ভালোবাসা। কিছু মিষ্টি প্রেমের কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন- 

“কৃষ্ণচূড়ার লালে কিংবা কোন কবিতার উপমায়। আনমনে যদি হারাই,তবে খুঁজতে যেওনা আমায়। শ্রাবণ ধারার শেষে ওই স্বচ্ছ নীল আকাশের রংধনুতে,খুঁজে পাবে আমায়।”


হিয়া ও বিবর্ণের সাদামাটা দিনলিপিতে যখন পাঠক ভাবতে বসবে এতো সুন্দর এক প্রণয়ের গল্প। ঠিক তখনই লেখক রোলারকোস্টারের আরেক বাঁকে এনে ফেলবে ডায়েরির শেষ পাতায়। আচমকাই অদৃশ্য হয়ে যাবে লেখকের উত্তমপুরুষের জবানবন্দিতে হিয়া ও বিবর্ণ। গল্পের মোড় ঘুরে পর্যবসিত হবে গোস্ট খুনির সেই ভয়ংকর কিছু খুনে। যেখানে দেশবাসী খুনীকে ধন্য ধন্য করা ও পুলিশের মাথার চুল ছেঁড়া অবস্থা। তদন্তরত অফিসারের তদন্তে পাঠক ভাবতে বাধ্য হবে উপন্যাসের লেখনীর ধারা কিংবা কালপ্রিট কে। 


কিন্তু এখানেও লেখক হারলান কোবেনের চেয়ে দূর্দান্ত টুইষ্ট উপস্থাপন করেছেন Delusions বা Hallucination কিংবা সিজোফ্রেনিয়া related topic এ। বলে রাখা ভালো, Delusions হচ্ছে অদ্ভুত বিশ্বাস যার সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। Delusion এ আক্রান্ত ব্যাক্তিদের বাস্তবিক তথ্য দেওয়া হলেও তাদের বিশ্বাসের পরিবর্তন হয় না। Hallucination এ আক্রান্ত ব্যক্তি অবাস্তব জিনিস অনুভব করেন। বাস্তব না এমন জিনিস দেখতে পেতে পারেন, শব্দ শুনতে পেতে পারেন। Hallucination এর মাত্রা গভীরে চলে গেলে রোগী কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে পারেন না,  মনে হয় দুইটা মিলেই একটা জগৎ। অবচেতন মনে যা ভাবে তাই দেখতে পায় ট্রমাটিক কারনে। লেখক এই বিষয়টাই  সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন।


উপন্যাসের শেষাংশে লেখক নাটকীয়ভাবে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে এমন ভাবে উপস্থাপন করে পাঠকের সামনে এনেছেন যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। উপন্যাস কখনো নাম পুরুষ কখনও উত্তম পুরুষের মাধ্যমে সাবলীলভাবে  লিখে গিয়েছেন লেখক।খুনীর চোখে রক্ষক যখন ভক্ষক তখন পাঠকের চোখে সেই দেশের উপযুক্ত আইনপ্রনেতা কিংবা নায়ক। সমাজের এই বিষাক্ত অবক্ষয়গুলো ধ্বংসের জন্য এমন গুটিকয়েক গোস্টখুনির দরকার। অপরাধ নির্মূল করতে হলে হাতে কালি লাগাতেই হবে, হোক সেটা ভিন্ন ভাবে।


“ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” চরিত্রায়ন নিয়ে কিছুই বলার নেই। উপন্যাসের ৮৪ পৃষ্ঠায় পাঠক ভাবতে বাধ্য হবে উপন্যাসের সবচেয়ে দূর্বল দিক হয়তো এটাই। এতো সহজেই ডায়েরি উদ্ধার করা সম্ভব আদৌও? কিন্তু উপন্যাসের শেষ অবধি পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে লেখক আদতে কোন চরিত্রায়নেই ফাঁকফোকর রাখেননি তিনি। পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রাহুল ও চাকরি থেকে অবসর নেয়া পুলিশ অফিসার শুভ্রের উপন্যাসে চরিত্রের বুনট লেখক বেশ পাকাপোক্ত ভাবে গড়ে তুলেছেন।“পরের জন্ম কি সত্যিই কিছু আছে? যে জন্মে বিবর্ণ আর আমি প্রিয় মানুষের সাথে সুখী হতে পারবো?”


কখনও কবিতা,কখনও গিটারের টুংটাং শব্দের লেখনীতে, কখনও বিভৎস খুনের ভয়ঙ্কর বর্ণনায় আবার কখনও সমাজের কাছে হেরে যাওয়া অসহায় এক পুরুষের বাক্যগঠনে,সংলাপে পাঠক মুগ্ধ হবে বারবার।“জীবনকে গভীর ভাবে ভাবতে নেই।জটিল করতে নেই।জটিলতা ক্যান্সারের মতো। একবার স্পর্শ করলে সারা শরীর ছড়াতে থাকে। তখন ভালো থাকারা অস্তপথের সূর্যের মতো অন্ধকার নামিয়ে বিদায় নেয়।”


“ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” উপন্যাসের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ শক্ত-পোক্ত। যেভাবে খুশি রেখে পড়া যায়। বইয়ের প্রচ্ছদও দারুণ।  উপন্যাসের কনসেপ্ট পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলেছেন জুলিয়ান ভাই। বইয়ে কিছু টাইপিং মিস্টেক ছাড়া কোন বাক্য অসংগতি চোখে পড়েনি। তবে দুটো ডায়রির প্রসঙ্গে পাঠক সন্দিহান হবেন।


“Everything changes in the womb of time,but the last vision of death,which is full of  pride and stigma.Does not change"

নারীদের উপর সহিংসতা ঠিক কতটা নির্মম হয় কল্পনাতীত। নৃশংস ভাবে ধর্ষণ হবার পরও এ-সমাজে অপরাধীদের বদলে ওই অসহায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া  নারীকেই বারবার দায়ী করে যায়। কিংবা ধর্ষণকারীর সাথেই সম্মান বাঁচাতে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। লেখক তা উপন্যাসে কল্পিত রূপে বাস্তবের পর্দা উপস্থাপন করেছেন।

যদি এক বসায় থ্রিলারের মোড়কে আবৃত অসমাপ্ত ভালোবাসা,সমাজের নরপিশাচের দ্বারা কতিপয় ঘৃণিত অপরাধ ও একই সাথে সমাজের মানুষের ভুল দৃষ্টিভঙ্গির আখ্যান পড়তে চান তবে “ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” উপন্যাস পড়তেই পারেন।
3 reviews23 followers
February 21, 2023
সুন্দর প্লট। কিন্তু লেখক এক্সিকিউশনটা ঠিকঠাক করতে পারেননি। প্রথম হাফে গল্পের চাইতে ড্রামা বেশি ছিল। অবশ্য পরের হাফে গল্প খুব দ্রুত এগিয়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গা অস্পূর্ণ ও ধোয়াঁশা রেখে গেছেন। গোটা বইটাতেই লেখকের আরো কাজ করার জায়গা ছিল।
সবকিছু মিলিয়ে বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালো লেগেছে।
আপনি যদি খুব বেশি সিরিয়াস পাঠক না হয়ে থাকেন তাহলে একবার পড়ে দেখতে পারেন। আশা করছি ভালো লাগবে।
লেখককে ধন্যবাদ এমন একটি সিরিয়াস টপিকের উপর বই লেখার জন্য।
Profile Image for কিশোর ইমন.
Author 40 books736 followers
February 25, 2023
ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি
রিভিউ :
বহু মাস আগে আমিনুল ইসলামের প্রথম বইটা রিভিউ করেছিলাম ফেসবুক লাইভে। কিছু সমস্যা ধরেছিলাম বইটায়, এবং একই সাথে বলেছিলাম লেখকের প্রথম বই হিসেবে আমি মনে করি না এসব খুব বড় সমস্যা। কিঞ্চিৎ সতর্ক থাকলে এবং কাজ করতে থাকলে এসব চলে যাবে।

আজকে পড়লাম তার “ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” বইটি। সকল সমস্যা তিরোহিত হয়েছে। যথেষ্ট গুছিয়ে লেখা একটা গল্প। অভিযোগের জায়গা? এখন একেবারেই নেই। (ফকিন্নি রিভিউয়ারদের মতো বানান ভুল আমি ধরি না। পাঠক, আপনি যথেষ্ট অ্যাডাল্ট, একটা বানান ভুল থাকলে শুদ্ধটা মনে মনে পড়ে নিন। এত হাউকাউয়ের কিছু নেই।)

গল্পটা সিরিয়াল কিলারের। একজন সিরিয়াল কিলার ধর্ষকদের খুন করতে শুরু করে। লাশের সাথে নোট রেখে যায় ঠিক কীভাবে খুনটা করা হয়েছে। সব সময় শেষটা করে এভাবে –
ইতি
আপনাদের প্রিয়
গোস্ট খুনি

মানুষ তাকে সর্বাত্মকরণে সমর্থন দেয়া শুরু করে অচিরেই। কারণ ধর্ষকদের মধ্যে কয়জনকে আর ধরা হয়? প্রসঙ্গত আমি একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরি। এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেল দৈনিক ইনকিলাবের পাতায়। সেখানে বলা হয়েছে –

“২০২২ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৩৬ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন। আর ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাত জন। ২০২১ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ১ হাজার ৩২১ নারী।”

সঠিক সংখ্যাটা কত? নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এর অন্তত ৫০-১০০ গুণ বেশি হবার কথা। পশ্চিমা বিশ্বে সামগ্রিক ধর্ষণের বড় একটা অংশ রিপোর্ট করা হয়। আপনাদের সুবিধার্থে বলছি, আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এর নাম রেইন। রেইপ, অ্যাবিউজ, অ্যান্ড ইনসেস্ট ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক। এই সংস্থার মতে মাত্র ২৩% রেইপ কেস রি���োর্ট করা হয়। একই সাথে তারা বলেছে, সংখ্যাটা অনেক বাড়িয়ে বলা হয়েছে। সম্ভাবনা আছে ২৩%-ও রিপোর্ট করা হয় না, কারণ আনরিপোর্টেড কেস হিসাব করে বের করা এত সহজ নয়।

আমাদের দেশে কিংবা মিডল ইস্টে ১% মতো কেসও রিপোর্ট করা হয় না। এজন্য আমার মতামত ছিল, আসল সংখ্যাটা ৫০-১০০ গুণ বেশি হবার কথা। যদিও মিডল ইস্টের সংখ্যা বের করে আমেরিকার সংখ্যার পাশে তুলে কিছু বরাহশাবক বলার চেষ্টা করে পশ্চিম বিশ্বে ধর্ষণ বেশি হয়। কথাটি সত্য নয়। ২৩% রিপোর্ট আর ০.৫% রিপোর্টের সংখ্যা পাশাপাশি তুলে ধরা হলে ০.৫% রিপোর্ট যে দেশে হয় সে দেশে ধর্ষণ কম হয় মনে হবে। যেমন নর্থ কোরিয়াতে কোভিডের সময় টেস্টেড পজেটিভ ছিল ০।

এটা নিয়ে আমার একটা কৌতুক ছিল। আমি বলতাম নর্থ কোরিয়াতে কোভিড নির্ণয় বেশ স্ট্রেটফরোয়ার্ড।


১ – ওহ, গুড়ুম, ০।


গুড়ুম।
০।

ইত্যাদি।
রেইপ ভিক্টিমের অবস্থাও বাংলাদেশে বা মিডল ইস্টের অনেক দেশে এমন।

আমিনুল ইসলামের গল্পে এই ভিক্টিমদের ত্রাতা হিসেবে এলো একজন সাইকোপ্যাথ। আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি। নামটা অদ্ভুত, তাই না? এটা আমার পছন্দ হয়েছে। কারণ সাধারণ একজন মানুষ হয়তো খুব দারুণ এক নাম রাখবে। পাগলাটে খুনি নাম রাখবে পাগলাটে যুক্তিতে। এখানেও তাই ঘটেছে। সে এমনভাবে ধর্ষকদের খুন করলো যেন তা প্রচার পায়।

যেন অন্য ধর্ষকরা ভয়ে থাকে। খোদার ভয় তাদের দিলে না থাকতে পারে, গোস্ট খুনির ভয়ে হলেও কোন মেয়ের দিকে তারা অমতে আঙুল বাড়াবে না।

বইটা একই সাথে সাইকোলজিকাল থৃলার এবং রহস্যোপন্যাস। কারণ, খুনিকে ধরার জন্য পেছনে গোয়েন্দা লেগে যায় ঠিকই। সতর্ক পুলিশের চব্বিশ ঘণ্টার পাহারার ভেতরও গোস্ট খুনি ঠিক ঠিক তার টার্গেটদের সরিয়ে ফেলতে শুরু করে। একটা পর্যায়ে আমার ধারণা হয়েছিল এটা অতিপ্রাকৃত গল্প কি না!

অথচ লেখক আমাকে চমৎকৃত করেছেন। কারণ ওই ডারভারশন সৃষ্টি করেই আমাকে ঘোল খাইয়ে দিয়েছেন, খুনির পরিচয় আগেভাগে অনুমান করতে পারিনি। ঠিক তখনই পেরেছি, যখন লেখক তা প্রকাশ করেছেন।

আমি কারো মধ্যে মেরিট না দেখলে শুধু শুধু তেল মারার জন্য ভালো কথা বলি না কখনোই। আমার মনে আছে মানুষজনের প্রথম বই নিয়ে আমি কথা বলি যখন, অনেকেই মনে করেছেন বেশি বলেছি কি না। এই দারুণ গল্পটা পড়ার পর আমার ইচ্ছে করলো সবগুলোকে ধরে এনে এনে দেখাই – বেশি বলে ফেলিনি আমি আসলে তখন। আমার মনে আছে কমেন্টে লোকের সাথে তর্কও হয়েছে নবীন লেখকদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে। কেউ বলেছে, (এ লেখকের প্রসঙ্গে নয়) আপনি কেন অমুককে নিয়ে এত ডিফেন্ড করছেন। আমি বলেছি, “আপনি কেবল আজকের ও কালকের দিন কেমন হবে দেখতে পান। আমি দেখতে পাচ্ছি পাঁচ বছর পর কী হবে।”

ধন্যবাদ, আমিনুল ইসলামকে।
চমৎকার একটি গল্প আমাদের দেয়ার জন্য।

স্নিগ্ধ একটা অনুভূতি হয়েছে বইটার প্রথমার্ধে, শেষার্ধে মনে হয়েছে “খুন কে করছে! খুন কে করছে!” – সাসপেন্স। এই ফিউশনটাও আমার ভালো লেগেছে খুব।

আমার মনে হয় যারা থ্রিলার বই পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটা ২০২৩ সালের বইগুলোর মধ্যে অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Eva Mojumder.
73 reviews1 follower
May 20, 2025
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক খু'নের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। গোয়েন্দা ও পুলিশ বাহিনীর দিশেহারা অবস্থা। কিন্তু সাধারণ জনগণ সেই খু'নিকে খুবই সমীহ করে। খু'নের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের পরেও জনগণের চোখে সে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। হবে নাই-বা কেন? একটি দেশের মেরুদণ্ড হলো সে দেশের আইন। যখন দেশটির আইনের ভিতই দুর্বল হয়, তখন দেশটিও রসাতলে পৌঁছুতে খুব বেশি সময় নেয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনসংস্থা নিয়মকানুনটাও খুব মেনে চলে। অপরাধীর শাস্তি হোক বা না হোক, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া ব্যক্তির শাস্তি সুনিশ্চিত হতেই হবে!

তদন্ত চলছে...। প্রতিটি খু'নের ধরণও অনেকটাই এক। প্রত্যেকের যন্ত্র'ণাদায়ক মৃ'ত্যু নিশ্চিত করাই যেন খু'নির মূল লক্ষ্য। বস্তাবন্দি ম'র'দেহের প্রতিটি অঙ্গ বেশ সময় নিয়ে আলাদা করেছে খুনি। খু'নের কোনোরকম প্রমাণ ফেলে না গেলেও খু'নের জঘন্য বর্ণনা দিতে ভুলেনি সে। প্রতিটি মৃ'তদেহের সাথে টাইপ করা চিরকুটে খুনের বিভীষিকাময় বর্ণনা দিয়ে গেছে। সেইসাথে ভিক্টিমকে হ'ত্যা করার কারণও জানিয়ে গেছে। জানা গেছে, ভিক্টিমরা বেঁচে থাকা অবস্থায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজেও জড়িত ছিল। নিজেদের কর্মকান্ডের ফলস্বরূপ খু'নি তাদের মৃ'ত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু দেশে একটা আইন আছে তো নাকি? এভাবে চলতে থাকলে যে কেউ যেকোনো সময় আইন হাতে তুলে নিবে এবং নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে। এটা হতে দেওয়া যায় না। তাই তদন্ত চলছে জোরকদমে।

এমবিবিএস পাশ করে বিসিএস দিয়ে পুলিশে জয়েন করেও রিজাইন দেওয়া এক্স এএসপি শুভ্র সাহাকে হায়ার করে আনা হলো গোস্ট খু'নির জটিল কেসটির সমাধানের আশায়। সাথে আছে এসআই রাহুল ও আবির। তদন্তের প্রথমেই এসআই রাহুল দুইটি ডায়েরির খোঁজ পান। ডায়েরি দুটি বিবর্ণ ও হিয়া নামের দুইজন ছেলে ও মেয়ের। ডায়েরির বদৌলতে এই অদ্ভুত কেসে এই ছেলেমেয়ে দুটিও জড়িয়ে পড়ে। তদন্তের স্বার্থে খোঁজ পড়ে তাদেরও। কিন্তু হাজার তদন্তের পরেও তাদের টিকিটিও খুঁজে পায় না শুভ্র সাহা ও তার দল। এদিকে খু'নও থেমে নেই। লাইমলাইটে থাকা প্রতিটি ধর্ষণ কেসের ধর্ষককেই খুঁজে খুঁজে একই পরিণতি করছে খু'নি। এমনকি যেই ধর্ষণগুলোর কথা খু'নির জানার কথা নয়, সেগুলোও সে জেনে যাচ্ছে। এটা কিভাবে সম্ভব? কে করছে এসব? কোনো সাইকোপ্যাথ? নাকি ঠান্ডা মাথার কোনো খু'নি? কি করে এমন জটিল কেসের সুরাহা করবে শুভ্র সাহা? জানতে হলে পড়তে হবে আমিনুল ইসলামের ‘ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খু'নি’ বইটি।

পাঠপ্রতিক্রিয়া— এককথায় বললে ভালো লেগেছে। ছিমছাম, সাবলীল, ছোট পরিসরের এই গল্পটি পড়ে আরাম পেয়েছি। কখনো হতাশ লেগেছে নিয়মের এতো বেড়াজালের কথা ভেবে, কখনো কষ্ট পেয়েছি নিষ্পাপ প্রাণগুলোর কথা ভেবে, কখনো বা হাহাকার জেগেছে অপূর্ণ ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে, আবার কখনো উত্তেজিত হয়েছি ঘটনার মোড়ের চমকে, কখনো বা নিজের অজান্তেই গোস্ট খু'নির সঙ্গ দিয়েছি। মনে হয়েছে এমন জা'লিমদের এটাই প্রাপ্য শাস্তি। তবে আমি গোস্ট খু'নিকে সমাপ্তিতে পৌঁছানোর পূর্বেই ধরে ফেলেছিলাম। এরজন্য আমার পড়ায় এতোটুকুও প্রভাব পড়েনি। কোনো এক জাদুবলে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছে গেছি। তবে প্রথমদিকে একটু ম্যাড়ম্যাড়ে লেগেছিল। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে নিজেকে সামলেও নিয়েছিলাম। এরপর আর থেমে থাকিনি। একটানা পড়ে শেষ করে ফেলেছি। সবমিলিয়ে মনে দাগ কেটেছে।

খুবই সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে লেখক এই বইটি রচনা করেছেন। না পারছিলাম খু'নির সঙ্গ দিতে, না পারছিলাম তার বিপক্ষে যেতে। বড্ড টানাপোড়েনে পড়ে গেছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল আমার দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই লেখক ছোট পরিসরে বইয়ের পাতায় তুলে ধরেছেন। আমার সামনে তনু, আছিয়া, নুসরাতের মতো অসংখ্য নারীর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছিল। একটা মানুষের অনুপস্থিতিতে কিভাবে তার সাথে শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাকিদের জীবন বিভীষিকায় পরিণত হয় তা উপলব্ধি করতে পারছিলাম। তাদের পরিবারের হাহাকার টের পাচ্ছিলাম। তাদের তছনছ হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো আয়নার মতো স্বচ্ছ হয়ে চোখে ভেসে উঠছিল। আর তাই গোস্ট খু'নির কর্মকাণ্ডগুলো আমার কাছে একদমই অতিরঞ্জিত মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে, শাস্তিটা কম হয়ে গেলো না তো? এমন অমা'নুষগুলোর শাস্তি কি শুধুমাত্র যা'বজ্জীবন কিংবা ফাঁ'সিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত? তাহলে তারা কিভাবে বুঝবে একজন ধর্ষিতা নারীর আ'র্তচি'ৎকার? তাদেরকে তো এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যেন প্রতিনিয়ত মৃ'ত্যুর মতো য'ন্ত্রনায় ছটফট করে এবং অবশেষে মৃ'ত্যু কামনা করে। কিন্তু মৃ'ত্যুকে ছোঁয়ার সাধ্যি যেন তাদের না থাকে।

লেখক আমিনুল ইসলামকে ধন্যবাদ এমন একটি বিষয় নিয়ে কাগজের পাতায় লিখার জন্য। হয়তো গোটা দেশকে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি এই ছো��্ট বইটিতে। কিন্তু একাংশ ঠিকই উঠে এসেছে এবং যারা বোঝার তারা ঠিকই বুঝবে।

বই- ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খু'নি
লেখক- আমিনুল ইসলাম
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৩১
মুদ্রিত মূল্য- ৩২০ টাকা
Profile Image for Abdullah All Noman.
49 reviews3 followers
March 16, 2024
আমি খুব খুশি মনে বইটা পড়া স্টার্ট করেছিলাম। এরপর প্রথম দুই পেজেই যা হলো তার জন্যে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।
কিছুদিন আগে আমিনুল ভাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দুইটা বই সংগ্রহ করি, তন্মধ্যে একটা পড়া হয়েছে এবং সেটা নিয়েই আজ কিছু কথা বলব। সাধারণত আমি বুক রিভিউ আমার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করি না কিন্তু আল্লাহর এই বান্দা তার জন্মদিনের দিন ফেসবুকে পোস্ট দিলেন,
“দুঃখিত!! আমি ইনবক্সে ঢুকব না। যারা উইশ করছেন, করবেন। সবাইকে ধন্যবাদ। আসলেই শুভ কিছু চাইলে আমার লেখা আপনার পছন্দের বই নিয়ে পোস্ট লিখবেন। একটু লাভ হবে।“
তো তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্যেই মেইনলি এই রিভিউটা।
তো প্রথমত আমি বরাবরই বলে এসেছি যে বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি জনরার ক্ষেত্রে আমিনুল ভাই এক অসাধারণ লেখক। তার লেখনী আপনার কল্পনার কতটা ভেতরে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে সেটা আপনিও কল্পনাও করতে পারবেন না। একই কাজটা এক্ষেত্রেও হয়েছে। আমি বারবার বিবর্ণ এবং হিয়াকে কল্পনা করার চেষ্টা করছিলাম এবং আমার চোখে তারা ছিলো একদমই বইয়ে দেয়া বর্ণনার মতো। বইয়ের বর্ণনানুযায়ী বিবর্ণ ছিলো ঝুট, ঝামেলাহীন, কোলাহল বিহীন কক্সবাজারের দরিয়ানগর বিচের মতো একদম নিষ্পাপ এবং চুপচাপ একটা ছেলে। আর হিয়া ছিলো এক অপূর্ব সুন্দরী যে নাকি একজনের উপস্থিত দিনটাকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে, যার দীর্ঘ কালো চুলগুলো ছিলো জলপ্রপাতের মতো।
গল্পের একাংশে অড সিগনেচারের “ঘুম” গানটার কিছু লাইন দেখতে পাই এবং গল্পের এতোটা গভীরেই ছিলাম যে মনে হচ্ছে ওই গানটা আমার কানেই বাজছে। আর আমি বসে আছি বিবর্ণের জায়গায় এবং পাশে কোনো এক অপরিচিতা অপ্সরী হিয়ার মতো করেই আমার বা হাতটা তার জ্বরে পুড়ে যেতে থাকা উষ্ণ হাতে ধরলো। যাই হোক এর পরপরই যা হলো সেটার জন্যে আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না, আমার মতে যারা এই বইটা পড়েছে তারা সবাইই এই জায়গাটাই এসে একটা শক খেয়েছে।
তবে গোস্ট খুনি কে?? প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর রিটায়ার্ড এএসপি শুভ্র এবং এসআই রাহুল কিভাবে গোস্ট খুনিকে ধরতে গিয়ে বিবর্ণ-হিয়ার সাথে জড়িয়ে গেলো?? শেষ পর্যন্ত কী তারা গোস্ট খুনিকে ধরতে পেরেছিলো?? উত্তর পেতে হলে পড়তে হবে নবকথন থেকে প্রকাশিত আমিনুল ইসলাম ভাইয়ের “ইতি আপনাদের প্রিয় গোস্ট খুনি” বইটি। জুলিয়ান ভাইয়ের প্রচ্ছদ করা ১২৭ পেজের এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটির মুদ্রিত মূল্য ৩২০ টাকা মাত্র।
Profile Image for Harun Ahmed .
36 reviews1 follower
June 8, 2025
শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আতংক।
বস্তাবন্দি অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে বিভৎস খণ্ডিত লাশ! সাথে একটি চিরকুটে লিখা আছে খুনের কারণ ও বিবরণ। অনেকেই খুনির পক্ষ নিয়ে কথা বলছে কারণ খুনি শাস্তি দিচ্ছে ধর্ষককে। জনগণের নিরাপত্তা যাদের হাতে যখন তারা ব্যর্থ কিন্তু খুনিকে খুঁজতে ছুটছে পিছে তখন... খুনিকে খুঁজে পাওয়া যাবে? অন্যায়কারীরা কি বারবার পার পেয়ে যাবে?

ছোট একটা বই কিন্তু কাহিনী ছোট নয়। কিছু মানুষ যারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রিয়জনদের হারিয়েছে, গল্পটা তাদের নিয়ে। শুরু দুটি লাশ পাওয়া নিয়ে, রোমহষর্ক খুন ও লাশের বর্ণনা পড়ে তো... কিন্তু তারপর প্রায় পয়তাল্লিশ পেজ দুজন অজানা যুবক যুবতীর ডাইরির অংশ। এই অংশে বিরক্ত ও অস্থির উভয়ই হয়েছি। মনে হচ্ছিল থ্রিলার পড়ছি নাকি রোমান্টিক উপন্যাস! কিন্তু খুন, খুনির সাথে তিনটি ডাইরি রিলেটেড। অনেক দ্রুত গল্প এগিয়ে গেছে। টপাটপ খুন আর খুনির সন্ধানে ধাওয়া। আরও ডিটেলিং থাকলে ভালো হতো। খুনিকে কীভাবে, কখন গুম করা হচ্ছে, খুন করার সময়কার অবস্থা তেমনভাবে বলায় হয়নি। বইয়ে যে বিষয়টা বেশি চোখে পড়েছে সেটা হলো, কাকতালীয়ভাবে বেশ কিছু জিনিস মিলে যাওয়া। একই সময়ে, একই মানসিক টানাপোড়েনের শিকার তিনজন এমনভাবে জড়িয়ে যায়!!! গোস্ট খুনির একদম সঠিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিতি কিছুটা নাটকীয় লেগেছে। গোস্ট খুনি কে হতে পারে অনেক ভেবেছি কিন্তু... মেলেনি। চরিত্রগুলো যেভাবে জড়িয়ে গেছিলো দ্বিধায় পড়ে গেছিলাম। খুনি কে? মোটিভই বা কী? শেষের টুইস্টগুলো ভালো লেগেছে। সমাপ্তি বিষাদময় সুন্দর।
Displaying 1 - 12 of 12 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.