বাংলাদেশের অনেক জনসাধারণ আছে, যারা আদতে জানেই না তারা কোন মাযহাবের অনুসারী। নামে জানলেও মাযহাবের মাহাত্ম্য, ইতিহাস, মাযহাব আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট ও কারণ অধিকাংশের কাছেই অজানা। অজানা থাকাটাও অনেকটা স্বাভাবিক, কারণ মাযহাব শব্দটি শুনলেই মুসলিম সমাজের সামনে যে ভ্রান্ত কল্পচিত্র অঙ্কিত হয় তা হলো মুসলিম সমাজ চার চারটিভাগে বিভক্ত। অধিকাংশের কাছে অজানা হলেও কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে বিষয় টা যেনো একপ্রকার বাড়াবাড়ি কিংবা গোড়ামির অপর নাম।
ইসলামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলো নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত সংঘাত করার ফলস্বরূপ আজ মুসলিম সমাজ দ্বীনের প্রকৃত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত। আজকে মুসলিম উম্মাহ নাস্তিকতার বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার তুলতে পারছে না। মুসলিম উম্মাহ আজ জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে, মুসলিম ভাইয়ের নির্যাতনের ভিডিও লাইভ দেখছে, পারছে না সম্মুখে প্রতিবাদ করতে। আজ উম্মাহ ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষে যুক্তির টক শো করছে। বড়ই আফসোস সমসাময়িক এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে না চিনে, ইসলামকে না বুঝে, বুঝেছে ইসলাম মানে জঙ্গি, ইসলাম মানেই কাদা ছোড়াছুড়ি।
আমরা মুসলিমরা কখনই সংঘাত চাইনি, আমরা চাই দল মত নির্বিশেষে ঐক্য ও আল্লাহর একত্ববাদ। সেই আমরাই যদি মাযহাব কেন্দ্রিক, অমুক-তমুকের ভিন্ন মত নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করি তাহলে ইসলামের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় কিভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে?
মাযহাব কেন্দ্রিক যে অজ্ঞতার ধোঁয়াশা কুয়াশা আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে তা দূরীকরণের জন্যই, ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস এর লেখা ❝মাযহাব অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ❞ বইটি।
বইটির বিস্তারিত তথ্যবহুল বর্ণনাতে জায়গা পেয়েছে প্রসিদ্ধ চারটি মাযহাবসহ আরো কয়েকটি মাযহাবের ধারাবাহিক পর্যালোচনা। বইটিতে আলোচিত হয়েছে ফিক্হশাস্ত্রের সামগ্রিক উন্নয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মাযহাবগুলোর বিবর্তনের বিভিন্ন স্তর নিয়ে। লেখক যে আঙ্গিকে মাযহাবের ক্রমবিকাশের সময়কাল উল্লেখ করেছেন তা ছিলো অতুলনীয়। এছাড়াও চার ইমামের ভিত্তিগত মিল ও মতপার্থক্যের কারণগুলো সুস্পষ্ট আলোচিত হয়েছে উক্ত বইটিতে। তৎকালীন আলিম ও ইমামদের কর্মপদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেছেন লেখক। বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিলো মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের জন্য, লেখক কর্তৃক প্রস্তাবিত পদক্ষেপটি।
বইটি পড়ে পাঠক সমাজ অনুধাবন করতে পারবেন মাযহাব অনুসরণীয় নাকি বর্জনীয়। লেখকের সাবলীল উপস্থাপন ও নিরপেক্ষতা বইটির মাহাত্ম্য বহু গুণে বারিয়ে তুলেছে। যারা মাযহাব নিয়ে ধাঁধা কিংবা দ্বীধার মধ্যে রয়েছেন তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য বইটি।