আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যখন প্রাইমারি পার হয়ে হাইস্কুলে আসে, তত দিনে অনেকের গণিতের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মূল কারণ হলো আমাদের অধিকাংশ স্কুলে গাণিতিক পদ্ধতি ও সমাধানে যত জোর দেওয়া হয়, মূল বিষয়গুলোতে ততটা জোর দেওয়া হয় না। ফলে অনেকেই গণিত মুখস্থ করে। অথচ গণিতের মূল বিষয়গুলো কেউ আত্মস্থ করতে পারলে গণিতের জগৎটা হয়ে ওঠে আনন্দময়। এ বইটি তাই লেখা হয়েছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গণিতের ভিত্তিকে জোরদার করার জন্য। গণিতের হাতেখড়ি হয় সংখ্যা দিয়ে। ক্রমান্বয়ে সংখ্যার মূর্ত ধারণা থেকে শিক্ষার্থীরা বিমূর্ত ধারণায় প্রবেশ করে। সংখ্যার ধারণা তাই যত পোক্ত হয়, উচ্চতর গণিতে তাদের বিচরণও তত সড়গড় হয়ে ওঠে। সংখ্যা পাতন থেকে শুরু করে, যোগ-বিয়োগের নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে এ বই পড়ুয়াদের খুব সহজে ভগ্নাংশের গুণভাগে পৌঁছে দেবে। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে লেখা হলেও যাঁরা তাদের গণিতের দীক্ষা দেন, তাঁদের জন্য এ বইটি সমান উপযোগী।
জন্ম চট্টগ্রামে। হাইস্কুলের পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি ও মুসলিম হাইস্কুল। পরে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন কিংবা এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতার সম্পাদনা করেছেন। ২০০৩ সালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে থেকে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। বর্তমানে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেবো’ নামের প্ল্যাটফর্মটা তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে। গণিত আর বিজ্ঞান নিয়ে লেখার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায়। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় যুব কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।