Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
এই উপন্যাসটি যতো না উত্তর দিলো, তার থেকে অনেক বেশি প্রশ্নের জন্ম দিলো। তবে হ্যাঁ, এতো সহজ (প্রায় সুরেলা) ভাষায় এমন ভয়োৎপাদক ন্যারেটিভ, আমি বাংলায় এর আগে কখনও পড়িনি। এই সিরিজটা শেষ হওয়ার আগে অবধি বোধহয় এই দোলাচলেই কাটবে যে এই উপন্যাস-গুলো অতিপ্রাকৃতের বিবরণ, নাকি নিছক ভ্রম আর বিভ্রমের বর্ণনা।
" I can not and will not belive that man can be evil. " আমরা যা বিশ্বাস করি তাই কি বার বার বলি? নাকি যা বিশ্বাস করি না কিন্তু করতে চাই তাই বার বার বলি?
বাক্যটি মিসির আলি মাঝে মাঝেই বলেন। এটি তার অন্যতম প্রিয় একটি বাক্য।
আগামীকাল ঈদ। আজ শেষ রোজার সেহেরি করে ঘুমের চেষ্টা করার কিছুখন পর বুঝতে পারলাম কোথাও একটা সমস্যা আছে। আসলে প্রচন্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা আবহাওয়াকে টেক্কা দিয়ে যে বাড়ছে সেটা খেয়াল করিনি। জ্বর আসার এই মুহূর্তের ঘোর টা আমার দারুন লাগে। সব কিছু যেন চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। মনে হয়, এইতো! হাত দিলেই ছুয়ে ফেলব! এভাবে নিজের সাথে ঘন্টাখানেক কথা বলতে বলতে ভাবলাম উঠে কোনো বই পড়ি। কিন্তু শরীর তাতেও রাজী হয় না। গত সপ্তাহে দেবী রি-রিড দেওয়ার পর ভাবলাম নিশীথিনীর ইবুক টা মেলে ধরি হয়ত এখন দারুন মানাবে। দেবী সিরিজের দেবীই আমার প্রিয় গল্প ছিল সব সময়। কিন্তু এই ঘোরালু মস্তিষ্কে নিশীথিনী যেন আগের থেকে পূর্নতা পেল! ঘোরালু বলে কি আসলেও কোনো শব্দ আছে? পরে দেখতে হবে। তবে কখনো এই রিএকশন টা এডিট করেও ঠিক করতে চাই না! থাক না একটা raw-অপ্রকৃতিস্থ একটা ভাইব ❤️
মিসির আলি অসম্ভব যুক্তিবাদী এক মানুষ,যার মতে প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করেনা।আসলেই কি তাই? এক প্রচন্ড গরমের দিনে মিসির আলির ক্লাসে যেতে দেরি হয়ে যায়। তিনি গিয়ে দেখেন,পুরো ক্লাসে শুধু আসমানি রঙের শাড়ি পড়া এক মেয়ে বসে আছে।মেয়েটির নাম নীলু।নীলু মিসির আলিকে তার বাসায় যেতে বলে কোনো একটি জরুরী কথা বলার জন্য।কী ছিল সেই জরুরী কথা?
এদিকে উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র হল ফিরোজ যে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যায় ফিরোজ,যা ছিল এক জমিদারবাড়ি।সে বন্ধুদের নিয়ম-নীতি সবই ছিল প্রাচীনপন্থী।বন্ধু আজমলের ছোট বোন নাজের প্রেমে পড়ে যায় ফিরোজ।কিন্তু তা কিছুটা অপ্রকাশিতই থাকে। হানিফার গুরুত্বও কোনো অংশে কম যায়নি এই উপন্যাসে।দশ বছরের এই চটপটে বালিকা মিসির আলির কাজের মেয়ে।হঠাৎ একদিন মিসির আলি আবিষ্কার করেন,হানিফা ঘুমের ঘোরে একটি ইংরেজি বাক্য বলছে,যা হানিফার পক্ষে বলা সম্ভব ছিলনা।তাহলে কি হানিফা অন্য কোনো বংশোদ্ভূত?তার আসল পরিচয় কী তাহলে?
আবার এদিকে একের পর এক খুন হয়েই যাচ্ছে মানুষ,যাদের সবার হত্যাকারী একজন।খালি গায়ে চশমা পরা এক ছেলে....কে সে?আর নীলুই বা মিসির আলিকে কী এমন বলেছিল?মিসির আলী কি তার সব রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পেরেছিলেন?নাকি হার মেনেছিলেন প্রকৃতির কাছে?
একটা সময়ে চামড়ার ডায়েরীর বড্ড শখ ছিল। সোনালী কালিতে ডায়েরীর কভারে কিছু লেখা থাকবে। স্বপ্ন দেখতাম খসখস করে ঠাস বুনোটের ডায়েরী তে কলম ঘষে ঘষে কেস স্টাডি লিখব। ডিজিটাল স্ক্রিন এসে যাওয়াতে সেই লেখার ইচ্ছে থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি। ভাবলাম, ডিজিটালি লিখে দেখি কেমন হয় !
কেস স্টাডি লেখার সঠিক নিয়মের ব্যাপারে আমি ওয়াকিবহাল না। তবু নিজের মতন কিছু একটা লেখা যাক। মিসির আলি মধ্যবয়স্ক কাল্পনিক চরিত্র
মিসির আলি সাহেব কে নিয়ে দুটো উপন্যাস পড়ে ফেললাম। পড়ার অবশ্য একটা অদ্ভুত কারণ আছে। হুমায়ূন আহমেদ তার সকল বইতেই উনার পড়া কোন না কোন বইয়ের রেফারেন্স টেনেছেন। সেগুলো কেউ একত্র করেছে কিনা সেটা খোঁজার অনেক চেষ্টা করলাম। আফসোস! কেউ করে নি। এত পড়ুয়া একজন মানুষের পাঠ্যতালিকা বেশ রিচ হবে সেটা ভেবেই নিজেই তালিকার উদ্দেশ্যে বইগুলো আবার পড়া শুরু করলাম।
প্রথম পড়লাম "নিশীথিনী"। আজ থেকে আরোও ৮ বছর আগেও পড়েছিলাম। পড়ে অসম্ভব মুগ্ধ হয়েছিলাম যতটুকু মনে পড়ে। কিন্তু গতকাল খেয়াল করলাম কাহিনীর অনেক কিছুই মনে নেই। স্মৃতি বড্ড অদ্ভুত। অপ্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু সে খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখে কিন্তু প্রয়োজনীয় স্মৃতি সে সচেতন ভাবে এড়িয়ে যায়। অবশ্য, নিশীথিনীর কাহিনী ভুলে গিয়ে এক হিসেবে লাভ ই হয়েছে। প্রথম মিসির আলি পড়ার আনন্দটুকু আবার পেলাম।
মিসির আলি সাহেব কে ঘিরে হুমায়ূনের বক্তব্য হচ্ছে , মিসির আলি যেন উনারই এক সত্ত্বা। মিসির আলি কে হিমুর মতন কাল্ট ফিগার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা না করা হলেও তাকে অসম্ভব বুদ্ধিমান বলে বেশ কয়েকবার আখ্যা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কাহিনীতেই মিসির সাহেবকে বুদ্ধিমান ঠাউর করার যুক্তি আমি দেখছি না। ভদ্রলোকের আগে থেকে আশেপাশের ইলিমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে সবকিছু বিচার করার প্রবণতা আছে। বুদ্ধিমান মানুষ এত সহজে বিচারে বসে না। মিসির আলি সাহেবের এজাম্পশন মাঝে মাঝে ভুলও হয়েছে। অকস্মাৎ সামনের যে কাউকে বিচার করাকে আমি বুদ্ধিমত্তা হিসেবে দেখতে চাচ্ছি না। ভদ্রলোকের চমকে দেয়ার অভ্যাস আছে। নিজের চেয়ে একটু কম বুদ্ধিমত্তার মানুষের কাছে বিষয়টা বিস্ময়কর তবে মানুষকে ভড়কে দিয়ে আনন্দ লাভের বিষয়টি এটেনশন পাবার স্টান্ট বলে মনে হয়েছে। অবশ্য, নিজেকে বুদ্ধিমান হিসেবে কার না ভাল লাগে।
ভদ্রলোকের শরীরের অবস্থা খুব খারাপ। অত্যন্ত দূর্বল শরীর। প্রায়ই দেখা যায়, লিভারে সমস্যা, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনের পর দিন পড়ে আছেন। তবুও, নিজের শরীর নিয়ে একদমই খেয়াল নেই। ভদ্রলোকের অনুরাগীরও অভাব নেই। চাইলেই তিনি নিজের চিকিৎসা করাতে পারেন। এই খেয়ালীপনার কোন যৌক্তিকতাও আমি খুঁজে পাই নি। গল্পের একাংশে তার মাঝে পৃথিবীর অপার রহস্য না দেখে যেতে পারার আক্ষেপ ও দেখা গেছে। রহস্যপ্রেমী মানুষ নিজের আয়ু বর্ধনে সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করে। মিসির আলির মধ্যে সেরকম কোন তাড়না আমি দেখতে পাই নি।
কাহিনীর একপ্রান্তে নিলুর ব্যাপারে মিসির আলির কামনাস্বরূপ চিন্তা দেখা গেছে। মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক যে সবকিছুর উর্ধ্বে নন, তা প্রকাশ করার প্রয়াস যেন এটি। তবে আমার এ ব্যাপারে একটি ভিন্নমত আছে। মিসির আলির নিলুর ব্যাপারে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর। মিসির আলির আকর্ষণ খুব সম্ভবত ক্ষমতার দিকে। প্রকৃতি হয়ত চেয়েছে, দুটি অদ্ভুত ক্ষমতাবান মানুষ একত্র হলে কিরকম দাঁড়ায়। প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে, তবুও সে হয়ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে, দেখা যাক, মিসির আলি আর নিলু একত্রে রহস্যের সমাধান করতে পারে কিনা।
ফিরোজ সংক্রান্ত বিষয়েও আমার একটা হাইপোথিসিস রয়েছে। সে ছোটবেলায় একটা বকুল গাছের সাথে একটি নগ্ন মৃতকে ঝুলতে দেখে প্রথম মানসিক আঘাতটুকু খায়। ধীরে ধীরে সে পরিণত হয়েছে গ্রামবাসীর হাতে মৃত এক অত্যাচারী জমিদারে। আমার মতে, এখানে ফিরোজের বাবা ওসমান সাহেবের অনেক বড় একটা অবদান রয়েছে। হত্যাকান্ডটুকু ও তার করা মনে হচ্ছে। অত্যন্ত ক্ষমতাবান পিতার প্রতিবাদ তাকে এক হিংস্র উন্মাদে পরিণত করেছে। মিসির আলি হয়ত সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। রোগের বীজ যাতে উন্মুক্ত না হয় তাই হয়ত মিসির আলি কে হত্যার চেষ্টা আমরা উপন্যাসের শেষে দেখতে পাই।
ইমার ব্যাপারটি কাকতালীয়তার শীর্ষে একটি ঘটনা। ইমার বাবা এত সহজে হাল ছেড়ে দিবেন তা মেনে নেয়া অযৌক্তিক। আর ইমা থেকে হানিফা হওয়ার যাত্রাটুকু সম্পর্কে আমাদের হাতে কোন তথ্য নেই। রাস্তায় রাস্তায় বড় হওয়া ছোট্ট একটা মেয়ে কিভাবে ভিন্ন পদের রান্না শিখল সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বাঙালি অত্যন্ত কৌতূহলী জাতি। সামান্যতম বিষয়ে তাদের সীমাহীন কৌতূহল। মেয়েটির কথা-বার্তায় বিদেশী টান ছিল। যে কারোও নজরে পড়তে পারত বিষয়টি এবং উচ্চমূল্য উপঢৌকনের লোভে মেয়েটিকে থানায় পৌঁছে দিতে পারত। কিন্তু, তা হয়নি। খুব সম্ভবত , হানিফার পার্টটুকু মিসির আলির হ্যালুসিনেশন। কেননা, নীলু এসে ঘর গুছিয়ে গেছে। হানিফা থাকাকালীন নিলুর ঘর গুছানোর প্রয়োজনীয়তাও নেই।
মিসির আলি সাহেব বেশ বই পড়েন। যে বইগুলোর নাম আমি টুকে রাখতে পেরেছি তা হচ্ছে
দেবী পড়ে শেষ করার পর বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করতে পারছিলাম না। এই রহস্যের শেষ জানতে ইচ্ছে করছিল খুব। তাই দেরী না করে সাথে সাথেই নিশীথিনী নিয়ে বসে গিয়েছিলাম।
নিশীথিনী আমাকে খুব হতাশ করেছে। বইটি পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে দেবীতেই কাহিনী শেষ করে দিলে মনে হয় ভালো হত। মনে হয় আমার খুব বেশি আশা ছিল এই বইটা থেকে, তাই হয়তো অন্যান্য সবার থেকে বেশিই আশাহত হয়ে আমিই।
দেবী পড়ার পর যেটা হইনি, নিশীথিনি পড়ে সেটা হইলো। মনে হইতেছে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছি :p
দেবীর সেই নিলুর সাথে মিসির আলীর আলাপ শুরু হইলো প্রথমেই। এর পরেই মেইন গল্পটা শুরু হইলো ফিরোজ নামের এক ছেলেকে ঘিরে। এই গল্পে নিলুর কিছু মজার ব্যাপার উঠে এসেছে।
ফিরোজ তার এক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে বেড়াইতে যায়, সেইখানেই ফিরোজের মধ্যে জন্ম নেই এক অস্বাভাবিকতার। মিসির আলি ফিরোজকে সুস্থ করার জন্য লেগে পড়ে।
কিন্তু পরিশেষে মিসির আলির লজিক ব্যর্থ হইলো, মিসির আলি ব্যর্থ হইলো, এর কারন কি? নিশ্চয় কোনো কারন আছে।
'দেবী' উপন্যাসের গল্প-কাহিনির ম্যারাথন শেষ হলো 'নিশীথিনী'তে৷ অদ্ভুত এক মিশ্র অনুভূতি। অনেকগুলো প্রশ্ন জমা ছিল, কিছুর উত্তর মিলেছে, আবার উত্তরের পিঠে জমা হয়েছে আরও প্রশ্ন। এগুলোর উত্তর মিলবে না৷ তাতে অবশ্য আফসোস নেই৷ বই দুটি পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে। সামান্য পাঠক হিসেবে এতটুকু আমার জন্য যথেষ্ট।
অনেকে এই দুটি উপন্যাসের মধ্যে কোনটা বেশি ভালো এমন প্রশ্ন তোলেন। তুলনা করেন৷ আমি এসবের ধারেকাছেও যেতে পারলাম না৷ নিজেকে বোঝালাম- ডান হাত বাম হাতের মাঝে তুলনা চলে না৷ দুটোই শরীরের অংশ, দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
This universe is much more complex and mysterious which goes a human being’s beyond understanding. But it was completely unnecessary to stretch the story of Debi and make a part 2 of it. Might as well could have call it a stand alone.
সিকি-শতাব্দী আগে যখন প্রথমবার পড়েছিলাম, তার সাথে পঁচিশ বছর পরের পাঠানুভূতির পার্থক্য কেমন? সামান্যই।
"নিশীথিনী এমন এক মাস্টারপিস যা থ্রিলার হতে হতেও হয়নি, কিংবা অতিপ্রাকৃত হতে হতেও হয়নি, এমনকি একে মানবিক /সামাজিক কোটাতেও ফেলা যাবে না; বরং তিনের মিশেলে এমন এক গ্রে এরিয়ার গল্প এটা, যার অর্ধেক আছে বইয়ের পাতায়, বাকি অর্ধেক পাঠকের কল্পনায়।"
নিশীথিনী দেবী'র দ্বিতীয় পর্ব।হুমায়ূন আহমেদের যুক্তিবাদী লেখার একটি এই বই।বইয়ের প্রধান চরিত্র মিসির আলী।যিনি বিশ্বাস করেন পৃথিবীতে কোন রহস্য থাকতে পারেনা।
গল্পের প্রথমদিকেই ভার্সিটির ক্লাসে নীলুর সাথে দেখা মিসির আলীর।যে দেখতে দেবী গল্পের রানুর চরিত্রের মত।তার কথাবার্তা, চালচলন,আচড়ন অবিকল রানুর মত। অন্যদিকে ফিরোজ নামের এক অসুস্থ মানুষের মানসিক চিকিৎসা করছেন মিসির আলী।প্রায় এক বছর ধরে ফিরোজের চিকিৎসা করছেন তিনি।প্রতি সপ্তাহে একদিন তিনি ফিরোজের সাথে সেশনে বসেন।একদিন তিনি বাসায় ফিরার আগেই ফিরোজ তার বাসায় চলে আসে।মিসির আলি বাসায় ফিরে দেখেন যে ফিরোজ রড হাতে তার কাজের মেয়ে হানিফা কে মারতে গিয়েছিলো।রহস্য সেখান থেকেই জট পাকাতে শুরু করে।
ফিরোজের ভয়ানক আচড়নে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে হানিফা।এক পর্যায়ে মিসির আলি অনুভব করেন হানিফা কোন বড়লোক পরিবারের মেয়ে। তিনি হানিফাকে চিকিৎসার জন্য পিজি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন এবং তার পরিচয়ের সন্ধান করতে তার পুলিশ বন্ধু সাজ্জাদের সাথে দেখা করেন।
ফিরোজের রহস্যের ঝট খুলতে তিনি ছুটে যান ফিরোজের বন্ধু আজমলের জমিদারবাড়িতে।সেখানে আজমলের বোন নাজনীন একদিন তাদের জমিদারবাড়ির পুরোনো ছবি দেখাতে নিয়ে যায় মিসির আলিকে।যেখানে তিনি একটি ছবি দেখে অবাক হন।আজমলের দাদার বাবা একটি কালো প্যান্ট এবং গোল্ড রিমের চশমা পড়ে একটি ঘোড়াতে বসে আছে।ঘটনাক্রমে তিনি জানতে পারেন তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রামের প্রজারা একদিন তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
অন্যদিকে শহরে এক নতুন ত্রাসের সৃষ্টি হয়।এক নগ্নপাত্র কালো প্যান্ট পড়ে,লোহার রড হাতে প্রায় প্রতি রাতেই শহরে হামলা চালায়।কে এই অগ্যাত নগ্নপাত্র?
এদিকে নীলুর মাঝে বেশ পরিবর্তন দেখতে পায় মিসির আলী ও নীলুর বাবা জাহিদ সাহেব। নীলু আগে থেকেই ভবিষ���যৎ বলতে পারে।এমনকি মিসির আলীর বেলায় ও সে ভবিষ্যৎ বলতে পারে!নীলু বিশ্বাস করে তার মাঝে একজন দেবী আছে যে কিনা রানুর মাঝেও ছিলো।কিন্তু মিসির আলী তা মানতে নারাজ। একদিন নীলু মিসির আলীকে জানায় হানিফার আসল নাম "ইমা"।কি সম্পর্ক হানিফার সাথে নীলুর?
নীলু মিসির আলীকে জানায় ফিরোজ মিসির আলীকে মেরে ফেলার চেষ্টা করবে।কিন্তু ফিরোজ অসুস্থ থাকায় তাকে তালাবন্ধি করে রাখা হয়েছে।তাহলে সে কিভাবে মিসির আলীকে খুন করবে?
তবে কি সেই নগ্নপাত্রের সাথে ফিরোজের কোন মিল রয়েছে?
মিসির আলীকে নীলু জানায় দেবী তাকে ভবিষ্যৎ জানতে সাহায্য করে।কিন্তু মিসির আলী মনে করেন দেবী চরিত্রটি নীলুর হেলুশিনেসন। শেষ অবধী নীলু কি তার রহস্যময় জীবন থেকে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে? পরিশিষ্ট ঃ সত্যি নগ্নপাত্র মিসির আলীকে খুন করার চেষ্টা চালায়।কিন্তু তাকে বাঁ চায় দেবী।এবং শেষ অবধি দেবী মিসির আলীকে জানায় নীলুর সাথে একদিন মিসির আলীর বিয়ে হবে! মিসির আলী কি সত্যি দেবী রহস্যের সমাধান করতে পারে? হানিফার পরিচয় কি? ফিরোজ কে কি সুস্থ করে তুলতে পারেন মিসির আলী? সব জানার জন্য রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস নিশীথিনী বইটি পড়ার আহ্বান জানাই।
কিছু কথাঃ প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের লজিক্যাল সৃষ্টি মিসির আলী।লজিকবিহীন চরিত্র হিমুর মতই লজিক্যাল চরিত্র মিসির আলীকেও বরাবরই আমার রহস্যময় মনে হয়।উপন্যাসে বিশেষ সময়ে মিসির আলীর রসিকতা বরাবরেই মতই পাঠককে আনন্দ দেবে। রহস্য আর যুক্তিতে নির্ভর উপন্যাসটি পড়ার আমন্ত্রন রইলো।
দেবী অনেক আগেই পড়া হয়েছিলো। মিসির আলি সমগ্র কিনার পর তাই শুরু করলাম নিশীথিনী দিয়ে। বাইরে বৃষ্টি, আর এই আবহাওয়ার সাথে মিসির আলি খুব যাচ্ছে। মেঘে মেঘে ঘর্ষণে তৈরি হচ্ছে হুংকার। সাথে গল্প পড়তে গিয়ে ভয় পাওয়া নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গতবছর অক্টোবরে পড়ে শেষ করেছিলাম, মিশির আলি সমগ্রের প্রথম উপন্যাস "দেবী"। সত্যি বলতি অসাধারণ লেগেছিল আমার কাছে। এরপর সিনেমাটাও সেদিনই দেখে নিছিলাম৷ চঞ্চল চৌধুরী আর জয়া আহসানের জাদুতে সিনেমাটাও দুর্দান্ত হয়েছিল।
এরপর.. দীর্ঘ দিন কেটে গেল। সময় ডিঙিয়ে বছর পেরিয়ে অবশেষে মনে খেয়াল এল, সেই যে একটা মিশির আলি পড়ে রেখেছি, আর তো পড়া হচ্ছে না, তবে শেষ করব কিভাবে?! আমার টার্গেট গত দু'বছর যাবৎ, হুমায়ূন আহমেদের সবব গুলা বই পড়ে শেষ করা। সেই হিসাবে ওনার লেখা সিংগেল বই গুলা প্রায় শেষের পথে কিন্তু সমগ্র গুলা যেমন হিমু, মিশির, সাইন্সফিকশন এগুলা কিনে সেলফে সাজার রাখলেও পড়া হচ্ছিল না একদমই। কারণ মোটা বই খুলে পড়াটা একটু প্যারার। আমি বসে, শুয়ে, কাথ হয়ে, চিত হয়ে, ভুট হয়ে বিভিন্ন পজিশনে বসে বই পড়ি। কিন্তু এমন গম্বুজ আকৃতির বই নিয়ে এত পজিশনে নিজেকে সেট করা যায় না। যাইহোক, তবুও শুরু করছিলাম পড়া " নিশীথনী"৷
মজার বিষয় হচ্ছে এটা দেবী ২ বলাও চলে। কারণ এখানেও দেবীর উপস্থিতি রয়েছে। বইটা পড়া শুরু করেছিলাম বৃষ্টিমুখর এক রাতে। বাইরে একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে লাস্ট পাঁচ-ছয়দিন যাবৎ, থামার কোন নাম গন্ধ নাই। এই ওয়েদারে, মিশির আলি একদম পারফেক্ট ম্যাচিং। সত্যি বলতে বইটা পড়তে পড়তে গা একটু একটু শিরশির করছিল। হুমায়ূন আহমেদের উপস্থাপন ক্ষমতার কেরামতি ঠিক এখানেই। দারুণ ভাবে সাজিয়েছেন গল্পটা। পড়তে গিয়ে অনুভব করতে পারছিলাম সবকিছুই।
কিন্তু দেবী উপন্যাসটা যতটা পারফেক্ট ছিল, এটায় অনেকখানি প্লট হোল চোখে বাঁধছে, যা পড়ার সময় একটু বিরক্তির জন্ম দিচ্ছিল। স্পয়লার এসে যেতে পারে বিধায় তা উল্লেখ করছি না।
বইটা শেষ করে আমার মোটামুটি লেগেছে। দেবীর মতন মুগ্ধ হই নাই আবার একবারে যাচ্ছেনাতাই ও লাগে নাই। মিডিল পয়েন্ট বলা চলে।
দেবীর ২য় পার্ট। মিসির আলি ক্লাস নিতে গিয়ে ছাত্রী নীলুর মধ্যে মৃতা রানু যে কিনা তার কাছে চিকিৎসার জন্য এসেছিল তার ছাপ দেখতে পান। এর মধ্যে তার চিকিৎসা নিতে আসে মেডিকেলের ছাত্র ফিরোজ যার মধ্যে কিনা অদ্ভুত সমস্যা হয়, সে মিসির আলিকে মারতে পর্যন্ত যায়।কিন্তু ঐ যে দেবীর প্রত্যাবর্তন নীলুর থেকে এসে তাকে বাঁচায়।পুনশ্চ মিসির আলি এর মাঝে নীলুর প্রেমে পড়ে যান হয়তো। দেবী বা যেই হোক সে বলে যায় তার সাথে নীলুর বিয়ে হবে।
সিরিয়াসলি!? দেবীর সিক্যুয়েল! ভাল্লাগে নি। ফিরোজ একটা কালোপ্যান্ট পরে লাঠি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার রাত-বিরাতে মানুষকে ডান্ডা মেরে একবারে খুন করতেছে! 😒
মাঝে মাঝে কিছু কিছু বই অসমাপ্ত থাকাই বেটার। যেমনঃ দেবী। এই পার্ট বের না হলেও চলতো।
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই বইটা আমি আগেও পড়েছি। এখন শেষ রাতে ঘুম না আসায় আবারও পড়লাম। যতবার ফিরোজের কথা এসেছে ততোবারই আমারও শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেছে...মানসিক সমস্যা এতো জটিল আর ভয়ঙ্কর। মিসির আলীর মতো আমিও বিশ্বাস করি মানুষের মন দূরের ঐ নক্ষত্ররাজির মতো অথবা এর চেয়েও বেশি জটিল। এর প্যাঁচ খুলতে পারার চেষ্টাটাও তাই হয় খুব Overwhelming.. এই গল্পে আমার কোনো কিছু মনে হয়নি রহস্য রয়ে গেছে।দেবীর সাথে মেলালে দুই গল্পে একটা প্যাকেজ হয়েছে। একটা তারা কম দেওয়ার কারণ একটা খাপছাড়া ভাব লেগেছে বইয়ের শেষের দিকে এসে। মনে হচ্ছে লেখক পাজল নিয়ে বসে যেন মেলাতে পারলেন না একটা পিস।
মিসির আলির চতুর্থ কাহিনী পড়ে ফেললাম। মিসির আলির সাথে আমার প্রথম আলাপ 'অন্য ভুবন' গল্পে তাও পাঁচ বছর আগে, কিশোর সমগ্রতে গল্পটি ছিলো। তারপর পড়েছিলাম 'হিমুর দ্বিতীয় প্রহর' হিমু সমগ্রে। কেউ যদি এখন জিজ্ঞেস করে হিমু বা মিসির আলি এই দুই চরিত্রের মধ্যে প্রিয় কে, এক বাক্যে বলে দেব মিসির আলি। এলোমেলো ভাবে মিসির আলির দুইটি গল্প পড়েছি, তারপর ঠিক করলাম সিরিয়াল মেইনটেইন করেই পড়ি, সেই ভাবনা মত প্রথমে দেবী এবং আজকে নিশীথিনী পড়ে শেষ করলাম।
এই গল্পে হুমায়ুন আহমেদ মিসির আলির ভাষ্যে একটা চমৎকার কথা আমাদের জানান দেয়, "লেখকের কল্পনা হচ্ছে আলো, পাঠকের বিভ্রান্তি হচ্ছে অন্ধকার।" এই কথাটি এই বইয়ের ক্ষেত্রেও একশ শতাংশ সত্য। এই বইয়ের শেষটাও কেমন একটা বিভ্রান্তিকর, ঠিক বুঝতে পারিনা, গল্পকার কি মিসির আলির লজিক দুর্বল করে দিয়েছে এইখানে? মিসির আলি যুক্তির বাইরে কিছু মানে না, কিন্তু এই কাহিনীতে মিসির আলির সামনে অলৌকিকতাই যেন জয়ী হলো। দেবীতেও অলৌকিক বিষয়বস্তু ছিলো কিন্তু মিসির আলির সামনাসামনি কিছু ঘটেনি। এই বইতে একেবারে স্বয়ং মিসির আলি আধিভৌতিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
অসুস্থ এবং চরম খারাপ অবস্থায় সেই অলৌকিক দেবীর মুখোমুখি হয় মিসির আলি, দেবী তাকে প্রশ্ন করে, "এ জগতের সমস্তই কি যুক্তিগ্রাহ্য? এই আকাশ, অনন্ত নক্ষত্রপুঞ্জ? তুমি কি বলতে চাও, এর কোথাও কোনো রহস্য নেই? অসীম কী? এই সামান্য প্রশ্নের জবাব কি তোমার জানা আছে? বল, তুমি জান?" মিসির আলির উত্তর ছিলো তিনি না জানলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে। মিসির আলি ব্যথায় কাতরাচ্ছে, সে দেবীর অস্তিত্ব দেখেও বিশ্বাস করতে পারছে না আবার কোন যুক্তিতেও ফেলতে পারছে না কিন্তু সে দেবীকেই অনুরোধ করছে তাকে সুস্থ করে দেওয়ার জন্য, কি অদ্ভুত পরিস্থিতি! হুমায়ুন আহমেদ এক কুয়াশাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন 'নিশীথিনী' গল্পের এই জায়গাটিতে।
হুমায়ুন আহমেদের গল্পের চরিত্ররা বিভিন্ন বই পড়ে, এই গল্পের মাধ্যমেও কয়েকটি বইয়ের নাম জেনেছি, এটা অবশ্য হুমায়ুন আহমেদের প্রায় সব বইতেই লক্ষণীয়। এছাড়াও এই বইতে একটি প্যারাসাইকোলোজিক্যাল পূর্ণাঙ্গ কেস স্টাডিও উল্লেখ করেছেন লেখক। হয়তো এই বইয়ের বর্ণিত কিছু ঘটনা সত্যি ছিলো। কারণ কাহিনীর শেষে লেখক একটি ফুটনোট দিয়েছেন,"গল্পের অধিকাংশ চরিত্রই কাল্পনিক। পরিচিত কিছু চরিত্র এবং কিছু ঘটনা ব্যবহার করেছি। তবে কাউকে হেয় করবার জন্যে করা হয় নি। মানুষের প্রতি আমার মমতা মিসির আলির মতো হয়তো নয়, কিন্তু খুব কমও নয়"।
দেবী গল্পে আমরা নিলুর দেখা পাই, এই গল্পেরও অন্যতম প্রধান চরিত্র সেই নিলু। মিসির আলির ছাত্রী নিলু। ছাত্রী শিক্ষকের এক জটিল সম্পর্কের বিষয় অবতারণা করেছেন লেখক এই গল্পে । রানু মারা যাবার পর ঐ দেবী নিলুকে ঘিরে রাখতো সারাক্ষণ। কাহিনীর শেষে দেখা যায় নিলু অনেক অসুস্থ,নিলু কি শেষপর্যন্ত সুস্থ হতে পেরেছিলো? লেখক অবশ্য এই বিষয়ে কিছুই জানাননি আমাদের। নিলুর সেই দেবী মিসির আলির চরম পরিস্থিতিতে তার কাছে পৌঁছেছিল, কিন্তু যুক্তিবাদী মিসির আলি তার অস্তিত্ব দেখেও বিশ্বাস করেননি।
এই গল্পে আরো আছে ফিরোজ, মূলত তার কেস নিয়েই গল্প আবর্তিত হয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সিরিয়াল কিলিং এর মত ব্যাপার আছে এই বইটিতে। সমস্ত অলৌকিক ঘটনাকেই মিসির আলি যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে, এই বইতেও তার সেই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, কিন্তু তারপরও যুক্তি কি হেরে গিয়েছিলো? পাঠককেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
নিশীথিনী হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি সিরিজের দ্বিতীয় বই। এটিও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস।
নীলু এক খারাপ লোকের খপ্পরে পড়েছিল। তখন রাণুর সাথে থাকা দেবী তাকে উদ্ধার করে এবং সেই লোককে হত্যা করে। তখন থেকে সেই দেবীই নীলুর সাথে রয়েছে বলে দাবি নীলুর। তবে মিসির আলি এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর ধারণা লোকটি স্বাভাবিক কোনো কারণেই মারা গিয়েছে এবং তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তাইই প্রমাণ করে। সেই ঘটনার পর নীলুর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। নীলুর চেহারার সাথে রানুর মিল এবং নীলু অনেককিছুই আগে থেকে বলে দিতে পারে। মিসির আলি কীভাবে ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা দিবেন?
মিসির আলির বাসায় হানিফা নামের একটি মেয়ে থাকে। রান্নাবান্না করে; বিনিময়ে খেতে ও থাকতে পারে মিসির আলির বাসায়। একদিন জ্বরের ঘোরে ইংরেজিতে মাকে ডাকে সে। আবার মিসির আলি ডাক্তারের থেকে জানতে পারেন মেয়েটির ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছিল, তাও কিনা বিদেশ থেকে! তখন মিসির আলি তার পুলিশ বন্ধু সাজ্জাদকে দিয়ে খুঁজতে থাকেন হানিফার বাবা-মাকে। হানিফা কি তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারবে?
মিসির আলি দীর্ঘদিন যাবত ফিরোজ নামের এক রোগির চিকিৎসা করছেন। ফিরোজ বন্ধু আজমলের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানেই নাকি খালি গা, কালো প্যান্ট ও গোল্ড রিমের চশমা পরা এক ব্যক্তির সাথে পরিচিত হয়; সেই লোক নাকি তাকে পরামর্শ দিয়েছে লোহার রড দিয়ে মানুষ হত্যার। এরপর থেকে ফিরোজ একটি লোহার রড হাতে ঘুরে বেড়ায়। অসুস্থতার উন্নতি হলেও আবার কিছুদিন পর অবনতি হয়। শহরের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে ফিরোজ। সেই ফিরোজ কি আসলেই কোনো ব্যক্তির দেখা পেয়েছিল নাকি পুরোটাই তার কল্পনা? রহস্য সমাধানে মাঠে নেমেছেন মিসির আলি। পারবেন কি সফল হতে?
'দেবী' বইতে নীলুর যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল; 'নিশীথিনী' বইতে সেই পরিবর্তন ডালপালা মেলেছে। বইটাতে ভৌতিক আবহ সৃষ্টিতে লেখক সফল। সুন্দর, সাবলীল কাহিনি প্রবাহ। তবে আমার কেন জানি দেবী বইটাকেই বেশি ভালো লেগেছে! হ্যাপি রিডিং।
বই : নিশীথিনী লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশক : প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশকাল : ১৯৮৬ (ত্রয়োদশ মুদ্রণ : জুন, ২০১৩) ঘরানা : সাইকোলজিক্যাল ফিকশন/মিস্ট্রি প্রচ্ছদ : আলমগীর রহমান পৃষ্ঠা : ১০১ মুদ্রিত মূল্য : ১৪০ টাকা
ময়মনসিংহের মোহনগঞ্জে বন্ধু আজমলের গ্রামের প্রাসাদোপম বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ ও অতিপ্রাকৃত এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলো ফিরোজ। এই ঘটনার জের ধরেই, তাকে পেয়ে বসলো জটিল মানসিক সমস্যা। ফিরোজের বাবা ওসমান সাহেব মিসির আলীর দ্বারস্থ হলেন। চলতে লাগলো জটিল এই মানসিক সমস্যার চিকিৎসা।
জাহিদ সাহেব আজকাল নিজের মেয়ে নীলুকে কেন যেন চিনতে পারেননা। একসময়কার সদাহাস্যজ্জ্বল মেয়েটা কেমন যেন গম্ভীর প্রকৃতির হয়ে গেছে হঠাৎ করেই। ভবিষ্যতের অনেক ঘটনাই নীলু কিভাবে যেন আগে থেকে জেনে যায়। গভীর রাতে কার সাথে যেন ফিসফিস করে কথাও বলে। আর তখন ওর ঘর থেকে ভেসে আসে অচেনা কোন নারীর চাপা কণ্ঠস্বর!
মিসির আলী সাহেবের কাজের মেয়ে হানিফার অতীতকে খুঁজে বের করার জন্য তিনি অস্থির হয়ে উঠলেন। পুলিশ কর্মকর্তা বন্ধুর সাহায্য চাইলেন তিনি। মেয়েটার জন্মপরিচয় জানা তাঁর বড় দরকার। একদিকে ফিরোজের চিকিৎসা আর অন্যদিকে হানিফার অতীতের খোঁজ - একইসাথে চলতে লাগলো।
এদিকে গভীর রাতে ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় নগ্নগাত্রের এক উন্মাদ খুনী রড হাতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আশেপাশের মানুষজন। পুলিশও তৎপর হয়ে উঠলো ম্যানিয়াকটাকে পাকড়াও করার জন্য। এসবের সাথে আমাদের গল্পের কি সম্পর্ক?
সুপুরুষ এক যুবকের অদ্ভুত মানসিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মিসির আলী সাহেব মুখোমুখি হলেন আরো গভীর এক রহস্যের। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝামাঝি যেন ঠিক একটা চিকন সুতোর ফারাক। শেষমেষ জয় হয় কিসের, সেটাই দেখার ব্যাপার।
ব্যক্তিগত মতামত : গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের তুমুল পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া মিসির আলী বিষয়ক উপন্যাস 'দেবী'-এর সিক্যুয়েল 'নিশীথিনী'। 'দেবী' উপন্যাসের মতো এখানেও লেখক সমাবেশ ঘটিয়েছেন দারুন কিছু মনস্তাত্ত্বিক রহস্যের। জাদুকরী লেখনীর বলে সেই রহস্যগুলো হয়ে উঠেছে দারুন উপভোগ্য।
'নিশীথিনী' উপন্যাসটা আমি এবার দিয়ে কতোতম বারের মতো পড়লাম, নিজেও জানিনা। তবে প্রথমবার পড়ার সেই ভালো লাগাটা সন্দেহাতীতভাবে এখনো অমলিন রয়ে গেছে। যখন প্রথম পড়ি (সম্ভবত ক্লাস এইটের দিকে), রিভিউ কি জিনিস জানতামনা। লেখা তো অনেক দূরের কথা। প্রিয় একটা বইয়ের রিভিউ লিখতে পেরে অনেক হালকা লাগছে নিজেকে।
হুমায়ূন আহমেদ পাঠকমনে চিরজীবী হয়ে থাকবেন। চিরজীবী হয়ে থাকবে তাঁর সৃষ্ট চরিত্ররা।
When I found out that this is the sequel of Debi, I instantly started reading it. This book is what one would call psychological horror. There are parts in the books that made me look around me, just to make sure I was alone.
হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলি কেন যেন আর ভাল লাগে না, ইদানীং। উপন্যাসের কথা আলাদা, যেমন মধ্যাহ্ন, মাতাল হাওয়া, বাদশাহ নামদার। আর আলাদা মিসির আলীর কথা। এই বইটা খুব সম্ভব আমার পড়া মিসির আলীর সেরা বই।
প্রানী হিসেবে মানুষের তুলনা নেই। তার অবচেতন মন সর্বক্ষণ কাজ করে। যথাসময়ে তাকে সজাক করে দেয়। বিপদের আভাস দিতে চেষ্টা করে। মুশকিল হচ্ছে তার কর্মপদ্ধতি আমাদের জানা নেই।
যেকোনো গল্পের স্বার্থকতা তখন আসে, যখন বই শেষ করে পাঠকের তৃপ্তি ভরপুর থাকে।
হুমায়ূন আহমেদের বেশির ভাগ বই এর সমাপ্তি ই আমার পছন্দ হয়না। এই বই এর সমাপ্তি ও আমার মনে ধরেনি, এখন কার দিনের লেখা হলে বলতাম কোনো ভাবে শেষ করে দিয়েছেন। তবে অন্তত শেষ করেছেন, যেটা কেন যেন করতে চান না উনি।
মোমবাতির আলোয় বই পড়ার আলাদা একটা আনন্দ আছে।আধো আলো আধো ছায়া। বইয়ের জগৎটিও তো তাই-- অন্ধকার এবং আলোর মিশ্রণ। লেখকের কল্পনা হচ্ছে আলো, পাঠকের বিভ্রান্তি হচ্ছে অন্ধকার।