হিমু কখনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করেনা। সে অনেকটা হাঁসের মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল। আমার খুব দেখার শখ বড় ঝামেলায় পড়লে সে কী করে। কাজেই হিমুর জন্য বড় ধরণের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কান্ড-কারখানা সেখছি। হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লী, গাজীপুর।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
"হাস্যমুখি মানুষের দিকে ভালোমতো তাকাইও। অনেক কিছু শিখিতে পারিবে। মানুষের মনের ভাব কখনই মুখে প্রতিফলিত হয় না। মুখের উপর সর্বদা পর্দা থাকে। শুধু মানুষ যখন হাসে তখন পর্দা দূরিভূত হয়। হাস্যরত একজন মানুষের মুখে তার মনের ছায়া দেখা যায়।"
হিমুর বাবার উপদেশ। উপদেশগূলো কিন্তু মোটেই খারাপ না। 😊😊 গল্পটি হিমুর অন্যান্য গল্পের মতই। না খুব বেশি এক্সাইটি্ং, না খুব বেশি বোরিং।
হিমুর খালা চরিত্রে এবার অভিনয় করেছেন আমেরিকা নিবাসী মালিহা বেগম ওরফে মালু খালা। আর খালা যেহেতু আছেন সেহেতু খালুও আছেন, তিনি নিউ অর্লিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্বের অধ্যাপক আরেফিন সাহেব, অতি জ্ঞানী লেভেলের লোক। খালার সেক্রেটারী হলেন তক্ষকরূপী হাদিউজ্জামান। রূপবতী তরুণী হিসেবে এবার হিমুর পাশে আছে পুলিশের হর্তাকর্তার মেয়ে জুঁই। আর বাবা/দরবেশ/চ্যলাপ্যালা হিসেবে নাঙ্গু বাবা মোসলেম। আরও নতুন যে জিনিস যুক্ত হয়েছে সেটা হচ্ছে হিমুর পাঞ্জাবীতে পকেট। আর হ্যা! মায়াবতী রূপবতী তরুণী রূপাকেও জায়গা দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। হিমু কোনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না বলে হুমায়ূন আহমেদ এবার একটা বড় ঝামেলা ঢেলে দিলেন হিমুর মাথায়।
এই বইয়ের মাধ্যমে আমার হিমুপাঠ এর সমাপ্তি ঘটলো। অনেক বছর আগে শুরু করা হিমু সিরিজ আজকে শেষ হলো। হিমু আসলে ব্যক্তি হিসেবে খারাপ না, খারাপ বলা যায় না, বিরক্তিকর ভ্যাগাবন্ড এটা সত্য। এত বাজে পরিস্থিতিতে পড়া সত্ত্বেও একটা শিশু যে বড় হয়ে সাইকোপ্যাথ হয়ে হানা দেয়নি এটাই অনেক। সে হিসেবে হিমু মায়া আর স্নেহের দাবিদার, আহারে!
হিমুর বইগুলোর মধ্যে এটা একটু অন্যরকম কারণ এখানে হিমু পকেটওয়ালা একটা পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়ায়। আমার মতে হিমুর বইগুলোর মধ্যে এটার টোন সবচেয়ে গম্ভীর। প্লটটাও সিরিয়াস ধাঁচের। মালিহা খালা, আরেফিন খালু চরিত্রগুলো বেশ দাগ কেটেছে মনে।
শেষটা এত সুন্দর যে শেষ পৃষ্ঠাটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আরো বারদুয়েক পড়তে হলো। লেখকের কথায় এই প্রথম হিমুকে কোন সাংঘাতিক রকমের সিরিয়াস কেসে পড়তে হলো। অন্যদিকে আমাদের খুব হাসিয়েছে মোসলেম মিয়া। তার পরিবর্তন পুলিশকে অব্দি চমকে দিয়েছে। জুঁই কে জামাই সহ ফিরে পেয়ে জুঁই এর বাবা কি করেছিলেন,সেটা জানতে পারা গেলো না, পারলে ভালো লাগতো।
হিমুর মালিহা খালা আর আরেফিন খালুর কর্মকাণ্ডে ছোটোখাটো ধাক্কার মতোন খেয়েছি। ভাগ্যিস কোনো স্পয়লার নিয়ে উপন্যাসটা পড়তে বসিনি!! মন ভালো থাকার জন্য কি-না কে জানে বইটা পড়তে গিয়ে হিমুর হালকা রসিকতাতেও খুব হাসি পেয়েছে।
Just usual Himu. Nothing sort of extra-ordinary, except in here, Himu attaches Big-Pockets to hold of thinks and perhaps so that the author can add up the Mobile-phone to him and add to the intricacies of the plot. For a change, it felt to good to see what and how would Himu handle a mobile, ringing always time-to-time. The Maleha and Saleha Khala plot seemed far-fetched and added up to almost nothing, except that shock part that Himu receives all of a sudden. As usual there is Muslem Miya, to bring in the sort of comedy that a Himu story is entitled with, a sin-full person in attachment with Himu, searching for the path to absolution with that weird tone that makes you laugh.
There's also Jui, an uncanny women in love with Himu(day after day, Himu is going like Sinchan, women are falling head_over_heels over Himu!! Would really that be the case for a vagabond like Himu?? Perhaps, women can answer!). There's Pakhi and his little wish and his father, that felt nice and easy to the stories, captivating your heart wonderfully. There's usual Rupa as well, with her regular/irregular courtship with Himu. Hers is the only relationship with Himu that feels natural. The character Dr. Maleka's relatively strange behavior adds excitement to the story, as if why she isn't surprised. But what makes the story really sluggish and NOT-a-GOOD-end for me is the bogus murder plot. It didn't felt natural but very far-fetched and forced to prove the point that the author states in his introduction. Only this blunder itched me a bit. Otherwise, it's an okay read.
Not recommended that much. I have read much great Himu books. . . . Let's see what the next one brings in! My rating 2.5, but I'd mark it 2 . . . . suit yourself!
গত হিমু পড়ে যে আফসোস টা ছিলো, এই হিমু পড়ে সেই আফসোস টা মিটলো। এই হিমুর পকেট আছে, প্রতিবারের মত এইবারও নতুন খালা/খালুর আগমন ঘটেছে, এবং তারা শেষমেশ দারুন এক কান্ড কইরা বসছে। শেষ কয়েকপাতা খুবই দারুণ ছিলো।
হিমুর বাবার কয়েকটা কথা ভালো লাগছে, ~"মানুষ বাদ্য যন্ত্রের মত। সেই বাদ্য যন্ত নিয়মিত সংগীত তৈরি করে, অস্থির বাদ্যযন্ত্র সংগীত তৈরিতে অক্ষম", অর্থাৎ অস্থির হওয়া উচিত না।
হিমুকে নিয়ে দু এক লাইনে লিখে ওর প্রতি অবিচার করতে চাচ্ছি না। এই চরিত্রটাকে বুঝতে হবে অনেকটা কাঠ খড় পুড়িয়ে। তাই এখানে বেশি কিছু লিখছি না। বইটা শুনে ভালো লেগেছে। বেশ ভালো সময় কেটেছে। এই ব্যাপারগুলোই গুরুত্ব পাক আপাতত। ইচ্ছে হলে পরে কখনো হিমুকে নিয়ে রচনা আকারের লিখা নিজের ডায়রিতে বা কোথাও লিখে ফেলা যাবে।
one thing about Himu is it somehow always manages to make me more curious and concerned about the other characters than Himalay himself. Like I want to know what happens to Pakhi, what happened with Jui and her unresolved daddy issues- ugh. Ok fine. Guess I'll never know.
হিমু চরিত্রের আসল নাম হিমালয়। এ নামটি রেখেছিলেন তার বাবা। লেখক হিমুর বাবাকে বর্ণনা করেছেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ হিসেবে; যার বিশ্বাস ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় তবে একইভাবে মহাপুরুষও তৈরি করা সম্ভব। তিনি মহাপুরুষ তৈরির জন্য একটি বিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন যার একমাত্র ছাত্র ছিল তার সন্তান হিমু। হিমুর পোশাক হল পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী। হলুদ বৈরাগের রঙ বলেই পোশাকের রং হলুদ নির্বাচিত করা হয়েছিল। ঢাকা শহরের পথে-পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসে প্রায়ই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়। যদিও হিমু নিজে তার কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা স্বীকার করে না। হিমুর আচার-আচরণ বিভ্রান্তিকর। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়া অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে, এবং এই বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হিমুর অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ। প্রেম ভালবাসা উপেক্ষা করা হিমুর ধর্মের মধ্যে পড়ে। কোন উপন্যাসেই কোন মায়া তাকে কাবু করতে পারে নি। মায়াজালে আটকা পড়তে গেলেই সে উধাও হয়ে যায়। হিমু উপন্যাসে সাধারণত হিমুর কিছু ভক্তশ্রেণীর মানুষ থাকে যারা হিমুকে মহাপুরুষ মনে করে। এদের মধ্যে হিমুর ফুপাতো ভাই বাদল অন্যতম। মেস ম্যানেজার বা হোটেল মালিক- এরকম আরও কিছু ভক্ত চরিত্র প্রায় সব উপন্যাসেই দেখা যায়। এছাড়াও কিছু বইয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী ও খুনি ব্যক্তিদের সাথেও তার সু-সম্পর্ক ঘটতে দেখা যায়। হিমুর একজন বান্ধবী রয়েছে, যার নাম রূপা; যাকে ঘিরে হিমুর প্রায় উপন্যাসে রহস্য আবর্তিত হয়। নিরপরাধী হওয়া সত্ত্বেও সন্দেহভাজন হওয়ায় হিমু অনেকবার হাজতবাস করেছে এবং বিভিন্ন থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে।
হিমু বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় ও কাল্পনিক। নব্বই দশকে হিমুর প্রথম উপন্যাস ময়ূরাক্ষী প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর হিমু চরিত্র বিচ্ছিন্নভাবে হুমায়ুন আহমেদের বিভিন্ন উপন্যাসে প্রকাশিত হতে থাকে। হিমু ও মিসির আলি হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট সর্বাধিক জনপ্রিয় দু’টি কাল্পনিক চরিত্র। উদাসীন হিমু একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের বাঙালি তরুণদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
হিমু! হিমু!! হিমু!!! একজন পাগলাটে ধাঁচের অসাধারণ চরিত্র। এই বইটা আগেরগুলার চাইতে ভিন্ন। কারণ এই বইয়ে হিমুর পাঞ্জাবির পকেট আছে। সাথে ফোন-ও আছে। তাই এই বইটা মোটাদাগে আগেরগুলার চাইতে আলাদা। তবে, ভালো কথা হচ্ছে, হিমুর চারিত্রিক কোনো পরিবর্তন নাই। সে যেমন ছিলো, তেমনই আছে।
হিমুর পাশাপাশি এই বইয়ের অন্য চরিত্রগুলাও ছিলো অনবদ্য। মালিহা খালা, আরেফিন খালু, মোসলেম মিয়া, জুঁই, জুঁই এর বাবা। সবমিলিয়ে, একটা কমপ্লিট প্যাকেজ হচ্ছে, "একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা"।
আগের বইগুলার চাইতে এই বইটার আরেকটা বিশেষ দিক হচ্ছে, এরকম সিরিয়াস ঝামেলায় হিমুকে এর আগে পড়তে দেখা যায়নি। এবারের বইটাই সিরিয়াস সিরিয়াস বিষয়টাও খুব ভালো লেগেছে। হালকা একটু মিসির আলি ফ্লেভার পেয়েছিলাম মাঝে।
সবমিলিয়ে, সুন্দর একটা বই। এক বসাতেই শেষ করে দিতে পারবেন। বিরক্ত লাগার মতো কোনো এলিমেন্টস-ই এই বইয়ে নাই। আমি একটা সিরিজ কখনো টানা পড়ি না। এতে বিরক্ত লাগা শুরু হয়। নতুন যদি কেউ হিমু সিরিজ শুরু করেন তার জন্যেও এই সাজেশন-ই থাকবে। টানা পড়বেন না। গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পড়বেন। অবশ্যই ভালো লাগবে।
This was not the usual Himu. I meant from when did Himu start carrying things in a pocket? Why does Himu even have a pocket? And there were these time I felt like he was deliberately trying to get attention, which was even more weird. Himu does weird things but not to mark himself out but rather because he wants to do it. I felt it was a bit of show off for him. The plot was good. But I have read better books of Himu!
জুঁই নামের একটি মেয়ে তার পুলিশ বাবাকে শিক্ষা দেবার জন্যে পালিয়ে বেড়ায়। হিমুকে দায়িত্ব দেয়া হয় মেয়েটিকে খুঁজে বের করার। হিমু যথারীতি দায়িত্ব পালন বাদ দিয়ে উদ্ভট কাজকর্ম করতে থাকে। হিমুর এই বইটি গড়পড়তার চাইতেও নিচু মানের বলে মনে হয়েছে। লেখায় কেমন অযত্নের ছাপ। যেন লিখতে হয় বলেই লিখেছেন।
হিমু কখনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাঁসের মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল।
লেখকের খুব দেখার শখ বড় রকমের ঝামেলায় পড়লে সে কী করে। কাজেই হিমুর জন্যে বড় ধরনের একটা সমস্যা তিনি তৈরি করেছেন "একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা" বইয়ে। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কাণ্ড–কারখানা দেখেছেন কল্পনায়।
মালিহা বেগম আমেরিকায় থাকেন সম্পর্কে হিমুর খালা হন। দূর সম্পর্কের খালা। উনি প্রতি নিউ ইয়ার্সে একটা কার্ড পাঠান। শুধু কার্ড না, কার্ডের সঙ্গে ডলার থাকে। মালিহা খালা ঢাকায় এসেছেন এবং হিমুকে চিঠি লিখে জরুরি খবর পাঠিয়েছেন। চিঠি নিয়ে এসেছে খালার ম্যানেজার হাদিউজ্জামান। ঢাকায় মালিহা খালার যে বিষয় সম্পত্তি আছে তা দেখভাল করেন হাদি সাহেব।
হিমু মালিহা খালার থেকে একটা মোবাইল ফোন উপহার পেল চিঠির সাথে। হাদিউজ্জামান শিখিয়ে দিলেন ফোনের ব্যবহার। হিমু মালিহা খালার বাসায় গিয়ে দেখা করে এলো পরে গিয়ে ঠিকই কিন্তু তারপর শুরু হলো ঝামেলা। হিমুর মেসে পু*লিশ এলো মালিহা খালা খু*ন হয়েছেন। কিন্তু মালিহা খালাকে কে খু*ন করলো! খালু সাহেবকে সন্দেহ করছে পু*লিশ। ব্যাস হিমু জড়িয়ে গেল ঝামেলায়।
রাস্তায় আরেকটি মেয়ের সঙ্গে দেখা। হিমু তাকে চিনতে পারলো না। তবে মেয়েটির সাথে গাড়িতে করে আর্ট গ্যালারীর সামনে নামলো। মেয়েটা হিমুকে অপেক্ষা করতে বলে ভেতরে চলে গেল।সময় কাটাতে চায়ের দোকানে বসে হিমু চায়ের কাপে প্রথম চুমুকটি দিয়েছে, দ্বিতীয় চুমুক দিতে যাচ্ছে এমন সময় হিমুর কাধে কে যেন হাত রাখল। হিমু ঘাড় ফিরিয়ে দেখে হলুদ মাফলার গল��য় এক লোক। মাফলারওয়ালা বলল, আপনার ভয়ের কিছু নেই আমরা পু*লিশের লোক। আই বি-র। হিমু বলল, আমি ভয়ংকর কেউ এরকম কোনো রিপোর্ট কি আপনাদের কাছে আছে?
মাফলারওয়ালা জবাব না দিয়ে বলল, আপনার চা খাওয়া শেষ হয়েছে। এখন উঠুন। দুটা মিনিট সময় দিন। গাড়ির ড্রাইভারকে খবর দিয়ে যাই। হিমু বলল।
কাউকে কোনো খবর দিতে হবে না।
ও দুঃশ্চিন্তা করবে।
মাফলারওয়ালা হিমুর হাত চেপে ধরল। যাকে বলে বজ্র মুষ্ঠি। হিমু সুবোধ বালকের মত তার সঙ্গে লাল গাড়িতে উঠলো। প্রেমিকার ধরা হাতও ছাড়িয়ে নেয়া যায়। পু*লিশেরটা যায় না।
পু*লিশ হেডকোয়ার্টারে গিয়ে হিমু মুখোমুখি হলো বড় একজন অফিসারের। হিমুর সাথে রাস্তায় যে মেয়েটির দেখা তার বাবা। তিনি বললেন, মেয়েটাকে নিয়ে আমি খুব সমস্যায় পড়েছি। সে আমার সঙ্গে চোর-পু*লিশ খেলছে। চার পাঁচ মাস ধরে সে সবাইকে লুকিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে। দুই থেকে তিন ঘন্টা কাটিয়ে সহজ ভাবে ফিরে আসছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও ব্যাপারটা ধরতে পারছি না। তুমি কি জান সে কোথায় যায়!
ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে হিমু মোটামুটি করুণ মুখ করে বলল, স্যার আমি জানি না। তুমি কি জেনে দিতে পারবে? তুমি জানবে এবং আমাকে জানাবে। তোমার সঙ্গে আমার কথা শেষ। এখন বিদেয় হও। একটা ব্যাপার তোমাকে বলে দিচ্ছি। এখন থেকে আমার মেয়ের পেছনে না, তোমার পেছনে আমি লোক লাগিয়ে রাখব। বাঘের পেছনে যেমন ফেউ থাকে। তোমার পেছনেও ফেউ থাকবে।
ব্যাস হিমু জড়িয়ে গেল আরেক ঝামেলায়। এবার দেখার পালা এই ঝামেলাগুলো থেকে হিমু কীভাবে বের হতে পারে। নাকি তার মাথায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক শুরু হবে টেনশনে। হুমায়ূন আহমেদ এবার হিমুর সামনে ভালো রকমের ঝামেলা রেখেছেন একের পর এক। দেখা যাক মজা।
🌂 পাঠ প্রতিক্রিয়া 🌂
হুমায়ূন আহমেদের হিমু টুকরো টুকরো ঘটনা, আলাদা আলাদা পরিস্থিতি কিংবা চরিত্রের সংমিশ্রণ। হিমু সব ক্ষেত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এই বইয়েও ঘটনাক্রমের নির্দিষ্ট টপিক ছিল না। এবং আমার কাছে বইটা অসম্পূর্ণ মনে হলো। কারণ বলছি তার আগে বইটা নিয়ে যদি ওভারঅল বলি সিরিজের অন্যান্য বইয়ের মতো বেশ সাবলীল হাস্যকর ঘটনাপ্রবাহ বিদ্যমান।
হিমুর চিরচেনা স্বভাব সাথে বিচিত্র সব চরিত্রের আনাগোনা। এটা সব বইয়ের কমন। তবে এই বইয়ে চরিত্রগুলোর মধ্যে হুলস্থুল ব্যাপার আছে। এরা হুট করেই আসছে আবার যেন হুট করেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। যেমন জুঁই মেয়েটার কথা যদি বলি তার সাথে হিমুর দেখা হয়েছে যেমন হঠাৎ করেই আবার শেষে এসে তার ব্যাপারে আর তেমন কিছু জানা গেল না। আবার ছিল মালিহা খালার ব্যাপারটা। আরেকটু খোলাসা করে বললে বোধহয় বুঝতে সুবিধা হতো। তবে ওই যে বললাম হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই এভাবেই সমাপ্ত হয়েছে। তিনি পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন শেষটা মিলিয়ে নেবার।
তবে হিমুর জন্য এই বইটিতে ঝামেলা কম ছিল না। পড়তে ভালো লেগেছে এটাই বড় কথা। যখন রিভিউ বুঝতাম না। বই সম্পর্কে খুব বেশি ভাবতে শিখিনি তখনো একবার গোটা হিমু সমগ্র পড়া হয়েছে। ইচ্ছা আছে আবারো সবগুলো পড়ে আলোচনা করতে চেষ্টা করবো।
🌂বইয়ের নামঃ "একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা " 🌂লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ 🌂 ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫/৫
- আগে মানুষ হাটতো সিড়ি দাঁড়িয়ে থাকত। এখন সিড়ি হাটে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে।
- কিছু কিছু দুল এমনই বিচিত্র যে মেয়ের মুখের দিকে তাকানো যায় না। দুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সময় চলে যায়।
- প্রেমিকার ধরা হাতও ছাড়িয়ে নেয়া যায়। পুলিশেরটা যায় না।
- অফিস ঘরের এসিতে সব সময় ঘড়ঘড় শব্দ হয়। অফিস ঘরের এসি মানেই ব্রংকাইটিসের রুগী।
- বাংলাদেশের কোনো মেয়ে বেলীফুলের মালা হাতে নিয়ে রেগে থাকতে পারে না। এই ফুলের গন্ধের ভেতর কিছু আছে, ঝপ করে রাগ কমিয়ে দেয়।
- কখনো কোনো অবস্থাতে অস্থির হইবে না। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান। এই ঘুরনিতে তুমি কখনো অস্থিরতা পাইবে না। তুমি পৃথিবীর স্বভাব ধারণ করিবে। মানুষ বাদ্যযন্ত্রের মত। সেই বাদ্যযন্ত্র নিয়ত সংগীত তৈরি করে। অস্থির বাদ্যযন্ত্র সঙ্গীত সৃষ্টিতে অক্ষম। কাজেই তোমার জন্য অস্থিরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হইল। আমি জানি ইহা জগতের কঠিনতম কর্মসমূহের একটি। বাবা হিমু, কাউকে না কাউকে তো কঠিনতম কর্ম গুলি করিতে হইবে?
- শরমটা একেক জাতির কাছে একেক রকম--- রেইন ফরেস্টে কিছু মানুষ বাস করে এরা নগ্ন হয়ে থাকে। কাপড় পরাটাকেই এরা শরম মনে করে। এরা মনে করে যে সুন্দর শরীর দিয়ে সৃষ্টিকর্তা এদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কাপড় দিয়ে সেই শরীর ঢাকাটাই সৃষ্টিকর্তার অপমান।
- হঠাৎ কোন একটা ব্যাপার মানুষের মাথায় ঢুকে যায়। হাজার চেষ্টা করেও সে এটা বের করতে পারে না।
- মানুষকে সব সময় স্বাভাবিক লাগবে এটা কোন কাজের কথা না। প্রাণী হিসেবে মানুষ অস্বাভাবিক। সে স্বাভাবিকের ভঙ্গি করে পৃথিবীতে বাস করে।
- সব ক্ষমতা নিয়ে একজন দূরে বসে আছেন। ভুল বললাম, দূরে না, কাছেই বসে আছেন। খুব বেশি কাছে বলেই তাকে দেখা যায় না।
জুই এর বাবা পুলিশের বড় কর্মকর্তা হিমুর পিছনে লোক লাগিয়ে রেখেছেন কারণ জুইকে তিনি সন্দেহ করেন, আর জুইও মাঝে দিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে মালিহা খালা হিমুকে বাসায় আসতে বলে, মালিহা খালার মানসিক সমস্যা হয়, সে খালি সপ্ন দেখে যে কেউ তাকে ঝুলিয়ে দিবে, মেরে ফেলবে। শেষ মেষ তার স্বামিই তাকে মেরে ফেলে। এদিকে মালিহা খালার ম্যানেজার হাদি সাহেব ফেসে যান, জেলে চলে যান। তার ছোট মেয়ে পাখি বাসায় একা থাকে, হিমু পাখিকে রূপার কাছে দিয়ে আসে। এবং গল্প শেষ হয় পাখির জন্মদিনে একটি ছোট হাতির বাচ্চা এনে দিয়ে।
এক ভিন্ন রকমের হিমুকে এ উপন্যাসে দেখা যায়।এ হিমুর পাঞ্জাবিতে পকেট আছে।এ হিমুর পাঞ্জাবির পকেটে আছে একটি মোবাইল ফোন।এটিউ সম্ভবত একমাত্র বই যেখানে হিমু কোনো চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা এমনকি টু সাম এক্সটেন্ট-এটাচমেন্ট ফিল করে!
ভেবেছিলাম হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম এর মতো হবে গল্পটা,কিন্তু বইয়ের নামের সাথে গল্পের কোনো মিল নেই,মিল না থাকলেও বইটা অন্যান্য হিমু সিরিজের বইর চেয়ে সুন্দর।কোয়ালিটি হিমু কন্টেন্ট।