জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধ্যায় সাহিত্য পুরষ্কার গ্রহণের প্রাকমুহূর্তে লেখক আরিয়ান শফিককে প্রেপ্তার করা হল তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হত্যা করার অপরাধে। আত্মপক্ষ সমর্থনের আগেই তাকে হত্যা করতে উদ্যত হল একাধিক মহল। অন্যদিকে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এক অফিসার ও এক আইটি এক্সপার্ট। এমন এক ঘটনার সাথে জড়িয়ে গেল আরিয়ান যার কেন্দ্র বিন্দুত রয়েছে সে নিজে। আরিয়ান বুঝতে পারে না একদল লোকের কাছে কেন সে এতো গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা তাকে কেনই বা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। আরিয়ানদের জন্যে হিসেব খুব সহজ: বাঁচতে হলে জানতে হবে সত্য, সত্য জানতে হলে উদ্ধার করতে হবে তথ্য, আর তথ্য জানতে হলে প্রতি পদে নিতে হবে জীবনের ঝুঁকি। জীবন বাঁচানোর জন্যে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার এই খেলায় সবাইকে স্বাগতম।
রুদ্ধরাত এমন এক রাতের গল্প, যে-রাতে কারো ঘুমানোর উপায় নেই।
রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।
এই ভদ্রলোক রবিন জামান খান, কখনো তার বইতে আমাকে হতাশ হওয়ার চান্স দেয়না। এইটা যেহেতু এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট ছিল তাই খানিকটা আশা কম নিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু কন্সপিরেসি থ্রিলার বলতে যা বোঝায় তার উৎকৃষ্ট একটা উদাহরণ তৈরি করে ফেললেন রীতিমত। দারুন লেগেছে। অবশ্যই এটা একটা সিরিজ হবে। আর সেজন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানায় থেকে গেল। আফসোস ঐ একটাই।
পুরো বইটাই ভালো লেগেছে, শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাময় ছিলো কিন্তু পুরো বইটা পড়ে যেমন ভালো লেগেছে সেই তুলনায় এন্ডিংটা একদম মনমতো হয়নি। শেষ হয়েও হইলোনা শেষ টাইপের।
আমার কাছে এমনিতে শুরু থেকেই ইন্টারেস্টিং লেগেছে, এই জনরায় লেখকের প্রথম বই সেই হিসেবে বেশ ভালো, পাজল সলভ করার ব্যাপারটাও বেশ ভালো ছিল। এই তুলনায় শেষটা বেশ সাদামাটা হয়েছে।
আরেকটা ব্যাপার একটু চোখে লেগেছে, একটা সিকুয়েন্স থেকে আরেকটা সিকুয়েন্স এই জিনিসগুলোতে গ্যাপ দেয়া হয়নি। একই চ্যাপ্টারের এক প্যারাতে একটা দৃশ্য পরের প্যারাতেই আরেকটা।
যাইহোক সবমিলিয়ে বইটা পড়ে মজা পেয়েছি, সম্ভবত সিরিজে আরো বই আসবে এবং সেখানে এন্ডিংয়ের বাকি ব্যাপারগুলো শেষ করা হবে তার অপেক্ষায়।
বরাবরই অলস মানুষ, তাই বেশি কিছু লিখতে পারিনি। কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে ভালো ছিলো। বাট লাস্টের এটা কি ছিলো, ভাই?বেশি কিছু বলতে চাইনা, নইলে স্পয়লার হয়ে যাবে। কিন্তু লাস্টের জিনিসটা কেমন যেন odd লাগলো। বাকি সব ভালো।
#পাঠ_অনুভূতি_০৮_২০২৩ বই : রুদ্ধরাত লেখক : Robin Zaman Khan জনরা : কন্সপিরেসি থ্রিলার প্রকাশনা : অন্যধারা পৃষ্ঠা : ৩৬০ কোভিডের ভিতর সময় উপাখ্যান সিরিজের মাধ্যেমে লেখকের লেখা পড়া শুরু একে একে প্রকাশিত সব গুলো বই ই মোটামুটি পড়া হয়ে যায়। এবারের বই মেলায় তার লেখা নতুন বই কিনবো এটাই স্বাভাবিক। রুদ্ধরাত নামটাই একটু আতংকের, হ্যাঁ যেই রাতে ঘুমানো মানা। যেই রাত একজন না বেশ ক'জন মানুষের জীবন এলোমেলো করে দেয়। যেই রাত বেশ কিছু জটিল, ভয়ংকর সত্যকে সামনে টেনে নিয়ে আসে। নিয়ে আসে ক্ষমতার ভিতরে থাকা আর এক ক্ষমতাশীল দলের ক্ষমতা দেখানো। পুরো বই টা লেখক তিনটি অংশে ভাগ করে এগিয়েছেন। প্রথম অংশ একটু ধীর গতি কিন্তু দ্বিতীয় অংশে চলে গেলে এক টানে আপনি বই শেষ না করে উঠতে পারবেন না। লেখক আরিয়ান শফিকের জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের সন্ধ্যায় ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যা লেখকের সারাজীবনের তিলে তিলে গড়ে তোলা ইমেজকে নষ্ট করে দেয় এক ধাক্কায়। কিন্তু এটাই কি শেষ কথা, কি ছিলো লেখকের সেই বই এ, কারা জড়িত, এই বই এর সাথে কি সম্পর্ক, একের পর এক থ্রিল, পলায়ন, নতুন ধাঁধা আর তার সমাধান। শেষ টায় এসে অবাক হতে হয় কিন্তু এক অধীর আগ্রহ লেখক পাঠকের ভিতর সৃষ্টি করে শেষ করলেন এই পর্ব। জীবন জটিল, জীবন মোড় কখন কোথায় ঘুরে যায় কেউ তা জানে না। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। পাপের বোঝা বাড়তে বাড়তে একসময় সেই পাপ ই ছোবল দেয়। চমৎকার একটা সময় পার করতে পড়ে ফেলুন চমৎকার বইটি। সময়খ্যানের বই এর জন্য অপেক্ষায় আছি এর সাথে যুক্ত হলো এই সিরিজের জন্য অপেক্ষা ও। বই পড়ুন, সময়কে উপভোগ করুন।
এতো টান টান উত্তেজনার শেষ টা এতো সাদামাটা ভাবে নিতে ভালো লাগলো না, শুরু থেকে বইটা ভালোই থ্রিলিং ছিলো, বেশ করে কোডিংয়ের ব্যাপার গুলা,
যাই হোক একটা থ্রিলার বইয়ের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে তার এন্ডিং যেটা বইটার ক্ষেত্রে আমার কাছে সাদামাটা মনে হয়েছে। আর রাইটারের কাছে প্রশ্ন থাকবে এইটার কোন খন্ড বের হবে কি না,?
#বুক_রিভিউ রূদ্ধরাত রবিন জামান খান অন্যধারা/৬৬০ টাকা
কন্সপিরেসি ঘরানার "রুদ্ধরাত" গল্পটা তিনটা ভাগে বিভক্ত। প্রথম খন্ডে স্টোরি শো করা হয়েছে, দ্বিতীয় খন্ডে স্টোরি টেলিং এবং তৃতীয় খন্ডে আবারও স্টোরি শো করা হয়েছে। আমি তিনটা খন্ডের পাঠ-প্রতিক্রিয়া আলাদা আলাদা ভাবে দিবো। কারন প্রতিটা খন্ডের গল্পের ধরণ ভিন্ন।
◾প্রথম খন্ড- প্রথম খন্ডের শুরুতেই একজন তরুণ লেখক আরিয়ানের উত্থানের কাহিনী এবং তার পুরস্কার প্রাপ্তি দেখানো হয়। আচমকা পুরস্কার প্রাপ্তির সান্ধ্য অনুষ্ঠানেই অারিয়ান গ্রেপ্তার হয়। এখান থেকেই টানটান উত্তেজনাকর এক রুদ্ধরাতের গল্প শুরু... এই খন্ডের গল্পটা অ্যাকশন থ্রিলার বলা যায়। আসামী আরিয়ানের পিছে পুলিশের ধাওয়া চলতে থাকে। ভিলেন পুলিশ চরিত্র "রহমান" কে বুদ্ধিমান হিসাবে দেখানোটা ভালো লেগেছে। এন্টাগনিস্ট এবং প্রোটাগনিস্ট চরিত্র সমান হওয়ায় টক্করটা ছিলো উপভোগ্য। নায়কের চরিত্রে হালকা মাসুদ রানার ফিল পেয়েছি।
◾দ্বিতীয় খন্ড- সবচেয়ে বেশী উপভোগ করেছি দ্বিতীয় খন্ড বা মধ্যভাগ। টোকন আর জুলহাস নামের দুই এতিম বন্ধুর কাহিনী দিয়ে শুরু হয় এই অংশের গল্পটা। মনে হবে যেন সম্পূর্ণ আলাদা একটা বই পড়ছি। লেখকের স্টোরি টেলিং ছিলো পরোই চুম্বকীয়। আমরা কিন্তু সাধারণত দেখি ৩০০-৪০০ পেজের বইগুলোতে মাঝের অংশ স্লো হয়ে যায়, বোরিং লাগে। এক্ষেত্রে সেটা ব্যতিক্রম। এই অংশে স্মৃতিচারণ, আবেগ, রহস্য, জটিল ধাঁধা অনেক কিছুর মিশ্রণ ঘটেছে। বই হাত থেকে নামাতে ইচ্ছাই করেনি।
◾তৃতীয় খন্ড- প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ডের সমন্বয় ঘটেছে এই অংশে। রহস্য আর ধাঁধা উন্মোচিত হয় ধীরে ধীরে। গল্পের চরিত্রগুলো কেন, কিভাবে কালেক্টেড হলো তার যথাযথ ব্যখ্যা ছিলো। ঘটনার পেছনের মূল উদ্দেশ্য জানার পর অবাক হতে হয়, আমাদের চারপাশে কত ঘটনাই না ঘটে! অথচ এর নিহিত কারন আমরা কতটা জানতে পারি?
◾পরিশেষে- একরাতের গল্প যে এতো রোমাঞ্চকর হবে বইয়ের শুরুতে বুঝতেই পারিনি। রবিন জামান খানের লেখনীর সাথে কমবেশী সবাই পরিচিত। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না গল্পটা সুখপাঠ্য হবে। কেউ মৌলিক থ্রিলার পড়ে দারুণ একটা অবসর কাটাতে চাইলে তাকে "রুদ্ধরাত" অবশ্যই রেকমেন্ড করবো।
রুদ্ধরাত Book by রবিন জামান খান genre: cons*piracy thriller, crime thriller
review: cons*piracy thriller and crime thriller হিসেবে বইটি অসাধারণ কারণ এত cinematic বই খুব কমই আছে আমার মনে হয়। রুদ্ধরাত বইটিতে প্রথম পার্ট একটু স্লো ছিল কিন্তু দ্বিতীয় পার্ট এ চলে গেলে আপনাকে চুম্বকের মত টেনে রাখবে কারণ আপনি থামতেই পারবেন না। বইটিতে এমন একটি রাতের কথা তুলে ধরা হয়েছে যখন অনেকগুলো মানুষের জীবন ওলোট পালট হয়ে যায় এবং ক্ষমতাশীনরা তাদের ক্ষমতা দেখাতে শুরু করে। লেখক আরিয়ান শফিকের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সন্ধ্যাটি তছনছ হয়ে যায় যা তার কষ্টে গড়া ইমেজকে ধ্বংস করে দেয় এক মুহূর্তে। কিন্তু সেটা তো শেষ হওয়ার কথা ছিল না কারণ এর পরই শুরু হয় cat and mouse chase, puzzle and solution, যা আপনাকে বাকরুদ্ধ করে ফেলবে। লেখকের ফাস্ট পেসড ও সাসপেন্স এ ভরা লেখনী আপনাকে অভিভূত করবে এবং টুইস্টগুলো আপনার মাথা ঘুরিয়ে দিবে কারণ লেখক এত formulaic ভাবে গল্পের মোড় ঘুরান যে বইটি একবার পড়তে বসলে আপনাকে পেজের পর পেজ উল্টিয়ে যেতে বাধ্য করবে। রহস্যের সূত্র যেভাবে সাজিয়েছেন লেখক যে বইটি এক কথায় অনবদ্য হয়েছে। প্লটে সমাজের ক্রাইম ও স*ন্ত্রাস, মানুষের পা*পের বোঝা ও সেই পা*প যে ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না এটা সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। টান টান উত্তেজনা ও adrenaline rush পাবার মত বই এটি ও কোডিং, ইতিহাস, cryptography ব্যাপারগুলো আমার চমৎকার লেগেছে। কাহিনী build up ও চরিত্র আকায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক যা প্রসংশার দাবীদার। সবকিছুর background খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কিন্তু মাঝে মাঝে বাক্যগুলো অনেক লম্বা ছিল বইতে যা খুব বিরক্তিকর লেগেছে এবং রিডিং এক্সপেরিয়েন্স এ ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এত থ্রিলিং একটা বইয়ের এন্ডিংটা খুব একটা ভালো লাগেনি বিশেষ করে শেষের genetic engineering এর কনসেপ্ট আমার মন মত লাগেনি যেহেতু লেখক বিষয়টিকে ভালোভাবে execute করতে ব্যার্থ হয়েছেন বলে আমার মনে হয়। মেদহীন বইটি পড়তে ক্লান্ত লাগেনি একেবারেই এবং এর production টপ নচ ছিল আর বানান ভুল তেমন চোখে পড়েনি।
পড়ে শেষ করলাম ২০২৩ এর মেলার অন্যতম আকর্ষণ রবিন জামান ভাইয়ের লেখা কন্সপিরেসি থ্রিলার 'রুদ্ধরাত'। উনার লেখার ব্যাপারে কোনো অভিযোগের জায়গা আজ পর্যন্ত পাই নাই। এখানেও উনি অনবদ্য। শুরু থেকে টান টান উত্তেজনায় ঠাসা এক গল্প। শুরু থেকে লেখক যে রহস্যের সূত্র ছেড়েছেন তা শেষের এসে সুন্দরভাবে মিলে গেছে। চরিত্র খুব বেশি ছিল না। কিন্তু সবার ব্যাকগ্রাউন্ড সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য পুরো ছবিটা লাস্টে বুঝা গেছে। রবিন ভাইয়ের সময় সিরিজে গল্প দুইটা ভিন্ন টাইমলাইনে গড়ে উঠেলেও এই বইয়ের গল্পে একটা টাইমফ্রেম রাখা হয়েছে। কাজেই নতুন এক স্বাদ পেয়েছি উনার কাছ থেকে। সেখানেও উনার মুন্সিয়ানা বেশ প্রশংসার দাবিদার৷ আরেকটা ব্যাপারে উনার বিশাল ধন্যবাদ প্রাপ্য তা হল কাহিনী বিল্ডআপ আর চরিত্র আঁকার মাঝেও গল্পের গতি সুন্দর ধরে রেখেছেন। কোথাও ক্লান্ত লাগে নাই। এই বইয়ের শেষে এর পরের পার্টের কথা উল্লেখ আছে। কাজেই আরেকটা দারুব সিরিজ উপহার এ সময়ের অন্যতম থ্রিলার লেখকের কাছ থেকে৷
বইয়ের প্রোডাকশন বরাবরের মতই টপনচ। অন্যধারা তাদের সিগনেচার প্রোডাকশন দিয়েছে। যেটা ভাল লেগেছে তা হল বানান ভুল চোখে পড়ে নাই। সবমিলিয়ে ২-৩ টা হালকা বানান ভুল চোখে পড়েছে। মেলার সময় প্রচন্ড চাপ থাকে প্রেসে। তাও এমন ভুলছাড়া বইয়ের জন্য উনাদের একটা ধন্যবাদ দিব। আর বইয়ের বাঁধাই ভালো ছিল। পড়তে সমস্যা হয় নাই।
বইটা নিয়ে আসলে কি বলবো সেটা বুঝতে পারতেছি না। এমনিতে বইটার ৩টা ভাগে ভাগ করা। ১ম ভাগ শুরু হবার পরে স্লো ছিলো অনেক ভাবলাম এমন কেনো কিন্তু একটু পরে গতি আসে গল্পে সে গতি ভালো ভাবে আগাতে থাকে এর পরে হুট করে ২য় ভাগ শুরু হয় আর এই ভাগ শুরু দিকে ভালো ছিলো কিন্তু মাঝে দিয়ে আমার কাছে মনে হয়ছে একটু স্লো লেগেছে আর আর এইটার কারন হইতে পারে ২য় ভাগের অনেক তথ্য আমার জানা, যারা জানে না তাদের জন্য নতুন একটা ব্যাপার হবে এইটা যেমন CICADA 3301, ফ্রিম্যাসনরি ঢাকাতে, গ্রিক মন্দির ঢাকা। ৩য় ভাগটা আবার শুরু হয় ভালো টানটান উত্তেজনা দিয়ে কিন্তু শেষ দিকে বিশেষ করে শেষটা আমাকে হতাস করেছে। হতে পারে রুদ্ধরাত এই সিরিজের প্রথম বই আর এই সিরিজের ২য় বই আসবে সেখানে হয়ত অনেক কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে। বইয়ের বাঁধাই ছিলো অনেক ভালো আর এর জন্য হাতে নিয়ে পড়ার সময় হাত ব্যাথা হয়ে করেছে। বইটা পড়ে দেখতে পারেন নতুন কিছু জানতে পারবেন।
অনেকদিন যাবত আমি সাবলীল ভাষায় থ্রিলার গল্প পড়ছিলাম। তবে রুদ্ধরাত গল্পের ভাষা আমার কাছে কিছুটা জটিল মনে হয়েছে কিন্তু তার থেকে বেশি চমকপ্রদ ছিল গল্পের এই রহস্য যা সমগ্র গল্প জুড়ে পড়ার একটি আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং গল্প শেষ না করা অব্দি বইটি ছেড়ে ওঠার কোন অবকাশ নিজের মধ্যে দেখায় না। আর গল্পের রহস্য যা গল্পের একেবারে শেষে প্রকাশ পায় তা যে কতটা কৌতুহল সৃষ্টি করতে পারে তা এই বইটা না পড়লে আমি কখনো জানতে পারতাম না। সত্যি সম্পূর্ণ বইটা যে কখন পড়ে কখন শেষ করলাম বোঝা মুশকিল। কিন্তু রহস্যের এই ধাঁধান অনুভূতি আমার কাছে নতুন কিছু নয় তাই লেখকের নতুন বইয়ের অধীর আগ্রহে থাকবো।
শব্দজাল আমার এভারেজ লাগলেও, প্রফেসর জ্যাক চমক জাগিয়ে ফিরলেন রূদ্ধরাতে। সিকুয়েল হিসেবে দারুণ, প্রথম বইয়ের মত গতিময়তা নেই; ধীরে ধীরে রহস্য তার জাল ছড়য়েছে। এবং সেই জাল গুটিয়ে এনেছেন লেখক দারুণভাবে। বেশ সিনেম্যাটিক ভাইব থাকলেও, আমার কাছে ভালো লেগেছে। সমাপ্তি ও পরবর্তী বইয়ের আভাস আগ্রহী করেছে। নিঃসন্দেহে রিকমেন্ডেবল বই। আধা তারকার সুযোগ না থাকায়, ৩ তারকা দিতে হলো। ১০ এ ৭ এই বই পেতেই পারে।
থ্রিলারের মূল কাজ কী? থ্রিল দেয়া। লেখক সেটাই দিয়েছেন। মাঝে মাঝে কিছু জায়গা অতিরঞ্জিত কিংবা বিসদৃশ লাগার পরেও একদিনে বইটা শেষ করতে পেরেছি কারণ লেখক সফলভাবে কাহিনীতে আমাকে হুক করতে পেরেছেন। চার তারা রেটিং দেয়া যেতো যদি কাহিনী অসমাপ্ত না থাকতো, আর শ'খানেক পৃষ্ঠা বাড়িয়ে কাহিনী সমাপ্ত হলে সব মিলিয়ে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যেতো।