অপূর্ব নীল পাহাড়ি অর্কিড ফুসিয়া। কারো বাড়িতে এই ফুল নিয়ে যাওয়া মানে জীবন দিয়ে হলেও তাকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি। গুলশানে এক বাড়ির নাম কেন ফুসিয়া হাউস? কেন এক শিল্পপতি শিল্পসংগ্রাহক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অনুশোচনায় যন্ত্রণাদগ্ধ? আপনি জানবেন বুদ্ধের গাঢ় নীল এক ছবির রহস্য ও জটিল এক মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে, বুঝবেন অসহ্য সুন্দরও কখনো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এই বিজ্ঞান কল্পকাহিনিতে বাংলাদেশের পাঠক সম্ভবত প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানের জটিল ব্যাখ্যা ও তত্ত্বের পাশাপাশি থ্রিলার বা ফ্যান্টাসির স্বাদও পাবেন।
তানজিনা হোসেনের জন্ম ১৯৭৫ সালে। বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞান কল্পগল্প ও ফিকশন দিয়ে লেখালেখির শুরু। পাশাপাশি নিয়মিত ছোটগল্প লিখে আসছেন। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অগ্নিপায়ী’ (২০০৬)। তানজিনা হোসেন পেশায় চিকিৎসক। শিক্ষকতা করেন ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে।
ছোট্ট বই একটানে পড়ে শেষ করলাম। ক্রাইম, আর্ট, মিস্টিসিজম এগুলো আমার প্রিয় বিষয়। এত ছোট বইতে খুব চমৎকার ভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আসা হয়েছে। লাইট রিড হিসেবে উপাদেয়। ভালো লাগলো পড়ে। প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী মিস্ত্রী। তিনি আমার প্রিয় প্রচ্ছদশিল্পীদের একজন। তবে বইটাকে কেন সায়েন্স ফিকশন বলা হলো এটা মাথায় ঢুকলো না।
৩.৫/৫ সায়েন্স বিনা সায়েন্স ফিকশন। তানজিনা হোসেনের লেখনী বেশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর পশ শব্দের মাত্রাধিক্য ব্যবহার বিরক্তির সঞ্চার করতেছিল। সহজিয়া ভাষায় চিত্রকলা সম্পর্কিত বেশ কিছু জানলাম। শেষের টুইস্ট টুকু প্রেডিক্টেবল ছিল। ওভারলি, নট ব্যাড ঘরানার বই।
সায়েন্স ফিকশন না বলে সাইকোলজিক্যাল ফিকশন বলা ভালো বইটাকে। স্ট্যান্ডহাল বা ফ্লোরেন্স সিনড্রোমের ওপর গড়ে ওঠা প্লট সেইসাথে একটু রহস্যের মিশেল। সত্যি বলতে আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম। তবুও খারাপ না। মেদহীন, ঝরঝরে লেখা। পড়ে ফেলা যায় একটানা।
ছোট একটা বইয়ে বেশ কিছু জিনিসের মেলবন্ধন ঘটেছে। রহস্য, প্রেম, কামনা, মনস্তত্ব, শিল্প, চিত্রকলা, বিজ্ঞান ও কিংবদন্তির মিশেলে ছোট এই উপখ্যানটা বেশ রোমাঞ্চকর এক যাত্রার মুখোমুখি করিয়েছে।
ঝরঝরে লেখার পাশাপাশি গল্পটাও বেশ ভালোই। একদম নতুন ধাঁচের না হলেও এতকিছুর মিশেলে বেশ প্রাঞ্জল একটা পাঠ হয়ে গেলো।
তবে প্রচ্ছদে নেহায়েত 'সায়েন্স ফিকশন' ট্যাগটা বেমানান ঠেকছে। এরচেয়ে অন্যান্য বিষয়গুলোর উপস্থিতি এখানে ঢেরবেশি।
ফ্লোরেন্স সিনড্রোমের পর লিখা অতি চমৎকার একটা নভেলা।সাথে অল্প একটু বিজ্ঞান মিথ সবকিছুর মিশেলে ছিমছাম এক নভেলা।ঝরঝরে লেখার কারণে এক বসায় পড়ার মত বই। লেখিকার ঝরঝরে লিখার পাশাপাশি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অনেক ইনফরমেশন পাওয়া যায় তাঁর লিখায়।চমকপ্রদ এবং অজানা তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায় অনেক।
প্রায় সব দিকে কপাল আমার পোড়া হলেও,একটা দিক থেকে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়। সেটা হচ্ছে, আমার একজন ভালো মানুষির সব স্থর অতিক্রম করা বড় ভাই আছে। কত দিন থাকবে জানি না..! এই বড় ভাই, আমাকে যত ভালো বইয়ের নাম বলেছেন,এর অর্ধেক ও আমাকে কেউ বলবে কিনা সন্দেহ! ভাই,আপনাকে ভালোবাসি।
আমার সেই প্রিয়তম ভাইকে "এটা একটা প্রেমের গল্প হতে পারত" নামের বই পড়তে দেখে,আমিও পড়েছিলাম। সেই থেকে তানজিনা হোসেন এর লেখার সাথে আমার পরিচিতি। প্রথম পরিচয় সুখের ছিলো। বই টা ভালো লেগেছিল। তাই,এবারের বইটা নিয়েও বেশ আগ্রহী ছিলাম।
ফুসিয়া হাউস
দারুণ একটা প্লট। লেখনীও দারুণ। কলেবরে ছোট তবে গল্পটা জমেছে ভালো। তবে এটা কে কোন ভাবেই সায়েন্স ফিকশন বলার দাবী রাখে না। এটা মনস্তাত্ত্বিক নভেলা বলা চলে।
এবার আমার নিজের একটা বাসনা প্রকাশ করি। আমি রোমান্টিক ঘরানার লেখা খুব ভালোবাসি। তানজিনা হোসেনের প্রথম বই টা শেষ করার পর মনে হয়েছে,এই লেখক অসাধারণ একটা "প্রেমের" উপন্যাস লেখার যোগ্যতা রাখেন,কোন আল/বাল লেখা না। একটা সুন্দর প্রেমের উপন্যাস,বর্তমান সময়কে উপজীব্য করে। লেখক কি এই পাগলের প্রলাপ পড়বেন? সত্যি সত্যি কি লিখবেন? জানি না,তবে আমি অপেক্ষা থাকবো....
আমি তেমন কোন আশা না করেই বাতিঘরে বসে পড়া শুরু করলাম। এবং অবাক হয়ে দেখলাম বইটা বেশ সুন্দর। লেখিকার লেখার ধরন খুব সহজ, সুন্দর। প্লটটাও খুবই ইন্টারেস্টিং লাগলো। একেকটা টুইস্ট মজার। অনেক ধরনের আর্ট সম্পর্কে ও জানা গেলো। লেখিকার জন্য শুভকামনা। 🌺
বিজ্ঞান বিহীন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী কোনোদিন পড়েছেন?
বলছিলাম “ফুসিয়া হাউজ” বইটার কথা। বইটিকে সায়েন্স ফিকশন বলা হলেও আমার কাছে তেমনটা লাগেনি। কেন এই বইটিকে সায়েন্স ফিকশন বলা হয়েছে, সেটাও বোধগম্য নয়। যদিও বইটিতে বিজ্ঞান আছে কিছুটা, তারপরও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
বইটি মূলত বিজ্ঞানের সাথে মিথ, কল্পনা, মনস্তত্ত্বের এক অন্যরকম মিশেল। সেই সাথে আছে অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলী, কিছুটা তন্ত্রমন্ত্রের আভাস ও চিত্রকল্পের বর্ণনা। ছোট ছিমছাম বইটি পড়তে ভালো লেগেছে। আহামরি কিছু না হলেও বেশ উপভোগ্য। এক বসায় শেষ করা যায়। সেই সাথে যে রহস্য লেখিকা বইটিতে তুলে ধরেছেন, তাতে আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
কাহিনি তেমন কিছু না। একটি বাড়ি, যার নাম ফুসিয়া হাউজ। সেই বাড়িতে এক অভিজাত দম্পতি থাকত। সেই দম্পতির ভীষণ শখ দেশে বিদেশে বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সব খুঁজে বের করার। সংগ্রহের এই বাতিক যেন তাদের ফুসিয়া হাউজকে জাদুঘর করে তোলে। কিন্তু একবার একটি চিত্র নিয়ে আসে এক মেয়ে, যা বদলে দেয় তাদের জীবন। খুঁড়ে তোলে অতীত।
মানুষের দেখার চোখ থাকলেও সব দেখতে হয় না। কিছু জিনিস গোপনেই থাকা শ্রেয়। নাহলে হয়তো জীবনটা ওলট পালট হয়ে যায়। একটি চিত্র, যা মানুষকে তার অতীতকে সামনে এনে দাঁড় করায়। বদলে দেয় সমীকরণ। পরিবারের কর্তা হারিয়ে ফেলে জীবন, গিন্নি জেলে পঁচে মরে। সন্তান কোথায় হারায় কেউ জানে না।
এমন এক রহস্যের খোঁজ করতে গিয়ে কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু রহস্য থাকে, যা অজানাই থেকে যায়। জানার চেষ্টা করতে গিয়েও কেন যেন জানা হয় না। প্রকৃতি তার রহস্য লুকিয়ে রাখতেই পছন্দ করে।
ছোট্ট এই উপন্যাসিকা নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। তবে যে মনস্তত্ত্বের দিকে লেখিকা আলোকপাত করেছে, বেশ ভালো লেগেছে। তাছাড়া একটা ভিন্ন এক রোগের সাথে পরিচয় ঘটেছে। ফ্লোরেন্স সিনড্রোম সত্য কি না জানি না, তবে মনস্তত্ত্বের এই রোগ থাকলেও থাকতে পারে। কেননা পারিপার্শ্বিক অবস্থা মানুষের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
লেখিকার লেখা সাবলীল। যদিও কিছু শব্দের ব্যবহার লেখিকার অধিক প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও বর্ণনায় পরিমিত ব্যবহার ছিল। চরিত্রগুলো ঠিকঠাক জায়গা করে নিয়েছে। ছোট বই যেহেতু, বেশি কাজ করার সুযোগ ছিল না। যতটুকু ছিল, ততটুকুই যথেষ্ট মনে হয়েছে। মনে দিকগুলো এভাবে ফুটে উঠেছে ভালোই।
আমরা মানুষেরা জেনে বুঝে অনেক ভুল করি। হয়তো ভুল উল্লেখ করে পাপকে এড়িয়ে যাই। কিন্তু জীবনের কোনো এক সময় এই পাপের মুখোমুখি হতে হয়। এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না। প্রায়শ্চিত্তের মতন পরিস্থিতিতে মানুষ হারিয়ে যায়, বাস্তবতা থেকে দূরে। অন্ধকারের অতলে।
কীসের সায়েন্স ফিকশন! এতো জব্বর থ্রিলে ভরা। অন পয়েন্ট প্লট, ক্যারেক্টারগুলো ইন্ট্রুগুয়িং তার উপর বাজিমাত দিতে রয়েছে পুরাণ কাহিনী-মিথ! আর কী চাই?
সত্য বলছি হঠাৎ করেই বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। রাতের আঁধারে আলো জ্বালিয়ে অনবরত পড়ে গিয়েছি এতটাই ফাস্ট ফেইসড আর বুদ করার মতো গল্প। দ্য পিকচার অফ দ্য ডোরিয়ার গ্রে' যারা পড়েছেন তাদের ধাচেরই। শেষ করে মনে হলো এত জলদি শেষ হলো কেন? আরও চাই আরও বেশি চাই! অবশ্য রেকমেন্ডেট।
ভিন্ন ধারার সায়েন্স ফিকশন লেখক তানজিনা হোসেনের লেখা আগে পড়া হয়নি। এবারের বইমেলায় বাতিঘর থেকে প্রকাশিত লেখকের ফুসিয়া হাউস বইটির অনেক হাইপ দেখে বইটি নিয়েছিলাম। সায়েন্স ফিকশনের তকমা লাগালেও বইটিতে থ্রিলার এবং ফ্যান্টাসির স্বাদ পেয়েছি। মুগ্ধতার রেশে লেখকের অন্য বইগুলো পড়ে ফেলার পিপাসা পেয়ে গেলো। 💙
এ বছরের পড়া শেষ বই। ছোট কলেবরের বইটি পড়তে ভাল। অন্যরকম এক রহস্য, তবে খুব জটিল নয়। লেখনীশৈলী সাবলিল তাই পড়তে ভাল লাগে। তবে কিছু রহস্যে থিওরি/ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, ব্যাখ্যা নেই তাই একেবারে সায়েন্স ফিকশন ক্যাটাগরিতে ফেলা উচিৎ কিনা সেটা নিয়ে আমার কনফিউশান আছে।
উপহার হিসেবে পাওয়ার অনেক দিন পরে বইটা পড়লাম। একটু অন্য ধাঁচের বই, ঠিক আছে। আকারেও ছোট, তাই পড়তে সময় লাগলো মোটে ঘণ্টা দেড়েক। কিন্তু কভারের ওপর সায়েন্স ফিকশন লেখা এই বইয়ে বিজ্ঞান কই তা খুঁজে পেলাম না একেবারেই।
" অপূর্ব নীল পাহাড়ি অর্কিড ফুসিয়া। কারো বাড়িতে এই ফুল নিয়ে যাওয়া মানে জীবন দিয়ে হলেও তাকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি। গুলশানে এক বাড়ির নাম কেন ফুসিয়া হাউস? কেন এক শিল্পপতি শিল্পসংগ্রাহক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অনুশোচনায় যন্ত্রণাদগ্ধ? আপনি জানবেন বুদ্ধের গাঢ় নীল এক ছবির রহস্য ও জটিল এক মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে, বুঝবেন অসহ্য সুন্দরও কখনো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এই বিজ্ঞান কল্পকাহিনিতে বাংলাদেশের পাঠক সম্ভবত প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানের জটিল ব্যাখ্যা ও তত্ত্বের পাশাপাশি থ্রিলার বা ফ্যান্টাসির স্বাদও পাবেন " --- বইটির ফ্ল্যাপে লিখা কিছু কথা! এই পড়েই বইটি পড়তে শুরু করেছিলাম। প্রচ্ছদ সব্যসাচী মিস্ত্রির; আই ক্যাচিং! বইটির নাম অন্যরকম সুন্দর।
একশো তিন পেইজের ছোট্ট বই; কিন্তু নানান উপাদানে ভরপুর। যদি বইটিকে কোনো সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে বলব 'মুখে দীর্ঘদিন এর স্বাদ লেগে থাকবে'। আর যদি কোনো ফুলের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে আমি বলবো 'এর মাতাল করা ঘ্রাণ মাথা ধরিয়ে দেবে এবং অনেক বেশি ঘোরের মতন লাগবে'।
লিখনশৈলী, প্লট, গল্প বলার ধরণ, মিথ, মনস্তত্ত্বের মিশেলে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলবার মত বই। আমি বই না শেষ করে উঠতে পারি নি; শেষটা একটু হলেও আঁচ করতে পারছিলাম। ভীষন ইন্ট্রিগুয়িং ছিল পুরো জার্নি টা। বইটির ভালো লাগার দিক হিসেবে আমি লেখিকার মিস্টিসিজম, চিত্রকলার সুন্দর ব্যাখ্যা, ফুসিয়া ফুলের ঘ্রাণ, একের পর এক রহস্যের জট খোলা, দারুন ব্যক্তিত্বের অধিকারী কিছু মানুষ, সাইকোলজির খেল - আমাকে একেবারে মুগ্ধ এবং একই সাথে প্রায় কিছুটা হিপনোটাইজ করে রেখেছিল। কিছু মেডিকেল টার্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি (যেমন: ফ্লোরেন্স সিনড্রোম) ক্রাইম কেসের সলিউশনে বিভিন্ন পুলিশি কারবার, নেপালের আর্ট এবং কালচার, অদ্ভুত রকম শখ, ঝরঝরে বর্ণনা আমাকে বইটিতে ধরে রাখতে বাধ্য করেছে। তবে বইটির এক কোণায় এটিকে সাই-ফাই হিসেবে দাবি করা হয়েছে, আমি বিষয়টি গল্প শেষে খেয়াল করেছি।কিন্তু সায়েন্স ফিকশনের চেয়ে এটিকে মিস্ট্রি থিলার অথবা সাইকোলজিকাল ফিকশন বলা যেতে পারতো।
বইটি খুব দ্রুতই যেন শেষ হয়ে গেল। লেখিকা চাইলেই আরো ডালপালা মেলতে পারতেন; তবে তার ইচ্ছেই সই। খুব দারুন কিছু সময় কেটেছে বইটির সঙ্গে। বাতিঘরে বসে, সন্ধ্যায় হালকা আঁচে মিউজিক, দু'কাপ কফির ঘ্রাণ, মেঘে ঢাকা পূর্ণিমা চাঁদের পাশে, গাছপালার আড়ালে বইয়ের ছবি তুলে একটু রাত করে বাড়ি ফিরেছি।
তানজিনা হোসেনের সাথে আমার পরিচয় 'এলিনা'-র মাধ্যমে। সালটা ২০১৮ খুব সম্ভবত। তখন বাতিঘর আমার দ্বিতীয় আবাসস্থল। সায়েন্স ফিকশন পড়ার একটা ঝোঁক ওঠায় টানা বেশ কিছু বাংলাদেশী লেখকের বই পড়ছি। তারই ধারাবাহিকতায় এলিনা পড়া। বইটা আমার বেশ চমৎকার লেগেছিল, পোস্ট করে খুব সম্ভবত লেখাও হয়েছিল। গতকাল পড়া হলো তার লেখা উপন্যাসিকা (নাকি বড় গল্প!) 'ফুসিয়া হাউস'। বইয়ের ব্যাপারে কিছু বলার আগে বলতে চাই বইয়ের উপর বড় করে 'সায়েন্স ফিকশন' ট্যাগ দেওয়ার বিষয়টা। পুরো বইয়ে 'সায়েন্স ফিকশন'-এর দন্ত্য স-ও খুঁজে পাওয়া যাবে না, কারণ বইটা আদতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী না। অতিপ্রাকৃত, পৌরাণিক ও মনস্তাত্ত্বিক ধাঁচের এই বইটিকে সায়েন্স ফিকশন ট্যাগ দেয়ার কারণ খুব সম্ভবত এই জঁরার লেখিকা হিসেবে তানজিনা হোসেনের উত্থান। বইয়ে চমৎকারভাবে কাহিনীর বর্ণনা করা হয়েছে। তিব্বতী মিথ, পোভা আর্ট, মডার্ন ও কনটেম্পোরারি আর্ট, স্ট্যান্ডহাল/ ফ্লোরেন্স সিনড্রম নিয়ে লেখিকা বেশ ভালো রকম গবেষণা করেই বইটা লিখেছেন। এই ছাপটা লেখায় পেয়ে ভালো লেগেছে। লেখা খুবই ঝরঝরে। মাত্র ১০৪ পৃষ্ঠার পকেট বই, ঘন্টাখানেকের মধ্যে শেষ হয়ে যায়; কিন্তু পাঠকের তৃষ্ণা মেটে না। চরিত্র হিসেবে সোহা চৌধুরি, মৃত জেরল্ড চৌধুরি, তাদের ছেলে জোজো, ডাক্তার শ্যামল দেবনাথ, গুলশান থানার এডিসি লোকমান হোসেন, আর্ট এপ্রিশিয়েটর হাসনাত রুমি সবাইকেই দেওয়া হয়েছে যথেষ্ট এক্সপোজার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। বইয়ের মধ্যে থাকা পরপর টুইস্টগুলো বেশ চিত্তাকর্ষক। সমাপ্তিও আমার মতে বাস্তবিক ও সুন্দরভাবে করা। অল্প সময়ে ভালো একটি বই পড়তে চাইলে ফুসিয়া হাউস হাতে তুলে নেওয়া যায়।
নাম: ফুসিয়া হাউস লেখিকা: তানজিনা হোসেন প্রকাশনা: বাতিঘর প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পৃষ্ঠা: ১০৩ মান: ৩.৫/৫.০ ধরন: ফিকশন
সায়েন্স ফিকশন লেখা আছে বইয়ের মলাটের উপর। পিছনের উপসংহারেও লেখা সায়েন্স ফিকশন যদিও বিজ্ঞানের জটিল ব্যাখ্যা থেকে রহস্য - রোমাঞ্চ বেশি। প্রচ্ছদের ভাললাগা ও পিছনের উপসংহার এবং নতুন লেখিকা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে দেখে ক্রয়কৃত বই পড়ার পর আমি আসলে সন্দিহান আমি কি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কাকে বলে সেটা বুঝি না নাকি লেখিকা ও প্রকাশক বুঝে না। আমি পাঠক ও জ্ঞান খুবই সামান্য। এই সামান্য জ্ঞানে এই গল্পকে কোনোভাবেই সায়েন্স ফিকশন বলা যায় না। গল্পটিকে বরং ফিকশন বা স্পিরিচুয়াল ফিকশন বলা যায়।
তবে বইটিকে যদি ফিকশন হিসেবে পড়েন তাহলে এটি একটু ব্যতিক্রমী একটি থ্রিলার বই। তবে গল্পের দৈর্ঘ্য খুবই ছোট। একটি আর্ট সংগ্ৰাহকের মৃত্যু নিয়ে কাহিনী এগিয়ে চলে। পুরো বইয়ে বিভিন্ন আর্টের টাইপ সম্পর্কে জানা যায়। লেখিকার লেখনশৈলী যথেষ্ট ভালো। আমার মনে হয় উনি আর একটু দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের লেখা লিখতে পারেন। বইয়ের ফুসিয়া হাউসের যে বর্ণনা দিয়েছেন বাস্তবে থাকলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতাম একবার ঘুরে আসার। যা বলছিলাম আর্ট সংগ্ৰাহকের মৃত্যুর তদন্ত একসময় পরিচয় করিয়ে তিব্বতের এক ভিন্ন ধর্মী অতি প্রাকৃত আর্টের সাথে যার কারণে শুধু আর্ট সংগ্ৰাহক নয় আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এই গল্পটির চরিত্রগুলোকে লেখিক চাইলে আরো গভীর ভাবে ফুটিয়ে তুলে পূর্ণাঙ্গ থ্রিলারে রুপান্তরিত করে ফেলতে পারতেন। তবে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয় সাধারণ ফিকশন হিসেবে বইটি পড়তে পারেন। #ধূসরকল্পনা
অব্যক্ত কিংবা অপরিনত ভালবাসার যন্ত্রণা মাঝে মাঝে এসে কাউকে নিঃশেষ করে দিতে পারে, বহু বছর পর হলেও। কেউ বেছে নিতে পারে স্বেচ্ছা নির্বাসন, কেউ বা মৃত্যু। ফুসিয়া হাউস এমন এক গল্প। ছোট, মাত্র ১০৪ পেজে ক্রাইম, আর্ট, মিস্টিসিজম, বিজ্ঞান, মিথ,মনস্তত্ত্বের মিশেলে দেশের অন্যতম ধনী পরিবারের করুন পরিনিতি একেছেন লেখিকা। সবচেয়ে চমৎকার ছিল লেখিকার লিখনশৈলী। ভীষণ উপভোগ করেছি। নেপালি চিত্রকলা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি এই বইটা থেকে। শুধু বইটা কেন সাইন্স ফিকশান বলে দাবি করা হয়েছে সেটা বুঝে উঠতে পারলাম, বোধহয় আমার পাঠকসত্তার ব্যর্থতা। লেখিকার বাকি বইগুলাও যোগার করে পড়তে হবে।
গল্পের প্লট খুবই কৌতুহলী। এক নিশ্বাসে বই শেষ করে দেওয়া যায়। তাছাড়া মেদহীন বই হলেও সায়েন্স, মিথ এবং হিউম্যান সাইকোলজির মত বিষয়গুলো চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। গল্পটাতে আরও উপাদান যোগ করে ডালপালা মেলানোর সুযোগ ছিল। তবে লেখিকা যতটুকু চেয়েছেন, সেদিক থেকে বইটা ঠিকঠাক। খারাপ বলার কোন সুযোগ নেই।
তবে সাইন্স ফিকশন বললেও, এ জনরাতে 'ফুসিয়া হাউজ'কে ফেলতে পারলাম না। বইটা পুরোদমে হালকা রহস্যে মোড়ানো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।
লেখনশৈলী ঝরঝরে, একটা পড়ে যাওয়া যায়। প্লটটাও আকর্ষণীয় ছিল কিন্তু শেষটা প্রেডিক্টেবল আর ভীষণ সাদামাটা। চিত্রকলা সংক্রান্ত কিছুমিছু জ্ঞান অর্জিত হলো- এতটুকুই পাওনা। সায়েন্স ফিকশন কী বুঝে বলা হলো প্রকাশনীর তরফ থেকে তা ঠিক ধরতে পারলাম না। সাইকোলজি আর আধ চিমটি ফ্যান্টাসির মিশেল বলা যেতে পারে। মাস্টরিড কোনো বই না। হাতে অতিরিক্ত সময় থাকলে, ঢাকা শহরের জ্যামে আটকে থাকলে কিংবা হালকা ধাঁচের কিছু পড়তে চাইলে হাতে তুলে নিতে পারেন। নইলে রিকমেন্ড করব না।
এক বসায় পড়ে ফেলবার মতো একটা ইন্টারেস্টিং থ্রিলার বই। ছোট বই হলেও ভেতরে অনেক উপাদান আছে। আর্ট এবং থ্রিল মিলে এক জম্পেশ জিনিস। তবে কিছু অংশে মেডিক্যাল টার্মগুলোর অপ্রয়োজনীয় আধিক্য অনুভূত হয়েছে। সেটা হয়তো লেখিকার পেশার কারণে হতে পারে। আর যাই হোক, প্রচ্ছদটা অন্য লেভেলের সুন্দর! আর নামটাও ক্যাচি। সব মিলিয়ে লাইট রিডিং-এর জন্য ভালো একটা বই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, এটাকে সাই-ফাই জনরায় কেন ফেলা হয়েছে?!
সুখপাঠ্য নিঃসন্দেহে। প্লট খুব ভালো ছিল, পড়তে পড়তেই বইটি নিয়ে খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু শেষে গিয়ে কিছুটা আশাহত হলাম হুটহাট এন্ডিং দেখে, এন্ডিংটা আরো একটু গোছানো হওয়া সম্ভব ছিল। লেখিকার লেখার ধরণ বেশ সাবলীল, সুন্দর। কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় 'পশ' শব্দটির ব্যবহার বেমানান লেগেছে। আর আমার মতে বইটিকে কোনোভাবেই সায়েন্স ফিকশন জনরার বলা যায় না, সায়েন্স ফিকশন বলতে যা বুঝি তার কিছুই বইটিতে সেভাবে পাইনি।
ছোট্ট একটা বই। তবে খুব গোছালো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখবে। আর্ট সম্পর্কে একটা ভালো ব্রিফ দিবে, যেটা বোরিং হবে না পড়তে। এন্ডিং টা ভালো জায়গায় করেছেন। অবশ্য আমি চাচ্ছিলাম থ্রিলার এর মত বিশাল কোন টুইস্ট থাকবে শেষে।
তবে আর সব পাঠকদের মত আমারও এক প্রশ্ন - কোন এঙ্গেল থেকে এটা সায়েন্স ফিকশন মনে হয় ভাই?
এইতো, কেবল গত সপ্তাহে ইউথেনিশিয়া নিয়ে আলাপ হচ্ছিল, তাই শেষটা অনুমান করতে বিশেষ কষ্ট হয়নি। লেখনি বেশ আরামদায়ক, আর্ট নিয়ে খানিক পড়াশুনা করেই লিখতে বসেছেন বলে মনে হলো। আমার সবচে' ভালো লেগেছে জাপানিক আর্টিস্টকে নিয়ে লেখা চ্যাপ্টারটা। সায়েন্স বিনে সায়েন্স ফিকশন, তবে থ্রিলার হিসেবে ভালোই। এখন ফুশিয়া দেখতে নেপাল যেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
অনেক দিন পর একটু অন্য টাইপের বই পড়লাম। খুবই ছোট বই হওয়ায় ১ দিনের বেশি লাগেনি শেষ করতে।গল্পের প্লট,লেখিকার লেখনী সবই এতো বেশি সুন্দর লেগেছে। ফুসিয়া নামের যে এতো সুন্দর একটা ফুল আছে তাও জানতে পারলাম এই বইটা পড়ে,এছাড়াও অনেক নতুন তথ্য পেলাম। থ্রিলার তো অনেকই পড়া হয় এটা একটু আলাদা ছিল। সবার জন্য রেকমেন্ডেড🙌🏼
খুব সুন্দর সাবলীল লিখতে পারা একজন নতুন লেখিকার লেখার সাথে পরিচয় হলো! এক নিমিষে পড়ে ফেলার মতো বই পাওয়া তো খুব সহজ না! আগ্রহ ধরে রেখেছেন। ছোট্ট একটা বই, সাথে সুন্দর প্রচ্ছদ - ফুসিয়া হাউস