রাত্রিবেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে, ঘরের একটি অন্ধকার কোণের দিকে চোখ যেতে কখনো অকারণেই গা শিরশির করে উঠেছে? আপনারই পরিচিত ঘর, তবুও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে চেনা জগৎটাই হয়ে যেতে পারে অচেনা। অনেকে বলে অজানার ভয়ই মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। কিন্তু অজানার ভয়ের চেয়েও ভীতিকর কী? যখন আপনার চেনা জগৎটাই হয়ে ওঠে অজানা। পার্থিব এই জগতেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মাঝে মাঝে হস্তক্ষেপ করে কিছু ব্যাখ্যাতীত… কিছু অপার্থিব। সেই রকম ১৭-টি ছোটো-বড়ো অপার্থিবের কাহিনি নিয়ে এই সংকলন। ১) বাঁশে যখন ফুল ধরে ২) দাফন বিধি ৩) একটি দাঁতের জন্য ৪) বেড়াল প্রহরী ৫) লাশঘর ৬) আমার একটুকরো নরকে ৭) পারফিউম ৮) ওরা চেয়ে থাকে ৯) ছোপ ১০) ভয়ের গল্প লিখতে হলে ১১) শেষ রাতের কল ১২) গুম মশান ১৩) সমাধিকক্ষ অন্ধকার ১৪) উইশিং ওয়েল ১৫) তৃতীয় ড্রয়ার ১৬) আগুন ঘিরে পাঁচজন ১৭) রাহিল - The Story of Edxodus অপার্থিব (১৭-টি অতিপ্রাকৃতের কাহিনী) লেখক - অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী দাম - ৩৪৯/- (349/-) প্রকাশক - বুক ফার্ম *********************** প্রচ্ছদ - অর্ক চক্রবর্তী অলংকরণ - শান্তনু মিত্র
Dr. Abhigyan Ganguly holds a PhD degree in Nano-Electronics, while taking time out of his busy schedule to write a little and read a lot more. His first solo book "Hatyashastra" was published in 2022, which is a historical/detective fiction in Bengali and was an instant hit among Bengali readers.
মোট সতেরোটি কাহিনি আছে এই সুমুদ্রিত, পরিচ্ছন্নভাবে অলংকৃত হার্ডকভারে। প্রত্যেকটিই সুপাঠ্য এবং বাজারের আর পাঁচটি অলৌকিক আখ্যানের তুলনায় সামান্য হলেও ভিন্ন মাত্রার। এরা পরিচ্ছন্ন, গতিময়, এবং পাঠককে গল্প শোনাতেই সংকল্পবদ্ধ। বইয়ের মাত্র একটিই গল্পে লেখক কিছুটা হলেও নিজস্ব ভাবনাকে ব্যক্ত করেছেন। ঘটনাচক্রে সেটি— এই বইয়ের শেষতম কাহিনিটি— আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। অলৌকিক কাহিনির অনুরাগী হলে এই বইটিকে অতি অবশ্যই পড়তে বলব।
সবগুলো গল্পই অতিপ্রাকৃত। সর্বমোট ১৭টা গল্পের মধ্যে লাশঘর, গুম মশান, আগুন ঘিরে পাচজন আর রাহিল- The Story of Exodus এ কয়টাই খানিকটা ভাল লাগল। তবে খুব একটা ভয় পাইনি। সময়টা কাটল আরকি। তবে লেখার ফিউচার প্রসপেক্ট আমার কাছে বেশ ভালই মনে হল। হয়ত অন্যকোন বই খুব ভাল্লাগবে।
রাজারহাট বইমেলার শেষ হওয়ার দুদিন আগে থেকেই শরীর বিশেষ ভালো যাচ্ছিল না। বইমেলার শেষ দিন জ্বরে পড়লাম, সাথে প্রচন্ড কাশি এবং গলা ব্যথা। এমন শরীর খারাপ হল যে মেলার মাঝখানে বাড়ি ফিরে আসতে হল। রাতের বেলা ওষুধ খেয়ে কম্বলমুড়ি দিয়ে ভাবলাম একটা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়বো। আমার আবার যখন জ্বর হয় তখন বেশি গুরুগম্ভীর বই ভালো লাগে না। শীতের রাত,জ্বর জ্বর ভাব, এই অবস্থায় ভৌতিক গল্প জমে যায়। ঠিক একদিন আগে বুক ফার্ম থেকে বেরিয়েছে "অপার্থিব", লেখকের আগের বই "হত্যাশাস্ত্র" ২০২২ এর সারপ্রাইজ হিট, তাই এই বই নিয়ে পাঠক এবং প্রকাশক দুপক্ষের প্রত্যাশা ছিল চরমে।
বইটি ১৭ টি ছোট বড় ভৌতিক এবং অপার্থিব গল্পের সংকলন। প্রথমেই যে ব্যাপারটি ভালো লেগেছে সেটি হল তথাকথিত তন্ত্র-মন্ত্র বাদ দিয়ে লেখক সব রকমের ভৌতিক আখ্যান এই বইতে রেখেছেন, গোটা সংকলনে তন্ত্র মন্ত্রের গল্প মাত্র একটি। আমার যে গল্পগুলি ভালো লেগেছে সেগুলো নিয়ে ভালোলাগার ক্রমানুসারে আলোচনা করব।
রাহিল the story of exodus - সম্ভবত বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প। মোজেস এর গল্পের সমান্তরালে বর্তমান সময়ের পটভূমিতে এক সাধারণ মানুষের অবতার হয়ে ওঠার আখ্যান, সাথে একটু অলৌকিকতার ছোঁয়া। অসাধারণ। গল্পের মোচড় কিন্তু একদম লাস্টে গিয়ে। বেশ লেগেছে।
ছোপ - আমরা যারা বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়েছি, তারা জানি যে স্কুলের ওই বিশাল পুরোনো বিল্ডিংয়ের আনাচে কানাচে অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকে। সেরকম একটুকরো রহস্য, বা এক ছোপ রহস্য লেখক তুলে এনেছেন এই গল্পে। ভয় লাগা গ্যারান্টেড।
লাশঘর - মর্গ বা লাশঘর নিয়ে ভৌতিক গল্পের অভাব নেই, কিন্তু এই গল্পে লেখক একধরনের ক্যাজুয়াল এটমসফেরিকাল হরর নিয়ে এসেছেন, যা রাতে পড়লে ভয় লাগা স্বাভাবিক।
আগুন ঘিরে পাঁচজন - পাহাড়ে বা জঙ্গলে গিয়ে কতবার আমরা ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে ভৌতিক গল্প করেছি আমি নিজেই ভুলে গেছি। কিন্তু গল্পটা যেখানে হচ্ছে সেই জায়গাটাই যদি ভৌতিক হয়?? বিশ্বাস করুন এই গল্পের শেষে আমার নিজের হার্ট বিট বেড়ে গেছিল। কেন?? জানতে হলে পড়তে হবে।
গুম মশান - এই সংকলনের একমাত্র অকাল্ট হরর। গল্পের ছক খুব চেনা খাতে বইলেও, গল্পের শেষে যখন দেখেন যে গল্পে বর্ণিত তান্ত্রিক ক্রিয়ার বাস্তবে অস্তিত্ব আছে তখন কি ভয় না পেয়ে থাকা যায় ??
ওরা চেয়ে থাকে - জুনজি ইটোর একটা ক্লাসিক ভয়ের গল্পের দেশীয় ট্রিট। গল্পের শেষটা চমকে দিতে বাধ্য।
দাফন বিধি/বেড়াল প্রহরী/উইশিং ওয়েল - স্টিফেন কিং এর পেট সেমেটারি মনে পড়ে যায়। কিন্তু দাফন বিধিতে পরিবারটি অভিশপ্ত কেন হলো তার ব্যাখ্যা একটু দুর্বল মনে হলো। উইশিং ওয়েল এর শেষের টুইস্ট টা মারাত্মক কিন্তু ওখানেও কুয়োর ব্যাকস্টোরি দিলে ভালো লাগতো।
একটি দাঁতের জন্যে - একটি এস্টাবলিশড ঐতিহাসিক সত্য কে নিয়ে রিভার্স টেলিং। অলৌকিকতা আছে, ভয় নেই।
পারফিউম - সমনামি এক ফ্রেঞ্চ সিনেমার ঘটনাটির অলৌকিক বর্ণন। শেষ বছর অলোক সান্যাল এর ঈশ্বরের গন্ধ গল্পটিও সেম প্লট লাইনের ওপর ছিল। মতামত ব্যক্তিগত।
বাকি গল্পগুলিও ভালো, তবে এরকম আগেও পড়েছি জাতীয় একটা ফিল আসে। কিন্তু ওই যে বললাম কম্বল মুড়ি দিয়ে এই বইটি একদম খাসা সঙ্গী।
একদম আশেপাশের উপাদান নিয়ে যখন কোনো গল্প বলা হয়, তখন সেই গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেড়ে যায়, আর সেটা ভয়ের গল্প হলে তো কথাই নেই। পুরোনো দিনের বাংলা মিডিয়াম স্কুলের স্যাঁতস্যাতে ক্লাসরুম, শহরতলীর ছোট্ট হাসপাতাল বিল্ডিং এর পেছনে আরও ছোট এক মর্গ, বা পাহাড় ঘেঁষা এক শহরে কয়েকটি বন্ধুর রাত্রি অভিযান, এগুলো ভীষণ চেনা জানা দৃশ্য বা পরিস্থিতি। সেই উপাদান থেকে যখন ভয় বেরিয়ে আসে তখন পাঠকের মনে ভয় ধরতে বাধ্য। আর এখানেই লেখকের কামাল। এছাড়া দুটো ব্যাপার বলতেই হয়। বইটিতে হোমাজের ছড়াছড়ি। স্টিফেন কিং, জুনজি ইটো, হয়তো বা কিছুটা পো এবং লাভক্রাফট। মানে আমাদের মত ভৌতিক ঘরানার ভক্তদের জন্যে একদম লোভনীয় ব্যাপার। আর দ্বিতীয়ত গল্পগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকলেও, এটা বলতেই হবে যে প্রত্যেকটি গল্পে লেখক নিজেকে ভেঙেছেন এবং এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। কজনের আর সদিচ্ছা থাকে যে প্রত্যেকটি গল্পের শুরুতে একটি কৈফিয়ত দেওয়ার।
অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর ' অপার্থিব ' পড়ার ইচ্ছেটা দমন করে রাখা গেলনা.. শেষমেশ পড়েই ফেললাম। অনেকদিন পর 'occult genre' এর এত ভালো একটা বইয়ের সাথে সময় কাটানো গেল। রাতের অন্ধকারে চেয়ারে স্তূপীকৃত কাপড়গুলোকে কেউ বসে আছে ভেবে ভুল করেছে হয়তো সকলেই। সবই পরিচিত.. কিন্তু কতটা অচেনা হয়ে ওঠে ওই চেনা জগৎ টাও তাইনা? আর পার্থিব জগতে চেনা জিনিসের হঠাৎ অচেনা হয়ে ওঠার ভয়টাই বোধহয় সবচেয়ে ভীতিকর। সব মিলিয়ে ১৭ টি ছোট বড় গল্প নিয়ে এই বই। বইয়ে আমার পছন্দের গল্পগুলো - ছোপ, ভয়ের গল্প লিখতে হলে, গুম মশান, তৃতীয় ড্রয়ার, উইশিং ওয়েল আর আমার এক টুকরো নরকে। অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর লেখনী তো অনবদ্য সঙ্গে খেয়াল করলাম প্রতিটা গল্পের শুরুতে ছোট ছোট কিছু প্রাক - কথন। সব মিলিয়ে ৪.৫/৫ আমার তরফ থেকে✨।।(৪.৫ দেবার সুযোগ নেই বলে কমিয়ে ৪ দেবার অপরাধটুকু করতে মন চাইল না 😅)।
অলৌকিক বিষয়ের উপর লেখা ১৭ টি ছোটো বড়ো গল্প সংকলন 'অপার্থিব' পড়লাম। যদিও এই সাবজেক্টের উপর লেখালেখি প্রচুর রয়েছে। নিজেও বেশ কিছু পড়েছি। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে এই ঘরানায় অন্যরকম কিছু লেখা চ্যালেঞ্জিং বলেই মনে হয়। তবে লেখক এখানে প্রায় প��রতিটি গল্পকেই এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে পড়তে বেশ ভালো লেগেছে। অলৌকিক গল্পে পাঠক সাধারণত যেটা চায় ভৌতিক আবহ বা ভয়ের পরিবেশের সৃষ্টি সেটা বেশ ভালোভাবেই পাওয়া যায়। আমার কাছে অবশ্য বেশ কিছু প্লট নতুন মনে হয়েছে।প্রতিটি গল্প শুরুর আগে লেখক দুই তিন লাইনে ঐ গল্পটি লেখার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছেন বা কিভাবে প্লট তৈরী করেছেন সেই সম্পর্কে লিখেছেন এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
বইতে ১৭টি গল্পের বিষয়বস্তু আলাদা , একে অপরের সাথে কোনো মিল নেই। 'বাঁশে যখন ফুল ধরে','সমাধিকক্ষ অন্ধকার ', শেষ রাতের কল, তৃতীয় ড্রয়ার ভালো লেগেছে। 'দা ফন বিধি', 'লা শ ঘর', 'ওরা চেয়ে থাকে', 'ছোপ' ,'ভয়ের গল্প লিখতে হলে',বেড়াল প্রহরী, 'আমার একটুকরো নরকে' গল্পগুলি দারুন ও এগুলির প্লট কিছুটা অন্যরকম মনে হয়েছে।
'আগুন ঘিরে পাঁচজন' - গল্পটি ভালো তবে প্রেডিক্টেবেল মনে হয়েছে আমার কাছে। গুম মশান- তন্ত্র বিষয়ক হরর গল্প ঠিকঠাক লেগেছে,আসলে এই বিষয়টি এখন খুব কমন হয়ে গেছে তাই আর আলাদা করে কিছু বলার নেই 'পারফিউম' ও ' একটি দাঁতের জন্য' গল্প দুটি আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। মোটামুটি লেগেছে।
বই এর সবথেকে সেরা গল্প 'রাহিল- The story of exodus' প্রাচীন কালের একটা পরিচিত কাহিনি মোজেস আর বর্তমান সময়কে সমান্তরাল ভাবে রেখে এই গল্প নির্মাণ করা হয়েছে। না সেভাবে কোনো ভয়ের অনুভূতি এই গল্পে নেই কিন্তু অপার্থিব শক্তি ও নির্ভেজাল ভালোবাসার কথা রয়েছে। বড্ড ভালো লেগেছে পড়ে । যাকে বলা যায় cherry on the top.
মোটের উপর সুন্দর ও সহজ লেখনী। বেশীরভাগ গল্পই উপভোগ করেছি।তবে কিছু গল্প আরো কিছুটা বড় করা যেত বলে মনে হলো ,তাতে আরো গভীরভাবে অপার্থিব অনুভব করা যেত।
বুক ফার্মের বই এর প্রোডাকশন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। It is excellent । বইএর প্রচ্ছদটি অপূর্ব হয়েছে।বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রচ্ছদ চিত্র ও রঙ ভয়ের পরিবেশ নির্মাণ করেছে ভালোভাবেই। ভেতরে বেশ কিছু অলংকরণ রয়েছে। ফন্ট সাইজ পড়বার পক্ষে উপযুক্ত। তবে দুই তিনটি জায়গায় বানান ভুল দেখেছি।
যারা অলৌকিক গল্প পড়তে পছন্দ করেন তারা পড়ে দেখতে পারেন এই বইটি । নিঃসন্দেহে এখনকার সময়ে লেখা একটি ভালো অলৌকিক গল্প সংকলন।
Welcome to the world of supernatural ...a collection that explores all the avenues of horror ...and also has wonderful surprise at the end...a modern day retelling of a famous episode in history of mankind ...from a quite village in rural bengal to an unnamed village in Arabian peninsula..this is quite a journey...try it ...u won't be disappointed
"অপার্থিব" নামটাই যেন রহস্যে ঘেরা। অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর লেখা এই বইটা একবার পড়া শুরু করলে মন চায় না থামতে। গল্পটা এমনভাবে এগোয়, যেন ধীরে ধীরে একটা অজানা দুনিয়ায় চলে যাচ্ছি।
ভাষা খুবই সহজ, সাবলীল। গল্প বলার ধরনটা এত সুন্দর যে মনে হয় পাশে বসে কেউ গল্প শোনাচ্ছে। চরিত্রগুলো খুব বাস্তব আর বিশ্বাসযোগ্য—তাদের ভয়, চিন্তা, অনুভূতিগুলো মনে গভীর ছাপ ফেলে।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে বইটার পরিবেশ তৈরি করার ক্ষমতা। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি যেন সেই জায়গাতেই আছি—অন্ধকারে, অজানার সামনে, শ্বাস আটকে রাখা এক রহস্যময় জগতে। গল্পটি এমন এক অজানা জগতের দরজা খুলে দেয়, যেখানে বাস্তব আর পরাবাস্তব একসাথে মিলেমিশে যায়। লেখক খুব সাবলীলভাবে আমাদের নিয়ে গেছেন এক গা ছমছমে যাত্রায়। কোথাও বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোথাও অতিরিক্ত সংযমও না। ধীরে ধীরে গল্পটি খুলে যায়, ঠিক যেমন রাত্রির অন্ধকারে একে একে জ্বলে ওঠে আলো। গল্পের প্লট এমনভাবে গড়া, যা পাঠককে প্রথম পাতাতেই টেনে নেয়, আর শেষ পাতা পর্যন্ত ধরে রাখে। পাঠ করার সময় মনে হয় যেন কোনো সিনেমা দেখছি—চরিত্রগুলো চোখের সামনে ঘোরে, দৃশ্যগুলো যেন বাস্তব হয়ে ওঠে। এই বই শুধু একটা ভৌতিক গল্প নয়, বরং জীবনের কিছু গভীর অনুভূতির ছোঁয়াও আছে। মাঝে মাঝে গল্পটা প্রশ্ন তোলে—আমরা যা দেখি, সেটাই কি সত্যি? "অপার্থিব" একটা অসাধারণ বই। যারা বাংলা সাহিত্যে একটু অন্যরকম কিছু খুঁজছেন—যেখানে রহস্য আছে, ভাবনার খোরাক আছে, আর একটা ভালো লেখা পড়ার আনন্দ আছে—তাদের জন্য এই বইটা একেবারে উপযুক্ত। অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর লেখা মন ছুঁয়ে যায়।
এইমাত্র পড়া শেষ করলাম বিশিষ্ট লেখক অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর নব্য প্রকাশিত একটি ভয়ের গল্পসংকলন "অপার্থিব"। বইটা পড়ার ইচ্ছা সেই প্রকাশের সময়কাল থেকেই ছিল । তাই অবশেষে যখন হাতে পেলাম তখন বহু ব্যস্ততার মধ্যেও বইটা পড়া থেকে নিজেকে আটকাতে পারিনি। এর একটা কারণ অবশ্যই লেখকের পূর্ববর্তী বই "হত্যাশাস্ত্র", ওই বইটা পড়ে আমার অসাধারণ লেগেছিলো এবং সেই থেকে লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য যথারীতি মুখিয়ে ছিলাম। তাই এই বই যে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছি সেটা বলাই বাহুল্য।
দেখুন, ভৌতিক গল্প পড়ে মনের মধ্যে এখন আর ততটা ভয়ের উদ্রেক বা উত্তেজনা অনুভূত হয়না। আমার পড়া এমন খুব কম লেখকই আছেন যাঁদের লেখা পড়ে সত্যিকারের ভয় আমি অনুভব করতে সমর্থ হয়েছি। বেশিরভাগ ভূতের গল্পই একঘেয়ে এবং চিরাচরিত ধাঁচে লেখা। তাছাড়া ক্লাইম্যাক্সও অনেকাংশেই প্রেডিক্টেবল। আমার মতে ভৌতিক গল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভালো স্টোরিটেলিং, আবহ তৈরী এবং প্লটের নতুনত্ব। আবার অনেক ক্ষেত্রে লেখক আপাত দৃষ্টিতে অত্যন্ত সাধারণ এবং চিরচেনা ঘটনার সামঞ্জস্যেও অসাধারণ গল্প সৃষ্টি করতে সমর্থ হন। আমি বিশেষত ভৌতিক বা ডার্ক গল্পগুলো রাতেই পড়ি, যাতে আরও ভালোভাবে অনুভব করতে পারি সবটা। এই বইয়ের গল্প গুলোও কয়েকদিন রাত জেগেই পড়ে শেষ করেছি।
এই বইয়ের সব গল্প গুলোর মধ্যেই কম-বেশি প্লটের নতুনত্ব লক্ষ্য করা যায়। এজন্য লেখকের কল্পনা শক্তিকে আমার কুর্নিশ জানাই। বইয়ে বেশ কিছু গল্প আছে যেগুলো পড়ে শিরদাঁড়া বেয়ে এক অচেনা হিমেল স্রোত বয়ে গেছে এবং আমি যারপরনাই স্তম্ভিত হয়েছি গল্পগুলো শেষ করে। আবার এমনও দু-একটা গল্প আছে যেগুলো আমার মোটামুটি গতানুগতিকই লেগেছে। এখানে আমার ভালোলাগা কয়েকটা গল্প সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করলাম। যেহুতু এগুলো ছোটোগল্প, তাই বেশি বললে স্পয়লারের একটা ভয় থেকেই যায়।
বইটিতে স্থান পেয়েছে মোট ১৭ টি অপার্থিব ভয়ের গল্প....
🍁 বাঁশে যখন ফুল ধরে :- এটি বইয়ের প্রথম গল্প এবং লেখক প্রথম বলেই ছক্কা হাকিয়েছেন। পঞ্চতন্ত্রের গল্প তো আমরা কমবেশি সকলেই ছোটোবেলায় পড়েছি। এই গল্পটা আমাদের সকলেরই চেনা একটি নীতিকথার গল্পের আদলে লেখা ভৌতিক গল্প। এই থিমে ভৌতিক গল্প লেখা যে আদৌ সম্ভব আমি আগে সত্যিই জানতাম না । তবে গল্পটা পড়া শেষ করে রীতিমতো চমকে গেছি! কী অসাধারণ কল্পনা শক্তি লেখক মশায়ের।
🍁 দাফন বিধি :- এই গল্পটা অনেকেই অডিও স্টোরি চ্যানেলে শুনেছেন হয়তো । আমরা সকলেই জানি যে ইসলাম ধর্মে মৃত্যুর পর দাফন করা হয় বা কবর দেওয়া হয়। কিন্তু রফিকদের পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী ওদের পরিবারের প্রত্যেক জেষ্ঠ পুত্রকে মাটির নিচে উল্টো করে শুইয়ে কবর দেওয়া হয়। এবং এই রীতি রফিকদের পরিবারে বংশানুক্রমিক ভাবে চলে আসছে। কিন্তু কী কারণ আছে এই আজব রীতির পিছনে ?
এই গল্পটা বাস্তবিক অর্থেই অসাধারণ । প্লটটাও মরাত্মক।
🍁 লাশঘর :- ধরুন, আপনি কোনো মর্গে ওয়াচম্যানের দায়িত্বে আছেন। আপনি যখন রাতের বেলা সেই জনশূন্য মর্গে বসে ডিউটি করছেন সেই সময় মর্গের ভিতর থেকে তীব্র হৃদয় বিদারী চিৎকার ভেসে আসছে! আপনি তো জানেন যে মর্গের তালা বন্ধ ঘরে কোনো জীবিত মানুষের চিন্হ অবধি নেই, যারা আছে তারা সবাই মৃত লাশ! তাহলে এই নৃশংস চিৎকার কারা করছে? এই অবস্থায় আপনি কী করবেন?
এই গল্পটাও দারুণ লেগেছে। বেশ গা ছমছম করছিলো।
🍁 ভয়ের গল্প লিখতে হলে :- সুনির্মল লেখক হতে চাই। সে লিখতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু ওর লেখার হাত মোটামুটি হলেও ও গল্পগুলোকে ঠিকভাবে দাঁড় করাতে পারে না। তাই সব প্রকাশকই ওর লেখা নিজেদের সংকলন বা পত্রিকাতে ছাপাতে নাকচ করে দেয়। সুনির্মলের প্ৰিয় লেখক হলেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি ভৌতিক সাহিত্যের একজন নাম করা লেখক। কীভাবে ভালো ভৌতিক গল্প লিখতে হয় সেই সম্পর্কে কিছু ধারণা নেওয়ার জন্য সুনির্মল গিয়ে পৌঁছয় প্রতাপ বাবুর বাড়িতে। কিন্তু প্রতাপবাবুর মুখে তাঁর ভৌতিক গল্প লেখার পিছনের কিছু আশ্চর্য ঘটনা শুনে সে রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। কী এমন বলেছিলেন প্রতাপ বাবু?
এই গল্পটা সেরা লেগেছে। শেষটা ভীষণ আনপ্রেডিক্টেবল ছিল।
🍁 তৃতীয় ড্রয়ার :- একজন উকিল পদোন্নতির লোভে এক নিষ্পাপ রেপ ভিকটিম কিশোরী কে মিথ্যে করে ফাঁসিয়ে নিজে কেসটি জিতে যায়। এর ফলস্বরূপ তার পদোন্নতি হয়েছিল কিন্তু তারপর থেকে সেই উকিলের সাথে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে । তার অফিসের ড্রয়ারে সে শুনতে পায় এক মানুষের চিৎকারের আওয়াজ। শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?
এটি একটি অসাধারণ সাইকোলজিক্যাল হরর গল্প। এক কথায় অনবদ্য। শেষের চমকটা মারাত্মক ছিল।
🍁 আগুন ঘিরে পাঁচজন :- এক পাহাড়ের ওপরে পাঁচজন বন্ধু মিলে রাতের বেলা কাঠের আগুন ঘিরে বসে একে একে শোনাতে থাকে সেই পাহাড় সম্পর্কেই তাদের জানা একটি করে ভৌতিক বা অবিশ্বাস্য গল্প। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়েছিল ?
এই গল্পটাও অসাধারণ লেগেছে। বিশেষ করে শেষটার জন্য আমি একেবারেই তৈরী ছিলাম না।
🍁 রাহিল - The story of Exodus :- এই গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে। সংকলনের সেরা একটা গল্প। এটা দুটো গল্পের সমান্তরাল একটা অলৌকিকের অন্যটা বাস্তবের গল্প। একটা হচ্ছে বাইবেলের পাতায় লেখা বহু প্রাচীন একটি কাহিনী এবং অন্যটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এক ঘটনা। এই গল্পে ফুটে উঠেছে অহংকার ও বিশ্বাসের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা ও মনুষ্যত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এই গল্পে লেখক দেখিয়েছেন প্রকৃত বিশ্বাস, অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেয়।
এছাড়াও বইয়ের বাকি গল্পগুলোও আমার মোটামুটি ভালোই লেগেছে। তবে এতো ক্ষুদ্র পরিসরে সব গুলোর জিস্ট তুলে দিতে পারলাম না।
▪️ প্রথমেই বলব, লেখকের লিখনশৈলী সত্যিই অপূর্ব। "হত্যাশাস্ত্র" পড়েই ওঁর লেখার প্রতি আকর্ষিত হয়েছিলাম প্রথম। এই সংকলনেও লেখক ওঁর কলমের গুণে আমার মন পুনরায় জয় করেছেন। তাছাড়া অভিজ্ঞান বাবুর বাক্যগঠন আমার অন্যদের চেয়ে বেশ আলাদা ধরণের লাগে। সহজ-সরল শব্দের সাহায্যে খুব সুন্দর বাক্যগঠন করেন। এবং ওঁর বর্ণনা ক্ষমতাও প্রশংসাযোগ্য।
▪️ ভৌতিক আবহে, প্লটের অভিনবত্বে এবং সূচারু বাক্যগঠনে সংকলনের সব গল্পগুলোই পাঠকের মনে দাগ কাটতে সমর্থ্য হবে আশা করি। তবে দু-একটা গল্প আমার একটু গতানুগতিকই লেগেছে।
▪️কয়েকটা গল্প পড়লেই বুঝতে পারবেন অনেক রিসার্চ করেই লেখক গল্পগুলো লিখেছেন। তাছাড়া প্রতিটা গল্পের প্রথমেই উনি গল্পটার সম্মন্ধে বা গল্পের সৃষ্টি বিষয়ে সামান্য কিছু কথা লিখেছেন। যেগুলো পড়লে হয়তো গল্পটা পড়ার ইচ্ছা আরও কিছুটা বর্ধিত হবে।
▪️ বইয়ের প্রচ্ছদটা আমার দুর্দান্ত লেগেছে। বুকফার্মের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ ভালো। বইয়ে ব্যবহৃত অলংকরণ গুলোও সুন্দর। পৃষ্ঠা কোয়ালিটি ভালো এবং বাঁধাই খুব মজবুত। হাতে গোনা দু-একটা ছাড়া কোনো মুদ্রণ প্রমাদও চোখে পড়েনি।
🌿 যাইহোক, সবমিলিয়ে খুব ভালো একটা বই পড়ালাম। বইটার রেশ বহুদিন যাবৎ আমার মনে রয়ে যাবে। যাঁরা ভৌতিক এবং অন্ধকার গল্পপ্রেমী পাঠক, তাঁরা নিঃসন্দেহে এই বইটিকে হাতে তুলে নিন। আশা করি দুর্দান্ত লাগবে। অভিজ্ঞানবাবুর লেখার তো আমি সবসময়ই ফ্যান। এই বইটা পড়েও ভীষণ উপভোগ করলাম। এবার ওঁর পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় ইট পেতে বসে রইলাম। 😅 ভালো থাকবেন লেখকমশাই । আপনার কলম এভাবেই দুনির্বার গতিতে চলতে থাকুক। আপনারাও ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং অবশ্যই পাঠে থাকুন। ধন্যবাদ। ❤️🙏🏻
▪️পুনশ্চ :- বইটা আমার গার্লফ্রেন্ডের থেকে উপহার স্বরূপ পেয়েছি। তাই সবশেষে তারও একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য বৈকি। থ্যাংক ইউ ম্যাডাম। ❤️😄
তখন ইনভার্টার ছিলোনা, লোডশেডিং হলেই এক দাদার ভয় দেখানোর ঝোঁকটা বেড়ে যেতো, অস্বীকার করবো না সেই ক্লাস টু/থ্রীতে আচমকা অন্ধকারে 'ধাপ্পা..!' শোনায় তুমুল ভয় পেয়েছি। জ্বলন্ত টর্চের ডিসপ্লের ওপর আঙুল চেপে লালচে আলো ফেলে ভয় ভয় খেলতাম, কিন্তু সব খেলার বাইরে ছিল একটা বিশেষ খেলার জায়গা। দিনের বেলায় সে আমাদের বড্ডো চেনা কিন্তু ওই লোডশেডিংয়ের সময়টা যেন বাজে রকমের অচেনা হয়ে উঠতো। বাড়ির ছাদের একটা বিশেষ কোণ, বড় বয়স অবধিও গাঢ় আঁধারে তার দিকে তাকিয়ে কাউকে বসে থাকতেই দেখেছি। ভয়ের এই সংজ্ঞাগুলো অনেকদিন হলো হারিয়ে গেছে, এখনকার ফ্ল্যাটের ছাদে ওঠাও হয়না আর সবচেয়ে বড় কথা লোডশেডিংটাও হয়না। ফিরে পাওয়ার ইচ্ছেটা অবচেতনে ছিলই যা অনেকটা পূরণ করলো শ্রী অভিজ্ঞান গাঙ্গুলীর কলমে "অপার্থিব" কাহিনী সংকলন।
যেটা দিয়ে শুরু করলাম সেগুলো লেখক কোনো জাদুবলে জেনে ফেলেছিলেন কিনা জানা নেই, তাই তিনি সেই অন্ধকার কোণগুলোকেই বইটি উৎসর্গ করেছেন যার অভিনবত্ব আবারও মুগ্ধ করে। ভয়ের যাবতীয় ঘরানা জায়গা পেয়েছে এই বইয়ে, নিজের অপছন্দের হলেও tantrism কে রাখতেও লেখক কার্পণ্য করেননি। প্রতিটা কাহিনীর শুরুতে কিছুটা ধরতেই দিয়েছেন তিনি যার ফলে পাঠকের সাথে এনগেজমেন্ট শুরু থেকেই মজবুত হয়েছে। পাতাগুলোর আড়ালে যদি কেউ ভূত খোঁজেন, কঙ্কাল, স্কন্ধকাটা, এবং Ramsay Brothers জাত সবরকমের হরর কমেডি উপাদানের হদিস চান, এই বই তাদের জন্য একবারেই নয়। কিন্তু দুহাতে চোখদুটো আটকে রেখে আঙুলের ফাঁক দিয়ে কেউ যদি ওই দেওয়ালের ছোপটাকে দেখতে চান, ফায়ারপ্লেসের আগুনে কিছু কালো মুখ খুঁজতে চান, সমাধিগুলো আপনার দিকে ঘুরে তাকাচ্ছে কিনা তা উপলব্ধি করতে চান, তবে এই বই হাতে তুলে নিতেই পারেন। আসলে ভয়ও হয়তো এই বইয়ের নায়ক নয়, সে আছে এক বিশেষ পার্শ্ব চরিত্রে। মৃত্যুর সাথে যোগাযোগ না থাকা কিছু জিনিসও আপনার মধ্যে কম্পন ধরাবে, তা সে সাধের কোনো পারফিউমই হোক অথবা মর্গে কাটানো মুহূর্তগুলো, কিংবা আবার কোনো এক ইচ্ছেপূরণ কুয়ো। আগুনের ধারে গোল করে ভূতের গপ্পো শোনার ইচ্ছেও যদি বুড়ো বয়সে থাকে, সেই ব্যবস্থাও স্বমহিমায় বিরাজমান। ফলত ভয়ের মত ছোট্ট শব্দের মধ্যেও থাকা মোটামুটি দশ দিককেই ছুঁয়ে গেছেন লেখক।
কিছু ত্রুটি না বললেই নয়। "দাফন বিধি" কাহিনী বড্ডো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো যা আরেকটু জমতে পারতো। "আমার একটুকরো নরকে"র গঠন সুন্দর হলেও শেষটা অনেকটা আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল, তন্ত্র আশ্রয়ী কাহিনী "গুম মশান" এই গোত্রের অন্য কাহিনীর চেয়ে আলাদা লাগলেও কচ্চা কলুয়া কেন্দ্রিক আলোচনা আরেকটু অন্যভাবে এলে পারতো, ভাবনার তার তাউজিকে ফোন করার অংশ পাল্টাতে পারতো। এছাড়া কিছু ছাপার ভুল চোখে পড়লো যা পরবর্তী সংস্করণে শুধরে যাবে বলেই আশা রাখি। কাহিনীগুলো ভয়ের, ভূতের নয় কাজেই প্রচ্ছদে কঙ্কালের দুটো মুখ না থাকলেই পারতো, অন্ধকারকে আরেকটু খেলিয়ে তুলির টানে ফোটাতে পারতেন প্রচ্ছদ শিল্পী। বইয়ের হালকা গঠন, আরামদায়ক ফন্ট এবং মজবুত বাঁধাই বেশ ভালো। কিছু অলঙ্করণ বেশ ভালো তবে কিছু আরও ভালো হতে পারতো।
এবারে একটু আলোয় ফেরার পালা, পালা এই বইয়ে আমার পড়া শ্রেষ্ঠ কাহিনীর নাম নেওয়া, "রাহিল - The Story of Exodus"। আমাদের সবাই কোনো না কোনো ভাবে বাইরে জ্যাকব হয়ে বেঁচে আছি, অন্যায় দেখছি, চাইছি সবটা বদলাতে, কিন্তু ভেতরের মোজেসকে জাগাতে পারছিনা ফলেই সুইচ অন হচ্ছেনা সেই অপার্থিব জগৎ। হাতটা কিছুদূর অবধি ধরে থেকে সাহসটুকু ট্রান্সফার করবে এই কাহিনী, যখন একজন অতি সাধারণের জন্যেও মহাসাগর দু ভাগ হয়ে হাঁটার রাস্তা করে দেবে। বাস্তবের কিছু সার্কাস অদ্ভুতভাবেই চলে এসেছে এই কাহিনীর ফাঁকতালে, ভাবিয়েছে পাঠককে। শুরুতে বলা ওই বাড়ির ছাদের কোনটায় যখন জোরালো টর্চের আলোটা ফেলতাম, দেখতাম সব ভ্রম কেটে গেছে, রাহিল সেই কাজটাই যত্ন নিয়ে করলো।
ফের আসি ওপরে বলা প্রসঙ্গে। ভয় তো এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক পার্শ্ব চরিত্র, তাহলে মুখ্য চরিত্রে কে আছে? বলার অপেক্ষা রাখেনা, যাকে রূপদান করেছে ওই তিন নম্বর ড্রয়ারটা, আতরের গন্ধটা, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা গাছটা, আন্ডারগ্রাউন্ড সমাধিকক্ষের ওই কালো হাতটা, দেয়ালের ছোপটা, বাঁশের গায়ে গজিয়ে ওঠা ফুলটা, সেইই হলো বইয়ের নায়ক, অপার্থিব! ইনি মাঝে মাঝে মনকে ভিজিয়েও দেন, অকারণে ক্ষতি করেননা কারও। তবে তাঁকে বিশেষ বিরক্ত না করাই ভালো। পাঠ শুভ হলো।
I have never been a supernatural thriller/horror genre fan, but this book is an exception for me. Its a collection of short stories, all of which have some supernatural element. I was more intrigued by the plots established by the author than the horror itself. Without giving any spoilers, most of them are unique and very well thought of and have kept a lasting impression on my mind. Tritiyo drawer and Raahil are the two of my absolute favourites here.
২০২৩ এর বই মেলার শুরু ঠিক ১ মাস আগে এই বই এর কভার সামনে আসে,দেখা মাত্রই ঠিক করি বই মেলা গিয়ে সংগ্রহ করবো, তবু একটা দ্বিধা ছিল, যে ভূতের গল্প বা ভয়ের গল্প পড়ে কি আমার আদও ভাল লাগবে , সোজা কথায় ভয় নামক ইমোশানটা কি ফিল করতে পারবো! কিন্তু এক প্রকার বুক ফার্ম এর ফেসবুক পেজ এ ডেট আর সময় আগে থেকে বলে বই সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম ।
💫পাঠ প্রতিক্রিয়া💫 এবার আসি বই এর কথায়, বই এর কভারটা কিন্তু খুব ইমপ্যাক্ট ফেলেছে এই বই টা কেনার সিদ্ধান্তে , তাই এর জন্যে অর্ক চক্রবর্তী কে সাধুবাদ , খুব সুন্দর কভার ডিসাইন করেছে।
বই এ মোট ১৭ টি গল্প রয়েছে , আর এই প্রত্যেকটি গল্পের মধ্যে রয়েছে, লেখকের লেখনীর ,ইমাজিনেশান এর যাদু আর রয়েছে ৯০ এর দশকে বেড়ে ওঠা এক কিশোরের কিছু অদ্ভুত অবজারভেশন এর ছোঁয়া। যারা এই বই পড়বে তারা আশা করি ব্যাপার গুলো বুঝতে পড়বে ,কিসের কথা বলছি।।
বই এর নাম "অপার্থিব" তাই প্রত্যেকটি গল্পই অলৌকিক ঘটনা সম্পর্কিত , বই পড়লে ভয় এর সাথে যেটা সব থেকে বেশি মাথায় আসে তা হল প্রত্যেক গল্পের প্লট গুলো খুব অদ্ভুত রকমের ইউনিক । আর এখানেই অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী দক্ষতার সাথে কভার ড্রাইভ মেরেছে সৌরভ গাঙ্গুলীর মত। যেরকম ঝরঝরে লেখা ঠিক সেরকম নিট অ্যান্ড স্ট্রেট কোনো অযথা অপার্থিবতার বাড়াবাড়ি নেই।। গল্প গুলোর প্রি প্লট ডেসক্রিপশন এত সুন্দর এই ব্যাপার টা মুগ্ধ করছে আমায়।। ১৭ টা গল্পের মধ্যে ১টি গল্প বই আকারে আসার আগেই কোনো অডিও স্টোরি প্লাটফর্মে শোনানো হয়েছিল মনে পড়ছে। সেটাও পড়ে শিহরিত হলাম আর একবার।।
হলপ করে বলতে পারি এই বই এর প্রত্যেক গল্প পড়লে মনে হতেই পারে যে এরকমটা কিন্তু বাস্তবে হতেও পারে। কিছু গল্প সত্যি ভয় পায়িয়েছে ,ছোট গল্প অথচ এত ইমপ্যাক্ট ফুল গল্প সংকলন যে সত্যি বই কিনে পয়সা অসুল হয়েছে।। ***মোট কথা কিনে ফেলুন ঠকবেন না***
💫লেখকের উদ্দেশ্যে - তোমার কাছ থেকে বড় ক্রাইম থ্রিলার আশা করছি, (pahle thoda saans le lejiye 😇)