নাগরিক জীবনের এক অন্যতর উদ্ভাস আর প্রতিফলন ঘটেছে ‘সুধাবিষে মিশে’ উপন্যাসে। এই উপন্যাসের কাহিনিতে প্রায় সনাতন রীতি অনুযায়ী একটি বৈবাহিক সম্পর্ক রচিত হয়— প্রবাসী বঙ্গসন্তান দেবমাল্যর সঙ্গে কলকাতার পুলিশ অফিসার দিবাকর রায়ের কন্যা কুন্তলার। কিন্তু কতটা জানাশোনা, পরিচয় ছিল দুটি পরিবারের কিংবা বিবাহিত দম্পতিটির মধ্যে? কুন্তলা কি মানসিক ভাবে স্বাভাবিক? কিংবা তৈরি ছিল কি একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক রচনার জন্য? দুটি পরিবারের মধ্যে কতটাই বা সাযুজ্য ছিল মূল্যবোধের, প্রত্যাশার? দ্বন্দ্বদীর্ণ এই সময়ের নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে এই উপন্যাসে যা একইসঙ্গে যতখানি মানবিক, ততখানিই প্রাসঙ্গিক আর আধুনিক। লেখক নবকুমার বসুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, সূক্ষ্ম মানবিক উপলব্ধি আর কুশলী বর্ণনায় আকর্ষণীয়, গতিশীল হয়ে উঠেছে এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা— যা একই সঙ্গে জীবনের শিল্পিত জলছবিও।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।