A biography of the family of paleoanthropologists who pioneered the search for human origins in East Africa describes Mary Leakey's discovery of fossils at Olduvai Gorge and Richard Leakey's teamwork at Lake Turkana, including the discovery of the remarkable Turkana Boy. The Turkana team included his wife Meave Leakey who helped piece together the fragments of a skull known as 1470, and went on to make her own discoveries in Kenya, with daughter, Louise Leakey. The author accompanied the Leakey's during some of their work in the field, including the excavation of the Turkana Boy.
"লাইটোলির ২০ মাইল পূর্বে, আজ থেকে সাড়ে ছত্রিশ লক্ষ বছর আগে সাদিমান নামের এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ছাইগুলো যখন মাটিতে থিতিয়ে পড়ছে, তখন ধারাবাহিকভাবে কয়েকপ্রস্থ বারিপাতও হয়। তেমনই এক প্রস্থ বৃষ্টিপাতের পরেই লাইটোলি এলাকায় পা ফেলেছিল একদল হোমিনিড। মাঠি তখনও ভেজা আর নরম। ফলে তারা সেখানে রেখে যায় তাদের পায়ের চিহ্ন। সূর্য উঠলে পর ছাইগুলো গরমে শক্ত হয়। অন্যান্য জীবাশ্মের মতোই পদচিহ্নগুলোও সংরক্ষিত হয়। বছরের পর বছর ধরে বাতাসের উড়িয়ে আনা নতুন মাটির স্তরের নিচে বহু চিহ্ন ঢাকা পড়ে যায়। তবে সাম্প্রতিককালে বৃষ্টির কারণে সেগুলোর কয়েকটি ফের আলোর মুখ দেখে। ... আমাদের পূর্বপুরুষদের এই পদচিহ্নগুলো তাদের সম্পর্কে আমাদের কী তথ্য জানায়? জানায় যে আজ থেকে সাড়ে ছত্রিশ লক্ষ বছর আগে তারা দুই পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে হাঁটতো।"
আমার আসলেই কান্না পায় এরকম কিছু পড়লে। রোমাঞ্চ, আনন্দ এবং একরকম কষ্ট মিলিয়ে কান্না পায়। ক্ষুদ্র কলেবরের বইটি নিয়ে অল্প কথায় কিছু বলা অন্তত আমার পক্ষে সম্ভব না। ঠিক কবে মানব প্রজাতির প্রাগৈতিহাসিক পূর্বপুরুষদের জীবাশ্ম খুঁজে বার করার বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, এখন আর সেটা মনে নেই। তবে এখনও এই বিষয়ে কোনো কিছু পড়তে কিংবা ভাবতে বসলেই কেমন যেন মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ি। আধুনিক মানুষ তার শৈশব কাটিয়েছে আফ্রিকায়। এটা এখন খুব সহজ সত্য আমাদের কাছে। কিন্তু সেই প্রথম প্রমাণগুলো হাতে আসার মুহূর্তগুলোর কথা ভাবলে কেমন লাগে? দাঁতের খিলান, ব্রাশ, তুলি, চালুনি নিয়ে পূর্ব আফ্রিকার অত্যন্ত রুক্ষ আবহাওয়ায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে কারা এগুলি উদ্ধার করেছে?
প্রথমে আছে জীবাশ্মগুলো স্রেফ চোখে দেখার কাজ। 'জীবাশ্ম' নামক প্রকৃতির এই খেয়ালের নমুনা, বিশেষ করে প্রাগৈতিহাসিক মানব জীবাশ্ম, অত্যন্ত বিরল। তবে পূর্ব আফ্রিকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং জলবায়ুর কারণে সেখানে জীবাশ্ম চোখে দেখার প্রথম কাজটি বেশ সহজ। প্রতি পদক্ষেপে একটা-দু'টা জীবাশ্মের ওপর চোখ পড়বেই। এরপরে আসে চোখে দেখা জীবাশ্ম উদ্ধার এবং সনাক্তকরণের কাজ। মামুলি সব যন্ত্রপাতি দিয়েই উদ্ধারের কাজ চলে। এইগুলো কোদাল-শাবলের কর্ম না। শুধু জীবাশ্ম উদ্ধার কাজেই যে পরিমাণ ধৈর্য লাগে, তা ভাবতেও এই বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নুয়ে আসে। উদ্ধারের পরে জীবাশ্ম হাতের নাগালে এলেও, টুকরাটি কোন প্রাণীর তা উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এ জন্য এনাটমির বিশেষ জ্ঞান দরকার। মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীদের শারীরিক গঠন সম্পর্কে একদম না জানলে চলে না। এরপরে আসে বয়স নির্ধারণের কাজ। ভূতত্ত্বের সাথে রসায়নের যোগে এই কর্মটি সমাধা করা হয়। মূলনীতি ততটা কঠিন না হলেও, হাতে-কলমে কাজটা করা এতটাও সহজ না। এরপরে আসে নামকরণ এবং মানব প্রজাতির 'ফ্যামিলি ট্রি'তে স্থাপন করার কাজ। (এরপরে জনপ্রিয় টিভি টকশোতে বিবর্তনবিরোধীদের কাছ থেকে ছবক শুনে আসা! >_< >_< >_<)
এবার কথা সংক্ষেপ করি। এ পর্যন্ত 'মেকারস অফ মডার্ন সায়েন্স' সিরিজের দুটা বই পড়া হয়েছে। আগেরটা ছিল রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনীগ্রন্থ। নবীন পাঠকদের উদ্দেশ্য করে লেখা। একটানে পড়ে ফেলা যায় (যদিও নানান আজে-বাজে কারণে আমার অস্বাভাবিক বেশি সময় লেগেছে :( )। ওপেনহাইমার এবং লিকি পরিবারের সদস্যের জীবনেতিহাস ইংরেজীতে এক কথায় 'ফ্যাসিনেটিং'। নিজ নিজ শাখায় অসংখ্য উপাখ্যানের মূল চরিত্র এরা। প্রত্যেকেই রেখে গেছেন বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকারের দীর্ঘসূত্র। মুগ্ধ হয়ে পড়ে ফেলা যায় তাদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা। কিন্তু বইগুলিতে আরও কিছু বিষয় আছে। এগুলোকে নেহাত জীবনীগ্রন্থ না বলে বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগের বয়ান বলা উচিত। বিজ্ঞানীদের মূল কাজ গবেষণা হলেও, আধুনিককালে পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে একদম সম্পর্করহিত এবং রাজনীতি-সমাজনীতি বিষয়ে অজ্ঞ হওয়ার উপায় নেই। কিন্তু পারিপার্শ্বিক জগত আদতে দুঃসহ এবং অত্যাচারী। বিশেষ করে পদার্থবিদ আর প্রাগৈতিহাসিক মানবদের নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য তো বটেই। দুই জীবনীকারই এই বিজ্ঞানীদের কীর্তিকলাপ লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি বিজ্ঞান সংক্রান্ত খুবই জরুরি কিছু বিষয় তুলে এনেছেন। যেমন, বৈজ্ঞানিক ফলাফলের রিপিটিবিলিটির গুরুত্ব, রাজনীতি কীভাবে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের অপব্যবহার ঘটাতে পারে, জনপ্রিয় বিজ্ঞানের সুফল এবং কুফল, বড় বড় প্রোজেক্টের ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব, বিজ্ঞানীদের মধ্যে রসবোধ এবং যুক্তিসঙ্গত বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি। গল্পের ছলে ধারণাগুলো ব্যক্ত করা গেলে তারচেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! সবশেষে একটা ছোট্ট অংশ অনুবাদ করে দেই।
'মানুষই হলো প্রথম প্রাণী, যারা বিস্তর পরিসরে বৈশ্বিক পরিবেশের তারতম্য ঘটাতে সক্ষম... বর্তমানে এই গভীর উপলব্ধিটি অত্যন্ত জরুরি যে, যত অনন্য প্রজাতিই হই না কেন, আমরা এখনও প্রকৃতির বৃহত্তর ভারসাম্যেরই অংশ মাত্র। আমরা এই উপলব্ধি অর্জনে সমর্থ না হলে, মানব প্রজাতি কবে নাগাদ বিলুপ্ত হবে এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে: তার আর খুব বেশি দেরি নেই।'