একদিন মেট্রো স্টেশনে কলেজ জীবনের বন্ধু সুবর্ণার সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয়ে গেল তিতিরের। বহুদিন ওদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে সুবর্ণার পরিচিতি হয়েছে। তিতির এম. এ. পাশ করে চাকরির চেষ্টায়। ওর বাবার ইচ্ছে, মেয়ের এবার বিয়ে দেবেন। তিতিরের তীব্র আপত্তি। নিজের পায়ে না-দাঁড়িয়ে ও বিয়ে করবে না। সুবর্ণা ওকে প্রস্তাব দেয় টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করার জন্য। তিতির রাজি হয়ে গেল। সিরিয়ালের কাজের জন্য মনোনীতও হলো। কিন্ত এই পেশাকে বাড়ির কেউ প্রথম ধাক্কায় মেনে নিতে পারল না। প্রায় একই সময়ে ওর বউদি রঞ্জনা, যে এতদিন মধ্যবিত্ত ঘরের ভাল বউটি হয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছিল, পুরনো বন্ধু উপাসনার উৎসাহে ওরই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি নিল। স্বাবলম্বী রঞ্জনা পেল অন্য জীবনের স্বাদ। কেননা এরই মধ্যে সুবীরের সঙ্গে দাম্পত্যজীবনে সে আবিষ্কার করেছে এক একটি দীর্ঘ অন্ধকারে ভরা টানেল। অভিনেত্রী জীবনের নানা ঘটনার ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে তিতিরের জীবনতরী এসে একদিন পৌছল কৃশাণুর সঙ্গে তার পরিণয়ের জগতে। অন্যদিকে সুবীরের সঙ্গে রঞ্জনার বিবাহবিচ্ছেদ অনিবার্ধ হয়ে উঠল। কিন্ত কেন? কোন পথে এবার যাবে রঞ্জনা?
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
তিতির আর রঞ্জনা, একজন বাড়ির মেয়ে আরেকজন বউ। দুজনের জীবনযাপন পদ্ধতি ভিন্ন, এমনকি ভিন্ন ধারায় চলে। আর আছে তিতিরে মা বাবা আর দাদা। তিতিরের বান্ধবীর সাথে দেখা হয় ট্রাম স্টেশনে। দুজনের বন্ধুত্ব পুরোনো। কিন্তু আজ হঠাৎ তাকে চমকাতেই হলো, লোকজন তাদের দিকে চেয়ে আছে ড্যাবড্যাব করে। আরে বাবা তিতিরের বান্ধবী তখন রিতীমত পপুলার এক্ট্রেস। তারই সুবাদে অভিনয়ে কাজ পায় সে। কিন্তু ওদিকে ঘরে রায় বাঘিনী মা তার ওপর দাদা। তারা মানতে প্রস্তুত নয় যে সিনেমা লাইনটা আর আগের মতো নেই। প্রতিকুলতার শীর্ষে যখন সব দোদুল্যমান তখন, অন্ধকার আরো ঘনিয়ে এল বৌদি রঞ্জনার চাকরি করার জন্য। কিন্তু হায়, সেই সনাতন ধারার মা ছেলে। তাদের ভাবনার সুই সেই আদ্যিকালেই আটকে গেল।
বেশ প্রতিকূলতা কাটিয়ে দুজন নারী নেমে পড়ে কাজে। কিন্ত তা সহ্য হয় না দাদার। কিন্তু তিনি তা দমাতেও পাররছেনা । তাই হাতে তোলল মদের গ্লাস। তখন থেকে মাদকতার সাথে সাথে লুকায়িত জঘন্য মানসিকতা নজরে পড়ল। মা তখনো নির্বিকার। ওদিকে নব জাগরনের প্রতীকী চরিত্র বাবা নিরন্তরভাবে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে নিষ্ঠাবান দুই নারীকে। কিন্তু তার প্রতিপত্তি কম। এরকম বিরুপ অবস্থায় তাদের মাথা কি ঠান্ডা রাখা উচিত? কিই বা হলো তাদের! তবে কি ঘটে পরাজয়?
#বইটার_যা_ভালো_লাগা বইটার গল্পের প্রবাহমাত্রা চরম দ্রুত, সাথে বেশ কিছু টুইস্ট ছিল। সামাজিক ঘরানার বইগুলাতে যেমন হয় আরকি কথার বলার ধরন দিয়ে পাঠ্যরস উপলব্ধি করাতে হয় লেখককে। এক্ষেত্র সমরেশের জুড়ি নেই..! এই বইটার চরিত্রের আধিক্য ছিল। যেটা বেশ উপভোগ্য। বর্তমানধারায় সমাজকে যে ভিন্ন চোখে দেখে সমরেশ, তারই প্রতিবিম্ব তার বইগুলো। প্রতিটাতেই থাকে চমক, থাকে নতুনত্ব। এরই ধারা এখানেও অক্ষুন্ন আছে। তবে কি দাদা চরিত্রটা নিতান্ত ব্যাক্তিত্বহীন, মাকাল ফলের মত অন্তঃসার শুন্য। ভালো লাগার প্রতিটি পরশ লাইনগুলো।
#যা_কিছু_ভাল_না_লাগা
ফ্রন্ট সাইজ বেশিই ছোট। শেষটা ভালো লাগেনি বরং তিতিরের ওপর রাগ হয়েছে। মায়ের চরিত্রটা ভালো লাগেনি। অনেকগুলা চরিত্রের মাঝে কয়েকটা চরিত্র গুবলেট হযে গেছে। বই এর একটা জায়গায় তিতিরের নামের জায়গাতে থিতির লেখা পেয়েছি। এই বিষয়টা ভাল করা যেত।
#বইটার_বাস্তবতা__ বইটার বাস্তব দিকটা বেশ প্রোজ্জ্বল। বর্তমান সমাজের মেয়েদের কাজ করার প্রতি সমাজ ও পরিবারের সীমাবদ্ধতা যেটা সমাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে প্রতীয়মান, সমরেশ তার বিরুদ্ধে লড়তে পছন্দ করেন। সাতকাহন, গর্ভধারিনী, মানুষের মা, জননী দেবী সহ আরো অনেক বইয়ে তিনি সেই ভাবধারা দেখি এই বইটাতেও। এছাড়া অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য সিনেমা লাইনটার আদি অবস্থা আর বর্তমান অবস্থাটাকে তিনি দেখাতে চেয়েছেন। তাছাড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, নারীদের ওপর অধিকার ফলানোর মত সংকীর্ণ মনোভাবের বিমুর্ত একটি গল্প এটি, বাস্তবতার রসে পুর্ণ।
তিতির পড়াশোনা শেষ করে টিউশনি করছে, চাকরিও খুঁজছে। কলেজের বান্ধবী সিরিয়ালে কাজ করে, তিতিরকে নিয়ে গেলো পরিচালকের অফিসে। বাসায় জানাজানি হতে মা খুব আপত্তি করলেন, বাবাও চান মেয়ে বিয়ে করে থিতু হোক। নাটক পাড়া সম্পর্কে যে দ্বিধার ধারণা সবার, তাতে আত্মীয় স্বজনেরও চিন্তা তিতিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু সব প্রতিকূলতা ভেঙে এগিয়ে যায় তিতির।
একই সাথে তিতিরের বউদি রঞ্জনা, নিতান্ত আটপৌরে গৃহবধূর জীবন কাটিয়ে দিচ্ছিলো। কর্পোরেট কোম্পানিতে ভাগ্যক্রমে একটা ভালো চাকরি জুটে যায়। স্বাধীনতার স্বাদ পায় রঞ্জনা, অনুভব করে তার নিজেকেও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। কিন্তু স্বামী সুবিরের একেবারেই পছন্দ নয় তার চাকরি করাটা। দিন দিন সুবিরের ভেতরের অন্ধকারগুলো প্রকট হয়ে উঠছে। চাকরি অথবা দাম্পত্য - যেকোনো একটা বেছে নেওয়াই নিয়তি রঞ্জনার।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসটিতে কলকাতার নাট্য পাড়ার অনেক কিছু উঠে এসেছে। দুজন নারীর ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে লড়াই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। মেয়েদের জীবনটা মানেই কি ছাড় দেওয়া? কখনো কর্মজীবনে কখনো সংসারের সূক্ষ্ণ দড়িতে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার পিছনেই মনে হয় মেয়েদের এক জীবন কেটে যায়। চাকরিজীবি মেয়েদের এখনো কি সমাজে একটু ছোট চোখে দেখা হয়? এমন অনেক প্রশ্নই ভাসিয়ে তুলেছেন লেখক।
লেখক 'হিরে বসানো সোনার ফুল' ধারাবাহিকভাবে প্রথমে কোন পত্রিকার জন্য লিখেছিলেন কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু অধ্যায়গুলোর মধ্যে অনেক রকম বিচ্ছিন্নতা আছে। এক অধ্যায়ে যা ঘটে গেছে, পরের অধ্যায়ে তা ঘটেছে ভুলে গিয়ে নতুন দৃশ্যপট সাজিয়েছেন লেখক। কেনো এমন হয়েছে জানি না, হয়তো ধারাবাহিক ভাবে দীর্ঘদিন যাবত লিখেছেন বইটি। আমার পড়া প্রিন্টটিতে বানান এবং বাক্যতে প্রচুর ভুলও ছিল।
চরিত্রায়নে কিছু অসঙ্গতি আছে। তিতিরের বউদি আর মা একটা সময় পর্যন্ত তিতিরের কাজ করা নিয়ে তীব্রভাবে আপত্তি করেছেন, কটু মন্তব্য করেছেন। পরবর্তীতে তাদের মন ১৮০ ডিগ্রিতে ঘুরে যাওয়ার সন্তোষজনক ব্যাখা পাওয়া যায় না। আবার সুবিরের চরিত্রটা নারীবাদের বিপরীতে দাঁড়া করাতে গিয়ে বড্ড একপেশে হয়ে গেছে।
কিছু জিনিস আমার কাছে অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। হতে পারে কলকাতার প্রেক্ষিতে লেখক বইটি লিখেছেন, কিন্তু সমাজ কি সত্যি এখনো এতটা পিছিয়ে আছে? বইয়ে উল্লেখিত অনেক ধ্যান ধারণাই আমার হজম করতে বেশ কষ্ট হয়েছে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের জীবন আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প 'হিরে বসানো সোনার ফুল'। সমরেশের সেরা কাজের মধ্যে রাখবো না, তবে এক বসায় পড়ার মতো সুখপাঠ্য।
প্রথমত আমি বলতে চাই, একটা উপন্যাস ভালো না মন্দ এটি বিচার করার ধৃষ্টতা আমার একেবারেই নেই... হীরে বসানো সোনার ফুল উপন্যাসটি ভালো লাগলেও আমার চোখে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যেমন তিতির তার দাদাকে প্রথমে তুমি বলে সম্মোধন করত, কিন্তু পরে দেখা যাবে এই তুমি টা হটাৎ তুই তে পরিণত হয়েছে। একটা জায়গায় রঞ্জনা স্পট বলবে যে তার বিয়ের ছমাস পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল কিন্তু যেহেতু তার স্বামী এত তাড়াতাড়ি বাবা হতে চায়নি তাই সে হাসি মুখে ভ্রূণ হত্যা করে। তবে এর পরের কিছু দৃশ্যে রঞ্জনা তিতির কে বলবে যে সে কোনোদিনই সহবাসে র আনন্দ পায়নি, এবং এও বলবে যে সুবীর আসলে কখনোই বাবা হতে পারবেনা, এটা সে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই জেনে গিয়েছিল। এই দুটি ঘটনা সম্পূর্ণ পরস্পরের বিপরীতে যাচ্ছে।
একজন লেখক তার চরিত্রদের কিভাবে চিত্রায়ন করবেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যাপার কারণ কারুর ব্যক্তি স্বাধীনতায় হতক্ষেপ করা উচিত না। তবে আমি যে দুটি ঘটনার কথা বিবৃত করলাম এই দুটি পরস্পর বিরোধী ঘটনা কি একসঙ্গে বিচরণ করতে পারে!!!!?
লড়��ই করে এগিয়ে চলা কয়েকটি মেয়ের গল্প – যার যার নিজের প্রেক্ষাপটে। কলকাতার নাট্য পাড়ার অনেক কিছু উঠে এসেছে। মূলত দু-তিনজন নারীর ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে লড়াই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। কখনো কর্মজীবনে কখনো সংসারের সূক্ষ্ণ দড়িতে ভারসাম্য রক্ষা করতে করতেই যে মেয়েদের জীবন কেটে যায় সেটা বিশেশ ভাবে তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন লেখক। চাকরিজীবি মেয়েদের এখনো কি সমাজে একটু ছোট চোখে দেখা হয়? এমন অনেক প্রশ্নই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। সাধারণ জীবনের গল্প বলতে বলতে সমাজের বিভিন্ন স্টিরিওটাইপ আর ট্যাবুর দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন লেখক। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের জীবন আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প 'হিরে বসানো সোনার ফুল'। সমরেশ মজুমদারের লেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের এই উপন্যাস হিরে বসানো সোনার ফুল।
খুবই দুর্বল লেখনী। গল্পটা ভালোই এগোচ্ছিল,কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছেন লেখক। সমরেশের যে কয়টা লেখা পড়েছি,সবগুলোতেই এই সমস্যাটা দেখেছি। গল্প বলার ঢংটা ঠিক পছন্দসই হল না। সংলাপগুলো এত দ্রুত আর সংক্ষিপ্ত যে, মনে হচ্ছিল সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পড়ছি। আর পুরো উপন্যাসটাই সংলাপ নির্ভর,অনেকটাই নাটকের মত। চরিত্রগুলো কী চিন্তা করছে, তা ভালোভাবে দেখানো হয় নি। এমনিতে উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্যটা ভালো লাগছিল। নারীদের স্বনির্ভর হতে আহবান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু শুধু ভালো বিষয় হলেই উপন্যাস ভালো হয় না, আরও অনেক দিক আছে। সেইসব কারণেই মাত্র ২ তারার বেশি দিতে পারলাম না। পুরো সময়টাই নষ্ট মনে হচ্ছে।
হীরে বসানো সোনার ফুল মূলত ভিন্ন ভিন্ন ধরণের নারীদের গল্প। তিতির, রঞ্জনা, সুবর্ণা সবার আলাদা আলাদা জীবনের গল্প। মেয়েদের জীবনটা মানেই কি ছাড় দেওয়া? কখনো কর্মজীবনে কখনো সংসারের সূক্ষ্ণ দড়িতে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার পিছনেই মনে হয় মেয়েদের এক জীবন কেটে যায়। চাকরিজীবি মেয়েদের এখনো কি সমাজে একটু ছোট চোখে দেখা হয়? এমন অনেক প্রশ্নই ভাসিয়ে তুলেছেন লেখক।
বইটার গল্পের প্রবাহমাত্রা দ্রুত, সাথে বেশ কিছু টুইস্ট ছিল। লেখনি কিছুটা দূর্বল কিন্তু ভালো লাগার মত।
My intial thoughts are: this story supports feminism but in a way that I didn't like it .I have also found 1 plot hole .and the font size is too small.and the amount of frustration these two characters gave me subir and his mom mygod ...I skipped a few parts because I found it boring and random . It wouldn't make a huge difference. So yeah..
কলকাতার মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তিতির। নিজে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করতে চায় না, একদিন হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গেল বান্ধবী সুবর্ণার সাথে। যার হাত ধরেই তিতির এল নাটক (সিরিয়াল) এ অভিনয় করতে। কিন্তু তাঁর মা ও ভাই এটা মেনে নিতে পারে নি। এই লাইনে গেলে মেয়ের বিয়ে হবে না, ভালো মানুষ এই লাইনে কাজ করে না। অপরদিকে তিতিরের বৌদি যে কিনা সারাক্ষন ঘরের কাজে ব্যাস্ত থাকা,দুপুরে সিরিয়াল দেখা,মেয়েদের ছোট করে দেখা আর মানুষের বদনাম করা এই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।স্বামীরর কাছে হাত পেতে টাকা নিতে তারও গায়ে লাগত,অথচ সেও গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কাজ করার কথা ভাবেনি কোনদিন। সেই বৌদিও যখন তাঁর এক বান্ধবীর ফার্মে চাকুরিতে ডুকে গেল তখন মোটামুটি পরিবারে একটা অশান্তি বয়ে যেতে থাকল।
তিতিরের দাদা (ভাই) এই মেয়েদের বাহিরে কাজ করাটা একদমই সহ্য করতে পারছিলেন না, তাঁর মাও তাঁর সাথে একমত। অপরদিকে তিতিরের বাবা তিতির ও বৌদির এ কাজের ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছিলেন। এমনই এক কাহিনী নিয়ে এগিয়ে যায় এই উপন্যাস।