বেশ কিছুক্ষণ পরে ঠান্ডা ঘর থেকে বেরিয়ে অনসূয়া টের পেল আগুনের হলকা মিশে রয়েছে বাইরের বাতাসে। সদ্য মার্চ মাসের আট তারিখ। অর্থাৎ কাল মধুমাস। তবু বসন্তের অশান্ত হাওয়ার ভাপ যেন ছ্যাঁকা দিচ্ছে চোখে-মুখে। এই যদি অবস্থা হয় এখনই, মে-জুন, কলকাতা তো দাউদাউ করে জ্বলবে।
রোদ-চশমাটা মাথার মাঝখান থেকে চোখের ওর নামিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল-এর চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে এল অনসূয়া। শেকসপিয়র সরণির গাড়ির মিছিল এখন চৌরঙ্গিমুখী। আপ নেই, শুধু ডাউন। তা সত্ত্বেও থিকথিকে ভিড়। রাস্তা পার হওয়া দায়। যাকে বলে বাম্পার টু বাম্পার, সেইভাবেই চলেছে গাড়িগুলো। তীব্র প্রতিযোগিতা পরস্পরের সঙ্গে, যাতে কেউ এক চুল ফাঁক পেয়ে গলে যেতে না পারে। অতএব নিথর নিশ্চল না হওয়া পর্যন্ত পারাপারের আশা নেই।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।