নীনা এই কাহিনির প্রধান চরিত্র। নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির চাকুরিজীবী মেয়ে। বিয়ে হয়েছিল, তারপর বিচ্ছেদও হয়ে গেছে। এক পরিবারের সঙ্গে সাবলেটে বসবাস করে। দারিদ্র্য, মনােকষ্ট, চাকরিতে আপস—জীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তার কাছে। এরকম এক সময়ে তার পরিচয় হয় এক মহৎ ব্যক্তির সঙ্গে। এই মানুষটি একদা তার মায়ের প্রেমিক ছিলেন। এই মানুষটির সান্নিধ্যে এসে নীনা যেন জগৎ ও জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শেখে। মানুষটির প্রতি প্রগাঢ় এক শ্রদ্ধাবােধ জন্ম নেয় তার মনের গভীরে। এদিকে তার একদা স্বামী আবার মিলিত হতে চায় তার সঙ্গে। কিন্তু পুরােনাে স্মৃতি তাকে ভয় দেখায়। সদ্যোজাত সন্তানের জন্ডিসে মৃত্যু, হাসপাতাল তােলপাড় করা চিৎকার তাকে আতঙ্কিত করে তােলে। ইতিমধ্যে ওমরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ছেলেটি ভারী অদ্ভুত। রাগ-ঘৃণা-আনন্দ-বেদনা কিছুই যেন তাকে ছুঁতে পারে না। সমাজের চোখে আত্মসম্মানবােধ বিবর্জিত ছেলেটির সহমর্মিতায় নীনা আলুত হয়। গর্ভে আবার সন্তানের উপস্থিতি টের পায় সে। প্রথম সন্তানের মৃত্যু সে ভুলতে পারে না। অথচ এই নতুন ভুণকে নষ্ট করে দিতেও মন চায় না। কী করবে নীনা? কীভাবে এই প্রবল আত্মসংকটের মােকাবিলা করবে সে? সমাজের রূঢ় বাস্তবতার মুখােমুখি দাঁড়াতে পারবে সে? দাঁড়াতে পারবে তার অস্তিত্বের মুখােমুখি?
Nasreen Jahan (Bangla: নাসরীন জাহান), (1966) is a modern Bangladeshi author and literary editor. She became famous with the publication of her award-winning novel উড়ুক্কু in 1993 which was later translated as The Woman Who Flew.
She has distinguished herself with her poetic prose and psychological approach to human behavior. She is capable of handling intricate human mind with dexterity. She is prone to focus on man-woman relationship in the backdrop of social fabric and examine its intricacies. Nasreen Jahan has candidly treated sex as a theme and went ahead of time by reflecting on homosexuality her short stories and novels. Her writing separately exhibits realism, surrealism, also magic realism. Her works are never erotic in nature.
মেলা কথা বলতে চাচ্ছিলাম এই বই নিয়ে, এরপর খানিক গ্যাপ দিলাম গুডরীডসে। এখন আর তেমন কিছু মনে নাই। আরেক রাউন্ড পড়তে পারলে বইটা তখন কিছু বলব এই নিয়ে।
তবে নাসরীন জাহান, আপনাকে আরও জানার আগ্রহ রাখলাম। আপনাকে বেশ হেলেফেলে তুলে নিয়েছিলাম, সে হিসাবে ভালোই মুদ্ধ করলেন। খুব করে না হলেও, চোখের কোণ দিয়ে হলেও আপনার বই গুলোতে আমার নজর থাকবে।
এক চিলতে ঘর। উপরে ঘড়ঘড় শব্দওয়ালা কোনমতে ঘুরতে থাকা ফ্যান৷ ভ্যাপসা গরম, মশার বিনবিনুনি। ভেন্টিলেটর একটা আছে বটে, অনেক উঁচুতে। কোন জানালা নেই। কোন রোদ আসার ফুরসত নেই। বাথরুমটাও মান্ধাতা আমলের স্টাইলের। শত যত্নেও থাকে স্যাঁতস্যাঁতে। ঘরের বাইরে সূর্য ঢোকে না এমন ঘিঞ্জি গলি। ড্রেনের দুর্গন্ধ আর বস্তির কোলাহল এই গলির নিত্যসঙ্গী। ওমন একটা ঘরে দিনের পর দিন ফিরতে হয় কাউকে যদি, তার মানসিক অবস্থা কেমন হবে? একটা অপরিসর খাঁচায় বন্দী নোংরা প্রাণীর মতো নয় কি? দমবন্ধকরা, অস্বস্তিকর এই পরিবেশে কেউ কি সুস্থ থাকতে পারে? এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ার সময় ঠিক এইরকম দমবন্ধকরা এক অনুভূতিরই সৃষ্টি হয়েছিল আমার মনে। উড়ুক্কু-নামটা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। লেখিকার ২৯ বছর বয়সে সৃষ্টি ৩০ বছরের নীনা নামের এক নারীর গল্প এটি। যে নারীর জীবনকাহিনী কলমের গাঢ় কালিতে গাঢ় করেই এঁকেছেন লেখিকা। দারিদ্র্য আর আত্মসম্মানবোধ- এই দুইটা বিষয় যে কী পরস্পরবিরোধী আমরা হরহামেশা দেখে থাকি। দরিদ্র অথচ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পুরুষের গল্প কিছু কিছু চোখে পড়লেও নারী-সিনেমার গরীব নায়কের মা ছাড়া খুব একটা বোধহয় চোখে পড়ে না। নানা কারণে নারীকে আপসরফার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়। দায়ী যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজই তা অবশ্য আলাদা করে বলে দিতে হয় না। নীনার পরিবারটি অতি দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও নীনার মধ্যে কোথা থেকে এমন আত্মমর্যাদার ভূত ভর করেছিল কে জানে! যেই ভূত তাকে সারাজীবন তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়েছে, কোথাও থিতু হতে দেয় নি, একজন স্ত্রী হতে দেয় নি আদর্শ, দেয়নি একজন ঠিকঠাক সঙ্গী বা প্রতিবেশীও হতে এমনকি সন্তান হতেও নয়। তাই প্রেম করে রেজাউলকে বিয়ে করলেও সেই বিয়ে টেকে না তার। রেজাউলের যৌন জীবনের গোপন কালিমা জানার পর তার সাথে আর বাস করা সম্ভব হয়নি নীনার পক্ষে। নীনা মানুষটি আসলে কেমন? আপাদমস্তক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক আধুনিকা যার জীবনের নানান ঘাতপ্রতিঘাত তার একার পক্ষে সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সে হাল ছাড়ে না, চেষ্টা করে যায়। বারবার ভেঙে পড়ে, বারবারই তার মনে এমন সব প্রশ্নের উদ্ভব হয় চমকে ওঠার মতো কিন্তু তার কোন সমাধান সে জানে না, সে কোন দেবীপ্রতিমা-সতী নারীও নয়, কামনাবাসনা আশা আকাঙ্ক্ষা সবই তার আছে, অন্যায়কে অন্যায় বলার দৃঢ়তা যেমন আছে তেমনি আবার রয়েছে কোন দুর্বল মুহূর্তে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার ইচ্ছের হীনতাও কিন্তু সব মিলিয়েই এই চরিত্রটি একটি অত্যন্ত বাস্তব আধুনিক চরিত্র। এমন অসংখ্য না হলেও নারী আছে, যাদের নিজ জীবনে জটিলতার অভাব না থাকলেও তারা আত্মমর্যাদাটুকু সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে পারে না। নীনা ছাত্রজীবনে সংগঠন এর সাথে জড়িত থাকায় এবং বাল্য থেকেই তার ছবি আঁকার নেশা থাকায় আধুনিক সাহিত্য এবং চলচ্চিত্র সম্পর্কে চমৎকার এক রুচিও থাকে তার। অবসরে তাকে আমরা পড়তে দেখি তাই ভ্যানগগের আত্মজীবনী, আওড়াতে দেখি সুধীন দত্তের কবিতা, আলোচনা করতে দেখি হিচককের দ্য বার্ডস নিয়ে। আত্মসম্মান এবং স্বচ্ছ রুচি-দৃষ্টির মেলবন্ধনের সাথে এই বিষয়গুলো সাযুজ্যপূর্ণ। নীনার পরিবার সাধারণের চাইতেও সাধারণ। বাবা তাবলিগ করেন, চাচাদের ভার নিলেও ছেলেমেয়েদের মুখে অন্ন জোটানোর ক্ষমতা থাকে না। মা দারিদ্র্যের সাথে যুঝতে যুঝতে হারিয়ে ফেলেন সমস্ত নৈতিকতাবোধ। স্পষ্টতই বিপথে যায় ছোট বোন রানু যার মধ্যে জান্তব এক বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হতে দেখা যায়। আরেফিন, যে চাচার বাসায় বড় হওয়ায় কোনমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখা পেলেও শেষ করতে হিমশিম খায় পড়া, রাজনীতির করাল গ্রাসে পড়ে। নীনার মায়ের এক বড়লোক প্রেমিক ইরফানুল কবির নীনাকে আঁকতে উৎসাহ দেন। এই ইরফান চাচা আর নীনার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং সম্পর্ক এই উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নীনার প্রতিবেশী শানু আর তার বরের দাম্পত্য সম্পর্ক মনে করিয়ে দেয় হাজার হাজার নারীর কথা যারা অনায়াসে সংসারের জন্য আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে পারে। স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক চোখের উপর দেখেও সেই স্বামীকে ক্ষমা করে তার সাথেই একটা সুন্দর সংসারের অলীক স্বপ্ন দেখতে পারে, যা নীনারা পারে না। নীনারা কিন্তু নিগৃহীত হয় ওই শানুশ্রেণীর মহিলার কাছেই। উড়ুক্কুতে এসেছে এমন কিছু সম্পর্কের কথা, এমন সাহসিকতার কথা, যা ৩০ বছর আগে লেখা হয়েছে, এক নারীরই কলমে, বিশ্বাস হতে চায় না। বিশ্বাস হতে চায় না এমন সব যৌন সম্পর্কের কথা লিখে গেছেন এইভাবে অকপটে লেখিকা, যা তখন বাস্তব হলেও মানুষ বলতে চাইত না। উপন্যাসের সময়টা ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের। তাই রাজনৈতিক ডামাডোলের কথাও এসেছে বারবারই। জীবনকে যে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন লেখিকা, যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন ভাবপ্রকাশে তা রীতিমতো আশ্চর্যজনক। এমন একটি উপন্যাস লিখতে সত্যিই খুব সাহসের দরকার, এমন একটি উপন্যাস পড়তে এবং হজম করতেও পাঠকের দরকার অসীম সাহসের।
এই বইটা... হ্যাঁ, এই বইটাই, একে নিয়ে কি বলবো আমি? এমন নিষ্ঠুর, মর্মপীড়াদায়ী, জীবন্ত, জান্তব বই কি আমি পড়েছি কখনো? নাকি এমনভাবে নাড়া দিয়েছে? নাহ, মনে পড়েনা।
লেখিকাকে দেখা পেলে হাত দুটো ধরে বলতাম, "এইযে, এমন করে লেখে কেউ? কেন লিখলেন এভাবে? অন্যায়, বড্ড অন্যায়।" কি অন্যায়? কিসের অন্যায়? এ নিয়ে আমিই বা বলার কে? -না, কেউ না আমি। কিন্তু... ঐ যে, ঐ কিন্তুটাই সব সমস্যার গোড়া।
এইযে আপনি! হ্যাঁ, আপনিই। এইযে আমার লেখাটা পড়ছেন, তারপর যদি বইটা পড়েন, তাহলে হয়তো বলবেন; ধুর কি আছে এতে? এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কি আছে?
সত্যিই হয়তো নেই। কিন্তু কালো অক্ষরগুলোও যে এত যন্ত্রণা দিতে পারে, আগে কি জানতাম? তিনটা দিন, হ্যাঁ তিন তিনটা দিন আমি আর কিচ্ছু দেখিনি, মুখ গুঁজে ছিলাম ফোনের স্ক্রিনে। নাহ, কাগুজে বই ছিল না তখন হাতে। ইবুকে অনভ্যাস সত্ত্বেও প্রথম কয়েকটা পাতার পর কেন আর ছাড়তে পারিনি? তখন মনটাই বড্ড অশান্ত ছিল বলে? নাকি অনেক বছরের লালিত স্বপ্ন সেই সাদা এপ্রন গায়ে জড়াতে না পারার দুঃখে মেয়েটার যখন মনে হয়েছিল 'মাটির সাথে মিশে যাই, হারিয়ে যাই', তখন কোনো আশ্রয় না পেয়ে ঐ অক্ষরগুলোয় আশ্রয় খুঁজেছিল বলে? নাকি আর কিচ্ছুনা, সব ঐ দুঃখবিলাসী কল্পনাপ্রবণ মনের কারসাজি? জানা নেই, উত্তর জানা নেই। ঠিক কখন কোন বিষয়টা জীবনের সাথে জড়িয়ে যায়(হোক সেটা খুব সামান্য), তা কি আমরা বলতে পারি? তেমনি করে লেখিকার "নীনা"ও জড়িয়ে গেছে আমার সাথে। তাতে কতটা ভালো হয়েছে, নাকি শুধুই ক্ষতি হয়েছে, জানিনে। শুধু এটুকু বলতে পারি, শান্তি পাইনি। চরিত্রগুলো, বাস্তবতাগুলো আমায় তাড়িয়ে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে, উপন্যাসের সাথে বা কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে আমার মিল আছে কিনা, তবে বলবো;নেই। যা আছে, খুবই সামান্য। অল্প বয়সের কাঁচা মন অপরিপক্ব ছিল বলেই কি নীনা এমনভাবে মিশে গেছে নিজের সাথে? আমি কি বলতে পারবো যে কেবল এটা লেখিকারই কারসাজি, নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে কলমের খোঁচায় ব্যবচ্ছেদ করেছেন, তাই আমার এমন অনুভব হয়েছে? কিন্তু তখন কেউ যদি বলে বসে, 'ওসব তেমন কিছুই নয়, তোমার দুঃখবিলাসী কল্পনাপ্রবণ মনই বাস্তবতাগুলোকে এতটা জান্তব করেছে' - তাও কি অস্বীকার করতে পারবো? জানিনা।
বাস্তবতার নিষ্ঠুর কষাঘাতে বিধ্বস্ত, বিবর্ণ ঐ নারীর প্রতি কিসের আমার এত গভীর মমত্ব? কেনই বা? এর উত্তরও নেই। রঙতুলি নিয়ে বসলেও কেন তার ইজেলের কথা মনে পড়তো আমার? জানিনা।
এতকিছুর মধ্যে নীনার সেই ছাত্রীর সাথে আমার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর কেন এত মিল থাকতে হলো? কেন প্রতিদিন টিউশন থেকে ফেরার পথে আমার নিজেকে নীনা মনে হতো? কেন এত বেশি ক্লান্ত লাগতো? ঐযে ঐটুকু বাচ্চাটা, তার সাথে আমার বন্ধুত্ব,মমত্বের টান।কিন্তু তার কথাগুলো... কেন ইচ্ছে করতো না শুনতে? এত ছোট বয়সে মানুষ প্রেম করে? কি বুঝে সে প্রেমের? প্রেম তো দূরের কথা, কখনো কারো সাথে একান্তে না-বসা আমাকেই কেন তার প্রথম চুমুর কথা শোনাতে হলো? কেন বলবে আমায় তার বান্ধবীর অ্যাবিউজের গল্প? কেন আমার ছাত্রের মা তার দাম্পত্যের অশান্তি দুঃখ করে বলবে? জানি, এই 'কেন' গুলোর মানে নেই। কাছের মানুষ মনে করেছে বলেই বলেছে। অথচ আমার অপরিপক্ব মন সবকিছুই ঐ বইটার সাথে রিলেট করেছে। যে ঘটনার সাথে নিজের কোনো সম্পর্কই নেই, তা নিয়েও মাথায় যন্ত্রণা হয়েছে প্রচণ্ড, পাগল পাগল লেগেছে। সমাজের কিছু নিষ্ঠুর বাস্তবতা, কিছু গোপন সত্য (যা প্রত্যেকটা বাড়ির দরজার আড়ালে থাকে), সেসব যখন চোখের সামনে আসে, কানে শুনি, কান গরম হয়ে ওঠে।
নাহ, আর না, এসব কিচ্ছু না। সবই প্রলাপ। একটু পরই যেগুলোর জন্য আফসোস আর লজ্জা হবে। মুছে দিতে ইচ্ছে হবে। যেমনটা মুছেছি এর আগেও কয়েকবার। বারবার লেখার চেষ্টা করেছি এই বইটা নিয়ে, লিখেছিও, আবার মুছে দিয়েছি। এইযে ঘোরের মধ্যে যা তা উগড়ে দিচ্ছি, ঘোর কেটে গেলেই বড্ড ফালতু আর অহেতুক লাগবে। এমন হয়, হচ্ছে ইদানিং।
মাঝেমাঝে মনে হয়, এই নিয়ে লেখা শুরু করলে একটা বই ই হয়তো লেখা হয়ে যেতো। কিন্তু সবকিছুরই শেষ আছে, একদিন হয়তো আমার কলমও থেমে যেতো। যেতে বাধ্য। নয়তো ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়তাম।
এইযে প্রলাপ বকছি, জানি, এসবের কোনো মানে নেই। তবুও কীবোর্ডে মৃদু তালে আঙুলগুলো নড়ে চলেছে, তাদের মতো করে, কিসের যেন যাদুবলে। যেন আমার নিয়ন্ত্রণ নেই, বোধ নেই, অনুভব নেই, কিচ্ছু নেই। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা নিঃস্পৃহ ভোঁতা অনুভূতি লেপ্টে গেছে সারা-শরীর-মন জুড়ে। আমি যেন আমি নেই। মনের কোনো গোপন কুঠরিতে হঠাৎ একটা সামান্য ঘা খেয়েই ঘুমন্ত সেই নীনা সত্ত্বা জেগে উঠেছে। তাল সামলাতেই কলম নিয়ে বসেছে। উঁহু না, আঙুলে ভর করেছে। সেই লিখছে। উঁহু, না, লিখিয়ে নিচ্ছে। আমি নেই, এখানে, ওখানে, কোত্থাও নেই। আমার কি কোথাও থাকার কথা ছিল? কে জানে!
মাঝেমাঝে আশংকা হয়, এইযে আমার এক ইচ্ছে; একদিন পথে বেরিয়ে হারিয়ে যাওয়ার। এই ইচ্ছের কুঁড়ি একদিন হয়তো সত্যিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। সেদিন আর কোনো বন্ধনেরর মায়া আগল দিয়ে রুখতে পারবে না। খুব গোপনে, নিঃশব্দে, চুপিচাপি একদিন ভোর রাতে বেরিয়ে পড়বো অজানার উদ্দেশ্যে। সামান্য বাঁচার সম্বল ছাড়া আর কিছু থাকবে না সাথে, কিচ্ছুটি না। কেউ জানবে না, কেউ চিনবেও না, একটা সময় গেলে পরিচিত কেউ আর খুঁজবেও না। এমনকি যেদিন নিঃশব্দে চলে যাবো, পাশে থাকা মানুষটা তার আগ পর্যন্ত হয়তো বুঝবেও না। নাহ, ভেবে দেখেছি, এই অন্তর্ধানে খুব একটা অপরাধবোধও হবে না। আসলে কারো জন্য কি কিছু আটকায়? থেমে থাকে? না, থাকেনা। সময়ের সাথে সবকিছুই নিজের নিয়মে চলে, চলবে। সেদিন, কেউ মনে রাখল কিনা, খুঁজবে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ থাকবে না। মন হবে পাখির মতো, শান্ত নদীর মতো, পেঁজা তুলোর মতো দেখতে মেঘের মতো... হারিয়ে যাবো, চেনা লোকালয়ের বাইরে। হয়তো কোনো একদিন দেখা যাবে শহরের কোণে ছোট্ট এক বৃদ্ধাশ্রমে অথবা কোনো অনাথাশ্রমে, পরিচয় ভুলে একটা মানুষ মিশে গেছে ওদের সাথে।
এটার পরে ওরিয়ানা ফাল্লাচির 'হাত বাড়িয়ে দাও' বইটা পড়েছিলাম। তারপর অনেকদিন আর কিছু পড়তে পারিনি। একজন নারী, আর একটা না জন্মানো শিশু যেন অস্তিত্বের সাথে মিশে গিয়েছিল। তারা যে এখনো মিশে নেই, সে কথাও তো বলতে পারিনা।
যাই হোক, আঙুলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। হয়তো কিছুটা এসেছে, তাই প্রলাপ থামিয়ে দিলাম। আবার কোনো এক দিন...
তবে, কেউ যদি প্রশ্ন করে; কেন বছর চারেক পর, আজ, এখন, এই মুহূর্তে আমার এসব প্রলাপ বকতে ইচ্ছে করল? -সে উত্তর আমি হয়তো জানি, হয়তো জানিনা, অথবা বলবো না...
It is a story about a poor woman trying to keep up with her life against her economic condition. The story is quite sad, very dark, depressing. The chapter on struggle and oppression of the sisters in their childhood is able to make you cry several times in a single day. 4.5/5
The writer has very vividly described the Dhaka life from the perspective of a poor. The past flashback is used quite frequently in the book and may lead to confusion between the timelines. The literary quality is Ok overall but writing is dull in middle infact very dull. It is quite difficult to keep on the book after a certain time. 2.96/5
Ok read. 3.5/5 overall I got this as gift. May be, I would like to reread it for more details on relation between city and its poverty and resulting socio economic complexity. Or maybe not.
Nasreen Jahan writes in her novel The Woman Who Flew, set mainly in Dhaka, the capital of Bangladesh : "Is art possible without anguish?"
I think that it is not, but the anguish of artistic creation need not always be exposed for its audience to experience. In Jahan's novel, I was exposed to too much of it.
This is a book about anguish and introspection. I have read the first 162 of its 360 pages, and if I try to go any further I'll need to reach for a bottle of extra-strong 'Prozac' tablets. So, I am abandoning it, and doubt that I will ever want to resume reading it.
If you were looking for an inspiring story of the triumph of a woman against all odds in our society, this is not that book. Instead it is a grotesque description of the turmoils that a non-conformist woman from lower middle class has to go through; as a child; as a wife; as a divorcee. Yeah it is set in Dhaka, but could it be any different in the rest of the sub-continent? The descriptions are so vivid that you can almost feel the stench flaring up your nostrils and inducing nausea. More so because they are not far from the truth that we may all have seen, in our lives or in the lives of others around us. Kudos to the translator. Penguin has done a filthy job with the publishing though. Words are cut on many pages but that doesnt really ruin the reading. Finished it in one and a half day.
নারী চরিত্র কেন্দ্রিক উপন্যাস লেখালেখিতে লেখিকারাই বেশি জোর দেন। খুব কম লেখকই নারী প্রধান আখ্যান রচনা করেছেন। নারীর দুঃখটা নারীরাই বোঝেন কিনা তাই এই বিষয়ের লেখালেখিতে নারীরাই এগিয়ে। নাসরীন জাহানের উড়ুক্কু উপন্যাসটি একজন নারীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। পৃথিবীটা একজন নারীর জন্য কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে তাকে উপজীব্য করে গল্পের জাল বুনেছেন লেখিকা।
নব্বইয়ের দশকে ইরাক যখন কুয়েতে আক্রমণ চালালো তার প্রভাব আমাদের বাংলাদেশেও পড়েছিল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের কামরা পর্যন্ত যুদ্ধের আলোচনায় সকলে মত্ত থাকত। নীনা তরফদার যে অফিসে চাকরি করে সেই অফিসেও আলোচনার বিরাম নেই। কিন্তু এই আলোচনায় তার তেমন আগ্রহ নেই; কারণ সে নিজেই নিজের সাথে এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রেজাউলকে। বিয়ের কয়েক বছর পর রেজাউলের গোপন এক চরিত্র যখন নীনার কাছে প্রকাশ পায়; তখন ঘৃণায় মুখ কুঁচকে আসে তার। সন্তানের মৃত্যুর পর যতটুকু মানসিক সহায়তার দরকার ছিল নীনার, তা পায়নি রেজাউলের থেকে। ধীরে ধীরে উভয়ের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ফলাফল ডিভোর্স। নীনা যখন রেজাউলকে ছেড়ে আসলো তখন অনেকেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বলেছিল; আবার কেউ কেউ বলেছিল এমন সম্পর্ক না রাখাই ভালো।
ডিভোর্সের পর নীনা সাবলেট হিসেবে একটি ফ্ল্যাটে উঠে। শানু এবং তার স্বামী কামালের সাথে সাবলেটে বসবাসের বিষয়ে সকল শর্তাদি বলা থাকলেও প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নীনা ও শানুর ঝগড়া লেগে যায়। কিন্তু শানুর কিছুক্ষণ পরেই নিজেকে অপরাধী মনে হয় এবং নীনার কাছে গিয়ে ক্ষমা চায়। মাতৃত্বের স্বাদ না পাওয়া শানু তার স্বামীর সাথেও অযথা ঝগড়া করে। নানা কারণে স্বামীকে সন্দেহ করতে থাকে। পাশের বস্তির এক মহিলা যখন নীনার কাছে আসতো তখন তাকে নিয়ে কামালের সাথে মিলিয়ে নানা কুরূচিপূর্ণ কথা বলতেও শানুর মুখে আটকায় না।
নীনার বাবা সারাবছর তাবলীগ জামাতের সাথে দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াতেন। তাই পরিবারের প্রতি কখনো নজর দেওয়ার সময় হয়নি। সন্তানেরা যে যার মতো বেড়ে উঠেছিল। নীনার ছোট বোন রানু পরিবারের দারিদ্রতার বলি হয়ে মজুমদার নামে এক জান্তব ব্যক্তির কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। একটা সময় রানু এই নির্যাতনের ঘটনাকে গৌরবের ঘটনা বলেই মেনে নেয়! ছোট ভাই আরেফিন চাচার বাসায় থেকে লেখাপড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের কারণে পালিয়ে বেড়ায় এবং টাকার জন্য নীনার কাছে আসতে হয়।
আঁকাআঁকির প্রতি নীনার শখ ছিল ছোটবেলা থেকেই। তাই যখন সবকিছু হারিয়ে মায়ের পুরনো প্রেমিক ইরফানুল কবিরের বাড়িতে যায়, তখন তিনিও নীনাকে উৎসাহ দেন। সংস্কৃতি এবং শিল্পের প্রতি খুবই অনুগত ইরফানুল কবির। উভয়ের মাঝে এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়। ইরফানুল কবির বড় ঘরের মেয়েকে বিয়ে করলেও বিবাহিত জীবনে অসুখী; তাই নীনার সাথে একটি সহজ সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় দ্রুতই। বিয়ের পর রেজাউলের অনেক বন্ধুর সাথেই নীনার সখ্যতা গড়ে উঠে। তাই ডিভোর্সের পরেও নীনা তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। বন্ধুদের মাধ্যমেই রেজাউল পুনরায় সম্পর্কে থিতু হতে চায়। অথচ নীনার পক্ষ হতে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। হাসপাতালে অসুস্থ সালাহদিনকে দেখতে গিয়ে পরিচয় হয় ওমরের সাথে। সেই ওমরই হয়ে উঠে নীনার স্বপ্নের পুরুষ। তবু দোটানায় পড়ে যায় তার মন। পুরুষ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে নতুন করে কোথাও থিতু হতে বারণ করে দেয়!
একজন নারী যখন অভিভাবকহীন হয়ে যায় তখন অনেক পুরুষই তার দিকে হাত বাড়ায়, মুফতে যদি কিছু পাওয়া যায়! এই ফাঁদে অনেকেই ধরা দেয়। আবার অনেকেই নীনার মতো গা বাঁচিয়ে চলতে চায়। তবু আটকে যায় কোথাও না কোথাও। নীনার মাধ্যমে লেখিকা একজন সাহসী নারী চরিত্রের উপস্থাপন করেছেন। স্বামীর বিকৃত মানসিকতা ও অবহেলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেরিয়ে আসতে ক'জন নারীই পারে! আবার নীনা চরিত্রের দূর্বল দিকটাও অজান্তে নির্মাণ করেছেন লেখিকা। ঘর ছেড়ে ত বেরিয়ে আসা গেল; তারপর কী হবে? কোন তীরে নৌকা ভিড়বে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কারণ একজন নারীর পক্ষে একা বেঁচে থাকাটাও অসুবিধার। এই সময়ে নীনাও ভুল করে এবং সে তার চরিত্রের কালিমাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মাথাকে উঁচু করে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
একটি নারীকেন্দ্রিক চরিত্রের উপন্যাসে নারীর দুঃখ, দুর্দশাকে প্রাধান্য দিয়ে যখন কাহিনি প্রবাহিত হয় তখন স্বভাবতই সমাজের অন্ধকার দিকটা ফুটে উঠে। তবে এটাই কি সত্য? মুদ্রার অপর পিঠও রয়েছে। উপন্যাসটিতে নীনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন, সে পরিস্থিতির শিকার সকল ক্ষেত্রেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে তার ভুলগুলোকেও এড়ানোর উপায় নেই। নীনা সাহসী নারীর পাশাপাশি দূর্বল ব্যক্তিত্বেরও পরিচয় দিয়েছে। নীনা তার ভেতর ও বাহির উভয় জীবনের সাথেই যুদ্ধ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ভুল সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে; এমনটাই লেখিকার বক্তব্য। নারীকেন্দ্রিক উপন্যাসগুলোতে শুধু নারীর দুর্বিষহ জীবনকেই উপজীব্য করার প্রথাটা লেখিকা ভাঙতে পারেননি।
অনেক সময় নারী কেন্দ্রিক নারী লেখিকাদের উপন্যাসগুলোতে ইনিয়ে বিনিয়ে একই কথার পুনরাবৃত্তি হয় যে; পুরুষই শুধু খারাপ। এই লেখাটিতেও তার কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। লেখার গতি ও বর্ননা ভালো। বইটি পড়লে নীনার দুঃখবোধে পাঠকও আক্রান্ত হবে। লেখিকার নীনা চরিত্রটা নির্মাণে আরেকটু জোর দেওয়া উচিৎ ছিল। অন্তত নীনার মাঝে দ্বিচারিতা স্বভাবটার দিকে নজর দিতে পারতেন। নীনার জবানিতে একজন নারীর দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখতে পাবেন বইটিতে। হ্যাপি রিডিং।
A dark and depressing tale of a Bangladeshi lower-middle-class woman living in Dhaka, struggling with her poverty, dysfunctional family, feelings towards herself and her surroundings, issues with marriage, and interpersonal relationships with those around, her cousin-uncle, friends, colleagues, neighbors, etc. Set in the early nineties with tumultuous politics, extremely misogynist society, stark destitution at every corner, we vicariously experience the story of Nina, the protagonist.
For a female author from the 90s, the novel offers some shocking incidents/viewpoints that the viewers, considering the conservative environment of the novelist of that era, may find bewildering. That is one of the attraction points of this novel. I leave it up to the reader to find the surprises themselves.
The novel is indeed a must-read for anyone who wishes to explore the lower-middle-class dynamic from a feminine or feminist perspective. Too often, the intellectuals or the elite view this class as a group of faceless beings with no individualism and suffering through their meager lives. Nasreen Jahan breaks away from such dehumanizing stereotypes and presents us with the story of the downtrodden through an individualistic woman. In this sense, the book represents a combination of feminism and individualist expression of the lower class. The story, despite set in the early 90s, is still very relevant to present Bangladeshi society, with its ongoing political troubles, poverty, misogyny, the general decaying environment. I sometimes felt that I am still living in Nina's world. I question myself now, 'How much progress did we truly make since the 90s?'
My only qualm with this eye-opening novel is the ending which in my opinion seems 'unfinished'. I felt a lack of closure when I read the final pages as if questions were left unanswered. Maybe, it was a conscious decision from the author to depict the continuity of human life into uncertainty. Yet, for me novels do require some form of conclusion which I find the story lacking.
i was thinking that i would like this book but it was nothing great. this is about a woman called nina. it is based in dhaka,bangladesh. she falls in love with her mothers ex-lover irfan who encourages her to start painting again as that is what her passion is. she loves to paint and he wants her to do that. she had been married once for two years. she was married to her ex-husband rezaul. she then gets pregnant , that is what happens. it is about the country she grew up in and about what views the people of her country have towards the war in iraq. this book was just okay. her full name is nina tarafdar who is thirty years old.
The depressing life of a young lower-middle-class Bangladeshi woman who seeks solace in her imagination & art. I like the author's use of stream-of-conscious, the dream-like writing style, the description of early 90s Dhaka as a vibrant yet oppressive city, and the vivid depiction of emotion that reminds me of the style of Doris Lessing.
It was not an exciting read but I committed myself to finishing it. It honestly taught me patience while reading. It gave me an opportunity to reflect a little more deeply about the bigger themes & lessons rather than unending suspensful engagement & super climactic events. The themes being patriarchy, poverty, family, and more. It was left to me as a gift from a couch surfer. In the end, I was glad I read it.
The dreary life of the impoverished is painted quite starkly in this bleak novel. It rightfully shows poverty as a trap through which escape is not a high possibility. Nina's aspirations, constantly stumped by her situational constraints are a shameful eye opener.
The deep and depressing realism of a young woman's life in a third world country. The books gives you nitty gritty of the social ills and taboos surrounding the lives of the not-so-privileged in the 90s. Reminds me of Monica Ali's celebrated Brick Lane, but is much more sordid. This is not a book you can read over a comfortable weekend and it's not for everyone.