শেষ আখ্যানে জিতবে কে? প্রেম? বিবেক? পরিবার? সমাজ? নাকি বন্ধুত্ব?
বন্ধুদের আলাদা জায়গা থাকে। যে জায়গাটা উচ্ছ্বাসের, আনন্দের, নির্ভরতার এবং স্বস্তির। ওরা ছয়জন এই বিশেষ স্থানের নাম দিয়েছে বৃষ্টিমহল। শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত হয় নি। একটা কাচ দেয়ালের মহল বানানোর স্বপ্নও দেখে ফেলেছে।যে মহলের চারিধার থাকবে আয়না দিয়ে ঘেরা। মহলের ওপরের কাচের আচ্ছাদনে আকাশ সর্বক্ষণ তার মুখখানি দেখতে পাবে। তারপর বর্ষাকালে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে, মহলের গায়ে গায়ে বৃষ্টি তার ইচ্ছেমতন আলপনা আঁকবে আর মহলের বাসিন্দাদের মনে হবে ছাদটা আসলে কাচের নয়, আয়নার নয়, ছাদটা আসলে বৃষ্টির! এই ছেলেমানুষি স্বপ্নের বাস্তবায়ন কখনও হবে কিনা তা ওরা জানে না, তবে এটুকু জানে যে ওদের প্রত্যেকের বুকের ভেতরে একটি করে বৃষ্টিমহল আছে। থাকবে ততদিন, যতদিন ছয়জনের এই বন্ধুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে। ওরা চায় আজীবন এই বৃষ্টিমহলকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু চলার পথে যদি কখনো কোন এক প্রলয়ংকরী কালঝড় তীব্র বেগে ছুটে এসে গুঁড়িয়ে দিতে চায় বৃষ্টিমহলকে, ছিনিয়ে নিতে চায় ওদের বন্ধুত্ব, তখন কী করবে বৃষ্টিমহলের বন্ধুরা? সেই ঝড়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে কি? সমস্ত বাধা বিপত্তি পায়ে ঠেলে শক্ত করে ধরতে পারবে কি একে অন্যের হাত?
বেশ এভারেজ। তবে খারাপ না। বন্ধুত্বের খুনসুটিগুলো ভালো লেগেছে। পড়তে পড়তে মনের মাঝে হুহু করে উঠে, নিজের আড্ডার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। সেই সুন্দর সময়গুলোর কথা মনে পড়ে বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে৷ বৃষ্টিমহল সিরিজের শেষ বই ছিলো এটিই। এই বইটা অবশ্য বেশী রিলেশনশিপ ফোকাসড। ভালোই সমাপ্তি টেনেছেন লেখিকা। এই বই নিয়ে OTT প্ল্যাটফর্ম এ মিনি সিরিজ বানাইলে সেই মার্কেট পাওয়া যাবে, সকল ড্রামাটিক এলিমেন্ট আছে।
আমার কেন যেন মনে হয় বৃষ্টি মহলের সবগুলো পার্ট আমি হাত ছাড়া করলেও একটা পার্ট আমি কখনো হাত ছাড়া করতে পারবো না সেটা হলো স্বপ্নের বৃষ্টি মহল।শেষ ভালো যার সব ভালো তার বলে একটা কথা আছে আপু এটা এতো ভালো ভাবে করে দেখিয়েছেন। এতো পার্ফেক্ট একটা এন্ডিং আমরা পাঠিকারা খুব দোলাচলে ছিলাম একটা আপাত দৃষ্টিতে অসম সম্পর্ক নিয়ে,কিন্তু আপু এর সমাপ্তি টুকুও এতো সম্মান জনক টেনেছেন মনে হয় না এর বিপরীতে আর কিছুও হতে পারে,পারতো। অমৃতার সাথে রাশেদের সম্পর্কটা শুরুতে একটা ধ্বাক্কার মতো ছিলো আমার জন্য, কারণ হচ্ছে বহুদিন হতে গড়ে ওঠা ট্যাবু ১.এক্সট্রা ম্যারিট্যাল অ্যাফেয়ার ২.বন্ধুর বাবার সাথে সম্পর্ক এই দুটো দিক কোনভাবেই এড়াতে পারছিলাম না।কিন্তু লেখিকা আপু প্রতিটা মুহূর্তে অমৃতার সাথে (আমার বিশ্বাস যারা গল্পটা পুরো মন দিয়ে পড়বে তারা সবাই) আমাদের পাঠকুলকে বাধ্য করেছে ওদের সম্পর্কটাকে ভালোবাসতে। স্পয়লার দিবো না আমি চাই সব বৃষ্টি মহল প্রেমিরা স্বপ্নের বৃষ্টি মহল পড়ুক নাহলে খুব ভালো কিছু মিস করে যাবে,শুধু এটুকুই বলবো শেষে সামি যখন অমৃতাকে বাসায় নিয়ে আসে ঐ অংশগুলো ওফফ্ সবকিছু ছাপিয়ে ওদের বন্ধুত্বটা এক অন্যমাত্রায় নিয়ে আসে বুকের কোথাও চিন চিন করে ওঠে এমন একটা বন্ধু মহল যদি আমারও থাকতো।সব কিছু ছাপিয়ে বন্ধুত্বটা সবার মনে দাগ কাটতে বাধ্য।আপু সবগুলো অপশনই রেখেছিলো সম্পর্কের টানা পোড়েনে শেষ হাসি হেসেছে বন্ধুত্ব,বন্ধুত্বের জয়গান আর সব ছাপিয়ে গেছে। খুব লোভী হয়ে পড়ছিলাম পড়তে পড়তে ভাবছিলাম রাশেদের কি কোন অধিকার নাই ভালোবাসায় সুখী হওয়ার,কিন্তু Wasika Nuzhat Faria আপু এখানে ওদের বন্ধুটা ছাড়া আর কিছু ভাবার সুযোগই দেন নি।অমৃতার মতো আমরাও এ বন্ধুত্বের আহবান, অস্বীকার করতে পারিনি, রাশেদের সাথে এক হওয়ার সুযোগটা পাওয়ার পর মনে হচ্ছিলো ব্যাস এটাই হোক আর কিছু লাগবেনা কিন্তু আর বিনিময়ে সামির চাহিদা গুলো শুনার পর বার বার এ প্রার্থনাই আসছিলো মনে আর যাইহোক এ ভালোবাসা পূর্ণতা না পাক শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বটা টিকুক। কেন যেন আমার মনে হয়েছে রাশেদ অমৃতার ভালোবাসাটাও অসফল হয়নি লেখিকা আপুর শেষ ফিনিশিং গুলোতে আমার মনে হয়েছে কোথাও না কোথাও ওরা মিলে গেছে ওদের এই বিচ্ছেদই ওদের মিলন ঘটিয়েছে। সামির সামনে ওদের এই সম্পর্কের সম্মান জনক অবস্থান ও বিচ্ছেদের ক্ষনটুকু,পুরো পৃথিবীর সবাইকে ছাড়িয়ে শুধু মাত্র ওদের বন্ধুগুলোর এই সম্পর্ক নিয়ে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তনটার মধ্যেই আমার মনে হয় অমৃতা রাশেদের ভালোবাসার জয় এসেছে। সবগুলো সম্পর্কের একটা পরিপূর্ণ সমাপ্তি পেয়েছি এখানে আমি,সামি হৃদির সব অভিমান ভুলে মিলটা ছিলো অনবদ্য,এর মধ্যে হালুলুকার চিরকুট গুলোও খুব মজার ছিলো,পরে যখন এর রহস্যের উদঘাটন হলো খুব মজা পেয়েছিলাম।ভাবঘুরে রুদ্রও যে সম্পর্কে জড়িয়ে এর প্রতি এতোটা সিরিয়াস হয়ে যাবে বুঝাই যায় নি।একটা কোন রকম আগাম পূ্র্বাভাস ছাড়া রুদ্রের গড়ে ওঠা ভালোবাসার অংশটুকুও পড়তে পড়তে এক অন্য রকম টান অনুভব করছিলাম পরে কি হবে এর পরের পরিণতি ঠিক কি?বিয়ে তো হয়ে যাচ্ছে অথচো এখনো কেউ কারও ভালোবাসা টুকু ঠিক মতো বুঝতেই পারলোনা এখন??অথচ আগুন লেগেছিলো দুদিকেই সমান ভাবে,পরে অংশটুকু এতো সিন্যামেটিক ছিলো এক কথায় অসাধারণ। কার সাথে রুদ্রর সম্পর্ক হয় এটা বলবো না কারন আমি প্রথমে ওর সাথে রুদ্রকে ভাবতেই পারিনি,ভেবেছিলাম হয়তো আকাশ হবে কারণ রুদ্রর তো মনিশা আছে। সবশেষে এটাই বলবো স্বপ্নের বৃষ্টি মহল বইটা আমি কয়দিন পর পর আবার পড়বো, আবারও পড়বো তারপর আবার কতোদিন পরে পড়বো এটার শুরু থেকে শেষ অবধি একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। আমাদের পাঠিকাদের জন্য এটা একটা গিফট আপুর পক্ষ থেকে এমন একটা গিফট যা বার বার পড়তে মন চাইবে। ধন্যবাদ আপু এতো সুন্দর একটা গল্প আমাদেরকে উপহার দেয়ার জন্য।
আমি এক বসায় বইটা শেষ করলাম। ওয়াসিকা নুযহাতের বৃষ্টিমহল সিরিজের প্রতি আমি অন্যরকম একটা টান অনুভব করতাম। স্বপ্নের বৃষ্টিমহল দিয়ে অবশেষে শেষ হলো বৃষ্টিমহলের জার্নি। বন্ধুত্ব, প্রেম,একাকিত্ব,সামাজিক দায়বদ্ধতা সবকিছুর দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেই বারবার একটা কথা মনে আসছিলো এগুলো আমারই দীর্ঘদিনের জমানো দীর্ঘশ্বাস না তো! সত্যি বলতে মনটা বড়ই ভার-ভার লাগতেছে। আমার জীবনে কী এমন বন্ধুত্ব কোনোদিন আসবে? আবার এটাও মনে হচ্ছে নিজের জীবনে এমন সব পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলানোর জন্য পাশে কেউ থাকবে তো? নিতান্তই ফিকশনাল গল্প কিন্তু পার্সোনাল লাইফের সাথে ভালোমতোই রিলেট করে ঘোরের মধ্যে চলে গেছি...