" শুনো শুনো মরদরা, দুঃখের কথা শুনো এই গ্রামে নাহি বাঁচে, বাচ্চা বিটি কুনো, প্রতি বছর আঁধার কালে, জাগি উঠে সে ওই শুনো ধামসা বাজে, সে আসে, সে আসে, রে..."
পুরুলিয়ার পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলে জঙ্গলে ঘেরা গ্রাম চালসিয়া। এই গাঁয়েই এক বিশেষ ছৌ নাচের পরবে কেটে নেওয়া হয় ছোট ছোট শিশুদের অঙ্গ? কিন্তু কেন?
পরপর তার নাম তিনবার মুখে নিতেও ভয় পায় একটা গোটা গ্রামের মানুষ। এই চিগারু আসলে কী? কেন গরুখুটা পরবের পর এই গ্রামে তিন পক্ষকাল আর রাত জাগা যায় না?
লোকে বলে পঞ্চকোট পাহাড়ের তলাতেই আছে চিন্দারা। সেখানে নরকের আগুন সবসময় জ্বলছে। কী হয় যখন চিগারু তার শিকারকে ডেকে নিয়ে আসে চিন্দারায়? কেন সেখান থেকে কেউ কখনও ফেরে না?
কলকাতা থেকে চালসিয়ায় বুধাদিত্য এসেছিল পূর্বপুরুষের ভিটা দেখতে। সঙ্গে আরও ভাইবোনেরাও। কিন্তু ও দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি এমন ভয়ংকর বিপদ ওদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। কী হবে যখন চিগারু আহ্বান জানাবে ওদের নিজের খেলায়? কী হবে যখন শুরু হবে চালসিয়া গ্রামে আন্ধারের কাল?
জানতে হলে পড়ুন "আখিদা", "ঝুমনির" পর ত্রিজিৎ করের নতুন দমবন্ধ করা হরর ফ্যান্টাসি উপন্যাস "চিগারু!"
👹☠️বইয়ের নাম - চিগারু☠️👹 ✒️লেখক - ত্রিজিৎ কর 🖨️প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন 📔প্রচ্ছদ - অভিব্রত সরকার 💰মূল্য - ২২২₹
🎋📑 সদ্য পড়ে শেষ করলাম বিভা অলৌকিক সিরিজ এর ‘চিগারু’ বইটি। লেখকের অন্যান্য লেখা গল্প আগেও পড়েছি। বিশেষ করে ‘ঝুমনি’, ঝুমনি আমার ভীষন পছন্দের একটা বই। আপনি কি গ্ৰামবাংলার অলৌকিক ঘটনা কে বিশ্বাস করেন? যদি না করেন তাহলে এই বই একবার পড়ে দেখুন ভয়ে শিহরিত হওয়ার সাথে সাথে অলৌকিক ঘটনাকেও একটা সময় বিশ্বাস করতে শুরু করবেন!
🎋📑এবার আসি গল্পের মূল বিষয়বস্তুতে ~ পুরুলিয়ার চালসিয়া নামে একটি গ্ৰাম। এখানে ছৌ নাচের এক বিশেষ পরবে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের অঙ্গবলী দেওয়া হয়। কিন্তু কেনো এমন অদ্ভুত নিয়ম এই গ্ৰামে? এই গ্ৰামে প্রতি পূর্ণিমার রাতে শোনা যায় করুন কান্নার আওয়াজ.......
🎋📑পাহাড়ের কোলে জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রামের মানুষেরা চিগারু কে ভীষণ ভয় পায়। এই চিগারু আসলে কী? গ্ৰামের মানুষ এই নাম নিতেই ভয় পায়, কারণ এই নাম তিনবার নিলেই মৃত্যু অবধারিত। এই চিগারু ছোট ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করে, বাচ্চাদের ডাকে তার খেলার জায়গা “চিন্দারায়”। সেখানে নরকের আগুন জ্বলছে সবসময়। চিন্দারা থেকে কেউ কখনো ফিরতে পারে না। এই হলো অলৌকিক রহস্য.......
🎋📑কলকাতা থেকে চালসিয়ায় গ্ৰামে ঘুরতে আসে ৬ সদস্য। তারা এসেছিলো ঘুরতে। তারা কি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিলো এমন ভয়ংকর বিপদ ওদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। কী হবে যখন চিগারু আহ্বান জানাবে ওদের নিজের খেলায়? খেলায় শেষ পর্যন্ত কে জিতবে সেটাই দেখার। কিভাবেই বা ওই চিগারু কে শান্ত করা যায়? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে রুদ্ধশ্বাস হরর ফ্যান্টাসি উপন্যাস 'চিগারু'!
🎋📑«'কৌতূহল বাড়ানোর জন্য বই থেকে তুলে দিলাম ভয়াবহ এক ঘটনার ছোট্ট একটা অংশ'» 👇🏻
😶🌫️😬😱😳শব্দটা ওই দরজার ভেতর থেকেই আসছে না? এই গাঢ় আঁধারের মধ্যে এমন কান্নার শব্দ, সারা শরীর কেমন যেন শিরশির করছে আমার। ধীরে ধীরে দরজাটার সামনে এসে দাঁড়ালাম। দরজার ওপারে উঁকি মারতেই বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল। একখানা বহু প্রাচীন শ্যাওলা ধরা সিঁড়ি নেমে গেছে নীচের দিকে। ঠিক কতখানি নীচে বোঝা যায় না। মোবাইলের আলোও ওই অন্ধকারে পথ খুঁজে না পেয়ে হাহাকার করতে করতে ফিরে আসছে.....
📌চিগারু হয়তো আবার ও ফিরে আসতে পারে.....
📌🗒️2024 Book Review ~ 7 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। ধন্যবাদ 🙂🙏
সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখক ত্রিজিৎ করের লেখা মূলত নন ফিকশন ঘরানার ভৌতিক উপন্যাস "চিগারু"
পুরুলিয়ার আদিবাসী লোক কথার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই উপন্যাস যার পরতে পরতে রয়েছে এক অপদেবতার মৃত্যুর খেলার বর্ণনা।। সে আসে তিন পক্ষকালে। যার নাম তিন বার নিলেই সে ডাক দেয় তার চিরিন্দায়, না গেলেও মৃত্যু গেলেও মৃত্যু । কিন্তু যে তার খেলায় জেতে তাকেই দেয় একটি বর।।
" শুনো শুনো মরদরা, দ্দুঃখের কথা শুন এই গ্রামে নাহি বাঁচে বাচ্চা বেটি কুনো প্রতি বছর আঁধার কালে জাগি উঠে সে ওই শোনো ধামশা বাজে সে আসে সে আসে"
গ্রামের জমিদার বংশের পূর্বপুরুষের ভিটে ও তাদের লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন এর ওপর নিজেদের অধিকার আদায়ে জন্যেই গ্রামে আসে সেই বংশের ছয় উত্তর সুরী। তারপরেই ঘটনা ক্রমে ঘটতে থাকে "চুগারুর" মারণ খেলা।
তারা কি পারবে সেই অপদেবতার হাত থেকে রক্ষা পেতে ? গ্রামের পরবের মধ্যেই বা কি সত্য লুকিয়ে আছে ? এই অপদেবতার ইতিহাসই বা কি ?
♦️ পাঠ প্রতিক্রিয়া - এই প্রথম লেখক ত্রিজিৎ করের লেখা পড়লাম, এক কথায় বেশ ভালই লেগেছে এই উপন্যাস। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তার সাথে জড়ানো কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এত সুন্দর একটি কাল্পনিক " আদি দৈবিক" বা বলা ভালো "অপদৈবিক" রহস্য আখ্যান যে লেখা যায় তা সত্যিই প্রশংসনীয় ।
গল্পের কোথাও পড়ে এরকম মনে হয়নি যে অবান্তর ভাবে জোর করেই রহস্য ও ভৌতিকতার আবহ তৈরি করা হয়েছে,, বরঞ্চ গ্রামীণ লোক কথার আড়ালে যে এরকম কত অজানা ইতিহাস লুকিয়ে আছে যার কোনো লিখিত প্রমাণ নেই তার কথাই বেশি মাথায় আসে।। কোনটা সত্য কোনটা কুসংস্কার সেটা সময়ের কাঁটাই ঠিক করবে।। জ্ঞানের আলো হোক কিংবা কুসংস্কারের আঁধার দুটোই চলে আসছে আদিকাল থেকেই।। কাজেই কাল্পনিক এই অপদেবতার আখ্যান পড়েই ভালই লেগেছে।।
গল্পের প্রত্যেক চরিত্রর মধ্যেই লেখক খুব সুন্দর ভাবে তাদের চারিত্রিক দূর্বলতার যে বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছেন তার সাথে মূল গল্পের যোগ খুব সুন্দর ও তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার যে কাহিনী উপন্যাসের সারংশে তা খুবই স্পষ্টতই দৃশ্যমান।।
পুরুলিয়ায় অঞ্চলের ''আঞ্চলিক' ভাষা হিসেবে এই গল্পে ব্যবহৃত ভাষার অমিল টাই বেশি চোখে পড়েছে , যদিও বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে সেটাই সুবিধার।
মোটের ওপর বেশ গোছানো একটা ভৌতিক উপন্যাস পড়লাম, যদিও এটি বড়দের পড়ার মত যে খুব একটা তা ঠিক নয় , কিশোর ভৌতিক উপন্যাসই বলা ভালো।।
লেখক ও পাবলিশার কে ধন্যবাদ এরকম সুন্দর ভৌতিক উপন্যাস পাঠকদের কাছে তুলে ধরার জন্যে।
এই লেখকের বেশ কটা গল্প পড়েছি বেশ ভালোই লেগেছিলো, তাই যখনই এই নতুন বইটা দেখেছিলাম, পড়ার অদম্য ইচ্ছা জেগেছিল। বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ আকৃষ্ট হয়েছে, পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। আমার কাছে ত্রিজিৎ করের বই মানেই ভয়ের। সেই লোভে লোভেই ওনার বই গুলো পড়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই বইটা পড়ে ভয়ের লেশমাত্র পাইনি। ভয় পাবো সেই আশা নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম। ধাঁধা সংকেত সলভ করে তবে গল্পের সমাপ্তি। এই ধাঁধা সংকেত এই টাইপ গল্প পছন্দ করে তারা হয়ত বেশ মজা পাবে। মাঝপথে মনে হচ্ছিল কখন শেষ হবে, ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছিলাম।
গল্পের hints : গল্পের কেন্দ্রভূমি পুরুলিয়ার চালসিয়া গ্রামে। মূলত ছয় ভাই বোনই প্রধান ক্যারেক্টার, আর গল্পের নাম শুনেই বোঝা যায় ভয়ের মূল আধার হল এই চিগারু। এই গ্রামে কিছু নিয়ম আছে, সেগুলো না মানলে চিগারুর শিকার হতে হয়। বিশেষ দিনে গ্রামে উৎসব হয়, নানা রিচুয়ালস হয়, এইসময়েই বাচ্চাদের শরীরের কোনো অংশ কেটে নেওয়া হয়, কি অদ্ভুত না ?? কিন্তু কেনো ?? রাত জাগা বাচ্চাদের নিষিদ্ধ, জাগলেই চরম বিপদ ঘনিয়ে আসবে। পরপর তিনবার চিগারুর নাম নিতে নাই। কেনো ??
অনেক জোস! ভয়ের না। ভয় না পেলেও এক্সপেরিয়েন্স হবে জবরদস্ত। গায়ে কাটা কাটা দেয়া, ছমছমে ভাব, রোমাঞ্চ অনুভব করা, সেই সাথে কিছু অবাক করা মুহূর্ত, আবহ নির্মান এগুলো ছিল তুখোর! আর লেখকের লেখন শৈলী অভাবনীয় দুর্দান্ত। হাইলি রেকমেন্ডেড।