Bimal Mitra (bengali: বিমল মিত্র) was a prominent Bengali writer who wrote several novels. Bimal Mitra was equally adept in writing in Bengali as well as in Hindi, and has more than one hundred novels and short stories to his credit. Many of Bimal Mitra's novels have been made into successful films. One of his most popular works, Shaheb Bibi Golam (January 1953) which was adapted into a hugely popular movie
লোকজন ইট পাথর মারতে পারে, সে সম্ভাবনাই প্রবল। তদ্যপি সত্যবচন। 'আসামি হাজির' পড়ে বিরক্ত হয়েছিলাম, 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' পড়তে গিয়ে হয়েছি ক্লান্ত! এতো ক্লিশে!
কড়ি দিয়ে কিনলাম' তো আর শুধুই তেরোশো পৃষ্ঠার একটা উপন্যাস না, যে পড়া শেষ করলাম আর রিভিউ লিখে ফেললাম! দীপঙ্কর কি শুধুই লেখকের কল্পনায় সাদা কালো অক্ষরে আঁকা একটা চরিত্র? তাই কখনও হয়! তারচেয়ে বরং গল্প শোনাই............... কালিঘাটের এক অখ্যাত গলি, সাতটা-পাঁচটা অফিস করার পর যেখানকার মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর বিনোদন বলতে একসাথে চালের দর থেকে চার্চিলের পিটিশন পর্যন্ত উদ্ধার করা। উঠতি বয়সের ছেলেগুলো পাড়ার রকে ঝড় ওঠায়। বাচ্চারা স্কুলের পর সারাদিন ঘুড়ি ওড়ায়, হাতে পয়সা পেলে তেলেভাজার দোকানে ধর্না দেয়। গিন্নীরা সংসার ঠেলে ক্লান্ত চোখে ছেলের ফরেন স্কলারশিপ আর মেয়েদের ভাল বিয়ের স্বপ্ন দেখে। আবার এই ঈশ্বর গাঙ্গুলী লেনেই অঘরদাদুরা টাকার পাহাড় জমায়। দেবতার নৈবেদ্য চুরি করে বদ্ধ ঘরে পঁচায়। যখন তখন হুঙ্কার করে ওঠে; কড়ি দিয়ে সব কেনা রে হতভাগা, সব পাওয়া যায়! মায়ের রান্নাঘরের রোয়াকে বসে ক্লাসের বইতে মুখ গুজে হতভাগা ভাবে, কড়ি দিয়ে কি বাবাকেও ফিরে পাওয়া যায়? কিরণের দুঃখ ভোলানো যায়? ও আচ্ছা! এই হতভাগা হচ্ছে দীপঙ্কর।দীপুর মা অঘরদাদুর বাড়িতে রান্নার কাজ করতেন, হতচ্ছাড়া বলে ডাকলেও বৃদ্ধ দীপুকে অনেক স্নেহ করতেন। নতুন ভাড়াটে আসার পর যেদিন প্রথম ঘুঙুরের আওয়াজ পেয়েছিল, যেদিন লক্ষীদি দাতারবাবুর সাথে পালালো, তেত্রিশ টাকা ঘুষে সে রেলের কেরানি হয়ে বসল, মিস মাইকেল খুন হলেন, গাঙ্গুলী বাবু ওয়েটিং রুমে গলায় ফাঁস নিলেন, যেদিন মা মারা গেল, রেল অফিসের সবচেয়ে বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দীপঙ্কর থেকে সে সেন বাবু হয়ে গেল....... সেসব দিনে এই অঘোর দাদুর কথাই দীপঙ্করের বারবার মনে পড়েছে। এমনকী প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের বাড়িতে সতীর কথা ভেবে সনাতনবাবু বা নয়নরঞ্জিনী দাসীর মুখোমুখি হতে গিয়েও মনে একই প্রশ্ন এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে, যখন দোকানে তেল নেই, চালের জন্য দীর্ঘ লাইন, বাতাসে মানুষের হাহাকার, তখন গড়িয়াহাট রেল ক্রসিং এ লক্ষীদির বাড়িতে চায়ে চিনি কম হলেও চাকরের চাকরি যায়! সুধাংশুবাবুর হুইস্কিতে ভেজাল হলে পুরো কলকাতায় হুলুস্থুলু বেঁধে যায়! কোর্টের ফ্ল্যাটে মিনিটে মিনিটে লাখ টাকার হাতবদল হয়! এককালের টপগুণ্ডা ছিটে আর ফোঁটা কংগ্রেসের মেম্বার হয়ে টন কে টন চাল মজুত করে। নির্মল পালিতরা সরোজিনি নাইড়ু থেকে শুরুকরে সকলের টাকা আত্মসাৎ করে! তখনও দীপঙ্কর সেই পুরোনো প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজে। কড়ি দিয়ে কি কেনা যায় আসলে? এত ভালো ঘরে বিয়ে হয়েও তো সতী ভালবাসা পায়নি! এত ক্ষমতা থাকার পরও তো এতটুকু সুখ পায়নি লক্ষীদি! মিস্টার ঘোষলরা কেন অসৎ হয়, এত থাকার পরও হোসেন ভাই বা নির্মল পালিতরা আরো চায়! দীপু জীবনভর খুঁজেও এসব প্রশ্নের উত্তর পায়নি। শত কাজ আর দায়িত্বের মাঝেও সতীর জন্য, সাথে কিরণের মায়ের জন্য, ক্ষীরোদা আর সন্তোষ কাকাদের জন্য, রেলের ক্লার্ক থেকে শুরুকরে কারাগারে বন্দী মহাত্মা গান্ধী বা সুভাষ বোসের জন্য, নিজের কেউ নয় এমন অনেকের জন্য ভেবেও যে মানুষের দিন কাটতে পারে, কড়ি দিয়ে কিনলাম পড়ার সময় তা শুধু আপনিই বুঝবেন।বাকিরা তো কলকাতার ব্ল্যাকআউট এর অন্ধকারে নিজের বর্তমান আর ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন। খুব খাপছাড়া গল্প তাই না? এই খাপছাড়া আবেগগুলোকে একসুতোয় বাঁধতে হলে বইটাতে একবার ডুব দিতে হবে! সতীর জন্য কাঁদতে হবে, লক্ষীদির জন্য করুণা করতে হবে, সনাতন বাবুকে শ্রদ্ধা আর মি. ঘোষালকে ঘৃণা করতে। দীপঙ্করকে ভালোবাসতে হবে, খুব ভালোবাসতে হবে। দীপঙ্করের সাথে ঘুরে ঘুরে 'মানুষ' খুঁজতে হবে।
এহ লোল! হ্যাঁ বাবা দীপঙ্কর, তুমি তো আয়না হয়েই ভাল ছিলে, এত মতামত কেন তোমার! আর ঢংয়ের শ্রী! সতীর দেনা আমি শোধ দেব! এহ!! লক্ষ্মীদিকে দেখব, সনাতনবাবুকে বুকে আগলে রাখব, ক্ষীরোদাকেও ছাড়ব না, আরো যে কত মহান কাজ এই ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো ভদ্রলোক পারেন! তাও আবার পাশের বাড়ির মেয়ে, আত্মীয়ও না! ছোট থেকে বড় হল, সরকারী চাকরি, অফিস পলিটিক্স, তার পেয়ারের মানুষদের রূপ পরিবর্তন দেখল, তাও তার জ্ঞান হল না, সে খালি অবাকই হয়, ব্যথাই পায়, আবার লাফায়ে যায় উপকার করতে, জিজ্ঞেস করলে বলে, "না এসে যে পারিনে!"(অতি ন্যাকা সুরে)। আহারে মানিক আমার!!
মানুষের জন্য মানুষ ভাববে। কিন্তু গায়ে পড়ে সবখানে সৃষ্টিছাড়া উপকার মারাতেই দীপঙ্করের জন্ম। আবার সনাতনী জ্ঞানও দেয়! ঢং দেখে আর বাঁচি না! তারছেড়া লেখায় ভরপুর এই বইটা।
জানিনা কিভাবে ১৩৭০ বঙ্গাব্দে রবীন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছে। ডিজগাস্টিং উপন্যাস। এত টেনে দ্বিতীয় খন্ড না বানালেও চলত। দাঁতে দাঁত চেপে শেষ করেছি, স্পেশালি শেষের দিকে গিয়ে।
_________
** স্পয়লার: নায়কের মেন্টালিটি ভালো না। অতি দু:খ কষ্ট, ঠিক আছে, বুঝলাম। এত শো-অফ করার কি আছে। আর নিজের দোষ চোখে দেখে না, শুধু চাপায়, তাও আবার ভালোবাসার মানুষের উপর। এযুগের গল্প হলে বলতাম infatuation হয়েছিল এবং কখনো "সত্যি ভালোবাসা" অনুভূত হয়নি, তাই সেজন্য..... থাক, স্পয়লার হয়ে যাবে। -_-
এটা কি হলো? এভাবে কেন শেষ হলো!? দ্বিতীয় খণ্ডটি এতটা হতাশাকর পাবো আশা করিনি। তার থেকে বড় কথা পুরো গল্প যেভাবে ভিন্ন দিকে মোর নিয়েছে এখানে তা মোটেও ভালো লাগেনি আমার।
ক্লাস নাইনে বলতে গেলে হাফ ইয়ারলির পড়া ফাঁকি দিয়ে এই বই পড়েছিলাম। দ্বিতীয় কোনো বইয়ের প্রতি এত এডিক্টেড হই নি। আমার এখনো মনে আছে, কেবল মাত্র এই বইটার প্রতি নেশার কারণে আমার মা দুইবার বইটা উঠানে ছুড়ে ফেলেছিল। তারপর ও লুকিয়ে লুকিয়ে এই দুইটা শেষ করেছিলাম।
দীপঙ্কর এর সংগ্রাম, শিক্ষা, প্রেম, স্বদেশী, দীপঙ্করের জীবন আর বিমলের জ্ঞান, কোনোটাই তো খারাপ লাগে নি। কলেজের লাইব্রেরী তে তো এখনো বই দুইটা হাতড়ানো হয়। দুটো পৃষ্ঠা পড়ার নামে হয়তো দুই তিনটা ক্লাসই ফাঁকি দিয়ে দিই! ভালোই তো লাগে। খারাপ নাহ!
Underrated. Most people seem to get intimated by the length of it. It portrays the reality of our society like I've never read before. There's actually no main character. The main character is society and its changes with time. The fact you can buy anything with money is true yet untrue. And it dives into it. A master piece if you can spare the time
প্রথম খন্ডের পর আমার যেন তর সইছিলো না, গল্পের মাঝে এগিয়ে যেতে। তবে এই খন্ডের যুদ্ধের পারস্পর্ষিকতা যেন বর্তমান সময় প্রকটভাবে টের পেয়েছি: বর্তমানে দেশে সেই অবস্থা অনেকটা। তবে,একি সাথে যুদ্ধের অত্যন্ত দীর্ঘ বিবরণী একটু খাপছাড়া লাগছিল দীপঙ্কর এর কাহিনী হতে। শেষ পর্যন্ত, লক্ষী, সতি, কিরন, এমন কি মা ও ,নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিল এবং স্বার্থপর এর আচরণ প্রতিফলন করে গিয়েছিল। দীপঙ্কররা একা হয়ে যায়, কেবল নিজেকে অপরাধী মনে করে বিবেকের দংশন করে, অথচ তারা জানতে পারেনা তারা কখনোই অপরাধী নয়। তাদের সুযোগের সদ্ব্যবহার হয় কেবল
- মনে হতেই পারে আমি দীপঙ্কর এর সকল আদর্শের অনুগত দেখে বোধহয় পক্ষপাতিত্ব করছি কিন্তু, আমরা যারা মানুষের কথা আজীবন ভেবে এসেছি, নিজের আগে অন্যদের প্রায়োরিটি দিয়েছি, তারা কি কেবল ঠকিনি? সবাই একি জিনিস পরে অনেকে অনেক বিবরন দিয়ে থাকে। পুরো বইতে কেবল এটাই আমার শিক্ষা যে, দিন শেষে সবার ভালো চাওয়া ব্যক্তিরা প্রকট ভাবে সাফার করে। অনেকটা জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষার মত।
খুবই কষ্ট করে এই অখাদ্য বইয়ের পুরোটা শেষ করলাম। বইটা অনায়াসে এর অর্ধেক সমান পৃষ্ঠায় লিখে শেষ করা যেতো। একই কথার বারবার পুনরাবৃত্তি, ঘটনার অতিবর্ণনা, কাহিনির মন্থর অগ্রসর হওয়া এসবই আমাকে ক্লান্ত ও বিরক্ত করেছে। অনেকে এই বইটাকে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ১০০ টি বইয়ের ১ টি বলে চিহ্নিত করে। কিভাবে করে, তাঁরাই জানে। আমার রুচি হয়তো খুবই নিম্ন মানের, তাই এই বইটি পড়ে এমন ওপিনিয়ন আসছে মন থেকে। আমার ১২ টা দিন নষ্ট হলো আরকি।
কড়ি দিয়ে কিনলাম নামটার মধ্যেই যেনো কিছু একটা লুকিয়ে আছে। কড়ি বা টাকা দিয়ে কি আসলেই সবকিছু কেনা যায়? শূন্য থেকে মস্ত অফিসার হয়ে উঠা দীপঙ্করের গল্প রয়েছে এখানে। বইটা একদিকে চমৎকার আবার একটু একঘেয়ে লেগেছে আমার কাছে। দীপঙ্করের চিন্তাভাবনা, মানসিক টানাপোড়েনের গল্প চমৎকার। কিন্তু মনে হয়েছে কিছু কথা বারবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। গল্প শুধু শুধু লম্বা হয়েছে।
এটা আগেরটার চেয়ে আরো বাজে৷ এতো বড় বই কিভাবে আজাইরা কথা দিয়েই লিখে ফেলা যায় তার একটা শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এই বই। যারা আপনাকে এই বই সাজেস্ট করবে তাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করুন৷ আপনার সময় বাঁচবে, রুচি উন্নত হবে