Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
শিখণ্ডী: দুটো প্যারালাল টাইমলাইন ধরে এগিয়েছে বইয়ের কাহিনী। বর্তমানে যুগের মিতু সংক্রান্ত 'থ্রিলার' দখল করেছে বইয়ের বিশভাগ (এই অংশটা আমার কাছে ভাল লাগেনি)। আর বাকি আশিভাগ জুড়ে ব্যপ্তি মহাভারতের চরিত্র শিখণ্ডীর। রেটিং এর তিনটি তারার সবগুলোই এই অংশের জন্য, তাই বাদবাকি আলাপ এই নিয়েই করা যাক।
মহাভারত: আঠারো পর্বের এই সুবিশাল মহাকাব্যে রয়েছে অসংখ্য চরিত্র, পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে হাজারো গল্প। পঞ্চপাণ্ডব কি দ্রৌপদী, ভীষ্ম কি দ্রোণাচার্য- বিখ্যাত সব চরিত্রের গল্পে আজও আমরা বিমোহিত হই।
তবে অগণিত বলিষ্ঠ চরিত্রের আড়ালে, পাদপ্রদীপের তলায় চাপা পড়েছেন আরো অনেকে। তেমনই এক অত্যন্ত যোগ্য ও শক্রিশালী চরিত্র পাঞ্চাল প্রদেশের রাজা দ্রুপদের পুত্র, শিখণ্ডী। দেবাদিদেব শম্ভু তার পিতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নারীর শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও একদিন তিনি পুরুষত্ব লাভ করবেন।
দ্বাপরযুগে তিনি এক রূপান্তরকামী রাজকুমার। কখনও নারী হিসেবে বীরযোদ্ধা অর্জুনকে কামনা করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। আবার কখনও পৌরুষত্বের অভাবে উপহাসের শিকার হয়েছেন নববিবাহিতা স্ত্রী দশার্ণ রাজকন্যার কাছে। মহাকাব্যিক উপাখ্যানের চরিত্র নয়, বাস্তব জগতের মানুষ হিসেবে যে টানাপোড়েন, যে অন্তর্জালা - শিখণ্ডী উপন্যাসে সেটাই ফুটে উঠেছে শৈল্পিক দক্ষতায়।
দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের হাতে কাহিনী অপূর্ব গতিময়তা অর্জন করেছে। মহাভারতীয় আখ্যানের সাথে তিনি দক্ষভাবে মিশিয়েছেন যোগ বশিষ্ঠ কিংবা শিব গীতার মত প্রাচীন কাব্যকেও। মহাভারতের অবহেলিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রকে নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথমবারের মতো রচিত হয়েছে এক সুপাঠ্য পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, শিখণ্ডী খাড়া করা। মহাভারত যখন থেকে পড়া শুরু করি তখন বুঝতে পারি এই প্রবাদের মর্ম। মহাভারত নিয়ে কথা শুরু করলে আসলে আলোচনাটা মহাভারতের মতোই লম্বা হতে থাকবে। কতো আঙ্গিকে যে একে দেখা যায়! করা যায় কতো রকমের বিশ্লেষণ! আর হাজারে বিজারে উপকরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মহাভারতকে আরও আরও নতুনভাবে উপস্থাপন করার জন্য। আমার কাছে মহাভারত সমসময়ই নতুন।
মহাভারতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শিখণ্ডী। দেবারতি মুখোপাধ্যায় শিখণ্ডীকে নিয়ে রচনা করেছেন তার উপন্যাস। সত্যি বলতে, পুরো উপন্যাসে মহাভারতের অংশটুকুই যা একটুখানি ভালো লেগেছে। ইম্পলিমেন্টেশন যদিও ভালো ছিল কিন্তু বর্তমান অংশ অনেক বেশি দুর্বল। বইয়ের ফ্ল্যাপ কিংবা গুডরিডসের ডেসক্রিপশন বক্সের অংশ পড়ে এই বই হাতে নিলে অবশ্যই আশাহত হতে হবে, কারণ সে অর্থে তেমন কোন রুদ্ধশ্বাস কিংবা টান টান ক্রাইম থ্রিলার বই নয় এটা। এক্সপেকটেশন ছাড়া জাস্ট মহাভারতের ফ্যান হিসেবে কৌতূহলী হয়ে শুরু করেছিলাম, তাই অতো খারাপ লাগেনি। যাই হোক... বইয়ের একটা অন্তত পজেটিভ ব্যাপার বলি... অনেক সংবেদনশীল এবং আনকমন একটা বিষয় লেখিকা তুলে ধরেছেন, তার জন্য বেশ বড়সড় একটা ধন্যবাদ অবশ্যই তার প্রাপ্য।
দুটো সমান্তরাল ধারায় বইয়ের কাহিনী এগিয়েছে। একদিকে আছে বর্তমান সময়ের মিতুর কাহিনী। আরেকদিকে মহাভারতের শিখণ্ডী চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কাহিনী।
The topic might be relevant…but the treatment certainly isn’t…
Couldn’t feel connected to any of the characters including the namesake of this tale…the writer needs to work on developing a keener sharper writing style if she wants to create the timelines and atmosphere of the Mahabharata… Without that its just a imaginary tale spun with forgettable characters…
বই : শিখণ্ডী লেখক : দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রকাশনা : দীপ মূল্য : ২৫০ /-
🙏 প্রথমেই একটা অনুরোধ করি, কোনো ট্রেন্ড এ মাথা না ঘামিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখুন আমার আজকের পাঠ প্রতিক্রিয়া টি।
📚 কাহিনী সূত্র : ধ্রুপদী মহাভারতের এক স্বল্পালোচিত ও অবহেলিত ব্রাত্যজনের সঙ্গে বর্তমান কলকাতার 'মিতু' কীভাবে মিলে মিশে যাচ্ছে? কেন আত্মহত্যার পথ নিতে হচ্ছে মিতুকে? কীভাবেই বা উন্মোচিত হচ্ছে নিম্নবিত্ত শহরের গা শিউরানো রূপ? বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত পাঞ্চাল রাজকুমার শিখণ্ডীকে নিয়ে বাংলায় সম্ভবত একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস! যা পাঠক মনের তন্ত্রীতে একই সঙ্গে ঝংকার তুলবে হত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রেম, শরীরী আশ্লেষ ও তীব্র অনুভূতির!
📚 প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ : সামান্য কয়েকটা দিক বাদ দিলে বইটির প্রচ্ছদ আমার বেশ ভালো লেগেছে । কিন্তু একটি অলঙ্করণ ও আমার ভালো লাগেনি। অলঙ্করণ গুলি মনে হয়েছে নেহাতই কাঁচা হাতের কাজ। আর সেগুলো কোনো কিশোর কাহিনী তেই মানায়, এ বইতে নয়।
📚 ভালো লাগা : --
১৷ মহাভারতের শিখণ্ডী চরিত্রটি সম্পর্কে জানতাম অনেক কিছুই। কিন্তু এ উপন্যাস পড়তে গিয়ে সেসব ভুলে গেলাম। নতুন করে চিনলাম শিখণ্ডীকে।
২৷ উপন্যাস টি মূলত আবর্তিত হয়েছে মহাভারতের সময় কালে। সে সময়ের রাজনীতি, রাজা দ্রুপদ ও মহা মন্ত্রী চিত্রবানের কূটনৈতিক পরিকল্পনা এ উপন্যাসের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে।
৩৷ আর সেই কূটনীতির আঘাতে ক্রমাগত ক্ষত বিক্ষত হওয়া রাজকুমার শিখণ্ডী, বারংবার আবেগপ্রবণ হতেই হয় এ কাহিনী পড়ে।
৪৷ একই সাথে সে যুগে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজে অবস্থান, পূত্রসন্তানাকাঙ্খা, নারীকে হেয় জ্ঞান করা - প্রভৃতি উঠে এসেছে ।
৫৷ অপর দিকে বর্তমান কালের মিতু,সহানা,উর্না,পলি,সিমি-দের লেডিস হোস্টেলের পরিস্থিতি, ম্যাসাজ পার্লার কিংবা দয়াসাগর আশ্রমের কার্যকলাপ আপনাকে শিহরিত করবেই।
৬৷ যেটা সবচেয়ে ভালো লাগলো, এটা প্রকৃত পক্ষে মহাভারতের কাহিনী নয়, "এ এক অন্য মহাভারত!"
৭৷ উপন্যাস টি শেষ করার পর একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না, এটা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখা। তবে অনেক কষ্টে নিজেকে বোঝালাম, এ আখ্যানের প্রকৃত রচয়িতা মিতালী দাস। মিতু। সমাজের কোনে পড়ে থাকা এমন হাজারো মিতুদের কথাই বলে শিখণ্ডী ।
📚 খারাপলাগা : --
১৷ অলঙ্করণ গুলি খুবই নিম্নমানের।
২৷ যথেষ্ট বানান ভুল । এবং একই লাইনের পুনরাবৃত্তি। এগুলো পড়ার মাঝে খুবই বিরক্তিকর!
৩৷ কাহিনীর প্রায় ৭০ ভাগ মহাভারতের সময়ের আর মাত্র ৩০ ভাগ বর্তমানের। বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলো আরও বিস্তৃত হলে ভালো লাগতো।
৪৷ শিখণ্ডীর সঙ্গে মিতুর চরিত্রের মিল থাকলেও তাদের জীবনের ঘটনাক্রমের কোনো সুস্পষ্ট সংযোগ নেই। লেখিকা যেন জোর করে তাদের মেলাতে চেয়েছেন।
৫৷ উপন্যাসের কয়েকটা জায়গায় রাজা শিখিধ্বজ ও কুম্ভকের কথোপকথনের দৃশ্য গুলো সামাজিক ও মানবিক অর্থবহনকারী হলেও, সেগুলো পড়তে গিয়ে আমার ঝিমুনি চলে এসেছিল। এই অধ্যায় গুলো কোথাও যেন কাহিনীর দ্রুতগামীতা কে রোধ করে দিচ্ছিল।
৬৷ শিখণ্ডীকে নিয়ে লেখিকা নিজের মতো করে অনেক গল্পই বললেন, কিন্তু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে শিখণ্ডীর দ্বারা কীভাবে ভীষ্মের বিনাস হয়েছিল, সেটা বেমালুম বাদ দিয়ে গেলেন। কাহিনী এগোলোই না অতদূর।
📚 বয়স সীমা : বইটিতে অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক দৃশ্য রয়েছে। তবে আমি মনে করি ১৪-১৫ বছরের উর্ধে যে কোনো প্রাপ্ত মনস্ক পাঠক বইটি পড়তে পারেন।
✒ লেখকের প্রতি : লেখকের কথায় এই উপন্যাস তাঁর 'ছক ভাঙা কাজ'। হ্যাঁ, বাস্তবেও তাই। আর লেখককে অনুরোধ করবো, এরকম ছক ভাঙা কাজ বারংবার করুন।
📚 পাঠকদের প্রতি : কিছু পাঠকের মতে এই লেখকের সব লেখাই অমৃত! আর কিছু পাঠকের মতে এই লেখকের সব লেখাই পাতে দেওয়ার অযোগ্য! শুনতে খারাপ লাগলেও এই দুই প্রকার ধারনাই ভুল (ব্যক্তিগত মতামত) । তাই পাঠকদের অনুরোধ করবো লেখকের নাম না দেখে বইটি পড়ুন।আশাকরি আপনার খুব একটা খারাপ লাগবে না।
❓ আপনি কেন এই বইটি পড়বেন? উ: শিখণ্ডীর চোখে মহাভারতকে চিনতে হলে, মিতুর চোখে বর্তমান সময়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজে অবস্থান জানতে হলে আর এক তীব্র অনুভূতির স্বাদ পেতে চাইলে বইটি আপনাকে পড়তে হবে।
❓ আপনি কেন বইটি পড়বেন না? উ: যদি উপন্যাসে তথ্যবহুল ও আপাত অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় পড়তে আপনার বিরক্ত লাগে, তবে বইটি আপনি না-ও পড়তে পারেন।
বইয়ের নাম : শিখন্ডী লেখিকা : Debarati Mukhopadhyay প্রকাশন : দীপ প্রকাশন প্রকাশ কাল : ২০ নভেম্বর ২০২১ প্রকাশক : শংকর মন্ডল অলংকরণ : মৃণাল শীল প্রচ্ছদ : স্বর্ণাভ বেরা ISBN : 978-93-89584-48-3 পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪৬ কভার : হার্ড কভার
♠♠♠ ********* বইটি সম্পর্কে কিছু বলার আগে আমার কিছু কথা এখানে তুলে ধরার খুব প্রয়োজন বোধ করছি, যাতে এটির পাঠক যারা হবেন তাঁদের যেন আমার সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা না জন্মায় । আসলে আমি পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়ায় তেমন পটু নোই। তাই আমার মনে যখন ' পাঠ প্রতিক্রিয়া ' শব্দ দুটো ভাসে, তখন আমি তার নানা বিচিত্র ভঙ্গিমা অনুধাবন করি। একটা ধরন হল, নিজের প্রতিক্রিয়া যিনি উপন্যাস টি লিখেছেন তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর ভালোলাগা-মন্দলাগা, অনুভূতিগুলো জানানো । আর একধরন হল লেখক / লেখিকাকে উদ্দ্যেশ্য করে যিনি প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন তাঁর পাঠকবন্ধুর কাছে বইটি নিয়ে চুলচেরা তথ্য বিশ্লেষণ। আমি নিজেও জানি না, আমার এই প্রতিক্রিয়াটি কোন ভাগে পড়তে চলেছে। সেটা বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব নাহয় আমি আমার এই প্রতিক্রিয়া পাঠক বন্ধুদের হাতেই নস্যাৎ করলাম। ভুল ত্রুটি নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন, এমন ব্যক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়ার কোথাও আপনার মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে।…
📌 বইটির বাহ্যিক-দর্শন সংক্রান্ত কিছু কথা : **************""********************************* হিন্দিতে একটা প্রচলিত বাক্য আছে, ' পহেলে দর্শনধারী… বাদ মে গুন বিচারি...'! বাঁধাই গত দক্ষতার দিক থেকে বলুন কিংবা পৃষ্ঠার গুনমান, এটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই যে, আজকের দিনে কিছু প্রকাশনী ( কোনটা আপনি বুঝে নিন,যদি একটু খোঁজ খবর রাখেন 😉) ওটার লোভ দেখিয়ে নিজের আয়ত্তে থাকা বইগুলোর ওপর যে পরিমাণ মুনাফা আদায় করে, তার দিক দিয়ে দীপ প্রকাশন এত যত্ন সহকারে একটা বইকে পাঠকের হাতে এত কম মুল্যে তুলে দিয়ে সত্যিই একটা অপার সুহৃদ্যতার ছাপ রাখছেন পাঠকসমাজের হৃদয়ান্তরে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে এই বইটির সুন্দর প্রচ্ছদ, এবং পাঠকমহলকে উষ্ণ-হৃদয়াঘাত করার জন্য চিত্রের ভরপুর সমন্বয়।
📌 বইটি সম্পর্কে : *********************** আমার বিচারে পাঠক আবার এত প্রকারের হন যে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আবার একটা বই নানান খন্ডে বিভাজিত হয়ে পড়ে। একদল পাঠক আছে, যারা বুদ্ধদেব গুহ পড়ে শুধু যৌনতার ভরপুর ব্যখ্যা আস্বাদনের জন্য, আবার একদল পড়ে যৌনতার ব্যখ্যায় গড়ে তোলা এক একটা মনের দিক বিচারের জন্য। এবার যে পাঠক যেমন ভাবে নেয়, তার কাছে বইটা তেমন ভাবে ধরা দেয়। আমি মুখ্যত বইটা কিনি পূরাণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে। কিন্তু পড়ার পর অনুধাবন করি বইটি পূরাণ, প্রতিহিংসা, কামনা, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজ, যৌনতা, যৌন জীবনের ভাগ এবং সবশেষে থ্রিলার এর ওপর নির্ভর করে গঠিত।
📌 উপন্যাসের সারসংক্ষেপ : ********************************* মহাভারত পড়ার সময় একটা জায়গায় পড়েছিলাম, " যা এই মহাভারতে আছে তা এই মহা ভারতে আছে। যা এই মহাভারতে নেই, তাই এই মহা ভারতে নেই " । কিন্তু কথা হল, মহাভারত তো এই মহা ভারত ব্যখ্যা করে রেখে দিয়েছে। এবার আমরা তাকে নিজের সুবিধার্থে আমুল পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছি। তাতে যদি কোন একটা চরিত্র চাপাও পড়ে যায় সে সম্পর্কে একবারও ভেবে দেখিনি। বরং চেষ্টা করেছি তার অস্তিত্ব সমূলে ধুয়ে দিতে। মহাভারতের তেমন একটি হতভাগ্য চরিত্র ছিল ' শিখণ্ডী ' , যাকে আজকের মানুষ শুধু ভীষ্মহন্তা হওয়ার জন্যই পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারে নি। লেখিকা দেবারতি দি সেই চরিত্রকে পাখির চোখ করে এই উপন্যাসে নিয়ে এলেন মিতু বলে এমন একজনকে, যে কিনা শিখন্ডীর মতোই ক্লীব কিংবা আজকের ভাষায় হিজড়া। দুই সময়ের সমান্তরাল ধারাবাহিকতায় রচনা করে চললেন সেকালের শিখন্ডীর হারিয়ে যাওয়া সৌর্য- বীর্য এবং একালের মিতুর বেঁচে থাকার লড়াই কে কেন্দ্র করে একটা থ্রিলার উপন্যাস। সমাজের চোখে হীন,মিতু কি করে শিখন্ডীর মত এত লাঞ্ছনা সহ্য করেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল বন্ধুত্বের বিশ্বাসে, তাই নিয়েই গাঁথা এই উপন্যাস।
📌📌 আমার দৃষ্টিভঙ্গি :
📌 আমার ভালোলাগা : *************************** ১) একটানা সাবলীল ভাষায় দুই সময়ের সমান্তরাল ধারবাহিকতা বজায় রেখে উপন্যাসের শেষে একটা দারুণ সমাজিক বার্তার ছাপ রেখে গেছে এই উপন্যাস।
২) মহাভারতে শুধুমাত্র আজ পর্যন্ত সাধারন মানুষেরা পঞ্চপাণ্ডব এবং পাঞ্চালিকে যে চোখে দেখে এসেছে, এই উপন্যাসটি সেই চোখকে পুরোদস্তুর ঘুরিয়ে আবার একবার নতুনভাবে পড়ে নতুন একটা দিক আবিস্কার করতে কৌতূহলী করে তুলবে নবীন পাঠকসমাজকে ।
৩) বইটির মাঝের চিত্র গুলি সত্যিই মন কেড়ে নেয়।
৪) আমি দ্রৌপদীর জন্ম নিয়ে বেশ সন্দিহান ছিলাম এতদিন আমার চিন্তায়।সেখানে দেবারতি দি এত সাবলীল ভাবে ওটার একটা ধারণা দিলেন যে আমি সত্যিই আপ্লুত ওই জায়গাটায় । . . 📌 আমার খারাপ লাগা : ***********************"***** ১) পূরাণের জানা জিনিস গুলোর বর্ননা এত বেশি যে, পড়তে পড়তে ক্লান্তি আসে।
২) দুটো সময়ের গল্প বলার সামঞ্জস্যতার পরিধি এক নয়। শিখন্ডীর গল্প এখানে আশি শতাংশই বলা হয়ে গেল, যেখানে মূল গল্প মাত্র কুড়ি শতাংশ প্রায়।
৩) কোথাও গিয়ে মনে হয়েছে শিখন্ডীর ভাবধারা তুলে ধরার উদ্যেশ্যেই লেখিকা এটা রচনা করেছেন। সেখানে আমার প্রশ্ন হল যে, এটাকে তবে একটা প্রবন্ধ আকারেই লেখা যেত। কেন এরকম লেখার প্রয়োজন দাঁড়ালো!!!
৪) শেষে একটা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমাদের এপার বাংলায় একটা ভ্রান্ত ধারনা হল যে একটা গল্পকে একটানা টেনে নিয়ে গিয়ে শুধু শেষে একটু টুইস্ট দিলেই তা থ্রিলার হয়ে গেল। আর যেহেতু থ্রিলার এখন পাঠক নিচ্ছে, তাই ওটা অনিচ্ছাকৃতভাবে গোঁজার চেষ্টা। এক্ষেত্রে বলব এই উপন্যাস টা দেবারতি দির থ্রিলার করার কোন প্রয়োজন ছিল বলে আমি বোধ করি না।
৫ ) আজকের সমাজে এসেও যৌন প্রক্রিয়া কে বোঝানোর জন্য এত ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে আর বাদবাকি জায়গায় খুব সাবলীল শব্দের ব্যবহার, এ���া দেখেই মনে হল আজও পাঠক সমাজ যৌন প্রক্রিয়ার সাহিত্যিক ব্যাখ্যা সাবলীল ভাবে নিতে পারে নি। এটা লেখিকার দোষ নয়, দোষ পাঠক এবং সমাজের। যে সমাজ আজ যৌনতাকে এড়িয়ে চলতে পারলে বাঁচে সেখানে যখন আমি মহাভারতের সময় দেখি কেমন ভালে নারী-পুরুষ সবিশেষে একে অপরের প্রতি যৌন দুর্বলতা প্রকাশ করে রমন ক্রিয়ায় সাচ্ছন্দ বোধ করে… তখন মনে হয়, আমরা নামেই উন্নত। যে সমাজ দেহের জৈবিক চাহিদাকে স্বিকার করতে এত ভনিতার আশ্রয় নেয়, সেই সমাজ কবে উন্মুক্ত চিন্তা করতে পারবে তা আমায় বড্ড ভাবায়!!!
📌📌আমার এই লেখার পাঠকদের প্রতি : **********************************************
📌 ���পনি কেন এই বই পড়বেন : ************************************** মহাভারত সবাই না পড়লেও মা ঠাম্মার কাছে শুনে বড় হয়ে উঠিনি এরকম হতভাগ্য আমরা খুব কমই আছি। কিন্তু সেই গল্প গুলো সবসময় একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা হয়েছে। সেখানে পঞ্চপাণ্ডব শ্রেষ্ঠ, দ্রৌপদীর মত এত সতী চরিত্র দুর্লভ,কৌরবরা ভিলেন, কর্ন,শিখন্ডী ভাগ্যের স্বিকার ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই উপন্যাস টা পড়ার পরে যদি এর আগে আপনার ধারনায় না আসে যে মহাভারত অন্য দৃষ্টিতেও ব্যাখ্যা করা যায়,তবে বলব এই উপন্যাস টা আপনাকে তেমন একটা দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
📌 আপনি কেন এই বই পড়বেন না : ***************************************** পাঠক নানা প্রকৃতির হন। কেউ প্রেম ভালোবাসে, কেউ পূরাণ, কেউ থ্রিলার, কেউ ইতিহাস, ইত্যাদি ইত্যাদি। সেইদিক দিয়ে আপনি যদি থ্রিলার ভেবে এই বই পড়তে চান তবে বলব এ বই না পড়লেও চলবে।
📌 পাঠকের বয়সসীমা : **************************** যেহেতু যৌনতার ব্যখ্যা ছাড়া এই উপন্যাস গঠন সম্ভব হত না সেহেতু বলব এটা ষোড়শ উর্ধবয়সীদের জন্য শ্রেষ্ঠ।
📌 লেখিকার প্রতি ❤🥀 : ******************************* দিদি, আমি যেমন গদগদ চিত্তে বলতে পারি না যে, আমি আপনার die hard fan, তেমন আমি এও বলতে পারি না যে আমি আপনার লেখা পছন্দ করি না। কেননা লেখা পছন্দ না হলে তার জন্য যে সমালোচনার পত্র গঠন করতে হয় তার যোগ্য আমি নোই এখনও। আমি শুধু চেষ্টা করি যেখান থেকে হোক যতটা হোক নতুন কিছু জেনে নেওয়ার। সেক্ষেত্রে আপনার লেখা গুলো সত্যিই অনবদ্য। আপনার আগামী সাহিত্যিক ভবিষ্যতের ঔজ্জ্বল্যতা কামনা করে এটুকুই বলব নবীনদের আপনি এভাবেই আপনার লেখায়, আপনার ব্যাক্তিত্বে উদবুদ্ধ করে যান। ❤❤🥀
This entire review has been hidden because of spoilers.
শিখন্ডী মহাভারতের এক অন্যতম চরিত্র, যাকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লিখলেন আমাদের সকলের প্রিয় দেবারতিদি। মহাভারতের কিছু অধ্যায়ের সঙ্গে শিব গীতা এবং যোগ বশিষ্ঠ ইত্যাদি প্রাচীন কাব্যের সংমিশ্রণে কল্পনার ছোঁয়ায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন লিঙ্গ অসমতা, রাজ-কূটনীতি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি সমাজের অবহেলিত ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ দৃষ্টি।
একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রাচীনকালের রাজনীতির চাপে দম বন্ধ হয়ে আসা শিখন্ডীর মনের দোলাচল। অন্যদিকে তেমনই বর্তমান কলকাতার এক লেডিজ হোস্টেলের দৃশ্য ফুটে ওঠে এই উপন্যাসে। বাড়ির তিনতলার করিডোর ধরে সোজা মিতুর ঘরে ঢুকে পড়ে এক ভদ্রলোক। ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখলেও তাকে আর কেউ বেরোতে দেখে না। পরক্ষণেই ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় মিতুর দেহ, সারা ঘর জুড়ে কেরোসিনের গন্ধ, হাতের কব্জি থেকে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। মিতু কি আত্মহত্যা করেছে নাকি পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে মিতুকে? সুন্দরবনের আশ্রমের সঙ্গে তার কিসের সম্পর্ক রয়েছে? উর্না, সাহানা, পলির জীবনের নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়ই বা কি? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখা এই উপন্যাসে।
🔸পাঠ অনুভূতি:
মহাভারত এবং পৌরাণিক থ্রিলার এই দুয়ের প্রতি আমার চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ উপেক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে প্রি বুক করেছিলাম "শিখন্ডী"। বইয়ের বাঁধন এবং পৃষ্ঠার গুণমান দুইই প্রশংসাযোগ্য। বইয়ের সঙ্গে আবার একটি বুকমার্কও পেয়েছি। প্রচ্ছদটি একেবারেই মনে ধরেনি তবে বইয়ের পাতায় পাতায় যে অলঙ্করণগুলি রয়েছে, প্রতিটি মন ছুঁয়ে গেছে। মৃণালবাবুকে তাই আলাদা করে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।
পড়ার সময় কিছু জায়গায় একই বাক্যের পুনর্ব্যবহার এবং বানান ভুল চোখে পড়েছে। আশা করি, পরবর্তী সংস্করণে এই ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়া হবে। বর্তমান ও পুরাকালের ঘটনা সমান্তরালভাবে এগিয়ে গেলেও মূল গল্প থেকে সরে গিয়ে শিখন্ডীকে ঘিরেই উপন্যাসটি বেশি পরিমাণে আবর্তিত হয়েছে। যেন এক প্রকার জোর করেই দুই কালের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার মতে, লেখিকা যদি শুধুমাত্র শিখন্ডীকে নিয়েই এই উপন্যাস রচনা করতেন, তাহলে বেশি ভালো হতো। তবে লেখার ধরণ এতই সুন্দর ও সাবলীল, একবার পড়া শুরু করলে মাঝপথে আর থামতে ইচ্ছে করবে না।
তবে আমি একটা কথাই বলবো, পৌরাণিক থ্রিলার হিসেবে যদি এই গল্পটি পড়তে চান, তাহলে যারপরনাই হতাশ হবেন। যদি শিখন্ডীর চোখে মহাভারত চিনতে চান তাহলে অবশ্যই পড়ে দেখুন। তবে আমি আগে থেকেই বলে রাখি, মহাভারতে দ্রৌপদীর আগমনের পূর্ববর্তী অংশকে ঘিরেই এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
আপনারা ইতিমধ্যে হয়তো অনেকেই এই বইটি সংগ্রহ করে ফেলেছেন। যদি কেউ এখনও না কিনে থাকেন কিন্তু পরে কিনবেন ভেবে রেখেছেন, অথবা এখনও শেষ অবধি পড়ে উঠতে পারেননি তারা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে পরবর্তী অংশটি এড়িয়ে যান। আমি যে বিষয়ে আলোচনা করতে চলেছি, তা হয়তো আপনাদের জন্যে স্পয়লার হতে পারে। আমি কোনোভাবেই আপনাদের পাঠ অনুভূতি নষ্ট করতে চাই না। আবার এই প্রশ্নগুলো না করলেও চলে না। তাই দুঃখের সঙ্গে আপনাদের এখানেই বিদায় জানিয়ে দিতে হলো। দয়া করে কিছু মনে করবেন না।
এবার আসি কিছু প্রশ্নে, "শিখন্ডী" শেষ করার পর যে প্রশ্নগুলি আমাকে ভীষণ রকমভাবে তাড়া করে বেড়াচ্ছে-
১) সাহানা যখন মিতুর সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যায়, তখন মিতু অলরেডি বিছানায় শুয়েই তার সাথে কথা বলছিল, কিন্তু পরের অংশে লেখা রয়েছে, মিতু কথা বলতে বলতে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। এটি আদতেও লেখার ভুল নাকি আমার বোঝার ভুল টা নিয়ে কনফিউশন রয়েছে।
২) আরও বড়ো কনফিউশনের সৃষ্টি হয়েছে শেষের টুইস্ট-এ এসে। প্রথমত, কিটব্যাগে কোনো মানুষ ছুরি নিয়ে ঘোরাফেরা করে এটা একটু অবাস্তব লেগেছে, যদি না সে কোনো ক্রিমিনাল হয়। তবুও নেতা মানুষ, ছুরি নিয়ে ঘুরতেই পারে এই যুক্তি দেখিয়ে নিজের মনকে শান্ত করে নিলাম না হয়। তবে সেই ছুরি দিয়ে যখন দ্বিতীয় ব্যক্তি হাত কাটলো, তাহলে তো ছুরির ওপর তার ফিঙ্গারপ্রিন্টও থাকা উচিৎ, শুধুমাত্র ছুরির মালিকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবে কেনো?
৩) পুলিশ বলেছে, কিটব্যাগ থেকেই নাকি রক্ত মাখা ছুরি পাওয়া গেছে। আমার প্রশ্ন হলো, যিনি হাত কাটলেন, তিনি আবার কিটব্যাগের ভেতর ছুরিটা ঢুকিয়ে দিলেন। কিন্তু ঘরে তো দুটো মানুষই ছিলো এবং তাদের মধ্যে খুব একটা সুখকর বার্তালাপও চলছিলো না, সেক্ষেত্রে এত বড় ঘটনা চোখে এড়িয়ে যাওয়া বাস্তবে সম্ভব কি?
আমি ছোট মুখে হয়তো অনেক বড় বড় কথা বলে ফেললাম। সেই জন্যে আমি আগাম ক্ষমাপ্রার্থী। কাউকে কোনোভাবে আঘাত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়।
সকলে আনন্দে থাকুন, সুখপাঠে থাকুন।
ধন্যবাদ ❤️
This entire review has been hidden because of spoilers.
প্রথমেই নমস্কার জানাই দেবারতি ম্যাডাম কে। আমি এই প্রথম কিছু লিখছি ভালো লাগার তাগিদে, অজ্ঞাত ভুল র্মাজনা করবেন। যে যার মতো করেই নিজের কথা ব্যক্ত করে থাকেন, সেই ধারণা কে সুস্পষ্ট করেই আমার স্ববক্তব্য লিখছি। যদিও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সাহিত্য পড়ায় ডুব দিয়েছি। আপনার লেখা বই গুলির মধ্যে আমি আজ অবধি পড়লাম- ঈশ্বর যখন বন্দী, ৭শিহরণ, হারিয়ে যাওয়া খুনিরা, অবশেষে শেষ করলাম "শিখন্ডী"। "ঈশ্বর যখন বন্দী" শেষ করার পর ভেবেছিলাম আপনাকে একটু চোখের দেখা, দেখাটাই আমার বিশাল পাওনার। কিন্তু তারপর ভেবেছি আপনার সাথে দেখা করার আগে আপনার লেখা বই গুলো আমায় পড়তে হবে। একে একে সংগ্রহ করলাম আর পড়লাম । কিছু বই আমাকে এখন ও সংগ্ৰহ করতে হবে। ভেবেছিলাম আপনার লেখা বেশীরভাগ বই শেষ করে review দেব, কিন্তু আর ধৈর্য্য রাখতে পারলাম না। ঈশ্বর যখন বন্দী - অসাধারণ লেগেছে। রুদ্র এবং প্রিয়ম কে, রুদ্রর যে সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে তাতে অনবদ্য লেগেছে আমার। গল্প টি পড়তে পড়তে গল্পের মধ্যে কখন হারিয়ে গেছি জানা নেই সম্বিত ফিরে ছিল সকালে পাখির শব্দে। (একা থাকার সুবাদে সেরকম ডিস্টর্টাব হয় নি, মাঝে ডিনার সেরেছি) শেষদিকে তো আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম প্রকাণ্ড জন্তুর আক্রমণে কী হয় কী হয়? দারুন ভাবে শেষ হয়েছে। ৭শিহরণ -৭টী গল্পই আলাদা আলাদা মাত্রার। কত রকমভাবে মানসিক রোগাক্রান্ত হয় মানুষ। কত নামে ভুষিত সব। "মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার", কোর্টাড ডিলুশ্যন, স্কিজোফ্রেনিয়া, বোয়ানথ্রোপি, নেক্রোফিলিয়া। সাধারণ পাঠক হয়ে এসব আপনার কাছে থেকে জানলাম। আপনার মত লেখিকার বই পড়ে নিজেকে কিছু শেখাতে পারলাম মনে হচ্ছে। অসাধারণ বর্ণনা, অসাধারণ গল্প। হারিয়ে যাওয়া খুনিরা - খন্ড খন্ড বলতে গেলে অনেক লেখা হয়ে যাবে। তাই ছোটো করে বলছি ভীষণ তথ্য জ্ঞাপক। অনেক কিছু শিখলাম, জানলাম।
শিখণ্ডী- শিখণ্ডী বলতে চিরচরিত দ্রোপদীর জৈষ্ঠ্য ভ্রাতা, রাজকন্যা অম্বা যার শরীরে র্বতমান, যার দ্বারা গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম নিধনের শক্তি ব্যতীত আর কিছুই জানা ছিল না। শিখণ্ডী পড়ে আমি আবার ও আপনার প্রতি নতমস্তক। শিখন্ডী চরিত্র কে নতুন ভাবে জানতে পারলাম, নতুন করে মহাভারত সবিস্তারে পড়ার ইচ্ছা র রইল।কীভাবে লেখেন ?? এত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে এত কিছু বিষয়ের গভীরতা কীভাবে জানেন?? আপনার প্রতি আমার হৃদয় থেকে জিজ্ঞাসু ভগবান কি আপনাকে একষ্ট্রা সময় দেন??? আমরা কী করছি জীবনে?? আপনি অনন্য ম্যাডাম। মিতু, সাহানা, পলি, সিমি ও উর্ণা দের মতো কতজন আমাদের বাস্তব সমাজেই আছে। আর মণিময়ের মতো পুরুষ নামে কলঙ্ক ও বর্তমান আমাদের সমাজে। "ক্ষমতা " র অপব্যবহার । সবশেষে আমার সবথেকে ভালো লাগার জায়গা গুলির মধ্যে অন্যতম কথোপকথন হল- শিখন্ডী যখন চূড়ালাকে বলছেন -লিঙ্গ সত্তাকে যদি নাই গুরুত্ব দিই, তাহলেও সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক আর্কষণ কে গুরুত্ব দেওয়া চলবে না? হৃদয়ের আকাঙ্খা কি সেক্ষেত্রে মুল্যহীন হয়ে পড়বে? চূড়ালা বলছেন তখন "হৃদয়ের আকাঙ্খার গুরুত্ব সর্বাধিক, শিখন্ডী। ভলোবাসাই তো পৃথিবীকে সজীব রাখে। কিন্তু সেই ভালোবাসা র্শতহীন, স্বার্থহীন, উদ্দেশ্যে হীন হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সম্পর্ক বিষিয়ে যায়। "
আশা করি এরকম আরও সাহিত্য, ছোটগল্প উপহার হিসেবে পাব। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ঐতিহ্য বাবুর প্রতি ও আপনার প্রতি ভালোবাসা রইল।
This entire review has been hidden because of spoilers.
শিখণ্ডী। মহাভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, অথচ কি অসম্ভব মলিনতায় ঢাকা। কর্ণের মত, সত্যবতীর মত প্রকট হওয়ার কথা থাকলেও কি করুণ জীবন সেই শিখণ্ডীর। আসলে বাস্তব জীবনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয় যারা, তারা পরীক্ষা দিতে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে সাফল্যের আলো তাদের ছুঁতে পারে না। আলো এসে পড়ার আগেই তারা পরের লক্ষ্যে ছুটে চলে। দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে অশেষ ধন্যবাদ শিখণ্ডী কে আমাদের সামনে হাজির করার জন্য। পাঞ্চজন্য, নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ির লেখা, বাণী বসুর একের পর এক মহাভারতের নারী কেন্দ্রিক খণ্ডাংশ পড়ার পরও মহাভারত এখনও আমার কাছে অনাবিষ্কৃত খনির মতোই অবিকল অকৃত্রিম হয়ে রয়েছে। তাই শিখণ্ডী পড়তে পড়তে ইদানিং গীতার কিছু শ্লোকের ব্যাখ্যাও জানতে শুরু করেছিলাম। তবে সত্যিই শিখণ্ডী চরিত্রকে অন্য আঙ্গিকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য লেখিকাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। প্রথমে পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল সময়ের এপার ওপার না করলেও শুধুমাত্র পুরাকালের শিখণ্ডী কে নিয়ে কাটাছেঁড়া করলেও বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত আটকে থাকতে পারতাম। আসলে আমি সাহানার থেকেও চুড়ালা কেই অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি, তাই সেই সময়টুকু কেই যদি আরো আরো বেশি জানতে পারতাম তাহলে ওই মাইথলজিকাল খিদেটা আরো একটু মিটতো আর কি। শিখণ্ডী কে আমাদের সামনে এভাবে না তুলে ধরলে হয়তো জীবনের এক অংশের মর্মার্থ অনুপলব্ধই থেকে যেত। প্রতিটা সম্পর্করই যে প্রয়োজনীয়তা আছে, আবার প্রতিটা সম্পর্কেই কিছু না স্বার্থ লুকিয়ে আছে - এই সত্যটির চরমতম সময় উপলব্ধি আরো একবার জীবনের চলার জন্য চোখ খুলে দিল। একবার শিখণ্ডীর আঙ্গিকে ভেবে পরক্ষণে নিজের আঙ্গিকেও সেই কথা যাচাই করে নিতে পারলাম।
আর পরিশেষে সব সম্পর্কের উর্ধ্বে যে নিখাদ ভালো বন্ধুত্বই এই জীবনের বন্ধুর পথেও টেনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই শুভ উপলব্ধিও করলাম।
তবে যাঁরা মহাভারতের সবিশেষ না জেনে এই বই পড়বেন তাদের কাছে সম্পর্কের সমীকরণ বুঝতে অসুবিধা হতে পারে, তাই আগে সব কটি চরিত্র কে কিভাবে কার সাথে কি সম্পর্কে আবদ্ধ সেটুকু পরিষ্কার করে নিয়ে এই বই পড়তে বসলে ভালো হয়। কারণ যেহেতু শুধু শিখণ্ডী কে নিয়ে লেখা, তাই তার আনুষঙ্গিক চরিত্র গুলি নিয়েও তথ্য আছে, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র লেখার প্রয়োজনে, জানার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আগে পুরো মহাভারতের একটা সম্যক ধারণা নিয়ে এই বই পড়তে শুরু করলে ভালই হবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া (No spoiler ahead)--- "উৎসবে ব্যসনে চৈব দূর্ভিক্ষে রাষ্ট্রবিপ্লবে। রাজদ্বারে শ্মশানে চ যঃ তিষ্ঠতি স বান্ধবঃ।। অনুচ্চস্বরে কথাগুলো বলে শিখন্ডীর হাতের ওপর হাত রাখলেন চূড়ালা।...." And Goosebumps💥
মহাভারতীয় থ্রিলার। গতরাতে যখন বইটার প্রথম পাতাটা খুলি ঘড়িতে তখন সাড়ে দশটা প্রায়। চুম্বকীয় আকর্ষণে গ্রাস করতে থাকি পাতার পর পাতা। তখন বাজে রাত্রি আড়াইটা। কোনো চরিত্রের মধ্যেই হয়ত ঢুকে গিয়েছিলাম নিজেই। শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে আকর্ষণ অনুভব করছিলাম আরো জোরালোভাবেই।
সর্বোচ্চ মাত্রার সাহিত্য বা Epic মহাভারতের কোনো এক অবহেলিত চরিত্র সে, যার নামকরণাঙ্কিত হয়েছে বইয়ের কভারে। শিখন্ডী। উপন্যাসিকার প্রবহমানতা ঘটছে দুইটিপথ ধরে। একটি অতিপরিচিত মহাভারত। অন্যটি বর্তমান সমাজ। 'অতিপরিচিত মহাভারত' অথচ অপরিচিত এক দৃষ্টিভঙ্গিতে আখ্যায়িত হয়েছে গোটা প্লট। সেই অপরিচিত দৃষ্টিভঙ্গি আর কেউ নন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র শিখন্ডী। বর্তমান সমাজের গল্পটিও শিখন্ডীর মতই একজনকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে। মিতু। গল্পের শুরুতেই মিতুকে পাওয়া যায় রক্তাক্ত অবস্থায়। আত্মহত্যার চেস্টা করেছিল। কিন্তু কেন! লোকসমাজের উপহার দীর্ঘমেয়াদী লাঞ্ছনা নাকি আত্মগ্লানি না অন্য কোনো কারণ! অন্যদিকে শিখন্ডীর ধারাময় জীবনের অবনমন ঘটে। আত্মগ্লানি, আত্মবিভ্রান্তি, বঞ্চনা, অবসাদ কাটিয়ে শিখন্ডী কি পারবে আত্মচৈতন্য লাভ করতে। পূরণ কি হবে শিখন্ডীর প্রতিশোধস্পৃহা। বইতে যেন একই জীবনের দুটি গল্পকে লেখিকা বেধে দিয়েছেন আলাদা দুটি বিন্যাসে।
এ গল্প বন্ধুত্বের, এ গল্প ভালোবাসার, এ গল্প প্রেমের। পরিশেষে এক অদ্ভুত উপলব্ধি হয়। বেগময় জীবনের উত্থান-পতনের আবর্তে 'শিখন্ডী'র কেন্দ্রীয় চরিত্র যেন জীবন নিজেই। একরাশ ভালোবাসা, ভবিষ্যতে আরো লেখা পড়ার জন্য আগ্রহীচিত্তে অপেক্ষায় থাকব। ❤️
দিদি আপনার এত ভিন্ন স্বাদের লেখার মধ্যে প্রথম 'লিলি' পড়ার সৌভাগ্য হয় আমার এক বান্ধবীর সূত্রে শপিজেনের নবপত্রিকায়। এরপর "নীলাম্বরের খিদে" ও 'লিলি' দুটোই সানডে সাসপেন্স হিসাবে শুনতে শুনতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল আপনার বাকি সব সৃষ্টি গুলোকে ছুঁয়ে দেখে আরো বেশি করে আপনাকে জানার, আপনার লেখা আরো পড়ার। সেই ২০১৭ থেকে আপনার পেজটি ফলো করে আসছি। পোস্টগুলিও মাঝে মাঝে দেখতাম।
সেদিন টাফ্ টকে বলা আপনার কথা গুলো বড্ড সত্যি মনে হয়েছিল। তারপর থেকে রোজই ফলো করা শুরু করি আপনাকে।এরপরেই আত্মপ্রকাশ করলো 'শিখন্ডী'। আর লোভ সামলাতে পারলাম না প্রি-বুকিং করে কিনেই ফেললাম। যদিও আপনার সাইন্ কপি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তাও বইপ্রকাশের দিনই যে হাতে পেয়েছি এটাই অনেক। কদিন একটু ব্যস্ত থাকায় পড়ব পড়ব ভেবেও পড়ে উঠতে পারিনি তবে আজ অন্যসব কাজ ফেলে বিকালের দিকে নিয়ে বসে পড়লাম বইটা।
প্রথমে ভেবেছিলাম একটুখানি পড়ে রেখে দেবো তারপর রাতে বা পরে আরও একটু পড়বো। কিন্তু যত এগোতে থাকলাম মনে হল এই বইটা ছেড়ে ওঠা অসম্ভব। তাই একটানে পুরোটা শেষ করে এখন রিভিউ লিখছি।
সেই মহাভারতের শিখন্ডী থেকে আজকের মিতালী দাস/সুমিত মাইতির গল্প যেভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন তা আমার মত পাঠকদের একটানা গল্পটা পড়তে বাধ্য করবেই। অনেক দিন এই শিখন্ডী, রানি চূড়ালা কিংবা সাহানা, মিতালীর চরিত্রগুলো মনে গেঁথে থাকবে। গল্পে বলা ওই নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বটাই বর্তমানে প্রাসঙ্গিক। আর বেশী কিছু বলব না। অনেক ভালোবাসা রইল দিদি এইভাবে আরও অনেক বই উপহার দিতে থাকুন আমাদের।
পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম দিদি। আশারাখি একদিন আপনাকে সরাসরি দেখার সুযোগ নিশ্চই হবে।
২০২১ সালের তথাকথিত আধুনিক সমাজে আমি মহাভারতের শিখণ্ডীকে একদিকে উন্মোচন করছি,অন্যপিঠে রোমহর্ষক মিতুর জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা তার অতীতের রহস্যের কিনারা খুঁজতে হেঁটে চলেছি।বিষয়টা দুলতে থাকা দোলনার মত....শিখন্ডির কথা পড়তে পড়তে ঠিক যখন আরেকটু জানার ইচ্ছে প্রবল হলে বলে,তখনই পাতা উল্টে মিতু হাজির,রেল লাইনের দুটি পাত এত নিখুঁত ভাবে পাশাপাশি চলছে,অথচ স্বতন্ত্রভাবে।গল্পের তাল কাটছে এবার উপভোগও করছি সেটা...অন্যদিকে বিদূষী নারী রাজ্ঞি চুড়ালার পরিচয় পর্ব,অসম্ভব সুন্দর।
১৫৬ পাতা মন দিয়ে পড়ছি,১৫৭ এর পরের লাইন_"যাওয়ার সময় দেখলাম, এখনো দেখছি, এত মন দিয়ে কি পড়ছেন?"...এত মন দিয়ে পড়ছি,নিজেই চমকে উঠলাম..উনি কিভাবে বুঝলেন,আমাকেই বলছে ভেবেছি.....হা,হা.....হা... 😊
আবার অন্য আঙ্গিকে মিতু আসলে তুমি দিদি..."গল্পকার"!!
"ক্ষমতা" কথাটা বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে আমার...সমাজতত্ত্বের ছাত্রী হওয়ার সুবাদে ক্ষমতা বলতে জানি, বৈধতা হীন যা, বৈধ যা সেটি কর্তৃত্ব।
নির্লিপ্ততার ধারণা বইয়ের চরিত্রের সাথে পাঠককেও দেয়াটা অসামান্য। গল্পের এক পিঠে শিখন্ডী কে জানতে গিয়ে ডুবে গেলে, হঠাৎ মিতু এসে হাজির হলে ছন্দ সামরিক কাটতে পারে, শিখণ্ডী কে জানতে গিয়ে মিতু সামনে এলেও নির্লিপ্ত হয়ে পড়া প্রয়োজন উপলব্ধি করলাম... শেষে মিতু এবং শিখণ্ডী এর অসামান্য মেলবন্ধন....সম্পূর্ণটাই শিখণ্ডী কে অন্য ছন্দের একটি লেখনি করে তুলেছে।💐💐
Debarati Mukhopadhyay তুমি এমনই সুন্দর লেখা আমাদের উপহার দিও, ভালো থেকো, সুস্থতা কামনা করি পরিবারের 💐💐
গতকাল দুপুরে হাতে পেলাম শিখণ্ডী, বলতে গেলে এক নিঃশ্বাসেই পড়া শেষ করলাম। এই সৃষ্টি না পড়লে মহাভারতের এক চির উপেক্ষিত দ্রুপদ পুত্র শিখণ্ডীর ব্যক্তি চরিত্রের যন্ত্রণার কথা অজানাই থেকে যেত বৈকি! মহাভারতের শিখণ্ডী আর আজকের কাহিনীর মিতু, এদের শুধু নামেরই পরিবর্তন হয় কালের নিয়মে; কিন্তু তাদের দুঃখ, মানসিক যন্ত্রণা, বুকফাটা বোবা কান্নার আর্তনাদের শব্দ এসবকিছুই অপরিবর্তনীয়। যোগ্যতার আঙ্গিকে নয়, এই অত্যাধুনিক সমাজের ফাঁপা মস্তিষ্ক শুধু তাদের জন্মগত ত্রুটিকেই গুরুত্ব দিয়েছে বারবার; সমাজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় এই শিখণ্ডীরা যেন সস্তা হাসির খোরাকের যোগান দিতেই জন্মায় ধরণীর বুকে! "জ্ঞানীর কোনো লিঙ্গভেদ হয়না", "পুরুষ এবং নারী, দু - জনকেই ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন সম মর্যাদায়।" .... এই সহজ সত্যি কথাগুলো সমাজের রন্ধ্রে মিশতে কতযুগ অপেক্ষা করতে হবে শিখণ্ডীদের তা সত্যিই জানা নেই! এই অস্ফুট বেদনার কথা পড়তে পড়তে একটা লাইন মনে পড়লো: "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই"..এই বাণী কি আদৌ সত্যি হবে কোনোদিন? কোনোদিন কি সত্যিই লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে শুধুমাত্র মানুষের মনুষ্যত্ব যোগ্যতা বিচারের মাপকাঠিতে জায়গা করে নেবে? উত্তর আমাদের অজানা। তবে সাহানাদের মতো বন্ধুও তো ঈশ্বরসৃষ্ট, তাই এই স্বার্থহীন, উদ্দেশ্যহীন, নির্ভেজাল বন্ধুত্বের হাত যতদিন এই পৃথিবীতে থাকবে; ততদিন যতই সমাজ কোণঠাসা করে রাখুক শিখণ্ডীদের, একফালি জানালা দিয়ে মুক্তির আলো হাজার বাঁধা পেরিয়েও সেই ঘরের কোণে এসে পৌঁছবেই, আর এভাবেই সতেজ রাখবে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাকে আর শিখণ্ডীদের।
সম্প্রতি Pathok Bandhu-র মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলাম জনপ্রিয় লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস "শিখণ্ডী"। কিছুদিন ধরেই ফেবুতে বইটি নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছিল। তারপর থেকেই একটা কৌতূহল হচ্ছিল যে মহাভারতের এক অবহেলিত চরিত্র শিখণ্ডীর সাথে শহর কোলকাতার মিতুর কি সম্পর্ক?
বইটি পড়া শুরু করার পর থেকে গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছি একের পর এক পাতা, চোখের সামনে যেন ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছে মিতু, সাহানা, উর্ণা, সিমি ও শন্টুর মত চরিত্রগুলো। সেই সাথে মহাকাব্যের পাতা থেকে উঠে এসেছে কাশীর রাজকুমারী অম্বা, রূপান্তরকামী রাজকুমার শিখণ্ডী, পাঞ্ছালের সামন্তরাজা শিখীদ্ধজ, রাণী চুড়ালা ও তপস্বী কুম্ভকের মত অনেক চরিত্র, যারা সকলে হয়তো মহাকাব্যে নেই।
প্রাপ্তমনস্কদের জন্য লেখা এই উপন্যাস যত এগিয়েছে, লেখিকার কলমের গুণে তত পড়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে। সবশেষে পুরো উপন্যাস যখন শেষ করে উঠেছি, তখন মনের মধ্যে রয়ে গেছে একপ্রকার ঘোর ও ভালোলাগা। পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে রাজকুমার শিখণ্ডীর উত্তরণ,সেই সাথে রয়েছে শহর কোলকাতায় সাধারণ মেয়ে মিতুর জীবন সংগ্রাম। আর সেখানে তারা পাশে পেয়েছে ��ুম্ভক ও সাহানার মত বন্ধুকে।
সবশেষে রয়েছে লেখিকার বার্তা - বন্ধুত্বের কোন জেন্ডার হয়না, স্বার্থ হয়না, শর্ত বা উদ্দেশ্যও থাকেনা। আর সেখানেই এই উপন্যাসের স্বার্থকতা।
এই বইয়ের প্রচ্ছদ, পাতার গুণমান, মুদ্রণ ও বাঁধন যথেষ্ট ভালো। এরজন্য দীপ প্রকাশনকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।
শেষ করলাম লেখিকা দেবারতি দির লেখা উপন্যাস ' শিখণ্ডী ' । এই বইয়ের গল্পটি গড়ে উঠেছে মহাভারতের একজন স্বল্প পরিচিতি চরিত্র শিখণ্ডী আর বর্তমান জগতের একজন শিখণ্ডীর মতো মানুষকে নিয়ে । তবে এই বইয়ের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু শিখণ্ডী, তাই আমাদের পরিচিত মহাভারতের অনেক কিছুই এই বইয়ে নেই , আবার যা কিছু মহাভারতে নেই (এখানে মহাভারত বলতে আমরা সাধারণত দোকান থেকে যে বই গুলো কিনি, তার কথা বলছি) , তা এই বইয়ে আছে । তবে বর্তমান জগতের চরিত্র মিতু দাসের চরিত্র টাও বেশ অন্যরকম , কিছুটা থ্রিল আছে শেষের দিকে যেটা বোঝা যায় কিন্তু তথাকথিত এই বইটি থ্রিলার উপন্যাস তো নয়ই, সামাজিক বা পৌরাণিক উপন্যাসও নয় পুরোপুরি । আজকের সমাজ আর পৌরাণিক কাহিনীর মেলবন্ধন এই বইটি । এছাড়া বন্ধুত্বের গল্প বলে এই বইটি, একদম স্বার্থহীন বন্ধুত্ব । তবে এই বইয়ের একটা উপরি পাওনা শিখণ্ডীর মতো একটা স্বল্প পরিচিত চরিত্রের ব্যাপারে এত কিছু জানতে পারা । এছাড়া লেখিকার লেখনী বেশ ভালো, বইয়ের প্রচ্ছদ মানানসই । প্রচ্ছদ দেখেই বোঝা যায় যে বইটি পৌরাণিক কাহিনীর শিখণ্ডী আর বর্তমান জগতের শিখণ্ডী কে নিয়ে লেখা । আর অবশ্যই আমার মতে সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই ।
Debarati Mukhopadhyay 🙏🙏 শেষ করলাম উপন্যাসটি। তবে শেষ হয়েও সে মনের মধ্যে রেখে গেল অনেক প্রকার অনুভূতি, চিন্তা, প্রশ্ন - যে রেশটুকু রেখে যাওয়ার ক্ষমতার মধ্যে একটি লেখা বা তার সৃষ্টিকর্তার সার্থকতা। মহাভারতের মতো মহাকাব্য বা তার চরিত্রসকল অপরিচিত নয় কারো কাছেই। ছোট থেকে পুরাণ ও রামায়ণ, মহাভারতের ঘটনা মনকে আকৃষ্ট করত, পৌরানিক চরিত্র ও তাঁদের কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাবহুল কাহিনীসকল পড়েছি; শিখন্ডীর মতো একজন স্বতন্ত্র চরিত্রও যার অন্তর্গত। কিন্তু লেখিকার লেখনী এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে আলোকসম্পাত করল সেই চরিত্রের গভীরতা, যন্ত্রণা, অন্তর্দ্বন্দ্বের উপর এবং তারই হাত ধরে আলোকিত হয়ে উঠল মানবিক সম্পর্কের বিভিন্ন স্তর। এই ঘটনাসংকুল উপন্যাস যত এগিয়েছে, ততই তা ভাবিয়েছে আমার পাঠক মনকে। একই সাথে বর্তমান যুগের কিছু ঘটনাপ্রবাহ, যার মধ্যে মিলেমিশে গেছে কারো বঞ্চনা, কারো শোষণ, কারো যন্ত্রণা.... ইতিহাসের সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়ে গিয়েছে। আর অপূর্ব ভাবে দুটি ঘটনাপ্রবাহই সমান ভাবে পাঠকমনকে কৌতুহলে বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে। লেখিকার বিভিন্ন রচনা বিভিন্ন আঙ্গিকে সৃষ্ট, এই বৈশিষ্ট্য মনকে আরো বেশি আকৃষ্ট করে। "শিখন্ডী"র মত এমন ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস সেই আকর্ষণ আরো গভীর করল, তৃপ্ত হলাম।
লেখা"গন্তব্য এখনো এক সভ্যতা দেরি",বই টা এবারের বইমেলা থেকে কিনলেও পড়া শুরু করেছিলাম পরশু দিন।নাইট ডিউটি করে বাড়ি গিয়ে ঘুমোনোর আগে ভেবেছিলাম কয়েক পাতা পড়ে ঘুমাবো,কিন্তু এক নিঃশ্বাসে 67 পাতা পড়ে ফেললাম এবং বাধ্য হয়েই ঘুমালাম কারণ ঐ দিন ও আবার নাইট ছিলো। কাল বাড়ি ফিরে আবার ও পড়া শুরু করলাম এবং শেষ না করে ছাড়তে পারলাম না।ঘুমানো দরকার ছিলো কিন্তু মনে হচ্ছিলো পেশা র স্বার্থে আমাকে হয়তো সারাজীবন ই নাইট শিফট করতে হবে কারণ আমি একজন নার্সিং স্টাফ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের।কিন্তু এই বই পড়ার সুযোগ বার বার হয় না।রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের এটা আমার প্রথম পড়া বই।অসাধারণ এক কথায় বই টা।শুধু ভাবছিলাম একটা বই লেখার জন্য আপনি কতো টা পরিশ্রম করেন।গোয়া ,আমি 3 বার গেছি তাই বেশিরভাগ বিচ গুলো র সাথেই পরিচিত তাই ভালো লাগার পরিমান টা ছিলো অনেক বেশি।ইতিহাস এবং রহস্য কে একসাথে কি সুন্দর করে মিশিয়েছেন।কতো অজানা তথ্য যেনো আপনার লেখা র মধ্যে দিয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো।আপনার লেখা র মান এতো উন্নত সত্যিই যারা পড়েন নি তারা জানবেন না।খুব ভালো থাকবেন।ছেলে র জন্য অনেক আদর।রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের সব বই গুলোই কিনে ফেলবো খুব তাড়াতাড়ি।
২০ নভেম্বর বইটি প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম তার সঙ্গে যখন জানতে পারলাম ম্যাম নিজে উপস্থিত থাকবেন ওইদিন, তখন signed কপি পাওয়ার লোভ আর সংবরণ করতে পারিনি..ওইদিন ই বইটি হাতে পেয়ে প্রায় এক নিঃশ্বাসে শেষ করেছি ... শিখণ্ডী বইটিতে একদিকে যেমন রয়েছে রুদ্ধশ্বাস থ্রিল সেরকম ই অপরদিকে রয়েছে মহাভারতের বেশ কিছু চরিত্র যার মধ্যে পাঞ্চাল রাজকুমার শিখণ্ডীকে কেন্দ্র করে মূল বিষয় আবর্তিত হয়েছে..সেই পাঞ্চাল রাজকুমার যার সাথে বর্তমান সময় এর মিতুদের মত LGBTQ community এর মানুষদের সাদৃশ্য রয়েছে সেইসব মানুষদের মনের জোর হতে পারবে এটি..মহাভারত যে শুধুই কোনো সাহিত্য নয় তার প্রতিটি চরিত্রে র যে গুরুত্ব টা বর্তমান যুগেও সমান তাৎপর্যপূর্ণ..সেটি খুব ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে বইটিতে... আর সবথেকে বড় উপলব্ধি ছিল 'কর্মই যে মূল ধর্ম' এবং মনুষত্বের জন্য লিঙ্গ, বর্ণ, জাতি কোনো কিছুই বড় নয় এবং জানা যায় আসল বন্ধুত্বের সংজ্ঞা কি..এককথায় অসাধারণ🖤..
" শিখণ্ডীর মত মিতুও কি সারাক্ষণ নিজের সত্তাকেই খুঁজে চলে না ?" .... এই মাত্র পড়া শেষ করলাম "দেবারতি মুখোপাধ্যায়" এর নতুন উপন্যাস " শিখণ্ডী "। তবে মহাভারতের অনেক জনপ্রিয় চরিত্রের মাঝে কোথাও যে চরিত্রের স্থান একটু খর্বকায় সেই চরিত্রটিকেই তিনি গল্পের জন্য বাছলেন এতে প্রথমে একটু অবাক হলেও পড়া যত এগিয়েছে নামকরণের সার্থকতা উপলব্ধি করেছি। সময় মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ন জিনিস যা এই উপন্যাসেও লক্ষ্যনীয়, non- linear ভাবে দুটি ভিন্ন সময়কালের দুটি ভিন্ন গল্পের দুটি ভিন্ন চরিত্র গল্পের শেষে গিয়ে কোথাও মিলে যায় এবং সময়ের সাথে সাথে এই উপন্যাসের সবকটি চরিত্রের জীবনেই ঘটনাবহুল পরিবর্তন আসে..। সবশেষে লেখিকার এই উপন্যাস লেখার মূল উদ্দেশ্য যে নিঃশর্ত বন্ধুতার কথা বলে এবং তা এই আত্মকেন্দ্রিকতার যুগে আরো বেশি প্রয়োজনীয় সেকথাও গল্পের শেষ অংশে একটি সুন্দর বার্তা দেয়।। পুনশ্চ: Debarati Mukhopadhyay ম্যামের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যেই সেদিনের কলেজ স্ট্রিট যাত্রা এবং বইয়ে ওনার সই বাড়তি পাওনা হিসেবে আজীবন থেকে যাবে ❤️☺️
আপনি আপনার সব পাঠক দের কাছে পাঠপতিক্রিয়া চেয়েছেন... আমি জনিনা কতটা ভালো করে আমি সেটি দিতে পারবো... আমার কাছে দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা মানে সেরা লেখা... তাই আপনি যাই লেখেন আমি just সেটি কিনে নেই.. কারণ আমি আপনার লেখা পরে পরে সত্যি মুগ্দ্ধ... কোনও খুঁত আমার মনে হয়নি...আপনার "হারিয়ে যাওয়া খুনিরা "just awsome...আপনি শুনলে হাসবেন.. আমি ওই বই গুলি অল্প অল্প করে পড়ি.... মনে হয় শেষ যেন না হয়.. আমার কাছে proper adjective নেই আপনার লেখনী describe করার জন্য... আমি তো শুধু আপনার লেখা গুলি উপভোগ করি.."শিখণ্ডী " পড়ছি শেষ হয়নি পুরোটা...তবুও বাধ্য হলাম বলতে সত্যি আপনি অসাধারণ গুনের অধিকারিণী... বই টি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে কোনও web series দেখছি চোখের সামনে... খুব interesting... ছাড়তেই যেন পারছিনা..নিজের এই লেখায় সাহিত্যের জাল বুনে হয়তো আপনার লেখনীর প্রশংসা করতে সক্ষম হলাম না... শুধু আপনাকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করলো এতো সুন্দর উপন্যাস এর জন্য...ভালো থাকবেন... আপনার সুস্থতা কামনা করবো ঈশ্বর এর কাছে.....
Debarati Mukhopadhyay প্রথমেই প্রণাম জানাই দিদিভাই আপনাকে । শেষ হল শিখণ্ডী । মহাভারতের গহ্বরে লুকিয়ে থাকা এক অসাধারণ চরিত্রের প্রতিচ্ছবি রূপে বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে বর্তমানের মিতালি দাস হরফে মিতু । লিঙ্গ বৈষম্য সমাজের এক বড়ো ব্যাধি । এই ব্যাধির বোঝায় চাপা পড়ে একটি হারিয়ে যায় একাধিক রক্তে-মাংসে গড়া প্রতিভা । কিন্তু তাদের মাঝেও নিজের ইচ্ছাশক্তি, নিজের প্রতিভাকে নিজের পরিচয় বানাবার চেষ্টায় সমাজের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন কিছু সাহসী যোদ্ধা । এমনি এক তৃতীয় লিঙ্গের যোদ্ধা হিসাবে মিতুর আত্মপ্রকাশ। মহাভারতের চরিত্র শিখণ্ডী, আর বর্তমান যুগের মিতুর এক অসাধারণ মিল ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে । আর ফুটে উঠেছে এক নিঃস্বার্থ- নির্ভেজাল বন্ধুত্বের প্রতিচ্ছবি। শুধু তাই নয়, সমকামী, রূপান্তরকামী,উভকামী এই সমস্তকিছুর এই উপন্যাস ।এক কথায় অসাধারণ উপন্যাস এই শিখণ্ডী ।একবার পড়তে শুরু করলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত না পড়ে থাকা যায় না । খুব ভাল লাগল পড়ে । তবে এবারেও শ্রেদ্ধেয় লেখিকার সাক্ষর পাওয়া জোটেনি কপালে । যাইহোক পরেরবারের আসায় রইলাম আবারও ।
তোমার শিখন্ডী উপন্যাস টি পড়লাম। পড়ে এক অদ্ভূত অনুভূতির জন্ম হলো। সত্যিই তো শিখন্ডীকে ব্যবহার করা হয়েছে মহাভারত মহাকাব্যে।আজও আমরা প্রবাদ টা জানি যে কোনো ঘটনার আসল অপরাধী সামনে না এসে অন্য কাউকে শিখন্ডী খাড়া করে। তোমার উপন্যাস অন্য দিক তুলে ধরেছে। নায়িকা ব্যবহৃত হয়েও শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে সমস্ত অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে। বর্তমান সময়ের সাথে মহাভারতের শিখন্ডী কখন যেন এক হয়ে গেছে। একটা অন্য কথা বলি, আমাদের এখানে লোকাল ট্রেনে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা ভিক্ষা করে। প্রায় সবাই রাগ করে। আমি কিন্তু কোনদিন রাগ করিনি। ওদের প্রতি আমার বহু আগে থেকেই সহানুভূতি আছে। ওদের জীবন যে কি দুঃখের তা ওদের সঙ্গে না মিশেও বুঝতে পারি। তোমার উপন্যাস পড়ার পর এখন তো আরও একটু ভালো ব্যবহার করছি, একটু হাসছি,দু একটা কথা বলি। ওরা যে এই সমাজের সাধারণ মানুষের মতই স্বাভাবিক সেটা ব্যবহার দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করি। ভালো থেকো।
দুটি গল্প। একটি পৌরাণিক, একটি বর্তমান। বর্তমান গল্পের প্রেক্ষাপটে মিতালি দাস, পৌরাণিক গল্পের শিখণ্ডী, এদের জীবন কাহিনী কোথাও গিয়ে মিশে গেছে। মননে, শারীরিক গঠনে।
পৌরাণিক গল্পের শিখণ্ডীর কথা আমাদের সবার কম-বেশি জানা। তার ওপরে ভিত্তি করে মিতালি দাস, ওরফে সুমিত মাইতির গল্প এগিয়েছে, যা এই বইয়ের মূল গল্প।
মূল গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলবো না। কারণ বলার মতো তেমন কিছু নেই। সাদামাটা থ্রিলার বলা যায়। মহাভারতের চরিত্রের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম-চর্চিত চরিত্র শিখণ্ডীর USP র ওপর দাঁড়িয়ে মূল গল্প। বইয়ের সম্ভবত ৭০% পাতা রয়েছে মহাভাতের গল্প নিয়ে, কোনো কোনো জায়গায় গল্পের স্বার্থে লেখিকা নিজ কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন, আর বাকি ৩০% মূল গল্পের জন্য বরাদ্দ। এই ৩০% গল্পটি খুব বেশি gripping বলে আমার মনে হয়নি, plot predictable লাগলো। বরং শিখন্ডীকে নিয়ে লেখাটি ভালো লেগেছে।
গত কাল রাতের ঘুম নষ্ট করেই উপন্যাস টা শেষ করলাম, সত্যিই কতো অজানা, শিখণ্ডী , নতুন করে উন্মোচিত, হলো।ছোটবেলায়, মহাভারতের ওপর লেখা, বৈদ্য নাথ মুখোপাধ্যায় , নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী, ধীরেশ ভট্টাচার্য্যের লেখা পড়েছি, এখনও পড়ি, আপনার উপন্যাস টা আধুনিক ঘটনার সাথেই জড়িত, মুখ বদল, চিন্তা ভাবনার তরঙ্গ, আধুনিক , বাস্তবিক।আপনাকে একটা ছোট অনুরোধ, হিরিম্বার নাতি, বার্বারিক্যের ওপর একটা উপন্যাস লিখুন।কারণ মহাভারতের, দুটি উপেক্ষিত, চরিত্র, একলব্য আর বারবারিক।দুই বীর, একজন দ্রোণ আরেকজন কৃষ্ণের কারণে , কুরুক্ষেত্রে অবতীর্ণ হতেই পারলেন না।একলব্য সম্পর্কে সবাই অল্প বিস্তর পড়েছেন।কিন্তু বার্বারিক নিজের মুন্ড ছেদ করে কৃষ্ণের চরণে রেখেছিলেন।কারণ ওনার এক দিনের মধ্যেই কুরুক্ষেত্রে র রণাঙ্গন থামিয়ে দেবার শক্তি ছিলো, যেটা বাসুদেব চান নি।
প্রথম ধাক্কায় মনে হয়েছিল লেখক ঐতিহাসিক উপন্যাস না লিখলেই পারতেন! কিন্তু বইটা পড়তে পড়তে সে ধারণার আমূল পরিবর্তন হতে লাগলো। শেষে গিয়ে আবারও জাত চেনালেন দেবারতি মুখোপাধ্যায় ।
আমাদের চারপাশের LGBTQ ব্যাক্তিদের প্রতি আমাদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে মহাভারত থেকে উপাদান নিয়ে বর্তমানে প্রয়োগ করে লেখক যথার্থই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সেই সাথে সংমিশ্রণ করেছেন নিজস্ব বিশ্লেষণ, যোগ বশিষ্ঠ পুরাণের চরিত্রকে দেখিয়েছেন শিখণ্ডির বন্ধুরূপে। মাঝে মাঝেই ঝলকে উঠেছে লিংগ সাম্যের চেতনা, বন্ধুত্বের বিদ্যুৎ স্ফুরণ! আর শেষে পাঠকের জন্য অপেক্ষা করে লেখকের স্বভাবজাত থ্রিলার লেখনী যে ঘরানায় আগেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে সাহানার দৃষ্টিতে পুরো উপন্যাসটি বর্ণিত না হলে হয়তো আরেকটু পোক্ত হতো গাঁথুনি টা।
আপনার শিখন্ডি বইটি পেলাম জন্মদিনের উপহার হিসাবে 🥰🥰.. যেদিন আপনি বইটির উদ্বোধন করছিলেন কলেজ স্ট্রিট এ বসে আমি সব কাজ পাশে রেখে গোগ্রাসে শেষ করছিলাম বইটা.... এর আগে মহাভারতের প্রবীণ দের নিয়ে একটি বই ��েষ করছিলাম তাই আগ্রহ ছিল মহাভারতের এই রকম চরিত্র গুলো যারা হয়ত আরো limelight এ আসতে পারতো কিন্তু সামাজিক নাকি কবির অনিচ্ছাকৃত অবহেলা,তারা অবহেলিত ই রয়ে গেছেন, তাঁদের মনোস্তত্ব, তাঁদের অনুভূতি র গল্প এই দশকের আমাদেরই মতো open minded লেখিকা র কলমে কি ভাবে উঠে আসে..... নিরাশ হয়নি..... প্রতি পৃষ্ঠায় যেভাবে প্রাচীনের সাথে এখন কার সমাজ কে blend করেছেন সত্যি.....আপনার লেখনী প্রশংসনীয়....তবে একটু নিরাশ হলাম এবারও লেখক এর সই ছাড়াই সন্তুষ্ট থাকতে holo😒😒😊
পৌরাণিক চরিত্র নিয়ে থ্রিলার নতুন নয়। বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস বা পৌরাণিক বিষয়কে নিয়ে সাহিত্য রচনাও বহুদিন ধরেই প্রচলিত। এসবের মধ্যেও আমার কাছে 'শিখন্ডী' স্বতন্ত্র হয়ে থাকবে এর আবহমানকাল ধরে সামাজিক অবস্থার যে বিচ্যুতি গুলো যত্নকরে ঢেকে যাওয়া হয়, আলোচনা না করলেই সেগুলো বুঝি নেই হয়ে যায় সেই সমস্ত বিষয় গুলিকে আলোচনার পরিসরে টেনে আনার জন্য। এই উপন্যাস বহু মানুষের মন-শরীরের টানাপোড়েনের সাক্ষ্য বহন করছে, মূল্যবোধ বিচার বিবেচনা সমস্তকিছুকে নতুন চোখে দেখার কথা বলেছে। যাঁরা রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, যাঁরা ইতিহাস পছন্দ করেন অথবা শুধুই সামাজিক গল্প যাঁদের পছন্দ সকলেরই একবার পড়ে দেখা উচিত এই উপন্যাস। লেখিখাকে অভিনন্দন ক্রমশ পরিণত লেখায় আমাদের আপ্লুত করার জন্য।
বই-শিখণ্ডী প্রকাশক-দীপ প্রকাশন লেখিকা-দেবারতি মুখোপাধ্যায় মহাভারতের অনালোকিত ঘটনা খুব সুন্দরভাবে লেখিকা তুলে ধরেছেন সন্দেহ নেই। মিতু, সাহানার মতো বর্তমান সময়ের চরিত্রগুলিও অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে লেখনীর গুণে। উপন্যাসের দুটি প্রেক্ষাপট সমানভাবে এগিয়েছে, কোথাও গতিরুদ্ধ হয়নি। থ্রিলার উপন্যাস হলেও, লেখিকা বন্ধুত্ব সম্পর্কটিকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা প্রশংসনীয়। বইটির বাঁধাই ও ছাপা সুন্দর। অক্ষরগুলি কিছুটা বড় হওয়ায় চোখের ক্লান্তি আসেনা। তবে কয়েকটি বানান ভুল রয়েছে ও দু একটি অনুচ্ছেদ দুবার করে ছাপা হয়েছে। সর্বোপরি, উপন্যাসটি মনে রাখার মতো। আশা করব লেখিকা এরকম আরও লেখা আমাদের উপহার দেবেন। রমাপ্রসাদ মণ্ডল।
"শিখন্ডী" উপন্যাসটি হল আধুনিক যুগের "শিখন্ডী" ওরফে "মিতু"-এর চোখ দিয়ে মহাভারতের শিখন্ডীকে এক নতুন আঙ্গিকে জানা। শিখন্ডীর মানসিক টানাপোড়েন, অপমান, কষ্টের সঙ্গে মিতুর জীবনের লড়াই, কষ্ট- কোথাও গিয়ে এক হয়ে যায়। মিতু ছাড়াও এখানে যেমন জীবন যুদ্ধে লড়তে থাকা আরো কিছু নারী চরিত্র আছে, আবার এখানে দ্রৌপদী-ধৃষ্টদ্যুম্নের জন্মের অন্যরকম ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আমি আগে মহাভারতে পড়িনি।
সামগ্রিক ভাবে আমার বইটি পড়ে ভালো লেগেছে। লেখিকা মহাশয়াকে ধন্যবাদ এরকম একটি সুন্দর বিষয় উপস্থাপনার জন্য। আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ-এর ইচ্ছা রইল। ভালো থাকবেন।
অপেক্ষার অবসান ।। বুঝতে পারিনি এত জলদিই চলে আসবে ,কিন্তু ভীষণ রকম উৎসুক হয়ে ছিলাম , আগের প্রতিটা গল্প যেদিন শুরু করতাম সেদিনই শেষ না করে উঠতে পারতাম না ,ওই যে বলে না তর সয় না , এত ভালো দিনে বইটা হাতে পাবো ভাবিনি পরে ফেলেছি কিছুটা আর যত পড়ছি আরো পড়ার ইচ্ছে টা প্রবল হচ্ছে।। কাল আবার উইকএণ্ড ম্যাম র বই আর উইকএন্ড,দারুন কাটতে চলেছে❤️, এত ভালো কোনো উইকএন্ড কাটেনি আগে ।। ❤️❤️ ধন্যবাদ আপনাকে এত ভালো ভালো বই আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য,অনেক অনেক ভালোবাসা আপনার জন্য ,আরো অনেক অনেক বই লিখুন আর আমাদের এরকম চমকে দিন 😌