স্বেচ্ছা কোয়ারান্টাইনে একটি শহর - আগামীর কলকাতা। অথবা একটি শহরের ওপরেই সেই শহরের আরেকটি ধূসর যমজের ছায়া, একটি আরেকটির খেলনা যেন। অথবা একাধিক সমান্তরাল দেশ, যাদের যোগ রয়েছে শুধুই কল্পনার সূত্র দিয়ে। একাধিক শরীর, একটি মন। অথবা একটি সম্পূর্ণ শরীরের আকাশে ঘনায়মান মনের মেঘ। কাল্পনিক বস্তার, কাল্পনিক ভিয়েতনাম - বাস্তব ইতিহাস। এই নিয়ে কিছু ভীতিপ্রদ, কিছু স্বপ্নোদ্রেককারী ফিউচারিস্টিক গল্পগুচ্ছ - অন্ধুযগের সৃজনসঙ্গী।
Anindya Sengupta teaches at the Department of Film Studies, Jadavpur University, Kolkata, India. His debut novel in Bengali, a science fiction, was followed by a sci-fi anthology. His latest sci-fi novel is titled 1982.
ডিস্টোপিয়া, অর্থাৎ "সে বড়ো সুখের সময় নয়" এমন এক ভাবনার বশবর্তী হয়ে রচিত কয়েকটি কল্পবিজ্ঞান কাহিনির সংকলন এটি। এর 'প্রাক্কথন'-এর মাধ্যমে লেখক স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর কল্পনার সূত্রগুলোকে— যেখানে প্রকৃতির শ্বাসরোধ করে প্রগতি। তারই বিষে নীল এক ভবিষ্যতের কলকাতা ও বস্তারের পটভূমিতে লেখা হয়েছে~ ১. অন্ধযুগের সৃজনসঙ্গী; ২. আরশিনগর; ৩. মনের মতন মানুষ; ৪. সৃষ্টি প্রিয়দর্শিনীর মন; ৫. রিখি এবং লিঙ্গোপেনের অপার্থিব সংগীত; ৬. ট্রিন-টি আর সেই লোকটা। গল্পগুলোতে বর্ণনার আধিক্য— তা-ও মূলত সিনে-নির্ভর ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিঙের ফলে পড়ার অভিজ্ঞতাটা কিঞ্চিৎ অদ্ভুত ঠেকে। চরিত্রগুলো কেমন যেন প্রচারধর্মী বইপত্রের পাতা থেকে উঠে আসা বলে মনে হয়। লেখক এই ভাবনাগুলোকে গল্পের আকার দেওয়ার আগে সিদ্ধার্থ ঘোষের লেখাপত্র পড়ে দেখলে পারতেন। কর্পোরেট লুণ্ঠন ও তার সাবভার্শনের আখ্যানকে কীভাবে কীভাবে মানবিক ও সাহিত্যধর্মী করে তোলা যায়, বাংলায় তাঁর থেকে ভালোভাবে তো কেউ তা করে দেখায়নি। এই লেখাগুলো পড়ে মনে হল, 'অপার্থিব'-এর স্রষ্টা কখন যেন নিজের তিক্ততার মধ্যে হারিয়ে গেছেন। ফিরে আসুন, হে লেখক। গল্প লিখুন। মানুষের গল্প।
বইয়ের গল্পগুলি সম্পর্কে লেখক নিজেই বলেছেন তাদের কল্পবিজ্ঞানের (সায়েন্স ফিকশন) বদলে তা কল্পকাহিনী (স্পেকুলেটিভ ফিকশন) হিসেবে দেখাই অধিকতর যথাযথ। এই গল্পগুলির যে নিজস্ব জগৎ, সেখানে কলকাতার যে দৃশ্যকল্প সেখানে আঁকা হয়েছে, তা খানিক ডিস্টোপিক হলেও কোথাও যেন তা অযৌক্তিক মনে হয় না একেবারেই। লেখক নিজেই মুখবন্ধে ফিলিপ কে ডিক-এর কথা বলেছেন, এছাড়াও পড়তে পড়তে নবারুণের লুব্ধক , কিংবা খেলনানগরের কথা মনে পড়তে পারে। বাংলা ভাষায় এবং এই লেখকের থেকে এইরূপ লেখা, ভবিষ্যতে আরো পড়ার ইচ্ছা রইল