Jump to ratings and reviews
Rate this book

কাঠগড়া

Rate this book
ধোঁয়া! চিৎকার! বিপদ! মানুষ! মৃত্যু!
ফিজি জুস কারখানায় লাগা ভয়াবহ এক আগুনে প্রাণ হারিয়েছে অর্ধশতাধিক লোক। আহত হয়েছে আরও অনেকে। এদিকে এই আগুন অনেকের মনে ক্ষোভ জ্বেলে দিয়েছে, কেউ কেউ এই মানুষ পোড়া গন্ধেও খুঁজছে স্বার্থের তুষ্টি। কেউবা ব্যস্ত নিজের পিঠ বাঁচাতে। আর আইনজীবী শাহীনুর রায়হান ব্যস্ত এই ঘোলাটে কেস নিয়ে।
কিছু অপরাধ দিনের আলোতে ঘটলেও ঘেরা থাকে অথৈ আঁধারে। সেসবের সমাধান হয় আদালতের গণ্ডিতে, কিংবা হয়ই না। কাঠগড়া তেমনই এক আখ্যান, যাতে উঠে এসেছে আদালত কক্ষের সমস্ত জঞ্জাল।

160 pages, Hardcover

Published January 2, 2023

4 people are currently reading
41 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (29%)
4 stars
14 (27%)
3 stars
16 (31%)
2 stars
6 (11%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 20 of 20 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 56 books791 followers
March 11, 2024
'কাঠগড়া' একটা কোর্টরুম ড্রামা। নিয়ন্ত্রিত পরিসরে বাহুল্যবর্জিত একটা স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড গল্প। একটা জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় অর্ধশতাধিক লোক, আহত হয় আরও অনেকে। সেই আগুন একদিকে যেমন অনেকের মনে জ্বালিয়ে তোলে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ, ঠিক একইসাথে কেউ কেউ পোড়া গন্ধে খোঁজে স্বার্থের তুষ্টি। আইনজীবী শাহীনুর রায়হানের এই কাল্পনিক কেস যন্ত্রণাক্লিষ্ট বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয় বারবার।

বইটা লিখতে গিয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার রুমিকে বাংলাদেশের আইন-কানুন এবং আদালত ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা করতে হয়েছে। আলোচনা করতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাথে, হয়তো সামনা-সামনি উপস্থিত থেকেও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছে। বই পড়ার সময় সেটা ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। এই ফিল্ড ওয়ার্ক, এই ডেডিকেশন নি:সন্দেহে প্রশংসের দাবীদার। লেখার ধরণ আগের বইগুলোর চেয়ে পরিণত, নিয়ন্ত্রিত।

'প্রসিডিওরাল স্টেপ' উপভোগ করে পৃষ্ঠা উল্টাতে চাইলে বইটা উপভোগ্য, পদ্ধতিগত কার্যক্রমই এই গল্পের রোমাঞ্চ কিংবা উত্তেজনার মূল ধারক। তবে টানটান রহস্য খুঁজতে গেলে নিরাশ হতে হবে। গল্পটা শেষ হবার আগে আগ্রহ হারানোর সম্ভাবনা দেখা দেয় সম্ভবত সে কারণেই। সবগুলো প্রশ্নের প্রায় ঠিকঠাক যুক্তিসম্মত উত্তর পাওয়া গেলেও শেষপর্যন্ত একটা বিশেষ চরিত্রের পরিণতি সম্পর্কে জানা যায় না। এই ব্যাপারটা বইয়ের সিকুয়েলের আভাস দেয়। তবে যেহেতু শুরুতেই বলেছি, কাল্পনিক হয়েও এই গল্প নির্মম বাস্তবতার কথা মনে করায়- তাই এমনও হতে পারে যে, এই উত্তর না মেলা প্রশ্নটা কাটার মতো বিঁধে থাকবে পাঠকের মাথার ভেতর। ভুলে যেতে চাইলেও যেটা বারবার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসবে।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,118 reviews1,100 followers
March 13, 2023
কোর্ট রুম থ্রিলার শুধু মুভিতেই এতোকাল উপভোগ করেছি। বইয়ের পাতায় এই প্রথম। তাই আগ্রহ আর উত্তেজনা দুটোই ছিল ষোলোআনা। গল্পটা বেশ ছোট আর মেদহীন। তবে গল্পের শেষ একদম প্রেডিক্টেবল এবং তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। যা হওয়ার ছিল ঠিক সেটাই হয়েছে। ভেবেছিলাম কিছু টুইস্ট থাকতে পারে। থাকলে কেমন হতো সেটাও একটা ভাবনার ব্যাপার বটে। তবে লেখকের লেখার প্রশংসা করতেই হবে। দারুন সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় পুরো গল্পটা আমাদের শুনিয়েছেন। এবং সেটা লিখতে যে প্রচুর পড়াশোনা আর পরিশ্রম করতে হয়েছে তা বলায় বাহুল্য। সম্প্রিতিকে নিয়ে একটা মিশ্র অনুভূতি রয়ে গেছে। যাইহোক, বাংলা মৌলিক সাহিত্যে নতুন কিছু উপহার (কোর্টরুম ড্রামা) দেওয়ার জন্য একটি তাঁরা অবশ্যই বেশি দেওয়া যায়। সেই সাথে পরবর্তী লেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
Profile Image for Dystopian.
444 reviews240 followers
March 29, 2024
সবই প্রায় ঠিক ছিল। লেখক বেশ মেদহীন ভাবে লিখে এগিয়ে গেছেন, তার রিসার্চ ও বেশ দারুন ছিল বোঝা যায়৷ তবে কেন জানি কানেক্ট হতে পারলাম না৷

কানেক্ট না করতে পারার ব্যার্থতা? নাকি না হতে পারার ব্যর্থতা?
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews220 followers
January 30, 2024
বই: কাঠগড়া
লেখক: সামসুল ইসলাম রুমি
জনরা: লিগ্যাল থ্রিলার
প্রচ্ছদ: তানিয়া সুলতানা
প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৯
মুদ্রিত মূল্য: ২৮০/-

চার দেওয়ালে ঘেরা সাদামাটা একটা রুম হলো ❝কোটরুম❞। কোটরুম নিয়ে আমাদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই! অপরাধী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, বাদী-বিবাদী পক্ষের উকিল নিজ পক্ষ রক্ষার্থে লড়াই করে যাচ্ছে, বিচারক রায় দিচ্ছে... তারপর? মুক্তি নাকি শাস্তি! এমন দৃশ্য কি মনের দৃশ্যপটে ফুটে ওঠে? এই রহস্যময় রুমকে নিয়েই লেখা ❝কাঠগড়া❞।

নিজের মক্কেলকে বাঁচাতে যেকোনো পন্থা অবলম্বন করতে বাঁধে না সম্প্রতি সময়ের তুখোড় উকিল শাহীনুর রায়হানের। তবে নিজের ঈমান যে একদমই বিকিয়ে দিয়েছেন এমনও নয়। জাস্টিস ল্য ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয় দেশের সবচেয়ে আলোচিত কেসের জন্য, লড়তে হবে রাষ্ট্রপক্ষ হয়ে। আর এই গুরুদায়িত্ব পড়ে শাহীনুর রায়হানের কাঁধে। কেন যেন মনে হয় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে নয় বরং পিছ থেকে কলকাঠি নাড়ছে অন্য কেউ!

করোনার জন্য কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও ফিজি জুস কারখানা দেদারসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই আগুন লেগে যায়! প্রাণ হারায় পঞ্চাশেরও অধিক কর্মী, আহত হয় শতাধিক। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো আগুন লাগার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় নিচের মেইন গেট ও উপরে ওঠার গেট! নিছক কোনো দূর্ঘটনা নাকি কোনো ষড়যন্ত্র?

লিগ্যাল থ্রিলার বা কোর্টরুম ড্রামা শুনেই আমার স্টিভ কাভানাহের লেখা ❝থার্টিন❞- এর কথা মনে পড়ে গেছিল। দারুণ একটা বই। বিশেষ করে আইনজীবীদের লড়াই ও মাস্টারমাইন্ড কিলারের কথা সহজে ভুলতে পারবো না। মনের অজান্তেই আশা অনেক বেড়ে গেছিল। এইজন্য কাঠগড়া পড়ার সময় হতাশই হতে হয়েছে। সম্ভবত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তুলনা করে ফেলেছি বলেই হতাশার পরিমাণ বেড়েছে।

কাল্পনিক প্লট হলেও দেশের বাস্তবিক আইনব্যাবস্থার চিত্রই লেখক গল্পচ্ছলে বলেছেন। কারখানায় আগুন শিরোনামে আমরা বিভিন্ন খবর আগেও শুনেছি। বিচারকার্য কেমন ছিল সেসব নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও ফলাফল আমরা জানি। এমনই এক বিচারের গল্প বলা হয়েছে ফিজির মাধ্যমে। আগুনের ঘটনার রহস্যের পর্দা একের পর এক ওঠানো হলেও শুধু কারখানা না বরং পলিটিক্স, সিন্ডিকেট, মার্কেট, ইকোনমিকসের বিভিন্ন দিকও দেখানো হয়েছে। ❝একজনের ক্ষতি হলেই অপরজনের লাভ❞ এই লাইটটা বারবার মনে হচ্ছিল পড়ার সময়। শেষে জিত কার হবে এটা বলবো না। তবে মনে একটা প্রশ্ন আছে, জিতে যাওয়ার পরও কি বিচার সুষ্ঠু হয়েছে বলা যায়? দেশীয় প্রেক্ষাপটে এটাই আমার পড়া প্রথম মৌলিক লিগ্যাল থ্রিলার। আশা করেছিলাম জটিল একটা কেস হবে, তুখোড় মস্তিষ্কের আইনজীবীদের মধ্যে লড়াই দেখবো, মাস্টারমাইন্ড থাকবে কেউ যে বাকিদের নাকানিচুবানি খাইয়ে দিবে কিন্তু এমন কিছুই পাইনি বইয়ে। সাধারণ একটা প্লট, কোটরুমে আইনজীবীদের লড়াইয়ে ডায়লগও তুলনামূলক কম মনে হয়েছে, আহামরি কোনো টুইস্টও পাইনি। তবে বিভিন্ন ধারা, আইন নিয়ে আলোচনা আছে ভালোই। শেষে যেয়ে সম্প্রীতির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার রহস্য খোলসা করা হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার সাথে কেসে কোনো পরিবর্তনও তো আসেনি তাহলে? সম্ভবত পরবর্তী বইয়ে জবাব পাওয়া যাবে।

লেখনশৈলী, উপস্থাপনা, বর্ণনাতে আরও কাজের প্রয়োজন ছিল। চরিত্রের মনোভাব, পরিস্থিতি বর্ণনায় লেখক একটু বেশিই বিশেষণ শব্দের ব্যবহার করেছেন। নিপুণ চরিত্রটা ভালো লেগেছে। শাহীনুর রায়হানকে নিয়ে শুধু বলবো জটিল এক ব্যক্তি। যার নিজস্ব ভালোমন্দের সংজ্ঞা আছে। বইয়ের প্রোডাকশন মোটামুটি তবে বেশ কিছু বানান ভুল রয়েছে। প্রচ্ছদটা সুন্দর।
Profile Image for Siam Mehraf.
Author 4 books19 followers
February 5, 2023
একজন তুখোড় বুদ্ধিসম্পন্ন আইনজীবী শাহীনুর রায়হান, যার বুদ্ধির তুলনা নেই একদমই। খুবই স্মার্ট এবং যথেষ্ট ঠান্ডা মস্তিষ্কের যিনি। এরকম একটা মানুষও কি স্বার্থের পেছনে? নাকি তিনি স্বার্থের পেছনে যারা তাদের বিরুদ্ধে হচ্ছেন স্বেচ্ছার? কে জানে সেই রহস্য? যেই আগুনের তান্ডবে এতো ধোঁয়া উড়ছে, মানুষ চিৎকার করছে, মরছে একের পর এক, সেখানে স্বার্থ উদ্ধারে নেমেছেই বা কারা? তাদের চাহিদাই বা কি? সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন কাঠগড়ার পৃষ্ঠায়!

পাঠ প্রতিক্রিয়া: গল্পটা শুরু হয় একজন আইনজীবীর দক্ষতা কেমন সেটা দেখিয়ে, যেটা খুবই ভালো লেগেছে। এরকম একটা স্মার্ট আইনজীবীর গল্প পড়তে গেলে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই সেটা একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়, আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিলো।

গল্পটার সবচেয়ে স্ট্রং পার্ট হচ্ছে গল্পের প্লট নিজেই। অযথা, প্লট প্যাচিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করেননি লেখক। যতোটুকু দরকার ছিলো, ঠিক ততোটুকুই দৃশ্যমান ছিলো গল্পে। এমন একটা প্লট নিয়ে লেখক কাজ করেছেন, যেটা নিয়ে কথা বলতে গেলেই মনে হচ্ছে স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই সেভাবে কিছুই বলছি না। গল্পের ব্যাপারে টুকটাক যা বলার উপরেই বলে দিয়েছি।

এরপরে যেটা না বললেই না, সেটা হচ্ছে গল্পের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। ১৬০ পৃষ্ঠার একটা গল্পে লেখক ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট-এর দারুন খেলা দেখিয়েছেন। কিভাবে সেটা তিনি করেছেন জানা নেই, তবে ক্যারেক্টারগুলো আমার মনে বেশ ভালো রকমেরই প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। এতো অল্প সময়ে মনের একটা জায়গা দিয়ে দিয়েছি ক্যারেক্টারগুলোকে। সবারই ইনফ্লুয়েন্স গল্পটায় আছে। ক্যারেক্টারগুলোকে ভালোই জায়গা দিয়েছেন লেখক, তারা গুরুত্বপূর্ণ জটগুলো ছাড়াতে সাহায্য করবে পাঠককে।

প্লট গেলো, ক্যারেক্টার গেলো, এরপরে আর কি থাকে? লেখনী? যদিও সেটা নিয়ে কথা বলাটা আগেই প্রয়োজন ছিলো, তবে ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গিয়েছি। কারণ, এটা নিয়ে বিশাল আকারে বলতে হবে। তবুও সংক্ষেপ করার চেষ্টাটা চালিয়ে যাবো। এই একটা জায়গায় লেখকের প্রতি আমার অভিযোগ রয়ে গিয়েছে। ১৬০ পৃষ্ঠার একটা বই কিনলাম, গল্পটা এবং চরিত্রগুলোর সাথে কিছুক্ষন থাকার জন্য সেটা লেখক হতে দিলেন না। লেখকের লেখার হাত এবং ভঙ্গিমা এতোই সাবলীল যে গল্পটা পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। এতো সাবলীল আর সহজ-সরল ভাষায় গল্প লিখলে বরং সেটাই স্বাভাবিক। পড়তে কম সময় লাগলেও, ক্যারেক্টারগুলোর প্রতি যে টান অনুভব করেছি সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে লেখকের লেখার যে ধাঁচ, সে হিসেবে মনে হয়েছে আরও দু-চারশ পৃষ্ঠা থাকতে নিমিষেই পড়ে ফেলা যেতো।

গল্পের শেষের দিকের অংশটুকু পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো কিছু উত্তর পাচ্ছিনা। কিছু একটা মিসিং মনে হচ্ছিলো, ভেবেছিলাম লেখক হয়তো গল্পের শেষদিকে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছেন কিংবা ভুলে গিয়েছেন এরকম কিছু বাদ যাচ্ছে তার লেখায়। তবে আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে, পরবর্তীতে সময়গুলোতেই লেখক সবটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

একেবারে শেষের দিকে এসে যখন দুই-এক পৃষ্ঠা বাকি একটা প্রশ্ন মনে ঘাটাচ্ছিলো বেশ। কিন্তু উত্তর পাচ্ছিলাম না, ওইদিকে পৃষ্ঠা আর বাকি নেই বেশি। লাইনের পরে লাইন পড়ে যাচ্ছি, তবে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত। এরপরে একদম শেষ লাইনে এসে লেখক দারুন ভাবে সেই উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। যদিও সেই উত্তরটা হজম করা সহজ ছিলোনা। আর উত্তরটা এমনভাবে দিয়েছেন লেখক, যেটাতে মনের মধ্যে হাহাকার রয়ে গিয়েছে প্রবল। ১৬০ পৃষ্ঠায় কিছু একটা তুলে এনে, সেটাকে নিয়ে একদম শেষ অধ্যায়ের, শেষ লাইনে যে হাহাকার সৃষ্টি করেছেন লেখক, তা পাঠককে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

সর্বোপরি, পুরো গল্পটাই বেশ দারুন উপভোগ্য ছিলো। আইনজীবীদের তদন্তের প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে দারুন আইডিয়া পেলাম। আরেকটা দারুন বিষয় হচ্ছে, লেখা পড়েই মনে হচ্ছিলো লেখক বেশ পরিশ্রম দিয়েছেন গল্পটার পেছনে, তবে এটা সেই দারুন বিষয়টা না। দারুন বিষয়টা হচ্ছে, এতোকিছু জানার পরেও লেখক পুরো বই জুড়ে পাঠককে এমন কিছু ফিল দেয়ার চেষ্টা করেননি যে লেখাটা যারা আইন বিষয়ে জানে তাদের জন্য। বরং, তিনি সবকিছু খুবই সহজ স্বাভাবিকভাবে সবকিছু বলে গিয়েছেন। যেটা সবচেয়ে বেশি টেনেছে গল্পটার প্রতি। আইন বিষয়ক কিছু না জেনেও, এই বই ধরার সাহস করে যে ভুল করিনি সেটা লেখকের এই কর্মগুনের জন্যেই সম্ভব হয়েছে। সবশেষে, কাঠগড়া দারুন একটা গল্প। যারা বাংলা সাহিত্যে কোর্টরুম থ্রিলার বা কোর্টরুম ড্রামা পড়তে আগ্রহী, কিন্তু এতোদিন পড়ার মতো কিছুই খুঁজে পাননি, লেখকের তরফ থেকে এটাই তাদের জন্য গিফট। আশা করছি, সামনে আরও ভালো কিছু উপহার দেবেন সম্ভাবনাময় এই লেখক। আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৫/৫।
Profile Image for Mashuk Rahman.
95 reviews9 followers
April 9, 2023
২.৫/৫
বাজে রিভিউ দিতে ইচ্ছে করে না।তাও নতুন লেখকদের আরও না। কিন্তু লেখালেখি একটা সাধনার ব্যাপার। আমার মতে লেখকের এ বিষয়ে আরেকটু সময় নেয়া দরকার। পড়ে শেষ করলাম কাঠগড়া। কোর্ট রুম প্রসিডিউরাল। নাজিমুদ্দিন ভাইয়ের প্রশংসার স্তুতিতেই টার্গেট করেছিলাম কিনব বইটি। কিনলাম। পড়াও শেষ করলাম। সত্যি বলতে লেখা লেখিতে একটা গুন থাকা লাগে। পাঠককে লেখার সাথে আবদ্ধ করানো। হুক বা কানেকশন যাই বলেন না কেন। নতুন লেখক হিসেবে কম থাকবে এসব এটাই স্বাভাবিক।এই জিনিসটাই অভাব বোধ করলে হতো শুধু। কিন্তু এটা কোন দিক দিয়ে থ্রিলার এ ব্যাখ্যা পেলাম না! আমার মতে থ্রিলার বা টান টান পেজ টার্নার বলে যারা লেখকের রিভিউ দিচ্ছেন তারা তার সবচেয়ে বড় শত্রু। এই বইয়ের প্লটটা ভাল লেগেছে কিন্তু প্লটের এক্সিকিউশান অত্যন্ত বাজে! দুই ইন্ডাস্ট্রির কোর্ট রুমে শুনানির রিপোর্ট টাইপ মনে হয়েছে।থ্রিল ব্যাপারটা পেলাম না। মনে হয়েছে গল্প আমি প্রথম হাফেই জেনে গেছি। পাঠক এর আগ্রহ ধরে রাখা লেখকের দায়িত্ব কিন্ত! থ্রিলার লেখকদের আরোও!

প্রশংসা একটু করি। উনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। আইন কানুন নিয়ে বেশ সুন্দর রিসার্চ করেছেন। সিম তোলা নিয়ে বেশ ভাল বর্ননাও দিয়েছেন। এটা প্রশংসাপ্রাপ্য। তবে সাহিত্য মূল্য খুজে পাইনি এসবের।

আমি আশাকরব লেখক এ সমস্যাগুলো মাথায় রাখবেন। সামনে ভাল লেখা উপহার দেবেন।
Profile Image for রায়হান রিফাত.
256 reviews8 followers
February 23, 2023
কাঠগড়া
-সামসুল ইসলাম রুমি

কোর্ট রুম থ্রিলার মুভি গুলো আমি বেশ উপভোগ করে।
বই এর প্রচ্ছদ দেখে আর ভিতরে একটু উকি দিয়ে আগ্রহের বসেই Joyanta থেকে গিফট হিসেবে নিয়ে নিছি 😎


বাংলাদেশে বোধয় এইটাই প্রথম মৌলিক কোর্টরুম থ্রিলার (যদিও Rajib দা বলছেন আর ও কয়েকটা আছে তবে সেগুলো বোধয় কলকাতার বই)


এক বসাই শেষ করে উঠার মতন পেইজ টার্নার বই এটি।
আমার মার মার কাট কাট টাইপ পছন্দ , তাই হয়ত আর ও বেশি ভাল লেগেছে।


লেখক সাহেব ইঞ্জিনিয়ার হয়েও 'ল এবং লয়্যার নিয়ে যে ব্যাপক পড়াশুনা করেছেন তা বুঝাই যাই!!
কষ্ট যে করেছেন তা ডিটেলিং এ চোখে পড়ে!!

কোর্টরুম থ্রিলার থেকে একশন আর একেবারে টান টান উত্তেজনা আশা করা বোকামি যেহেতু উত্থান-পতন ত থাকেই কোর্টে।।সমসাময়িক ঘটনা কে কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু সত্য (কোর্ট নিয়ে) সামনে তুলে এনেছেন।

খুব একটা বাহুল্যতা নেই লেখনীতে।তাই কষ্ট কম হয়েছে।

স্পয়লার হবেনা তবুও পইড়েন না।
মোটা দাগে দুইটা জিনিস আমার কাছে বেখাপ্পা লেগেছে :

১- এজেন্ট নাম্বারে কল করলে কখন ও ই এজেন্ট কল ধরেনা। যেহেতু আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিকাশ রকেটের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম।আমাদের ওইদিকে এজেন্ট নাম্বারে কল দিলে কল ধরা হয়না (এইটা প্লট হোল নাকি জানিনা তবে এই জিনিস টা মানাই নাই আমার মতে)


২- সম্প্রিতি কে নিয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো প্লট সাজানো না থাকে (আছে মনে হয়েছে) তাহলে আরেকটা বেখাপ্পা জিনিস হবে এইটা।



বাকি সব কিছুই বেশ উপভোগ করেছি।


রেটিং: ৭.৫/১০
Profile Image for Anjan Das.
420 reviews17 followers
December 3, 2023
প্রথমেই লেখককে সাধুবাদ জানাই কোর্টরুম জনরা নিয়ে কাজ করার জন্য।সম্ভবত বাংলাদেশে মৌলিক কোন লিগ্যাল থ্রিলার বই এটা।বইটা শেষ করে বুঝাই যাচ্ছিল প্রচুর পড়াশুনা করেছেন লেখক এই জনরা নিয়ে।

শুরুর দিকে বেশ ভালই আগাচ্ছিল।কোর্টরুমের ভিতর তর্ক,বিতর্ক,যুক্তি উত্থাপন ভালই আগাচ্ছিল কিন্তু শেষ দিকে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলল কাহিনী।শুরুর দিকে জমজমাট ভাবটা লেখক শেষ দিকে টেনে নিয়ে যেতে ব্যর্থ।শেষটা বর্ণনার মাধ্যমে না গিয়ে কোর্টরুমের ভিতর শেষ হলে বেটার হত।শুধু তাই না দুই এক জায়গায় আরো ডিটেইলস এর প্রয়োজন ছিল।আর পে ক্যাশের অই বর্ণনার জায়গা টিতে একটা প্লট হোল ও আছে।

সর্বোপরি বলব এবাভ এভারেজ একটা বই।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
433 reviews23 followers
March 31, 2023
শাহীনুর রায়হান। জাস্টিস ল্য ফার্মের সিনিয়র লয়্যার। যার উপর পড়েছে একটা ঘোলাটে কেস। যা সমাধান করতে একের পর এক আইনের প্যাচ দিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আর বিপক্ষের কোর্টরুম ড্রামাটা চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। মেদহীন লেখনীতে বইটা পড়ে ভালো লেগেছে। বইটা লিখতে যে ভালোই পরিশ্রম হয়েছে লেখকের তা স্পষ্ট বুঝা যায়। শাহীনুর রায়হানের চরিত্রটা আগ্রহী করে তুলবে পাঠককে। সে ভালো নাকি খারাপ তা পাঠক পড়ে বুঝতে পারবেন। শেষের দিকে বর্ণনার বদলে কোর্টরুম ড্রামার মাধ্যমে সমাপ্তি দিলে আরো ভালো লাগতো। আর একটা চরিত্রের সমাপ্তি পাওয়া যায় নি। হয়ত এটা সিরিজ হিসেবে আসবে নাহলে এটা প্লটহোল হিসেবে থেকে যাবে।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
July 14, 2023
ভালো বা খারাপের বিচারে গেলে বইটাকে ভালো বলাটাই যুক্তিযুক্ত হবে। তবে এক্সক্লুসিভ কিছু না। মানে এ বই না পড়লে কোন ক্ষতি নেই। তবে যতক্ষণ পড়বেন, খারাপ লাগবে না। তরুণদের কাছ থেকে দূর্দান্ত প্লট আশা করি না আমি, গল্প বলার সুন্দর ধরণ আশা করি। এ বইটাতে গল্প বলার ধরণ টিপিক্যাল।
Profile Image for Mir Sharifuzzaman.
81 reviews3 followers
April 3, 2023
ধোয়া,আগুন,মৃত্যু!
সামসুল ইসলাম রুমির দেশীয় পটভূমিতে রচিত "কাঠগড়া" ১৬০ পৃষ্ঠার এক রোলার কোস্টার ।
দুর্দান্ত কোর্ট রুম ড্রামা, লিগাল থ্রিলার। প্রতি পদে পদে উঠে এসেছে নোংরা রাজনীতি ,সাথে পাল্টা রাজনীত।
একটি জুস্ ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগা নিয়ে আবর্তিত হয়েছে কাহিনীর প্রেক্ষাপট।
একদিকে বাদী পক্ষ সরকার অন্যদিকে বিবাদী পক্ষ জুস্ ফ্যাক্টরি। আর বাদী পক্ষকে অন্তরালে মদদ ও সাহায্য যোগাচ্ছে ফ্যাক্টরির প্রতিপক্ষরা।

গল্পের প্রধান চরিত্র জাস্টিস ল ফার্মের জাদরেল উকিল শাহিনুর রায়হান যিনি লড়ছেন বাদী পক্ষের হয়ে। লেখক যদি এই চরিত্র কে নিয়ে সিরিজ করেন দারুন হবে।
গল্পের প্রতিটি চরিত্র কে লেখক নিখুঁত ভাবে চিত্রায়িত করেছেন। বিবাদী উকিল হেলাল রহমান, রায়হানের সহকারী নিপুন, জুস্ ফ্যাক্টরির ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক সম্প্রীতি প্রতিটি চরিত্র কাহিনীর গতিকে আরো তরান্নিত করেছে। লেখক এখানে সার্থক যে চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম করে ফেলেছেন।

অবশেষে, যারা লিগাল থ্রিলার এর ভক্ত, কোর্ট রুম ড্রামা/কন্সপিরাসি পছন্দ করেন তাদের জন্য অবস্যই সুখপাঠ বই।

বাতিঘর এর প্রোডাকশন বরাবর এর মতোই ভালো। প্রচ্ছদ করেছেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সুন্দরী Tania Sultana আপু।
সর্বোপরি বানান ভুল পাইনি।

এক নজরে :-
নাম: কাঠগড়া
লেখক: সামসুল ইসলাম রুমি
জনরা : লিগাল/ কন্সপিরাসি/ কোর্ট রুম থ্রিলার
পৃষ্ঠা: ১৬০
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রকাশক: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
রেটিং : ৫/৫
প্রকাশকাল: বইমেলা ২৪
মুদ্রিত মূল্য: ২৮০ টাকা — with Mohammad Nazimuddin and Shamsul Islam Rumi.
Profile Image for Arfaz Uddin.
92 reviews9 followers
August 10, 2023
গল্পের শুরু আর ডেভেলপমেন্ট বেশ ফাস্ট ছিলো। গল্পের বেস স্ট্রং ছিলো এবং ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট চোখে পড়ার মত। মেইন ক্যারেক্টারের মধ্যে বেশ কন্ট্রভার্সি হলেও বেশ ইউনিক লেগেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেইন ক্যারেক্টারকে ইম্প্রুভ করা যেতো তবে মন্দ নয়। পুরো গল্পে সিম্বোলিক আর রিয়ালিজম বেশ প্রকট ছিলো, যা পড়ে এঞ্জয় করেছি। মোটকথা পুরো উপন্যাস বেশ ভালো আর শেষ পর্যন্ত পড়ার মত
Profile Image for Mueed Mahtab.
356 reviews
November 22, 2023
৫/৫
এটাকে একটা সিরিজ বানানো যায় না?🥹
Profile Image for Easir Al Saief.
78 reviews7 followers
October 14, 2024
#Book_Insights 29

ব্যারিস্টার শাহীনুর রায়হান সিরিজের প্রথম বই 'কাঠগড়া'
ফিজি জুস কারখানায় লাগা ভয়াবহ এক আগুনে প্রাণ হারিয়েছে অর্ধশতাধিক লোক। আহত হয়েছে আরও অনেকে। এদিকে এই আগুন অনেকের মনে ক্ষোভ জ্বেলে দিয়েছে, কেউ কেউ এই মানুষ পোড়া গন্ধেও খুঁজছে স্বার্থের তুষ্টি। কেউবা ব্যস্ত নিজের পিঠ বাঁচাতে। আর আইনজীবী শাহীনুর রায়হান ব্যস্ত এই ঘোলাটে কেস নিয়ে।


'আগুন কেনো লেগেছে?' এই প্রশ্নের জের ধরেই এগিয়ে গেছে সম্পূর্ণ উপন্যাস। বেশ উৎসাহ নিয়েই পড়া শুরু করেছিলাম, তবে ধীরে ধীরে সে উৎসাহ কমে এলো। গল্পটা বারবার সেই একদিকেই ঘুরপাক খেতে লাগলো। তাই বইটা শেষ করতে বেগ পেতে হলো বেশ কয়েকবার।

মূল চরিত্র হিসেবে শাহীনুর রায়হানকে দেখানো হয়েছে একজন বিচক্ষণ চরিত্র হিসেবে। ব্যারিস্টার হিসেবে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে লেখক একটু জোড় দিয়েছেন বলাই যায়। সাথে চরিত্রটার মাঝে একটা অহমিকা প্রবণ অ্যাটিটিউট তো আছেই। কেনো জানি মনে হলো, চরিত্রের এসব বৈশিষ্ট্য লেখক শার্লক হোমসের ছায়ায় আনতে চেয়েছিলেন। সাথে পার্শ্বচরিত্রে থাকা সবাইকে টিপিক্যালই লেগেছে।

ডিটেইল ও রিসার্চ নিয়ে বললে, লেখকের প্রশংসা সবচেয়ে পাওনা এখানে। বলতে গেলে, উপন্যাস থেকে এটাই ইতিবাচক কিছু দেখতে পাওয়া। লেখার আগে যে লেখক ভালোই রিসার্চ করেছেন, তা স্পষ্টতই বুঝা যায়। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে যথেষ্ঠ না হলেও ডিটেইলিং এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়।

টুইস্ট হিসেবে তেমন কিছু না পাওয়ায় পাঠক হিসেবে আমি হতাশ। তবে কোর্টরুম ড্রামা তো আমাদের দেশীয় সাহিত্যে দেখা যায় না, স���খানে লেখকের এইটুক চেষ্টাই বা কম কী।
ইতোমধ্যে এই সিরিজের দ্বিতীয় বই 'হাতকড়া' প্রকাশিত হয়ে গেছে এবং সংগ্রহও করে রেখেছি। আশা করি, লেখক পূর্বের সকল ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন সেই বইয়ে।


• ব্যাক্তিগত রেটিং: ২.৫/৫

(প্রোডাকশন ভালোই। বুকমার্ক কিংবা ফিতা নেই। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এর প্রচ্ছদ। অবাক হয়েছিলাম, যখন দেখলাম প্রচ্ছদটা তানিয়া সুলতানা আপুর নিজের হাতে আঁকা। আপুর আঁকার হাত চমৎকার।)


এক নজরে,
• বই: কাঠগড়া
• লেখক: সামসুল ইসলাম রুমি
• ধরণ: কোর্টরুম ড্রামা, লিগ্যাল থ্রিলার
• প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
• প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩
• প্রচ্ছদ: তানিয়া সুলতানা
• পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০
• মুদ্রিত মূল্য: ২৮০ টাকা


~ ইয়াসির আল সাইফ
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews60 followers
March 21, 2024
বিগত কয়েক বছরে যেই ঘটনা আমাকে সবচেয়ে বেশি মর্মাহত করেছে তা হল সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেইলি রোড অগ্নিকান্ড। সম্ভবত পরিচিত দুইজন জুনিয়র থাকার কারণেই দাগটা বেশি।

এই বইটাও কাছাকাছি প্রেক্ষাপটে লেখা এক বছর আগের বই। গার্মেন্টসে আগুনের ঘটনা। সেটা নিয়ে একটি কোর্টরুম ড্রামা।

কোর্ট রুম ড্রামা মুভি বেশ অনেকগুলো দেখা হয়েছে, কিন্তু বই এই প্রথম। তাই প্লট হিসেবে এটা আমার কাছে বেশ ইউনিক।

প্লট বেশ ভালো ছিল এবং আমি মনে করি দারুণ পটেনশিয়াল ছিল। কিন্তু স্টোরিটেলিং ছিল খুবই ফ্ল্যাট। থ্রিল অনুভব করা কঠিন। একই দৃশ্যের মধ্যেই হুটহাট অধ্যায় শেষ করে, নতুন অধ্যায় শুরু করার ব্যাপারটাও বেশ বিরক্তিকর।

সামসুল ইসলাম রুমির পড়া প্রথম বই আমার। লেখকের লেখার হাত বেশ ভালো, পড়তে সমস্যা হয় না। কিন্তু পুরো স্টোরিটার প্রেজেন্টেশন এবং Ending আরো অনেক ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল।
Profile Image for Moniruzzaman Monir.
55 reviews1 follower
June 25, 2023
কোর্টরুম থ্রিলার হিসেবে গল্পটা মাঝারী ধাচের। গল্পের টার্নিং পয়েন্টগুলো কোর্টের ভেতরের চেয়ে কোর্টের বাইরেই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে চরিত্রায়ন ও প্লট বিশ্লেষন বেশ চমৎকার। সাবলিলভাবে গল্প এগিয়েছে। এক বসায় পড়ে শেষ করার মত একটা বই। অপরাধীকে সাজা দেবার জন্য উকিলের আইনি মারপ্যাচ ও কৌশলগুলো দারুন ছিলো। কিছু জায়গায় প্রসিডিউর ভিত্তিক কিছু ভুল আছে তবে কাল্পনিক থ্রিলার হিসেবে ওগুলো গ্রহনযোগ্য।
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
May 31, 2024
কোর্টরুম ড্রামার উপর বই আমার আগে পড়া ছিলো না,তবে মুভি দেখেছি ।বইটা পড়ে ভালো লাগছে,তবে আরও দুর্দান্ত কিছু হতে পারতো।তাড়াহুড়ো করে শেষ করে দিলো মনে হয়।
Profile Image for Fahad Islam.
55 reviews1 follower
August 17, 2024
ছোটবেলায় ভাত খাওয়ার সময় টিভির ইউটিউবে আদালত ছেড়ে দেখতাম আর খেতাম। তবে বড়ো হওয়ার সাথে সাথে এই অভ্যাসটাও লোপ পেয়েছে।

তবে 'কাঠগড়া' পড়ার পরই জীবনে আবার কোর্টরুম ড্রামার অভাবটা টের পেয়েছিলাম।

গল্পের মেইন প্লেয়ার- কেডি পাঠকের প্রতিনিধি, ডিফেন্স লয়ার শাহীনুর রায়হান, যিনি ভালো/মন্দের ধার ধারেন না। যিনি বেশি টাকা দিবেন, উনি তাঁর হয়েই কেস লড়বেন। নিজের বিচক্ষণ বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা দিয়ে মুহূর্তেই কেস উল্টিয়ে দিতে পারেন, ভুয়া সাক্ষী বলেন কিংবা ভুয়া প্রমাণের ভিত্তিতে।

কিন্তু যখন উনার ল ফার্ম থেকে উনাকে ফিজি জুস কারখানার বিরুদ্ধে প্রসিকিউট করতে বলা হলো, যাদের গাফলতির কারণে ভবনে লাগা আগুনে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ পুড়ে ছাই হয়ে গেলো, তখন উনি কি পারবেন এই ঘোলাটে কেসটি প্রশিকিউট করে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে...?

বইটাকে নিয়ে কোনো কমপ্লেইন নেই আমার। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছি একটানা, ভালোও লেগেছে বেশ। গল্পের চরিত্রগুলো ছিলো সাদামাটা তবে ইন্টারেস্টিংও বটে। তবে শেষে গিয়ে গল্পের একটি চরিত্র উধাও হয়ে গিয়েছিলো, যার কোনো মীমাংসা করা হয়নি।

এখন যেইসময় রিভিউ লিখছি, এতদিনে এর সিক্যুয়াল "হাতকড়া" প্রকাশিত হয়ে গেছে, যেখানে এই চরিত্রের অন্তর্ধানের রহস্য হয়তো উম্মোচিত হয়েছে। সেটা জানতে হলে সিক্যুয়ালটা পড়তে হবে....👍🏼
Profile Image for Sajol Ahmed.
56 reviews2 followers
January 31, 2024
কাঠগড়া
সামসুল ইসলাম রুমি


একটি জুস কারখানায় আগুন লেগে অর্ধশতাধিক লোক মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো অনেকে। জনগন চায় দোষীদের শাস্তি। আর তৃতীয়পক্ষ চায় অন্য কিছু...
এই প্লটে লেখা ছিমছাম গোছের একটা গল্প। কোর্টরুম ড্রামা। প্লট সুন্দর। কিন্তু লেখক খুব ভালো সাজাতে পারেননি। দারুণ কিছু হতে পারতো। গল্প অনেকটাই প্রেডিক্টেবল। তবে লেখকের লেখার হাত ভালো। সামনে আরো ভালো করতে পারবে আশা রাখি।
খুব ভালো লাগেনি। মোটামুটি। একবার পড়াই যায়।
Displaying 1 - 20 of 20 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.